মদ পান করা হারাম এটা জানার পরেও বাগদাদের বাদশা হারুনুর রশিদ একবার তার শারাবের মজলিসে মানে মদের মজলিসে বাগদাদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী মন্ত্রী উজির নাজির ও রাজদরবারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি শারাব তথা মদ পান করছিলেন এই অবস্থায় বাগদাদের গুরুত্বপূর্ণ বুজুর্গ বাহালুল তিনি রাজদরবারে প্রবেশ করে বসলেন প্রিয় দর্শক আপনাদের জানিয়ে রাখি এই বাহালুল ইতিহাসের এমন একজন ব্যক্তি যাকে অবজ্ঞা অবহেলা করার কোন সুযোগ ছিল না বাদশাহ এত শক্তিশালী এবং এত ক্ষমতাধর হওয়ার পরেও এই বাহালুলকে সহ্য করতে হতো তিনি এমন একজন বুজুর্গ ছিলেন যাকে সম্মান না করে উপায় তো বাদশাহ যখন বুঝতে পারলেন তার এই শারাবের মজলিসে রাজদরবারের ভেতরে বাহালুল
একদম জুব্বা আর আলখাল্লা নিয়ে পাগড়ি মাথায় নিয়ে যখন প্রবেশ করলেন তখন বাদশাহ হারুনুর বুঝতেই পারলেন যে আজকে বাহালুল তাকে ইচ্ছামত ধোলায় দিবে তো তিনি আগেভাগে নিজেকে রক্ষা করার জন্য মদকে হালাল করার জন্য এক নতুন দর্শন বাহালুলের সামনে উপস্থাপন করলেন বাদশা চালাকির সাথে বাহালুলকে বললেন বাহালুল তুমি আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেবে বাহালুল বলল জনাব অবশ্যই দেব বাদশা হারুনুর রশিদ বলল আচ্ছা বাহালুল আঙ্গুর খাওয়া কি হারাম যদি কেউ আঙ্গুর খায় তা কি হারাম হবে বাহালুল বলল জনাব অবশ্যই না আঙ্গুর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের একটি ফল এটা অত্যন্ত সুস্বাদু স্বাস্থ্যের জন্য ভালো আপনি খেতেই পারেন এরপর হারুন রশিদ মুচকি
হেসে বলল এখন আঙ্গুর খাওয়ার পর কোন মানুষ যদি একটু পানি পান করে তাহলে সেটা কি শরীয়তে হারাম হয়ে যাবে বালুর উত্তর দিল জি না জনাব এতে কোন ক্ষতি নেই বাদশা হারুনুর রশিদ এবার সবার দিকে তাকিয়ে আরেকটু সাহসিকতার সাথে বললেন এখন যদি ওই ব্যক্তি যে আঙ্গুর খেয়েছে তারপর পানি খেয়েছে তারপর গিয়ে দীর্ঘ সময় রোদে বসে থাকে তাহলে কি কোন গুনাহ হবে বাহালুল জবাবে বলল জি জনাব এতে কোন গুনাহ নেই কোন সমস্যা নেই তার যতক্ষণ ইচ্ছা সে এসব খেয়ে রোদে বসে থাকতে পারে তারপর বাদশাহ হারুনুর রশিদ বললেন তাহলে বাহালুল আপনি একজন মহান আলেম আপনি নিজেই বলুন এই
আঙ্গুর ও পানি যদি কিছুদিন রোদে রেখে দেয়া হয় তাহলে তা কেন হারাম হয়ে যাবে মানে আমাদের এই আঙ্গুরের সারাব বা মদটা কেন হারাম হবে কারণ এটা তো দীর্ঘদিন রোদের মধ্যে রেখে পানি মিশিয়েই এই মদটা তৈরি করা হচ্ছে বাদশাহ হারুনুর রশিদ অত্যন্ত গর্বের সাথে তার দর্শনের কথা বলে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বেশ প্রশান্তির সাথে তিনি তার রাজদরবারের সিংহাসনে বসলেন তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে বাহলুলের পক্ষে এখন এই মজলিসে বসে তাকে কোন উপদেশ দেওয়া সম্ভব হবে না বিচক্ষণ বাহলুল বাদশাহ হারুনের প্রশ্নটা শুনে বাদশাহ হারুন কে বলল বাদশাহ হারুন আপনার প্রশ্নের প্রত্যেকটির উত্তর পেয়ে যাবেন তবে শর্ত হচ্ছে আমার সহজ
সরল তিনটি প্রশ্নের উত্তর আগে আপনাকে দিতে হবে তাহলে আমি আপনাকে আপনার করা প্রশ্নটির সঠিক উত্তর বুঝিয়ে দিতে পারবো বাদশাহ হারুনুর রশিদ বললেন হ্যাঁ অবশ্যই বলুন আপনাকে অনুমতি দেওয়া হলো বাহুল জিজ্ঞেস করলেন আচ্ছা বাদশা তাহলে আপনি আমাকে বলুন যদি কোন মানুষের মাথায় কিছুটা শুকনো মাটির গুঁড়ো ঢেলে দেওয়া হয় তাহলে কি সে মারা যাবে উত্তরে খলিফা হারুনুর রশিদ বললেন যে প্রশ্নই আসে না হয়তো সে কিছুটা ব্যথা পেতে পারে যদি খুব উপর থেকে মারা হয় এছাড়াও তার মাথা নোংরা হয়ে যাবে কিন্তু সে মারা যাবে না বাহালুল পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন এরপর যদি তার মাথায় কিছু পানি ঢেলে দেওয়া হয়
তাহলে কি ওই ব্যক্তির কোন সমস্যা হবে তখন বাদশাহ হারুনুর রশিদ বললেন না এতেও তার কোন সমস্যা হবে না তবে মাথা ভিজে যাবে তখন বাহালুল বললেন এবার যদি ওই মাটি এবং পানি মিশিয়ে একটি ইট তৈরি করে ওই ব্যক্তির মাথায় উপর থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সেই ইট গিয়ে তার মাথায় আঘাত করে তাহলে কি তার কোন সমস্যা হবে খলিফা হারুনুর রশিদ বললেন বাহালুর আপনি কি আমার সাথে মশকারা করছেন আরে কোন মানুষের মাথায় যদি ইট পড়ে উপর থেকে সেই ব্যক্তি তো সাথে সাথেই মারা যাবে তার মাথা ফেটে যাবে তখন বাহলুল বললেন বাদশা দেখুন পৃথক পৃথকভাবে গুঁড়ো মাটি যেমন
মানুষের মাথায় পড়লে মানুষ মারা যায় না একইভাবে তারপরে যদি পানি ঢেলে দেওয়া হয় এতেও মানুষের মাথার কোন ক্ষতি হয় না শুধু মাথাটা নোংরা হয়ে যায় কিন্তু এই দুটো উপাদান আলাদা আলাদা না ফেলে একত্রিত করে ইট বানিয়ে যদি ছোড়া হয় তাহলে সেই একই মাথা ফেটে যায় তেমনি আঙ্গুর ও পানি মিলে এমন কিছু তৈরি করে যা হারাম ও অপবিত্র কিন্তু পৃথক এ দুটি জিনিস আবার পবিত্র যা পৃথকভাবে পান করলে আপনার কোন ক্ষতি নেই কিন্তু এগুলোকে একত্রিত করে মদ বানিয়ে যদি সেটা পান করা হয় তাহলে মানুষের বুদ্ধি লোভ পায় এবং শরীয়তে তার জন্য শাস্তির বিধান আছে একথা শুনে
বাদশাহ হারুনুর রশিদ সাথে সাথে তার হাত থেকে মদের গ্লাসটা ফেলে দিলেন এবং ওই রাজকীয় সভায় উপস্থিত যত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ মদ পান করছিলেন তারা দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করলেন প্রিয় দর্শক আপনাদের জানিয়ে রাখি সে সময়ের মানুষ কিন্তু অনইসলামিক কর্মকাণ্ডের সাথে লিপ্ত হতো ঠিকই কিন্তু বুজুর্গদের খুবই সম্মান করতো যাই হোক বাহলুলের আরেকটি ঘটনা বলি একবার এক ফকির বাগদাদের একটি বড় বাজারে এক বেকারির দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল দোকানদার সব ধরনের খাবার চুলায় চুড়িয়ে রেখেছিলেন যাতে গরম গরম কাস্টমারদের সামনে পরিবেশন করতে পারে এবং সেই খাবারের উপর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল তো দোকানের আশপাশের যে কাস্টমার আছে তাদেরকে এই খাবারের সুগন্ধ
আকৃষ্ট করছিল তো গরীব ফকিরের মনও লোভী হয়ে উঠলো কিন্তু গরীব ফকিরের কাছে তো খাবার কেনার মতো টাকা ছিল না কিন্তু তার সেখান থেকে সরে যেতেও ইচ্ছে করছিল না খাবারের মন মতানো সুগন্ধ তার ক্ষুধা আরো বাড়িয়ে দিল অগত্যা সে তার কাঁধে থাকা ব্যাগ খুলল ভেতর থেকে শুকনো রুটি বের করে বেকারির চুলা থেকে খাবারের যে ধোঁয়া বের হচ্ছিল সে গরম বাষ্পে রুটি কে নরম করে তা খেতে লাগলো তাই তার পুরনো রুটিতে কিছুটা খাবারের সুগন্ধ লেগে যাচ্ছিল বেকারির মালিক চুপচাপ এই দৃশ্য দেখছিলেন ফকির যখন রুটি খাওয়া শেষ করে হাঁটতে শুরু করল তখন রুটিওয়ালা তার পথ আটকে তাকে জিজ্ঞেস
করল কি ভাই কোথায় পালাচ্ছো আমার টাকা বের করো ফকির অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল কিসের টাকা বেকারির মালিক বলল তুমি এইমাত্র আমার খাবারের সুগন্ধযুক্ত ধোঁয়া মাখিয়ে তোমার পুরনো রুটিকে তাজা করে খেয়েছিলে এটা কি তোমার বাবার ছিল এর মূল্য কে দেবে ফকির বলল আপনি তো বড়ই অদ্ভুত মানুষ সেই ধোঁয়া তো বাতাসে উড়ে যাচ্ছিল আমি যদি সেখানে রুটি শেকে নাও খেতাম তাও তো সেটা বাতাসে মিশে যেত তো বাতাসে মিশে যাওয়া এই ধোঁয়া যদি রুটির সাথে মিশিয়ে আমি তা খেয়ে থাকি তাতে আপনার কি আপনার তো কোন লোকসান হয়নি যার জন্য আমাকে মূল্য দিতে হবে বেকারির মালিক বলল ব্যাস অনেক
হয়েছে উল্টাপাল্টা কথা বলা বন্ধ করো আমি তোমাকে এমনি এমনি ছেড়ে দেবো না আমি আমার টাকা উসুল করে ছাড়বো এই বলে বেকারির মালিক সেই ফকিরের কলার চেপে ধরলো বেচারা অসহায় ফকির চিন্তিত হয়ে পড়লো এমন সময় বাহলুল সেদিক দিয়ে যাচ্ছিল সে তাদেরকে এই অবস্থায় দেখে সেখানে দাঁড়িয়ে তাদের দুজনের কথা শুনতে লাগলো ফকির তখন বাহলুলকে তার প্রতি সহানুভূতিশীল মনে করে তাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল তখন বাহলুল রুটিওয়ালাকে বলল আরে ভাই তুমি আমাকে এটা বলো যে এই গরীব ফকিরটি তোমার আমার কি খাবার খেয়েছে রুটিওয়ালা উত্তর দিল না আমার খাবার তো খায়নি কিন্তু আমার খাবারের সুগন্ধযুক্ত ধোঁয়া থেকে ফায়দা তো
নিয়েছে আমার এখান থেকে যে সুগন্ধ সে নিয়েছে সেটার দাম চেয়েছি বাহলুল তাকে বলল ঠিক বলেছ তুমি একদম সঠিক কথা বলেছ সেই সুগন্ধ সৃষ্টি যেহেতু তুমিই করেছো কাজেই সেই সুগন্ধের দাম তুমি পেতেই পারো বাহলুল তার মাথা নেড়ে নিজের পকেট থেকে এক মুঠ স্বর্ণমুদ্রা বের করে সেই কয়েনগুলো উপর থেকে নিচের দিকে ফেলে দিল এতে কি হলো একটা কয়েনের উপরে আরেকটা কয়েন পড়ায় ঝনঝন ঝনঝন শব্দ শুরু হয়ে গেল ব্যবসায়ী অত্যন্ত খুশি হয়ে গেল সে নিশ্চিত যে এই সবগুলো স্বর্ণমুদ্রা বাহালুল পাগল নিশ্চয়ই তাকে দিয়ে দিবে কারণ এই পাগলের মাথা ঠিক নেই হয়তো বাদশার কাছ থেকে নিয়ে এসেছে এখন সবগুলো
স্বর্ণমুদ্রা তাকে দিয়ে দিবে এই সুগন্ধের মূল্য হিসেবে বাহুল তাকে বলল কি ব্যবসায়ী তুমি কি আমার এই স্বর্ণমুদ্রগুলোর শব্দ শুনতে পেরেছ মুচকি হেসে বলল অবশ্যই জনাব আপনার প্রত্যেকটি মুদ্রার শব্দ আমার কানে এসেছে তখন বাহুল বলল ব্যাস হয়ে গেল এবার বাহুল তার সবগুলো মুদ্র মাটি থেকে কুড়িয়ে আবার নিজের পকেটে রেখে দিল এ দৃশ্য দেখে সে ব্যবসায়ী বলল কি ব্যাপার মুদ্রগুলো কি আমাকে দিবেন না আমার জন্য কি নিশ্চয়ই আপনি সেগুলো বের করেননি বাহালুল বলল আহা আপনার জন্য বের করেছি আপনার মূল্য পরিশোধ করে দিয়েছি সে ব্যবসায়ী বলল আমার সাথে মশকরা করছেন তখন বাহুল বলল কেন মশকরা করব আপনার তরতাজা
সুগন্ধযুক্ত গরম খাবারের উপর দিয়ে যে সুগন্ধ উড়ে যাচ্ছিল সেই সুগন্ধের মূল্য তো শুধুমাত্র অর্থের ঝনঝন শব্দ দিয়ে পরিশোধ করা যায় তার মানে হচ্ছে যেই শব্দটা আপনি শুনতে পেরেছেন মুদ্রার সেটাই হচ্ছে ওই সুগন্ধের মূল্য বাগদাদের সেই দোকানের আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থী লোকজন বাহালুলের এই বুদ্ধিদীপ্ত দৃশ্য দেখে হাসতে হাসতে পাগল হয়ে গেল দর্শক বাহুলদানা ইতিহাসের এমন একটি নাম যার প্রত্যেকটি ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষা লুকিয়ে আছে বাহুলদানা একদিন যথারীতি বাদশাহ হারুনুর রশিদকে নসিহত করার জন্য রাজপ্রসাদে আসলেন যদিও তিনি জানতেন যে এই অহংকারী আব্বাসী খলিফা তার কথা কানেও তুলবে না কিন্তু তার অভ্যাস হয়ে গেছে যে তিনি মাঝে মাঝে রাজপ্রাসাদে
এসে খলিফাকে নানান ভাবে আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিতেন যে তিনি ভুল করছেন তো বাদশাহ হারুনুর রশিদ ও বাহালুলের কথা শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তাই বাহলুলের কথাকে বাদশাহ হারুনুর রশিদ গুরুত্বের সাথে খুব একটা নিতেন না যদিও বাহালুল অনেক কঠোরভাবে কথা বলতেন এবং খলিফার সাথে মাঝে মাঝে কিন্তু অধ্যত্বপূর্ণ আচরণ করতেন কিন্তু তারপরেও বাদশাহ হারুনুর রশিদ ব্যাপারটাকে কোনভাবে ম্যানেজ করে নিয়ে যেতেন কিন্তু এবার বাহালুল ভরা মজলিসে সবার সামনে এমন একটা কাজ খলিফার সাথে করলেন যা খলিফাকে অত্যন্ত রাগান্বিত করে তোলে ঘটনাটা এমন ছিল যে বাহুল রাজদরবারে প্রবেশ করে দেখতে পেল বাদশাহ হারুনুর রশিদ এর চারপাশে প্রচুর লোক বসে আছে
বাহুল সেদিকেই তাকালো দেখতে পেল কোথাও বসার কোন জায়গা নেই সেই সাথে তিনি এটাও বুঝতে পারলেন যে তাকে দেখে কেউ খুশি হয়নি তাই কোন আসন ছেড়ে তাকে সম্মানও জানানো হচ্ছে না তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ লোকদের দিকে তাকিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করলেন অতঃপর মজলিসের সবার মাঝখান দিয়ে রাস্তা করে বাদশাহ সিংহাসনের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং গিয়ে খলিফা হারুনের পাশে সিংহাসনের মধ্যেই বসে পড়লেন যেহেতু সিংহাসন অনেক বড় সেখানে একজনের জায়গায় দুই থেকে তিনজন পর্যন্ত বসা যায় কিন্তু বাদশা ছাড়া সেখানে কেউ বসেন না কিন্তু বাহালুল দানা তিনি সরাসরি খলিফার পাশে সিংহাসনে গিয়ে বসলেন দরবারে বসা হাসি খুশি লোকেরা এই দৃশ্য
দেখে চিৎকার করে বলতে লাগলো এ কেমন আচরণ বাহালুল নিশ্চয়ই পাগল হয়ে গেছে আজ পর্যন্ত কেউ খলিফার সাথে এমন বেয়াদবি করেনি বাদশাহ হারুনুর রশিদ দরবারের লোকদের কথা শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে বাহালুর দিকে তাকাতে লাগলো কিন্তু বাহালুল তো ধমে যাওয়ার পাত্র নয় সে ঠোঁটে মৃদু হাসি ছিল যা দেখে বাদশাহ হারুনুর রশিদ রাগে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন মানে তার রাগ আরো বেড়ে গেল তিনি বুঝতে পারছিলেন যে বাহুল এই কাজের মাধ্যমে অন্যদের সামনে আমাকে অপমান করছে সবাই অবাক হয়ে খলিফা ও বাহলুলের দিকে তাকিয়ে রইল বাদশাহ হারুনুর রশিদ গভীর চিন্তায় পড়ে গেল কিন্তু তিনি বাহলুলের হাত থেকে নিজেকে কিভাবে মুক্ত করবেন এবং
কিভাবে তাকে শিক্ষা দিবেন সেটা বুঝে উঠতে পারছিলেন না হঠাৎ তার মাথায় একটা কুবুদ্ধি এলো তিনি বাহালুরের দিকে তাকিয়ে একটা মোহনীয় হাসি দিয়ে বললেন আপনি যখন এত কষ্ট করে আমার সাথে দেখা করতে চলেই এসেছেন তাই আমি আপনাকে একটি প্রশ্ন করতে চাই আপনি যদি এর উত্তর দেন তবে আমি আপনাকে 1000 দিনার পুরস্কার দেব কিন্তু আপনি যদি এর উত্তর দিতে না পারেন তাহলে কিন্তু আমি আমার সিপাহীদেরকে আদেশ দেব আপনার গোফ ও দাড়ি কামিয়ে আপনাকে গাঁধার পিঠে চড়িয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরানোর জন্য বাহালুলের বুঝতে দেরি রইল না যে খলিফা প্রতিশোধ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিশ্চয়ই এমন প্রশ্ন করবেন যার উত্তর কেউই
জানে না তাই তিনি বাদশাহ হারুনুর রশিদকে অপদস্ত করার জন্য বললেন বাদশা তোমার দিনারের আমার দরকার নেই তবে আমি এক শর্তে তোমার ধাঁধার উত্তর দিতে প্রস্তুত আছি বাদশা হারুনুর রশিদ জিজ্ঞেস করল কি শর্ত বাহুল বললেন এই শর্তে যে আপনি মাছিদেরকে আদেশ করবেন তারা যেন আমাকে বিরক্ত না করে সবসময় আমার মাথার আশপাশে ভনভন করে বাচ্চা হারুনুর রশিদ মাথা নিচু করে ভাবতে থাকেন আর মনে মনে বলতে থাকেন এভাবে সারাদিন রাস্তাঘাটে বসে থাকলে তো মাছি ভনভন করবেই মনে মনে কথাগুলো বলে বাদশা মাথা সোজা করে দরবারের সকল মানুষের দিকে তাকাতে লাগলেন কারণ আসলে বাহালুল যে প্রশ্ন করেছে এর সঠিক কোন
উত্তর বাদশার জানা ছিল না এবং তিনি দরবারের সবাই নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে আগত বাদশাহ হারুনুর রশিদ বলতে বাধ্য হন যে এটা তো অসম্ভব কারণ মাছিরা আমার আদেশ মানে না বাহালুল বাদশাহ হারুনুর রশিদের দিকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল তুমি কেমন রাজা যে এই সামান্য ক্ষুদ্র মাছিদের সামনে অসহায় এ মাছিরা তোমার কথা শুনে না একথা শুনে দরবারীরা সবাই জোরে জোরে হাসতে লাগলো বাদশাহ হারুনুর রশিদ দরবারীদের এরকম তাচ্ছিলের হাসি দেখে অত্যন্ত রাগান্বিত চোখে তাদের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন তার ক্ষমতার ভয়ে সকলের ঠোঁটের হাসি মুহূর্তের মধ্যেই মুছে গেল এবং তাদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল বাহালুল বুঝতে পারলো যে বাদশাহ
হারুনুর রশিদকে অন্যদের সামনে খুব বেশি বিব্রত করে ফেলেছে এরপর বাহুল বাদশাহ হারুনুর রশিদ কে সান্ত্বনা দিয়ে তার রাগ ঠান্ডা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি বাদশাহ হারুনুর রশিদ কে বললেন ঠিক আছে এখন আপনি আপনার প্রশ্ন করতে পারেন আমি কোন শর্ত ছাড়াই আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত আছি বাদশাহ হারুনুর রশিদ বলল যদি তুমি না বলতে পারো তাহলে আগে যে শাস্তির কথা বলেছি তোমাকে কিন্তু সেই শাস্তি দেয়া হবে বাহালুর মনে রেখো এখন বলো যে সেটি কোন গাছ যার বয়স এক বছর এবং যার 12টি শাখা আছে আর তার প্রতিটি শাখায় 30 টি করে পাতা রয়েছে এবং সেই পাতার একপাশ আলোকিত
আর অন্যপাশে অন্ধকার গভীর ভাবনায় হারিয়ে গেল তিনি শুনতে পেলেন লোকেরা বলাবলি করছে যে এ কেমন অদ্ভুত প্রশ্ন বাহালুলের উত্তর দিতে পারবে না তার তো শাস্তি হবে বাদশা হারুনুর রশিদ বাহালুলের চিন্তিত চেহারা অনেকক্ষণ দেখে তারপর বললেন বাহালুল ধাঁধার উত্তর দিতে না পারলে দেরি না করে স্বাস্থ্যের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন বাহালুলের গোফ ও দাড়ি কামিয়ে রাস্তায় ও বাজারে গাঁধার পিঠে চড়িয়ে ঘুরানোর জন্য বাহুল খলিফাকে বাধা দিয়ে বললেন এই গাছটি মূলত এক বছর আর এর 12টি শাখার অর্থ হচ্ছে 12 টি মাস এবং প্রতিটি শাখার 30 টি পাতা হলো মাসের 30 টি দিন পাতাগুলোর এক
অংশ আলোকিত মানে হচ্ছে দিনের আলো আর এক অংশ অন্ধকার মানে হচ্ছে রাতের অন্ধকার বাহালুলের উত্তর শুনে শ্রোতাদের মধ্যে সাবাস সাবাস ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হলো সবাই খুশি হয়ে বাহালুলের প্রশংসা করতে লাগলো সুবহানাল্লাহ কিন্তু বাদশাহ হারুনুর রশিদ চুপ করে রইলেন তার চোয়াল ঝুলে পড়ছিল এবং তার মুখে পরাজয়ের ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল দর্শক বাহালুলকে আল্লাহতালা বিশেষ প্রজ্ঞা দিয়েই পাঠিয়েছিলেন তিনি আল্লাহ পাকের এমন একজন বুজুর্গ পীরে কামেল ছিলেন যার ভিতরে জ্ঞানের সমুদ্র ছিল তেমনি আরেকটি ঘটনা আপনাদের বলছি খলিফা হারুনুর রশিদের স্ত্রী জুবায়দা যিনি অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ একজন নারী ছিলেন তো খলিফার স্ত্রী তিনি তার নিজের প্রাসাদে এমন 1000 খাতেমা রেখেছিলেন যারা
কোরআনে হাফিজ ও ক্বারী ছিলেন তাদের সকলের দায়িত্ব বিভিন্ন শিফটে ভাগ করা ছিল যার ফলে তার প্রাসাদ থেকে 24 ঘন্টা মেয়েদের কোরআনের তেলাওয়াতের আওয়াজ শোনা যেত তার প্রাসাদটিকে কোরআনের বাগানের মত মনে হতো একদিন খলিফা হারুনুর রশিদ তার স্ত্রীকে নিয়ে নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে বের হলেন তো খলিফা দেখতে পেলেন নদীর পাড়ে একপাশে বাহালুল দানা চুপচাপ বসে আছে খলিফা তাকে বললেন আসসালামু আলাইকুম বাহালুল বাহালুল উত্তর দিলেন ওয়ালাইকুম আসসালাম খলিফা হারুনুর রশিদ বললেন বাহালুল আপনি এখানে কি করছেন তিনি বললেন বালির উপর বাড়ি তৈরি করছি দেখতে পাচ্ছ না খলিফা হারুনুর রশিদ জিজ্ঞেস করল এটা কেন বানাচ্ছেন এ দিয়ে কি কাজ
হবে এসব বাজে কাজ না করলেও তো পারেন বাহালুল উত্তরে বললেন যে লোক এটা কিনবে আমি তার জন্য দোয়া করব যেন আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত তাকে এই ঘরের বদলে জান্নাতে একটি ঘর দান খলিফা হারুন রশিদ বললেন বাহালুর আপনার এই বাড়ির মূল্য কত তিনি বললেন মাত্র একদিনার আর এটা বিক্রির যে টাকা আমি পাবো সে টাকা আমি কোন অসহায়কে দান করে দেব খলিফা হারুনুর রশিদ ভেবেছিলেন এটা হয়তো এক পাগলের নতুন কোন পাগলামি তাই তিনি তাকে পাত্তা না দিয়ে সামনে এগিয়ে গেলেন পেছনেই খলিফা হারুনুর রশিদের স্ত্রী জবাইদা খাতু নিলেন তিনি বাহলুলকে জিজ্ঞেস করলেন একই প্রশ্ন বাহলুল উত্তরে বললেন যে যে
আমার এই বাড়ি কিনবে আমি তার জন্য জান্নাতের দোয়া করব জুবায়দা খাতুন জিজ্ঞেস করলেন বাহালুল এই বাড়ির দাম কত বাহলুল বলল মাত্র এক দিনার জুবায়দা খাতুন একটি দিনার বের করে তাকে দিলেন এবং তার জন্য দোয়া করতে বললেন এবং বাহলুল হাত তুলে আল্লাহর কাছে জুবায়দার জন্য দোয়া করে বললেন হে আল্লাহ আপনি আপনার এই বান্দিকে আপনার দ্বীনের জন্য কবুল করুন কোরআনের খাদেম হিসেবে কবুল করুন এবং পরকালে একটা উৎকৃষ্ট ঘর দান করুন সুবহানাল্লাহ পরের দিন বাদশা স্বপ্নে জান্নাতের দৃশ্য দেখতে পান জান্নাতে তিনি হুর সহ সমস্ত ফলমূল ইত্যাদি ছাড়াও অনেক উঁচু উঁচু সুন্দর মনোরম প্রাসাদ তিনি দেখতে পান তিনি দেখতে
পেলেন লাল ইয়াকুতের তৈরি অত্যন্ত সুন্দর এবং মনোরম একটি প্রাসাদে তার স্ত্রী জুবায়দার নাম লেখা হারুনুর রশিদ ভাবলেন এটা সত্যি আমার স্ত্রীর বাড়ি কিনা যাচাই করে দেখা দরকার তিনি সেই প্রাসাদে প্রবেশের জন্য দরজার কাছে পৌঁছাতেই একজন দারোয়ান তাকে থামালেন হারুনুর রশিদ বললেন কি ব্যাপার আমাকে থামাচ্ছ কেন এতে আমার স্ত্রীর নাম লেখা আছে তাই আমাকে ভেতরে যেতে দাও দারোয়ান বলল না এখানকার রীতি আলাদা এখানে স্ত্রীর হলে স্বামী প্রবেশ করতে পারবে স্বামীর হলে স্ত্রী মালিক হয়ে যাবে এমন কোন রীতি নেই যাদের কাছে আমল রয়েছে তারাই শুধুমাত্র এই ঘরে প্রবেশ করতে পারবে তাদের স্ত্রী সন্তানরা নয় এই ঘরে শুধু
যাদের নাম উল্লেখ আছে শুধুমাত্র তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় অন্য কাউকে অনুমতি দেওয়া হয় না তাই আপনাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না একথা বলে দারোয়ান হারুনুর রশিদকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয় এবং জান্নাতের ফেরেশতার ঘাড় ধাক্কা খেয়ে হারুনুর রশিদের ঘুম ভেঙে যায় ঘুম থেকে উঠার পর হারুনুর রশিদ ভাবতে লাগলো আমার মনে হচ্ছে আল্লাহতালা জুবায়দার জন্য বাহালুলের দোয়া কবুল করেছেন তখন তার নিজের জন্য খুব আফসোস হতে লাগলো সে ভাবলো অত বেশি তো আমল করতে পারছি না কি ভুল করলাম বাহালুলের বাড়িটা কিনে নিলেই ভালো হতো সারারাত হারুনুর রশিদ এ আফসোস নিয়ে বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে
লাগলো সকাল হলেই হারুনুর রশিদ মনে মনে ভাবলো আমি আজ সবার আগে সেই নদীর ধারে যাব যদি আজ আমি বাহালুলকে পেয়ে যাই তাহলে আমিও একটি বাড়ি কিনবো তাই হারুনুর রশিদ পরদিন সন্ধ্যায় আবার তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে বের হলো সেই নদীর ধারে বাহালুলের খোঁজে এদিক সেদিক তাকাচ্ছিল হঠাৎ সে দেখল বাহালুল অন্য আরেক জায়গায় বসে একইভাবে বাড়ি তৈরি করছে দূর থেকে দৃশ্য দেখে হারুনুর রশিদ অত্যন্ত খুশি হয়ে গেলেন দৌড়ে গিয়ে হাসিমুখে বললেন আসসালামু আলাইকুম বাহালুল আপনি কেমন আছেন আজ আমি কিন্তু আপনার বাড়িটা কিনে নিব বাহালুল উত্তর দিয়ে বলল কিনতেই পারেন কোন সমস্যা নেই আমি সেই ব্যক্তির জন্য দোয়া
করব যে আমার এই বাড়িটি কিনবে আমি তার জন্য এই দোয়া করব যেন আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত তাকে এই ঘরের বদলে জান্নাতে একটি ঘর দান করেন হারুনুর রশিদ বাহালুলের দিকে এক দিনার এগিয়ে দেওয়া মাত্রই বাহালুল সেই দিনারটাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে বলল কি ব্যাপার আমার সাথে মশকারা করছেন তখন হারুনুর রশিদ বললেন কেন এই বাড়ির দাম কত বাহালুল বললেন এর দাম সারা পৃথিবীর রাজত্ব হারুনুর রশিদ আকাশ থেকে পড়লেন বললেন এত দাম তো আমি দিতে পারবো না গতকাল তো আপনি একদিনারের বিনিময়ে দিয়েছিলেন আর আজ সারা পৃথিবীর রাজত্ব চাইছেন এই তুচ্ছ বাড়িতে জন্য বাহালুল হেসে বললেন বাদশাহ সালামত গতকাল এটা ছিল
অদেখা বিষয় আজ এটা প্রমাণিত বিষয় গতকাল এটা একটি না দেখা জিনিসের বিনিময় ছিল তাই এটা সস্তা ছিল যেহেতু আপনি আজ এর মূল্য জেনে এসেছেন তাই এর জন্য আপনাকে মূল্য অনেক বেশি দিতে হবে কিন্তু দুর্ভাগ্য সেই মূল্য দেওয়ার ক্ষমতা এখন আর আপনার নেই একইভাবে মৃত্যুর পরেও চাইলে নতুন করে কোন আমল যুক্ত করার সুযোগ নেই কিন্তু চাইলে আজ থেকে নতুন আমল যুক্ত করার সুযোগ আছে সুবহানাল্লাহ দর্শক একবার বাহুল দানা কবরস্থানে বসেছিলেন কেউ একজন তাকে জিজ্ঞেস করল বাহালুল এখানে কি করছেন তিনি বললেন আমি এমন লোকদের সাথে আছি যাদের সঙ্গ আমাকে কষ্ট দেয় না এবং আমি তাদের থেকে দূরে
থাকলেও তারা আমার গীবত করে না প্রশ্নকারী ব্যক্তি আবার বললেন জিনিসপত্রের যা দাম বেড়েছে বাহুল আপনি একটু আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলুন যেন জিনিসপত্রের দাম কমে যায় বাহলুল বললেন আল্লাহর শপথ এতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না কিসের দাম বাড়লো কিসের দাম কমলো গন্ধমের একটি দানার মূল্য একদিনার হলেও আমার কিছু আসে যায় না 10 দিনার হলেও কিছু যায় আসে যায় না কারণ আমাদের উপর আল্লাহ পাকের হক রয়েছে যে আমরা তার নির্দেশ অনুযায়ী এবাদত করব এবং আল্লাহর কাছে আমাদের হক রয়েছে যে তিনি তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের রিজিক দিবেন তা মূল্য যত বেশি হোক না কেন সুবহানাল্লাহ আল্লাহপাক যখন
রিজিকের দায়িত্ব নিয়েছেন তখন আমার আর চিন্তা করার দরকার নেই বলা হয় একবার শায়েখ জুনায়েদ বাগদাদী যাকে বলা হয় উপমহাদেশের সবচেয়ে জ্ঞানী একজন শায়েখ আল্লাহু আকবার তিনি আল্লাহ পাকের একজন কামেল বান্দা ছিলেন এবং তৎকালীন সময়ে সবচেয়ে বিজ্ঞ অভিজ্ঞ একজন মুফাসসিরে কেরাম ছিলেন তো শায়েখ জুনায়েদ বাগদাদী আলাইহি সফরের নিয়তে বাগদাদের উদ্দেশ্যে রওনা হন হযরত শায়েখের কিছু অনুসারীও তার সাথে ছিলেন শায়েখ তার মুরিদদেরকে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কি বাহলুলের খোঁজ সম্পর্কে জানো তারা বলল হযরত তিনি তো একজন পাগল তার সাথে দেখা করে কি করবেন আপনার মত একজন সম্মানিত শায়েখের কি এরকম পাগল ছাগলের পেছনে ঘোরা উচিত শায়েখ জুনায়েদ বাগদাদী
রহমতুল্লাহ আলাইহি উত্তর দিলেন অনুগ্রহ করে বাহালুলের খোঁজ করো আর তাকে সম্মান দিয়ে কথা বলবে তার সঙ্গে আমার জরুরি কাজ আছে তো মুরিদরা শায়েখের আদেশ পালন করল মুরিদরা কিছুক্ষণ খোঁজার পর হযরত বাহলুলকে এক মরুভূমিতে পাওয়া গেল তারা শায়েখকে সাথে নিয়ে সেখানে পৌঁছে যায় শায়েখ জুনায়েদ বাগদাদী বাহলুলের সামনে গেলে তিনি দেখতে পেলেন হযরত বাহালুল মাথার নিচে একটি ইট দিয়ে শুয়ে আছে শায়েখ তাকে সালাম দিলে বাহালুল সালামের উত্তর দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন কে তুমি বললেন আমি জুনায়েদ বাগদাদী বাহলুল বললেন হে আবুল কাসেম আপনি কি সেই শায়ক বাগদাদী যিনি মানুষকে বুজুর্গদের কথা শেখায় শায়েখ উত্তর দিলেন হাঁ আমি চেষ্টা করিল
জিজ্ঞেস করল আচ্ছা তুমি খাওয়ার আদব ও পদ্ধতি তো জানো অবশ্যই ঠিক না শায়েখ জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন কেন নয় আমি বিসমিল্লাহ পড়ি এবং আমার সামনে যা আছে তা খাই আমি ছোট ছোট লোকমা দিয়ে রাসূলের সুন্নত অনুযায়ী খাই ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাই কারণ আল্লাহর রাসূল এভাবেই খেতে বলেছেন অন্যের লোকমার দিকে তাকাই না কারণ এটাও আল্লাহর রাসূলের নির্দেশ এবং খাওয়ার সময় আল্লাহর স্মরণ ভুলে যাই না কারণ এটাও আল্লাহর নির্দেশ তারপর তিনি আবার বললেন আমি প্রতিটি লোকমা খাওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ বলি কারণ এটাও আমাদের রাসূলের সুন্নাহ আমি খাওয়া শুরু করার আগে আমার হাত ধুয়ে নেই এবং খাওয়ার শেষে
হাত ধুয়ে পরিষ্কার করি এবং আলহামদুলিল্লাহ পড়ি একথা শুনে বাহালুল উঠে দাঁড়ালো এবং নিজের চাদর ছাড়া দিয়ে শায়েখকে বললেন তুমি মানুষের পীর এবং মুর্শিদ হতে চাও অথচ তুমি এখন পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়ার আদবই জানো না এই কথা বলে বাল সেখান থেকে চলে গেল শায়েখের অনুসারীরা বললেন হযরত এই ব্যক্তি একটা উদভ্রান্ত পাগল দেখুন আপনার প্রজ্ঞাকে সে কতটা অসম্মান করল শায়েখ বললেন সে পাগল কিন্তু তার কাজের ক্ষেত্রে সে অনেক জ্ঞানী আমার থেকেও অনেক জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমানদেরকেও নাস্তানাবুদ করে দেয় তার জ্ঞানগর্ভ প্রতিটি কথা এর কাছ থেকে সত্য জানা উচিত সে মিথ্যা বলছে না সায়ক বাহালুলকে অনুসরণ করতে লাগলেন মরুভূমির ভেতরে বাহালুল
চলতে চলতে একটা নির্জন স্থানে পৌঁছে যায় এক জায়গায় বাহালুল গিয়ে আবার বসলো বাহালুলকে গাছের নিচে পুনরায় আবার বসতে দেখে শায়ক বাগদাদী তাড়াতাড়ি তার কাছে পৌঁছে গেল গেলেন বালুরের একটা ব্যাপার ছিল কি তিনি মুহূর্তে সবকিছু ভুলে যেতেন তো তিনি শায়েখকে কিছুক্ষণ আগে দেখেছিলেন ঠিকই কিন্তু দ্বিতীয়বার আবার দেখে একই প্রশ্ন করলেন আপনি কে শায়েখ উত্তর দিয়ে বললেন আমি জুনায়েদ বাগদাদী যে খাবারের আদব জানে না বালুল বললেন আচ্ছা ঠিক আছে কিছুক্ষণ আগে তো আপনার সাথে কথা হয়েছিল আপনি হয়তো খাবার আদব জানেন না কিন্তু কথোপকথনের আদব অবশ্যই জানেন সায়ক উত্তর দিলেন যে হ্যাঁ তা জানি আমি সুন্নাহ অনুযায়ী কথাবার্তা
বলি ভুল স্থানে বা অপ্রয়োজনীয় কথা বলি না শ্রোতাদের বুঝার ক্ষমতা আন্দাজ করে আমি আল্লাহর বান্দাদেরকে আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশের কথা বলি আমি খেয়াল রাখি আমি যেন অতিরিক্ত কথা না বলি যাতে মানুষ আমার প্রতি বিরক্তবোধ না করে আমি জাহেরী ও বাতিনি উভয় জ্ঞানের দিকে নজর রাখি এছাড়াও শায়েখ কথোপকথনের আদব কায়দা সম্পর্কিত আরো অনেক হাদিস কোরআনের কথা শুনালেন বাহলুল বললেন খাওয়ার আদব না হয় বাদ দিলাম আপনি তো দেখছি কথা বলার আদবও জানেন না তারপর বাহলুল শায়েখের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে আবার মরুভূমিতে চলতে লাগলেন মুরিদরা আর চুপ থাকতে না পেরে বলল হে হযরত এই পাগল ব্যক্তির পেছনে আপনার
এভাবে ছুটে চলাটা আমাদের ভালো লাগছে না আপনি একজন পাগলের কাছে কি জ্ঞান আশা করেন হযরত জুনায়েদ বাগদাদী বললেন তার কাছে আমার এখনো আরো কাজ বাকি আছে তোমরা বুঝবে না এরপর শায়ক আবার বাহুলের পেছনে রওনা দিলেন বাহুল থেমে গিয়ে পেছন ফিরে শায়েখকে দেখে বলল আপনি খাওয়া-দাওয়া আর কথা বলার আদব জানেন না ঘুমানোর আদব নিশ্চয়ই জানেন শায়েখ বললেন হ্যাঁ জানি আমি যখন এশার নামাজ ও দোয়া দরুদ পাঠ শেষ করি তখন আমি শোয়ার ঘরে চলে যাই একথা বলে শায়েখ ঘুমানোর ওই সকল আদব সম্পর্কে বললেন যা আল্লাহর রাসূলের হাদিস থেকে তিনি জানেন বাহালুল বললেন বোঝাই যাচ্ছে আপনি ঘুমানোর আদবও
জানেন না এই বলে বাহুল চলে যেতে চাইলো কিন্তু এইবার হযরত জুনায়েদ বাগদাদী তার চাদর শক্ত করে টেনে ধরে বললেন হযরত আমি কিছুই জানিনা একথা যখন বলছিলেন তখন তার চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল এবং বাহালুলের সামনে নত হয়ে বললেন আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি আমাকে শিক্ষা দিন এবার বাহালুল সুন্দর করে স্থির হয়ে বসলো এবং বলল আপনি যা কিছু বললেন এই সবই পরের বিষয় এগুলো এগুলোর প্রয়োজন আছে কিন্তু আসল জিনিস থেকে না আপনি অনেক দূরে রয়েছেন আমার কাছ থেকে আসল কথা শুনুন খাওয়ার আসল আদব হলো সবার আগে হালাল খাবার হতে হবে যদি রিকে হারাম কিছু থাকে তাহলে আপনার বর্ণিত সকল
সুন্নাহর আদব অনুসরণ করে সেই খাবার খেয়েও কোন লাভ নেই কারণ গোড়াতেই তো গলদ এবং আপনার হৃদয় আলোকিত হওয়ার পরিবর্তে অন্ধকার হয়ে যাবে যদি আপনি সেই হারাম খাবার সুন্নত তরিকায় আদব সহকারে খেয়েও থাকেন শেখ জুনায়েদ কৃতজ্ঞতা সহকারে বললেন জাযাকাল্লাহ খাইরান নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর তরফ থেকে আমাদের জন্য একজন মহান শিক্ষক অতঃপর বাহালুল বললেন কারো সাথে কথোপকথনের সময়ও সর্বপ্রথম হৃদয়ের পবিত্রতা ও পরিষ্কার নিয়ত থাকা জরুরী এবং এটাও মাথায় রাখতে হবে যে যা কিছু বলা হবে তা যেন কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয় এটা যদি দুনিয়াবী কোন অনর্থক বিষয় হয় তাহলে আপনি যতই সুন্দর করে আদবের সাথে কথা বলুন না
কেন এটি আপনার জন্য বিপর্যয়ের কারণ হবে তাই এ ধরনের কথার চেয়ে নীরবতাই উত্তম একইভাবে আপনি আমাকে ঘুমের বিষয়ে যা বলেছেন সেগুলো আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ সঠিক কিন্তু আসল উদ্দেশ্য নয় আসল কথা হলো আপনি যখন ঘুমাতে যাবেন তখন হৃদয়কে পরিষ্কার করুন সারাদিনে যত হিংসা বিদ্বেষ এ হৃদয়ে বাসা বেঁধেছে সেই হিংসা বিদ্বেষ এবং পরশ্রীকা কাতরতা থেকে মুক্ত হতে হবে সবাইকে ক্ষমা করতে হবে অন্তর থেকে হিংসা মুছে দিতে হবে আপনার হৃদয়ে দুনিয়া এবং দুনিয়ার সম্পদের প্রতি ভালোবাসা থাকলে ঘুমানোর আগে তা ধুয়ে মুছে সাফ করে দিতে হবে কারণ ঘুম হচ্ছে মৃত্যুর সমতুল্য কে জানে সকালে আপনি আবার উঠতে পারবেন কি
পারবেন না আর হ্যাঁ ঘুমিয়ে না পড়া পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে থাকতে হবে হযরত বাহালুল দানার কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে হযরত জুনায়েদ বাগদাদী তার হাত চুম্বন করতে লাগলেন উপস্থিত মুরিদরাও বাহালুলের হাত চুম্বন করতে লাগলেন পরিস্থিতি এমন হলো যে বাহালুলের হাতে থাকা ময়লা আবর্জনা সব সাফ হয়ে গেল বাহালুল বলতে লাগলেন আমাকে এভাবে সম্মান না দেখিয়ে বরং আমার জ্ঞানকে হৃদয়ে ধারণ করুন এবং মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তা শক্ত করে ধরে রাখুন অতঃপর বাহুল দানা সবার জন্য হাত তুলে দোয়া করলেন হযরত জুনায়েদ বাগদাদীর অনুসারীরা সবাই হাত তুলে কাঁদতে লাগলো আল্লাহর দরবারে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারলো এবং এটাও বুঝতে
পারলো যে প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত সে যা না জানে তা শিখতে লজ্জা না করা প্রিয় দর্শক মানবজীবনের সফলতার পেছনে আদব আখলাক যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনভেস্টমেন্ট এটা বোঝার জন্য বাহুল দানার একটি ঘটনাই যথেষ্ট একবার মরুভূমিতে এক ব্যবসায়ীকে বসে থাকতে দেখে বাহুলদানা বলছিলেন কি ব্যাপার তখন সে বেশ আদব এবং আখলাকের সাথে বালুদানাকে বলছিলেন মুহতারাম আমাকে এমন কিছু জ্ঞান দিন যাতে ব্যবসায় সফলতা পেতে পারি আমার ব্যবসায় কোনভাবে সফলতা আসছে না আপনি অনেক একজন বুজুর্গ মানুষ নিঃসন্দেহে আপনার কাছে ভালো কোন জ্ঞান পাবো আপনি শুধু বলুন কোন ব্যবসাটা লাভজনক হবে বাহালুল তাকে বলল কাপড় কিনবো সেই ব্যবসায়ী বলল
মুহতারাম যদি বলে দিতেন কোন রঙের কাপড় কিনবো বাহুল দানা বললেন কালো রঙের কাপড় কেন সে ব্যবসায়ী তাকে ধন্যবাদ দিয়ে ফিরে গেল তিনি গিয়ে এলাকার সব কালো কাপড় কিনে আনলেন কিছুদিন পর সেই শহরের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মারা যান শোকের চিহ্ন হিসেবে কালো কাপড়ের সন্ধানে গোটা শহরের মানুষ বেরিয়ে পড়ে এখন সব কালো কাপড় তো শুধুমাত্র একজন ব্যবসায়ীর কাছে ছিল সেই ব্যবসায়ী তখন ইচ্ছেমত অনেক চড়া মূল্যে সমস্ত কালো কাপড় বিক্রি করেছিলেন এবং প্রচুর লাভ করে এত বেশি লাভ করেছিলেন যে তিনি তার পুরো জীবনে যা অর্জন করেছিলেন তার চেয়েও বেশি মুনাফা শুধুমাত্র ওই কালো কাপড়গুলো থেকে তিনি করেছিলেন মানে
সুযোগে সৎ ব্যবহার করেছেন তিন চার গুণ বেশি মুনাফা করেছেন যেহেতু তার কাজ ছাড়া আর কারো কাছে কালো কাপড় নেই ওই ব্যক্তি ধনী হয়ে গেলেন কিছুদিন পর সেই ব্যবসায়ী একটা তাগড়া ঘোড়ায় ছুড়ে আড়ম্বরপূর্ণ পোশাক পড়ে কোথাও যাচ্ছিল বাহালুল মরুভূমিতে সেখানে বসেছিল সেই ব্যবসায়ী ঘোড়ার পিঠে ছাওয়ার অবস্থায় বাহলের দিকে তাকিয়ে বলল ওহে পাগল কি ব্যাপার তোমার দেখি আরো কিছু ব্যবসার আইডিয়া দাও তো যাতে আমি আরো বেশি সম্পদশালী হতে পারি তখন বাহালুল তাকে বলল আপনি এবার তরমুজ কিনুন সে সেখান থেকে দ্রুত চলে গেল এবং বাগদাদের সমস্ত তরমুজ সে তার সকল সম্পদ খরচ করে কিনে ফেলল একদিনের মধ্যে এবং
দেখা গেল দুইদিন পরে তার সমস্ত তরমুজ মজুদ করার কারণে পুঁচে নষ্ট হয়ে গেল এবং সে পথের ভিখারী হয়ে গেল সে এই নিঃস্ব অবস্থায় ঘুরাঘুরি করতে করতে আবার একদিন বাহলুলের সাথে তার দেখা হলো এবং সে জিজ্ঞেস করল আপনি আমার সাথে এটা কি করলেন জনাব বাহলুল বললেন আমি না তোমার কথা আর কথার ধরণী এসব করেছে তোমার আদব তোমার আখলাক তোমাকে উপরে উঠিয়েছে আবার আদব এবং আখলাক তোমাকে নিচে নামিয়েছে যখন তুমি ভদ্রতার সাথে জিজ্ঞেস করেছিলে আমার দেওয়া উত্তরে তুমি ধনী হয়ে গেলে যখন বেয়াদবির সাথে জিজ্ঞেস করলে তুমি নিঃস্ব হয়ে গেলে একেই বলে যার মধ্যে আদব আছে সে সৌভাগ্যবান
আর যার মাঝে আদব নেই সে এই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় হতভাগা