আল কুরআনকে চ্যালেঞ্জ করতে আসা ডিবেটারদের প্রধান একটা প্রশ্ন হলো আল কুরআনে যদি সমস্ত কিছুর বর্ণনা থাকেই তাহলে তুষারপাত এবং বরফ সম্পর্কে কেন নেই আল কুরআন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বানানো গল্প ছলচাতুরী এরকম মনে করেন অনেকেই অনেকেই বলেন কি এমন আছে এই আল কুরআনে আমি আজ বলবো কি আছে কিভাবে আছে কেন আছে আল কুরআন এত সহজ কিছু না আমার জীবনের সবচাইতে কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং ভিডিও বানাচ্ছি আজ আমি একজন সামান্য মানুষ খুব বেশি কিছু জানিনা আমি আমি তাই জানি যা আমার রব আমাকে জানিয়েছেন আর তিনি জানাননি এমন কোন কিছুই নেই তবুও এই ভিডিও রিসার্চ করতে গিয়ে
আমার হাত কেঁপেছে চোখে পানি এসেছে যত জেনেছি তত বেশি অবাক হয়েছি আজ হিস্ট্রি আর এভিডেন্স থেকে আমি কথা বলবো এমন এক বইকে নিয়ে যা সমস্ত বইয়ের বই নলেজ অফ অল নলেজ থট অফ অল থিংকিং ফিলোসফি অফ অল ফিলোসফিস অ্যানসার অফ অল কোশ্চেন আল কুরআন [মিউজিক] [মিউজিক] মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না সোজা কথায় তিনি ছিলেন অশিক্ষিত আর ইতিহাসের এই অংশটাকে পুঁজি করে অনেকেই বলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু মূর্খ ছিলেন তাই তার অনুসারীরাও মূর্খ কোরআনে যারা বিশ্বাস রাখে তারা জ্ঞান-বিজ্ঞানহীন অশিক্ষিত মানুষ ভাই আপনি জানেন না কোরআনে কি আছে আর কি না
আছে শুরু করছি মূর্খতার প্রসঙ্গ নিয়ে প্রসঙ্গটাকে ব্যাখ্যা করতে প্রি ইসলামিক এরাবিয়া বা ইসলাম আসার আগের প্রাচীন আরব সম্পর্কে জানা প্রয়োজন যে সময়টাকে ইসলামের ভাষায় বলা হয় আইয়ামে জাহেলিয়া দ্যা টাইম অফ ইগনোরেন্স বা মূর্খতার সময় প্রাচীন আরবের লোকেরা বিশ্বাস করতো তারা হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের উত্তরসূরী ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেই ধর্মের শিক্ষা দিয়েছিলেন সেটি ছিল এক ঈশ্বরবাদ অর্থাৎ আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এনসিয়েন্ট আরবের মানুষেরা সেটাকেই বিশ্বাস করতো কিন্তু আমরা যে জানি কাবা ঘরের ভিতরে 360 টি উপাস্য মূর্তি ছিল আরবেরা সেগুলোকেই পূজা করতো সেটার কি হলো প্রত্যেকটা ধর্মই যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তন হয় একটা ব্যাপারে ভালোভাবে খেয়াল
রাখবেন নিজেকে একবার প্রশ্ন করে দেখুন তো হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর ঈমান আর আমাদের ঈমান কি সমান না আমরা পরিবর্তন হয়েছি আমাদের ঈমান হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কিংবা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর মত এতটা শক্ত নয় তার কারণ কি কারণ হলো যুগের পরিবর্তন একইভাবে ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা দেওয়া এক ঈশ্বর বাদ ধর্মও যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তন হয় যুগের পালাক্রমে মানুষ ঈমান হারিয়ে প্যাগানিজম বা মুশরিকীবাদকে গ্রহণ করে মুশরিকীবাদ বা বহু ঈশ্বরবাদ কাবাকে তখনও তারা আল্লাহর ঘরেই বিশ্বাস করতো কিন্তু উপাসনা করতো 360 টি আইডল বা মূর্তির মূর্তিগুলোর ভেতরে প্রধান উপাস্য দেবতার নাম
ছিল হুবাল আল উজ্জা আল মানাত সহ আরো 357 টি এই দেবতাগুলোকে বিশ্বাস করা হতো মানুষ আর আল্লাহর মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যাপারটাকে সহজে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি ধরুন এনসিয়েন্ট আরবের কেউ লেখাপড়া বা বিদ্যা অর্জনের জন্য উপাসনা করার প্রয়োজন অনুভব করল তাহলে সে যেত আল কুতবা নামক দেবতার মূর্তির কাছে সেখানে গিয়ে সে বলতো আল কুতবা যেন তার হয়ে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে অর্থাৎ কাবা ঘরে রাখা প্রত্যেকটি মূর্তির কাজই ছিল বিভিন্ন বিষয়ে আল্লাহ বা এলো এর কাছে সুপারিশ করা আমাদের দেশে প্রচলিত পীর মুরিদ ব্যবস্থার সাথে কিছুটা মিল পান যেখানে মানুষ গিয়ে পীরের দরবারে সুপারিশ প্রার্থনা করে হিস্টরিক্যালি চিন্তা
করলে এই পীরের মুরিদগণ এখনো আইয়ামে জাহেলিয়া থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি অথবা যুগের পরিক্রমায় আবারো পরিবর্তনের পথে ধর্ম যাই হোক টপিকে ফিরি সুপারিশ ধর্মী এই ধর্ম ব্যবস্থার ইতিহাস আমি যেই বই থেকে আলোচনা করলাম সেই বইটির নাম নো গড বাট গড লিখেছেন রেজা আসলান সমস্ত গডের মূর্তি থাকলেও আল্লাহর কোন মূর্তি সে সময়ও ছিল না যে ব্যাপারটি ইতিহাস থেকেও জানা যায় প্রত্নতত্ত্ব থেকেও জানা যায় এবং আল কুরআনের সূরা ইউনুস আয়াত 18 অনুসারে আল্লাহ বলেন তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর ইবাদত করছে যা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারে না এবং তাদের উপকারও করতে পারে না তারা বলে এরা
আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী এনসিয়েন্ট আরবের এরকম প্যাগানিজম দেখে অনেকেই সে সময় সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠেন আদৌ কি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের শিক্ষা অনুসারে এই বহু ঈশ্বরবাদ সাপোর্ট করে যেহেতু ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সময় থেকে সে সময় পর্যন্ত অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে তাই সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা কঠিন তবুও যারা এই প্রশ্ন নিয়ে উত্তর খুঁজতেন তাদের মধ্যে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অন্যতম রেফারেন্স আল কুরআন বইয়ের ইংলিশ ট্রান্সলেশন দা কোরআন বইয়ের ইন্ট্রোডাকশন পার্ট ওয়ান এই ঈশ্বরবাদের উত্তর খুঁজতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাকি সময় পার করতেন মাউন্ট হেরা বা হেরা পাহাড়ের এক গুহায় প্রত্যেক বছর রমজান মাস মাসে
তিনি এই সময় পার করতেন আর এখান থেকেই আমাদের আসল ভিডিও শুরু একদিন ধ্যানরত অবস্থায় তিনি শুনতে পান একটি ভয়েস রিড পড়ো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আই ক্যান নট রিড আমি পড়তে জানিনা ভয়েসটি আবার বলল পড়ো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমি পড়তে জানিনা ভয়েসটি তৃতীয়বার বলল পড়ো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হোয়াট ক্যান আই রিড আমি কি পড়তে পারি ভয়েসটি বলল ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক পড়ো তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন আল কুরআনে নাযিল হওয়া প্রথম আয়াতের প্রথম শব্দটি যেখানে বলছে ইকরা পড়ো রিড আল কুরআনে নাযিল হওয়া প্রথম আয়াতটি যেখানে বলছে জ্ঞান অর্জন
করতে বিদ্যা অর্জন করতে শিখতে জানতে পড়তে সেখানে এই গ্রন্থে বিশ্বাসকারীরা মূর্খ কিভাবে হবে আল কুরআনে নাযিল হওয়া প্রথম সূরাটি যেখানে বলছে আল্লাহ মানুষকে কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানতো না সেখানে আল কুরআন কিভাবে মিথ্যা হবে মানুষের এর চিন্তাশীল মস্তিষ্কের প্রথম প্রশ্ন হাউ আই এম হিয়ার আমি এই পৃথিবীতে কিভাবে আসলাম কি আমার পরিচয় আল কুরআনের নাযিল হওয়া দ্বিতীয় আয়াত এর উত্তর খুঁজে দেয়াল ইনসানা মিন আলাক আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে আব্রাহামিক ধর্মের পরিবর্তন নিয়ে আল্লাহ বলেন আয়াত নাম্বার ছয় নিশ্চয়ই মানুষ সীমালঙ্ঘন করে যেই কোরআন শুরু হচ্ছে ইকরা দিয়ে বলা হচ্ছে পড়ো
জ্ঞান অর্জন করো সেই কোরআনে কি কি জ্ঞান আছে কিভাবে মানুষ তৈরি হলো সূরা আত্তোহা আয়াত 55 মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি কিভাবে মানুষের জন্ম হয় সূরা হজ আয়াত পাঁচ আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি এরপর বীর্য থেকে এরপর জমাট রক্ত থেকে এরপর পূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট মাংসপিণ্ড থেকে আল কুরআনে আছে কিভাবে প্রাণীজগতের সৃষ্টি হলো সূরা আল আম্বিয়া আয়াত 30 প্রাণবান সবকিছুকে সৃষ্টি করলাম পানি থেকে আল কুরআনে আছে পৃথিবীতে পানি কোথা থেকে এলো সূরা আল মুমিনুন আয়াত 18 উই সেন্ট ডাউন ওয়াটার ফ্রম হিডেন ইন প্রপার কোয়ান্টিটি আল্লাহ আসমান থেকে পানি পাঠিয়েছেন আমরা পরবর্তীতে জেনেছি
পানি এসেছে উল্কা আর মিটিয়রস এর সাথে যা আর কোন গ্রহতেই যায়নি কুরআনে আছে পৃথিবীর শুরু পৃথিবীর শেষ কোরআনে আছে কিভাবে শস্য দানা হয় কিভাবে সূর্য কাজ করে কিভাবে চাঁদ কাজ করে আসমান তারকারাজিক গ্যালাক্সি টাইম ডাইনামিক্স অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ সবকিছু তারপরও কিভাবে কোরআনের জ্ঞান সীমিত কিভাবে কোরআনে বিশ্বাসীরা বিজ্ঞান থেকে পিছিয়ে তারপরও অনেকেই প্রশ্ন করে আল কুরআনে যদি সমস্ত কিছুর বর্ণনা থাকেই তাহলে তুষারপাত এবং বরফ সম্পর্কে বর্ণনা নেই কেন তারা মনে করে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরআনকে বানিয়ে বানিয়ে বলেছেন যেহেতু তিনি মরুর দেশে বসবাস করতেন তার যেহেতু বরফ সম্পর্কে আউটার নলেজ কম দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াননি তাই
তিনি বরফের ব্যাপারটাকে মিস করে গেছেন কিন্তু আসলেই কি তাই সূরা আল ইমরান আয়াত 117 এ দুনিয়ার জীবনে যা কিছু ব্যয় করা হয় তার তুলনা হলো ঝড়ো হাওয়ার মতো যাতে রয়েছে তুষারের সত্য স্পষ্ট করে তুষারের কথা থাকা সত্ত্বেও বারবার কেন অস্বীকার করা হয় আবার এরকমও মনে করা হয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু মরুর দেশে বসবাস করতেন তাই মরুর কথা কোরআনে অনেকবার বলা আছে কিন্তু সবচাইতে আকর্ষণীয় বিষয় এবং সবচাইতে অবাক করা বিষয় তুষারের কথা যেরকম একবার আছে মরুর কথা মরুর মরিচিকার কথাও আছে ঠিক একবার যেন কোরআনে ব্যালেন্স করে একবার তুষার এবং একবার মরুর মরিচিকার কথা লেখা হয়েছে
সত্যিকার অর্থে আল কুরআনের প্রথম নাযিল হওয়া শব্দ ইকরা বা রিড বা পড় হলো সব প্রশ্নের উত্তর ইউ হ্যাভ টু রিড ইট ফাস্ট না পড়লে জানা যাবেই বা কিভাবে অবশ্য আল্লাহ নিজেই বলেছেন জালিকাল কিতাবুল মুত্তাকিন এটা সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই মুত্তাকীদের জন্য হেদায়েত সূরা বাকারা আয়াত দুই আল কুরআন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বানানো গল্প হলে এত জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস এখানে থাকতো না বিজ্ঞান এখনো যেখানে পৌঁছায়নি আল কোরআন সেখানকার কথাও বলে বিজ্ঞান একদিন সেখানেও পৌঁছাবে শুধু সময়ের অপেক্ষা