একদিন বিশ্বনবী সাহাবীদের মজলিসে দাঁড়িয়ে বদর যুদ্ধের ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন ঠিক এমন সময় একটি দোয়েল পাখি উড়াল দিয়ে এসে পাশে থাকা একটি গাছের মধ্যে বসলেন তার কিছুক্ষণ পর আরেকটি বাজ পাখি উড়াল দিয়ে এসে আরেকটি গাছের মধ্যে বসলেন দোয়েল পাখিটি তারপর নবীজিকে সালাম জানিয়ে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবিবাল্লাহ আল্লাহর নবী গো আজকে সকাল থেকে এখন পর্যন্ত এই বাঁধ পাখিটি আমাকে দৌড়াচ্ছে আমাকে ছিড়ে খাওয়ার জন্য সকাল থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত উড়ালতে উড়ালতে আমি প্রায় ক্লান্ত শান্ত হয়ে গেছি আমার প্রাণ প্রায় যাই যায় অবস্থা ওগো আল্লাহর নবী আপনি এই বাঁশ পাখির কবল থেকে আমাকে রক্ষা করুন ওগো আল্লাহর নবী
আমার দুইটি ছানা বাচ্চা রেখে এসেছি না জানি আজকে সারাদিন তারা আমাকে না দেখে কতই না কষ্টের মধ্যে সময় পার করছে আল্লাহর নবী তখন দয়েল পাখির দিকে লক্ষ্য করে বললেন হে দয়েল পাখি তুমি শান্ত হও তুমি যেহেতু আমার কাছে এসে পড়েছো তোমার আর কোন ভয় নেই অতঃপর বিশ্বনবী বাজ পাখিকে লক্ষ্য করে বললেন হে বাজ পাখি তুমি কেন আজকে সারাদিন যাবত এই দয়েল পাখিটিকে দৌড়াচ্ছ কেন তুমি এই দয়েল পাখিকে খেতে চাচ্ছ তখন বাজ পাখি নবীজিকে বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ ইয়া হাবিবাল্লাহ আল্লাহর নবীগো বেয়াদবি মাফ করবেন ওগো আল্লাহর হাবিব আজকে দুইদিন যাবত আমার পেটে কিছুই পড়েনি দুইদিন যাবত কিছু
না খেতে পেরে আমার জীবন প্রায় যায় অবস্থা ওগো আল্লাহর নবী আজকে সকালে এই দয়েল পাখিটি আমার সামনে এসে পড়ে আর তখন আমি ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সিদ্ধান্ত নিলাম এই দয়েল পাখিটিকে খাবো তাই আমি সকাল থেকে এই পর্যন্ত দয়েল পাখিটিকে খাওয়ার জন্য দৌড়াচ্ছি তখন বিশ্বনবী বাজ পাখিকে বললেন হে বাজ পাখি তুমি যদি এই দয়েল পাখিটিকে খেয়ে ফেলে তাহলে এই দয়েল পাখির ছোট ছোট থানা বাচ্চাগুলার কি হবে একবার চিন্তা করে দেখেছো বাজ পাখি তখন বললেন ইয়া আল্লাহর হাবিব ক্ষুধার যন্ত্রণায় আমার মাথা ঠিক ছিল না আমি কোন ভেবে পাচ্ছিলাম না যে কি করলে আমার ক্ষুধার যন্ত্রণা
নিবারণ হবে আমি দুইদিন যাবত কোন কিছু না খেতে পেরে সামনে কোন আধার না পেয়ে এই দয়েল পাখিটিকে দেখে আমার মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল কখন আমি দয়েল পাখিটিকে খাবো আমার ক্ষুধা নিবারণ করব আল্লাহ আল্লাহর নবীগো আপনি এখন বলে দিন আমার ক্ষুধা কি করলে নিবারণ হবে তখন আল্লাহর নবী বাজ পাখিকে বললেন হে বাজ পাখি তুমি শান্ত হয়ে বসো তোমার ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থা আমি রাসূল করব অতঃপর বিশ্বনবী দয়াল পাখিকে লক্ষ্য করে বললেন হে দয়েল পাখি তোমার কোন ভয় নেই তুমি এখন খুশি মনে তোমার বাচ্চাদের কাছে ফিরে যেতে পারো আমি কথা দিচ্ছি এই বাঁশ পাখি আর তোমার পিছু কখনো
নিবে না আল্লাহর নবীর মুখে এমন কথা শুনে পর দয়াল পাখি খুশিতে আত্মহারা হয়ে নবীজিকে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবিবাল্লাহ আল্লাহর নবী গো আপনার মুখে এমন কথা শোনার পর আমার আর কোন ভয় রইল না আমি এখন নির্ভয়ে আমার বাচ্চাদের কাছে ফিরে যেতে পারবো এই বলে দয়াল পাখি বিশ্বনবীকে সালাম জানিয়ে উড়াল দিয়ে তার গন্তব্যের দিকে চলে গেলেন এদিকে বাজ পাখি বসে আছে বিশ্বনবীর দিকে তাকিয়ে নবীজি তখন বাজ পাখিকে বললেন হেঁজ পাখি পাখি তোমার তো অনেক ক্ষুধা তুমি একটা কাজ করো তুমি তোমার ঠোঁট দিয়ে আমার দুই গাল থেকে দুই টুকরো মাংস খেয়ে নাও তাহলে বাকি জীবন তোমার আর
কোন ক্ষুধা লাগবে না বাজ পাখি তখন নবীজিকে লক্ষ্য করে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবিবাল্লাহ আল্লাহর নবী গো আপনার এই চাঁদ মাখা সুন্দর চেহারা দেখে আমি বাঁশ পাখির সমস্ত ক্ষুধা নিবারণ হয়ে গেছে আল্লাহর নবী গো আমি বাঁশ পাখির কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেছে ওগো আল্লাহর হাবিব আপনার চেহারা থেকে আমার গোশত খেতে হবে না আপনার চেহারা দেখে আপনার চাঁদ মাখা মুখ দেখে আমি বাজ পাখির সমস্ত ক্ষুধা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে ওগো আল্লাহর রাসূল আপনার চাঁদ মাখা মুখ দেখে আমি এতটাই আত্মতৃপ্তি পেয়েছি যে আমার মনে হচ্ছে বাকি জীবন আমার আর কোন ক্ষুধাই লাগবে না অতঃপর বাজ পাখি বিশ্বনবীকে সালাম জানিয়ে
উড়াল দিয়ে চলে গেল দূর আকাশের দিকে সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ একদিন আবু জাহেল বিশ্বনবীর কাছে দৌড়ে এসে বললেন ভাতিজা মোহাম্মদ তুমি তো নিজেকে আল্লাহর নবী বলে দাবি করো তাহলে তুমি বলতো দেখি আমার হাতের মুঠোর মধ্যে কি আছে যদি তুমি বলতে পারো তাহলে আমি কথা দিচ্ছি আমি এক্ষুনি তোমার কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে যাব বিশ্বনবী তখন চিন্তায় পড়ে গেলেন নবীজি আবু জাহেলকে লক্ষ্য করে বললেন চাচা আপনার হাতের মুঠোর মধ্যে কি আছে আমি তা বলতে পারবো না কেননা অদৃশ্যের খবর একমাত্র আমার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জানেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া পৃথিবীর কেউ গায়েব সম্পর্কে জানেন না কেউ অদৃশ্য সম্পর্কে কোন কিছু
বলতে পারবে না এটার ক্ষমতা একমাত্র আমার আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে আছে বিশ্বনবীর এমন কথা শুনে আবু জাহেল মুচকি মুচকি হাসতে লাগলেন অতঃপর নবীজি আবু জাহেলকে লক্ষ্য করে বললেন চাচা আপনার হাতের মধ্যে কি আছে তা আমি বলতে পারবো না কিন্তু আপনার হাতের মধ্যে যা আছে তারা যদি নিজেই আমার ব্যাপারে সাক্ষী দেয় তাহলে কি আপনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যাবেন তখন আবু জাহেল বলল এটা তো আরো ভালো কথা তবে তুমি তাই করে দেখাও তখন বিশ্বনবী আবু জাহেলের হাতের মুষ্টির দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন হাতের মুষ্টির মধ্যে যা কিছু আছে তোমরা সবাই আমার ব্যাপারে সাক্ষী দিতে থাকো
জবান খুলে তখন সাথে সাথে আবু জাহেলের হাতের ভিতরে থাকা পাথরের গুটিগুলো সাক্ষী দিতে থাকলো এবং নবীজির উপর দরুদ শরীফ পড়তে লাগলো আবু জাহেল এই দৃশ্য দেখার পর হাতের মুষ্টি থেকে পাথরের কণাগুলো জেড়ে ফেলে দিলেন এরপর নবীজিকে লক্ষ্য করে বললেন ভাতিজা তুমি আসলেই একজন বড় জাদুকর আমি এতদিন জানতাম তুমি সবকিছুর জাদু জানো কিন্তু বিশ্বাস করতাম না আজকে নিজের চোখে দেখলাম তুমি যে কত বড় জাদুকর এরপর আবু জাহেল দ্রুত সেই স্থান ছেড়ে চলে গেল একদা বিশ্বনবী একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়েছিলেন এমন সময় আবু জাহেল ও তার কিছু সঙ্গীরা এসে নবীজিকে বলল ইয়া মোহাম্মদ তুমি যদি ওই আকাশের চাঁদটিকে
দ্বিখন্ডিত করে দেখাতে পারো তাহলে আমরা সবাই মিলে আজকেই তোমার কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে যাব নবীজি তখন বললেন আমি যদি ওই আকাশের চাঁদটিকে দ্বিখন্ডিত করে দেখাতে পারি তাহলে কি সত্যিই তোমরা মুসলমান হবে আবু জাহেল ও তার সঙ্গীরা তখন বলল হ্যাঁ আমরা সত্যিই মুসলমান হয়ে যাব যদি তুমি এই কাজ করে দেখাতে পারো এরপর বিশ্বনবী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন হে আল্লাহ তুমি আমার আঙ্গুলের ইশারাতে ওই আকাশের চাঁদটিকে দ্বিখন্ডিত করে দাও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবীজির দোয়া কবুল করে নিলেন অতঃপর বিশ্বনবী ওই আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে হাতের আঙ্গুলের ইশারা করার সাথে সাথে ওই আকাশের চাঁদটি দ্বিখন্ডিত হয়ে যায় চাঁদ দ্বিখন্ডিত
হয়ে যাওয়ার পর চাঁদের দুইটা টুকরার মাঝখানে এতটাই ফাঁকা ছিল যে মাঝখান দিয়ে হেরা পর্বত দেখা যাচ্ছিল আর এই দৃশ্যটি আবু জাহেল ও তার সঙ্গীরা খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করছিল এরপর বিশ্বনবী তাদেরকে কালেমা পড়ে মুসলমান হওয়ার জন্য বললেন সাথে সাথে আবু জাহেল বলে উঠলো ভাতিজা মোহাম্মদ এত বড় জাদুকর হয়ে গেছো তুমি তোমার জাদুর কাছে পৃথিবীর সমস্ত জাদুকররা হার মানবে আমি আজকে ঘোষণা করলাম পৃথিবীর সবচাইতে বড় জাদুকর তুমি তোমার এই জাদুর কাছে সমস্ত জাদুকররা ফেল হয়ে যাবে আর মুসলমান হওয়ার কথা বলছো আমরা তো কোন জাদুকরের হাতে হাত রেখে তার কালেমা পড়ে মুসলমান হতে পারি না এইসব কথা বলতে
বলতে আবু জাহেল ও তার সঙ্গীরা সেই স্থান থেকে প্রস্থান করল আসলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আবু জাহেলের ভাগ্যে মুসলমান হওয়াটা লিখেই রাখেনি একদিন এক বৃদ্ধ মহিলা অনেকগুলা কাপড়-চোপড় এবং মালামাল নিয়ে তার বাড়ি থেকে কোথায় যেন চলে যাচ্ছে ঠিক এমন সময় বিশ্বনবী সেই বৃদ্ধ মহিলার কাছে এসে দাঁড়ালো এবং নবীজি মহিলাকে বলল মা আপনি বৃদ্ধ মানুষ এতগুলো মালামাল নিয়ে আপনি তো যেতে পারবেন না আপনার মালামাল গুলো আমাকে দিন আমি নিয়ে যাচ্ছি বৃদ্ধ মহিলা তখন নবীজিকে বলল তুমি যদি এই উপকারটুকু করো তাহলে আমার জন্য তো ভালোই হয় আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল এগুলো নিয়ে যেতে অতঃপর নবীজি বৃদ্ধ মহিলার মালামাল
গুলো নিয়ে সামনের দিকে হেঁটে চললেন হাঁটতে হাঁটতে একটা সময় নবীজি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ মহিলাকে বললেন মা আপনি এইসব মালামাল গুলো নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন তখন বৃদ্ধ মহিলা বলল বাবারে দুঃখের কথা আর তোমাকে কি বলবো এই মক্কাতে নাকি একজন জাদুকর এসেছে যার নাম মোহাম্মদ সে যার সাথেই নাকি কথা বলে সেই নাকি তার জাদুতে মুগ্ধ হয়ে মুসলমান হয়ে যায় আমি এতদিন যাবত মূর্তি পূজা করে এসেছি কোনদিন আমার বাপ দাদার ধর্ম ছাড়তে পারবো না তাই আমি যাতে সেই জাদুকরের সামনে পড়া না লাগে তাই আমি আমার এই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছি বিশ্বনবী মহিলার মুখে এই কথা শোনার পর
আর কিছুই বললেন না অতঃপর তিনি সামনের দিকে হাঁটতে লাগলেন হাঁটতে হাঁটতে একটা সময় বিশ্বনবী ওই বৃদ্ধ মহিলার গন্তব্যস্থানে এসে পৌঁছলেন তারপর নবীজি সমস্ত মালামাল গুলো নামিয়ে চলে যাচ্ছিলেন ঠিক এমন সময় পিছন দিক দিয়ে নবীজিকে ডেকে বৃদ্ধ মহিলা বললেন বাবা তুমি তো চলে যাচ্ছো কিন্তু তোমার পরিচয়টা তো জানতে পারলাম না তুমি কে তোমার পরিচয়টা একটু বলো তখন নবীজি বৃদ্ধ মহিলাকে বললেন মা আপনি যাকে জাদুকর বলছেন আমি সেই মোহাম্মদ তখন বৃদ্ধ মহিলা নবীজির দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল এবং বলল যদি তুমিই সেই জাদুকর হয়ে থাকো তাহলে আমিও তোমার জাদুতে বশীভূত হয়ে গেছি তুমি আর দেরি করো না
বাবা তুমি এক্ষুনি আমাকে কালেমা পড়ে মুসলমান বানিয়ে দাও অতঃপর আল্লাহর হাবিব ওই বৃদ্ধ মহিলাকে কালেমা পড়িয়ে মুসলমান বানিয়ে দিল সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ একদিন মায়ার নবী একটি জঙ্গলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন এই জঙ্গলে বসবাস করতো মক্কার বিখ্যাত মুশরিক পালোয়ান নাম ছিল তার রুকানা রুকানা দূর থেকে লক্ষ্য করলেন নবীজি এদিক দিয়ে যাচ্ছে তখন রুকানা নবীজির কাছে আসলেন এবং নবীজিকে বললেন আমার ধারণা যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে তোমার নামই মোহাম্মদ আমি শুনেছি তুমি নাকি মানুষদেরকে এটা সেটা বুঝিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করছো তুমি নাকি সবাইকে তোমার ইসলাম ধর্মের ছায়ার তলে নিয়ে যাচ্ছ কালেমা পড়িয়ে তাদেরকে মুসলমান বানিয়ে দিচ্ছ হে
মোহাম্মদ শোনো তোমার প্রতি যদি এই মুহূর্তে আমার করুণা না থাকতো তাহলে আমি তোমাকে এই মুহূর্তে শেষ করে দিতাম তবে যাই হোক তুমি আমার সাথে কুস্তি লড়তে এসো তাহলে দেখব তোমার আল্লাহর বেশি ক্ষমতা আছে না আমার দেবতার বেশি ক্ষমতা বিশ্বনবী তখন রুকানাকে লক্ষ্য করে বললেন হে রুকানা আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রেরিত রাসূল আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন মানুষদেরকে হেদায়েত করার জন্য এবং মানুষদেরকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য ইসলাম ধর্ম হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম এই ধর্মে যারা আসবে যারা কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে ইসলামের ছায়ার তলে বসবাস করবে তারা ইহকাল এবং পরকাল উভয় জাহানে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে
রুকানা শোনো তুমি যে কুস্তি লড়ার কথা বলেছ আমি তোমার সাথে কুস্তি লড়তে সবসময় প্রস্তুত আছি বিশ্বনবীর এমন কথা শুনে পালোয়ান রুকানা হতবাক হয়ে গেলেন রুকানা তখন নবীজিকে বললেন হে মোহাম্মদ তুমি কি জানো তুমি কি বলছো তোমার কথা শুনে আমি অবাক না হয়ে পারছি না মক্কার এমন কোন পালোয়ান নেই এমন কোন কুস্তিগির নেই যাদেরকে আমি পরাজিত করিনি কেউ আমার সাথে কুস্তিতে লড়ে জিততে পারেনি এখন তো কেউ আমার ভয়ে আমার সাথে কুস্তিতে লড়তেই চায় না আর তুমি কিনা বলছো আমার সাথে কুস্তিতে লড়বে আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে এখনই কুস্তি হয়ে যাক দেখি তোমার বাহুতে কত শক্তি আছে বিশ্বনবী
তখন বললেন রুকানা তুমি চাইলে এক্ষুনি কুস্তিতে লড়তে পারো আমি প্রস্তুত আছি তারপর রুকানা নবীজিকে বললেন ঠিক আছে আমি এক্ষুনি তোমার সাথে কুস্তিতে লড়তে চাই শুরু হয়ে গেল কুস্তি বিশ্বনবী প্রথম ধাক্কা দিতেই রুকানা চিৎ হয়ে মাটিতে পড়ে গেল এরপর বিশ্বনবী তার পা দিয়ে রুকানার বুকের উপর চেপে ধরলেন রুকানা নিচ থেকে তখন বললেন হে মোহাম্মদ আমার বুকের উপর থেকে কে পাটা সরাও মনে হচ্ছে আমার বুকের উপর কোন পাথর চাপা দেওয়া হয়েছে এরপর বিশ্বনবী রুকানার বুকের উপর থেকে পাটা সরিয়ে নিলেন রুকানা নিচ থেকে উঠে তারপর নবীজিকে বললেন হে মোহাম্মদ মনে হয় এবার আমার দেবতা আমার দিকে খেয়াল করেনি
আমি আরেকবার তোমার সাথে কুস্তি লড়তে চাই বিশ্বনবী এবারও রাজি হয়ে গেলেন শুরু হলো দ্বিতীয়বারের মত কুস্তি এবারও নবীজি প্রথম ধাক্কা দিতেই পালোয়ান রুকানা আবারো চিৎ হয়ে মাটিতে পড়ে গেল রুকানা তখন আবারো বলতে লাগলেন হে মোহাম্মদ আমার মনে হচ্ছে আজকে আমার দেবতা আমার দিকে ভালোভাবে খেয়াল করছে না তোমার আল্লাহ তোমাকে সাহায্য করছে মনে হচ্ছে আমার দেবতা আমাকে পুরোপুরি সাহায্য করতেছে না তুমি একটা কাজ করো শেষবারের মতো আমাকে আবার কুস্তি লড়ার সুযোগ দাও এই বলে রুকানা আবার নিচ থেকে দাঁড়িয়ে গেল এরপর বিশ্বনবী রুকানাকে আবার কুস্তি লড়ার জন্য সুযোগ দিলেন তৃতীয়বারের মতো আবার কুস্তি শুরু হয়ে গেল এবারও
বিশ্বনবী ধাক্কা মারতেই পালোয়ান রুকানার ডিকবাজি খেয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন এইবার আর রুকানার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না রুকানা নিচ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে নবীজিকে বললেন হে মোহাম্মদ জীবনে এই প্রথম আমি তোমার কাছে পরাজয় বরণ করলাম মক্কার কোন পালোয়ান আজ পর্যন্ত আমাকে কুস্তিতে হারাতে পারেনি কিন্তু তুমি আজকে আমাকে হারিয়ে দিলে নিশ্চয়ই তোমার আল্লাহ তোমাকে সাহায্য করেছেন হে মোহাম্মদ আমার এখানে অনেক গরু ছাগল বেড়া রয়েছে তোমার যতগুলো এখান থেকে নিয়ে যাও বিশ্বনবী তখন বললেন হে রুকানা তোমার সম্পদের আমার কোন প্রয়োজন নেই তবে জাহান্নাম থেকে যদি বাঁচতে চাও মুসলমান হয়ে যাও রুকানা তখন বললেন হে মোহাম্মদ মুসলমান
তো হয়েই যেতে পারি কিন্তু লোক লজ্জার ভয়ে তা পারছি না আজকে আমি যদি মুসলমান হয়ে যাই তাহলে কালকে মক্কার সমস্ত লোকেরা বলাবলি করবে এত বড় পালোয়ান মোহাম্মদের কাছে কুস্তিতে পরাজয় বরণ করে শেষ পর্যন্ত মুসলমান হয়ে গিয়েছে বিশ্বনবী তখন বললেন রুকানা তাহলে থাকো তুমি তোমার সম্পদ নিয়ে আমি চললাম এই বলে নবীজি সামনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলেন কপাল পোড়া রুকানা লোক লজ্জার ভয়ে তার কপালে আর মুসলমান হওয়া জুটলো না একদিন বিশ্বনবী কোন এক জিহাদের ময়দান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন পথিমধ্যে নবীজির ক্লান্তি চলে আসলে তিনি একটি গাছের নিচে গিয়ে বসেন এবং তার তলোয়ারটা পাশে রেখে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য
গাছের নিচে ঘুমিয়ে পড়লেন ঠিক এমন সময় একজন কাফের দৌড়ে নবীজির কাছে এসে তার তলোয়ারটি হাতে নিয়ে বললেন হে মোহাম্মদ এখন আমার হাত থেকে তোমাকে কে বাঁচাবে নবীজি তখন ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে সেই কাফেরকে বললেন আমাকে যে আল্লাহ দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন সে আল্লাহই আমাকে বাঁচাবেন বিশ্বনবীর এমন উত্তর শুনে কাফের লোকটি ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগলো অতঃপর তার হাত থেকে তলোয়ারটি পড়ে গেল এরপর নবীজি তলোয়ারটি হাতে নিয়ে ওই কাফেরকে বলতে লাগলো এখন আমার হাত থেকে তোমাকে কে বাঁচাবে তখন কাফের লোকটি জবাব দিল কোন সম্মানিত লোকের হাতে যদি আমার মরণ হয় তাহলে আমি আমার জীবনটাকে সার্থক মনে করব বিশ্বনবী
এমন কথা শোনার পর ওই কাফের লোকটিকে মুক্ত করে দিয়ে বললেন যাও তোমাকে আমি ক্ষমা করে দিলাম তুমি বাড়িতে চলে যাও তখন কাফের লোকটি বাড়িতে চলে আসলো বাড়িতে এসে সে তার গোত্রের লোকদেরকে ডেকে বলল শোনো তোমরা সকলেই শোনো আজকে আমার এমন একজন লোকের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে যার চেহারা দেখলেই মনে শান্তি চলে আসে যার দয়া এবং মহানুভবতার কাছে পৃথিবীর সবকিছু তুচ্ছ আমি এখন যাচ্ছি সেই লোকের হাতে হাত রেখে ইসলামের ছায়ার তলে নিজেকে আবদ্ধ করতে তোমরা যদি আমার সাথে যেতে চাও তাহলে এক্ষুনি যেতে পারো অতঃপর সমস্ত লোকগুলোকে নিয়ে ওই কাফের লোকটি বিশ্বনবীর কাছে আসলেন এবং নবীজিকে বললেন ইয়া
রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবিবাল্লাহ আল্লাহর নবী গো আপনি এক্ষুনি আমাদের সবাইকে কালেমা পড়ে মুসলমান বানিয়ে আপনার ইসলামের ছায়ার তলে আশ্রয় দিন অতঃপর বিশ্বনবী সমস্ত লোকগুলোকে কালেমা পড়িয়ে মুসলমান বানিয়ে দিলেন সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ প্রিয় বন্ধুরা এই ছিল বিশ্বনবীর জীবদ্দশায় তার জীবন থেকে নেওয়া বিশেষ কিছু ঘটনাবলী নিয়ে আমাদের আজকের ভিডিও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে বিশ্বনবীর দেখানো পথে চলা তৌফিক দান করুন আমিন [মিউজিক]