কি লুকিয়ে আছে গ্রীনল্যান্ডের নিচে? যার জন্য আমেরিকা আজ ন্যাটোর সাথেও যুদ্ধ করতে পিচ পা হচ্ছে না। সাল 1941 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সয়ে সয়ে আমেরিকান সৈন্য গ্রীনল্যান্ডে আসে। আর তারা এখানে একের পর এক মিলিটারি বেস তৈরি করে। সেদিন আমেরিকার লক্ষ্য ছিল যে করেই হোক এই ভূখন্ডকে হিটলারের হাত থেকে রক্ষা করা। কিন্তু আজ 2026 সেই আমেরিকারই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক হুমকি দিচ্ছেন যে তিনি গ্রীনল্যান্ডকে দখল করে নেবেন আর এর জন্য তিনি যুদ্ধ করতেও রাজি আছেন প্রশ্ন হচ্ছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে শান্তির দূত বলেন তিনি আজ কেন যুদ্ধ চাইছেন আজকের দিনে আমেরিকা ঠিক কি কারণে
গ্রীনল্যান্ড দখল করতে চাইছে আর এই যে ট্রাম্প বলছেন যে তিনি গ্রীনল্যান্ডকে রাশিয়া বা চীনের হাতে যেতে দেবেন না তার কারণ কি কেন বরফে ঢাকা একটা ভূখণ্ড যেখানে না তো কোন বড় শহর রয়েছে না মানুষের বসবাসের যোগ্য সেই জায়গাটা নিয়ে আজ একটা কোল্ড ওয়ার শুরু হয়েছে। অন্যদিকে আবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি শুনে ডেনমার্কের প্রাইম মিনিস্টার বলছেন তারা তাদের মিলিটারিকে আমেরিকান সৈন্যের উপরে ওপেন শুট করার অর্ডার দিয়েছে। এখানেও একটা প্রশ্ন আসে যে গ্রীনল্যান্ডকে প্রটেক্ট করার জন্য কেন ডেনমার্ক এগিয়ে আসছে? আমেরিকা আর ডেনমার্ক দুটোই ন্যাটো কান্ট্রি। এই দুটো দেশ যদি নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ কি
হবে? এবার কি তাহলে ইউরোপের সমস্ত দেশ মিলে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে? আজকের এই ভিডিওটা জিওপলিটিক্সের এঙ্গেল থেকে ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ। তো আমি রয়েছি মিঠুন আপনার সাথে। আমি আপনাদের এই পুরো বিষয়টা একেবারে ক্রিস্টাল ক্লিয়ার করে বুঝিয়ে দেব। তাই অবশ্যই ভিডিওটা একেবারে শেষ পর্যন্ত দেখুন। আর হ্যাঁ ভিডিও শুরুর আগে কিন্তু অবশ্যই একটা করে লাইক করে দিন। আর ভিডিওর মধ্যে একটা ছোট্ট প্রমোশন পার্ট রয়েছে। আর আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট করবো এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করবেন না। আমেরিকা আজকের দিনে কেন গ্রীনল্যান্ড দখল করতে চাইছে এটা জানতে গেলে আমাদেরকে গ্রীনল্যান্ডের লোকেশনটা একটু ভালোভাবে বুঝতে হবে। আমরা যখন পৃথিবীর ম্যাপ দেখি তখন কিন্তু
দেশ বা মহাদেশগুলোর আসল সাইজ আমরা দেখতে পাই না। বলতে পারেন এই ম্যাপগুলো অনেকটা ডিস্টর্টেড বা ভ্রান্ত। এই যে ম্যাপের উপরের দিকে বিশাল দ্বীপটাকে দেখতে পাচ্ছেন এটা গ্রীনল্যান্ড। কিন্তু ম্যাপে এটাকে যতটা বড় দেখাচ্ছে এটা ততটাও বড় নয়। এটা হলো আমাদের ভারতবর্ষের তুলনায় গ্রীনল্যান্ডের একচুয়াল সাইজ। তো গ্রীনল্যান্ডের লোকেশনটা দেখুন ম্যাপের একেবারে উপরের দিকে রয়েছে। অর্থাৎ উত্তর মেরুর কাছে। উত্তর মেরু এমন একটা জায়গা যেখানে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে। যে কারণে এখানে প্রচুর ঠান্ডা থাকে। আর বলতে পারেন কয়েক লক্ষ বা কয়েক কোটি বছর ধরে এই উত্তর মেরুর সাগর সহ গ্রীনল্যান্ড মোটা বরফের চাদরে ঢাকা রয়েছে। এবার প্রশ্ন আসতে পারে
যে গ্রীনল্যান্ডের এই বরফ কতটা মোটা রয়েছে। তো এই যে বরফ দেখতে পাচ্ছেন এটা কিছু কিছু জায়গায় দু থেকে তিন কিলোমিটার পুরু। আর একটা এস্টিমেট অনুযায়ী এখানে প্রায় 21 লক্ষ কিউবিক কিলোমিটার বরফ রয়েছে। আর এই বিশাল পরিমাণ বরফের চাপে দ্বীপটার মাটি সমুদ্রতলের থেকেও নিচে নেমে গেছে। আর এই বরফের নিচেই এমন কিছু রয়েছে যার জন্য আমেরিকা ন্যাটোর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করতে রাজি আছে। আর সেই বিষয়ে আমরা একটু পরেই আলোচনা করব। তো এই অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণেই কখনোই গ্রীনল্যান্ড জুড়ে খুব বেশি ঘন জনবসতি গড়ে উঠতে পারেনি। আজ এই দ্বীপ যেটার আয়তন প্রায় অর্ধেক ইউরোপের সমান এখানে মাত্র 56 হাজার মানুষ
বসবাস করে। কিভাবে গ্রীনল্যান্ড ডেনমার্কের পার্ট হলো সেটাও আমি শর্টে বলে দিচ্ছি। আপনি কখনো ভাইকিংসদের নাম শুনেছেন? যারা ইউরোপের এক দুর্ধর্শ যোদ্ধা। সেই ভাইকিংসরাই প্রথমবার 1000 খ্রিস্টাব্দের দিকে গ্রীনল্যান্ড আবিষ্কার করে। আর তারাই এখানে প্রথমবার বসতি শুরু করেছিল। ভাইকিংসরা আসলে ডেনমার্কের জনগণ অর্থাৎ ডেনিসদের পূর্বপুরুষ। আর তারা এখানে প্রায় সাড়েশ বছর ছিল। তবে ধীরে ধীরে এখানকার আবহাওয়ার কারণে অনেকেই মারা যায় এবং তারা একটা সময় এই জায়গাটা ছেড়ে চলে যায়। ভাইকিংসরা চলে যেতেই 1450 খ্রিস্টাব্দ থেকে এখানে ইনুইডসরা বসতি শুরু করে। আর আজকের দিনেও এখানের প্রধান জনবসতি কিন্তু এই ইউনিইডসদেরই রয়েছে। আর 1500 1600 শতকের দিকে যখন ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলো
সারা বিশ্বজুড়ে কলোনি বানাচ্ছিল তখন 1721 সালে ডেনমার্ক আবারো গ্রীনল্যান্ড দখল করে নেয়। আর সেই 1721 থেকে আজ 2026 পর্যন্ত গ্রীনল্যান্ড ডেনমার্কেরই পার্ট রয়েছে। তবে ব্রিটিশরা যেমন আমাদের উপর অত্যাচার করেছিল তেমন ডেনিশরাও এই গ্রীনল্যান্ডের ইউনিটসদের উপর অনেক অত্যাচার করেছে। এখানের বাচ্চাদের তারা ডেনমার্কে ধরে নিয়ে যেত শিক্ষা দেওয়ার নাম করে। এখানের মহিলারা যাতে বাচ্চার জন্ম দিতে না পারে জোরপূর্বক বহু মহিলাকে জন্ম নিয়ন্ত্রণের অপারেশন করানো হয়েছিল। যে ইতিহাস আজও গ্রীনল্যান্ডের মানুষ ভুলতে পারেনি। তবে 1979 সালে ডেনমার্ক গ্রীনল্যান্ডকে অটোনমি দিয়েছে। মানে আজকের দিনে গ্রীনল্যান্ডের নিজস্ব একটা পার্লামেন্ট রয়েছে। তাদের নিজস্ব প্রাইম মিনিস্টার আছে। তবে বিদেশীতি এবং সিকিউরিটি এই দুটোই
ডেনমার্ক কন্ট্রোল করে। এমনকি এখানে সংবিধানে এমন একটা নিয়ম রয়েছে যে যদি ভবিষ্যতে গ্রীনল্যান্ড ডেনমার্ক থেকে আলাদা হতে চায় তাহলে তারা যেকোনো সময় একটা ভোট করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এবং ডেনমার্কের পার্লামেন্টে একটা বিল পাশ করতে হবে। তাহলেই গ্রীনল্যান্ড একটা স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি পাবে। তো এবার স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে যে তাহলে গ্রীনল্যান্ডের জনগণ কেন ডেনমার্ক থেকে আলাদা হচ্ছে না? কেন তারা স্বাধীনতা নিচ্ছে না? তো রিসেন্টলি ডবলিউপিএল শুরু হয়ে গেছে। আর এই বছরে ডব্লিউপিএল ভীষণই ক্রেজি। এই পুরো টুর্নামেন্টটাকে খুব ভালোভাবে ফলো করা হচ্ছে। আর সত্যি বলতে দর্শক হয়ে থাকতে আমার কিন্তু শুধু ভালো লাগে না। মাঠে যা হচ্ছে তার
সাথে নিজেকে কানেক্ট করতেই আমার বেশি ভালো লাগে। তাহলে আপনিও জানতে চান কিভাবে? উত্তরটা পাবেন কমেন্টের লিংকে। ওখানে আপনার জন্য এমন কিছু অপেক্ষা করছে যেটা আপনি একদমই আশা করছেন না। আর বিশ্বাস করুন পুরো এক্সপেরিমেন্টটা ভীষণই ইন্টারেস্টিং। আর হ্যাঁ আমাদের সেই বিখ্যাত ব্ল্যাক এন্ড ইয়েলো বন্ধুদের জন্য একটা শাউটআউট যাদের পুরো ভারতই চেনে আর ভালোবাসে। এমনকি ডেভিড ওয়ার্নারও এখন তাদের বড় পরিবারের অংশ। তাই আপনিও যদি ক্রিকেট লাভার হন তাহলে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন কোথায় তাকাতে হবে। আচ্ছা মূলত ডবউপিএল ডেভিড ওয়ার্নার কোন টিমকে সাপোর্ট করছে। আবারো বলছি আপনি যদি ম্যাচের অ্যাকশনের খুব কাছাকাছি থাকতে চান তাহলে আমাদের পিন করা কমেন্টে
অবশ্যই চেক করুন। ওখানে আপনাদের জন্য কিছু এক্সট্রা অপেক্ষা করছে। চলুন এবার সেটাও এক্সপ্লেইন করছি। আগেই আপনাদেরকে বলেছি যে গ্রীনল্যান্ড মূলত বরফের চাদরে ঢাকা। আর এখানের ওয়েদার এতটাই হার্স যে খুব বেশি জনসংখ্যা এখানে নেই। শুধুমাত্র কোস্টাল এরিয়া যেখানে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম সেখানে দুই একটা ছোট ছোট শহর গড়ে উঠেছে। আর এই কারণে এখানকার ইকোনমিক কন্ডিশন খুব একটা ভালো নয়। জানলে অবাক হবেন এখানে শহরগুলোর মধ্যে কোন প্রপার রোড নেই। যাতায়াতের একমাত্র উপায় হলো প্লেন বা জাহাজ। নয়তো ব্যবহার করতে হয় কুকুরে টানা স্লেজ গাড়ি। এই কারণে ডেনমার্ক গ্রীনল্যান্ডকে হিউজ পরিমাণে আর্থিক সহায়তা করে। প্রতিবছর ডেনমার্ক গ্রীনল্যান্ডকে 500 মিলিয়ন ডলার
বাজেট দেয়। যেটা গ্রীনল্যান্ডের মোট বাজেটের 20 শতাংশ ঘাটতি পূরণ করে। হঠাৎ করে ডেনমার্ক থেকে যদি তারা স্বাধীন হয়ে যায় তাহলে এই আর্থিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়াও ডেনমার্ক নেটো কান্ট্রি। তাই ডেনমার্কের সুরক্ষা গ্রীনল্যান্ডও পায়। আর বলে দেই যুদ্ধ করে আমেরিকার পক্ষে গ্রীনল্যান্ড দখল করা মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যাপার। কারণ এখানে রয়েছে মাত্র কয়েকশো সৈন্য, চারটে হেলিকপ্টার, চারটে পেট্রোলিং শিপ আর ছটা কুকুরে টানা স্লেজ গাড়ি। এগুলো ছাড়া গ্রীনল্যান্ডের সিকিউরিটির জন্য আর কিছুই নেই। সাথে এটাও বলে দেই যে আজকের দিনে আমেরিকা চাইলে গ্রীনল্যান্ডে যা খুশি তাই করতে পারে। আর এই জিনিসটার পারমিশনও একটা সময় ডেনমার্কই আমেরিকাকে দিয়েছিল। এই
যে ডোনাল্ড ট্রাম্প আজকের দিনে গ্রীনল্যান্ড দখল করতে চাইছে এটা কিন্তু প্রথম নয়। বিগত প্রায় 200 বছর ধরে আমেরিকা গ্রীনল্যান্ডকে কবজা করতে চাইছে। দেখুন এর আগে আমি অনেক ভিডিওতে বলেছি যে আজকের দিনে আমরা যে বিশাল আমেরিকাকে দেখতে পাই এটা কিন্তু শুরু থেকে এতটা বিশাল ছিল না। পরবর্তীকালে বিভিন্নভাবে কখনো যুদ্ধ করে কখনো টাকা দিয়ে জমি কিনে তারা নিজেদের এলাকা বৃদ্ধি করেছে। যেমন ধরুন আলাস্কা এই বিশাল এলাকাটা আমেরিকা রাশিয়ার থেকে কিনেছিল। এটা নিয়ে আমাদের চ্যানেলে একটা ডেডিকেটেড ভিডিও আছে। চাইলে আপনি দেখতে পারেন। লিংক আমি ডেসক্রিপশন বক্সে দিয়ে দিচ্ছি। তো আমেরিকার তৎকালীন সেক্রেটারি অফ স্টেট মানে বলতে পারেন বিদেশমন্ত্রী
উইলিয়াম হেনরি সিওয়ার্ড যিনি আলাস্কা কেনার সময় রাশিয়ার সাথে ডিল করেছিলেন। তিনি 1868 সালে ডেনমার্কের সাথে একটা নেগোসিয়েশন শুরু করেছিলেন গ্রীনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ড কেনার জন্য। কারণ সে সময় ব্রিটেন আর আমেরিকার সম্পর্ক ভালো ছিল না। আর কানাডা ছিল ব্রিটেনের দখলে। তো আমেরিকা চেয়েছিল কানাডার দুদিক থেকে মানে আলাস্কা আর গ্রীনল্যান্ড থেকে তারা কানাডার উপর চাপ দেবে যাতে কানাডাও একটা সময় আমেরিকার সাথে যুক্ত হয়ে যায়। এমনকি সে সময় আমেরিকার খুব কাছেই ক্যারিবিয়ান সাগরেও ডেনমার্কের একটা দ্বীপ ছিল যার নাম ড্যানিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেটাও আমেরিকা ডেনমার্কের থেকে কিনতে চায়। কিন্তু আমেরিকার পার্লামেন্টে যখন সিওয়ার্ড এই প্রস্তাব আনেন তখন আমেরিকার পার্লামেন্ট কংগ্রেস
সেটা রিজেক্ট করে দেয়। কারণ আমেরিকা মাত্র কিছু বছর আগেই আলাস্কা কিনেছিল। আর আলাস্কাতে তখনো তারা তেল বা সোনার খনি খুঁজে পায়নি। ফলে আমেরিকার পলিসি মেকারদের মনে হচ্ছিল যে আমেরিকা হয়তো আলাস্কা কিনে ভুল করেছে। আর তাদের নতুন কোন টেরিটরি দরকার নেই। কিন্তু আবার 1916 সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই ডেনমার্ক আমেরিকাকে একটা প্রস্তাব দেয়। তারা আমেরিকার কাছে ডেনিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ মানে যেটা ক্যারিবিয়ান সাগরে রয়েছে সেটা বিক্রি করতে চায়। আর এর বদলে তারা আমেরিকার থেকে লিখিয়ে নেয় যে গ্রীনল্যান্ড ডেনমার্কের পার্ট। আর বলে দেই সেই ডেনিস ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আজকের দিনে বলা হয় ভার্জিন আইল্যান্ড। আর আমেরিকা শুধুমাত্র ডেনমার্ককে রেকগনাইজই করেনি।
বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ডেনমার্ক দখল করে নিয়েছিল। তখন গ্রীনল্যান্ডকে বাঁচানোর জন্য আমেরিকা গ্রীনল্যান্ডে তাদের সৈন্য পাঠিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই গ্রীনল্যান্ডের গুরুত্ব আমেরিকার কাছে অপরিসীম হয়ে যায়। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে শুরু হয়েছিল কোল্ড ওয়ার। এই সময় গোটা পৃথিবী এক প্রকার দু'ভাগে ভাগ হয়ে যায়। আমেরিকা আর সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে শুরু হয় ক্ষমতার লড়াই। আর এখানে গ্রীনল্যান্ড একটা মেজর ভূমিকা পালন করেছিল। এবার এই আর্কটিকের ম্যাপটাকে দেখুন। এটা হলো সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর এটা হল আমেরিকা এবং এটা ইউরোপ। কোল্ড ওয়ারের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের সমস্ত শক্তিশালী নৌবাহিনী এই উত্তর-েরুর দিকেই তৈরি করেছিল। যাতে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে তারা
খুব সহজেই আমেরিকা বা ইউরোপের উপর হামলা করতে পারে। আর এখান থেকে তারা খুব সহজেই সাবমেরিন বা জাহাজও আমেরিকার দিকে পাঠাতে পারে। আর এই গ্রীনল্যান্ড ছিল আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মিডেল পয়েন্ট। তাই আমেরিকা চাইছিল যদি তারা গ্রীনল্যান্ড দখল করতে পারে তাহলে তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তর দিক থেকে আসা যেকোনো মিসাইলকে ডিটেক্ট করতে পারবে। এমনকি খুব সহজেই তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর পারমাণবিক হামলাও করতে পারবে। এককথায় আমেরিকা গ্রীনল্যান্ডে একটা মিলিটারি বেস তৈরি করতে চেয়েছিল। আর ঠিক এই কারণেই 1946 সালে আমেরিকা ডেনমার্ককে 100 মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে গ্রীনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল। যার বর্তমান ভ্যালু আজকের দিনে এক থেকে দুই বিলিয়ন ডলার।
কিন্তু ডেনমার্ক সে সময় রাজি হয়নি। তবে তারা সে সময় আমেরিকার সাথে একটা চুক্তি করেছিল। এই চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকা গ্রীনল্যান্ডে চাইলে নিজেদের মিলিটারি বেস বানাতে পারবে। তারা চাইলে এখানে মাইনিং করতে পারবে। শহর বানাতে পারবে। শুধুমাত্র তাদেরকে একটু ভদ্র ভাষায় অফিশিয়ালি রিকোয়েস্ট করতে হবে। এই চুক্তির পরেই 1951 সালে আমেরিকা গ্রীনল্যান্ডে একটা বিশাল বড় এয়ারফোর্স বেস তৈরি করেছিল। যার নাম হলো টুলি এয়ারফোর্স বেস। আর কোল্ডওয়ার দিনের পর দিন যত এগোতে থাকে আমেরিকার অ্যাক্টিভিটি গ্রীনল্যান্ডে ততই বাড়তে থাকে। কিন্তু 1990 সালে যখন কোল্ডওয়ার শেষ হয়ে যায় তখন গ্রীনল্যান্ড নিয়ে আমেরিকার উৎসাহ অনেকটাই কমে যায়। কারণ সোভিয়েত ইউনিয়ন ততদিনে ভেঙে গিয়েছিল।
রাশিয়াও তখন অনেক দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। ফান্ডিং এর অভাবে মেরু অঞ্চলে রাশিয়ার যে নৌঘাটি গুলো ছিল সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। চীনও সে সময় এতটা শক্তিশালী ছিল না যতটা আজকের দিনে রয়েছে। মানে বলতে পারেন আমেরিকার সামনে সে সময় তেমন কোন চ্যালেঞ্জ ছিল না। ফলে আমেরিকাও গ্রীনল্যান্ডে মিলিটারি অক্টিভিটি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। কিন্তু 2014 সালেই এমন কিছু হয় যার জন্য আমেরিকা আবারো গ্রীনল্যান্ড কিনতে মরিয়া হয়ে ওঠে। 2014 সালের ভেতরে রাশিয়া আবারো বেশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর তারা ক্রিমিয়া দখল করে নেয়। এমনকি মেরু অঞ্চলে রাশিয়ার সবথেকে বড় নৌঘাটিকে রাশিয়া আবারও চালু করে। আর রিসেন্টলি 2022 সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর বলতে
পারেন আমেরিকা আর কোনরকম রিস্ক নিতে চাইছে না। তারা এবার রাশিয়াকে থ্রেড হিসেবে দেখছে। আর চীনকেও তারা এই লিস্ট থেকে বাদ দিতে পারছে না। চলুন এবার দেখে নেই যে আমেরিকার সামনে ঠিক কি কি সিকিউরিটি থ্রেট রয়েছে। এই ম্যাপটাকে এবার দেখুন। এখানে আছে গ্রীনল্যান্ড, এখানে আইসল্যান্ড আর এটা হলো ব্রিটেন। উত্তর রাশিয়া থেকে যেকোন রাশিয়ান সাবমেরিন বা যুদ্ধজাহাজকে আটলান্টিক বা আমেরিকার দিকে আসতে হলে তাদেরকে এই প্যাসেজটা থেকেই আসতে হয়। আর এটাকে বলা হয় জিআই ইইউকে প্যাসেজ। আর আমেরিকা গ্রীনল্যান্ডকে দখল করে এই প্যাসেজের পুরো কন্ট্রোল নিতে চায়। অন্যদিকে চীন রিসেন্টলি গ্রীনল্যান্ডে একটা এয়ারপোর্ট তৈরির কন্ট্রাক্ট নিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার প্রেসারে
গ্রীনল্যান্ড সেই ডিল বাতিল করে দেয়। এখান থেকে আমেরিকার কাছে পরিষ্কার যে রাশিয়ার পাশাপাশি চীনও গ্রীনল্যান্ডে নিজেদের প্রেজেন্স বাড়াতে চাইছে। আর এটাকেও আমেরিকা একটা সিকিউরিটি থ্রেড হিসেবে দেখছে। এবার আপনারা জানবেন আমরা এই যে ইন্টারনেট ব্যবহার করি সেই ইন্টারনেটের যে কেবলগুলো সেগুলো সমুদ্রের তলদেশ থেকে একটা মহাদেশকে অন্য মহাদেশের সাথে কানেক্ট করে। আর গ্রীনল্যান্ডের পাশ থেকেই বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কেবল পাস হয়েছে। আর ভবিষ্যতে রাশিয়া চাইলে এই কেবলগুলোকে সাপোর্টেজ করতে পারে এবং আমেরিকার সাথে ইউরোপের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। এবার দেখুন এই সমস্ত রিজনগুলো তো আমেরিকা দিচ্ছে। কিন্তু গ্রীনল্যান্ড দখলের পেছনে তাদের বেশ কিছু হিডেন এজেন্ডাও রয়েছে। ঠিক
যেমনটা ভেনেজুয়েলা দখলের আগে ট্রাম্প বলেছিল। ভেনিজুয়েলা থেকে আমেরিকায় ড্রাগ সাপ্লাই হয় কিন্তু আদতে ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার তেলকে কন্ট্রোল করা। তেমনি গ্রীনল্যান্ডের এই মোটা বরফের চাদরের নিচে আছে চার থেকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদ। একটা এস্টিমেট অনুযায়ী গ্রীনল্যান্ডে প্রায় 52 বিলিয়ন ব্যারেল অয়েল রয়েছে। এছাড়াও আছে প্রচুর পরিমাণে রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস। আমার এই ভিডিওটা আমি বলেছিলাম যে আজকের দিনে বিশ্বের প্রায় 90 শতাংশ রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস চীন প্রডিউস করে। আর আমেরিকা চীনের এই মনোপলি ভাঙতে চায়। এছাড়া পৃথিবীর তাপমাত্রা যত বাড়ছে ততই মেরুর বরফও গলছে। আর মেরুতে তৈরি হচ্ছে নতুন সমুদ্রপথ। যা সহজেই ইউরোপ এবং এশিয়াকে কানেক্ট করবে।
আর আমেরিকা গ্রীনল্যান্ড দখল করে এই ট্রেড রুট কেও কন্ট্রোল করতে চায়। এবার প্রশ্ন হচ্ছে আমেরিকা ঠিক কিভাবে গ্রীনল্যান্ডকে দখল করতে চায়? রিসেন্টলি যখন ট্রাম্পকে এই প্রশ্নটা করা হয়েছিল তখন ট্রাম্প বলেন আমাদের সামনে সব অপশনই রয়েছে। আর এক্সপার্টরা মনে করছে যে ট্রাম্প প্রথমে ডেনমার্কের কাছে গ্রীনল্যান্ডকে কেনার প্রস্তাব দেবে। আর এর জন্য গ্রীনল্যান্ডের জনগণ পিছু এক মিলিয়ন ডলার করেও যদি ধরা হয় তাহলে 56 বিলিয়ন ডলার হবে। কিন্তু ডেনমার্কের তরফ থেকে যা রিয়াকশন আসছে তাতে পরিষ্কার যে ডেনমার্ক কোনভাবেই গ্রীনল্যান্ডকে বিক্রি করতে চাইছে না। এখানেও বুঝতে হবে যে গ্রীনল্যান্ডের জনগণ আসলে কি চাইছে সেটাও কিন্তু ম্যাটার করে। আমেরিকার কাছে
দ্বিতীয় অপশনটা হলো যুদ্ধ করা। এবার যুদ্ধ করলে আমেরিকা মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই গ্রীনল্যান্ড দখল করে নিতে পারবে। কিন্তু সমস্যা হলো ন্যাটো। আমেরিকা আর ডেনমার্ক দুটোই ন্যাটো কান্ট্রি। আর ডেনমার্ক জানিয়েছে আমেরিকা যদি গ্রীনল্যান্ডে হামলা করে তাহলে ডেনমার্ক ন্যাটোর আর্টিকেল ফাইভ অ্যাক্টিভেট করে দেবে। অর্থাৎ ন্যাটোর সব দেশ একসাথে আমেরিকার উপরে হামলা করবে। তবে আদৌ ন্যাটো কান্ট্রিগুলো আমেরিকার বিপক্ষে যাবে কিনা সেটা কিন্তু একটা বড় প্রশ্ন। কারণ আমেরিকার সাথে যদি ন্যাটোর যুদ্ধ হয় তাহলে সেটাই হবে পৃথিবীর শেষ যুদ্ধ। আবার অতীতে দেখা গেছে যখন এই দুটো নেটো দেশের মধ্যে কোন বিবাদ হয় এবং একে অপরের সাথে তারা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে
তখন বাকি ন্যাটো দেশগুলো একেবারে চুপচাপ থাকে বা তারা সমজোতা করার চেষ্টা করে। তবে আমার ধারণা আমেরিকা এখানে মিলিটারি অ্যাকশন নিতে পারে। রিসেন্টলি আমেরিকার ডুমস ডে প্লেন প্রায় 50 বছর পর লস অঞ্জেলেসে দেখা গেছে। যে প্লেন আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে নিউক্লিয়ার হামলা থেকে বাঁচানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। হয়তো এই ডুমস ডে প্লেন দেখিয়ে আমেরিকার নেটোর দিকে একটা ইনডাইরেক্ট মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা করছে। যে প্রয়োজনে আমেরিকার নিউক্লিয়ার ওয়ার করতেও রাজি আছে। কিন্তু তাদের গ্রীনল্যান্ড দরকার। আর শুধুমাত্র কিন্তু ডুমসডে প্লেন নয়। আমেরিকা তাদের ডিফেন্স ডিপার্টমেন্টের নাম বদলে ওয়ার ডিপার্টমেন্ট রেখেছে। অর্থাৎ যুদ্ধের মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে ট্রাম্প আমেরিকার ডিফেন্স বাজেট এক ট্রিলিয়ন থেকে
বাড়িয়ে দেড় ট্রিলিয়ন করার কথা ভাবছে। যেটা একটা হিউজ মানি। আর এই যে ট্রাম্প আজকের দিনে গ্রীনল্যান্ডকে হুমকি দিচ্ছে সেই হুমকি তিনি অলরেডি কানাডা, মেক্সিকো, পানামা বিভিন্ন দেশকে দিয়ে দিয়েছেন। যা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার যে ট্রাম্প খুব বড় কিছু প্ল্যান করছেন। আর এর পরিণতিও হবে খুবই ভয়াবহ। এতদিন আমেরিকাকে দেখা হতো একজন রক্ষকের মতো। আর বলতে পারেন আজকের দিনে সেই রক্ষকই ভক্ষকে পরিণত হয়েছে। আপনার কি মনে হয়? আর শেষ প্রশ্নটা আপনার কাছে। আমেরিকা কি গ্রীনল্যান্ড দখল করে নেবে? আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানান। ভিডিওটা ভালো লাগলে অবশ্যই একটা করে লাইক করে দিন। বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে দিন।
আর এরকম আরো নতুন নতুন টপিকের ভিডিও দেখার জন্য আমাদের চ্যানেলকে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করে দিন। দেখা হবে পরের ভিডিওতে। ততই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আর আমি ছিলাম মিঠুন আপনার সঙ্গে।