বহু দশক আগের কথা ইয়ামেনে একজন মুসলিম বাদশা শাসন করতেন বাদশাহ ছিলেন অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ তিনি আল্লাহর ওলিদের অত্যন্ত সম্মান করতেন এই বাদশার একজন নেককার ফকিরের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব ছিল এবং সেই নেককার ফকির সবসময় বাদশার সঙ্গে থাকতেন অর্থাৎ বাদশার যখনই কোন প্রয়োজন হতো তখনই সেই ফকির বাদশার দরবারে চলে আসতেন কিন্তু এত কিছুর পরেও সেই বাদশার একটি খারাপ অভ্যাস ছিল আর তা হলো সেই বাদশা যখনই কোন সুন্দরী নারীকে দেখতেন তখনই তিনি কোনো না কোনো উপায়ে তাকে নিজের দরবারে নিয়ে আসতেন এবং সেই বাদশাহ চাইতেন ওই সুন্দরী নারীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে সারাটি জীবন কাটিয়ে দিতে
বাদশার এই খারাপ অভ্যাস দেখে সে নেককার ফকির বাদশাহকে বারবার সাবধান করতেন ফকির বলতেন হে মহামান্য বাদশা আপনার যদি কোন নারীকে পছন্দ হয় তাহলে তাকে বিয়ে করে নিন ইসলামে বিয়ে করা অনেক ভালো একটি কাজ কিন্তু ইসলামে জেনা করা অনেক বড় একটি পাপ আপনি অবৈধভাবে আপনার জন্য নন হারাম এমন নারীকে নিয়ে এসে যেসব কাজ করছেন এটি সত্যিই অনেক বড় একটি গুনাহ বাদশাহ ফকিরের সব কথা শুনলেও এই কথাটি কিছুতেই মানতে চাইতো না বরং সে উল্টো বলতো দেখো আমি একজন বাদশা তুমি আমার বন্ধু এটাই তো তোমার অনেক বড় ভাগ্য তাছাড়া আমি একজন বাদশা হয়ে তোমার সব কথা শুনতে পারবো
না ওই নেককার ব্যক্তি বাদশার এ সমস্ত কথা শুনে চুপ হয়ে যেত এবং সে মনে মনে ভাবতো এই বাদশাকে উপদেশ দেওয়া একদমই বোকামি এর থেকে আমি বাদশার সঙ্গেই রাখি একদিন না একদিন বাদশা আমার কথার মর্ম ঠিকই বুঝতে পারবে একদিন ওই এলাকায় প্রচন্ড জ্বর তুফান শুরু হয় প্রচন্ড জ্বরের কারণে ফকিরের ঘর ভেঙে যায় অতঃপর পরের দিন সেই বাদশার সিপাহীরা এসে সেই ফকিরকে বলল বাদশাহ আপনাকে তলফ করেছেন কিন্তু তখনই সেখানে ফকিরের স্ত্রী এসে বলল তোমাকে বাদশার কাছে এখন যেতে হবে না বাদশাহ কি তোমার খোঁজখবর ঠিকমত রাখেন তিনি চাইলেই তো তোমাকে একটি মহল বানিয়ে দিতে পারেন যাই হোক বাদশার
কাছে যাওয়ার আগে নিজের ঘর মেরামতের ব্যবস্থা করো এই কথা শুনে সেই ফকির অনেক কষ্ট পেল এবং স্ত্রীকে বলল দেখো বিবি আমার বন্ধু আমাকে অনেক কিছু দিতে চাই কিন্তু আমি সেগুলো নেই না তাদের এই কথোপকথন সেখানে উপস্থিত সিপাহীরা শুনে ফেলে অতঃপর তাদের মাঝে একজন বাদশার কাছে গিয়ে বাদশার কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে সিপাহী বাদশাহকে বলে হে মোহামান্য বাদশা ফকিরের স্ত্রী বলেছে আপনি ফকিরের বন্ধু হয়েও আজ পর্যন্ত তাকে একটি মহল বানিয়ে দেননি এবং তার কোন উপকারও করেননি তারপর একদিন বাদশাহ ফকিরকে বলল আপনি আমার বন্ধু আপনি শুধু আমাকে একটিবার অনুমতি দেন আমি আপনাকে একটি মহল বানিয়ে দিব এবং
আমার ঘরে যে সমস্ত দামি আসবাবপত্র রয়েছে ঠিক সেই রকম দামি দামি আসবাবপত্র আমি আপনার ঘরে দেব আমার মহলে যতজন চাকর রয়েছে ঠিক ততগুলো চাকর আমি আপনার সেবায় নিয়োজিত করব একথা শুনে ফকির বলল হে মোহাম্ম বাদশা আমি আপনার সঙ্গে এই কারণে বন্ধুত্ব করিনি যে আমি আপনার কাছ থেকে বন্ধুত্বের সুযোগ নেব আর হ্যাঁ আমার স্ত্রী রাগের মাথায় এই সমস্ত কথা বলেছিল আমার যে ঘরটি জোরে ভেঙে গিয়েছিল আমি পুনরায় তা ঠিক করে ফেলেছি এবং আমার স্ত্রী আমার কথাগুলো পড়ে ঠিকই বুঝতে পেরেছে অতঃপর একদিন বাদশাহ এবং ফকির দুজন একসঙ্গে শিকারে বের হলেন ফকির বরাবরের মতোই ঘোড়ার বদলে পায়ে হেঁটে
চলতে লাগলেন এবং বাদশাহ ঘোড়ায় ছুড়ে চলতে লাগলেন চলতে চলতে বাদশার অনেক তৃষ্ণা পাই অতঃপর ফকির বাদশাকে বলে হে মহমান্য বাদশা আপনি একটি গাছের ছায়ার নিচে অপেক্ষা করুন আমি দেখি কোন পানির ব্যবস্থা করতে পারি কিনা এই বলে ফকির পানির খুঁজে বের হয়ে যায় কিছুদূর যেতেই সে একটি পুকুরের সন্ধান পায় সে পুকুরের পানি ছিল অনেক পরিষ্কার পথ চলতে চলতে সে ফকির অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল তাই ফকির ভাবলো প্রথমে আমি কিছুটা পানি পান করি এরপর বাদশাকে এখানে ডেকে নিয়ে আসবো বাদশার অনেক খারাপ অভ্যাস থাকলেও ফকির তাকে মন থেকে ভালোবাসতো অতঃপর ফকির অল্প কিছু পানি পান করে বাদশাকে ডাকতে
রওনা হবে ঠিক তখনই তার চোখে একটি পাথরের মূর্তি ভেসে উঠলো ফকির মূর্তিটি দেখে অবাক হয়ে ভাবলো একটি নারী কিভাবে এতটা সুন্দর হতে পারে এবং সে মনে মনে ভাবতে থাকে ইস এখনই যদি এই মূর্তিটির মাঝে জীবন চলে আসতো এবং সে পথ চলতে শুরু করতো সে ফকির জানতো বাদশাহ আল্লাহওয়ালা লোকদের অনেক পছন্দ করলেও সে কিন্তু সুন্দরী নারীদের প্রতি অনেক বেশি দুর্বল ফকির মূর্তিটির সামনে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলো বাদশাহ এই পাথরের মূর্তিটিকে দেখে অবশ্যই বলবে এই মূর্তিটিকে নিয়ে আমার মহলে চলো এই ভেবে ফকির ওই মূর্তিটিকে একটি জুপের আড়ালে লুকিয়ে ফেললো এরপর সে বাদশার কাছে ফিরে এসে পুকুরের কথা বলে
অতঃপর তারা দুজনে মিলে সেই পুকুরের কাছে এসে নিজেদের তৃষ্ণা নিবারণ করে এবার বাদশাহ সেই ফকিরকে কিছু লাকড়ি জোগাড় করতে বলে যাতে সেগুলো দিয়ে মাংস রান্না করে খাওয়া যায় বাদশার আদেশে ফকির লাকড়ি জোগাড় করতে চলে যায় আর বাদশা সেখানে আরাম করতে থাকে কিছু সময় পর প্রকৃতিকে উপভোগ করতে বাদশা যখন এদিক সেদিক ঘুরতে থাকে তখনই তার চোখ একটি জুপের আড়ালে যায় তার মনে হতে থাকে জুপের আড়ালে কিছু একটা রয়েছে অতঃপর বাদশা সেই জুপের কাছে যায় এবং সে একটি পাথরের মূর্তি দেখতে পায় অতঃপর বাদশা যখন জুপের ভেতর থেকে মূর্তিটাকে বের করল তখন ওই মূর্তিটাকে দেখে তার চোখ যেন
কপালে উঠে গেল কারণ সে আজ পর্যন্ত এমন সুন্দরী নারীর মূর্তি দেখেনি তাছাড়া বাদশা তো শুরু থেকেই নারীদের প্রতি দুর্বল ছিল এভাবে বাদশা অপলক নয়নে মূর্তিটির দিকে তাকিয়ে থাকলো সে কোনভাবেই ওই মূর্তিটির দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারছিল না কিছুক্ষণ পর সেই ফকির লাকড়ি নিয়ে বাদশার কাছে এসে হাজির হয় ফকিরকে দেখে বাদশাহ বলল হে বন্ধু আমি তোমাকে হুকুম দিচ্ছি এই মূর্তিটিকে নিয়ে আমার মহলে চলো তখন সেই ফকির বলল হে মহামান্য বাদশা আমরা এই মূর্তিটিকে নিয়ে এখান থেকে যেতে পারবো না আমার মনে হয় এই মূর্তিটিকে কেউ কোন খাস কাজে তৈরি করেছে এবং সে ব্যক্তিরা এই মূর্তিটিকে পূজা করে
অর্থাৎ এই মূর্তিটিকে কোন অমুসলিম তৈরি করেছে হতে পারে এই মূর্তি তাদের কোন দেবী আপনি যদি এই মূর্তিটিকে এখান থেকে নিয়ে যেতে চান তাহলে হয়তো অকারণে এখানে দাঙ্গা ফাসাদ সৃষ্টি হবে ফকিরের এই কথা শুনে বাদশাহ খুবই রাগান্বিত হয়ে যান অতঃপর তিনি বলতে থাকেন তুমি এমন কে যে আমাকে এই মূর্তিটি দখল করতে বাধা দিচ্ছ হোক এই মূর্তিটি কোন অমুসলিমের আমার এই মূর্তিটিকে পছন্দ হয়েছে আমি এ রাজ্যের রাজা আমি যা খুশি তাই করতে পারি আমার এই মূর্তিটিকে পছন্দ হয়েছে আমি এই মূর্তিটিকে আমার সঙ্গে নিয়ে যাব বেচারা ফকির বাদশাকে অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করে এবং বলে হুজুর মানুষ আপনাকে অনেক
সম্মান করে এ কাজ করলে তারা সবাই আপনার বিরোধিতা করবে আপনি এই কাজটি করবেন না আজ পর্যন্ত আপনি তো কারো উপর জুলুম করেননি কিন্তু আপনি আজ এই সামান্য মূর্তির কারণে আমার উপর আঙ্গুল তুলছেন এতদিন বাদশাহ এবং ফকিরের বন্ধুত্বের মাঝে মহান আল্লাহতালা ছিলেন কিন্তু এই নারীর মূর্তির কারণে তাদের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি হয়ে গেল সে ফকির ছিল একজন আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি কিন্তু বাদশা তো এই মূর্তির জন্য দেওয়ানা হয়ে গিয়েছিল তাই সে তার নিজের বন্ধুকে কুরবানি দিচ্ছিল অতঃপর বাদশা বলল আজকের পর থেকে আমি তোমার মুখ দেখতে চাই না তুমি এখন এখান থেকে চলে যেতে পারো আমি তোমাকে আমার সামনে আর
দেখতে চাই না তুমি আজকে আমার বিরোধিতা করেছো তখন ফকির বলল হে মহামান্য বাদশা আমি আপনার ভালোর জন্যই আপনার বিরোধিতা করেছি আপনি যদি এই মূর্তিটিকে এখান থেকে নিয়ে যান তবে আমার মনে হচ্ছে আপনি কোন না কোন বিপদে পড়বেন আপনি বুঝতে পারছেন না কিন্তু আমি বুঝতে পারছি মহান আল্লাহ তাআলা সব জানেন এবং তিনিই একমাত্র এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারেন আপনি মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করুন তিনি যেন আপনাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন তা না হলে আপনি অনেক বড় সমস্যায় পড়ে যাবেন এবং আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না বাদশাহ অবাক হয়ে ফকিরকে দেখতে থাকে এই
পুরাতন কাপড় পড়া ফকির তাকে বারবার একই কথা বলে চলেছে এতে করে তার রাগের পরিমাণ আরো বেড়ে যাচ্ছে এবার বাদশার ক্রোধ চরম সীমায় পৌঁছে যায় অতঃপর সে তার সিপাহীদেরকে ডেকে আনে এবং সিপাহীদেরকে আদেশ করে এই ফকিরকে এখান থেকে অনেক দূরে নিয়ে ফেলে দিতে সঙ্গে সঙ্গে বাদশাহ সিপাহীরা সে ফকিরকে এই জঙ্গল থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রেখে আসে এরপর বাদশা আদেশ দেই হে সিপাহীরা এই মূর্তিটিকে এখান থেকে তুলে আমার মহলে নিয়েছিল আমি এই মূর্তিটিকে অনেক পছন্দ করেছি এমন সুন্দর মূর্তি আমি আজ পর্যন্ত কোথাও দেখিনি সিপাহীরা এই কথা শুনে মূর্তিটিকে সে জমিন থেকে তুলতে যাবে ঠিক তখনই সেখানে প্রচন্ড
জ্বরের সৃষ্টি হলো মাটি কাঁপতে শুরু করল এবং সেখানে আজাব চলে আসলো তারা সবাই সেই জমিনে অর্ধেক ডেবে গেল কিন্তু তারা কেউই মারা যায়নি বাদশাহ অবাক হয়ে এ সমস্ত ঘটনা দেখতে থাকে এবং ভাবতে থাকে এখানে কি হচ্ছে হঠাৎ আচমকা সেই বাদশার সামনে একটি বদকার চেহারার লোক এসে হাজির হয় বাদশাহ সেই জমিনের অর্ধেকে গেড়ে থাকা অবস্থায় সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করে তুমি কে জবাবে সে বদকার চেহারার লোকটি বলল আমি একজন জাদুকর তুমি আমার মূর্তির গায়ে হাত দিয়ে অনেক বড় ভুল করেছো এখন তোমার সঙ্গে যা হবে তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না আমি এখন তোমাকে বলে দেবো তখন বাদশাহ
বলল তোমার সাহস হলো কিভাবে আমার সঙ্গে এমন ভাবে কথা বলার তুমি জানো না আমি কত শক্তিশালী একজন বাদশাহ এবার জাদুকর বলল তুমি যদি শক্তিশালী হতে তবে তুমি এই জমিনের মাঝে এমন ভাবে দাফন হয়ে যেতে না তুমি আমার খোদার গায়ে হাত লাগিয়ে অনেক বড় ভুল করেছো তুমি তোমার নাপাক হাত আমার খোদার উপর দিয়েছো তুমি আমার খোদাকে তোমার মহলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলে তুমি এই কাজ করে কি প্রমাণ করতে চেয়েছিলে তুমি মুসলিম হয়ে যা খুশি তাই করতে পারবে বাদশাহ বলল আমি এই মূর্তিটিকে অনেক পছন্দ করেছি এবং আমি চেয়েছি এই মূর্তিটি আমার সাথেই থাকুক তখন জাদুকর বলল এই মূর্তিটি
আমার দেবী আর আজকে আমি তোমাদের সবাইকে আমার দেবীর সামনে বলি দেবো জাদুকরের এই সমস্ত কথা শুনে বাদশা বিপদ টের পেল এবং সে পেরেশান হয়ে পড়লো আর ভাবতে থাকলো আমার ফকির বন্ধু ঠিকই বলেছিল আমি অনেক বড় একটি বিপদে পড়েছি হে আল্লাহ আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন একটি সামান্য নারী মূর্তির ফেতনায় পড়ে আমি আমার দরবেশ বন্ধুকে আমার চোখের সামনে থেকে দূর করে দিয়েছি আর এখন তো সে ইচ্ছা করলেও আমার কাছে আর ফিরে আসতে পারবে না বাদশাহ আরো দোয়া করতে থাকে ইয়া মহান আল্লাহ তাআলা আপনি আমাকে সাহায্য করুন আমি পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছিলাম হে আল্লাহ এখন এই জাদুকর আমাদের
সবার গলা কেটে ফেলবে জাদুকর আমাদের সবাইকে এই মূর্তির সামনে বলে দেবে ইয়া মহান আল্লাহ তাআলা আমরা এমন নির্মম মৃত্যু চাই না আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন আজ থেকে আমি আর কোন নারীর দিকে কখনো বদনজর দেবো না আমার বন্ধু আমাকে অনেকবারই বুঝিয়েছে আজও সে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে আমি যেন এই মূর্তিটি ছুয়ে না দেখি ইয়া মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের একটিবার সাহায্য করুন যখন বাদশাহ এমন দোয়া করছিল তখন তার মনে হলো তার কানে একটি আওয়াজ আসছে যখন সে পেছনে ফিরলো তখন সে দেখতে পেল তার বন্ধু সে নেককার আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি সেখানে দাঁড়িয়ে আছে তখন বাদশাহ বলল বন্ধু তুমি
এসেছো জবাবে ফকির বলল হে বাদশা আমি আপনাকে ফেলে কিভাবে চলে যাই আমি জানতাম আপনি অবশ্যই কোনো না কোনো বিপদে পড়বেন আমি এসে গেছি এবং আল্লাহ তাআলার রহমতে আমরা সবাই সফল হব এরপর সেই হিন্দু জাদুকর ফকিরের কাছে এসে বলল তুমি কি বলতে চাচ্ছ তুমি আমার থেকে বড় হতে পারো না জবাবে সেই ফকির বলল আমি যাকে মানি তিনি সবার থেকে বড় তিনি আমাদের রব তিনি সমস্ত ক্ষমতার মালিক তুমি যার এবাদত করো সে হলো তোমার হাতে বানানো একটি সামান্য মূর্তি এবং তুমি এই মূর্তির পূজা করো তুমি এই মূর্তির সামনে সেজদা করো কিন্তু এই মূর্তি নিজেই চলতে পারে না
আর আমাদের রবকে তো কখনো কোন নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না তিনি সর্বক্ষমতার অধিকারী তিনি জীবনদাতা ও মৃত্যুদাতা এ সমস্ত কথা শুনে সে জাদুকর অনেক রাগান্বিত হলো এবং সে বলল হে ফকির এবার আমি তোমার উপর এমন মন্ত্র পড়বো যেই মন্ত্রের শক্তিতে তুমি পড়ে ছারকার হয়ে যাবে এরপর আমি তোমার এই বাদশাকেও মেরে ফেলবো যখন সেই হিন্দু জাদুকর মন্ত্র পড়তে শুরু করল তখন ফকির মনে মনে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করতে লাগলো ইয়া মহান আল্লাহ তাআলা এই জাদুকর আপনাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করতে চায় সে আপনাকে ছেড়ে এই মূর্তির এবাদত করে তাকে সে তার দেবতা মনে করে সে আপনার শ্রেষ্ঠ মানুষকে
এই মূর্তির সামনে কেটে হত্যা করতে চায় আপনি এই জাদুকরকে দেখিয়ে দিন আমরা যার এবাদত করি আপনি আল্লাহ তাআলা সবার বড় দরবেশ যখন এই দোয়া করছিল ঠিক তখনই মহান আল্লাহ তাআলা সেই মূর্তির মাঝে প্রাণ দান করেন যে মূর্তিটি চলতে পারতো না কথা বলতে পারতো না সেই মূর্তিটি মহান আল্লাহ তাআলার আদেশে জিন্দা মানুষে পরিণত হয়ে গেল এবং জাদুকরকে বলল হে জাদুকর তুমি আমার এবাদত করো আমার পূজা করো এবার আমাকে বলতো আজ পর্যন্ত আমি তোমাকে কি দিয়েছি তুমি অযথা নিরীহ মানুষকে আমার সামনে হত্যা করেছো তখন জাদুকর অবাক হয়ে সে পাথরের মূর্তিকে দেখছিল আর ভাবছিল এই মাটির মূর্তিটি কিভাবে
জিন্দা হয়ে গেল সে কিভাবে কথা বলছে তখন জাদুকর সে ফকিরকে বলতে থাকে হে ফকির হয়তো তুমি নিজেও একজন জাদুকর নিশ্চয়ই এটি তোমার কাজ জবাবে সেই দরবেশ বলল এটি আমার কেরামতি নয় এটি আমার রবের কেরামতি তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা তিনি হলেন অদ্বিতীয় তার কোন শরিক নেই তখন জাদুকর বলল আমি মানছি এবং তোমার আল্লাহর উপর ঈমান আনছি এবং আমি মুসলিম হচ্ছি অতঃপর সেই মূর্তিটি বাদশাহকে বলল হে বাদশা আপনি সবসময় বেগানা নারীদের উপর নজর দিয়েছেন গুনাহ করেছেন আপনি যদি আমাকে সত্যিই পছন্দ করেন থাকেন এবং আমাকে আপনার কাছে সারাজীবন রাখতে চান তবে আমাকে বিয়ে করতে হবে বাদশাহ বলল আমি তোমাকে
বিয়ে করব অতঃপর বাদশাহ তাকে নিয়ে মহলে চলে গেল এবং বিয়ে করল অতঃপর তাকে রাজ্যের রানী করে নিল সুবহানাল্লাহ একজন মুসলিম যে নামে মুসলিম হলেও কোনদিন মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদত করতো না সেই মুসলিম ব্যক্তি একজন হিন্দু নারীকে খুবই পছন্দ করতো সেই নারী ওই মুসলিম ব্যক্তির গ্রামেই থাকতো ওই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই ছিল হিন্দু একদা সেই হিন্দু নারী খুবই সুন্দর পোশাক পড়ে তার স্বামীর সাথে কোথাও যাচ্ছিল একই পথ দিয়ে যাচ্ছিল সেই মুসলিম ব্যক্তি সেই মুসলিম ব্যক্তি ওই হিন্দু নারীকে দেখে থেমে যায় এবং মনে মনে ভাবতে থাকে ইস কোনভাবে যদি এই নারী আমার হয়ে যেত যেভাবেই হোক ওই নারীকে
আমার চাই এই চিন্তা করে মুসলিম ব্যক্তি সে হিন্দু নারীকে অনুসরণ করতে থাকে সেই হিন্দু স্বামী-স্ত্রী পায়ে হেঁটে জঙ্গলের পথ দিয়ে হাঁটছিলেন এবং মুসলিম ব্যক্তি ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছিল হঠাৎ করে সেই মুসলিম ব্যক্তি তার ঘোড়া নিয়ে তাদের সামনে এসে উপস্থিত হয় অথবা পর সে তাদেরকে লক্ষ্য করে বলে আমার খুব আফসোস হচ্ছে আপনাদের কষ্ট দেখে আপনারা পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি আপনাদেরকে এই ঘোড়ায় করে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারি এতে করে আপনাদের কষ্ট লাগাব হবে এবং আমারও ভালো লাগবে মুসলিম ব্যক্তিটির এই কথা শুনে সেই হিন্দু নারীর স্বামী বলে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমরা পায়ে হেঁটে
যেতে পারবো আমাদেরকে নিয়ে আপনার চিন্তা করতে হবে না যখন ওই মুসলিম ব্যক্তি দেখলো তার প্রস্তাব সোজা সাপটা নাকজ করে দেওয়া হয়েছে তখন সে আরো মিষ্টি সুরে বলল আপনি না উঠলেও আপনার স্ত্রীকে আমার ঘোড়ায় উঠিয়ে দিন তাকে দেখে খুব ক্লান্ত মনে হচ্ছে একজন নারীর এই কষ্ট দেখে আমি সহ্য করতে পারছি না মুসলিম ব্যক্তিটির এই কথা শুনে হিন্দু ব্যক্তিটি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারলেন যে তার মনে অবশ্যই খারাপ কোন চিন্তা ভাবনা রয়েছে তখন হিন্দু লোকটি বলল ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার স্ত্রী আমার সঙ্গেই হেঁটে যাবে আপনাকে তো পেরেশান হতে হবে না আপনি চলে যান আমরা আস্তে আস্তে আমাদের গন্তব্যে
পৌঁছে যাব এই বলে তারা খুব দ্রুত হেঁটে সামনের দিকে চলতে লাগলো এবার সেই মুসলিম ব্যক্তিটি কিছুটা হতাশ হলো কারণ সে কোনভাবেই ওই হিন্দু ব্যক্তিকে রাজি করিয়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে যেতে পারছিল না অতঃপর সে মনে মনে ভাবতে লাগলো এবার আমি কি করি কিভাবে আমার মনোবাসনা পূর্ণ করব এই সমস্ত চিন্তা ভাবনা করে সে আবারো ঘোড়া নিয়ে তাদের সামনে গেল এবং হিন্দু লোকটিকে বলল দেখুন ভাই আপনি তো আপনার নিজের কথাও ভাবছেন না এমনকি আপনার বিবির কথাও ভাবছেন না অন্তত আপনি তার কষ্টটার কথা ভাবুন জবাবে হিন্দু লোকটি বলল আমি আমার স্ত্রীকে অনেক ভালোবাসি এবং আমার স্ত্রীর জন্য কোনটা ভালো
হবে আর কোনটা খারাপ হবে সেটাও আমি বুঝি হিন্দু ব্যক্তির এই কথা শুনে সেই মুসলিম ব্যক্তি বলল যদি তাই হয় যে আপনি আপনার স্ত্রীকে খুব ভালোবাসেন তবে আপনি আপনার স্ত্রীকে আমার ঘোড়ায় ওঠার অনুমতি দিন আপনি একবার তার দিকে তাকিয়ে দেখুন আপনার বিবি কতই না ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তার পায়ের অবস্থাটাও একটু দেখুন তখন হিন্দু ব্যক্তি ভাবলো যেহেতু আমাদেরকে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে হেঁটে সেক্ষেত্রে আমার স্ত্রীর অনেকটা কষ্ট হবে এই সমস্ত চিন্তা ভাবনা করে ওই হিন্দু ব্যক্তি মুসলিম ব্যক্তিকে বলল হে ভাই আপনি ওয়াদা করুন আপনি আমাকে জামানত দিন আমার স্ত্রীর কোন প্রকার ক্ষতি না করে তাকে গন্তব্যে
পৌঁছে দিবেন আপনাকে দেখে তো মুসলিম মনে হচ্ছে আর কোন মুসলিম তো ওয়াদা ভঙ্গ করে না আপনি কি এই জঙ্গলে আমার জন্য কোন জামানত আনতে পারবেন যাতে করে আমি বিশ্বাস করতে পারবো যে আপনি আমার স্ত্রীর কোন ক্ষতি না করে সহি সালামতে তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিবেন এবার মুসলিম ব্যক্তি সেই হিন্দু নারীর স্বামীকে বলল আমি এই মুহূর্তে আপনাকে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছি আর আপনি আমার কাছে জামানত চাচ্ছেন এই বলে আমি জামানত স্বরূপ কি আনবো আর কাকেই বা আনবো যে আমার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে এতক্ষণ যাবত সেই হিন্দু নারী চুপচাপ ছিল এবার সে হুট করে বলে উঠলো আপনি
তো জামানত দিতেই পারেন তখন ওই মুসলিম ব্যক্তি বলল সেটা এমন কি জিনিস যা আমি এই মুহূর্তে দিতে পারবো তখন সেই হিন্দু নারী বলল আপনি এক কাজ করুন বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে জামিনদার হিসেবে রাখুন আপনারা তো তাকে অনেক মেনে চলেন যদি আপনি বড় পীরকে জামানত হিসেবে রাখতে পারেন তবে আমি আপনার সঙ্গে ঘোড়ায় উঠতে রাজি আছি ওই মুসলিম ব্যক্তিটি অলি আউলিয়াদের কোন প্রকার বিশ্বাস করতো না এবং সে মহান আল্লাহ তাআলার ওলিদের খুবই অপছন্দ করতো সে ওই হিন্দু নারীকে নিজের করে পাবার বাসনায় এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসায় পড়ে বলে উঠলো ঠিক আছে আমি বড় পীর আব্দুল কাদের
জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে এখানে জামানত হিসেবে রাখছি এবং আমি তার ব্যাপারে সমস্ত কিছু জেনেই এই জামানত রাখছি যদি আমার কথার কোন প্রকার ব্যবধান ঘটে তবে তিনি আমাকে পাকড়াও করতে পারবেন তাছাড়া মহান আল্লাহতালা আমাকে কখনোই ক্ষমা করবেন না এই কথা শোনার পর হিন্দু নারী তার স্বামীকে বলল এখন তুমি আমাকে ঘোড়ায় ওঠার অনুমতি দাও তুমি নিশ্চিন্তে থাকো আমার কিছুই হবে না আমি ঠিকভাবেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো তখন হিন্দু ব্যক্তিটি বলল তুমি এই মুসলিম ব্যক্তির ঘোড়ায় উঠতে পারো এবার ওই হিন্দু নারী ঘোড়ায় উঠে বসলো ঘোড়া আস্তে আস্তে সামনের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো এবং ঘোড়ার পেছনে পেছনে সেই হিন্দু ব্যক্তিটিও আসতে
লাগলো কিন্তু হিন্দু ব্যক্তিটি জানতো না যে এই মুসলিম ব্যক্তির মনে কি চলছিল কিছু সময় পরেই মুসলিম ব্যক্তিটি তার তলোয়ার বের করে সেই হিন্দু নারীর স্বামীর মস্তক বিচ্ছিন্ন করে ফেলে তলোয়ারের এক কোপে সেই হিন্দু ব্যক্তির মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে দূরে পড়ে যায় আর সেখানেই হিন্দু ব্যক্তিটির মৃত্যু ঘটে অতঃপর এই কান্ড ঘটিয়ে সে তার ঘোড়া নিয়ে দ্রুত চলতে থাকে স্বামীর এমন নির্মম মৃত্যু দেখে হিন্দু নারীটি হতম্ব হয়ে পড়ে এবং সে বারবার পেছনের দিকে তাকিয়ে থাকে তখন মুসলিম ব্যক্তিটি বলল বারবার পেছনে তাকিয়ে আর কোন লাভ হবে না তোমার স্বামী আর কখনোই ফিরে আসবে না তুমি কি করে ভাবলে যে
আমি তোমাকে নিয়ে যাব তোমার স্বামীকে সহি সালামত অবস্থায় রেখে আজ কতটা দিন ধরে আমি তোমাকে পছন্দ করি তোমাকে আপন করে পাওয়ার পড়াশোনা করি কিন্তু সোজা উপায়ে তোমাকে পেলাম না তাই তোমার স্বামীকে হত্যা করলাম কিন্তু সেই সুন্দরী নারী এই মুসলিম ব্যক্তির কথার কোন উত্তর দিচ্ছিল না সে শুধু বারবার পেছন দিকে তাকাচ্ছিল অতঃপর মুসলিম ব্যক্তিটি রাগান্বিত হয়ে বলল তুমি বারবার পেছনে কি দেখছো তোমার স্বামীর মাথা আমি বিচ্ছিন্ন করে তাকে হত্যা করেছি এখন তার জীবিত অবস্থায় ফিরে আসা অসম্ভব এতক্ষণ পরে হিন্দু নারী বলে উঠলো আমি তো আমার স্বামীকে দেখছি না আমি দেখছি বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি
আলাইহিকে যার জামানত তুমি দিয়েছিলে এবার তিনি অবশ্যই আমাকে সাহায্য করতে আসবেন এই কথা শুনে মুসলিম ব্যক্তিটি জোরেশোরে হাসতে থাকে আর বলতে থাকে তুমি যার কথা বলছো সে তো কবেই এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন এত বছর পরেও তিনি কিভাবে আসবেন আমি তো এমনিতেই তার নাম নিয়েছি শুধুমাত্র তোমাকে একান্তভাবে পাওয়ার জন্য তাকে জামিনদার হিসেবে ব্যবহার করেছি তুমি শুনে রাখো আমি তাকে মানি না আমি কোন অলিদেরকেই মানি না এই কথা বলতে না বলতেই হঠাৎ করে একজন বুজুর্গ তার সামনে এসে উপস্থিত হলো এবং সেই বুজুর্গ কোন কথা না বলে ঘোড়ার উপরে থাকা সেই মুসলিম ব্যক্তির গর্দান বরাবর তলোয়ার দিয়ে
এমন এক আঘাত করল যে ঘাড় থেকে কল্লা আলাদা হয়ে গেল অতঃপর সেই বুজুর্গ ব্যক্তি হিন্দু নারীকে সেখানে নিয়ে আসেন যেখানে তার স্বামীর কাঁঠামাথা পড়েছিল এই বুজুর্গ ব্যক্তি কে ছিলেন হিন্দু নারী সেটা জানতো না কারণ সেই বুজুর্গের চেহারা দেখা যাচ্ছিল না তার চেহারা একদম নূরানী ছিল হিন্দু নারীটি শুধুমাত্র এতটুকু বুঝতে পারছিল যে মৃত্যুবরণ করা সেই মুসলিম ব্যক্তি এবং তার মৃত স্বামীর সামনে সে বুজুর্গ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং সে নারী আরো দেখছিল সেই বুজুর্গ ব্যক্তিটি তখন আল্লাহ তাআলার কাছে দুই হাত তুলে কি যেন বললেন অতঃপর সেই বুজুর্গ ব্যক্তি আমার স্বামীকে লক্ষ্য করে বললেন আল্লাহ তাআলার নামে তুমি
উঠে আসছো আর সঙ্গে সঙ্গে সেই হিন্দু ব্যক্তিটি জীবিত হয়ে উঠে দাঁড়ালো আর সেই বুজুর্গ ব্যক্তিটিও গায়েব হয়ে গেল এই অলৌকিক ঘটনা দেখে স্বামী-স্ত্রী অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকলো এবার সেই হিন্দু নারীর স্বামী বলল আমি নিশ্চিত এই বুজুর্গ ব্যক্তি বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আমি যতটুকু বুঝেছি এই আরবি শব্দ বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন হে বিবি আমরা তো সারাজীবন মূর্তি পূজা করেছি কিন্তু দেখো আমরা শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তাআলার একজন অলিকে স্মরণ করেছি আর তিনি কিভাবে আল্লাহর নামে আমাদেরকে সাহায্য করতে চলে এসেছেন হে বিবি আমরা যেখানে যাচ্ছিলাম সেখানে না গিয়ে
যদি আমরা আমাদের ঘরে ফিরে যাই এবং কালেমা পড়ে মুসলিম হয়ে যাই তবে কেমন হয় জবাবে তার স্ত্রী বলে উঠলো আমি তো কবে থেকেই তোমাকে এই কথা বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু ভয়ে বলতে পারিনি আর আমি যখনই বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে মন থেকে স্মরণ করেছি তখন থেকেই আমার মনে হচ্ছিল যে করেই হোক আমাদেরকে কালেমা পড়তেই হবে এখন তো তোমারও যেহেতু কোন আপত্তি নেই তাই আমরা অবশ্যই কালেমা পড়বো এবং পরিপূর্ণ মুসলমান হয়ে যাব এরপর সেই হিন্দু স্বামী এবং স্ত্রী তাদের ঘরে ফিরে আসে এবং তারা কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে যায় সুবহানাল্লাহ