মক্কা মোকাররমায় ওয়ালিদ নামের এক বিশিষ্ট কাফের বাস করত ওয়ালিদ অনেক অর্থশালী মানুষ ছিল যার কাছে একটি স্বর্ণের মূর্তি ছিল এই স্বর্ণ নির্মিত মূর্তিটির পূজা ওয়ালিদ সবচেয়ে বেশি করতো একদিন ওয়ালিদ সেই মূর্তিটিকে পূজা করছিল এমন সময় হঠাৎ করে সেই মূর্তিটি নাড়াচাড়া করে উঠতো মূর্তিটি হঠাৎ করে বলতে লাগলো হে লোক সকল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আল্লাহর রাসূল না অতএব তোমরা তার কথায় বিশ্বাস করবে না তার কথামতো তোমরা ইবাদত করবে না তার কথামতো তোমরা তোমাদের মূর্তি পূজা বন্ধ করবে না এ কথা শুনে ওয়ালিদ একেবারে আশ্চর্য হয়ে গেল ওয়ালিদ খুশিতে আত্মহারা হয়ে সবাইকে ডেকে বলল কে কোথায় আছো জলদি এখানে আসো
আমাদের দেবতা কথা বলছে ওয়ালিদের কথা শুনে মক্কার সব কাফেরেরা দৌড়ে এসে মূর্তিটির সম্মুখে এসে হাজির হলো তখন মূর্তিটি আবার বলল হে লোক সকল তোমরা শোনো মোহাম্মদ ভন্ড প্রতারক সে কোন নবী না সে তোমাদেরকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে অতএব তোমরা কেউ মোহাম্মদের কথা মতো চলবে না মূর্তির মুখে এই অলৌকিক শয়তানি বক্তব্য শুনে সকল কাফেরেরা অবাক হয়ে গেল এবং খুব খুশি হয়ে গেল মক্কার কাফেরেরা ওয়ালিদকে বলল অভিনন্দন বন্ধু আজকে আমাদের দেবতা আমাদের সাথে কথা বলেছে এবং তিনি স্পষ্টভাবে বলেছে মোহাম্মদ আমাদের কোন রাসূল নয় পরের দিন প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হলো ওয়ালিদের বাড়িতে এক বিশাল সমাবেশের আয়োজন
করা হয়েছে সেই সমাবেশে প্রত্যেক মক্কাবাসীকে উপস্থিত হতে হবে কেননা সেখানে মোহাম্মদের ব্যাপারে ভগবান সরাসরি একটা বক্তব্য প্রদান করবেন মূর্তি এর মাধ্যমে পরদিন মক্কাবাসী সবাই অতি আগ্রহ এবং উৎসাহ নিয়ে ওয়ালিদের বাড়িতে এসে উপস্থিত হলো এটা জানার জন্য যে আসলেই কি তাদের ভগবান মোহাম্মদ সম্পর্কে সাক্ষী দেবে ওয়ালিদের বাড়িতে বিশাল বড় সমাবেশ বসলো সেই সমাবেশে মক্কার কাফেরেরা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসলো আল্লাহর হাবিব নিজে এসে মূর্তির মুখ থেকে কে কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন এবং সাহাবীরাও অধীর অপেক্ষায় ছিলেন কখন এই স্বর্ণ নির্মিত মূর্তিটি কথা বলবে আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধে সবার নীরবতা ভেঙে হঠাৎ করে মূর্তির
ভেতর থেকে অলৌকিক আওয়াজ ভেসে আসলো হে মক্কাবাসীরা এ কথা শুনে ওয়ালিদ আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠলো চিৎকার করে বলল এই দেখো তোমরা ভগবানের কথা শুনতে পাচ্ছ আমাদের ভগবান তোমাদেরকে মোহাম্মদের ভন্ডামির ব্যাপারে স্পষ্ট কথা বলবে অতঃপর সেই মূর্তি কথা বলতে থাকলো হে মক্কাবাসীরা তোমরা ভালো করে শুনে রাখো যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রকৃত রাসূল এবং তার প্রতিটি কথা সত্য এবং তার দ্বীন ইসলাম সঠিক হে লোকেরা তোমরা আর তোমাদের মূর্তিগুলো মিথ্যাবাদী তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট এবং তোমাদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে যদি তোমরা এই সত্য নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু এর উপর ঈমান না আনো তবে তোমরা জাহান্নামে যাবে অতএব তোমরা তোমাদের বিবেক
বুদ্ধিকে ব্যবহার করে এই সিদ্ধান্ত নাও এবং এই সত্য নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করো মূর্তির মুখ থেকে নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন প্রশংসা শুনে ওয়ালিদ আকাশ থেকে পড়লো ওয়ালিদ যেন তার কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না গত দুইদিন তিনি কি শুনলেন সকল কাফের বন্ধু বন্ধুদেরকে কি শোনালেন মূর্তি তখন কি বলেছিল আর এখন ভরা মজলিসে সবার সামনে কি বলছে তিনি অবাক হওয়ার পাশাপাশি কিছুটা ভীত হয়ে পড়লেন এবং ওয়ালিদ প্রচন্ড রেগে তার স্বর্ণ নির্মিত মূর্তিটিকে ধরে মাটিতে ফেলে দিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল প্রিয় দর্শক এখন মন দিয়ে শুনুন আসলে ঘটনাটা কি ঘটেছিল এই সমাবেশে
বিশ্বনবীকে অপমানিত করার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল কিন্তু মূর্তির সাক্ষী অনুযায়ী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা আরো বেড়ে গেল মূর্তির মুখের অলৌকিক কথা শুনে সেখানে উপস্থিত কয়েকশো মানুষ মুসলমান হয়ে গেল আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অপমান করার জন্য নেওয়া হয়েছিল কিন্তু সেখান থেকে তিনি সম্মানিত হয়ে বিজয়ীর বেশে ফিরে আসলেন প্রতিমধ্যে তিনি ঘোড়ায় আরোহী এক ব্যক্তির দেখা পেলেন তার হাতে একটি তলোয়ার ছিল তা থেকে তখনও রক্ত জ্বরছিল রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার তলোয়ারের দিকে তাকিয়ে ছিলেন অতঃপর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কে সে বলল ইয়া রাসূলুল্লাহ আমি একজন জ্বীন আমি
একজন পরিপূর্ণ মুসলিম জ্বীন এক এবং অদ্বিতীয় সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস এবং নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ঈমান এনেছি আমি তুর পাহাড়ে বসবাস করি আমার নাম মহাইমিন আল আরাফ আমি কয়েকদিনের জন্য বাহিরে কোথাও বেড়াতে গিয়েছিলাম আজ যখন আমি বাড়ি ফিরে এলাম আমি দেখতে পেলাম আমার পরিবারের সদস্যরা অজরে কাঁদছে আমি কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে জানতে পারলাম আমাদেরই বংশের এক কাফের জিন যার নাম ছিল মাসফার সে মক্কা মোকাররমায় এসে ওয়ালিদের স্বর্ণ নির্মিত মূর্তির ভেতর প্রবেশ করে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে আজেবাজে কথা বলা শুরু করেছে এবং আজ সে আবার এসেছিল যাতে সে আজকেও ওয়ালিদের মূর্তির
ভেতরে প্রবেশ করে আপনার সম্পর্কে বাজে কথা মানুষকে বলতে পারে হে আল্লাহর হাবিব এই কথা শুনে আমার প্রচন্ড রাগ হয় আমি তরবারি নিয়ে তার পেছনে দৌড়ে তাকে ধরি এবং তাকে যাওয়ার পথে হত্যা করি এবং তারপর আমি নিজেই ওয়ালিদের মূর্তির ভেতরে প্রবেশ করি এবং আজকে ওয়ালিদের মূর্তি যা কিছু বলেছে তা মূলত আমিই বলেছিলাম বিশ্বনবী যখন সমস্ত ঘটনা এই মুসলিম জ্বীনের কাছ থেকে শুনলেন তখন তিনি অনেক দুঃখ প্রকাশ করলেন এবং তিনি তার অনুসারী জিনদের জন্য দোয়া করলেন একদিন যখন প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে বসা ছিলেন তখন মদিনায় এমন একটি জিন প্রবেশ করেছিল যার অর্ধেক ছিল
মানুষের আকৃতির এবং বাকি অর্ধেক ছিল জিনদের আকৃতির মানে আগুনের তার উচ্চতা ছিল 40 গজ সবাই তাকে দেখে ভয়ে পালিয়ে যেতে লাগলো এবং সবাই মসজিদে নববীতে এসে বলল ইয়া রাসূলাল্লাহ আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করুন সেই দানব সোজা মসজিদে নববীর দিকে আসছে হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন তোমরা ভয় পাচ্ছ কেন আমি তো তোমাদের সঙ্গেই আছি সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমাদের সাথে আল্লাহ আছেন ইতিমধ্যে সেই জিন মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে বলল ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবিবাল্লাহ আল্লাহর নবী গো আমি আপনার কাছে একটি অনুরোধ নিয়ে এসেছি তখন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন তোমার কি
অনুরোধ বলো জিনটি বলল ইয়া আল্লাহর হাবিব আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে আমার গাল থেকে রক্ত উপুজ বের হচ্ছে এবং আমার হাত খেজুরের পাতা দিয়ে বাঁধা বিশ্বনবী তখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন তোমার হাত কে বেঁধেছে কেন তুমি আহত অবস্থায় আছো সেই জিন বলল আল্লাহ তাআলা আমাকে হযরত আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টির 30000 বছর আগে এই পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন আমার শক্তি ও ক্ষমতা সব জিন এবং অন্যান্য মাখলুকের চেয়ে বেশি ছিল তাই আমি অন্য জিনদের উপর অত্যাচার করতাম আমি যে জিনকে সামনে পেতাম তাকে মেরে ফেলতাম অথবা তাকে পঙ্গু এবং আহত করে দিতাম একদিন আমার সামনে দিয়ে একজন অতি সুন্দর যুবক অতিক্রম
করল যে তিন প্রজাতির মধ্যে ছিল না আমি তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিলাম তাই আমি সেই যুবকটিকে বললাম আমি হয় তোমাকে হত্যা করবো না হয় তোমাকে পঙ্গু করে আহত করে দেব সে আমাকে জিজ্ঞেস করল তুমি এই কাজটি কেন করবে আমি তখন তাকে বললাম এটা আমার শখ আমি এই কাজটিকে অনেক উপভোগ করি এই কথা শুনে সেই যুবকটি জিজ্ঞেস করল তুমি আজ পর্যন্ত মোট কতজনকে হত্যা করেছো কতজনকে পুঙ্গু এবং আহত করেছো তখন আমি উত্তর দিলাম অগণিত অসংখ্য সেই যুবকটি বলল আজ আমি সবার হিসাব মিটিয়ে দেব কথা শুনে আমি প্রচন্ড রেগে গেলাম এবং আমি তাকে আক্রমণ করলাম কিন্তু সেই
যুবক আমার আক্রমণকে ব্যর্থ করে দিয়ে আমার গালে এত শক্ত এবং মজবুত চর মারলো আমি তার এক চর খেয়ে প্রাণহীন হয়ে গেলাম তারপর সে আমাকে খেজুর পাতা দিয়ে বেঁধে দিল অতঃপর আমি জ্ঞানহীন হয়ে পড়ি জ্ঞান ফেরার পর আমি নিজে কে আহত এবং বিধ্বস্ত অবস্থায় পেলাম আমার যা শক্তি ছিল তার একটি চরের আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে আমাকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য আমি তার কাছে অনেক অনুরোধ করেছি কিন্তু সে যেতে যেতে আমার দৃষ্টি সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল আমি আমার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়েছিলাম কিন্তু আমার ব্যথা তখনো দূর হয়নি আর কেউ আমার হাতের ব্যান্ডেজও খুলতে পারেনি সবাই অনেক
চেষ্টা করার পর অসহায় হয়ে হাল ছেড়ে দেয় অতঃপর আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন আমি তার কাছে গিয়েছিলাম তিনিও অনেক চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তিনি খুলতে পারেননি এরপর আল্লাহর অনেক নবী দুনিয়াতে এসেছেন কিন্তু কেউ আমার হাতের ব্যান্ডেজ খুলতে পারেনি তারপর আমি হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের কাছেও গেলাম তিনিও তা খুলতে পারেননি তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের নিকট ওহী আসলো হে ইব্রাহিম তাকে ছেড়ে দাও এর হাতের বাঁধন সে খুলবে যে তাকে বেঁধেছে তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তাহলে কে আমার হাতটা বাঁধলো যে আমার হাতের বাঁধন খুলতে পারবে আবার তখন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম
আপনার কথা বললেন যে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি তোমার হাতের বাঁধন একমাত্র খুলতে পারবেন ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবিবাল্লাহ আল্লাহর নবী গো সেই থেকে আমি আপনার অপেক্ষায় ছিলাম আজ আমার অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো এরপর তার হাত খুলে গেল এবং তার গাল থেকে যে রক্ত জোর ছিল আহত অবস্থায় ছিল সেটাও থেমে গেল এবং তার আগের দৈহিক শক্তি ফিরে এলো রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন তুমি এখন যাও তুমি আজ থেকে স্বাধীন সেই জিন বলল এখন আমি কোথায় যাব আমি তো হাজার বছর পর সত্য দিনের সন্ধান পেলাম এখন আমি এই দ্বীনের হক ছেড়ে কোথাও যাব না
শাহ অলিউল্লাহ এক রাতে নিজের ঘরের মধ্যে বসে কিতাব লিখছিলেন সে সময় কিতাব লেখা হতো দোয়াতের কালি ও পাখির পালক দিয়ে তিনি গভীর রাতে মনোযোগ সহকারে কিতাব লেখায় মশগুল ছিলেন এমন সময় হঠাৎ একটি বিশাল বড় সাপ দরজা দিয়ে তার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করল সাপটি তাকে বিভিন্নভাবে কিতাব লেখা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছিল তখন তিনি বিরক্ত হয়ে উনার হাতে থাকা পালকটি সেই সাপটিকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারলো তখন পালকের মাথার দাঁড়ালো অংশটি সাপের মাথায় গিয়ে বেঁধে গেল পালকের আঘাতে সাপটি সেখানে মৃত্যুবরণ করল এবং সঙ্গে সঙ্গে সেটি ওখান থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল তখন শাহ অলিউল্লাহ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাই তার
বসার স্থান থেকে উঠে গিয়ে মৃত সাপটিকে খুঁজতে লাগলো কিন্তু অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরেও তিনি সাপটিকে কোথাও খুঁজে পেলেন না তাই তিনি আবার আগের জায়গায় এসে পুনরায় কিতাব লেখা শুরু করলেন তিনি এমন ভাবে লিখছিলেন যে তার সম্পূর্ণ মনোযোগ ছিল শুধুমাত্র কিতাবের দিকে কিছুক্ষণ পর হঠাৎ দরজায় কে যেন কড়া মারলো তিনি দরজা খুলে দেখলেন একজন সিপাহী দাঁড়িয়ে আছে সিপাহী তাকে বলল আপনি আমার সাথে চলুন আপনাকে বাদশাহ সালামত ডেকে পাঠিয়েছেন হযরত শাহ সাহেব তৎক্ষণাৎ সিপাহীর সাথে রওনা হলেন সেই সিপাহী উনাকে লাল কেল্লায় নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে দিল্লির বাহিরে কোন এক পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গেল সেখানে যাওয়ার পর সেই সিপাহী একটি
গুহার সামনে দাঁড়িয়ে বলল আপনি এই গুহার ভেতরে প্রবেশ করুন তখন শাহ ওয়ালিউল্লাহ সাহেব গুহার ভেতরে প্রবেশ করলেন যেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পেলেন জিনদের অনেক বড় একটা সমাবেশ চলছে এবং সেখানে জিনদের বাদশা রয়েছেন তার ডান পাশে বিশাল আকৃতির এক জিনও ছিল শাহ ওলিউল্লাহ দেখলেন তার সামনে একটা মৃতদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা সেখানে দাঁড়িয়েছিল তারা হযরত শাহ অলিউল্লাহ সাহেবের দিকে ইশারা করে বললেন এই লোকটি আমাদের ছেলেকে হত্যা করেছে আমাদের ক্যাসাস পাওয়া উচিত হযরত শাহ অলিউল্লাহ সাহেব সব ঘটনা বুঝতে পারলেন এবং তিনি বললেন তোমরা আমার কাছ থেকে ক্যাসাস নিতে পারবে না কারণ হাদিস শরীফে
উল্লেখ্য আছে যে কেউ যদি নিজের আসল রূপ পরিবর্তন করে কারো সামনে আসে এরপর সেই ব্যক্তি যদি ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাকে হত্যা করে তাহলে সেই হত্যাকারীর কাছ থেকে ক্যাসাস অথবা রক্তমূল্য কোনটাই নেওয়া যাবে না জিনদের বাদশা তার ডান পাশে থাকা জিনকে জিজ্ঞেস করলেন এই হাদিসটি কি বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে এসেছে তাদের কথা শুনে মনে হচ্ছিল ওইসব জিনরা মুসলমান ছিল পাশে থাকা বড় জিন বলল হ্যাঁ এটা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস যখন উভয় জাহানের সরদার রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদিসটি বর্ণনা করেছিলেন তখন আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু সালামের দরবারেই বসেছিলাম এই
হাদিস আমি নিজের কানে শুনেছি তখন জিনদের বাদশা এই হাদিস শুনে শাহ অলিউল্লাহ সাহেবকে ছেড়ে দিলেন এবং উনার কাছ থেকে কোন ক্যাসাস নিলেন না ছাড়া পেয়ে শাহ অলিউল্লাহ সেখান থেকে নিশ্চিন্ত মনে ফিরে গেলেন একদা হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক যুদ্ধ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন এমন সময় তিনি একটি উপত্যকায় এসে উপনীত হলেন তখন তিনি সাহাবায়ে কেরামদেরকে লক্ষ্য করে বললেন এটা কোন জায়গা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই প্রশ্নের জবাবে একজন সাহাবী বললেন হে আল্লাহর হাবিব এই জায়গাটি কেয়ারজাক বলা হয় এই জায়গাটির পাশে একটি কূপ রয়েছে বিগত 1000 বছর যাবত এই কূপের দ্বারে কাছেও কেউ আসে না
হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের কাছ থেকে পালিয়ে আসা কিছু দুষ্ট জ্বীন এখানে এসে তাদের আস্তানা গেড়েছে তারা যখন সুলাইমান আলাইহিস সালামের কাছ থেকে পালিয়ে এসেছিল তখন তারা ওয়াদা করেছিল কোনভাবেই তারা তার বশত স্বীকার করবে না এবং তারা সর্বদাই আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে যাবে এই জিনগুলা এই পূপটির চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে যখনই কোন মানুষ সেখানে গমন করে তারা নিঃশংসভাবে সেই লোকটিকে হত্যা করে সাহাবীর মুখে এই উত্তর শুনে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ও আচ্ছা এই তাহলে সেই জায়গা যেখানে এই ভয়ানক জিনিস এর বসবাস করে আর তারা অন্যায় ভাবে মানুষদেরকে হত্যা করে চলেছে যদি এমনই
হয়ে থাকে তাহলে তোমরা সকলে এখানেই থেমে যাও কেননা এর একটা প্রতিকার আমাদেরকে করতেই হবে আমরা কখনোই অন্যায় ভাবে মানুষকে হত্যা করার জন্য তাদেরকে এভাবে মুক্তভাবে ছেড়ে দিতে পারি না বিশ্বনবীর নির্দেশ মতো সাহাবায়ে কেরাম সকলেই সেখানে থেমে গেলেন তখন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন সফরের কারণে আমরা অনেক পিপাসার্থ ক্লান্ত হয়ে পড়েছি আশেপাশে কোন পথ নেই অতএব তোমরা যাও কিছু সংখ্যক লোক গিয়ে জিনদের সেই কূপ থেকে পানি তুলে নিয়ে আসো আল্লাহর নবীর কথা মতো কিছু সংখ্যক সাহাবীরা জিনদের সেই কূপ থেকে পানি আনার জন্য বের হয়ে গেলেন সাহাবীরা যখন সেই কূপের কিছুটা কাছে গেলেন তখনই সেই কূপের
ভেতর থেকে একটি ভয়ঙ্কর জিন বের হয়ে অগ্নিমূর্তি ধারণ করল তার চেহারা এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে সাহাবায়ে কেরাম আর সামনে অগ্রসর হওয়ার সাহস পেলেন না অতঃপর ভীত হয়ে সকলেই পিছনে ফিরে আসতে লাগলো কিন্তু আল্লাহর নবীর একজন সাহাবী যার নাম ছিল আবুল আস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তিনি সামনে এগিয়ে যেতে লাগলেন তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন আমার জীবন যদি চলে যায় যাক তারপরও আমি এই কূপ থেকে পানি উঠিয়ে নিয়ে যাব কেননা স্বয়ং বিশ্বনবী আমাকে এই কূপ থেকে পানি তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এই বলে সাহাবী যখন কূপটির নিকটবর্তী হলো তখনই সেই ভয়ঙ্কর জিনটি নিঃশংসভাবে তাকে হত্যা করল
এবং তার কাছে ফেলে রাখলো আল্লাহর নবীর বাকি সাহাবীরা নবীজির কাছে দৌড়ে গিয়ে বললেন হে আল্লাহর নবী আমরা সেই কূপ থেকে পানি তোলার জন্য যাচ্ছিলাম কিন্তু এর মধ্যেই দেখলাম একজন ভয়ঙ্কর জিন অগ্নিমূর্তি ধারণ করে সেই কূপের বাইরে বেরিয়ে এসেছে এবং আপনার একজন সাহাবী আবুল আশকে নিঃশংসভাবে হত্যা করে উপর পাশে ফেলে রেখেছে হে আল্লাহর হাবিব তার এরূপ কর্মকাণ্ডের কারণে আমরা আপনার আদেশ মানতে পারিনি এবং কূপ থেকে পানি উত্তোলন করতে পারিনি সাহাবীদের মুখে এমন কথা শুনে বিশ্বনবী প্রচন্ড রেগে গেলেন তখন নবীজি বললেন তাদের এত বড় স্পর্ধা তারা আমার সাহাবীকে শেষ করে দিয়েছে তখন বিশ্বনবী সেই কূপের কাছে সাহাবীদের
আরেকটি দলকে পাঠানোর ইচ্ছা পোষণ করলেন তিনি এমন ইচ্ছা পোষণ করেছেন ইতিমধ্যেই হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে ওহী নিয়ে আসলেন এবং তিনি আল্লাহর নবীকে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি অন্য কোন সাহাবীকে সেখানে প্রেরণ করার পরিবর্তে হযরত আলীর সাথে কিছু সংখ্যক সাহাবীকে প্রেরণ করুন কেননা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে ছাড়া যাকে আপনি সেখানে প্রেরণ করবেন তারা তাকেই হত্যা করে ফেলবে একমাত্র শেরে খোদা আলী পারবে তাদেরকে কাবু করতে হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালামের কাছ থেকে এমন সংবাদ পাওয়ার পর বিশ্বনবী হযরত আলীকে ডাকলেন এবং তিনি তাকে বললেন হে আলী অন্য দূরেই একটি কূপ রয়েছে সেই কূপে সুলাইমান আলাইহিস
সালামের কাছ থেকে পালিয়ে আসা কিছু অবাধ্য জিন রয়েছে যারা কিছুক্ষণ আগে আমাদের একজন সাহাবীকে হত্যা করেছে অতএব তুমি যাও সর্বপ্রথম গিয়ে তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করবে যদি তারা ইসলামের পথে আসতে চায় এবং দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে তাদের সাথে আমাদের কোন ঝগড়া নেই যদি তারা ইসলাম শান্তির পথ কবুল করতে অস্বীকৃতি জানায় তখন তুমি তাদেরকে বলবে তারা যেন এই স্থান থেকে চলে যায় এবং মানুষের ক্ষতি না করে যদি তারা এই কথাতে অস্বীকৃতি জানায় পরিশেষে তুমি তাদের সাথে জিহাদে অবতীর্ণ হবে এবং আল্লাহর নাম নিয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করা শুরু করবে আশা করি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমাকে এই
যুদ্ধে কামিয়াবী করবেন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বিশ্বনবীর কাছ থেকে এই হুকুমটি পাওয়ার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন তখন তিনি কিছু সংখ্যক সাহাবীদেরকে সাথে নিয়ে সেই জিনদের কূপের দিকে রওনা করলেন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু যখন তার সঙ্গী সাথীদেরকে নিয়ে সেই কূপের নিকটবর্তী হলো সাথে সাথে সেই ভয়ঙ্কর জিনটি কূপ থেকে বেরিয়ে আসলো এবং এবং তাদেরকে লক্ষ্য করে বলল কিরে মানবজাতি তোরা এখনো আমার রুদ্রমূর্তি দেখে ভয় পাস নি আমি ইতিপূর্বে তোদের একজনকে শেষ করে দিয়েছি এখন তোরা আবার এখানে এসেছিস তার চাইতেও নিঃশংসভাবে আমি তোদেরকে শেষ করব এবং এই দুনিয়ার জমিন থেকে তোদেরকে বিদায় করে দেব হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু
তা'আলা আনহু জি্বনের এই কথা শুনে বললেন হে আল্লাহর নাফরমান বান্দা তুমি জেনে রাখো আমি শেরে খোদা আলী আর আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন কুল কায়েনাতের নবী বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি তোমাদেরকে তার নির্দেশে সর্বপ্রথম বলছি তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর এই কথা শুনে জিন অট্টহাসি দিয়ে বলল দুর্ভাগ্য তোমার আলী কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমি এই দুনিয়ার জমিন থেকে বিদায় গ্রহণ করবে আর ইসলাম গ্রহণের কথা বলছো সেই ইসলামকে তো হাজার হাজার বছর পূর্বে আমরা ছুড়ে ফেলে দিয়ে এসেছি আমরা কোনদিনও ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবো না তখন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন আমি দ্বিতীয়ত
তোমাদের কাছে যে প্রস্তাবটি করছি যদি তোমরা ইসলাম গ্রহণ করতে না চাও তাহলে এই স্থান থেকে তোমরা দূরে চলে যাও তোমরা নিঃশংসভাবে মানুষকে হত্যা করছো এবং মানুষের জীবনকে তোমরা অতিষ্ট করে রেখেছো তখন সেই জিনটি বলল অলিক কল্পনা দেখা ছেড়ে দাও আলী আমরা কোনদিনও এই স্থান ছেড়ে কোথাও যাব না তখন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হুংকার ছেড়ে বললেন তাহলে হে আল্লাহর নাফরমান বান্দা আমার সাথে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যা তখন সেই জিনটি বলল তুমি একজন দুর্বল মানব সন্তান আর তুমি করবে আমার সাথে যুদ্ধ দেখি তোমার গায়ে কত জোর এই বলে সেই জিনটি হুংকার ছেড়ে হযরত আলী
রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু উপর ঝাপিয়ে পড়লো সাথে সাথে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার হাতে থাকা জুলফিকার তলোয়ার দিয়ে জিনটির মাথা দ্বিখন্ডিত করে ফেলল এবং তার ভবলিলা সাঙ্গ করে জাহান্নামের দুয়ারে পাঠিয়ে দিল সেই জিনটি নিহত হওয়ার সাথে সাথে উক্ত কূপের ভিতর থেকে হাজার হাজার জিন উপরে উঠে আসলো এবং তারা ভয়ঙ্কর আওয়াজ করতে লাগলো তাদের ভয়ঙ্কর আওয়াজে আসমান জমিন প্রকম্পিত হতে লাগলো এই অবস্থা দেখে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কোরআনুল কারীম থেকে কিছু আয়াত তেলাওয়াত করতে লাগলেন যখনই শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কোরআনের আয়াতগুলি পাঠ করতে লাগলেন তখন সেই জিনদের গায়ে আগুন জ্বলতে লাগলো তারা
কূপের উপর স্থির থাকতে পারলো না কূপের উপর স্থির থাকতে না পেরে চিৎকার করতে করতে তারা সকলেই কূপের ভেতরে প্রবেশ করল তখন শেরে খুদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কূপ থেকে পানি উত্তোলন করার জন্য কূপের কাছে গেলেন এবং বালতি কূপের ভেতরে নিক্ষেপ করলেন কিন্তু কূপের ভেতরে বালতিটি যেতেই জিনরা সেই বালতিটি কূপের উপর নিক্ষেপ করল এবং তারা পানি তুলতে দিল না অতঃপর আবার হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বালতিটি কূপের মধ্যে নামিয়ে দিলেন কিন্তু আবারো সেই জিনেরা বালতিটিকে কূপের উপরে নিক্ষেপ করল তখন তারা এভাবে কয়েকবার বালতিটি কূপের উপর নিক্ষেপ করতে থাকলো এরপর হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু অত্যন্ত
ক্রোধান্বিত হয়ে গেলেন এরপর হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সেই কূপের মধ্যে নেমে গেলেন কূপের মধ্যে গিয়ে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু দেখতে পেলেন বিদঘুটে চেহারার অসংখ্য জিন তাকে ঘিরে রেখেছে এরপর তারা শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি একটি করে তার জুলফিকার নামক তলোয়ার দিয়ে জিনের মাথা কাটতে লাগলেন এবং তাদেরকে জাহান্নামে প্রেরণ করতে লাগলেন বর্ণিত আছে যে এভাবে তিনি সেদিন একাই 20000 জিনকে হত্যা করেছিলেন যখন জিনেরা দেখল তাদের সকল যোদ্ধাগুলি নিহত হয়ে যাচ্ছে এবং যখন তারা বুঝতে পারলো এই শেরে খুদা আলীর সাথে পেরে ওঠা সম্ভব
নয় তখন তারা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কাছে করজোরে মিনতি করে বলতে লাগলো হে শেরে খোদা আলী আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি আপনি আমাদেরকে এখন যাই করতে বলবেন আমরা তাই করব তখন শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন তোমরা যদি প্রথমেই আমার কথা মেনে নিতে তাহলে আমাকে এত যুদ্ধ করতে হতো না এবং তোমাদের এতগুলি লোক প্রাণহারা হতো না তোমাদের কাছে আমার একটাই দাবি তোমরা কালেমা পাঠ করে মুসলমান হয়ে যাও এবং তোমরা শান্তির পথ অবলম্বন করো নিঃশংসভাবে মানব হত্যা বন্ধ করো ও তোমরা বলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ তখন জিনদের
সবাই কালেমা পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেল এবং তারা আল্লাহর কাছে ওয়াদা করে বলল হে আল্লাহ আমরা আজ থেকে মুসলমান হয়ে গেলাম এবং আজ থেকে আমরা মানুষদেরকে আর অত্যাচার নিপীড়ন করবো না আমরা আজ থেকে আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতিটি নির্দেশ পঙ্খানুপঙ্খানু রূপে মেনে চলবো এবং কোনদিনও আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবো না হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তখন তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন তোমাদের সর্দার কে জিনদের সর্দার সামনে এগিয়ে এসে বলল হুজুর আমি এদের নেতৃত্ব প্রদান করি আমি এদের সরদার হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তখন বললেন তোমার নাম কি জিন বলল আমার নাম কারণ জয়ীফ আলী রাদিয়াল্লাহু
তা'আলা আনহু বললেন আজ থেকে আমি তোমার নাম রাখলাম জাফর জহির তুমি এতদিন তোমার জাতিকে অন্যায় ও অবাধ্যতার পথ দেখিয়েছিলে তুমি তাদেরকে আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করতে শিখিয়েছো কিন্তু আজ থেকে আমি তোমাকে দায়িত্ব দিচ্ছি তুমি তাদেরকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করবে এবং সর্বদায় আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য শিখাবে তখন সেই জিন তাকে ওয়াদা করে বলল হে শেরে খোদা আলী আমি আপনার সকল আদেশগুলো পঙ্খানু পঙ্খানুর বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ আমি কখনোই আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণের জন্য আমার জাতিকে আর উৎসাহিত করবো না এরপরে শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সেই কূপ থেকে পানি নিয়ে রাসূলে আকরাম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে উপস্থিত হলেন এবং তিনি তাকে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করেছি এবং অসংখ্য জিনকে জাহান্নামের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি অতঃপর তারা আমার হাতে হাত রেখে ইসলামের কালিমা গ্রহণ করেছে এবং তারা শান্তির পথে ফিরে এসেছে তারা ওয়াদা করেছে আজ থেকে তারা আর কোন মানুষকে নিঃশংসভাবে হত্যা করবে না এবং মানুষের উপর অন্যায় অত্যাচার করবে না এবং বনি আদমকে অন্যায় ভাবে তারা কখনো জুলুম করবে না অতঃপর হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিপদ থেকে মুক্তি লাভ করার পর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করলেন এবং তিনি বললেন আল্লাহর রাব্বুল আলামীন আমাদের
উত্তম পথ প্রদর্শক এবং তিনি আমাদেরকে সর্বদা সাহায্য করে থাকেন তিনি যদি আমাদেরকে সাহায্য না করতেন তাহলে আজকের এই যুদ্ধে আমরা কোনদিনও জয় লাভ করতে পারতাম না সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ [মিউজিক]