ইসলাম আসার আগে মুশরিকরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পবিত্র কাবা শরীফের ভেতরে মূর্তি পূজার ঘাটি বানিয়ে রেখেছিল মূর্তিদের নাম নিয়ে সেখানে তাওয়াফ হয়ে থাকতো এবং তাদের সামনে সাজদাওও করা হতো এতদূর পর্যন্ত ছিল যে সেই মূর্তিগুলোর জন্য নাজরানা এবং কুরবানি পর্যন্ত দেয়া হতো আর তাদের সামনে হাঁটুর উপর বসে নিজের পেরেশানির সমাধানের জন্য দোয়া করে থাকতো কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে যে যখন সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিস সালাম তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছিলেন এক আল্লাহ তাআলার উপাসনার দাওয়াত দিয়েছিলেন তারপর আবার এই পৃথিবীতে মূর্তি পূজা কবে থেকে কিভাবে আসলো অর্থাৎ বলতে চাচ্ছি এই পৃথিবীতে মূর্তি পূজা কবে থেকে এবং কিভাবে শুরু হলো
সেই বিষয়টি জানা দরকার আরো বিষয় জানা দরকার সেই মূর্তি পূজার প্রথা শেষ পর্যন্ত কাবা শরীফ পর্যন্ত কি করে আসলো এই পুরো ঘটনাটি শুনলে সত্যিই অবাক হয়ে যাবেন রেওয়াতে বর্ণিত আছে যে মূর্তি পূজার প্রথা সর্বপ্রথম হযরত নূহ আলাইহিস সালামের যুগ থেকে শুরু হয়েছিল অর্থাৎ হযরত নূহ আলাইহিস সালামের যুগের পর থেকে নিয়ে এই মূর্তি পূজার প্রথা শুরু হয়েছিল হযরত নূহ আলাইহিস সালামের যুগে আল্লাহ তাআলার পাঁচজন অলি ছিলেন যাদের নাম ছিল উদ সুইয়া ইয়াউস ইয়াউদ এবং নাসার এই সমস্ত বুজুর্গরা সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিস সালাম এবং হযরত নূহ আলাইহিস সালামের দ্বীনের উপর ঈমান এনে থাকতেন এবং শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার ইবাদত
বন্দেগীতে ব্যস্ত থাকতেন কিন্তু তারপর এই পাঁচজন বুজুর্গদের মধ্যে একে একে যখন সকলেরই মৃত্যু হয়ে যায় তাদের গ্রামবাসীর লোকেরা খুবই দুঃখিত হয়ে গেল অর্থাৎ তাদের যে মহব্বত ছিল এই পাঁচজন বুজুর্গ ব্যক্তির জন্য তারা কোনভাবেই ভুলতে পারছিল না প্রচন্ড কষ্ট তারা বুকে ধারণ করেছিল আর এমনই করে তারা যখন এক জায়গায় সেই বুজুর্গদেরকে স্মরণ করে বসেছিল সেই সময় শয়তান একজন বুজুর্গের রূপ ধারণ করে তাদের কাছে আসলো এবং বলতে লাগলো যে এই যে তোমাদের দুঃখ আছে তার ওষুধ আমার এর কাছে আছে আর এমনটি শোনার পর সেই লোকেরা একেবারে খুশি হয়ে গেল আর সেই শয়তান তাদেরকে কুপরামর্শ দিল যে তোমরা
নিজের সেই পাঁচজন বুজুর্গের মূর্তি বানিয়ে নাও তারপর তাদেরকে একটি ভালো জায়গার মধ্যে রেখে দাও এরপর যখনই তোমরা সেই বুজুর্গদের মূর্তিগুলোকে দেখবে তখন তোমাদের মনে যে ব্যথা আছে সেটাও ভুলে যেতে পারবে আর ঠিক এমনই ভাবে সেই মানুষগুলো শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে সেই বুজুর্গ ব্যক্তিদের মূর্তি বানালো এরপর সকাল সন্ধ্যা সেই লোকগুলো মূর্তিগুলোর কাছে যেতে লাগলো কিন্তু ওই সমস্ত লোকেরা তাদের ইবাদত করতো না তাদের দুঃখ ভোলার জন্য সেই মূর্তিগুলোর কাছে গিয়ে থাকতো এরপর আস্তে আস্তে এই খবরটি আশেপাশের রাজ্যগুলোতেও ছড়িয়ে পড়লো আর এমনিভাবে আরো অনেক মানুষ তাদের কাছে এসে এই মূর্তিগুলোকে দেখতে লাগলো এভাবেই এই ধারা বহুদিন পর্যন্ত চলতে
লাগলো এভাবেই চলতে চলতে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের সময় চলে এসেছে এই পরের প্রজন্ম জানতো না যে এই মূর্তিগুলো আছে যে তা আসলে কোন বুজুর্গ ব্যক্তিদের স্মরণে করা হয়েছিল তারা এটাও জানতো না মানুষরাই এটা বানিয়েছে সেজন্য শয়তান দ্বিতীয় প্রজন্মের লোকদের কাছে আবার আসলো আর তাদেরকে বলতে লাগলো যে এই যে তোমরা মূর্তিগুলো দেখতে পাচ্ছ এরা সবাই তোমাদের সৃষ্টিকর্তা তোমাদের দেবতা এরা সবাই তোমাদের খোদা তোমরা এদের কাছে যা কিছু চাইবে তারা তোমাদের সমস্ত কিছু দেবে শয়তান যখন তাদের কাছে এমন করে বলতে লাগলো সেই লোকেরা শয়তানের কথা মেনে নিল সেই মূর্তিগুলোর উপর তারা সেভাবেই পূজা করতে শুরু করল
তারপর সেই মূর্তিগুলো যখন পুরাতন হয়ে গেল শয়তানের পরামর্শ অনুযায়ী আগের মূর্তিগুলোর মত করে নতুনভাবে মূর্তি বানালো আর এভাবেই পুরো পৃথিবীতে মূর্তি পূজার প্রচলন শুরু হয়ে গেল এখন প্রশ্ন হলো মক্কা নগরীতে কিভাবে মূর্তি পূজার শুরু হলো যেখানে আল্লাহর পবিত্র ঘর কাবা শরীফ সেখানে কিভাবে মূর্তি পূজা আসলো কাবা শরীফের ভেতরে কিভাবে এই মূর্তিগুলো পৌঁছালো সেই বিষয়টি জানবো মক্কা নগরীতে মূর্তি পূজার সূচনা বনু খোঁজা গোত্রের সরদার আমর ইবনে লোহাই দ্বারাই করা হয়েছিল আমর ইবনে লোহাই কাবা শরীফের বড় একজন সরদার ছিল মক্কার মানুষেরা তাকে অনেক সম্মান করতো তার সব কথা তারা মেনে চলার চেষ্টা করতো তার একটি বিশেষত্ব ছিল
যে তিনি হাজীদেরকে খুবই সেবাযত্ন করতেন তিনি হাজীদেরকে পান করার জন্য শুধুমাত্র পানি দিতেন না সাথেই মধুর শরবতও দিতেন আর সেই যুগেও হাজীদেরকে সেবাযত্ন করা অনেক বড় একটা ব্যাপার ছিল একবারের ঘটনা আমির ইবনে লুহাই একবার ব্যবসার কাজে সাম দেশ অর্থাৎ বর্তমান সিরিয়ায় গিয়েছিল সেখানে যাওয়ার পর সে দেখতে পেল যে সেখানকার মানুষেরা মূর্তি পূজা করছে সাম দেশে একটি কওম বসবাস করতো তাদেরকে আমেরিকা বলা হতো সেই কওমের মানুষেরা নিজেদের বুজুর্গ ব্যক্তিদের মূর্তি বানিয়ে রেখেছিল একই সাথে এরা এটা বলতো যে আমরা তো একজন খোদারই ইবাদত করি কিন্তু যেহেতু আমরা আমাদের নিজেদের খোদাকে দেখতে পাচ্ছি না এজন্য আমরা মনে করছি
যে আমাদের খোদা পর্যন্ত আমাদের কোন কথা পৌঁছাচ্ছে না আর এরই জন্য আমরা এখানে ছোট ছোট খোদা বানিয়ে রেখেছি নাউজুবিল্লাহ এদের মধ্যে আমাদের কেউ বাতাসের খোদা আছেন কেউ পানির খোদা আছেন আবার কেউ রিজিকের খোদাও আছেন আমরা আমাদের এই খোদাদের সাথে কথা বলে থাকি তারপর এই খোদাগুলো আমাদের বড় খোদার কাছে আমাদের এই কথাগুলো পৌঁছে দেয় কেননা এরা আমাদের সামনে রয়েছে যাতে করে আমরা আমাদের ইবাদত তাদের চোখের সামনে খুব ভালো করে করতে পারি সাম দেশের ওই লোকদের কথাগুলো শুনে আমর ইবনে লোহাই এর খুব ভালো লাগলো এতটাই ভালো লাগলো যে আমর ইবনে লোহাই সেখান থেকে একটি মূর্তি কিনে নিল
এবং ফিরে এসে সেই মূর্তিটিকে সে কাবা ঘরের ভেতরে রেখে দিল আর সেই মূর্তিটির নাম ছিল উবাল এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথাটি বলে রাখছি যে এই সেই মূর্তি যাকে না সর্বপ্রথম কাবা গৃহে রাখা হয়েছিল আর এটাও জেনে রাখুন যে সেই মূর্তিটি দেখতে একেবারে মানুষের মত ছিল আর এরই জন্য সেই সময়ের মক্কার সকল লোকেরা এই মূর্তিটিকে একটি বিশেষ মূর্তি মনে করেছিল এই হুবেল মূর্তিটির ডান হাতটি ভাঙ্গা থাকার কারণে মক্কাবাসীরা সোনা দিয়ে তার ডান হাতটি লাগিয়ে দিয়েছিল হুবেল মূর্তি ছাড়াও আরবের পুরনো মূর্তিগুলো থেকে একটি মানাক মূর্তিও ছিল এটিও কাবা শরীফের ভেতরে রাখা হয়েছিল এরপর আবার লাত এবং লুসা নামের
মূর্তিগুলো তৈরি করা হয় আর এমনিভাবে এই তিনটি মূর্তি আরবের সবচেয়ে বড় মূর্তি হয়ে ওঠে আর এরপর থেকে আল্লাহ তাআলার ইবাদত ছেড়ে এই মূর্তি পূজা শুরু হয়ে যায় জাহেলিয়াতের যুগে সাফা এবং মারুয়া পাহাড় সমূহে দুইটি মূর্তি রেখে দেয়া হয়েছিল সাফা পাহাড়ের উপর যে মূর্তি রাখা ছিল তার নাম ছিল ইসাদ এবং মারুয়া পাহাড়ের উপর যে মূর্তি রাখা ছিল এর নাম ছিল নাইলান তারপর আমর ইবনে লোহাই সেই কথাগুলোকে বলতে লাগলো যে এই কথাগুলো আমেরিকা নামের সম্প্রদায়েরা বলে থাকতো মানে আমরা যা কিছু চেয়ে থাকি তা আমাদের রবের কাছে সরাসরি পৌঁছায় না আমরা যদি এই মূর্তিগুলোর পূজা করে থাকি তাহলে
এই মূর্তিগুলো আমাদের রবের কাছে আমাদের মূল কথাকে পৌঁছে দেবে এরপর আমর ইবনে লোহাই আরবের সমস্ত সর্দারদের সহ সকলকে দাওয়াত দিতে লাগলো এবং বলতে লাগলো যে তোমরাও তোমাদের নিজেদের মূর্তিগুলো কাবা শরীফের ভেতরে রেখে দাও কিন্তু শর্ত থাকবে এটি যে এই মূর্তিগুলো যেন মক্কার পবিত্র মাটি দিয়ে তৈরি করা হয় আর এমনই করে আরবের সমস্ত জায়গাতে মূর্তি পূজার সূচনা হয়ে গিয়েছিল এখানে একটি কথা বলে রাখা দরকার যে মক্কার ওই সময়ের লোকেদের মধ্যে শত্রুতা এবং মহব্বত দুটি বিষয়ই পারদর্শী ছিল যে সম্প্রদায়ের সাথে মক্কাবাসীদের যুদ্ধ হতো সেই সম্প্রদায়ের মূর্তিগুলো কাবা শরীফের ভেতর থেকে বের করে দেয়া হতো অনেকেই জেনে থাকেন
যে আমর ইবনে লোহাই এর কাছে একটি জিন ছিল সেই জিন নাকি আমর ইবনে লোহাইকে জিদ্দার কাছে মাটিতে থাকা মূর্তি সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিল আর এরই জন্য আমর ইবনে লোহাই সেই মূর্তিগুলোকে ওখান থেকে উঠে নিয়ে এসেছিল আর হজের সময় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকদেরকে এই মূর্তিগুলো দিয়ে দিয়েছিল এভাবেই আরবের সমস্ত লোকদের নিজেদের আওতায় অনেকগুলো মূর্তি চলে আসলো যার ফলে তারা নিজেদের মূর্তির কাছে কিছু চাইতে পারে তাদের রবের কাছে তাদের দাবি বা প্রার্থনা পৌঁছে দেয়ার জন্য এই বিষয়টি সম্পর্কে হাদিস গ্রন্থেও উল্লেখ আছে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমি আমর ইবনে লোহাইকে জাহান্নামে দেখেছি
কেননা আমর ইবনে লোহাই প্রথম ব্যক্তি যে কিনা মক্কাতে মূর্তি পূজার প্রথা শুরু করেছিল এবং তার এই কর্মের ফলে পবিত্র কাবা শরীফের ভেতরে একের পর এক মোট 360 টি মূর্তি রাখা হয়েছিল এবং কাবা শরীফের ভেতর এই মূর্তি পূজা বছরের পর বছর চলতেই থাকে শুধুমাত্র এই নয় যদি কোন ব্যক্তি তৌহিদের দাবিদার এই মূর্তিগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলতো তাহলে সেই মুশরিকরা ওই ব্যক্তির প্রাণের শত্রু হয়ে যেত অথচ এর আগে এই এই মক্কায় হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের দ্বীন ছিল এরপর এই লোক সকল আস্তে আস্তে ইসলামের শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেল আর বিভিন্ন ধরনের খারাপ কাজের সঙ্গে লিপ্ত হতে থাকলো তারপর
প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পর্কে অনেকেই অপেক্ষা করতে লাগলো যে এর আগের কিতাবগুলোতে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল এরপর আল্লাহ তাআলা হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের পুত্র হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশ থেকে কুরাইশ বংশে আল্লাহ তাআলার প্রিয় হাবিব হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জন্ম দিলেন তারপর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যখন জন্ম হলো এরপর তিনি শৈশব থেকেই এই মূর্তিগুলোর বিরুদ্ধাচারণ করতে লাগলেন আর এই মূর্তির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই ওই সময়ের মুশরিকরা প্রিয় নবীর শত্রু হয়ে গেল কিন্তু একটা সময় মক্কা বিজয় হলো আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার প্রিয় ঘর
আমাদের সকলের প্রিয় ঘর পবিত্র কাবা শরীফ থেকে সকল মূর্তি বের করে দিলেন আর কাবা শরীফকে আবার পাক এবং পবিত্র বানিয়ে দিলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন মক্কা বিজয়ের দিন কাবা শরীফের ভেতরে যে মূর্তিগুলো রাখা ছিল সেই মূর্তিগুলোকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাত দিয়ে আঘাত করতে লাগলেন আর তার সাথে তিনি পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি বলতে লাগলেন জাল হাক্কু হাকাল বাতিল এর মানে হলো হক এসে গেছে বাতিল বিলুপ্ত হয়ে গেছে মক্কা বিজয়ে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম বলে থাকেন যে আমরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এসেছিলাম বায়তুল্লাহর চারপাশে 360
টি মূর্তি স্থাপন করা ছিল যাদের সেখানে পূজা অর্চনা করা হতো এমনটি দেখে প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে হুকুম দিলেন যে এই সমস্ত মূর্তিগুলোকে ভেঙে দাও আমরাও সেই মূর্তিগুলোকে ভেঙে একেবারে শেষ করে দিলাম তারপর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই আয়াতটি আবার তেলাওয়াত করতে লাগলেন জাল হাক্কু ওয়াজাল বাতিল হক এসে গেছে বাতিল বিলুপ্ত হয়ে গেছে