হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের পিতা আজর ছিলেন একজন কট্টর মূর্তিপূজক তিনি নিজে মূর্তি তৈরি করতেন এবং সেগুলোর পূজা করতেন একদা হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের পিতা আজর যুবক ইব্রাহিমকে ডেকে বললেন বাবা ইব্রাহিম তুমি এই মূর্তিগুলো বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে আসো যুবক হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সাল্লাম তখনো নবুয়াত পাননি তিনি কৌতহল বসত তার পিতাকে জিজ্ঞেস করলেন আব্বাজান এই মূর্তিগুলোর শক্তি এবং ক্ষমতা কি ছেলের মুখে এমন কথা শুনে পিতা আজর বললেন এই মূর্তিগুলোর শক্তি এবং ক্ষমতা হলো এই মূর্তি আসমান জমিন পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছে। এমনকি আমাদেরকেও সৃষ্টি করেছে। এই মূর্তিগুলো হলো আমাদের খোদা। তাই এই মূর্তিগুলোর উপাসনা এবং প্রার্থনা
করতে হবে। এই বলে আজর সেই মূর্তিগুলোকে একটি ঝুরিতে ভরে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের মাথায় তুলে দিল। অতঃপর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম মাথায় করে সেই মূর্তিগুলো নিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। পতিমধ্যে রাস্তায় যুবক ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লামের প্রসাবের তলও হলো। তাই হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালাম মাথা থেকে ঝুড়িটি নামিয়ে রাস্তায় একপাশে রেখে প্রসাব করতে গেলেন এবং কিছু সময় পর ফিরে এসে তিনি দেখেন যে মূর্তিগুলোর শরীর পানিতে ভেজা এমন দৃশ্য দেখে হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সাল্লাম মূর্তিগুলোকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন কি ব্যাপার তোমাদের শরীর পানিতে ভেজা কেন কিন্তু মূর্তিগুলো তার কোন উত্তর দিল না কিছুক্ষণ পর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম খেয়াল করে
দেখলেন যে তার পাশে একটা কুকুর দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং তখনও সে কুকুরের নিচ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে এ দৃশ্য দেখে হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সাল্লামেরর বুঝতে আর বাকি রইলো না যে এ কুকুর প্রসাব করে দিয়ে এই মূর্তিগুলোর শরীর ভিজে দিয়েছে। অতঃপর হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সাল্লাম এবার রাগান্বিত কন্ঠে চিৎকার করে বলতে লাগলেন কি ব্যাপার তোমরা নাকি খোদা এ সুন্দর আকাশ জমিন সবকিছু সৃষ্টি করেছ মানুষকে সৃষ্টি করেছ। তাহলে এ সামান্য কুকুরের হাত থেকে তোমরা নিজেকে রক্ষা করতে পারলে না কেন? কুকুর যখন তোমাদের শরীরে প্রসব করছিল তখন তোমরা এখান থেকে দৌড় দিলে না কেন? অথবা কুকুরকে তাড়িয়ে দিলে না
কেন? তোমরা কেমন খোদা তোমরা নিজেকে নিজে রক্ষা করতে পারো না। এ বলে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম রাগানিত অবস্থায় মূর্তির ঝুড়িটা নদীতে নিয়ে গিয়ে ফেলে দিল এবং মূর্তিগুলোকে নদীর পানিতে চুবিয়ে চুবিয়ে গোসল করে তাদেরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালো। এরপর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সে মূর্তিগুলোকে বলতে লাগলেন, তোমরা যদি সত্যিই খোদা হয়ে থাকো তাহলে এখান থেকে বাজার পর্যন্ত তোমরা হেঁটে হেঁটে যাবে। আমি সামনে হেঁটে যাব আর তোমরা আমার পেছনে পেছনে হেঁটে যাবে। এ বলে হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালাম হাঁটা শুরু করলেন। কিন্তু কয়েক কদম হাঁটার পর তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখেন যে মূর্তিগুলো সে আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। হযরত ইব্রাহিম
আলাইহিস সালাম এবার আরো রাগান্বিত অবস্থায় তাদের বলতে লাগলেন তোমরা কিসের খোদা? তোমরা এত সুন্দর মানুষ সৃষ্টি করেছো, জমিন সৃষ্টি করেছো, আসমান সৃষ্টি করেছ। তাহলে তোমরা নিজে নিজে হাঁটতে পারো না কেন? তোমাদেরকে আমি কিছু কিছুতেই খোদা বলে স্বীকার করি না। অতঃপর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম এবার একটি রশি বের করলেন এবং সবগুলো মূর্তির কোমরে রশি বাঁধলেন। রশির একটি দিক নিজের হাতে রেখে টান দিয়ে বাজারের দিকে সেই মূর্তিগুলোকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যেতে শুরু করলেন। বেশ কিছুক্ষণ পর বাজারে পৌঁছে তিনি দেখেন যে মূর্তিগুলোর অবস্থা খুবই বেহাল। কোনটার হাত নেই, কোনটার পা নেই, কোনটার মাথা নেই। তারপরও তিনি সেই মূর্তিগুলো
বিক্রি করার জন্য বসলেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বাজারে বসে থাকার পরও তার একটি মূর্তিও বিক্রি হলো না। কারণ মূর্তিগুলো ছিল ভাঙ্গা আর ভাঙ্গা মূর্তি কেই বা কিনবে? অবশেষে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সেই মূর্তিগুলোকে ঝুলিতে ভরে বাড়ির দিকে রওনা দিলেন। বাড়িতে পৌঁছার পর তার পিতা আজর তাকে জিজ্ঞেস করল, কি ব্যাপার? তুমি তো একটি মূর্তিও বিক্রি করতে পারোনি। পিতার কথা শুনে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বললেন, মূর্তি কি করে বিক্রি হবে? এই ভাঙ্গা মূর্তি কেউ কি আর বাজারে কিনবে? তখন আজর তাকে বলল, মূর্তি ভাঙ্গা কেন? তুমি তো ভালো মূর্তি বাড়ি থেকে নিয়ে গেছো। হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালাম তখন বললেন, আমি
যখন এই মূর্তিগুলোকে বাজারে নিয়ে যাচ্ছিলাম তখন আমার মাথার উপরে রাখা ঝুড়িতে এই মূর্তিগুলো মারামারি শুরু করে দিয়েছিল। একজন মূর্তি বলতে লাগলো আমার শক্তি বেশি। অপর আরেকজন বলতে লাগলো আমার শক্তি বেশি। তারা এভাবে নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা এবং আধিপত্য বিস্তারের জন্য মারামারি শুরু করল। মারামারি করতে গিয়ে সকলের হাত পা মাথা ভেঙ্গে গিয়েছে। তারা এ ভাঙ্গা মূর্তি তো বাজারে কেউ কিনবে না। অতঃপর ইব্রাহিম আলাইহি সালামের কথা শুনে আজর বলল, ইব্রাহিম তুমি কি আমাকে বোকা পেয়েছো? এই মূর্তিগুলো কি করে নিজেদের মধ্যে মারামারি করতে পারে? তাদের তো মারামারি করার কোন ক্ষমতা নেই। তাদের তো শরীরে কোন শক্তি নেই। তখন হযরত
ইব্রাহিম আলাইহি সালাম বললেন আব্বাজান এই মূর্তির শরীরে যদি কোন শক্তি না থাকে নিজেকে হেফাজত করার মত যদি ক্ষমতা না থাকে তাহলে এই মূর্তি কি করে এত সুন্দর আসমান জমিন সৃষ্টি করেছে তাহলে এই মূর্তি কি করে মানুষের খোদা হতে পারে আপনি কেন এই মূর্তিকে খোদা মানেন এবং এই মূর্তির উপাসনা করেন হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালামের মুখে এরকম যুক্তি শোনার পর আজর কোন উত্তর দিতে পারলো না তাই আজর চুপ হয়ে সেখান থেকে চলে গেল হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালাম প্রকৃত রবের সন্ধানে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। এত সুন্দর পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছে, এত সুন্দর মানুষকে সুন্দর করে কে বানিয়েছে? সেই সুন্দর সৃষ্টির
স্রষ্টাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালাম মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। অতঃপর একদিন হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সাল্লামের কাছে গ্রামের লোকজন এসে বলল, ইব্রাহিম, আমাদের গ্রামের মধ্যে অনেক বড় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামের প্রতিটা লোকই সে মেলায় অংশগ্রহণ করবে। তোমাকেও সে মেলায় যেতে হবে। তাদের কথা শুনে হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালাম বললেন, আমি অসুস্থ। তাই আমি মেলায় যাব না। তোমরা যাও। হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম শারীরিকভাবে যদিও সুস্থ ছিলেন রবের সন্ধান পাওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত হতাশ এবং পেরেশান ছিলেন। তখন গ্রামের লোকজন বলল, ঠিক আছে ইব্রাহিম। তুমি যখন মেলায় যাবে না, তাহলে তুমি আমাদের এই মূর্তির ঘরের মূর্তিগুলোকে
পাহারা দিও। আমরা মেলা থেকে সকলে তিনদিন পরে ফিরবো। এই তিন দিনের মধ্যে যাতে আমাদের মূর্তিগুলোকে কোন চোর চুরি করে নিয়ে যেতে না পারে সেজন্য তুমি আমাদের মূর্তির ঘরটা পাহারা দিও। এই বলে গ্রামের সকল লোকজন সে মেলায় চলে গেল। এদিকে গ্রামের সব লোকজন যখন মেলায় চলে গেল তখন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সে মূর্তির ঘরে ঢুকলেন। তিনি ভাবতে লাগলেন আমার জাতি লোকেরা এই মূর্তিগুলোকে খোদা মানে এবং তাদের উপাসনা করে। দেখি আমি এ সুন্দর পৃথিবীর স্রষ্টাকে এখানে খুঁজে পায় কিনা। হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালাম সেই মূর্তির ঘরে ঢুকে দেখেন সেখানে শত শত মূর্তি রাখা আছে। কোনটা ছোট কোনটা বড়
এবং কোনটার আকৃতি এত বিশাল যা দেখে হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালাম অত্যন্ত অবাক হয়ে গেলেন। ইব্রাহিম আলাইহি সালাম খেয়াল করলেন প্রতিটা মূর্তির সামনে ফলমূল এবং বিভিন্ন প্রকার খাবার রাখা আছে। কিন্তু কোন মূর্তি সে খাবার গ্রহণ করছে না। ইব্রাহিম আলাইহি সালাম খেয়াল করে দেখলেন প্রতিটা মূর্তি হা করে তাকিয়ে আছে। কোনটার 10 টা হাত, কোনটার আটটা হাত, কোনটার 12টা হাত, কোনটা তাকিয়ে আছে বল্লম হাতি নিয়ে, কোনটা তাকিয়ে রয়েছে বর্ষা হাতি নিয়ে। একেকটা মূর্তির আকৃতি একেক রকম এবং সেই চিত্রগুলো খুব নিখুতভাবে অংকন করা হয়েছে। এবার হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালাম সে মূর্তিগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলেন, কি ব্যাপার? আমার জাতি
লোকেরা তোমাদের ইবাদত করে, তোমাদেরকে পূজা করে, তোমাদেরকে খোদা মানে। তোমরা নাকি এ সুন্দর পৃথিবী সৃষ্টি করেছ, মানুষকে তৈরি করেছ। তাহলে তোমরা এ খাবার খাচ্ছ না কেন? তোমাদের সামনে অনেক রকমের খাবার রাখা আছে। তোমরা খাবার গ্রহণ করো। হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বারবার সে মূর্তিগুলোকে এভাবে বলতে লাগলেন এবং তিনি নিজের হাতে সে প্লেটগুলো মূর্তিগুলোর মুখের কাছে নিয়ে গিয়ে ধরলেন এবং বললেন, খাবার খাও। তিনি প্রতিটা মূর্তির মুখের সামনে এভাবে প্লেট নিয়ে গেলেন এবং তাদেরকে খাবার খাওয়ার জন্য বললেন। কিন্তু কোন মূর্তি খাবার গ্রহণ করলো না। তাই হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম এবার রাগান্বিত কন্ঠে বললেন, তোমরা কিসের খোদা? তোমরা এ
সুন্দর পৃথিবী সৃষ্টি করেছ কি করে? তোমরা তো নিজেই চলতে পারো না। তোমাদের নিজেদেরকে তো মানুষ তৈরি করে। তাহলে তোমরা মানুষের খোদা হও কি করে? তোমাদের সামনে এত সুন্দর খাবার রাখা আছে সে খাবার হাত দিয়ে তুলে মুখে দেওয়ার মত শক্তি তোমাদের নেই। আর তোমরা এই সুন্দর পৃথিবী সৃষ্টি করেছ, এটা আমি কিছুতেই বিশ্বাস করি না। এই বলে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম একটা কোঠার দিয়ে মূর্তিগুলোকে ভাঙতে লাগলেন এবং শত শত মূর্তি তিনি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলেন এবং সেখানে সবচেয়ে বড় যে মূর্তিটা ছিল সে মূর্তির ঘাড়ে তিনি কোঠারটা রাখলেন এবং সেখান থেকে চলে গেলেন। অতঃপর তিনদিন পর গ্রামের সকল লোকজন
মেলা থেকে ফিরে আসলো এবং মেলা থেকে ফিরে আসার পর তারা পূজা দেওয়ার জন্য সেই মূর্তির মন্ডপে প্রবেশ করল। কিন্তু তারা ঢুকেই হায় হায় করতে লাগল। তারা চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো সর্বনাশ আমাদের সকল মূর্তি তো ভেঙে গুড়িয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তখন একজন লোক বলল আমরা মেলায় যাওয়ার আগে ইব্রাহিমকে এখানে পাহারাদার হিসেবে রেখে গিয়েছিলাম। আর আমার মনে হয় সে হয়তো কিছু করেছে। তার কথা শুনে লোকেরা তখন বলল, হ্যাঁ তুমি ঠিক বলেছ। অথবা তারা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে সেখানে ডেকে এনে বলল, ইব্রাহিম তোমাকে না দায়িত্ব দিয়েছিলাম এই মূর্তিগুলো পাহারা দেওয়ার জন্য। তাহলে এই মূর্তিগুলোর এই অবস্থা হলো কি করে?
তখন ইব্রাহিম আলাইহি সালাম চালাকি করে বললেন আমি কি জানি ওই যে বড়টার কাঁধে কোঠার রাখা আছে তাকে জিজ্ঞেস করো সে হয়তোবা সকল ছোট মূর্তিগুলোকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে কেননা তার শক্তি বেশি সেজন্য তার ক্ষমতা সে প্রয়োগ করেছে হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সাল্লামের কথা শুনে তার গ্রামের লোকজন বলল ইব্রাহিম তুমি কি আমাদের বোকা পেয়েছো এই মূর্তি কি করে অন্য মূর্তিদের ভাঙতে পারে এই মূর্তির শরীরে তো কোন শক্তি নেই তাকে তো আমরাই তৈরি করেছি এটা শুনে ইব্রাহিম আলাইহি সালাম বললেন এই মূর্তি শরীরে যদি কোন শক্তি না থাকে তাহলে এই মূর্তি কি করে তোমাদের খোদা হতে পারে? যে মূর্তিকে তোমরা
নিজেরাই তৈরি করেছ তার উপাসনা তোমরা কেন করছো? কেন তোমরা তাকে খোদা মানছো? ওই বড় মূর্তির শরীরে যদি একটা মাছিও বসে তাহলে সেই মাছিটা তাড়িয়ে দেওয়ার মত ক্ষমতা তার নেই। তাই সে তোমাদের খোদা কিছুতেই হতে পারে না। ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের মুখে এমন কথা শুনে গ্রামের লোকজনের বুঝতে আর বাকি রইল না যে এই মূর্তিগুলো ইব্রাহিম ভেঙেছে। কিন্তু ইব্রাহিম আলাইহি সাল্লামের এরকম যুক্তি শুনে গ্রামের লোকেদের মাথা নত হয়ে গেল। তারা চুপ হয়ে সেখান থেকে চলে গেল। অতঃপর একদিন রাতে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম খেয়াল করলেন যে আকাশে অনেক বড় বড় তারা দেখা যাচ্ছে। তখন ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বললেন, আকাশে এত
সুন্দর বড় বড় তারা। নিশ্চয়ই এ তারাগুলোই আমার রব হবে। একটু পর তিনি খেয়াল করলেন তারার পাশে একটি বিশাল আকৃতির চাঁদ। তখন তিনি বললেন তারার চেয়ে ওই চাঁদ বড়। তাই নিশ্চয়ই এ চাঁদ আমার রব হবে। অতঃপর পরদিন সুবে সাদিকের সময় সে তারা এবং চাঁদ সব ডুবে গেল। তখন ইব্রাহিম আলাইহি সালাম বলতে লাগলো যেটা ডুবে যায় শেষ হয়ে যায় সেটা কখনো আমার রব হতে পারে না। একটু পরে সূর্য উদিত হলো। তখন ইব্রাহিম আলাইহি সালাম বলল, নিশ্চয়ই এই সূর্যই আমার খোদা হবে। ওই তারা এবং ওই চাঁদের চেয়ে এ সূর্য অনেক বড়। দিন শেষে যখন সে সূর্য ডুবে গেল
তখন ইব্রাহিম আলাইহি সাল্লাম বলল, না এ সূর্য আমার খোদা না। যেটা ডুবে যায় এবং শেষ হয়ে যায় সেটা কখনো আমার খোদা হতে পারে না। এভাবে হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালাম সৃষ্টির স্রষ্টাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য হতাশ এবং পেরেশানির সঙ্গে দিন পার করতে লাগলেন। অবশেষে হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালাম যখন উপযুক্ত বয়স হলো তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে নবী বলে ঘোষণা দিলেন। ফেরেশতা জিব্রাইল আলাইহি সালাম মারফত তাকে জানিয়ে দিলেন হে ইব্রাহিম তুমি আল্লাহ তাআালার নবী এবং পয়গম্বর তুমি যে সত্য দ্বীনের সত্য ধর্মের যে সন্ধান করছো আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সেই সত্য দ্বীনের সন্ধান তোমাকে দিয়েছেন। আর সেই মহান আল্লাহ রাব্বুল
আলামীন এই পৃথিবীর স্রষ্টা। এত সুন্দর পৃথিবী এবং মানুষদেরকে সৃষ্টি করেছেন সে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। অতএব আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এই দিনকে প্রচারের দায়িত্ব তোমার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমাকে নবী বলে ঘোষণা করেছেন। তো প্রিয় দর্শক এই ছিল আমাদের আজকের এই ভিডিও। কেমন লাগলো কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। আজ তাহলে এই পর্যন্তই। আপনারা ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।