হযরত ওয়াইশ কুরনি রহমাতুল্লাহ আলাইহির যখন নয় বছর বয়স হলো তখন তার বাবা পরলোক গমন করেন তাই বিধবা মাকে দেখাশোনা করার জন্য বাধ্য হয়ে তিনি বাবার কাপড়ের দোকানে ব্যবসার হাল ধরেন ব্যবসা করে যা উপার্জন করতেন তা দিয়েই মা ছেলের জীবন একরকম কেটে যাচ্ছিল কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা বোঝা কঠিন একদিন ভোরবেলা তিনি দোকানে গিয়ে দেখলেন দোকানের সমস্ত জিনিসপত্র কারা যেন চুরি করে নিয়েছে খবর শুনে তার মাও দোকানে আসে আসলেন তার মা দোকানের এই অবস্থা দেখে বললেন বাবা ওয়াইশ আমাদের এবারে কি হবে কি করে দিন চলবে আমাদের তখন বালক ওয়াইশ তার মাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন আম্মাজান আল্লাহ তাআলা যা
করেন ভালোর জন্যই করেন অতঃপর বালক ওয়েশনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি এক ধনী প্রতিবেশীর ভেড়া চড়ানোর কাজে নিযুক্ত হলেন প্রতিদিন তিনি ভেড়ার পাল নিয়ে মাঠে যেতেন সারাদিন ভেড়াগুলো চড়াতেন আর ক্লান্ত হলে গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিতেন একদিন বালক অয়েস রহমাতুল্লাহ আলাইহি ভেড়াগুলো মাঠের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে পাশের একটি জঙ্গলে প্রবেশ করলেন গভীর জঙ্গলের ভিতর দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন যেতে যেতে তিনি হঠাৎ দেখতে পেলেন একজন দরবেশ সেখানে বসে ধ্যানে মগ্ন আছেন তিনি দরবেশের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন হঠাৎ দরবেশের ধ্যান ভেঙে গেল তখন দরবেশ বালক অয়েস্ক করিনি রহমাতুল্লাহ আলাইহিকে জিজ্ঞেস করল বাবা তুমি কে আমার কাছে তুমি কি চাও বালক অয়েস্ক করুনি রহমাতুল্লাহ
আলাইহি তখন নিজের পরিচয় এবং অবস্থার কথা বর্ণনা দিলেন তার অবস্থা শুনে দরবেশের দয়া হলো তাই তাকে নিজের কাছে বসিয়ে অনেক সময় ধরে আলোচনা করলেন এবং বললেন তুমি সময় পেলে আমার কাছে এসো কিন্তু সাবধান কাউকে সঙ্গে নিয়ে আসবে না আর আমার কথা কারো সাথে বলবে না তারপর থেকে বালক অয়েস্ক করিনি রহমাতুল্লাহ আলাইহি ভেড়াগুলো মাঠে ছেড়ে প্রতিদিন সেই দরবেশের কাছে যেতেন দরবেশ যা উপদেশ দিতেন তিনি তাই মনোযোগ দিয়ে শুনতেন তিনি সেখানে যতক্ষণ থাকতেন দুনিয়ার কোন কথা তার মনে থাকতো না দরবেশ যখন বলতেন যাও বাবা তুমি তোমার মালিকের ভেড়া গুলো দেখাশোনা করো তখন তার ভেড়ার কথা মনে পড়তো
এবং সেখান থেকে চলে আসতেন একদিন তিনি ভেড়ার পাল নিয়ে বাড়িতে ফিরলেন তখন মালিক দেখতে পেল যে অনেকগুলো ভেড়া হারিয়ে গেছে মালিক তাকে জিজ্ঞেস করলেন হে অয়েশকুরী আমার ভেড়া গুলো কমলো কেন তুমি রাখালের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ভেড়াগুলো কোথায় হারিয়ে গেল তখন অয়েশকুরী রহমতুল্লাহ আলাইহি মালিককে কোন জবাব দিতে পারলেন না এর ফলে মালিক রেগে গিয়ে তাকে কাজ থেকে বাদ দিলেন অতঃপর তিনি কাজ হারিয়ে আবারো সেই দরবেশের কাছে চলে গেলেন সারাদিন দরবেশের কথা শুনে এবং সন্ধ্যার প্রায় কাছাকাছি সময় জঙ্গল থেকে কিছু ফলমেল নিয়ে বাড়িতে মায়ের কাছে আসলেন অতঃপর অয়েশুরী রহমতুল্লাহ আলাইহি তরুণ যুবকে পরিণত হলেন তখন তিনি বাড়িটা
বিক্রি করে মাকে নিয়ে দূর জঙ্গলে চলে গেলেন সেখানে একটা ছোট্ট ঘর বানিয়ে মা ছেলে নির্জনে সেখানে বসবাস করতে লাগলেন বাড়ি বিক্রি করার টাকা দিয়ে তিনি একটি দুধের উট কিনলেন ফলে উটের দুধ আর জঙ্গলের ফলমূল খেয়ে তাদের দুজনার জীবন কোন রকম কেটে যেতে লাগলো তারপর থেকে তিনি আর কখনোই লোকালেই বের হতেন না সেখানে তিনি এবাদত বন্দেগীতে মগ্ন থাকতেন আর অন্ধ মায়ের খেদমত করতেন তিনি যদিও রসূলের যুগের মুসলিম ছিলেন কিন্তু অন্ধ মাকে রেখে কখনোই রসূলের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি এদিকে একদিন সাহাবীদের সাথে কথা বলার সময় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমার উম্মতের মধ্যে এমন একজন লোক
আছেন যার সুপারিশে আল্লাহ তাআলা বনি মুজার এবং বনি মরিয়াদের যত বকরি রয়েছে এবং এই বকরিগুলোর গায়ে যতগুলো পশম রয়েছে ততগুলো গুনাহার বান্দাকে মাফ করে জান্নাতে প্রবেশ করবেন তখন সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহর রাসূল কে সেই ভাগ্যবান উম্মত উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তার নাম হচ্ছে অয়েশনী তখন সাহাবারা আবারো জিজ্ঞেস করলেন হে রাসূলুল্লাহ আমরা তো কখনোই কোনদিন এই নামের কোন উম্মতকে আপনার কাছে আসতে দেখিনি আপনি কি তাকে চেনেন তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমি তাকে অবশ্যই চিনি কিন্তু আজ পর্যন্ত তার সাথে আমার সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি এসব শুনে সাহাবারা আশ্চর্য হয়ে গেলেন এরপরে সাহাবারা
তার পরিচয় জানার জন্য এবং তাকে খুঁজে বের করার জন্য অস্থির হয়ে গেলেন কিন্তু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন তার কেউ পরিচয় জানতে পারেননি এবং তার সাথে দেখাও করতে পারেননি একদিন কয়েকজন সওদাগর খাবার জিনিসপত্র বজায় করা নৌকা নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে মিশর থেকে মদিনায় যাচ্ছিল ওই নৌকায় ছেড়া কাপড় পড়া একজন পাগলও ছিল যাত্রী এদের মধ্যে কেউ তাকে চিনত না অতঃপর নৌকা যখন সাগরের মাঝখানে গেল তখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেল দেখতে দেখতে প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল ফলে প্রচন্ড ঝড়ের কারণে নৌকা ডুবে যাবার মত অবস্থা হয়ে যায় নৌকার যাত্রীরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে
আল্লাহতালাকে ডাকতে লাগলো এমন সময় হঠাৎ করেই সেই পাগলটা পানিতে নেমে গেল সমস্ত যাত্রীরা অবাক হয়ে গেল কারণ পাগলটা দিব্য পানির উপর দাঁড়িয়েছিল তারপর পাগলটা পানির উপর নামাজ পড়া শুরু করে দিল নামাজ শেষ করে সেই যাত্রীদের দিকে তাকালো এই দৃশ্য দেখে যাত্রীরা বুঝে গেল নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহ তাআলার বুজুর্গ মানুষ সবাই তখন চিৎকার করে বলল হুজুর আমাদের জন্য আপনি দোয়া করুন তখন তিনি বললেন তোমরা তোমাদের মাল এবং দুনিয়ার মায়া ছেড়ে দিয়ে বিসমিল্লাহ বলে নৌকা থেকে নেমে আমার কাছে চলে এসো তখন যাত্রীরা বলল হুজুর আমরা এই পানির উপর দিয়ে কিভাবে যাব তখন তিনি রেগে গিয়ে বললেন তোমরা আর
দেরি না করে তাড়াতাড়ি নৌকা থেকে নেমে এসো তখন যাত্রীরা মনে মনে ভাবলো যে এমনিতেই তো আমাদের মরতে হবে পানিতে নামলেও মরতে হবে না নামলেও মরতে হবে তার চেয়ে তার কথা শুনে দেখি কি হয় এই ভেবে তারা সবাই নৌকা থেকে পানিতে নেমে পড়লো কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় তাদের মনে হচ্ছিল তারা যেন মাটিতে দাঁড়িয়ে আছে কেউ তলিয়ে যাচ্ছিল না ফলে তারা হেঁটে হেঁটে পানির উপর দিয়ে তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো সঙ্গে সঙ্গে সেই নৌকাটি মালামাল সহ পানির মধ্যে তলিয়ে গেল তখন বুজুর্গ সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন তোমরা সবাই টাকা পয়সা এবং মালামালের আশা ছেড়ে দিও বলে জীবনে বেঁচে গেলে যদি
লোভ সামলাতে না পেরে নৌকায় থাকতে তাহলে তোমরা সবাই তলিয়ে যেতে অতঃপর তারা সবাই পানির উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে সমুদ্রের এক কিনারায় গিয়ে উঠলেন তখন যাত্রীরা সবাই সেই বুজুর্গকে বললেন হুজুর দয়া করে যদি আপনার পরিচয় দিতেন তাহলে আমরা খুশি হতাম তিনি বললেন আমার নাম অয়েশ করুনী ইয়ামিন প্রদেশের কুরুন নামক গ্রামের বাসিন্দা আমি তখন যাত্রীরা বলল হুজুর মদিনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে এই খবর গরীবদের জন্য খাদ্য খাবার নিয়ে মিশর থেকে মদিনায় যাচ্ছিলাম কিন্তু সেই খাদ্য খাবার সহ সমস্ত মালামাল সমুদ্রে ডুবে গেল এখন আমরা এই গরীবদের জন্য কি খাবার দেব তখন ওয়াইশ করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বললেন নৌকার মালপত্র এবং
সমস্ত খাদ্য খাবার যদি তোমরা ফিরে পাও তাহলে কি সত্যিই তোমরা মদিনায় গিয়ে ওগুলো গরীবদের দেবে তখন তারা বলল জি হুজুর গরীবদের সাহায্য করার জন্যই তো আমরা মিশর থেকে আসলাম তখনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি দুই রাকাত নামাজ নামাজ পড়ে মোনাজাত করে আল্লাহ ওর কাছে কি যেন বললেন অতঃপর ওয়েশকী রহমাতুল্লাহ আলাইহি তাদেরকে বললেন ওই যে দেখো তোমাদের নৌকা খাদ্য খাবার সমস্ত মালামাল সহ সমুদ্রে ভেসে রয়েছে তোমরা যাও নৌকা নিয়ে তাড়াতাড়ি মদিনায় চলে যাও তারা অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখল সত্যি সত্যি মালভর্তি নৌকাটি সমুদ্রের তীরে ভেসে রয়েছে অতঃপর তারা অয়েস্করুণীর দিকে ফিরে তাকালো কিন্তু সেই বুজুর্গ অয়েস্করুণী আর সেখানে ছিলেন না
চোখের পলকের মুহূর্তের মধ্যে মধ্যেই তিনি কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে গেলেন অতএব হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর খেলাফতের সময় হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এবং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু একদিন কুফা নগরীতে এলেন হযরত ওমর কুফার একটি মসজিদে উপস্থিত হয়ে মুসল্লিদের উদ্দেশ্য করে বললেন হে কুফা নগরীর অধিবাসীরা আপনাদের মধ্যে কেউ কি অয়েস্ক করুনিকে চেনেন মুসল্লিদের মধ্যে কয়েকজন উত্তর দিলেন না হুজুর আমরা অয়েশকী নামে কাউকে চিনি না তখন হযরত ওমর আবার বললেন আপনাদের মধ্যে কেউ যদি করুন এলাকার বাসিন্দা থাকেন দয়া করে উঠে দাঁড়ান তখন একজন উঠে দাঁড়ালো হযরত ওমর তাকে জিজ্ঞেস করল আপনি কি অয়েস্ক করিনিকে
চেনেন লোকটি তখন বলল হুজুর আমি অয়েশকরণী নামে যাকে চিনি সে তো একজন পাগল সে জঙ্গলে থাকে জঙ্গলের মধ্যে উট চড়িয়ে বেড়ায় অত্যন্ত আজব মানুষ তিনি লোকেরা যখন হাসে তখন তিনি কাঁদে আর লোকেরা যখন কাঁদে তখন তিনি হাসে এই কথা শুনে হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এবং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু লোকটাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে খোঁজার জন্য বার হলেন অনেক খোঁজাখুঁজির পর তারা দেখলেন একজন লোক একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছেন পাগলের মত তার চেহারা তখন ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এবং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সেই গাছের কাছে গিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন অতঃপর হযরত
ওয়াশ করণী রহমাতুল্লাহ আলাইহি নামাজ শেষ করে তাদের দিকে ফিরে তাকালেন তখন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু প্রথমে তাকে সালাম দিলেন তিনিও তাদের সালামের জবাব দিলেন অতঃপর হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তাকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি দয়া করে আপনার পরিচয় দিন তখন ওয়াইশ করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বললেন আমি আব্দুল্লাহ তখন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন আমরা সবাই তো আব্দুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর বান্দা আমি আপনার বাবা-মায়ের দেওয়ার নামটি জানতে চাই তখন তিনি বললেন আমার বাবা-মা আমার নাম রেখেছিল ওয়াইশ কিন্তু লোকেরা আমাকে ওয়াইশ করুন বলে ডাকে তখন হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন হুজুর আপনি দয়া করে আপনার ডান
হাতটি দেখাবেন কি তখন অয়েস্ক করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি তার ডান হাতটি এগিয়ে দিলেন তারা দুজনেই তার ডান হাতের তালুতে দিরহাম আকারের একটি দাগ দেখতে পেলেন তখন তারা দুজনেই অয়েশকুরী রহমাতুল্লাহ আলাইহির ডান হাত ধরে চুমু খেলেন তারপর তারা তাদের দুজনার পরিচয় দিয়ে বললেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ইন্তেকালের আগে তার প্রিয় উম্মতের আকৃতির কথা আমাদের সঙ্গে বলে গিয়েছেন আমরা আপনার চেহারা আকৃতি এবং ডান হাতে থাকা নিদর্শন দেখে বুঝলাম নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ইন্তেকালের আগে যে বুজুর্গ উম্মতের কথা বলে গিয়েছেন আপনি সেই ব্যক্তি আপনি সেই অয়েস্ক করণী হে প্রিয় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম স্বয়ং আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং তার দেহের পবিত্র জুব্বা মোবারক আপনাকে দেওয়ার জন্য আদেশ করেছেন আর বলে গেছেন আপনি যেন তার উম্মতের জন্য দোয়া করেন তখন ওয়েশনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বললেন দোয়া করার জন্য আপনারাই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কারণ আপনারা আল্লাহ তাআলা এবং স্বয়ং এবং রাসূলের প্রিয় পাত্র তখন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন আমরা তো নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য দোয়া করেই থাকি তবুও আপনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরোধ রক্ষা করুন তখন অয়েস্ক করিনি বললেন হে খলিফা ওমর আপনি হয়তো ভুল করছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো অন্য কোন অয়েস্ক করিনির কথা বলছেন
কারণ রসূলের সাথে আমার কোনদিন সাক্ষাৎ হয়নি এমনকি তার পবিত্র দেহের জুম্মা মোবারক মর্যাদা রক্ষা করার আমার কোন যোগ্যতাই নেই তখন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন না হুজুর আমি একটুও ভুল করিনি যে নিদর্শনের কথা বলে গিয়েছেন তার প্রত্যেকটি আপনার মধ্যে আমি দেখতে পেয়েছি সুতরাং আমার মনে এই কথা বলতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে আপনাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পবিত্র দেহের জুম্মা দান করে বলে গিয়েছে তখন ওয়াইশ করুনী রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন বেশ তাহলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহের পবিত্র জুম্মা মোবারক আমাকে দিন আমি সেই জুম্মা পরিধান করে সমস্ত উম্মতের জন্য দোয়া করি তখন হযরত ওমর ফারুক
রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু অয়েশ করিনির হাতে পবিত্র জুম্মা মোবারক তুলে দিলেন তিনি জুব্বাটি নিয়ে সামান্য একটু দূরে গেলেন অতঃপর সিজদায় গিয়ে কান্না করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করতে লাগলেন হে করুণাময় আল্লাহ হে দয়াময় প্রভু আমার প্রিয় রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দেহের পবিত্র জুম্মা আমাকে দান করে গিয়েছেন যতক্ষণ আপনি প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমস্ত উম্মতের গুনাহ মাফ না করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এই জুব্বা গায়ে পড়বো না কারণ তিনি তার উম্মতকে আমার জিম্মায় রেখে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওমর এবং আলী সবাই তাদের নিজের কাজ শেষ করেছেন এখন শুধু আমার কাজ
বাকি রয়েছে হে আল্লাহ আমার আরজি কবুল করুন তখন অদৃশ্য থেকে আওয়াজ আসলো হে অয়েশকরণী তুমি সিজদা থেকে তোমার মাথা উঠাও তোমার প্রার্থনা কবুল করার জন্য কিছু উম্মতের গুনাহ মাফ করে দিলাম তখন হযরত ওয়াইশ করিনি রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলল হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল উম্মতের গুনাহ মাফ করে দেওয়ার জন্য আরজি জানিয়েছি সামান্য কিছু উম্মতের গুনাহ মাফ করার জন্য বলিনি অতঃপর আবারো এক অদৃশ্য আওয়াজ এলো হে অয়েশকরণী তোমার দোয়া অনুযায়ী আমি আমার হাবিবের উম্মতের চার ভাগের এক ভাগের গুনাহ মাফ করে দিলাম হযরত অয়েশকরণী রহমাতুল্লাহ আলাইহি এতেও রাজি হলেন না তিনি সিজদা থেকে
মাথা না উঠিয়ে আবারো দোয়া করলেন হে রাব্বুল আলামীন রাসূলের সমস্ত উম্মতের গুনাহ মাফ না করলে আমি রসূলের পবিত্র জুম্মা মোবারক কিছুতেই গায়ে পড়বো না এবং সিজদা থেকে মাথা উঠাবো না ফলে আবারো অদৃশ্য থেকে আওয়াজ এলো ওয়েশনী তুমি সিজদা থেকে মাথা উঠাও আমার হাবিব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দেহের জুম্মা মোবারক পরিধান করো আমি শুধু তোমার দোয়া করার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাপী উম্মতদের অর্ধেককে মাফ করে দিলাম হযরত ওয়াশ করণী রহমাতুল্লাহ আলাইহি এবং এবং রহমানির রাহিম আল্লাহর মধ্যে যখন এমন কথা হচ্ছিল তখন আমিনুল মুমিনীন হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এবং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা
তার কাছে গিয়ে হাজির হলেন তাদের দুজনের উপস্থিতিতে রহমাতুল্লাহ আলাইহির ধ্যান ভেঙে গেল আশেক এবং মাসুকের গোপন সূত্র ছিন্ন হওয়ায় তিনি সিজদা থেকে মাথা উঠিয়ে অত্যন্ত দুঃখের সাথে বললেন কেন আপনারা এই সময় আমার সামনে এলেন আপনারা যদি আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন তাহলে আমি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমস্ত উম্মতদের গুনাহ মাফ না হওয়া পর্যন্ত সিজদা থেকে মাথা উঠাতাম না আপনারা আমার সামনে এসে সবকিছু নষ্ট করে দিলেন তারপর হযরত ওয়াশ করনী রহমাতুল্লাহ আলাইহির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জুব্বা মোবারক পরিধান করলেন অতঃপর তিনি আবারো আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করলেন হে পরোয়ারদিগার হে দয়াময় আল্লাহ তুমি তোমার পেয়ারা হাবিবের
এই পবিত্র জুম্মা মোবারকের বরকতে বনি রাবিয়া এবং বনি মোজার গোত্রের এর মেশপালকের সমান সংখ্যক মোহাম্মদী উম্মতের গুনাহ মাফ করে দাও মোনাজাতের পর তিনি হযরত ওমর এবং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর দিকে তাকিয়ে বললেন মেহেরবানী করে আল্লাহ তাআলা আমার এই দোয়া কবুল করে নিয়েছেন বনি রাবিয়া এবং বনি মোজার গোত্রের মেশপালকের সমস্ত মেশের পশমের সমান সংখ্যক মোহাম্মদ উম্মতের গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন অতএব হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ওয়াইশ করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহিকে বললেন হুজুর আপনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একদিন দেখা করলেন না কেন অথচ তার প্রতি আপনার এত মহব্বত তখন ওয়েশ করিনি রহমাতুল্লাহ আলাইহি তার
প্রশ্নের জবাবে বললেন আপনারা কি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজের চোখে কখনো দেখেছেন আমরা তো সবসময় প্রিয় নবীজির সাথে ওঠাবসা করতাম সুতরাং তাকে অবশ্যই দেখেছি তখন হযরত ওয়াইশ করিনি রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন আচ্ছা বলুন তো তার চোখের ভুরো দুটি জোড়া ছিল নাকি আলাদা ছিল তখন তারা দুজনেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারলেন না তখন তারা বললেন আমরা তো কোনদিন হুজুর আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারার দিকে তাকিয়ে কথা বলিনি তাই আমরা এই বিষয়ে লক্ষ্য করিনি অতঃপর হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ওয়েশ করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহিকে তার নিজের জন্য দোয়া করতে অনুরোধ করলেন তখন ওয়াশ করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বললেন আমি প্রতি ওয়াক্ত
নামাজের পরে এই বলে দোয়া করে থাকি হে পরম করুণাময় দয়াময় আল্লাহ তুমি সমস্ত মুমিন এবং মুমিনাদের গুনাহ মাফ করে দাও আপনি যদি খাঁটি ঈমান নিয়ে কবরে যেতে পারেন তাহলে আমার এই দোয়াই যথেষ্ট এই দোয়ায় আপনাকে খুঁজে বের করবে তখন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু অয়েশক করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহির কাছে আরো কিছু নসিহত শুনতে চাইলেন তখন হযরত ওয়াশক করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বললেন আপনি কি সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলাকে চেনেন যদি তাকে ছাড়া আর অন্য আর কাউকে না চেনেন তাহলে আল্লাহ তাআলাকে চেনাই আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো অতঃপর তিনি হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহ তাআলা কি আপনার সম্বন্ধে
জানেন তখন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন তিনি আলিমুল গায়েব নিশ্চয়ই তিনি আমার সম্বন্ধে সবকিছুই জানেন তখন হযরত ওয়াশ করনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বললেন তিনি ছাড়া আর কেউ যদি আপনাকে না জানে না চেনে তাহলে সেটাই আপনার জন্য ভালো অতঃপর হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হযরত ওয়াশ করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহিকে কিছু নজরানা দিতে চাইলেন তখন হযরত ওয়েশ কুরনি রহমাতুল্লাহ আলাইহি তার নিজের পকেট থেকে দুটি দিরহাম বের করে বললেন উট চড়িয়ে এই দিরহাম দুটি পেয়েছিলাম আপনি কি আমাকে এই নিশ্চয়তা দিতে পারবেন যে এগুলি খরচ না করা পর্যন্ত আমি এই দুনিয়ায় বেঁচে থাকবো যদি পারেন তাহলে আমাকে নজরানা দিন আমি
নিজে কিন্তু বিশ্বাস করতে পারছি না যে এই দিরহাম দুটি খরচ করতে আমি পারবো হয়তো তার আগেই এই দুনিয়া ছেড়ে আমাকে চলে যেতে হবে অতঃপর কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর হযরত ওয়াশ করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি তাদেরকে বললেন আপনারা দুজন অনেক কষ্ট করে আমার সাথে দেখা করতে এসেছেন দেখা তো হয়ে গেল এখন আপনারা ফিরে যান কেয়ামত খুব নিকটবর্তী সেদিন আবার আপনাদের সাথে আমার দেখা হবে অতঃপর হযরত ওয়াইশ করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং আল্লাহ তাআলার ইবাদতে মগ্ন হলেন হযরত ওমর এবং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তখন বুঝতে পারলেন যে তার সাথে আর কথা বলার সুযোগ
হবে না সুতরাং তারা সেখান থেকে চলে এলেন অতঃপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হবার পর হযরত ওয়াইশ করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারতের জন্য মদিনা শরীফ আসলেন মদিনায় সাহাবাগণ তখন ওয়াইশ করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহিকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত করার জন্য এসেছেন কিন্তু তিনি বেঁচে থাকতে তো একবারও আপনি দেখা করার জন্য আসেননি এর কারণ কি তাদের জবাবে হযরত ওয়াশ করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বললেন আমার বৃদ্ধা অচল অন্ধ মাকে ছেড়ে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমি আসতে পারিনি তখন সাহাবারা বলল আমাদের সবার তো পিতা-মাতা ছিলেন কিন্তু আমরা তো
আমাদের পিতা-মাতার চেয়ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মন প্রাণ দিয়ে বেশি ভালোবাসতাম তখন ওয়াশ করিনি রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন আপনারা তো সবসময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে ছিলেন তাকে কাছ থেকে প্রতিদিন দেখেছেন তাকে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন আচ্ছা বলুন তো দেখি রাসূলের চেহারা মোবারক কেমন ছিল তখন সাহাবাগান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারকের কিছু কিছু বর্ণনা দিতে শুরু করলেন এটা শুনে হযরত ওয়াইশ করিনি রহমাতুল্লাহ আলাইহি বললেন আপনারা তো এতক্ষণ যা বললেন এটা তো শুধু বাইরের এক টুকরোর কথা কিন্তু তার বাতিনি আকৃতির কথা তো আপনারা কিছুই বলেননি সাহাবাগণ তখন কোন জবাব দিতে না পেরে বললেন হুজুর তাহলে
আপনিই বলুন তখন ওয়াশ করুনী রহমাতুল্লাহ আলাইহি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আকৃতির এমন বর্ণনা দিলেন যে সাহাবাগণকেও তার কোন কথার অস্বীকার করার সুযোগ পেলেন না তার বর্ণনা শুনে সাহাবাগণ নতুন করে নবীজিকে দেখতে পেলেন তখন তারা সবাই কেঁদে ফেললেন অতঃপর তিনি পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত করতে গেলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বতে হযরত ওয়াইশ করিনি রহমাতুল্লাহ আলাইহি কাঁপতে কাঁপতে পবিত্র রওজা মোবারকের পাশেই বেহুশ হয়ে বললেন কিছুক্ষণ পর হুঁশ ফিরলে জিয়ারত শেষ করে পাশের লোকজনকে বললেন দয়া করে আপনারা আমাকে ধরুন এবং মদিনার সীমানার বাইরে রেখে আসুন এই জায়গার মাটিতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দেহ মোবারক শুয়ে আছে
সেখানে পা রেখে আমি দাঁড়াতে পারছি না বেয়াদবের ভয়ে আমার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে [মিউজিক]