আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আল্লাহর অশেষ রহমতে আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি বন্ধুরা আজকের এই ভিডিওতে আমরা বলবো এক সৎ এবং নিষ্ঠাবান মুসলিম ব্যবসায়ের ঘটনা যার ছোট্ট একটি ভুলের কারণে এক জিনের বাচ্চা মৃত্যুবরণ করে অতঃপর জিন জাতির লোকেরা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং সে প্রাণ ভিক্ষা চায় এ পুরো ঘটনাটি আপনার অন্তরাত্মাকে কাঁপিয়ে দিবে তাই ভিডিওটি একবারে শেষ পর্যন্ত দেখবেন খলিফা হারুন রশিদের আমলে বাগদাদে এক সৎ এবং নিষ্ঠাবান মুসলিম ব্যবসায়ী বসবাস করতেন ব্যক্তিগত জীবনে এ ব্যবসায়ী অনেক পরহেজগার ছিলেন প্রতিবেশীরা সকলেই বলতো যে জীবনে কোনদিন উনাকে ফজরের নামাজ মিস করতে দেখিনি তার ঘরে
দুই পুত্র ছিল এবং এক আদরের কন্যা ছিল সে কন্যার বিবাহের দিন তারিখ ঠিক হয়ে গিয়েছিল সে ব্যবসায়ী কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কাজ সমাধানের জন্য বাগদাদ থেকে দূরের একটি শহরে গমন করেছিলেন যাওয়ার পথে তার আদরের কন্যা তাকে বেশ কিছু খেজুর দিয়ে বলে বাবা এগুলো অনেক সুস্বাদু খেজুর তোমার রাস্তায় ক্ষুধা পেলে তুমি এগুলো খাবে ব্যবসায়ী দুইদিন সফরের পর হঠাৎ করে একদিন সেই খেজুর গুলোর কথা মনে পড়লো কাফেলার সবাই যখন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখন সে ব্যবসায়ী একটি কূপের কাছে বসে খেজুর গুলো খাচ্ছিল হঠাৎ করে সেই খেজুরের একটি বীজ কুপের মধ্যে পড়েছে এবং হঠাৎ করে ব্যবসায় দেখতে পায় সে কূপের মধ্যে
রক্ত মাখামাখি অবস্থা এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিষ্কার পানিগুলো রক্তিম লাল বর্ণ ধারণ করে কিন্তু কূপের পানিগুলো কেন লাল হয়ে গিয়েছিল এর কারণ তিনি বুঝতে পারছিলেন না তিনি ভাবেন যে হয়তো সূর্য অস্ত যাচ্ছে আর সে কারণেই কূপের পানিগুলো লাল বর্ণের হয়ে গেছে এরপর খেজুর খাওয়া শেষ করে তিনি পুনরায় কাফেলার কাছে গিয়ে বসলেন আর রাত বেশি হয়ে যাওয়ার পর সমস্ত কাফেলারা একসঙ্গে মিলিত হয়ে এশার নামাজ আদায় করল তারপর তারা নিজেদের মত আরাম করছিলেন বনিক ব্যক্তি একটি জায়গায় বসে নিজের জগতে হারিয়ে গিয়েছিলেন এরই মধ্যে তিনি দেখতে পেলেন যে তার খুব কাছাকাছি একটা জানাজা হচ্ছে বনিক ব্যক্তিটি এই মরুভূমির উপর
জানাজার দৃশ্য দেখে খুব অবাক হলেন এবং তিনি জানেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাজার নামাজে অংশগ্রহণকারীদেরকে অনেক নেকির ঘোষণা দিয়েছেন এবং তাদের অতীত জীবনের গুনাহ মাফ হয়ে যায় সাথে সাথে তিনি সেখানে গেলেন এবং জানাজার নামাজে উপস্থিত হলেন কিন্তু সেখানে অলৌকিক কিছু ঘটনা ঘটলো তিনি সেই জানাজার নামাজে উপস্থিত হওয়ার পর পেছন ফিরে দেখলেন যতদূর চোখ যায় লক্ষ লক্ষ মানুষ সেই জানাজায় উপস্থিত হয়েছে হঠাৎ করে এত মানুষ এই মরুভূমিতে কোথা থেকে আসলো তিনি বুঝতে পারলেন না তারপর তিনি সামনে তাকালেন এবং দেখলেন যে হুজুর জানাজা নামাজের তাকবীর পড়ছেন তো যাই হোক শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবসায়ী জানাজা নামাজ আদায়
করলেন সেই জানাজার নামাজটি ছিল একটি ছোট্ট বাচ্চা জানাজার নামাজ আদায় করার পর বাচ্চাটির বাবা উচ্চস্বরে বলতে লাগলো এক আদম সন্তান আমার ছোট্ট শিশুকে খেজুরের আঁটির আঘাতে হত্যা করেছে এই বাচ্চাটি কূপের ভেতরে নিজের মায়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিল এই কথাটি শুনে ব্যবসায়ীর মনে হলো যে যেন তার পায়ের তলার মাটি সরে গেল আর এরই মধ্যে তার পাশে উপস্থিত মানুষরূপে সেই জিনেরা একেবারে অদৃশ্য হয়ে গেল এখন ব্যবসায়ের সামনে শুধুমাত্র সে এই জিন দাঁড়িয়েছিল যে ছিল খাটিয়ায় রাখা বাচ্চার পিতা এবং তার বাচ্চাটি ওই ব্যবসায়ীর হাত থেকে ছুটে পড়া খেজুরের আঁটির আঘাতে কূপের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছিল এবং এটি দেখে এবারে ব্যবসায়ীর
হাত পা একেবারে কাঁপাকাপি শুরু করল এমন অবস্থায় জিন রেগে গিয়ে ব্যবসায়ীকে বলতে লাগলো এ আদম সন্তান তোর জন্যই আমার ছেলে মারা গিয়েছে আর এখন আমি অবশ্যই এর প্রতিশোধ নেব আমি রক্তের বদরে রক্ত চাই এবার আমিও তোর সন্তানকে আমি জানি পুত্রদের থেকে তোর কন্যা সন্তান বেশি প্রিয় আর আমি আগামী ছয় ঘন্টার মধ্যে তোর কন্যার প্রাণ কেড়ে নেব এটা শুনে এবার ব্যবসায়ী প্রচন্ড রকম কান্না করতে লাগলো এবং এই ভুলটি তার অজান্তে হয়ে গিয়েছে এটা বলে জিনের কাছে ক্ষমা চাইলো সে বলল আমি আপনার বাচ্চাকে দেখতে পাইনি তখন জিন বলতে লাগলো হে আদমজাঁদ তোমরা কখনোই জিন জাতিকে দেখতে পাবে
না কিন্তু তবুও তোমার মনে রাখা প্রয়োজন ছিল যে তুমি কেন বিনা প্রয়োজনে সেখানে খেজুরের আঁটি ফেলেছিলে আমি তো এখন এর প্রতিশোধ নিয়ে ছাড়বো এবং সেটি যেকোনো উপায় হোক না কেন সেই জিন যখন কোন প্রকারের মানতে চাইছিল না তখন শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবসায়ী ব্যক্তি নিজের আদরের কন্যার পরিবর্তে নিজের জীবন দিতে চাইলো আর বলতে লাগলো আচ্ছা তুমি তো একজন মুসলিম আল্লাহকে মানো তুমি তো কেসাস জানো যেহেতু আমার দ্বারা তোমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে তুমি আমার আদরের কন্যাকে ছেড়ে দিয়ে আমাকে মেরে ফেলো জিন কথা দেরি না করে দ্রুত তলোয়ার বের করে ব্যবসায়ীকে হত্যা করতে যাবে এমন অবস্থায় ব্যবসায়ী বলল
যদি কিছু মনে না করো আল্লাহর ওয়াস্তে তোমার কাছে দুটি কথা বলতে চাই আসলে আমি মানুষের আমানত তাদের নিকট পৌঁছে দিতে পারিনি আজ মৃত্যু হয়ে গেলে আমার সামনে কেয়ামত দিবস ব্যতীত আর কোন উপায় থাকবে না যদি আমি মানুষের হক আদায় করতে না পারি আর তাদের আমানত পৌঁছে দিতে না পারি তাহলে হক্কুল ইবাদত তথা বান্দার হক নষ্ট করার জন্য কেয়ামতের ময়দানে কঠিন সংকটে পড়ে যাব আল্লাহর হক হয়তো আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবে কিন্তু বান্দার হক আমি যদি পূর্ণ করতে না পারি তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হব এছাড়াও আমার আদরের একমাত্র কন্যার বিবাহ 15 দিন পর আমি সে বিবাহের কাজ সম্পূর্ণ করতে
চাই তখন জিন খুব রাগান্বিত হয়েছিল এবং বলল তুই কি আমার সাথে খেলা করছিস তখন সে ব্যবসায়ী বলল ঠিক আছে মৃত্যু সবার জীবনে আসবে আর আমার মৃত্যু এভাবেই লিখা আমি প্রভুর কাছে বলবো হে প্রভু তোমার এই মুসলিম জ্বীন আমাকে হক্কুল ইবাদত তথা বান্দার হক ঠিকমত আদায় করতে দেয়নি একথা শোনার পর সে বিশ্বাসী জিনের অন্তর কেঁপে উঠলো কেননা সেও কিয়ামত দিবসে ভয় পেত তখন সে বলল ঠিক আছে তুই কয়দিন সময় চাস ব্যবসায়ী বলল 40 দিন হলেই আমি আমার সকল দায়-দায়িত্ব পূর্ণ করে আসতে পারবো তখন সেই জিন বলল 40 দিন পর সন্ধ্যার সময় তুই এই কূপের কাছে পৌঁছে
যাবি যেখানে তুই আমার পুত্রকে হত্যা করেছিস আর তা না হলে আমি তোর বংশধরদের মধ্যে যে কারো প্রাণ নিয়ে নেব এরপর ব্যবসায়ী আল্লাহতালার কসম খেলেন এবং জিনের সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেন আর সেজন্য জিন তাকে সেখান থেকে যেতে দিল তারপর ব্যবসায়ী যখন উদাস মনে নিজের কাফেলার কাছে পৌঁছলেন তখন কাফেলা ওয়ালারা বলতে লাগলো আপনি কোথায় চলে গিয়েছিলেন আমরা আপনাকে ডাকছিলাম কিন্তু তবুও আপনি একা একা সামনের দিকে চলে গেলেন আর বললেন কি জানাজা হয় না হয় কিছুই বুঝতে পারলাম না ব্যবসায় কোন কথা না বলে শুধু আল্লাহর জিকির করতে করতে সামনে এগিয়ে গেলেন বাড়ি পৌঁছা পর্যন্ত পুরো আট দিন শুধুমাত্র ইস্তেগফারের
সাথেই ছিলেন আর প্রতিদিন রাতে প্রচন্ড কান্নাকাটি করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে লাগলেন বাড়িতে এসে ব্যবসায়ী শুধু আল্লাহর দরবারে হাত তুলে কান্নাকাটি করতেন সে ব্যবসায়ীর এমন আচরণে ঘরের মানুষরা খুবই পেরেশান হয়ে গিয়েছিল আর ভাবছিল যে এর আগে তো সে ব্যবসার কাজে বিভিন্ন শহরে গিয়েছিল কিন্তু হঠাৎ করে তার এমন পরিবর্তন কেন সবার সঙ্গে এমন ভাবে মেলামেশা করছে যেন মনে হয় এটাই তার শেষ দেখা এমন অবস্থায় একদিন ব্যবসায়ী একটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল আর তিনি সেখানে এক সুফি বুজুর্গ ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন তাকে অনেকে পাগল বলে তার নাম ছিল বাহলুল তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন তিনি বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহর ধ্যানে
মগ্ন থাকতেন তখন সে ব্যবসায়ী সুফি বুজুর্গ ব্যক্তির কাছে এগুতে থাকলেও আর সে বুজুর্গ ব্যক্তির পাশে বসে জোরে জোরে কান্না করতে লাগলো বাহলুল তাকে বলল তুমি যে সমস্যার জন্য পেরেশান আছো সেটিকে মন থেকে বাহিরে বের করে তুমি যে বিপদকে ভয় পাচ্ছ সেটা কোন ভয় নয় তখন সে ব্যবসায়ী বলল কেন তুমি জানো নাকি তখন বাহুল বলল আমি তোমার ঘটনা স্বপ্নে দেখেছি আচ্ছা বলতো মৃত্যুর ভয়ে এত কাঁদছো কেন এই কবরই তো তোমার আর মৃত ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য তুমি আজ জমিনের উপরে আছো আর মৃত্যুর পরে জমিনের নিচে চলে যাবে আর আজ কাঁদছো কারণ তুমি জানো দুদিন পরে মৃত্যু হবে
আর কি গ্যারান্টি আছে যে সে জিনের হাতে মৃত্যুর পূর্বে তোমার মৃত্যু হয়ে যাবে না আমরা প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে চলি কিন্তু এ বাস্তবতাটা আমরা উপলব্ধি করি না আর স্বীকার করি না বলে মৃত্যুর ভয় আমাদের মধ্যে থাকে না আর তুমি ভয় পাচ্ছ কারণ তুমি নিশ্চিত 40 দিন পর মারা যাবে অথচ পুরো পৃথিবীর কোন মানুষ ভয় পাচ্ছে না অথচ তারা জানেও না যে 40 দিন বেঁচে থাকবে কিনা কথাগুলো শুনে সে ব্যবসায়ের অন্তরাত্মা প্রশান্তি পেল যেন সে দুনিয়াতেই জীবন মৃত্যুর সঠিক মূল্যায়ন করতে শিখে গিয়েছে তখন বাহুল পাগল তাকে বলল তুমি তোমার আশেপাশের কবরগুলোর দিকে তাকাও যারা তোমাকে
বলবে যে এ পৃথিবী কখনো হৃদয় বসানোর মত জায়গা নয় হে আমার ভাই তুমি একদম কান্না করবে না তুমি যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করো তুমি এ পৃথিবীর সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের একজন যে মৃত্যুর ভয়ে আল্লাহর দরবারে তওবাতুন নাসুহা করতে পেরেছে আমি তো বলব তোমার মত সৌভাগ্য আমার কেন হলো না বুজুর্গ বাহালুল পাগলের কথা শুনে সে ব্যবসায়ী আধ্যাত্মিক জগতের এক প্রশ্ন শান্ত অন্তর নিয়ে সে কবরস্থান ত্যাগ করল যাওয়ার আগে সে বাহুলকে বলল আমি কি প্রস্তুতি নেব তখন উত্তরে বুজুর্গ বাহুল বলল তোমার উচিত তুমি নিজের সঙ্গে করে ভালো নেক মহব্বত মানুষের সত্য খেদমত এবং ভরপুর ঈমান নিয়ে যাও আরো তোমার
কাছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর নেয়ামত আছে এ সম্পদ যার থাকে তার কিসের ভয় আর এখন তুমি নিজের সমস্ত গুনাহের জন্য তওবা করতে পারছো যাও তুমি সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত দুঃখ করো না তবে হ্যাঁ মৃত্যুর পূর্বে অবশ্যই তোমার মনের বাসনা বিবি বাচ্চাদের সামনে প্রকাশ করবে মনের ইচ্ছে কখনো লুকিয়ে রেখো না আর তা না হলে একদিন তুমি কবরের মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যাবে কেউ কিছুই জানতে পারবে না যদি তোমার কোন কন্যা থাকে সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় তাহলে তার বিবাহ সম্পূর্ণ করো যদি তোমার ধন-সম্পদ থাকে যাকাত দাও মানুষের আমানত পূর্ণ করো অসুস্থ এবং গরীব অসহায়দের প্রয়োজন মিটিয়ে দাও এর মধ্যে প্রথম হক হচ্ছে
তোমার নিজের ঘরের মানুষদের দ্বিতীয় হক তোমার প্রিয় আত্মীয়-স্বজনদের আতৃত হক তোমার সেই সমস্ত প্রতিবেশীদের যারা তোমার কাছে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করে আর চতুর্থ হক হচ্ছে শহরের এতিম বাচ্চা এবং গরীব দুঃখীদের জন্য বাহালুলের মুখ থেকে এসকল কথা শুনে ব্যবসায়ী সেখান থেকে চলে আসলেন তারপর তিনি নিজের কন্যার বিবাহের কাজ সম্পন্ন করলেন এবং সেই বুজুর্গ ব্যক্তির কথার উপর আমল করতে থাকলেন যখন 40 দিন পূর্ণ হতে আর মাত্র আট দিন বাকি ছিল তখন সেই ব্যবসায়ী ব্যক্তি নিজের মনের সকল কথা যা এতদিন পর্যন্ত পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিল সব খুলে বলল আর সেটাও বলল যে তার মনের অজান্তেই সেই খেজুরের বীজ
থেকে জিনের একটি বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে সে পুরো ঘটনা শুনে তার বিবি বাচ্চারা অঝোরে কাঁদতে থাকলো ঘরের প্রত্যেকটি মানুষ তাকে পুনরায় সেখানে যেতে নিষেধ করল এবং তারা বোঝালো যে ওই জিনের ক্ষমতা নেই এখানে এসে আমাদের কিছু করার তার মেয়ে বলল বিশ্বাস করো বাবা মানুষকে জিনের থেকেও বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে কিন্তু সে ব্যবসায়ী বলল হ্যাঁ তা ঠিক কিন্তু আমি যে আল্লাহ পাকের নামের কসম খেয়েছি সেটার কি হবে আমার সেখানে পৌঁছাতে আট দিন সময় লাগবে আমি আমার রবের কাছে মিথ্যা কসমের জবাব দিতে পারবো না তোমরা আমার জন্য দোয়া করো মনে রেখো আমাদের প্রভু আমাদের কল্যাণ ব্যতীত আর কিছুই
করে না সেখান থেকে আমি ফিরে না আসলে ভেবে নিও এর মধ্যেই তোমাদের দুনিয়া আখিরাতের কল্যাণ আছে এবং আমারও আছে তারপর ব্যবসায় নিজের পরিবারের মানুষদের সাথে শেষ বিদায় নিয়ে চলে গেল আর ঠিক আট দিন পরে অর্থাৎ 40 দিনের মধ্যেই সেই কূপের কাছে উপস্থিত হলো আর সেই সময়টি ছিল সন্ধ্যার সময় আর ঠিক তখনই সে জিন উপস্থিত হলো আর সেই ব্যবসায়ী বলতে লাগলো দেখো আমি তোমার ওয়াদা মোতাবেক এখানে এসে উপস্থিত হয়েছি তোমাকে অনেক ধন্যবাদ যে তুমি আমাকে 40 দিন সময় দিয়েছিলে আর এই সময়ের মধ্যে আমি আমার আমানতকারীদের আমানত ফিরিয়ে দিয়েছি নিজের কন্যার বিবাহ দিয়েছি আর আমার আখিরাতের জন্য
সামানপত্র গুছিয়ে নিয়েছি সে ব্যবসায়ের মুখে নূর জলজল করছিল আর সে প্রশান্তিময় হাসি হাসছিল তারপর সেই জিন বলল নিশ্চয়ই তুমি তোমার প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ করেছো অথচ তুমি চাইলে তুমি তোমার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে পারতে কেননা আমাকে সেই ক্ষমতা দেয়া হয়নি যে আমি তোমার কোন মানুষের ক্ষতি করব আল্লাহর হুকুম ছাড়া আসলে আমি তোমাকে ভয় পায়ে দিয়েছিলাম আর তুমিও তা জানতে আর জেনে শুনেও তুমি কেন নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দিলে তখন সে ব্যবসায়ী বলল মৃত্যুকে এখন আমার আর ভয় হয় না জানো আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনদের জন্য মৃত্যুর খুব চমৎকার একটা বর্ণনা দিয়েছেন তিনি বলেছেন তুহফাতুল মুমিনুল মউত অর্থাৎ
মৃত্যু মুমিনের জন্য উপহারস্বরূপ আর আমি সেই উপহার তোমার কাছ থেকে নিতে এসেছি ব্যবসায়ী মুখের কথাগুলো শুনে জিন তার মুখের চেহারার ভঙ্গিমায় পাল্টে গেল সে বলল তোমাকে হত্যা করে আমার সন্তানের প্রতিশোধ নেওয়া আর হবে না বরং মনে হচ্ছে তোমাকে হত্যা করলে তুমি বড় পুরস্কার পেয়ে যাবে আমি তো তোমার থেকে প্রতিশোধ নিতে চাই তোমাকে খুশি করতে চাই না যে ঈমানদার আল্লাহ আল্লাহ পাকের এত রেজাবন্দি হাসিল করেছে যে সে নিজের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাইছে মৃত্যুকে উপহার মনে করে আর আমি তাকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য হত্যা করব তাও আবার তার কাঙ্খিত বস্তু পায়ে দিয়ে তা কি করে হতে পারে আর
প্রতিশোধে মৃত্যু তাকে বলে যার চেহারায় মৃত্যুর ভয় রয়েছে কিন্তু তোমার চেহারায় তো মৃত্যুর ভয় নেই বরং মৃত্যু আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তুমি তো মৃত্যুকে ভালোবাসছো তুমি অকুত ভয় তোমার হৃদয় ঈমান পরিপূর্ণ আর তুমি আল্লাহর একজন খালেস বান্দা তোমার জন্য মৃত্যু উপহার আমি মোটেই আমার সন্তানের প্রতিশোধ তোমাকে মারার মাধ্যমে পাবো না আর তাই যে রবের ইবাদত তুমি করো সে রবের ইবাদত আমিও করি আমার জন্য দোয়া করো যেন আমার সন্তান জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করে আর আমিও যেন পরকালে জান্নাতের অধিবাসী হতে পারি দুনিয়াতে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে চলতে পারি একথা শুনে ব্যবসায়ী অবাক হয়ে গেল এবং সাথে সাথে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত
করল এবং সেই জিনও মোনাজাত করল পাক্কা এক ঘন্টা তার আল্লাহ পাকের দরবারে মোনাজাতে নিজের গুনাহের জন্য মাফ চাইলো এবং সেই মৃত্যুবরণ করার সন্তানটির জন্য জান্নাত কামনা করলেন সুবহানাল্লাহ তো প্রিয় দর্শক এ ছিল আমাদের আজকের এই ঘটনা কেমন লাগলো কমেন্ট করে আমাদের অবশ্যই জানাবেন আজ তাহলে এই পর্যন্ত আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ