এটা হলো অ্যালকাট্রাস জেল মেইনল্যান্ড সান ফ্রান্সিস্কো থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের মধ্যে এই জেলটাকে তৈরি করা হয়েছিল যেটা পৃথিবীর সবথেকে ভয়ানক জেলগুলোর মধ্যে একটা আর এই জেলে সমস্ত কুখ্যাত আসামিদেরকে বন্দি করে রাখা হতো এমনকি এই জেল থেকে পালানো এক প্রকার অসম্ভব তবে সেদিন তারিখটা ছিল 12ই জুন 1962 প্রতিদিনের মতো এদিনও সকালবেলা অ্যালকাট্রাস জেলের গার্ডরা বন্দিদের গুনতে শুরু করে কিন্তু তারা লক্ষ্য করে সেখানে তিনজন বন্দি নেই সাথে সাথে গার্ডরা ওই তিনজন বন্দির সেলে যায় সেখানে গিয়ে তারা দেখে দেখতে পায় ওই তিনজন বন্দি তখনও ঘুমিয়ে আছে গার্ডরা তাদেরকে বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করে কিন্তু তারা কোন সাড়া দেয়
না এরপর গার্ডরা তাদের কাছে থাকা লাঠি দিয়ে ওই তিনজন বন্দির মাথায় খোঁচা মারে আর এর ফলে হঠাৎই সেই বন্দিদের মাথা ফেটে যায় আর সেগুলো মাটিতে গড়িয়ে পড়ে জেল অথরিটি বুঝতে আর বাকি থাকে না যে ওই তিনজন বন্দি তাদের বিছানায় নকল পুতুলের মাথা রেখে জেল থেকে পালিয়ে গেছে এই খবর পাওয়ার পরেই সম্পূর্ণ আইল্যান্ড জুড়ে একটা সার্চ অপারেশন শুরু করা হয় কিন্তু কোথাও তাদের কোন চিহ্ন পাওয়া যায় না ওই তিনজন বন্দি এক রাতে এর মধ্যে শুধুমাত্র অ্যালকাট্রাস জেল থেকে নয় বরং ওই সম্পূর্ণ আইল্যান্ড থেকে একেবারে ভ্যানিশ হয়ে গেছিল কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে কারণ এই জেলের বাইরে চারিদিকে
ছিল উত্তাল সমুদ্র ঠান্ডা জল এবং তার ভেতরে ভয়ানক হাঙ্গর মাছ এই কারণে এই ঘটনাকে বলা হয় আমেরিকা তথা সারা বিশ্বের সবথেকে রহস্যময় ঘটনাগুলোর মধ্যে একটা তবে পুলিশ যখন সেখানে সার্চ করছিল তখন জেলের একজন কয়েদি অ্যালন ওয়েস্ট পুলিশকে এসে জানায় যে সে জানে ওই বন্দিরা কখন এবং কিভাবে ওই জেল থেকে পালিয়েছে এমনকি সে এটাও জানে সেই হলো এই সম্পূর্ণ এস্কেপ প্ল্যানের মাস্টারমাইন্ড অর্থাৎ এই পুরো প্ল্যানিংটা সেই করেছিল আর তখনই একটা বড় প্রশ্ন আসবে তাহলে অ্যালন ওয়েস্ট নিজে কেন পালায়নি পুলিশ অ্যালন ওয়েস্ট এর কথামতো সেই জায়গাগুলোতে সার্চ করে যেখানে ওই তিনজনের যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু সেখানে গিয়েও
তারা তাকে খুঁজে পায় না আর শেষ পর্যন্ত এফবিআই ভাবে ওই তিনজন বন্দি জেল থেকে পালিয়েছে এটা তো ঠিকই কিন্তু তারা সমুদ্র পার করতে পারেনি সমুদ্রের ঠান্ডা কনকনে জলে তারা ডুবে মারা গেছে কিন্তু এখানে দুটো প্রশ্ন থেকে থেকে যায় এফবিআই কখনো ওই তিনজনের মধ্যে কারোর মৃতদেহ উদ্ধার করতে পারেনি এমনকি কোন জামাকাপড়ের টুকরো তারা উদ্ধার করতে পারেনি আর দ্বিতীয়টা হলো একটা চিঠি যখন এফবিআই এর কাছে ওই বন্দিদের মধ্যে একজন যার নাম ছিল জন অ্যাংলিন তার একটা লেটার এসেছিল যেখানে লেখা ছিল আমার নাম জন অ্যাংলিন আমি 1962 সালের জুন মাসে অ্যালকার্টটাস জেল থেকে পালিয়েছিলাম সেদিন রাতে আমরা জেল
থেকে তো পালিয়েছিলাম কিন্তু সেটা মোটেই সহজ ছিল না শুধুমাত্র এই চিঠি নয় অ্যাংলিন ফ্যামিলিও দাবি করে যে জন অ্যাংলিন এবং ক্ল্যানেস অ্যাংগলিনের সাথে তাদের কন্টাক্ট ছিল এমনকি তারা দুই ভাই তাদের বাবা-মায়ের ফিউনারেলের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিল অথচ 17 বছর ধরে ইনভেস্টিগেশন করার পরেও এফবিআই তাদের কোন অস্তিত্বই খুঁজে পায় না আর শেষ পর্যন্ত তারা এই কেসটাকে ক্লোজ করে দেয় আর আপনাদেরকে এটাও বলে রাখি আজ পর্যন্ত এই কেসটা আনসলভড রয়েছে এবার প্রশ্ন হচ্ছে ওই তিনজন বন্দি কিভাবে অ্যালকাট্রাস এর মত একটা হাই সিকিউরিটি জেল থেকে শুধু পালানোই নয় বরং 17 বছর ধরে এফবিআই এর মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ালো
এমনকি কিভাবে আজও তাদের কেউ কোন খোঁজ পাচ্ছে না তো বন্ধুরা আমি রয়েছি মিঠুন আপনাদের সাথে আজকের এই ভিডিওতে বিশ্বের সবথেকে রহস্যময় জেল পালানোর ঘটনা তুলে ধরবো যা আজ 60 বছর পরেও আমেরিকার ইতিহাসের সবথেকে সফল জেল পালানো ঘটনাগুলোর মধ্যে একটা আর সাথে এটাও বলব যে কেন অ্যালন ওয়েস্ট নামের সেই বন্দি নিজে ওই জেল থেকে পালায়নি সো আজকের এই ভিডিওটা খুবই ইন্টারেস্টিং হতে যাচ্ছে এবং খুবই থ্রিলিং হতে যাচ্ছে চলুন এবার আমরা কাহিনীর মূল পর্বে যাই [মিউজিক] প্রথমে আমরা বলবো সেই ব্যক্তির কথা যেই প্ল্যানের মাস্টারমাইন্ড বলে নিজেকে দাবি করছে অ্যালন ওয়েস্ট অ্যালন খুব কম বয়স থেকেই ক্রাইম ওয়ার্ল্ডের
সাথে জড়িয়ে পড়েছিল সে এত পরিমাণে ক্রাইম করেছিল যে সে তার জীবনে প্রায় 20 বারেরও বেশি অ্যারেস্ট হয়েছিল গাড়ি চুরির অভিযোগে তাকে প্রথমে অ্যাটলান্টা জেলে আর পরে ফ্লোরিডা জেলে রাখা হয়েছিল কিন্তু এই দুটো জেল থেকেই সে বারবার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল তাই শেষ পর্যন্ত তাকে অ্যালকাট্রাস জেলে শিফট করা হয় মানে আপনি ধরে নিতে পারেন সে সময় আমেরিকায় মনে করা হতো ওকে যদি অ্যালকাট্রাস জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাহলে সে ওই জেল থেকে কখনো চাইলেও পালাতে পারবে না এবার আমরা চলে আসি কাহিনীর সেকেন্ড ক্যারেক্টার ফ্র্যাঙ্ক মরিসের উপরে অনাথ ফ্রাঙ্ক 13 বছর বয়স থেকেই ডাকাতি করতে শুরু করে আর
এর জন্য তাকে প্রথমে ফ্লোরিডা জেলে রাখা হয়েছিল কিন্তু সেখান থেকেও সে বারবার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল আর তাকেও শেষ পর্যন্ত অ্যালকাট্রা জেলে শিফট করা হয় এবার চলে আসি কাহিনীর থার্ড এবং ফোর্থ ক্যারেক্টার জন অ্যাংলিন এবং ক্ল্যারেন্স অ্যাংলিনের ব্যাপারে এরা দুজনে কিন্তু দুই ভাই ছিল এরা মাত্র 14 বছর বয়স থেকেই ডাকাতি শুরু করে এবং কলম্বিয়ার ব্যাংক ডাকাতি করার অভিযোগে তাদেরকে প্রথমে ফ্লোরিডা আর পরে অ্যাটলান্টা জেলে নিয়ে আসা হয় আর সেখান থেকেও তারা বারবার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাই তাদেরকেও শেষ পর্যন্ত অ্যালকাট্রাস জেলে শিফট করা হয় এবার এই অ্যালকাট্রাস জেল সম্বন্ধে আপনাদেরকে একটু বলি অ্যালকাট্রা জেল ছিল
আমেরিকার মোস্ট সিকিউর প্রিজন এমনকি এই জেলটাকে স্কেপ প্রুফ জেল মানে এই জেল থেকে কেউ কখনো পালাতে পারে না এমন একটা উপাধিও দেওয়া হয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিস্কো থেকে 25 km দূরে প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে চারিদিকে সমুদ্রে ঘেরা প্রায় 22 একর একটা নির্জন আইল্যান্ডে এই জেলটা অবস্থিত আর এই পুরো জেলটা কিন্তু একটা গোটা পাথরের উপর তৈরি করা হয়েছে এই কারণে এটাকে তার রকও বলা হয় তবে এই জেলটাকে প্রথমে আমেরিকান মিলিটারি প্রিজন হিসেবে ব্যবহার করতো আর পরবর্তীকালে এফবিআই প্রিজন হিসেবে এটার ব্যবহার শুরু করে আর আমি এই যে বারবার করে বলছি এই জেলটা ভীষণই টাইট সিকিউরিটি তার একটা প্রধান কারণ
ছিল এই জেলে কয়েদিদের দিনে মোট 13 বার গুন্তি করা হতো এক ঘন্টা অন্তর গার্ড প্রতিটা সেলে এসে চেক করতো সেই সেলের কয়েদি সেই সেলে আছে কিনা জেলের বাইরেটা 25 ফুট লোহার জালি দিয়ে বেড়া দেওয়া ছিল তাছাড়া আইল্যান্ডে থাকা একটা টাওয়ার দিয়ে 24 ঘন্টা কয়েদিদের উপর নজর রাখা হতো এমনকি তাদেরকে স্ট্রিক্ট ইন্সট্রাকশনও দেওয়া হয়েছিল যদি কোন প্রিজনারকে তারা পালাতে দেখে তাহলে তারা যেন সেখানে তাদেরকে গুলি করে দেয় আর এত কিছুর পরেও এই করা নজরদারী পেরিয়ে কেউ যদি পালিয়ে যেত তার জন্য অপেক্ষা করতো সমুদ্রের ঠান্ডা জল এবং বিশাল বড় বড় ঢেউ যা পার করে ডাঙ্গায় বেঁচে ফিরে
যাওয়া এক প্রকার অসম্ভব তবে এত কিছুর পরেও এই জেল থেকে অনেক কয়েদি বারবার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল তবে তাদের মধ্যে ছজনকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছিল বাকি দুজন সমুদ্রে ডুবে মারা গিয়েছিল আর বাকিরা যারা পালানোর চেষ্টা করেছিল তারা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গিয়েছিল তো এইরকম একটা হাই সিকিউরিটি জেলে এই চারজন বন্দিকে যাদের কথা আমি একটু আগে আপনাদেরকে বলেছিলাম তাদেরকে নিয়ে আসা হয় তবে এই চারজনের মধ্যে কিছু কমন ব্যাপার ছিল প্রথম হচ্ছে এরা চারজনই ছোটবেলা থেকেই ক্রিমিনাল মাইন্ডেড ছিল দ্বিতীয় হলো এরা সকলেই যে সমস্ত জেলে এর আগে ছিল সেখান থেকে তারা বারবার পালানোর
চেষ্টা করেছিল এবং তারা বেশ কয়েকবার সফল হয়েছিল তিন এই চারজন অ্যালকাত্রাস জেলে আসার আগে একেবারে অপরকে চিনতো আর চার নম্বর আর সবথেকে মজার ব্যাপার ছিল যে তারা ছিল অত্যন্ত চালাক এবং তারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো বিষয়ে হাই স্কিলড ছিল যেমন ধরুন অ্যালন ওয়েস্ট সে মেকানিক্যাল কাজ করতে খুব ভালোবাসতো আর সে আগে থেকেই এই জেলের মধ্যে ছিল যার কারণে সেই জেলের ব্যাপারে খুঁটিনাটি সবকিছু জানতো অন্যদিকে জন এবং ক্লিয়ারনেস অ্যাংলিন ছিল হাই স্কিলড সুইমার তারা এতটাই ভালো সাঁতার কাটতো যে তারা ঠান্ডা বরফ জলেও খুবই সহজে সাঁতার কাটতে পারতো আর শেষ যে ব্যক্তি তিনি হলেন ফ্র্যাঙ্ক মরিস সে
এতটাই ইন্টেলিজেন্ট যে তার আই কিউ লেভেল ছিল 133 যেটা সাধারণ মানুষের বুদ্ধিমত্তার থেকে অনেকটাই বেশি আশা করি এই চারজনের ব্যাপারে আপনাদের মোটামুটি একটা ধারণা তৈরি হয়ে গেছে চলুন এবার দেখে নেই যে এই জেল পালানোর প্ল্যানিং তারা কিভাবে করেছিল অ্যালন ওয়েস্টের মতে এই জেল থেকে পালানোর প্ল্যানিং তারা ছ মাস ধরে করছিল যেহেতু এই চারজন আলাদা আলাদা সেলে থাকতো তাই শুধুমাত্র লাঞ্চ আর ডিনারের সময় সবাই যখন একসাথে জড়ো হতো ঠিক সেই সময় তারা এই প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করতো এবার এই জেলে যেহেতু আগে থেকেই অ্যালন ওয়েস্ট থাকতো তাই মেইনটেনেন্সের কাজ করার সময় সে লক্ষ্য করে যে জেলের বি
ব্লকের প্রত্যেকটা সেলের বেসিনের নিচে ভেন্টিলেশনের জন্য একটা ছয় ইঞ্চির এয়ার ভেন্ট বা ঘুলগুলি রয়েছে আর সেই ঘুলগুলিটা একটা মোটা জালি দিয়ে ঢাকা দেওয়া রয়েছে তারা ঠিক করে যে তারা জেল থেকে পালানোর জন্য ওই ঘুলগুলিটাকে ব্যবহার করবে কিন্তু এর জন্য তাদেরকে প্রথমে বি ব্লকে শিফট হতে হতো এবার তারা তাদের কাজে লেগে পড়ে তারা জেলের ওয়ার্ডেনকে নানাভাবে রাজি করি নেয় যাতে তাদেরকে বি ব্লকের সেলগুলোতে শিফট করে দেয় একবার বি ব্লকের জেলে শিফট হয়ে যাওয়ার পর থেকে তারা প্রতিদিন একটু একটু করে ওই এয়ার ভ্যানটাকে খুরে বড় করতে থাকে এই কাজের জন্য তারা জেলের রান্নাঘর থেকে একটা চামচ নিয়ে
এসেছিল কিন্তু চামচ দিয়ে কাজটা করতে অনেক দেরি হতো তখন ফ্রাঙ্ক মরিস জেলের ভ্যাকিউম ক্লিনারের মোটর দিয়ে একটা ড্রিল মেশিন বানিয়ে ফেলে এবার আপনার মনে প্রশ্ন আসবে যে চারজন কয়েদি জেলের মধ্যে বসে ড্রিল মেশিন চালাচ্ছে অথচ আশেপাশের কেউ কিছু টের পাচ্ছে না এটা কিভাবে সম্ভব আসলে জেলের প্রিজনারদের দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় মিউজিক শোনানো হতো যেটাকে তারা মিউজিক আওয়ার বলতো তো ড্রিল করার জন্য তারা এই সময়টাকে বেছে নিত যে সময় তারা ড্রিল করতো তখন তাদের মধ্যে একজন পাহারা দিত শুধুমাত্র তাই নয় তারা এই এয়ার ভেন্টের সামনে কাঠ আর কাগজ দিয়ে তৈরি একটা নকল দেওয়াল বানিয়ে রাখতো আর
মাঝে মাঝে সেখানে কোন মিউজিক ইন্সট্রুমেন্ট দিয়ে এই জায়গাটাকে ঢেকে রাখতো যাতে কেউ তাদেরকে সন্দেহ না করে তারা ওই দেওয়ালটাকে একটু একটু করে কেটে এতটা বড় করে যাতে খুব সহজেই একটা মানুষ এর ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে পারে এই যে সেলগুলোর কথা আমি বলছি এর দেওয়ালের ওপারে ছিল একটা অন্ধকার করিডর যেখানে মূলত মোটা মোটা পাইপলাইন ছিল তারা ওই এয়ার ভেন্টের পথ দিয়ে প্রথমে করিডরে আসতো আর করিডরের পাইপ বেয়ে তারা ছাদে উঠতো এবার সেলের বাইরে তো তারা খুব সহজেই চলে আসতে পারছিল কিন্তু তাদের সামনে সবচেয়ে বড় বিপদ ছিল তারা এই সমুদ্র কিভাবে পার করবে কারণ জেল থেকে পালিয়ে
তারা যদি এই দ্বীপের মধ্যেই গা ঢাকা দিতে চায় তাহলে পুলিশ তাদেরকে যেকোনো মুহূর্তে ধরে ফেলবে তাই তারা প্রথমে ছাদের উপর নিজেদের একটা ওয়ার্কশপ তৈরি করে প্ল্যান হয় তারা সমুদ্র পেরনোর জন্য ইনফ্লেটেবল বোটের সাহায্য নেবে আর তারা বোর্ড তৈরি করার জন্য রেইনকোট ব্যবহার করে আর আপনাদেরকে বলে দেই যে আমেরিকার জেলে রেইনকোট দেওয়া হতো তারা বিভিন্ন বাহানায় নিজেদের কাছে অনেকগুলো রেইনকোট রেখে দেয় এমনকি তারা বেশ কিছু রেইনকোট চুরিও করেছিল এরপর তারা ওই রেইনকোট গুলোকে একটার সাথে আরেকটা স্টিম পাইপ থেকে পাওয়া হিট আর সাবান থেকে পাওয়া লিকুইড প্লাস্টিকের সাহায্যে একসাথে জুড়ে একটা বোর্ড তৈরি করে এছাড়াও ওই রেইনকোট
গুলো দিয়ে তারা নিজেদের জন্য বেশ কয়েকটা লাইফ জ্যাকেটও তৈরি করে এমনকি কয়েকটা পাতলা কাঠ আর স্ক্রু দিয়ে তারা একটা প্যাডেল বানিয়ে ফেলে রেইনকোট দিয়ে যে বোর্ড তৈরি আইডিয়াটা এটা দিয়েছিল ফ্র্যাঙ্ক মরিস আর সে এই আইডিয়া পেয়েছিল পপুলার মেকানিক্স নামে একটা ম্যাগাজিন এর আর্টিকেল থেকে তবে ছাদে বসে এই যে বোর্ড তৈরি করার কাজটা এটা কিন্তু একদিনে সম্ভব ছিল না এর জন্য তাদেরকে প্রতিদিন ছাদে আসতে হতো এবার আপনাদের মনে একটা প্রশ্ন আসবে যে জেলে যেহেতু এক ঘন্টা অন্তর অন্তর গার্ডদের সেলে গিয়ে তাদের উপর নজরদারী করা হতো তাহলে তারা যখন ছাদে আসতো তখন তারা কেন ধরা পড়লো না
আসলে এই ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য তারা একটা প্ল্যান করেছিল তারা প্রতিদিন জেল থেকে পাওয়া সাবান টুথপেস্ট টয়লেট পেপার আর কংক্রিটের ধুলো দিয়ে একটা ডামি মাথা তৈরি করেছিল আর সেই মুন্ডুগুলোকে একেবারে রিয়ালিস্টিক বানানোর জন্য তারা সেগুলোর উপর কালার করে দেয় আর মাথায় আসল চুলও বসিয়ে দেয় জেলের অন্যান্য প্রিজনরা যখন তাদের চুল কাটাতো তখন তারা এই চুলগুলোকে কালেক্ট করে আনতো আর রাত হলে তারা বিছানায় বালিশ রেখে তার উপর বেডশিট চাপা দিয়ে দিত আর ঠিক ওপরের দিকে ওই মাথাগুলো রেখে দিত যাতে বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় আসলেই ওখানে কোন মানুষ ঘুমিয়ে আছে এবার তাদের যখন কাজ শেষ হয়ে
যায় তারা আবার ওই কাটা দেওয়াল দিয়ে সেলের ভেতরে ঢুকতো আর ভেতরে আসার পর ওই যে কাটা অংশটা তারা তৈরি করেছিল সেখানে কিছু পরিমাণ সিমেন্ট দিয়ে সেই জায়গাটা জোড়া লাগিয়ে দিত আর এরপরেই আসে সেই দিন 11ই জুন 1962 এই দিনটাকে তারা পালানোর জন্য আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল প্ল্যান মতো ওইদিন রাতের খাবার খাওয়ার পর তারা ওই এয়ার ভেন্টের উপর লাগানো কংক্রিটের পাতলা প্রোলেপ সরিয়ে করিডরে বেরিয়ে যায় কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অ্যালন ওয়েস্টের রুমে এয়ার ভেন্টে যে কংক্রিটের প্রলেপ লাগানো ছিল সেটা শক্ত হয়ে যায় যার কারণে অ্যালন সেটাকে আর ভাঙতে পারছিল না আর সে ওই ঘোলগুলির মাধ্যমে করিডরে পৌঁছাতে
পারেনি বাকি তিনজন ওই ঘোলগুলির মাধ্যমে করিডরে এসে পৌঁছায় আর তারা এলেনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে কিন্তু অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরেও সে যখন আসে না তখন শেষ পর্যন্ত তারা তাকে ছেড়ে কিচেনের 50 ফুট লম্বা পাইপ বেয়ে ছাদের উপরে থাকা তাদের সিক্রেট ওয়ার্কশপে যায় এরপর তারা কোন রকমে গার্ডের নজর এড়িয়ে 25 ফুটের লোহার বেড়া ডিঙিয়ে উত্তর দিকে যায় যেখান থেকে খুব সহজেই গার্ডদের চোখের আড়ালে যাওয়া যেত এরপর তারা তাদের হ্যান্ডমেড বোর্ডটাকে একটা মিউজিক ইন্সট্রুমেন্ট দিয়ে ফোলায় আর এই নৌকা করে তারা ওই দ্বীপ থেকে পালিয়ে যায় এদিকে অ্যালনোয়েস্ট যখন তার ঘুঘুলির কংক্রিট ভেঙে ছাদে পৌঁছায় সে দেখতে পায়
যে তার বন্ধুরা অলরেডি তাকে ছেড়ে চলে গেছে আর শেষ শেষ পর্যন্ত মন খারাপ করে তার ছেলে আবারো ফিরে আসে পরের দিন সকালে ওই তিনজন বন্দিকে না পেয়ে সারা জেলের ভেতরে হইচই বেঁধে যায় আর এফবিআই যখন অ্যালন ওয়েস্টের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চায় সে নিজে থেকেই তাদের প্ল্যানের সবটা বলে দেয় সে জানায় তাদের প্ল্যানিং ছিল ওই নৌকায় করে তারা নিয়ার বাই এঞ্জেল আইল্যান্ডে যাবে এবং সেখান থেকে তারা মেইনল্যান্ডের দিকে যাবে আর ডাঙ্গায় পৌঁছেই তারা একটা গাড়ি এবং কিছু কাপড়-চোপড় চুরি করে সেখান থেকে পালিয়ে যাবে এবার অ্যালন ওয়েস্টের কথা মতো এফবিআই এবং ইউএস মিলিটারি এঞ্জেল আইল্যান্ডের আশেপাশেও
তাদের সার্চ অপারেশন চালায় ওই ঘটনা ঘটনার দুদিন পর তারা এঞ্জেল আইল্যান্ডে একটা কাঠের তৈরি প্যাডেল আর কিছু প্লাস্টিকের থলি খুঁজে পায় এই থলির মধ্যে অ্যাংলিন ব্রাদার্সদের ফ্যামিলি ফটো আর কিছু পার্সোনাল জিনিসপত্র ছিল আর এইসব কিছু খুঁজে পাওয়া এটাই প্রমাণ করে যে অ্যালন ওয়েস্ট সত্যি কথা বলেছিল এছাড়া আশেপাশে খোঁজ চালিয়ে ওই তিনজনের বোট আর লাইফ জ্যাকেটের কিছু টুকরো তারা খুঁজে পায় এরপর তারা ওই এলাকায় একটা ডিপ সার্চ অপারেশন চালায় কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তারা ওই তিনজনের কোন চিহ্নও পায়নি এবার সাধারণত একজন মানুষ যদি সমুদ্রে ডুবে যায় তাহলে চার থেকে থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে তার মৃতদেহ সমুদ্রের
উপর ভেসে ওঠে বা কোন বিচে এসে পৌঁছায় সেখানেই তিনজনের কারোরই বডি কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি এফবিআই অ্যাংলিন ব্রাদার্সদের ফ্যামিলির উপর করা নজরদারী রেখেছিল কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি তারা তাদের পরিবারের সাথেও কোন রকম যোগাযোগ করেনি এমনকি গোটা সান ফ্রান্সিস্কো জুড়ে সব জায়গায় তাদের ছবি টানিয়ে দেওয়া হয় এবং আশেপাশের বেশ কয়েকটা শহরেও তাদের খোঁজ চালানো হয় কিন্তু কোথাও তাদের কোন টিকিটটাও খুঁজে পাচ্ছিল না এইভাবে দীর্ঘদিন ইনভেস্টিগেশন করার পর কোন এভিডেন্স না পাওয়ায় এফবিআই ঐরকম একটা টেম্পোরারি বোর্ড তৈরি করে আর তারা একটা টেস্ট রান করে তারা সমুদ্রের জলে বড় বড় ঢেভের মধ্যে ওই টেম্পোরারি বোট নিয়ে ডাঙ্গায়
যাওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু তারা দেখতে পায় ওই খারাপ আবহাওয়া কাটিয়ে ডাঙ্গায় পৌঁছানো এক প্রকার অসম্ভব আর শেষ পর্যন্ত তারা এই কনক্লুশনে আসে যে ওই তিনজন সমুদ্রে ডুবে মারা গেছে এবার এফবিআই এর কনক্লুশন যে কতটা ভুল তা মাত্র দুই বছরের মধ্যেই প্রমাণিত হয় যখন অ্যালকাট্রাস জেলের আরো একজন প্রিজনার যে রাবার গ্লাভস এর সাহায্যে কেবলমাত্র ওয়াটার উইংস বানিয়ে সাঁতার কেটে গোল্ডেন গেট ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছে গেছিল যেখানে তাকে অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় বেশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে আর সুস্থ হওয়ার পর তাকে পুনরায় অ্যারেস্ট করে নেওয়া হয় এবার যেখানে একজন সাধারণ মানুষ শুধুমাত্র সাঁতার কেটে গোল্ডেন গেট ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছে
গিয়েছিল সেখানে এই তিনজনের কাছে একটা টেম্পোরারি সুইমিং বোর্ড ছিল সাথে অ্যাংলিন ব্রাদার্স সুইমিং এ হাই স্কিলড ছিল আর এর সাথে সাথেই সময় যত এগোতে থাকে এই রহস্যের জট আরো পাকাতে থাকে কারণ অ্যাংলিন ফ্যামিলি দাবি করে জেল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাদের বাড়ির মেইল বক্সে জো এবং জেরি নামে দুজন লোক ক্রিসমাস কার্ড পাঠাতো এমনকি তার তারা তাদের মায়ের জন্য মাদারস ডেতে কার্ড পাঠাতো এবং এই কার্ড আসা ততদিন পর্যন্ত চলেছিল যতদিন তাদের মা বেঁচে ছিল আর এই কার্ডের উপর বড় বড় করে লেখা থাকতো টু মাই মাদারস ফ্রম জন আর পরবর্তীকালে ভেরিফিকেশনে এটাও দেখা গেছে এই কার্ডের
লেখা হ্যান্ডরাইটিং এর সাথে অ্যাংলিন ব্রাদার্সদের হ্যান্ডরাইটিং হুবহু মিলে যাচ্ছে তবে কোন রকম পোস্টকার্ড এই চিঠিগুলোতে থাকতো না এর ফলে চিঠিগুলো কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে সেটা জানা সম্ভব ছিল না এমনকি তাদের ফ্যামিলি এটাও জানায় যে তাদের মায়ের ফিউনারাল অনুষ্ঠানে দুজন লম্বা এবং অতিরিক্ত মেকআপ করা অদ্ভুত দেখতে মহিলা এসেছে যারা ওই অনুষ্ঠানের এক ধারে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কেঁদে কোথাও চলে যায় আর ওই দুজন মহিলাকে তারা তাদের বাবার ফিউনারেলেও পুনরায় দেখতে পেয়েছিল শুধুমাত্র তাই নয় জন এবং ক্লিয়ারেন্স অ্যাংগলিনের বড় ভাই রবার্ট মারা যাওয়ার ঠিক আগে তার বাকি ফ্যামিলি মেম্বারসদেরকে জানায় যে 1963 সাল থেকেই জন এবং ক্লিয়ারেন্স তার সাথে
কন্টাক্ট রেখেছিল শুধু তাই নয় তাদের একজন ফ্যামিলি ফ্রেন্ড ব্রিজ জানায় যে সে অ্যাংলিন ব্রাদার্সদের সাথে রিও ডি জেনারিও সিটিতে 1975 সালে দেখা করেছে আর এর প্রমাণ হিসেবে সে একটা ছবিও দেখায় যেখানে দুইজন ভাই কালো চশমা পড়ে তার সাথে দাঁড়িয়ে আছে এবার এই ছবিটাকে যখন মডার্ন টাইমসে এআই দিয়ে টেস্ট করা হয় তখন দেখা যায় যে এই ছবিটা অ্যাংলিন ভাইদেরই ছিল এমনকি ফার্ড মরিস নামে একজন লোক জানায় যে পালিয়ে যাওয়ার কিছুদিন পরেই সে তার কাজিন ফ্রাঙ্ক মরিসের সাথে সান ডিয়াগোতে একটা পার্কে দেখা করেছিল এমনকি শুধুমাত্র সে না তার মেয়েও ফ্রাঙ্ক মরিসের সাথে দেখা করেছিল 1993 সালে অ্যালকাত্রাস
জেলে একজন প্রিজনার মৃত্যুর আগে তার নার্সকে বলে যে 11ই জুনের রাত্রিতে তার কথা তার পার্টনার ওই তিনজন বন্দিকে একটা নৌকা করে জেল থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন সান ফ্রান্সিস্কোর একজন পুলিশ অফিসার জানায় যে সে ওইদিন রাত্রিবেলায় অ্যালকাত্রা জেলের কাছে একটা অচেনা নৌকাকে সমুদ্রে ভেসে থাকতে দেখেছিল যেটা মেইনল্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল কিন্তু তার কথায় এফবিআই কোন রকম পাত্তা দেয়নি আর এই ঘটনার সবশেষে যে টুইস্টটা আসে সেটা প্রায় 60 বছর পর 2018 সালে হয়েছে যখন সান ফ্রান্সিস্কোর পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কাছে একটা চিঠি আসে যেখানে যিনি চিঠি লিখেছেন তার দাবি সেই হলো জন অ্যাংলিন যে তার ভাই ক্লেনেস অ্যাংলিন এবং
ফ্রাঙ্ক মরিসের সাথে 1962 সালে কোন রকমে অ্যালকাট্রাস জেল থেকে পালিয়ে এসেছিল সে আরো জানায় যে ফ্রাঙ্ক 2018 তে মারা গেছে আর তাকে অন্য একটা নামে অ্যালকান্ড্রিয়াতে সমাধি দেওয়া হয়েছে এবং ক্লিয়ারেন্স 2011 সালে মারা গেছে সে এতদিন পরে এই চিঠিটা এই কারণেই লিখছে কারণ তার ক্যান্সার হয়েছে এবং তার কিছু টাকার দরকার যদি সরকার প্রতিশ্রুতি দেয় যে তার চিকিৎসার জন্য সমস্ত দায়িত্ব সরকার নেবে তাহলে সে ওই দিনের সমস্ত ঘটনা সরকারকে জানাবে এবং সে নিজে সারেন্ডার করবে কিন্তু এফবিআই জানায় যে এটা একটা ভুয়ো চিঠি ছিল আর 2018 থেকে আজও পর্যন্ত এই কেসটা আনসলভড থেকে গেছে আচ্ছা আপনার কি
মনে হয় সেদিন কি ওই তিনজন জেল থেকে পালাতে পেরেছিল নাকি তারা সমুদ্রে কোন হাঙ্গর মাছের শিকার হয়েছিল আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানান আর এই ধরনের ভিডিও যদি আপনি আরো দেখতে চান কমেন্ট করে সেটাও জানান আর সিআইএ কিভাবে লাদেনকে হত্যা করেছিল সেই বিষয়ে যদি আপনি জানতে চান তাহলে এই ভিডিওটা দেখুন তো দেখা হবে পরের ভিডিওতে ততদিন ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আর আমি ছিলাম মিঠুন আপনাদের সাথে [মিউজিক]