আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি বন্ধুরা আজকের এই ভিডিওতে আমরা বলব যে মায়ের কথা অমান্য করে একজন ব্যক্তি কেন হজে গিয়েছিল এবং তার শেষ পরিণতি কি হয়েছিল সে সম্পর্কে একটি বিস্ময়কর ঘটনা যা শুনে আপনার মন ছুঁয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ তাই ভিডিওটি একবারে শেষ পর্যন্ত দেখবেন সে বহুদিন আগের কথা তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা এত উন্নত ছিল না ইচ্ছা করলেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া যেত না বরং বহু সময় ও কষ্টের পরে তা সম্ভব হতো 80 85 বছরের এক অস্বীপর বৃদ্ধা তার এক ছেলে দুই মেয়ে মেয়ে দুটির বিবাহ অনেক
আগে হয়ে গেছে মেয়েরা তাদের স্বামীর সংসারে সুখেই দিন যাপন করছে ছেলেটির নাম আব্দুল্লাহ মাদ্রাসায় কয়েক ক্লাস লেখাপড়া করেছে এলাকার লোকেরা তাকে মৌলভী আব্দুল্লাহ বলে ডাকে কে ছেলেটি বেশ শান্ত স্বভাবের কেননা সে কারো সাথে ঝগড়া করে না মারামারি করে না মাকে এখন সে দেখাশোনা করে আব্দুল্লাহর মনে ছিল হজ করার এক তীব্র বাসনা এ বাসনা একদিন দুদিনের নয় বহুকাল আগের বহু পুরনো এ বাসনা কাবা শরীফ তাওয়াফ এবং মদিনায় রওজায় আতাহারের পাশে দাঁড়িয়ে সালাত ও সালাম পেশ করা তার জীবনের এক বিরাট স্বপ্ন ছিল এ স্বপ্ন পূরণে কোন বাধাও তার ছিল না দেহ আর্থিক সচ্ছলতা সবই তার ছিল কিন্তু
একমাত্র মায়ের জন্য তার এ স্বপ্ন পূরণ বিলম্বিত হচ্ছিল আব্দুল্লাহ মায়ের সেবা করে মাও তাকে ভীষণ ভালোবাসে মা যেন এ ছেলেকে ছাড়া কিছুই বোঝেনা প্রতিবছর হজের সময় এলে আব্দুল্লাহ মায়ের কাছে যায় এবং মিনতির স্বরে বলে মা আমি এবছর হজে যেতে চাই আপনার অনুমতি হলে রওনা দিতে পারি সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা এমনিতেই সীমাহীন তদপরি আব্দুল্লাহ তার একমাত্র ছেলে বয়সও অনেক হয়ে গেছে অনেক কাজ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিজে নিজে করতে পারেন না অন্যের সাহায্য নিতে হয় তাই ছেলে হজের অনুমতি চাইলে বরাবরই তিনি একই কথা বলে ছেলেকে ফিরিয়ে দেন বলেন বাবা আমি অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে গেছি তুমি ব্যতীত
আমাকে দেখাশোনা করার আর কেউ নেই তুমি আসার পূর্বে হয়তো মরে যাব সুতরাং এ বছর হজে যাওয়া স্থগিত রাখো এভাবে চার পাঁচ বছর ও অতিবাহিত হওয়ার পর ছেলে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল সেবার দৃঢ় সংকল্প করল যে এবছর যেভাবেই হোক হজে যাব মায়ের কথা কিছুতেই মানবো না এবার তিনি অনুমতি দিক বা না দিক তাতে আমার কোন পরোয়া নেই যেভাবেই পারি আমি আমার সংকল্প বাস্তবায়ন করবই দেখতে দেখতে হজের সময় ঘনিয়ে এলো আব্দুল্লাহ হজের পূর্ণ প্রস্তুতি নিল কিন্তু একথা মাকে জানালো না অবশেষে রওনা হওয়ার দিন মাকে বলল মা দোয়া করো আজকেই হজের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছি ছেলের কথা শুনে মা
বলে আজই বের হচ্ছো অথচ আগে আমাকে কিছুই জানাওনি ফলে মায়ের কণ্ঠ চিড়ে একরাস বিস্ময় ঝরে পড়ে মায়ের কথা শুনে ছেলে বলে হ্যাঁ এবার আপনাকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করিনি তখন মা বলে কেন ছেলে বলে অতীতের বছরগুলোতে আপনার অনুমতি চেয়েছিলাম কিন্তু আপনি দেননি আমার বিশ্বাস এ বছরও আপনি তাই বলবেন সেজন্য আপনার অনুমতি না নিয়েই এবার হজে যাওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি এবার মা বলে বাবা তুমি এ বছরও যেও না তোমার কাছে এ আমার শেষ আবদার আর কখনো তোমাকে নিষেধ করবো না ছেলে বলে আমি আপনার কথা মানবো না মা আপনার নিকট এখন আমি অনুমতি নিতেও আসিনি হজে যাচ্ছি
শুধু এতটুকু জানানোর জন্য এসেছি তখন মা বলে বাবা তুমি কি আমার শেষ আবেদনটুকু রাখবে না ছেলে বলল না রাখবো না রাখতে পারি না কারণ আপনি কেবল প্রতিবছর একই অজুহাত দিয়ে থাকেন বলেন যে তুমি হজ থেকে ফিরে আসার আগেই মৃত্যুবরণ করব তাই তুমি এ বছর যেও না অথচ আপনি হজ পর্যন্ত মরেননি ছেলের মুখে এমন কথা শুনে মা বলে তুমি ছেলে হয়ে এ কথাটি এভাবে বলতে পারলে ছেলে বলল হ্যাঁ না বলে কোন উপায় দেখছি না মা আমি এবছর অবশ্যই হজে যাব চাই আপনি মরে যান বা জীবিত থাকেন একথা বলে আব্দুল্লাহ বগলে একখান কিতাব রেখে মক্কার উদ্দেশ্যে বাড়ি
থেকে বের হয়ে গেলেন এসময় বৃদ্ধা জননী অনেক অনুনয় বিনয় করে আবারো বলছিলেন বাবা তুমি যেও না আমার মন বলছে যে এ বছরই আমি মারা যাব আমাকে একাকি রেখে যেও না তুমি চলে গেলে কে আমার খেদমত করবে কে আমাকে দেখাশোনা করবে আমার তো আপনজন বলতে দুনিয়াতে আর কেউ নেই তোমার বোনেরাও তো জামাইয়ের বাড়িতে চলে গেছে হৃদয়ের গহীন কোণ থেকে উচ্চারিত মায়ের এর কথাগুলোর দিকে আব্দুল্লাহ বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করল না ফিরে এসে মাকে দুখানা সান্ত্বনার কথাও শোনালো না এমনকি ফিরেও তাকালো না সজ্জা বের হয়ে হজের পথ ধরলো ছেলের এই আচরণে মায়ের মনে বেশ কষ্ট লাগলো তার হৃদয়টা ভেঙ্গে
চৌচির হয়ে গেল সঙ্গে সঙ্গে কয়েক ফোঁটা তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়লো চোখের দুক বেয়ে তিনি নিজেকে সামলাতে পারলেন না ধবাস করে মাটিতে বসে পড়লেন তারপর হাত দুটো উপরে তুলে বলল হে পরোয়ারদিগার আল্লাহ তুমি আব্দুল্লাহর কান্ড দেখেছো সে আমার কথা শুনলো না আমার দিকে ফিরেও তাকালো না ওগো পরাক্রমশালী মাওলা তুমিও তার কথা শুনিও না এবং তার দিক থেকে তোমার রহমতের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিও সে যেমন আমাকে কষ্ট দিল তেমনি তুমিও তাকে কষ্টের মধ্যে ফেলিও এদিকে আব্দুল্লাহ বিরামহীন গতিতে এগিয়ে চলছে তার মনে আশা পূর্ণ হওয়ার এক বুক স্বপ্ন কোনদিকে খেয়াল নেই তার চলছে তো চলছেই অনেক দূরের সফর একটানা
কতদূর আর চলা যায় চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে গেলে আব্দুল্লাহ গাছের ছায়া আশ্রয় নেয় কখনো বা চলে যায় নিকটবর্তী কোন মসজিদে মুসাফিরখানার সন্ধান না পেলে মসজিদে রাত কাটিয়ে দেয় সেখানে বিশ্রামের পাশাপাশি ইবাদত করারও বেশ মওকা মিলে যায় একদিনের ঘটনা রাত্রি যাপনের জন্য আব্দুল্লাহ একটি মসজিদে অবস্থান নেয় ইশার নামাজ আদায় ও খাওয়া-দাওয়া শেষে সে ঘুমিয়ে পড়ে মসজিদটি লোকালয় থেকে একটু দূরে সফরের ক্লান্তির কারণে অল্প সময়ের মধ্যে সে নিজেকে সবে দেয় গভীর নিদ্রার কোলে রাত তখন তিনটা চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার হাত মেললে হাত দেখা যায় না আব্দুল্লাহ ঘুম থেকে জেগে ওঠে ভালো করে অজু করে তারপর তাহাজ্জুদে দাঁড়ায় নীরব
নিস্তব্ধ নির্জন পরিবেশে বড়ই একাগ্রতার সাথে নামাজ পড়তে থাকে মসজিদের দরজা তখন খোলায় ছিল ঘটনাক্রমে মসজিদের পাশের বাড়িতে এক চোখ ঢুকে সে মালামাল নিয়ে পালানোর সময় লোকজন টের পেয়ে যায় সবাই তার পিছে পিছে ধাওয়া করে চোর বেচারা উপায়র না দেখে মসজিদে ঢুকে পড়ে সে দেখে এক ব্যক্তি নামাজে মগ্ন এমন সময় চোরের মাথায় এক বুদ্ধি আসে সে ভাবে যদি মালগুলো লোকটির কাছাকাছি রেখে পালাতে পারি তবে লোকজন আমার পেছনে আর দৌড়াবে না তাকে চোর মনে করে শাস্তি দিবে সময় খুব কম বেশি চিন্তা করার সময় নেই চোর বেচারা করে চোরাইকৃত মালামাল গুলো নামাজী ব্যক্তির কাছে নিয়ে আস্তে করে রেখে
দেয় অতঃপর দেয়াল টোপকে অন্ধকারে হারিয়ে যায় চোর তো জান নিয়ে পালালো কিন্তু বিপদ চাপলো মৌলভী সাহেবের ঘাড়ে লোকজন যখন দেখল চোর মহাশয় মসজিদে ঢুকেছে তখন দেরি না করে চতুর্দিক তারা মসজিদ ঘিরে নেয় কিন্তু ততক্ষণে প্রকৃত চোর পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় এক পর্যায়ে কয়েকজন সাহসী লোক ভেতরে প্রবেশ করে দেখে এক ব্যক্তি নামাজ পড়ছে তার পরণে লম্বা আলখেল্লা পেছনে রয়েছে চোরাই মাল লোকজন বিস্মিত হয় কারণ এমন চোর জীবনেও তারা দেখেনি তারা পরস্পর বলাবলি করে আশ্চর্য চোর তো জান বাঁচানোর জন্য চুরির মালপত্র মসজিদে রেখে নামাজ শুরু করে দিয়েছে এ দৃশ্য দেখে এলাকার লোকেরা ক্রোধে ফেটে পড়ে একে তো
চোর তার উপর আবার ভন্ডামি এ কি সহ্য করা যায় তারা তাদের ধারণায় মৌলভী লেবাসধারী চোরকে টেনে হেঁচে বাহিরে নিয়ে আসে তারপর শুরু হয় উত্তম মাধ্যম আচ্ছা মতো ধোলাই যে যেভাবে পারে পেটাতে থাকে লাথি ঘুষি কিল গুতো কোন কিছুই বাদ পড়েনি এলাকার ছেলেরাও সুযোগ পেয়ে দু চার ঘা লাগাতে কসুর করে না মোট কথা বাকি রাতটুকু মৌলভী সাহেবের গণপিটনি খেয়ে শেষ হয় পরদিন বাদ ফজর লোকেরা তাকে নিয়ে বিচারকের দরবারে উপস্থিত হয় তারা বলে মাননীয় বিচারপতি এক আশ্চর্য ধরনের চোর এর দ্বিগুণ শাস্তি হওয়া উচিত কারণ একদিকে সে সুন্নতি পোশাক পড়ে সুন্নত অবমাননা করেছে তেমনি অন্যদিকে মসজিদে গিয়ে নামাজে
দাঁড়িয়ে মানুষকে প্রতাারিত করতে চেয়েছে বিচারক সবকিছু শুনে কিছুক্ষণ ভাবলেন তারপর গুরু গম্ভীর কন্ঠে উপস্থিত জনতাকে ফয়সালা শোনালেন বললেন চুরির শাস্তি হিসেবে এর হাত কাটা হবে চোরাইমাল মসজিদে রাখার জন্য এর পা কাটা হবে এবং মৌলভী বেশ ধারণ করে এ জঘন্য কর্ম করার জন্য তার দুই চক্ষু উপড়ে ফেলা হবে শুধু তাই নয় শাস্তি কার্যকর করার পূর্বে তাকে গোটা এলাকায় ঘুরিয়ে আনতে হবে তার সাথে একজন ঘোষণাকারী থাকবে সে উচ্চস্বরে বলবে মৌলভীর বেশ ধরে যে এ কাজ করবে তার শাস্তি এই বিচারকের কথা অনুযায়ী লোকজন তাকে এলাকায় নিয়ে গেল চতুর্দিক থেকে তিরস্কার ও বিদ্রুপ করতে লাগলো ঘোষণাকারী ঘোষণা করল যে
ব্যক্তি মৌলভীর বেশে চুরি করে এবং চুরির মাল মসজিদে রেখে নামাজ পড়ে তার শাস্তি এই এতক্ষণ এলাকাবাসীদের অগত্য নির্যাতন নীরবে সহ্য করে যাচ্ছিল মৌলভী আব্দুল্লাহ সে একটি টু শব্দ করছিল না কিন্তু যখন ঘোষণাকারী বিচারকের শেখানো কথাগুলো উচ্চারণ করল তখন সে বলল ভাই ওই কথা না বলে বরং বলো যে ব্যক্তি মায়ের কথা না মেনে হজে যাওয়ার আশা করে তার এ শাস্তি হয় ঘোষণাকারী মৌলভীর কথা বুঝতে পারে না সে বলে এই চোর ব্যাটা একথা দ্বারা তুই কি বোঝাতে চাচ্ছিস মৌলভী বলল কিছুই না আমি যেভাবে বলেছি সেভাবেই ঘোষণা করুন এবার লোকজন পিড়াপিড়ি শুরু করল তারা বলল একথা দ্বারা তুমি
কি বোঝাতে চাও তা এক্ষুনি পরিষ্কার করে খুলে বলো নইলে এখনই তোমাকে কঠিন শাস্তি দেব লোকদের চাপাচাপিতে আব্দুল্লাহ সবকিছু বর্ণনা করল একটি কথাও সে বাদ দিল না এতে লোকজন তাদের ভুল বুঝতে পারল গভীরভাবে অনুশোচনা করল তারপর বিচারকের কাছে ফিরিয়ে এনে পুরো ঘটনা খুলে বলল সবসময় বিচারকও গভীর দুঃখ প্রকাশ করলেন এবং সবার পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন মৌলভী আব্দুল্লাহ বলল না ভাই আপনাদের কোন অন্যায় হয়নি অন্যায় আমারই হয়েছে মায়ের অবাধ্যতার কারণেই আমাকে এ ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছে প্রিয় দর্শক দেখলেন তো মায়ের কথা না শোনার কারণে একজন ভালো মানুষও কতটা লাঞ্ছনা বঞ্চনা ও অপমানের সম্মুখীন হলেন আর হবেই
না কেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বলেই গেছেন পিতা-মাতার অবাধ্যতার শাস্তি দুনিয়াতেই পাওয়া যায় আর আখেরাতে তো আছেই তো বন্ধুরা এ ছিল আমাদের আজকের এই ভিডিও কেমন লাগলো কমেন্ট করে আমাদের অবশ্যই জানাবেন আজ তাহলে এই পর্যন্তই আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ [মিউজিক]