একবার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এর মাধ্যমে জানতে পারলেন যে তার প্রিয় সাহাবী হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মাত্র সাত দিন বাঁচবেন সাত দিন পরেই তিনি ইন্তেকাল করবেন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এরকম সংবাদ পেয়ে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমাকে খবর দিলেন তারা আসার পর বললেন হে আমার সাহাবীরা আমি জানতে পারলাম আমার প্রিয় সাহাবী হযরত বেল্লাল আর মাত্র সাত দিন বেঁচে থাকবে সাতদিন পরেই এ দুনিয়া থেকে সে চিরতরে বিদায় নিবে কিন্তু আমি জানি আমার এই সাহাবী এখনো বিবাহের সুন্নত আদায় করেনি তাই তোমরা যাও মদিনার প্রতিটি ঘরে ঘরে
খুঁজে দেখো আমার এই প্রিয় সাহাবীর সাথে কোন মেয়ের পিতা তার কন্যাকে বিবাহ দিতে সম্মত কিনা তবে সেই পিতাকে তোমরা অবশ্যই বলে দিবে যে বেলাল আর মাত্র সাত দিন বাঁচবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ নির্দেশ পাওয়ার পর হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ও হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর জন্য পাত্রী খোঁজার উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়লেন তারা বিবাহযোগ্য কন্যার পিতাদেরকে বলতেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রিয় সাহাবী হযরত বিল্লালের জন্য পাত্রী হচ্ছেন আপনারা কেউ কি আপনাদের কন্যাকে বিল্লালের সাথে বিয়ে দিতে রাজি আছেন তখন কন্যার পিতারা বলল আমরা অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের প্রিয় সাহাবী হযরত বিলালের সাথে আমাদের কন্যাদেরকে বিয়ে দিতে চায় কারণ এটা তো আমাদের জন্য হবে সৌভাগ্যের ব্যাপার তখন হযরত ওমর ও আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা তাদেরকে জানালেন একটা বিষয় তোমরা জেনে রেখো বিল্লাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আর মাত্র সাত দিন বাঁচবেন তোমাদেরকে এটা জেনেই তোমাদের কন্যাকে বিল্লাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর সাথে বিবাহ দিতে হবে কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সংবাদটিও তোমাদেরকে জানিয়ে দিতে বলেছেন একথা জানার পর কন্যার পিতারা বলল বেলাল যদি সাত দিনই বাঁচে তাহলে আমাদের কন্যাদেরকে বেলালের হাতে বিয়ে দেবো না আমরা কোনভাবেই চাই না সাতদিন পরেই আমাদের কন্যা বিধবা হয়ে যাক অতঃপর সাত
দিন পরে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর মৃত্যুর ঘটনা বলায় কোন পিতাই তার কন্যাকে বিলালের সাথে বিয়ে দিতে সম্মত না হওয়ার কারণে হযরত আলী ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা মদিনার পথে পথে বিভিন্ন জায়গায় হযরত বিল্লালের জন্য কন্যা খুঁজতে শুরু করলেন কিন্তু তারা কোন মেয়েকেই খুঁজে পাচ্ছিলেন না খুঁজতে খুঁজতে তারা একটা সময় একটা জঙ্গলে চলে গেলেন যেয়ে দেখলেন এই জঙ্গলে একজন লোক ঝুপড়ি নির্মাণ করে তাকে জিজ্ঞেস করলেন আপনার কি বিবাহযোগ্য কন্যা আছে তাদেরকে দেখে ওই ব্যক্তি বলল হে আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ আপনারা আমার মত নিতান্ত একজনের বাড়িতে কেন আগমন করলেন আমি কি জানতে পারি প্রতি উত্তরে তারা বললেন
আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশে হযরত বিল্লালের জন্য একজন পাত্র খুঁজছি তখন সে ব্যক্তিটি বলল যদি তাই হয় তাহলে আমার একজন উপযুক্ত কন্যা আছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় সাহাবী বিল্লাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর মত একটা ছেলের কাছে আমার কন্যাকে যদি বিবাহ দিতে পারি তাহলে তো মনে করি সেটা আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয় এরপর হযরত আলী ও ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা বললেন দেখুন একটি শর্ত আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আপনাকে যেন সে বিষয়টি জানাই বিল্লাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মাত্র সাত দিন বাঁচবেন এরপর তিনি এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে যাবেন একথা শুনে
ওই ব্যক্তিটি বলল না তাহলে আমি আমার মেয়েকে হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর কাছে বিবাহ দেবো না মাত্র সাত দিন পর আমার মেয়ে বিধবা হবে এটা আমি চাই না কিন্তু এই তিনজনের কথা দূর থেকে একটি মেয়ে শুনতে পাচ্ছিল সে হলো ওই ব্যক্তিটির মেয়ে পিতার মুখে এমন কথা শোনার পর সে একটু এগিয়ে এলো সে শুনলো তার পিতা নবীর সাহাবীর সাথে বিবাহের বিষয়ে বাতিল করে দিচ্ছেন সে কাছে এসে বলল আব্বাজান আমি এই বিবাহে রাজি আছি আপনি কিভাবে এরকম বিবাহের পয়গাম প্রত্যাখ্যান করতে পারেন যে পয়গাম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে থেকে পাঠিয়েছেন আব্বাজান আমার জীবনে যত কষ্টই
আসুক না কেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ নির্দেশ আমি পালন করতে চাই এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় সাহাবী হযরত বিল্লালের সঙ্গে ওই মেয়েটির বিবাহ সম্পন্ন হয়ে গেল হযরত বিল্লাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার নববধুকে বললেন প্রিয় স্ত্রী তোমার কাছে আমি জানতে চাই আমি আর মাত্র সাতদিন বাঁচবো এই পৃথিবীতে এটা জানার পরও তুমি কেন আমাকে বিবাহ করলে সাতদিন পরেই তো তুমি বিধবা হয়ে যাবে তখন নববুদ্ধ বলল হে আমার স্বামী আপনি শুনুন আমি আমার জীবন দিয়ে হলেও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি নির্দেশ পালন করব আর এ নির্দেশ পালনের মধ্য দিয়ে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি
আর আপনার মতো আল্লাহর নবীর একজন প্রিয় সাহাবীকে স্বামী হিসেবে পাওয়া যেকোনো মেয়ের জন্যই আমি মনে করি পরম সৌভাগ্যের বিষয়ে আমি না হয় সেটা হলাম আলহামদুলিল্লাহ হযরত বিল্লাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু যেদিন ইন্তেকাল করবেন সেদিন তার বিবিকে বললেন বিবি আজ রাতেই আমি ইন্তেকাল করব ইন্তেকালের পূর্বে আমার মনে হচ্ছে আমি কিছু রুটি খাবো অতএব তুমি প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে কিছু আটা এনে আমার জন্য রুটি তৈরি করো হযরত বিল্লাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর কথামতো তার স্ত্রী মোট সাতটি রুটি তৈরি করলেন এবং রুটিগুলো হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর সামনে রাখলেন এমন সময় ঘরের বাহিরে একজন ভিক্ষুক ডাক দিয়ে বলল হে
বাড়ির কর্তা আমি কয়েকদিন যাবত কিছুই ভক্ষণ করিনি আমি প্রচন্ড ক্ষুধার্ত দয়া করে আমাকে কিছু খাবার ভিক্ষা দান করুন বিলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু যখন দেখলেন তার দরজার মুখে এরকম ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক তিনি মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছাটা পূরণ না করে সেই ভিক্ষুককে রুটিগুলো দিয়ে দিলেন সেই ভিক্ষুক হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর ঘরের সামনেই সেই রুটিগুলো ভক্ষণ করতে শুরু করল যখনই হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর জান কবজের সময় হয়ে গেল তখনই মালাকুল মউত হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম উপস্থিত হলেন আজরাইল আলাইহিস সালাম যখন ঘরে ঢুকতে যাবেন তখন দেখলেন ঘরের দরজার বাহিরে একজন ফকির পথ আটকে বসে আছে আজরাইল
আলাইহিস সালাম বললেন হে ফকির তুমি এভাবে ঘরে ঢোকার পথ আটকে আছো কেন আমাকে ঘরে প্রবেশ করতে দাও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে আদেশ করেছেন আমি যেন বিল্লালের জান কবজ করে নিয়ে যাই তখন সে ফকির হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম কে বলল হে আজরাইল আলাইহিস সালাম তুমি কি জানো না কারো খানা খাওয়ার সময় কাউকে বিরক্ত করতে হয় না তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না আমি এখানে বসে রুটি খাচ্ছি যখন সে ফকির কোনভাবেই দরজা ছেড়ে যাচ্ছিল না তখন হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার দরবারে ফিরে এসে বললেন হে আল্লাহ আমি আপনার প্রিয় বান্দা হযরত বিল্লালের জান কবজ করতে গিয়েছিলাম কিন্তু
কিন্তু ঘরে ঢুকতে পারিনি কারণ ঘরে ঢোকার রাস্তায় একজন ফকির বসে রুটি খাচ্ছিল আমি তাকে অতিক্রম করে ওখানে যাইনি ওই ফকিরের জন্য আমি বেল্লালের ঘরে ঢুকতে পারিনি ফলে আমি হযরত বিল্লালের জান কবজ করতে পারিনি তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম কে বললেন হে আজরাইল হযরত বিল্লালের দরজার মুখে যে আহার করছে সে আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন বান্দা অতএব খবরদার তুমি তার সাথে কোন প্রকার বেয়াদবি করবে না তুমি যাও যে তাকে আদবের সাথে জিজ্ঞাসা করো সে কি চায় যদি তার কোন দাবি থাকে তবে তার দাবি পূরণ করেই হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর জান কবজ করবে
আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পেয়ে হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম আবার হযরত বিল্লাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর বাড়ির সামনে আসলেন এসে যথারীতি দেখলো হযরত বিল্লাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর দরজার মুখে সেই আল্লাহর বান্দা বসে বসে রুটি খাচ্ছে তখন হযরত আজরাইল তাকে বলল হে আল্লাহর প্রিয় বান্দা বলো তুমি কি চাও বলো তুমি কি চাও কি করলে তুমি হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর ঘরের দরজার মুখ থেকে সরে যাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন তুমি যা চাইবে তাই পালন করা হবে তখন সে ফকির বলল বেল্লাল আমাকে সাতটি রুটি দান করেছে আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে এক গুণ দান করল তা 10
গুণ হয়ে যাবে আর আমি চাই এই সাতটি রুটির বিনিময়ে বিল্লালকে 70 বছর হায়াত দান করা হোক একথা শুনে হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম বললেন এটা তো অসম্ভব আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে হযরত বিল্লালের জান কবজ করতে পাঠিয়েছেন আমি কিভাবে তার হায়াত বাড়াবো অতএব তার জান কবজ করে আল্লাহ তাআলার হুকুম আমাকে পালন করতেই হবে এছাড়া অন্য কিছু আমার কাছে চাও এছাড়া তুমি যা চাইবে তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমাকে দান করবেন তখন সে ফকির বলল দেখো আমি এছাড়া আর কিছুই চাই না দুনিয়ার কোন ধন সম্পদ বা পার্থিব্য কোন সুখ-শান্তির আশা আমার নেই আমি চাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়
সাহাবী হযরত বিল্লালের হায়াত 70 বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেয়া হোক তখন আজরাইল আলাইহিস সালাম বললেন তোমার এ দাবি আমি কোনভাবেই পালন করতে পারবো না আল্লাহ তাআলা হযরত বিল্লালের জান কবজ করার জন্য আমাকে পাঠিয়েছেন অতএব আমাকে তার জান কবজ করতেই হবে তখন সে ফকির বলল আজরাইল আল্লাহ তাআলা পারেন না এমন কোন কাজ নেই আল্লাহ তাআলা যদি হজ বিল্লালের হায়াত 70 বছর বৃদ্ধি না করেন তাহলে আমি 70 বছর পর্যন্ত হযরত বিল্লালের দরজার মুখেই বসে রুটি ভক্ষণ করব এভাবে তুমি হযরত বিল্লালের ঘরেও প্রবেশ করতে পারবে না আর তার জানও কবজ করতে পারবে না কারণ আমি এখান থেকে সরবো
না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাদিসে বলেছেন এই দুনিয়াতে আল্লাহ তাআলার এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যদি তারা আল্লাহ তাআলার নামে শপথ করে এমন কোন কথা বলে দেন তবে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই সেই বান্দা দাবি পূরণ করেন হযরত বিল্লালের দরজার সামনে যে ফকির বসেছিলেন তিনি ছিলেন আল্লাহ ও তার রাসূলের পাগল হযরত ওয়াইসক করুন রহমতুল্লাহ আলাইহি হযরত ওয়াইস করিনি রহমতুল্লাহ আলাইহি যখন হযরত বিল্লালের হায়াত বৃদ্ধির দাবি করে বসলেন তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ দাবি আর পূরণ না করে পারলেন না তখন আল্লাহ তাআলা হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম কে ডাক দিয়ে বললেন হে মালাকুল মউত আজরাইল আমার প্রিয় বান্দা ওয়াইসকরণী
একটি দাবি করে বসেছে আর আমি দাবিটি পূরণ করবো না এটা কি করে সম্ভব হে আজরাইল তুমি ফিরে আসো আমি আমার বান্দা ওয়াস করিনির দাবি মঞ্জুর করে হযরত বিল্লালের হায়াত 70 বছর বাড়িয়ে দিলাম এক খোদা হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে সাথে নিয়ে কুফা নগরীতে গমন করলেন তিনি কুফা নগরীতে যেয়ে কুফাবাসীকে লক্ষ্য করে বললেন হে কুফাবাসীগণ তোমরা কি কেউ আমাকে ওয়াইস্করণীর সন্ধান দিতে পারো কারণ আল্লাহর রাসূল সালামের একটি বিশেষ নির্দেশ পালন করার জন্য আল্লাহর এই প্রিয় বান্দাকে আমাদের বিশেষ প্রয়োজন তখন কুফাবাসীরা বলল হুজুর আমরা এমন কোন ব্যক্তিকে তো চিনি না ওমর
রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তাদেরকে বললেন তোমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে যার বাড়ি কর এলাকায় ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর কথা শুনে একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেল সে বলল হুজুর আমার বাড়ি কর এলাকায় ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তখন বললেন তুমি কি ওয়াইসক করুন নামে কোন ব্যক্তিকে চেনো হুজুর আমি একজন ব্যক্তিকে চিনি তবে আপনারা যাকে খুঁজছেন সেই ওই ব্যক্তি কি না আমি সেটা জানিনা সে একজন পাগল প্রকৃতির লোক মানুষেরা যখন হাসে তখন সে কাঁদে আর মানুষেরা যখন কাঁদে তখন সে হাসে সে উট চুড়িয়ে দিন অতিবাহিত করে তার জামাকাপড়গুলো ছেড়া ও ময়লা তবে সবসময় সে মানুষের দৃষ্টির অন্তরালে থাকে
হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তখন সে ব্যক্তিকে বললেন তোমরা আমাকে সেই ব্যক্তির কাছে নিয়ে যাও আমরা এমন ব্যক্তিকেই খুঁজছি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সকল নিদর্শন আমাদের কাছে বলে দিয়েছেন তুমি যেরকম নিদর্শন আমাদেরকে দিয়েছো রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেরকম নিদর্শনই দিয়েছেন অতএব তুমি আমাদেরকে সে ব্যক্তির কাছে নিয়ে চলো অতঃপর সেই ব্যক্তিকে নিয়ে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ও আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু পাগল প্রকৃতির ওই লোকটির খোঁজে বেরিয়ে পড়লেন তারা পথ চলতে চলতে জনমানবহীন একটি জায়গায় যেয়ে দেখলেন গাছের নিচে বসে একজন ব্যক্তি নামাজ আদায় করছেন হযরত ওমর ও আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা তখন ওই
ব্যক্তির কাছে যেয়ে পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন ওই লোকটি নামাজ শেষ করার পর তারা তাকে সালাম দিলেন লোকটি সালামের উত্তর দিয়ে বলল আপনারা কে কোন উদ্দেশ্যে আমার কাছে এসেছেন আমরা আল্লাহর নবীর সাহাবী হযরত ওমর ও হযরত আলী আমরা আল্লাহর একজন প্রিয় বান্দাকে খুঁজছি আপনি কি দয়া করে আপনার নামটি আমাদের কে বলবেন তখন সে ব্যক্তিটি বলল আমার নাম আব্দুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর বান্দা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তখন বললেন আমরাও তো আব্দুল্লাহ আমরা সবাই তো আব্দুল্লাহ আমরা জানতে চাইছি আপনার বাবা-মা আপনার জন্য যে নাম রেখেছেন আমরা সেই নামটি জানতে চাইছি তখন সে লোকটি বলল আমার বাবা-মা আমার নাম ওয়াইস
রেখেছিল এবং লোকেরা আমাকে কর এলাকার অধিবাসী হওয়ার কারণে ওয়াইজ করোনি বলে ডাকে তখন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বেশ আদবের সাথে বললেন হে আল্লাহর প্রিয় বান্দা আপনি কি দয়া করে আপনার ডান হাতটি আমাদেরকে দেখাবেন তখন ওয়াইস করিনি রহমতুল্লাহ আলাইহি হযরত ওমর ও হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমার দিকে ডান হাতটি বাড়িয়ে দিলেন তারা দেখতে পেলেন তার ডান হাতে কুষ্ঠ রোগের একটি চিহ্ন আছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিদর্শন বলার সময় এই নিদর্শনটির কথাও বলেছিলেন এরপর দুজনে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর ওয়াইসক করুন রহমতুল্লাহ আলাইহির হাতে মন দিয়ে বললেন হে আল্লাহর বান্দা আমরা তো আপনার খুঁজে এসেছিলাম তখন
তিনি বললেন কেন আমাকে এত কষ্ট করে কেন খুঁজছেন আপনারা হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর আগে আমাদের কাছে একটি নসিহত করে গিয়েছিলেন আমরা যেন তার জুব্বা মোবারক আপনার কাছে পৌঁছে দেই এবং তিনি আরো বলেছেন তোমরা ওয়াইস করণীকে বলবে সে যেন আমার উম্মতের জন্য দোয়া করে ওয়াইস করণী রহমতুল্লাহ আলাইহি তখন বললেন দেখুন আপনারা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় সাহাবী দোয়া করার জন্য আপনারাই যথেষ্ট অতএব আপনারাই তার উম্মতের জন্য দোয়া করুন তখন তারা বললেন আমরা তো সবসময় রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মতের জন্য দোয়া করি আল্লাহর নবী বিশেষ করে আপনার কাছে এই অনুরোধটি
করার জন্য আমাদেরকে বলেছেন ওয়াইস করনী রহমতুল্লাহ আলাইহি তখন বললেন হে আল্লাহর নবীর প্রিয় সাহাবীরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু পবিত্র জুব্বা মোবারক আমার কাছে রাখার সামর্থ্য কি আছে আমি তো আল্লাহর সাধারণ একজন বান্দা আমি একজন পাপী এবং পাগল মানুষ কিভাবে আমি তার পবিত্র জুব্বা মোবারকের হুরমত ও মর্যাদা রক্ষা করব তখন তারা বললেন রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু বলেছেন আপনার কাছে এই জুব্বা মোবারক রাখার জন্য তার মানে জেনে শুনে বলেছেন আপনি কতটুকু যোগ্য এই জুব্বা মোবারক রাখার জন্য দয়া করে আপনি তার জুব্বা মোবারক গ্রহণ করুন এবং তার গুনাহগার উম্মতের জন্য দোয়া করুন এরপর হযরত ওয়াইস করানী রহমতুল্লাহ
আলাইহি তাদের কাছ থেকে রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জুব্বা মোবারক গ্রহণ করলেন এবং তাদেরকে বললেন আপনারা এখানে দাঁড়িয়ে থাকুন আমি একান্তে নিভৃতে আমার দয়াময় প্রভুর সাথে কিছু কথা বলে নেই এরপর ওয়াইজ করণী হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ও আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কে একটা পাশে রেখে একটু দূরে একটা গাছের নিচে সেজদায় পড়ে গেলেন এবং আল্লাহ তাআলার কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন এবং মোনাজাত করলেন হে আল্লাহ তোমার প্রিয় হাবিব আমার কাছে তার জুব্বা মোবারক প্রেরণ করেছেন এবং তিনি বলেছেন আমি যেন তার গুনাহগার উম্মতের জন্য দোয়া করি তোমার হাবিব তার দায়িত্ব পালন করেছেন হযরত আলী ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা
আনহুমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তারাও তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আপনার প্রিয় হাবিব আমাকেও একটি দায়িত্ব দিয়েছেন আর তা হলো আমি যেন তার গুনাহগার উম্মতের জন্য দোয়া করি তখন তারা বলল হে আল্লাহ আপনার প্রিয় হাবিবের উদ্দেশ্যেই তার গুনাহগার উম্মতের জন্য দোয়া করছি দয়াময় আপনি তার সকল গুনাহগার উম্মতদের ক্ষমা করে দিন ওয়াইজ করিনি রহমতুল্লাহ আলাইহির এ মোনাজাতের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা বললেন হে ওয়াইজ তুমি সেজদা থেকে মাথা উঠাও তোমার এ দোয়ার বরকতে আমি উম্মতে মোহাম্মদীর একটি অংশকে ক্ষমা করে দিলাম তখন ওয়াইজ করেন রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন হে আল্লাহ তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত তামাম উম্মতদেরকে ক্ষমা করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমি সেজদা
থেকে মাথা উঠাবো না এবং তোমার প্রিয় হাবিবের জুব্বা মোবারকও পরিধান করবো না তখন আল্লাহ আল্লাহ বললেন হে ওয়ায়েজ তোমার দোয়ার কারণেই আমি উম্মতে মোহাম্মদের এক তৃতীয়াংশ এর গুনাহ মাফ করে দিলাম তুমি সেজদা থেকে মাথা উঠাও ওয়াইজ করানী রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন হে আল্লাহ যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তোমার প্রিয় হাবিবের সমস্ত উম্মতের গুনাহ মাফ করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমি সেজদা থেকে উঠবো না এবং তোমার প্রিয় হাবিবের জুব্বা মোবারকও আমি গায়ে দেবো না হে ওয়াইজ তোমার দোয়ার কারণে আমার হাবিবের উম্মতদের অর্ধেকের গুনাহ মাফ করে দিলাম এবার তুমি সেজদা থেকে উঠো ওয়াইস করুনী রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন হে আল্লাহ তুমি তামাম
উম্মতি মোহাম্মদের গুনাহ মাফ করে দাও তবেই আমি সেজদা থেকে মাথা উঠাবো এদিকে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ও আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু দুজনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়েছিলেন এবং অনেকটা বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলেন তখন তারা ওয়াইসক করণী রহমতুল্লাহ আলাইহির কাছে যেয়ে দেখতে চাইলেন আসলে ওয়াইসক করণী কি করছে যখন তারা দুজনে ওয়াইসক করণীর কাছে গেল তখন ওয়াইসক করুন রহমতুল্লাহ আলাইহি এর ধ্যান ভঙ্গ হয়ে গেল আশিক ও মা আশিকের প্রেমের বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেল এবং বললেন আপনারা যদি আরেক মুহূর্ত পরে আসতেন তাহলে আমি সমস্ত উম্মতে মোহাম্মদের গুনাহ মাফ করিয়ে নিতাম আপনারা আমার কাছে এগিয়ে আসার কারণে আমার ধ্যান ভঙ্গ হয়ে গেছে
যার ফলে আমি আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে সমস্ত উম্মতে মোহাম্মদের গুনাহ মাফ করে নিতে পারলাম না তখন আফসোসের সাথে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ও আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তওবা করলেন এবং আল্লাহকে বললেন হে আল্লাহ তোমার প্রিয় বান্দার ধ্যান ভঙ্গ করার জন্য আমরা তওবা করছি আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও তখন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ওয়াইসক করনি রহমতুল্লাহ আলাইহিকে বললেন হে আল্লাহর বান্দা আপনি আল্লাহর রাসূলকে কত ভালোবাসেন তারপরও তার জীবদ্দশায় মদিনায় এসে তার সাথে সাক্ষাৎ করেননি কেন তখন ওয়াইস করণী রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন আচ্ছা আপনারা তো সবসময় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশেই ছিলেন বলুন তো তার
চেহারা মোবারকে যে ভ্রুগুলো ছিল সেগুলো কি জোড়া লাগানো ছিল নাকি আলাদা ফাঁকা অবস্থায় ছিল তখন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এবং আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন হে আল্লাহর প্রিয় সাহাবী আমরা তার সম্মান এবং মর্যাদার চিন্তা করে কখনোই তার দিকে তাকাইনি ওয়াইসকরণী রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি কখনো দেখিনি তারপরও বলে দিচ্ছি তার চেহারা মোবারকের ভ্রুগুলো জোড়া লাগানো ছিল আমার মনে প্রচন্ড বাসনা ছিল রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখব আমার এক মা ছিল খুবই বৃদ্ধা এবং অসুস্থ যার সেবা সুশ্রু করার জন্য এই পৃথিবীতে আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না তাই তাকে ফেলে রাসূল
করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ লাভের জন্য আমি কখনোই যেতে পারিনি এরপর ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ওয়াইস করনী রহমতুল্লাহ আলাইহির কাছে আরোজ প্রার্থনা করলেন আপনি দয়া করে আল্লাহ তাআলার কাছে আমার জন্য একটু দোয়া করুন ওয়াইস করনী রহমতুল্লাহ আলাইহি তখন বললেন আমি কোন ব্যক্তি বিশ্বাসের জন্য দোয়া করি না আমি প্রতিবার নামাজের পরেই দোয়া করি আল্লাহর প্রিয় হাবিবের যে সকল উম্মত ঈমান নিয়ে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে তাদেরকে তুমি ক্ষমা করে দাও অতএব আপনি যদি ঈমান নিয়ে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন তাহলে পরকালে আমার এই দোয়া আপনাকে খুঁজে নেবে তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন জনাব আমি
কি আপনার খোরপোসের জন্য কুফার গভর্নরের কাছে একটা চিঠি লিখে দেব যাতে করে প্রতিমাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আপনাকে দান করা হয় যার মাধ্যমে আপনি আপনার জীবন সচ্ছলতার সাথে অতিবাহিত করতে পারবেন এরপর ওয়াইসকরণী রহমতুল্লাহ আলাইহি দুটি দেরহাম ও ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে দেখিয়ে বললেন আমি এই দুটো দেরহাম উট চড়িয়ে রোজগার করেছি আপনি কি আমাকে নিশ্চয়তা দিতে পারবেন এই দুটি দেরহাম খরচ করার জন্য আমি জীবিত থাকতে পারব যদি আমার বেঁচে থাকার কোন নিশ্চয়তা না দিতে পারেন তবে আপনার নজরানা নেয়ার দরকার কি হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার কথা শুনে অজল নয়নে কাঁদতে লাগলেন অতঃপর তিনি বললেন হে
আল্লাহর বান্দা এই পৃথিবীতে কে কার মৃত্যুর গ্যারান্টি দিতে পারে হায় আফসোস আমরা দুনিয়াকে নিয়ে কতটা পাগল এবং ব্যস্ত হয়ে গেছি আপনাদের মত আল্লাহর প্রিয় মাসুক বান্দারা রয়েছেন বলেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনাদের উসিলায় আমাদেরকে রিজিক দান করছেন যদি আপনাদের মত বান্দারা এই পৃথিবীতে না থাকতো আল্লাহ তাআলা নিশ্চয়ই আমাদেরকে এক ফোঁটা পানিও রিজিক হিসেবে দিতেন না তখন ওয়াইস করনী রহমতুল্লাহ আলাইহি তাদেরকে বললেন এবার আপনারা আমাকে বিদায় দান করুন আমি লোক চক্ষুর অন্তরালে থাকতেই সবসময় পছন্দ করি ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তখন বললেন হে আল্লাহ প্রিয় বান্দা যদি কোন ধরনের প্রয়োজন হয় তাহলে আমাদেরকে স্মরণ করবেন তখন ওয়াইস করণী
রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন হে আল্লাহর প্রিয় সাহাবী আল্লাহই আমার উত্তম অভিভাবক আমি সবসময় আমার সকল প্রয়োজন তার কাছেই ব্যক্ত করি পৃথিবীর কোন শ্রেষ্ঠ মাখলুকের কাছে ব্যক্ত করি না এই বলে ওয়াস্করণী রহমতুল্লাহ আলাইহি তাদের কাছ থেকে বিদায় গ্রহণ করলেন বর্ণিত আছে যে ওয়াস্করণী রহমতুল্লাহ আলাইহি কিছু লোকের সাথে একবার একটি জাহাজে সফর করছিলেন জাহাজটি যখন সমুদ্রের মাঝপথে আসলো তখন প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল সকলেই ভাবতে লাগলো জাহাজটি হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই সমুদ্রে তলিয়ে যাবে তাই তারা চিৎকার করে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করতে লাগলো তখন তারা দেখতে পেল প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টির মাঝেও একজন ফকির সমুদ্রের পানিতে নেমে গেল
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তিনি সমুদ্রের পানিতে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় শুরু করে দিলেন সকলেই তখন বুঝতে পারলো এই ব্যক্তি আল্লাহর রাব্বুল আলামীনের প্রিয় একজন বান্দা তখন তারা চিৎকার করে বলতে লাগলো হে আল্লাহর প্রিয় বান্দা আপনি আল্লাহর কাছে আমাদের মুক্তির জন্য দোয়া করতে থাকুন যাতে করে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করেন ওয়াইসক করনি রহমতুল্লাহ আলাইহি তখন বললেন তোমরা সকলেই তোমরা সম্পদের মায়া ত্যাগ করে পানিতে নেমে পড়ো যদি তোমরা মালামালের মায়া ত্যাগ করে পানিতে নেমে যেতে পারো তাহলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমাদের জীবন রক্ষা করবেন আর যদি তোমরা এটা না করো তাহলে তোমরা জাহাজী ডুবে মরবে
ফকিরের এই কথা শুনে জাহাজের অনেক মানুষই বিশ্বাস করতে পারছিল না তারা মনে করছিল তারা যদি তার কথামতো সমুদ্রের পানিতে নেমে যায় তাহলে সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে অচিরেই তারা মৃত্যুবরণ করবে আবার তারা এও দেখতে পাচ্ছিল এই জাহাজে যদি তারা থাকে তাহলে কিছুক্ষণ পর এই জাহাজটাও তলিয়ে যাবে তখন সেখানেও তাদের মৃত্যুবরণ হবে তাই তারা সেই দরবেশের কথামতো তাদের মালামালের মায়া ত্যাগ করে জাহাজ থেকে সমুদ্রের পানিতে নেমে গেল আশ্চর্য হয়ে তারা দেখতে পেল তারা সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে না এবং জাহাজটি সমুদ্রের পানিতে ডুবে গেল তখন সে দরবেশ বলল হে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা আপনারা আপনাদের মালামালের মায়া ত্যাগ করে সমুদ্রের
পানিতে নেমে গেছেন এজন্য আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে জীবন ভিক্ষা দান করেছেন আপনারা যদি আপনাদের মালামালের মায়া ত্যাগ না করে সেই জাহাজেই থাকতেন তাহলে জাহাজ সহ সকলেই ডুবে মরতেন এরপর সে ফকির তাদের সকলকে নিয়ে সমুদ্রের কিনারে এসে উপস্থিত হলেন তখন তারা ফরিদের কাছে আরজ করলো হে আল্লাহর প্রিয় বান্দা আমরা এই মালামাল গুলো নিয়ে যাচ্ছিলাম গরীব দুঃখীদেরকে দান করার জন্য আমরা যদি আবার সেই মালামাল গুলো ফিরে পেতাম তাহলে গরীব দুঃখীদের মাঝে পুনরায় বন্টন করতে পারতাম তারপর সে ফকির বলল তোমরা যদি সেই মালামাল গুলো ফিরে পাও তোমরা কি সত্যিই সেই গরীব দুঃখীদের মাঝে বন্টন করে দেবে তখন তারা বলল
সত্যিই বলছি আমরা যদি ফেরত পাই মালামাল গুলো তাহলে আমরা গরীব দুঃখীদের মাঝে বন্টন করে দেব এরপর সে ফকির দু হাত তুলে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করলেন হে আল্লাহ আপনি তাদের মালামাল সহ জাহাজটিকে ফিরিয়ে দিন আল্লাহর দরবারে তার এ দোয়া করার সাথে সাথেই সকলে দেখতে পেল সেই জাহাজটি সমুদ্রের কিনারে ভেসে উঠেছে এই দৃশ্য দেখে তারা সকলে অবাক হয়ে গেল এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে অসংখ্য অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করল প্রিয় দর্শক শ্রোতা এতক্ষণ পর্যন্ত যে ফকিরের কথা বলছিলাম সেই ফকির হচ্ছেন হযরত ওয়াইস করণী রহমতুল্লাহ আলাইহি মূলত এভাবে তার জীবনী অসংখ্য কারামত তিনি দেখিয়ে গেছেন আমরা যেন ওয়াইসক করুণীর
জীবন থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারি আমিন