সিনেমা পাগল নিবিত ক্ল্যাশ অফ দ্যা টাইটন্স। সিনেমার শুরুতে দেখানো হয় যে পৃথিবীতে মানুষের এবং দেবতাদের আগমনের আগেই শক্তিশালী টাইটানদের শাসন ছিল। তবে তাদের শাসন শেষ করে দিয়েছিল তাদেরই সন্তান জিউস, পোসাইডন এবং হেডিস। জিউস তার ভাই হেডিসকে এমন এক ভয়ঙ্কর দানব তৈরি করতে বলে যা টাইটানদের হারাতে পারে। তখন হেডিস নিজের শক্তি দিয়ে এক ভয়ঙ্কর ক্র্যাকেনে সৃষ্টি করে। জিউস স্বর্গের রাজা হন পোসাইডন সমুদ্রের রাজা এবং হেডিস পান পাতালের শাসন। জিউস মানুষের সৃষ্টি করে এবং মানুষের প্রার্থনা শক্তিতে দেবতারা অমর হয়ে ওঠে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ পরিবর্তন হতে থাকে। তারা দেবতাদের চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করে এবং একসময় বিদ্রোহ
ঘোষণা করে। সেই সময় জন্ম হয় এক শিশুর একজন ছেলে যে সবকিছু বদলে দিবে। এরপরে দৃশ্যে দেখা যায় সাগরে একটি কফিন ভেসে বেড়াচ্ছে। স্পাইরাস নামে এক জেলে সেটি খুঁজে পায়। তিনি কফিন করলে দেখে তার ভেতরে একজন মৃত মহিলা এবং একটি জীবিত বাচ্চা রয়েছে। স্পাইরাস সে শিশুর নাম রাখে পার্সিয়াস। স্পাইরাস এবং তার পরিবার পারসিয়াসকে তার নিজের সন্তানের মতোই বড় করছিল। যদিও পারসিয়াস জানতো স্পাইরাস তার আসল বাবা নয়। তবুও সে স্পাইরাসকে নিজের বাবার চেয়েও বেশি সম্মান করত। পারসিয়াস তার পরিবারের সঙ্গে খুবই সুখে ছিল। এভাবেই গল্প এগিয়ে যায়। 18 বছর পর আমরা দেখি পারসিয়াস তার পালিত বাবার সঙ্গে মাছ
ধরার কাজ করছে। কিন্তু সময় বদলে গেছে। তারা আর পর্যাপ্ত মাছ ধরতে পারছে না। যার ফলে তাদের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্পাইরাস বিশ্বাস করত যে দেবতাদের ক্রোধের কারণেই তাদের এই দুর্দশা। সে মনে করত যে মানুষরা দেবতাদের লাগিয়েছে আর এখন দেবতারাই প্রতিশোধ নিচ্ছে সে দেবতাদের উপর খুবই ক্ষুদ্র ছিল এবং বলতো কাউকে না কাউকে তো এখন তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই হবে পরদিন তারা মাছ ধরতে ধরতে আরগোসের সীমায় চলে যায় সেখানে জিউসের একটি বিশাল মূর্তি ছিল সেখানে তারা খেয়াল করে অনেক সৈন্য এই মূর্তির চারপাশে রয়েছে আরগোসের রাজার আদেশে সৈন্যরা জিউসের মূর্তিটি ধ্বংস করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সৈন্যরা জিউসের মূর্তিটি
ধ্বংস করে ফেলে কিন্তু তখনই সমুদ্র থেকে একাধিক ফিউরি বেরিয়ে আসে গ্রিক মাইথোলজি অনুযায়ী ফিউরি হলো প্রতিশোধের তিন দেবী হেরিসের সৈন্য হিসেবে কাজ ফিউরিরা নিষ্ঠুরভাবে সব সৈন্যকে হত্যা করে। এরপর হেরিস সেখানে উপস্থিত হয় এবং পার্সিয়াসে নৌকাটি ধ্বংস করে দেয়। নৌকাটি সমুদ্রের গভীরে ডুবে যেতে শুরু করে। পার্সিয়াস তার পরিবারকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপন চেষ্টা করে কিন্তু ব্যর্থ হয়। সে নিজের সাত্রে প্রাণে বেঁচে যায়। কিন্তু পরিবারের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে দেবতাদের বাসস্থান হিসেবে পরিচিত অলিম্পাস পর্বতে জিউস মানুষের এই ধৃষ্টতায় অত্যন্ত ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হয়। হেরিস এই সুযোগে জিউসকে আরো উসকে দেয় এবং বলে, তোমরা মানুষ সৃষ্টি করেছিলে
একটি উদ্দেশ্যে যাতে তাদের প্রার্থনা তোমাদের অমর করে রাখে। এখন আমাকে তাদের শাস্তি দিতে দাও। তখন তারা আবারো ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তোমার সামনে প্রার্থনা করবে এবং আমরা আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠবো। জিউস হেরিসের প্ররোচনায় রাজি হয়ে যায়। পোসেরিনও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিল। তবে জিউসের পুত্র অ্যাপেলও তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে নিষেধ করে এবং বলে আমাদের মানুষের প্রয়োজন। তাদের ছাড়া আমরা কিছুই নই। জিউস হেরিসের প্রস্তাবে রাজি হয়ে বলে হেরিস ঠিকই বলেছে। আমাদের মানুষকে মনে করে দিতে হবে যে তারা আমাদের উপর নির্ভরশীল। তাদের একটি শিক্ষা দিতে হবে। এদিকে আরগোসের সৈন্যরা পার্সিয়াসকে বন্দি করে নিয়ে যায়। কারণ সেনাবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে
গিয়েছিল। কেবল পার্শ্বসি বেঁচে ছিল। তারা তাকে রাজার কাছে নিয়ে যায়। রাজা সেপিয়াস খুব খুশি হয়ে তার প্রজাদের উদ্দেশ্যে বলে আজকের সন্ধ্যা আমাদের সাহসী সৈন্যদের নামে উৎসর্গ করা হলো। যারা জিউসের মুখের উপর থাপ্পড় মেরেছে। মন্দির জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দেবতারা এখন আমাদের প্রার্থনার জন্য কাতর হয়ে যাচ্ছে। এখন থেকে এক নতুন যুগে শুরু হবে। যেটা হবে মানুষের যুগ। রানী ক্যাসোপিয়া রাজকুমারী এন্ড্রোমিডার সৌন্দর্যের তুলনা দেবী এপ্রয়েডেরর সঙ্গে করেন। আর এ মন্তব্য দেবদাদের অসম্মান করার মতোই ছিল। তখনই হেরিস সেখানে উপস্থিত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত সৈন্যকে ধ্বংস করে দেয়। পার্সিয়াস এই দৃশ্য দেখে ক্ষুদ্র হয়ে হেরিসের
উপর আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করে। হেরিস তার শক্তি ব্যবহার করে পারসিয়াসকে দূরে ছুড়ে ফেলে দেয় এবং রাজাকে উদ্দেশ্য করে বলে তুমি আমাদের নখের ময়লার সমানও নও। তোমার প্রতিটি শ্বাসপশ্বাস দেবতাদের দেওয়া ভিক্ষা। কিন্তু তুমি আমাদের অপমান করেছ। এরপর হেরিস নিজের ক্ষমতা দিয়ে রাজা ও তার প্রজাদের হাটু গেড়ে বসতে বাধ্য করে এবং রানী ক্যাসিওপিয়ার বয়স কেড়ে নিয়ে তাকে এক বিদ্ধায় পরিণত করে দেয়। রাগের বসে পারসেস আবারও হেরিসের উপর আক্রমণ করতে যায়। কিন্তু হঠাৎ এক মেয়ে তাকে থামিয়ে দেয় এবং বলে এখন নয়। সঠিক সময় আসতে দাও। এরপর হ্যারিস বলে আগামী 10 দিনের মধ্যে সূর্য গ্রহণ হবে। তখন আমি ক্র্যাকেন
কে পাঠাবো যা আর্গোসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে। তবে তোমার কাছে বাঁচার আরেকটি উপায় আছে যে রাজকুমারী সৌন্দর্যের তুলনা তোমরা দেবতাদের সঙ্গে করেছ তার বলি দাও। তার রক্তই একমাত্র ক্র্যাকেন এবং জিউসকে থামাতে পারবে। এখন তোমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিনাশ নাকি বলিদান। এটি জিউসের নির্দেশ। এটি বলার পর হেরিস পারসিয়াসের কাছে চলে আসে এবং বলে এটি তোমার পিতার সিদ্ধান্ত। এরপর সে অদৃশ্য হয়ে যায়। পারসিয়াস জানতে পারে যে জিউস তার জন্মদাতা পিতা। যার শুনে সে হতবাক হয়ে যায়। অন্যদিকে অলিম্পাসে দেবদাদের বার্তাবাহক হারমিস জিউসকে জানায় আরগোসে একজন দেবমানব রয়েছে। সে আপনার পুত্র পারসিয়াস। কিন্তু জিউস বলে সে কি আমার কাছে
প্রার্থনা করেছে? সে আমাকে চেনে পর্যন্ত না। সে সেই মানুষদের মতোই যারা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। অন্যদিকে আরগোসে সেনাপতি ড্রাকো পারসিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তোমাকে এখানে কে পাঠিয়েছে? তুমি কি একজন দেবমানব? পারসিয়াস উত্তর দেয় আমাকে কেউ পাঠায়নি এবং আমি কোন দেব মানব নই। তবে ড্রাকো তার কথায় বিশ্বাস করে না এবং তাকে মারতে শুরু করে। ঠিক তখন রাজা সেপিয়াস সেখানে এসে উপস্থিত হয় এবং পারসিয়াসকে প্রশ্ন করে তুমি কি সত্যিই দেবমানব যদি তুমি জিউসের পুত্র হও তবে আমাদের রক্ষা করো পারসিয়াস উত্তর দেয় আমি দেবমানব নই এবং আমি আপনাকে বাঁচাতে পারবো না আমি একজন সাধারণ মসজিজীবী আর আমার পরিবারকেও
দেবতারা হত্যা করেছে আমি যুদ্ধ করতে পারি না ঠিক তখন রাজকুমারী এন্ড্রোমিডরা সেখানে আসে এবং বলে আমি বলি দিতে প্রস্তুত পারসিয়াসকে মুক্তি দিন কিন্তু সৈন্যরা পারসিয়াসকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয় কিছুক্ষণ পর ড্রাগো কারাগারে আসে এবং বলে তোমার সাথে কেউ দেখা করতে এসেছে সেখানে সেই মেয়েটি আসে যে কিছুক্ষণ আগে পারসিয়াসকে হেরিসের উপর আক্রমণ থেকে থামিয়েছিল। পার্সিয়াস তাকে জিজ্ঞেস করে, তুমি আমাকে কিভাবে চেনো? মেয়েটি উত্তর দেয়, আমার নাম আয়ো। আমি তোমার শৈশব থেকেই তোমার দেখভাল করছি। আমি তোমাকে মৎসজীবীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলাম। পারসিয়াস আয়োকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কি কোন দেবী? আয়োতাকে জানায়, আমি দেবী নই। আমি দেবতা এবং মানুষদের মাঝের
এক প্রজাতি। বহু বছর আগে আমি এক দেবতার প্রেম প্রত্যাখান করেছিলাম। যার শাস্তি হিসেবে আমাকে অনন্ত জীবনে অভিশাপ দেওয়া হয়। সেই থেকে আমি আমার প্রিয়জনদের মৃত্যু সাক্ষী হয়ে আসছি। তোমার মত আমিও সেই কষ্ট সহ্য করেছি। পারসিয়াস তখন প্রশ্ন করে, আমি কি সত্যিই জিউসের পুত্র? আয়ো একটি গল্প শোনাতে শুরু করে। বহু আগে দেবতারা মানুষদের খেলনার মতো ব্যবহার করত। তবে এক ব্যক্তি বিদ্রোহ করেছিল। তার নাম এক্রিসিয়াস। সে অলিম্পাস পর্বত ঘিরে ফেলে দেবতাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস দেখায়। অন্যান্য দেবতারা এক্রিসিয়াস এবং তার সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু জিউসের মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল। তাই সে এক্রিসিয়াসকে শিক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত
নেয়। জিউস রাজার রূপ ধারণ করে তার প্রাসাদে যায় যেখানে রানী ঘুমাচ্ছিল। সে রানীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে। কিন্তু এই ঘটনা দেখে এক্রিসিয়াস খুবই পাগল হয়ে যায়। জিউস তখন এক বাজ পাখির রূপ ধারণ করে সেখান থেকে পালিয়ে আসে। তখনই রানী গর্ভ ধারণ করে।অক্রিসিয়াস রাগে রানী এবং জিউসের সন্তানকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। রানীর সঙ্গে সেই নবজাতক শিশুকে একটি কফিনে ভরে সমুদ্রের তীরে নিয়ে যায়। এক্রিসিয়াস তখন জিউসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলে, তোমার এই সন্তানকে আমি ধ্বংস করে দিব। জিউস রেগে গিয়ে তার উপর বজ্রাঘাত করে এবং তাকে একটি ভয়ঙ্কর দানবে পরিণত করে দেয়। এক্রেসিয়াস রাগে সেই কফিনটি সমুদ্রে ছুড়ে ফেলে
দেয়। তখন আয়োবসিয়াসকে জানায়, তোমার মা মারা গেছে। কিন্তু তুমি অর্ধ দেবতা এবং অর্ধ মানব হওয়ার কারণে বেঁচে গিয়েছো। আমি সেইদিন থেকে তোমার উপর নজর রাখছি। সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় যখন তুমি দেবতাদের অত্যাচারের অবসর ঘটাবে। তুমি ক্র্যাকেন পরাজিত করার জন্য জন্মেছো। পারসিয়াস উত্তরে বলে আমি জানিনা কেন জন্মেছি। কিন্তু আমার লক্ষ্য ক্র্যাকেনকে নয় হেরেসকে ধ্বংস করা। আইও তাকে বোঝায় তুমি যদি ক্র্যাকেনকে পরাজিত করতে পারো তবে হেডিস এতটাই দুর্বল হয়ে পড়বে যে তুমি তাকে আক্রমণ করে শেষ করতে পারবে। এটাই তোমার প্রতিশোধ নেওয়ার একমাত্র উপায়। পারসিয়াস তখন বলে রাজা সেপিয়াসকে বল যেন আমাকে মুক্ত করে দেয়। এরপর আইও ড্রাকোকে জানায়
যে ক্র্যাকেনকে কেব স্টিজিয়ান ড্রাইনে পরাজিত করার উপায় বলতে পারে। ড্র্যাকো উত্তরে জানায় ডাইন্ডা এত দূরে রয়েছে যে সেখানে কোন সেনাবাহিনী পৌঁছাতে পারবে না। তখন আয়ো বলে সাধারণ মানুষ না পারলেও একজন দেব মানুষ সেখানে পৌঁছাতে পারবে। রাজা সেপিয়াসের নির্দেশে ড্র্যাকো কয়েকজন সৈন্য নিয়ে পারসিয়াস এবং আয়োকে সঙ্গে নিয়ে স্টিজিয়ান ডাইনদের খুঁজতে রওনা দেয়। অন্যদিকে হেডিসঅক্রিসিয়াসের কাছে যায়। সে এখন ক্যালিবোস নামে পরিচিত। সে এখন এক নির্জন এবং অজানা জায়গায় জীবনযাপন করে। হেডিস তাকে বলে আমাদের দুজনেরই এক শত্রু আমার ভাই জিউস। তখন ক্যালিবোস জিজ্ঞাসা করে তুমি আমার থেকে কি চাও? হেরেডিস উত্তর দেয় জিউসের পাপের কারণে এবং তোমার স্ত্রী
থেকে জন্মানো সেই সন্তান এখনো বেঁচে আছে তার নাম পারসিয়াস। হেরেডিস কেলিবোসকে বলে পারসিয়াস এখন আমাকে ধ্বংস করার জন্য আরগোস থেকে যাত্রা শুরু করেছে। তোমার কাজ হবে তাকে হত্যা করা। আমি চাইনা জিউস আমার বাড়তে থাকা শক্তির ব্যাপারে কিছু জানো। যতক্ষণ না আমি সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছি ততক্ষণ তুমি আমার অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে। এই কথা বলে হেডিস ক্যালিবোসকে নিজে শক্তি দান করে এবং বলে তুমি পারসিয়াসকে হত্যা করো। আর আমি তোমার জন্য জিউসকে ধ্বংস করব। এরপর ক্যালিবোস পারসিয়াসকে খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। অন্যদিকে পারসিয়াস ও তার দল তাদের যাত্রায় চলতে থাকে। আইও পারসিয়াসের সঙ্গে যায়। ড্র্যাকও জঙ্গলে
পার্সিয়াসকে তলোয়ার চালানো শেখায় এবং যুদ্ধের কৌশলও জানায়। তবে তলোয়ার বাজিতে পারসিয়াস ডেকোর থেকে অনেক ভালো। কারণ পার্সিয়াসের মধ্যে দেবদাদের মত ক্ষমতা ছিল। জিউস পারসিয়াসকে উপহার হিসেবে একটি বিশেষ তলোয়ার দেয় যা সে জঙ্গলে পায়। সেই তলোয়ারটি অত্যন্ত ঝকঝকে এবং শক্তিশালী ছিল। ড্র্যাকো পার্সিয়াসকে বলে, এটি দেবদাদের পক্ষ থেকে দেওয়া উপহার। একে গ্রহণ করো। কিন্তু পারসিয়াস জবাব দেয়, আমি একাই ক্রাকেনকে পরাজিত করতে যথেষ্ট। কারো উপহারের প্রয়োজন নেই। এই বলে সে তলোয়ারটি ড্রাকোর কাছে রেখে চলে যায়। তখনই জঙ্গলে হাঁটতে হাঁটতে পারসিয়াস অনেকগুলো উড়ন্ত সাদা ঘোড়া দেখতে পায়। হঠাৎ একটি বিশাল উড়ন্ত ঘোড়া তার সামনে চলে আসে। তার নাম ছিল
পেগাসাস। এখন পর্যন্ত কোন মানুষ এর উপরে চড়েনি। ঠিক তখনই কিছু সৈন্য পারসিয়াসকে খুঁজতে থাকে। আর তখনই ক্যালিবোস সেখানে এসে তাদের হত্যা করে। তাদের চিৎকার শুনে পারসিয়াসও সেখানে যায়। তখন ক্যালিবোস পার্সিয়াসের উপর আক্রমণ করে। অন্যরাও এসে ক্যালিবোসের সঙ্গে যুদ্ধ করে। হ্যারিসের শক্তির কারণে ক্যালিবোস তাদের সবাইকে পরাজিত করতে থাকে। কিন্তু ড্র্যাকও তার হাত কেটে দেয় এবং ভয়ে ক্যালিবোস পালাতে থাকে। যেখানে যেখানে তার রক্ত পড়ে সেখান থেকে বিশাল আকৃতির বিচ্ছুর জন্ম হয়। বিচ্ছুগুলো সৈন্যদের আক্রমণ করতে থাকে। তার কাটা হাতও একটি বড় বিচ্ছুতে পরিণত হয়। বিচ্ছুগুলো অনেক সৈন্যকে হত্যা করে কিন্তু পারসিয়াস এবং ড্র্যাকও তাদের মারতে থাকে। তবে বিচ্ছুর
সংখ্যা এত বেশি হয় যে তারা সবাইকে ঘিরে ফেলে। ঠিক সেই মুহূর্তে জিনরা আসে। বিচ্ছুগুলোকে তাদের বশে করে নেয় এবং সবাইকে বাঁচায়। জিনরা কালো জাদুর বিশেষজ্ঞ এবং কয়েক শত বছর ধরে বেঁচে থাকে। তখন পার্সিয়াস জিজ্ঞেস করে এরা কি আমাদের শত্রু? ড্রেকা বলে তুমি তাই ভাবো। পারসিয়াস দেখে বলে এরা বন্ধু শত্রু না। ঠিক তখনই হঠাৎ করে পার্সিয়াসের হাতে যেখানে ক্যালিবোস আঘাত করেছিল সেখানে বিষ ছড়াতে শুরু করে। বিষক্রিয়ার কারণে পারসিয়াস আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পার্সিয়াসের শরীরে বিষ দ্রুত ছড়াতে থাকে। ঠিক তখনই সেখানে জিন এসে তার শক্তি ব্যবহার করে পার্সিয়াসকে সুস্থ করতে শুরু করে। ড্রেকো এবং তার লোকেরা
ভাবে জিন পার্সিয়াসকে মেরে ফেলতে চাইছে। তাই তারা জীনের উপর আক্রমণ করে। কিন্তু জিন তাদের সবাইকে পরাস্ত করে এবং বলে মানুষ আমাদের বন্ধু নয়। তবে আমরা তারা অপেক্ষা করছি যে দেবতাদের থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারবে। জিন জানায় যে পারসিয়াসের সাহায্য করার জন্য তারা একসাথে কাজ করতে পারে। তখন পার্সিয়াস সুস্থ হয়ে ওঠে এবং তারা সবাই মিলে দেবদাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা করে। সকালে ড্রাগ ও পারসিয়াসের উপর রাগ করে এবং দেবদাতে দেওয়া উপহার ব্যবহার করতে বলে। কিন্তু পারসিয়াস না করে। কারণ সে একজন সাধারণ মানুষের মত ক্র্যাকেনের মুখোমুখি হতে চায়। ঠিক তখন জিন আবার আসে এবং বিচ্ছুক গুলোকে নিয়ন্ত্রণ
করে তাদের ভ্রমণের কাছে ব্যবহার করে। যাতে তারা দ্রুত ডাইনের কাছে পৌঁছাতে পারে। এরপর তারা স্টেগিয়ার বাগানে পৌঁছায়। যেখানে ক্র্যাকেন একসময় টাইটানদের পরাজিত করেছিল। আর এটা ডাইনিদের বাড়িও ছিল। তারা ডাইনিদের সাথে দেখা করে যেখানে পার্সিয়াস ডাইনিদের জিজ্ঞেস করে কিভাবে ক্র্যাকেনকে হারাবে? কিন্তু ডাইনিরা তাদের উপর আক্রমণ করে। তখন পার্সিয়াস তাদের চোখটি খাদে ফেলে দেওয়ার ভয় দেখায়। কারণ তিনজন ডাইনি একটি মাত্র চোখ দিয়েই দেখতো। ডাইনিরা যে কারো অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বলতে পারতো। তারা বলে যে ক্র্যাকেনকে পরাজিত করার একটি মাত্র উপায় আছে। কিন্তু সেটা তোমাদের জন্য অসম্ভব। মিডিউসোকে দেখলেই জীবিত যেকোন কিছু পাথরে পরিণত হয়ে যায়। আর সে
থাকে স্ট্রাইক নদীর ওপারে অন্ধকার জগতের কিনারে। আর স্ট্রাইক নদীর দিকে রওনা দেয়। তবে কিছু জিন তাদের সঙ্গে যেতে অস্বীকার করে। কারণ তারা ভাবে যে এই অভিযানে সবাই মারা যাবে। এই সময় পারসিয়াসের সঙ্গে জিউস দেখা করতে আসে। পার্সিয়াস জিজ্ঞেস করে তুমি কে? জিউস উত্তর দেয় তুমি আমাকে বাবা বলতে পারো। জিউস পারসিয়াসকে ক্র্যাকেন থেকে দূরে থাকতে বলে। সে বলে তুমি ক্র্যাকেনকে পরাজিত করতে পারবে না। হেরিস তো ছেড়েই দাও। তুমি মারা যাবে। আর আরগোস্ত বিনষ্ট হবেই। তখন পারসিয়াস বলে তুমি এতটাই নিশ্চিত। তবে এখানে কেন এসেছো? জিউস উত্তর দেয় তুমি আমার রক্ত। তুমি আমার সন্তান। সময় এসেছে তুমি স্বর্গে
চলো এবং দেবতাদের মত জীবন যাপন করো। তখন পারসিয়াস বলে আমি দেবতার মত বাঁচার চেয়ে মানুষের মত মরতে পছন্দ করব। আপনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন কিন্তু তাদের চেনেন না। আমরা বাঁচি লড়াই করি এবং নিজেদের দরকারে জীবন দেই। পারসিয়াস বলে হেরিসকে বলে দাও আমি আসছি। তখন জিউস বলে এটাই একমাত্র সুযোগ। দ্বিতীয়বার আর দেবো না। এরপর সে পারসিয়াসকে একটি সোনার মুদ্রা দিয়ে বলে, মৃত্যুর যাতা একটু ব্যয়বহুল। এই কথা বলে জিউস চলে যায়। এরপর কিছু সৈন্য পার্সিয়াসকে বলে, আমরা অন্ধকার জগতের সঙ্গে লড়াই করতে পারবো না। তারা পারসিয়াসকে একটি ঢাল দেয়। যা বিচ্ছুর শরীর থেকে তৈরি হয়েছিল এবং চলে যায়। এবার
পারসিয়াস বাকিদের উদ্দেশ্যে বলে তোমরা ডাইনিদের কথা তো শুনেছো। কিন্তু আমি তাদের ভুল প্রমাণ করব। আমাকে একটা সুযোগ দাও। আমি তোমাদের সাহায্য চাই। যদিও তাদের কোন বিশ্বাস ছিল না যে তারা মেলুসা এবং ক্র্যাকেনকে হারাতে পারবে। তবুও তারা পার্সিয়াসের উপর বিশ্বাস রাখে এবং তার সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা এগিয়ে যায়। আর ক্যালিপসও তার প্রতিশোধ নিতে তাদের পিছু নেয়। তারা স্ট্রাইক নদীর তীরে পৌঁছে যায়। তখন জিন পার্সিয়াসকে সোনার মুদ্রা নদীতে ফেলার জন্য বলে। মুদ্রাটি নদীতে ফেলার পর খেরন আসে এবং তাদের এথিনার মন্দিরে নিয়ে যায়। যেখানে মেডুসা থাকতো। একজন সৈন্য জিজ্ঞেস করে আমাদের কার সঙ্গে লড়াই করতে হবে? সে
কি কোন জন্তু? তখন আইও বলে মেডিসা একসময় অত্যন্ত সুন্দরী ছিল। যার প্রেমে পড়ে যায় পোসাইডন। মেডুসা পালিয়ে এথিনার মন্দিরে আশ্রয় চায়। সেখানে সে ভেবেছিল দেবতা তাকে রক্ষা করবে। কিন্তু তা হয়নি। পোসাইডন তার মানসম্মান হরণ করে। মেরুসা দেবীর সাহায্য চায়। কিন্তু দেবী তাকে সহানুভূতির বদলে ঘৃণা করে এবং অভিশাপ দেয়। অভিশাপ অনুযায়ী কেউ মিরুসার কাছে যেতে পারবে না। তার চোখে চোখ পড়লেই যে কোোন জীবিত প্রাণী পাথরে পরিণত হবে। তখন আইও বলে আমি মন্দিরে ঢুকতে পারবো না। কারণ দেবী মেডুসাকে এতটুকু রেহা দিয়েছেন যে সে কোন নারীর ক্ষতি করতে পারবে না। মন্দিরে শুধুমাত্র পুরুষরাই ঢুকতে পারে। তবে আজ পর্যন্ত
কেউ সেখান থেকে ফিরে আসেনি। তারা এথিনার মন্দিরে পৌঁছে মেডুসাকে খুঁজতে শুরু করে। ঠিক তখনই মেডুসা তীর ছুড়ে তাদের আক্রমণ করে এবং এক এক করে কয়েকজন সৈন্যকে পাথরে পরিণত করে। শুধুমাত্র ড্র্যাকও, জিন এবং পারসিয়াস বেঁচে থাকে। তারা কৌশল তৈরি করে মেডুসার উপর আক্রমণ চালায়। মেডুসা যখন পার্সিয়াসের উপর আক্রমণ করতে চায় তখন অন্য দিক থেকে জিন মেডুসার উপর আক্রমণ করে। মেডুসা জিনকে ধরে পাথর করার চেষ্টা করে। কিন্তু জিনের জাদুর কারণে মেডুসার চোখে চোখ পড়লেও সে পাথর হয় না। তখন জিন নিজের শরীর ব্রাশ করে নিজের আত্মহত্যা দেয়। এর ফলে মেডুসা কিছু সময়ের জন্য দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সময়
ড্র্যাকো মিডুসার উপর আক্রমণ করে। কিন্তু মিডুসা ড্র্যাকো চোখের দিকে তাকিয়ে তাকে পাথরে পরিণত করে এবং তাকে ভেঙে দেয়। ঠিক তখনই পারসিয়াস তার ঢালের আয়নায় মেডুসার প্রতিচ্ছ ছবি দেখে একটি নিখুত আঘাত করে। এতে মিডুসার মাথা শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং মিডুসার মৃত্যু হয়। পারসিয়াস একাই মিডুসার মন্দির থেকে বেরিয়ে আসে। আইও তাকে দেখে খুব খুশি হয়। কিন্তু হঠাৎ পিছন থেকে ক্যালিবস আইওর উপর আক্রমণ করে এবং তাকে হত্যা করে। পারসিয়াস ভীষণভাবে রেগে যায় এবং ক্যালিবসের উপর আক্রমণ করে। কিন্তু হেরেসের শক্তির কারণে ক্যালিবস অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং পারসিয়াসকে সহজেই পরাস্ত করে। সে পারসিয়াসের তলোয়ার ভেঙে দেয় এবং
তাকে উড়িয়ে দূরে ফেলে দেয়। ঠিক তখনই পারসিয়াস মাটিতে পড়ে থাকা জিউসের তলোয়ার দেখতে পায়। সে তলোয়ারটি তুলে ক্যালিবাসের উপর আক্রমণ করে এবং তাকে মেরে ফেলে। মৃত্যুর আগে ক্যালিবোস পার্সিয়াসকে বলে, তুমি দেবদাদের মত হয় না। এ কথা বলে সে পাহাড় থেকে নিচে পড়ে যায়। পারসিয়াস আয়োর কাছে যায়। আয়ো বলে তুমি যাও সময় নেই। গ্রহণ শুরু হয়ে গেছে। যাও নয়তো দেরি হয়ে যাবে। এখন থেকে তোমার পথ তুমি একাই ঠিক করবে। এই বলে আয়ো ধোয়ার সাথে মিশে যায়। তখন পেগাসাস এসে পৌঁছায় এবং পারসিয়াস তাতে চড়ে আরগোসের দিকে যেতে থাকে। এই সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। আর অলিম্পাসে হেরিস জুসের
কাছে ক্র্যাকেনকে মুক্ত করার অনুমতি চায়। জিউস তাকে অনুমতি দিয়ে দেয়। এরপর সমুদ্রের ভিতর থেকে ক্র্যাকেন বেরিয়ে আরগোসের দিকে যেতে থাকে। এদিকে আরগোসের মানুষরা নিজেদের জীবন বাঁচাতে রাজকুমারী এন্ড্রোমেডটাকে জোর করে ধরে ক্র্যাকেনকে উৎসর্গ করতে নিয়ে যায়। ঠিক তখন ক্র্যাকেন সমুদ্র থেকে উঠে আরগোসকে ধ্বংস করতে শুরু করে। আর অলিম্পাসও কেঁপে ওঠে। হেরিসের শক্তি ক্রমশ বাড়তে থাকে। তখন হেরিস জিউসকে বলে ক্র্যাকেন আমার সন্তান এবং এটি আমার শক্তি বাড়ায়। জিউস এতে রেগে যায় এবং বলে এখানে আমার শাসন চলে। কিন্তু তখন হেরিস নিজের শক্তি দিয়ে জিউসকে থামিয়ে দেয়। যা প্রমাণ করে যে সে এখন জিউসের থেকেও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। হেরিস
এরপর বলে তুমি আমার সাথে প্রতারণা করেছ। আমাকে অন্ধকার জগতে পাঠিয়ে গ্রিনাইড ডুবিয়ে দিয়েছো। আর তুমি নিজে এখানে সুখে আছো। জিউস তখন বলে আমাদের মানুষের ভালোবাসা প্রয়োজন। হেরিস উত্তর দেয় না শুধু তোমার প্রয়োজন। কারণ আমি বেঁচে থাকি মানুষের ভয়ে। তোমার শাসন এখন শেষ হয়েছে। তখন জিউস বলে আরগোসে এখনো একজন দেবতুল্য মানুষ আছে পার্সিয়াস। এই কথা শুনে হেরিয়াস পারসিয়াসকে থামানোর জন্য আরগোসে যায়। জিউস নিজের করা কাজের জন্য অনুশোচনা করতে শুরু করে। পারসিয়াস আরগোসে পৌঁছালে হেরিস তাকে থামানোর জন্য ফিউরিদের পাঠায়। ফিউরিরা মেরুসার মাথায় পারসিয়াসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতে থাকে। পারসিয়াস তাদের পিছনে ধাওয়া করে মেরুসার মাথা
ফিরে পাওয়ার জন্য। এদিকে ক্র্যাকেন সম্পূর্ণভাবে সমুদ্র থেকে বেরিয়ে আরগোস ধ্বংস করতে শুরু করে। ঠিক তখন পারসিয়াস ফিউদের থেকে মিরুসের মাথা ছিনিয়ে নেয়। ক্র্যাকেন যখন এন্ডোমেডাটাকে খাওয়ার জন্য এগিয়ে যায় পারসিয়াস তার চোখের সামনে মেডুসার মাথা ধরে। ক্র্যাকেন মেডুসার চোখের দিকে তাকাতেই পাথরে পরিণত হতে থাকে। পার্সিয়াস এরপর মেডুসার মাথাটি সমুদ্রে ছুড়ে ফেলে। তখন হেরিস পারসিয়াসকে হত্যা করার জন্য সামনে আসে। কিন্তু পার্সিয়াস ডিউসের দেওয়া তরোয়াল দিয়ে হেরিসের উপর আক্রমণ করে এবং তাকে পাতাল লোকে বন্দি করে ফেলে। এদিকে রাজকুমারী এন্ড্রোমেডার জীবনও বেঁচে যায়। সে পারসিয়াসকে আরগোসের রাজা হতে বলে। কিন্তু পারসিয়াস জবাব দেয় আপনি একজন ভালো রানী হবেন। এরপর
সে পেগাসাসে চড়ে সেখান থেকে চলে যায়। পরবর্তী দৃশ্যে সেই জায়গাটি দেখানো হয় যেখানে জিউসের বিশাল মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। পারসিয়াস সেখানে তার পরিবারের কথা মনে করছিল যাতে হেরেডিস মেরে ফেলেছিল। তখন জিউস সেখানে এসে বলে অলিম্পাস তোমার ঋণী আর আমিও। পারসিয়াস জবাব দেয় হেডিস এখনো বেঁচে আছে। আমি শুধু তাকে আবার অন্ধকার জগতে পাঠিয়েছি। জিউস বলে সে সুযোগের অপেক্ষায় আছে। যখন মানুষ দুর্বল হবে তখন সে তাদের দুর্বলতা থেকে নিজের শক্তি বাড়াবে। তবে এটা সবসময় মানুষের হাতেই ছিল। তাকে সুযোগ দিবে কি দেবে না। এখন বিশ্ব জানে একজন মানুষ আছে যে তাকে থামাতে পারে। জিউস আরো বলে তুমি দেবতা
না হতে পারো কিন্তু তোমার কৃতিত্বের জন্য মানুষ তোমাকে পূজো করবে। যদি তুমি মানুষ হয়ে জীবন কাটাতে চাও তবে আমি তোমাকে একা থাকতে দিব না। কারণ তুমি জিউসের সন্তান। এ কথা বলে জিউস চলে যায়। আর তখন আমরা দেখি সেখানে আয়ো চলে আসে। এরপর পারসিয়াসের সঙ্গে আয়ো আবার মিলিত হয় এবং এখানেই সিনেমার গল্প শেষ হয়।