আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি বন্ধুরা আজকের এই ভিডিওতে আমরা হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা ও জান্নাতি আনার ফলের বিষয়কর ঘটনা সম্পর্কে বলতে চলেছি যা শুনে আপনার মন ছুঁয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ তাই ভিডিওটি একবারে শেষ পর্যন্ত দেখবেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তানদের মধ্যে ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা ছিলেন সব আদরের নবুয়তের পাঁচ বছর আগে তিনি খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা এর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন দ্বিতীয় হিজরীতে বদর যুদ্ধের পর আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর সঙ্গে বিয়ে হয় আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নিজেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা
আনহাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেন তোমার কাছে মোহর দেওয়ার মতো কিছু আছে তিনি না উত্তর দিলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে তার লৌহ বর্মটি বিক্রি করে মোহর দিতে বলেন যার মূল্য ছিল 400 দিরহাম বিয়ের দিন সকালে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে আইমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর মাধ্যমে প্রথমে আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে ডেকে পাঠান এবং তার গায়ে পানি ছিটিয়ে দোয়া করেন এরপর ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহাকে ডেকে পাঠান তিনি লজ্জা সংকোচ নিয়ে উপস্থিত হলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন আমি আমার পরিবারের সবচেয়ে প্রিয় পাত্রের সঙ্গে তোমাকে
বিয়ে দিচ্ছি এরপর তার গায়েও পানি ছিড়িয়ে দেন এবং দোয়া করেন ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর সংসার করেন তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল প্রায় নয় বছরের এসময় তারা ভালোবাসা ও মমত্বের সঙ্গে ধৈর্য সহনশীলতার সঙ্গে জীবনযাপন করেন তাদের সংসারে অভাব থাকলেও কোন অভিযোগ ছিল না পারস্পরিক ভালোবাসায় ভরপুর ছিল তাদের দাম্পত্য জীবন একবার হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন তার এই অসুস্থ অবস্থা দেখে স্বামী হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু অনেক চিন্তিত হয়ে পড়লেন তাই তিনি স্টেওরে বসে বললেন হে ফাতেমা তুমি কখনো আমার নিকট কোন কিছু চাওনি এত অভাবের মাঝে
থেকেও কখনো কোন তুমি অভিযোগ করোনি তাই আজ তুমি তোমার এমন একটি ইচ্ছের কথা আমাকে বলো যা আমি পূরণ করতে পারি স্বামীর কথা শুনে ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বলেন হে আলী আজ আমার ভীষণ আনার ফল খেতে ইচ্ছে করছে আপনি কি আমার জন্য একটি আনার ফল নিয়ে আসতে পারবেন স্ত্রীর কথা শুনে আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন অবশ্যই আমি আজকে তোমার জন্য একটি আনার ফল নিয়ে আসবো কিন্তু বছরের সে সময়ে আনার ফলে মৌসুম ছিল না তাই কোন দোকানেই আনার ফল বিক্রি করা হতো না তবুও আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার প্রিয়তম স্ত্রীর কাছে আনার ফল নিয়ে আসার প্রতিজ্ঞা করেন
তাই তিনি চিন্তিত মনে ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন তিনি জানতেন এসময় আনার ফল পাওয়া যায় না তাই তিনি এক ইহুদি বাড়ি গেলেন কেননা সে আনার ফলের ব্যবসা করতো হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার ইহুদি প্রতিবেশীকে ডেকে বললেন আপনার ঘরে একটি আনার ফল মজুদ আছে আপনি কি তা আমাকে দিবেন আমার স্ত্রী অসুস্থ তিনি আনার ফল খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ইহুদি জবাবে বলল হে আলী এখন তো আনার ফলের মৌসুম না আমি একজন সৎ ব্যবসায়ী তাই কসম খেয়ে বলতে পারি আমার ঘরে কোন আনার ফল নেই কিন্তু হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আরো জোর দিয়ে বললেন আমি শেষ নবী
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামাতা আমি সত্য বলছি আপনার গৃহে একটি আনার ফল মজুদ রয়েছে ইহুদি এবার রেগে গেল এবং বলল আমার ঘরে আনার কেন আনারের একটি দানাও নেই ঠিক সেই সময় ইহুদির স্ত্রী ঘরে পর্দার আড়াল থেকে তাদের সমস্ত ঘটনা শুনলেন এবং বললেন হে আমার স্বামী আমি তওবা করে কালিমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেছি আপনিও কালিমা পড়বেন কেননা আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামাতা সত্য বলেছেন আমাদের ঘরে একটি আনার ফল মজুদ রয়েছে স্ত্রীর কথা শুনে ইহুদি বিচলিত হয়ে পড়লেন কারণ তার জানামতে তাদের ঘরে কোন আনার ফল ছিল না ফলে সে তাড়াতাড়ি ঘরে প্রবেশ করে
দেখতে পেল যে সেখানে সত্যিই একটি আনার ফল আছে সে আল্লাহতালার অলৌকিকতার দর্শন পেয়ে খুশি হয়ে গেল ইহুদি তখন আনার ফলটি হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে দিয়ে দিল এবং তওবা করে কালেমা পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেল ফলে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আনার ফল নিয়ে নিজ গৃহের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন প্রতিমধ্যে তার একজন অনাহারী অন্ধ ভিক্ষুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো সে জোরে জোরে বলছিল কেউ আছেন যে এই অন্ধকে সাহায্য করতে পারেন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বৃদ্ধ লোকটাকে জিজ্ঞাসা করলেন আপনার কি সাহায্য প্রয়োজন আমাকে বলুন ভিক্ষুক বলল আমি কয়েকদিন ধরে কিছুই খাইনি আমাকে কিছু খাদ্য দান করো বাবা
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন আপনি কি খেতে চান বৃদ্ধ বলল বাবা আমার একটি আনার খেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর এর কাছে মাত্র একটি আনার ফল ছিল যা সে তার অসুস্থ স্ত্রীর জন্য নিয়ে যাচ্ছিল ফলে আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এখন কি করবেন বুঝতে পারছিলেন না সে ধর্ম সংকটে পড়ে গেল কারণ ক্ষুধার্থ ভিক্ষুককে দান না করলে আল্লাহতালা নারাজ হবেন আর অন্যদিকে তার স্ত্রী জীবনে এই প্রথম তার কাছে কোন কিছু খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আর সে ওয়াদা করেছে স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণ করবে তাই আনার ফলটি না নিয়ে গেলে স্ত্রীর কাছে করা ওয়াদা ভঙ্গ হবে
এবং সে কষ্ট পাবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আল্লাহতালাকে খুশি করার উদ্দেশ্যে আনার ফল ভিক্ষুককে দিয়ে দিলেন ফলে ভিক্ষুক খুশি হয়ে আল্লাহতালার নিকট শুকরিয়া আদায় করে তার জন্য দোয়া করলেন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মলিন মুখে ঘরে ফিরে এলেন কিন্তু স্ত্রীর মুখোমুখি কিভাবে হবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না ঠিক তখনই ঘরের ভেতর থেকে আওয়াজ আসলো হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলছেন হে আলী আমি তো আপনার নিকট কেবল একটি আনার খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি আর আপনি তো পুরো দশটি আনার পাঠিয়ে দিয়েছেন ফাতেমার কথা শুনে আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু চোখে পানি ধরে রাখতে পারলেন না তিনি
খুশিতে কান্না করে দিলেন এবং আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন এরপর প্রিয়তম স্ত্রীকে ডেকে বললেন হে ফাতিমা এ আনার ফল আমি তোমার জন্য পাঠাইনি এগুলো তো স্বয়ং আল্লাহতালা জান্নাত থেকে তোমার নিকট উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে অতঃপর তিনি সমস্ত ঘটনা হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার নিকট ব্যক্ত করলেন তো বন্ধুরা এই ছিল আমাদের আজকের এই ভিডিও কেমন লাগলো কমেন্ট করে আমাদের অবশ্যই জানাবেন আজ তাহলে এই পর্যন্তই আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ