ফেরাউন তখন নিঃস্ব দেউলিয়া ঋণে জর্জরিত ঋণ পরিশোধ করার ভয়ে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে পড়ে অতএব একে একে পাওনাদার ফেরাউনের বাড়িতে আসতে থাকে ফেরাউন ছিল খুবই চতুর এবং প্রতারক শুধু প্রতারক নয় বাটপার তাই সে ঘরের মধ্যে থাকলেও ঘরের দরজাটা খোলা রাখতো যাতে পাওনাদার বুঝতে পারে বাড়িতে কেউ নেই দিনের পর দিন এভাবেই পাওনাদার সেখানে আসে কিন্তু ফেরাউনের দেখা না পেয়ে তারা ফিরে যায় ফেরাউন একা একা ভাবতে থাকে এভাবে আর কতদিন নিজেকে লুকিয়ে রাখবো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতেই হবে সেই সময় মিশর ছিল অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশ্বের সেরা অতঃপর ফেরাউন পাওনাদারের ভয়ে রাতের গভীর আধারে বলক থেকে মিশরের উদ্দেশ্যে লুকিয়ে লিখে
রওনা হলেন সারারাত অনেক পথ অতিক্রম করার পর শেষ পর্যন্ত মিশরে পৌঁছালো কিছুদূর যাবার পর তার বন্ধু হামানের সাথে সাক্ষাৎ হলো তাকে দেখা মাত্রই হামান জিজ্ঞাসা করল প্রিয় বন্ধু তুমি এখানে কেন তোমার কি অবস্থা তখন ফেরাউন বলল বন্ধু হামান আমি খুবই মুসিবতের মধ্যে আছি পাওনাদারের ভয়ে লুকিয়ে পালিয়ে এসেছি আমি একেবারে নিঃস্ব চারিদিকে ঋণে ঝর্জরিত এখন আমার কোন একটা কাজের প্রয়োজন তখন হামান বলল ফেরাউন আমারও একই অবস্থা আমার একটা কাজের প্রয়োজন অতঃপর ফেরাউন ও হামান কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন কিছু পথ অতিক্রম করার পর তারা ক্ষুধায় এবং তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়েছিল দূরে লক্ষ্য করে দেখল একটি লোক তরমুজ
খেতে তরমুজ কাটার কাজ করছে তখন ফেরাউন ও হামান ধীরে ধীরে সেই তরমুজ খেতে সামনে গিয়ে বলল চাচাজান আমরা খুবই ক্ষুধার্ত আমাদের কিছু তরমুজ খেতে দেবেন এই কথা শোনা মাত্র লোকটি তাদের তরমুজ খেতে দিল তারা পেট ভরে তরমুজ খেয়ে তৃপ্তি পেল তারপর ওই তরমুজ ক্ষেতের মালিক তাদেরকে জিজ্ঞেস করল তোমাদের তো আগে কখনো দেখিনি তোমরা কে আর কোথা থেকে আসছো তখন ফেরাউন বলল আমরা ভিনদেশী বলক থেকে আসছি কাজের জন্য তরমুজ ক্ষেতের মালিক ভাবলো তারও কাজের লোক দরকার তাই সে তাদেরকে বলল তোমরা কি আমার কাছে কাজ করবে হামান বলল অবশ্যই কাজ করব তখন তরমুজ ক্ষেতের মালিক বলল আমার
কাছে কাজ করতে হলে সৎভাবে কাজ করতে হবে চুরি করা যাবে না ফেরাউন ছিল প্রতারক তাই সে চালাকি করে বলল আমি জীবনে কখনো মিথ্যা বলিনি আর চুরি তো দূরের কথা এইভাবে বিভিন্ন চালাকি পন্থা অবলম্বন করে ফেরাউন ও তার বন্ধু হামান তরমুজ ক্ষেতের মালিকের মন জয় করে কাজে নিযুক্ত হলো পরের দিন থেকে ফেরাউন ও হামান তরমুজ নিয়ে বাজারে যায় বাজার থেকে তরমুজ গুলো বেশি দামে বিক্রি করে মালিকের কাছে বেশি লাভ দেখায় এভাবেই আরো বেশি মালিকের মন জয় করে নেয় বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হয়ে গেল একদিন ফেরাউন ওই ক্ষেতের মালিককে বলে চাচাজান আপনি তরমুজ গুলো পিস হিসেবে আমাকে বিক্রি
করুন তাহলে আপনার আরো বেশি লাভ হবে ক্ষেতের মালিক তার কথায় রাজি হয়ে গেল অতঃপর পরের দিন থেকে ফেরাউন তরমুজ গুলো আবারো বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে গেল ফেরাউন তরমুজ গুলো পিস হিসেবে কিনতো মাঝেমধ্যে কিছু তরমুজ চুরিও করতো এবং বাজারে এসে তরমুজ গুলো কেটে টুকরো টুকরো করে চড়া দামে বিক্রি করতো এভাবেই চালাকি করে ফেরাউন অনেক টাকা উপার্জন করল একদিন রাতে ফেরাউন তার বন্ধুকে বলল হামান এভাবেই যদি আমরা শুধু তরমুজ বিক্রি করি তাহলে জীবনে কিছুই করতে পারবো না আমাদের অন্য কিছু করতে হবে সেই সময় ঘটে যায় এক চমৎকার ঘটনা মিশরের বাদশা তার সেনাবাহিনীর দ্বারা দেশের মধ্যে একটি বিজ্ঞপ্তি
জারি করে সেনাবাহিনীরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বলে এতদ্বারা জানানো যাইতেছে যে মিশরের কবরস্থানে একটি দারোয়ান প্রয়োজন যদি কোন ব্যক্তি এই চাকরি করতে ইচ্ছুক হও তাহলে সে যেন অতি সত্যর মিশরের বাদশার দরবারে যোগাযোগ করে এই কথা বলে সেনাবাহিনীরা সেখান থেকে চলে গেল এই সমস্ত কথা প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে শ্রবণ করার পর ফেরাউন তার বন্ধুকে বলল হামান চলো আমরা রাজদরবারে যাই হামান বলল আমার মনে হয় এটা সম্ভব হবে না তখন ফেরাউন বলল এই কাজ হাতছাড়া করা যাবে না চলো আমরা একবার চেষ্টা করি অতঃপর ফেরাউন ও হামান দেরি না করে সাথে সাথে মিশরের রাজদরবারে হাজির হলো মিশরের বাদশা তাদেরকে জিজ্ঞেস করল
তোমরা কে আর কি চাও তখন ফেরাউন করজোরে অনুরোধ করে বলল আমি মুসাফির ভিন দেশ থেকে এসেছি আমি খুবই অভাবী আমি শুনেছি আপনি কবরস্থানের দারোয়ান নিযুক্ত করবেন তাই দয়া করে আমাকে যদি এই চাকরিটা দিতেন আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকতাম মিশরের বাদশা ফেরাউনকে দেখে মনে মনে ভাবলো তার তো শরীর স্বাস্থ্য ভালো চেহারাও ভালো মনে হয় সে পারবে এই ভেবে ফেরাউনকে কবরস্থানের দারোয়ানের চাকরিতে নিযুক্ত করল পরের দিন থেকে ফেরাউন মিশরের কবরস্থানে দারোয়ানে চাকরিতে নিযুক্ত হলো দিন-রাত ফেরাউন কবরস্থানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে আর পাশেই একটি ছোট্ট ঘরে তার বন্ধু হামান ও ফেরাউন একসাথে বসবাস করে একদিন রাতে কয়েকজন লোক একটি মৃত
লাশকে দাফন করতে আসলো কিন্তু ফেরাউন তাদেরকে বাধা দিল কবরস্থানে ঢুকতে দিল না তখন তারা বলল কি ব্যাপার আপনি লাশ দাফন করতে বাধা দিচ্ছেন কেন আসলেই ফেরাউন ছিল প্রতারক এবং বাটপার তাই সে চালাকি করে বলল আপনারা কি শোনেননি মিশরের বাদশা নতুন আইন করেছে মৃত লাশকে দাফন করতে হলে এক স্বর্ণ মুদ্রা দিতে হবে এই লোকগুলো ফেরাউনের কথা বিশ্বাস করে নেয় এবং তাকে এক মুদ্রা দিয়ে লাশ দাফন করে এভাবেই প্রচার হয়ে যায় যে একটি লাশ দাফন করতে হলে এক স্বর্ণ মুদ্রা দিতে হবে এভাবেই ফেরাউন প্রতারণা করে অনেক টাকা উপার্জন করে সেই সময় ঘটে যায় আজব ঘটনা মিশরে সেই
সময় আল্লাহর গজব শুরু হয় চারিদিকে কলেরা বসন্ত রোগে প্রচুর মানুষ মারা যেতে থাকে অতঃপর কিছু লোক মৃত লাশকে দাফন করার জন্য কবরস্থানে আসলো তখন ফেরাউন আরো চালাকি করে বলল মিশরের বাদশা নতুন আইন করেছে যদি কোন ব্যক্তি কলেরা বসন্ত থেকে মারা যায় তাহলে দুই স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে তবেই তাকে এই কবরস্থানে দাফন করতে পারবে ফেরাউন প্রতারণা করে সবার কাছ থেকে স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে অনেক টাকা উপার্জন করল এভাবেই সেই বছর অতিবাহিত হয়ে গেল এরপর ফেরাউন তার বন্ধুকে বলল হামান এই দেখো দুই বস্তা টাকা উপার্জন করেছি কিন্তু এগুলো আমরা মিশরের বাদশার নিকট নিয়ে যাব এই কথা শুনে হামান যেন চমকে গেল
সে বলল ফেরাউন তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে যে টাকার জন্য এত কষ্ট করলে সবার থেকে প্রতারণা করলে আর শেষ পর্যন্ত কিনা সেই টাকাগুলো বাদশাকে দিয়ে দেবে ফেরাউন বলল হামান ধৈর্য ধরো আমার বুদ্ধি ক্রমশ প্রকাশ পাবে অতঃপর সে দেরি না করে পরের দিন ফেরাউন ও হামান দুই বস্তা স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে মিশর এর বাদশার দরবারে হাজির হলো মিশরের বাদশা তাদেরকে জিজ্ঞেস করল কি ব্যাপার তুমি বস্তা নিয়ে রাজদরবারে এসেছো কেন তখন ফেরাউন বলল জাহাপনা আমি দুই বস্তা স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে এসেছি এই কথা শুনে বাদশার মন্ত্রী তাদেরকে ধমক দিয়ে বলল তোমার সাহস দেখে আমি আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি যে তুমি মিশরের
বাদশার সামনে দাঁড়িয়ে টাকার বড়াই দেখাচ্ছ তখন মিশরের বাদশা বলল এত স্বর্ণমুদ্রা তুমি কোথায় পেলে আর এটা নিয়ে এসেছো কেন তখন ফেরাউন বলল জাহাপনা যারা মৃত লাশ কে দাফন করতে আসতো তাদের কাছ থেকে আমি এক স্বর্ণমুদ্রা নিতাম তাছাড়া এতে আমার বেতনের টাকা আছে আমার মূল উদ্দেশ্য হলো মিশরে গত দুই বছর যে সকল গরীব মানুষ খাজনা দিতে পারেনি তাদের পক্ষ থেকে আমি স্বর্ণের মুদ্রাগুলি আপনাকে দিলাম আপনি তাদের খাজনা মাফ করে দিন এমন কথা শুনে সেখানে থাকা সমস্ত লোক আশ্চর্য হয়ে গেল মিশরের বাদশা তার এই কর্মকাণ্ড দেখে আকর্ষিত হলো এবং তার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করল পরের দিন
থেকে সারা মিশরে প্রচার হয়ে গেল যে একজন কবরস্থানের দারোয়ান মিশরের গরীব মানুষের দুই বছরের খাজনা মিটিয়ে দিয়েছে সমস্ত মিশরের লোক বলতে লাগলো এমন ভালো মানুষ সারা মিশরে দ্বিতীয়টি দেখা যায় না ওই ব্যক্তিটি কবরস্থানের দারোয়ান না হয়ে যদি আমাদের দেশের বাদশা হতো তাহলে কতই না সুখী হতাম এভাবেই প্রথমে মিশরের বাদশাহ তারপর মিশরের মানুষের মন জয় করে নিল অতঃপর অনেকদিন অতিবাহিত হয়ে গেল একদিন মিশরের বাদশা বার্ধক্যজনিত ইন্তেকাল করলেন তখন চারিদিকে সবাই চিন্তিত হয়ে পড়লো কে হবে দ্বিতীয় রামেসিস মিশরের বাদশা কয়েকদিন পর রাজদরবারে একটি জরুরি মিটিং এর আয়োজন করা হলো সেখানে থাকা বিশিষ্ট জ্ঞানী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজন
বলল এইভাবে তো আর মিশরের বাদশার আসন খালি রাখা যাবে না কে হবে মিশরের বাদশা আপনারা সবাই আলোচনা করে বলুন তখন সেখানে থাকা একজন বলল হুজুর আমাদের মনে হয় যে ছেলেটি কবরস্থানের দারোয়ান অর্থাৎ ফেরাউন তার যেমন স্বাস্থ্য তেমন প্রকার তাছাড়া সে তো খুবই ভালো জনগণের কথাও ভাবে আমাদের মনে হয় তাকে বাদশা করা উচিত তখন সে বিশিষ্ট জ্ঞানী ব্যক্তিটি বলল ঠিক আছে তবে তাই হোক সবার অনুমতিতে ফেরাউন হলো মিশরের বাদশা যে লোকটি একদিন তরমুজ বিক্রি করতো কবরস্থানের দারোয়ান ছিল ভাগ্যের পরিবর্তনে আজ সে সমগ্র মিশরের বাদশা আসলে ফেরাউন যে কত নিকৃষ্ট মানুষ ছিল তা কারো জানা ছিল না
এদিকে ফেরাউন মিশরের বাদশা হবার পরে আবারো বিভিন্ন চালাকি ও প্রতারণা করে তার বন্ধু হামানকে মন্ত্রী বানিয়ে দেয় একদিন ফেরাউন রাজদরবারে বসেছিল তিনি হঠাৎ করে ঘোষণা করলেন সমগ্র মিশরে গত এক বছরে কোন মানুষের খাজনা দিতে হবে না এই সমস্ত খাজনা ফেরাউনের তরফ থেকে মাফ করা হবে এই খবর পেয়ে সমগ্র বিশ্বের সাধারণ গরীব মানুষ ভীষণ খুশি হলো অতঃপর ফেরাউন ও হামান ছাড়া যখন কেউ ছিল না তখন হামান বলল বন্ধু ফেরাউন এভাবে যদি সমস্ত খাজনা মাফ করে দাও তাহলে বাদশাহী চলবে কিভাবে ফেরাউন বলল হামান ধৈর্য ধরো এরপর আমি এমন বুদ্ধি করব যে সারাজীবন আমরাই হব সমগ্র বিশ্বের বাদশা
এমন কোন শক্তি নেই যে আমাদেরকে হারাতে পারবে তার জন্য বুদ্ধির প্রয়োজন এই কথা বলে তারা দুজনে একে একে চলে গেল পরের দিন থেকে সারা মিশরে ফেরাউনের নাম আলোচিত হতে লাগলো এই সময় হামান ফেরাউনকে ডেকে বলল বন্ধু ফেরাউন তুমি যদি সারাজীবন বাদশা থাকতে চাও তাহলে কিছু কাজ অবশ্যই প্রয়োজন তখন ফেরাউন বলল কি সেই কাজ এরপর হামান একে একে সব বলে দিল অতঃপর ফেরাউন রাজদরবারে একটি জরুরি মিটিং এর আয়োজন করল তখন ফেরাউন বলল আজ থেকে সারা মিশরে কোন শিক্ষাব্যবস্থা থাকবে না সমস্ত পাঠশালা বন্ধ করে দেওয়া হবে ফেরাউন রাজকীয় ফরমান জারি করল মিশরের কোন ব্যক্তি শিক্ষা নিতে এবং
দিতে পারবে না যদি কোন ব্যক্তি এই হুকুম অমান্য করে তাহলে তাকে হত্যা করা হবে সারা মিশরে যারা ছোট ছোট পাথরের মূর্তি বানিয়ে পূজা করে সেগুলি যেন ভেঙে দিয়ে ফেরাউনের মূর্তি পূজা করে এইভাবে অল্পদিনের মধ্যে ফেরাউনের কথায় ভীত হয়ে লেখাপড়া বন্ধ করে দেয় এবং সমগ্র মিশরের মানুষ আল্লাহর কথা ভুলে গিয়ে মূর্খ অজ্ঞতা হয়ে পড়ে মানুষ সম্পূর্ণরূপে চতুষ্পদ জন্তুর মত হয়ে পড়লো এরপর ফেরাউন ব্যাপক অহংকারী হয়ে গেল নিজেকে এত বড় মনে করতে লাগলো যে অহংকারে পরিপূর্ণ হয়ে নিজেকে খোদা দাবি করল দিনের পর দিন জনগণের উপর খাজনার পরিমাণ বাড়িয়ে দিল অন্যায় অত্যাচার বেড়ে গেল একাকি ফেরাউন সারা মিশরে
শাসনকার্য চালাতে লাগলো সুদ ঘুষ জেনা ব্যভিচারের পরিমাণ বেড়ে গেল এক কথায় ফেরাউন বনি ইসরাইলদের অপমান অপদস্ত করতে লাগলো শুধুমাত্র আছিয়া ব্যতীত অন্য কেউই ফেরাউনের অপমান অপদস্ত থেকে রেহাই পেত না কারণ আছিয়া ছিল সে যুগের সবচেয়ে সুন্দরী গুণবতী এবং ধার্মিক নারী সুতরাং বহু বছর পর ফেরাউন আছিয়াকে স্ত্রী রূপে বরণ করে ছিল একদা আসিয়া তার নিজ কক্ষে বসেছিলেন মনে মনে ভাবতে লাগলো যেভাবে স্বামী ফেরাউন দেশের জনগণকে অন্যায়ভাবে অত্যাচার করছে নিজেকে খোদা বলে দাবি করছে তাতে নিজে তো আল্লাহর গজবে পতিত হবেই এবং দেশের সমস্ত মানুষকে ধ্বংস করবে ঠিক ওই সময় ফেরাউন সেই কক্ষে প্রবেশ করল এবং বলল আছিয়া
তোমাকে এমন চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন তখন আছিয়া বলল প্রিয় স্বামী আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে এই পৃথিবী চন্দ্র সূর্য আসমান জমিন সবকিছুই সেই মহান আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন সুতরাং মানুষ যতই ক্ষমতা লাভ করুক না কেন একটি ছোট্ট পতঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে না মানুষ মরণশীল একদিন সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে তাই আপনি নিজেকে খোদা দাবি বন্ধ করুন এবং আল্লাহর পথে ফিরে আসুন এই কথা শোনা মাত্রই ফেরাউন খুবই রাগান্ডিত হয়ে ধমক দিয়ে আছিয়াকে বলল আসিয়া এই কথা যদি অন্য কেউ বলতো তাহলে তাকে আমি হত্যা করতাম সবাই যেমন আমাকে খোদা মেনে নিয়েছে তুমিও আমাকে খোদা বলে মেনে নাও নয়তো
তোমার অবস্থা তাদের মতেই হবে এই কথা বলে ফেরাউন সেখান থেকে চলে গেল এদিকে আজিয়া খুব চিন্তিত হয়ে পড়লো কেননা তার কিছুই করার ছিল না চোখ দিয়ে শুধু অস্ত্র ঝরতে লাগলো এভাবেই বহুদিন অতিবাহিত হয়ে গেল অতঃপর ফেরাউন একদিন তার নিজ কক্ষে সায়িত ছিলেন গভীর রজনীতে তিনি স্বপ্নে দেখলেন একটি বিশাল বড় আগুনের গোলা বনি ইসরাইলের দিক থেকে এসে সারা মিশরকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছে অথচ বনী ইসরাইলদের কিছুই হয়নি এই স্বপ্ন দেখে ফেরাউন তাড়াতাড়ি জেগে গেল ফেরাউন দেরি না করে পরের দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বড় বড় জ্যোতিষীদের রাজদরবারে ডাকলেন এবং নিজের স্বপ্নের কথা বললেন ফেরাউনের এই
স্বপ্নের তাবির করে জ্যোতিষীদের মধ্যে একজন জ্যোতিষী বলল জাহাপনা আপনি কিছু মনে করবেন না ভবিষ্যতে আমরা আপনার মৃত্যু দেখতে পাচ্ছি আপনি বেশিদিন মিশরের বাদশা থাকতে পারবেন না আপনার ক্ষমতা চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবে এই কথা শ্রবণ করে ফেরাউন অত্যন্ত রাগান্ডিত হয়ে জ্যোতিষীকে ধমুক দিয়ে বলল কি বলতে চাইছো আমাকে ক্ষমতা থেকে হারাবে এমন কোন শক্তি আছে তখন জ্যোতিষী বলল বনি ইসরাইলদের মধ্য হতে মুসা নামক একটি ছেলে আপনার ক্ষমতা শেষ করে দেবে এই কথা বলে তারা সেখান থেকে চলে গেল কিছুদিন পর ফেরাউন হামানকে বলল সারা মিশরে যে ঘরে শিশুপুত্র সন্তান থাকবে তুমি সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদেরকে হত্যা করো ফেরাউনের কথামতো
হামান সেনাবাহিনী নিয়ে মিশরের প্রতিটি বাড়িতে তল্লাশি করে পুত্র সন্তানদের হত্যা করতে লাগলো তাফসীরকারকদের মতে এভাবেই যখন প্রায় 80 হাজার পুত্র সন্তান হত্যা করা শেষ হলো তখন ফেরাউন আবারো মিশরের সবচেয়ে বড় বড় জ্যোতিষীদের গণনার জন্য আনা হলো অতঃপা জ্যোতিষীরা তখন বলল জাহাপনা আমরা গণনা করে দেখতে পাচ্ছি আপনি যতগুলো পুত্র সন্তান হত্যা করেছেন তার মধ্যে মুসা নামক সেই ছেলেটি নেই তখন ফেরাউন বলল ভালো করে গণনা করো এবার জ্যোতিষীরা বলল জাহাপনা আমরা গণনা করে দেখতে পাচ্ছি আপনি যতই তাকে হত্যা করার চেষ্টা করেন না কেন তাকে হত্যা করতে পারবে না মুসা নামক সেই ছেলেটি আপনার ক্ষমতা চূর্ণ বিচূর্ণ করে
দেবে আর সেই ছেলেটি এখন শিশু এই কথা শোনা মাত্রই ফেরাউন আরো রাগান্ডিত হলো এবং সাথে সাথে হুকুম করল তোমরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি করো যে ঘরে মুসা থাকুক না কেন তাকে হত্যা করো এই খবর সারা মিশরে ছড়িয়ে পড়লো তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালামের আম্মাজান খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লেন কিভাবে তার শিশু মুসাকে বাঁচাবে ঠিক ওই সময় তার কন্যা মরিয়ম নদীর চরে ছাগল চড়াচ্ছিল ভালো করে লক্ষ্য করে দেখল হামানসহ ফেরাউনের অনেক সৈন্যবাহিনী তাদের বাড়ির দিকেই যাচ্ছে এটা দেখার পর মরিয়াম খুব দ্রুত তার বাড়িতে চলে আসলো এবং বলল আম্মাজান ফেরাউনের সৈন্যবাহিনী আমাদের বাড়ি এর দিকে আসছে আমার ভাই
মুসাকে তুমি বাঁচাও এই কথা শুনে হযরত মুসা আলাইহিস সালামের আম্মাজান একেবারে হতম্ব হয়ে গেল তিনি কিছুতেই বুঝতে পারছে না কি করবে ততক্ষণে ফেরাউনের সৈন্যবাহিনী তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলেছে এমন সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গায়েবী আওয়াজের মাধ্যমে বললেন হে মুসার আম্মাজান তুমি দেরি করো না তোমার পুত্র মুসাকে জ্বলন্ত চুলায় রেখে দিয়ে এসো হযরত মুসা আলাইহিস সালামের আম্মাজান আর দেরি না করে জ্বলন্ত চুলায় শিশু মুসা আলাইহিস সালাম কে রেখে দিলেন আর তখন হঠাৎ করে ফেরাউনের সৈন্যবাহিনী ঘরের মধ্যে প্রবেশ করল তারা বলল আমরা খবর পেয়েছি তোমার ঘরের মধ্যে মুসা নামক পুত্র সন্তান আছে তাড়াতাড়ি আমাদের কাছে দিয়ে দাও তখন
আম্মাজান বলল এই দেখুন আমার তো কন্যা সন্তান যদি আমার ঘরে মুসা থাকে তাহলে তোমরা খুঁজে বার করো তারপর ফেরাউনের সৈন্যবাহিনী ঘরের এদিক ওদিক তন্নতন্ন করে খুঁজতে লাগলো কিন্তু কোথাও পেল না অবশেষে সেখান থেকে তারা সবাই চলে গেল এরপর হযরত মুসা আলাইহিস সালামের আম্মাজান কাঁদতে কাঁদতে ওই জ্বলন্ত চুলার কাছে গিয়ে দেখলো হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বেঁচে আছে এবং ওই জ্বলন্ত আগুনের মধ্যেই খেলা করছে আল্লাহর ক্ষুদরতে হযরত মুসা আলাইহিস সালামের একটি পশমও আগুনে পড়েনি তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালামের আম্মাজান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন এবং বললেন হে আল্লাহ তুমি সমস্ত ক্ষমতার মালিক সমস্ত প্রশংসা তোমারই আল্লাহ গো
তুমি আমার পুত্র মুসাকে বাঁচিয়েছো অতঃপর হযরত মুসা আলাইহিস সালামের আম্মাজান ওই দিন রাতে স্বপ্ন দেখলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলছেন তুমি একটা কাঠের সিন্দুক তৈরি করো এবং হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লামকে ওই সিন্দুকের মধ্য দিয়ে নীল ননদে ভাসিয়ে দাও এদিকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে ডেকে বললেন হে জিব্রাইল তুমি যাও মুসা আলাইহিস সালামের আম্মাজানকে সাহায্য করো এই নির্দেশ পেয়ে হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম মুসা নবীর বাড়ির দিকে আসতে লাগলেন সকালবেলা হযরত মুসা আলাইহিস সালামের আম্মাজান নিজের ঘরের সামনেই খুবই চিন্তিত অবস্থায় ছিলেন এমন সময় দেখলেন একজন দরবেশ তার বাড়িতে এসে হাজির হলেন তখন মুসা নবীর আম্মাজান বললেন
আপনি কে আপনাকে তো চিনলাম না তখন তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে বললেন আমি একজন কাঠমিস্ত্রী আপনার কি কোন কাঠের জিনিস তৈরি করতে হবে সাথে সাথে মুসা নবীর আম্মাজান বলল অবশ্যই আমার একটা কাঠের সিন্দুক তৈরি করতে হবে আর এভাবেই আল্লাহতালা সেদিন জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লামের মাধ্যমে মুসা আলাইহিস সালামের আম্মাজানকে সিন্দুক বানিয়ে সাহায্য করেছিল অতঃপর মুসা আলাইহিস সাল্লামকে নীলনদে ভাসিয়ে দিলেন আল্লাহর কি কুদরত নীলনদের স্রোত যেদিকে যায় হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লামের কাঠের সিন্দুক ওই স্রোতের উল্টো দিকে যায় এইভাবে ভাসতে ভাসতে হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লামের এই কাঠের সিন্দুক ফেরাউনের রাজদরবারের কাছে গিয়ে পৌঁছালো সেখানে উপস্থিত ছিল ফেরাউন এবং তার
স্ত্রী মা আসিয়া এবং দাস-দাসী সিন্দুকটি দেখামাত্র মা আসিয়া এগিয়ে এলো মা আসিয়া সিন্দুকটি খুলে দেখল একটি ফুটফুটে কচি শিশু তার ললাটে যেন নূরের আলো চমকাচ্ছে এত সুন্দর শিশু সে জীবনে কখনোই দেখেনি তাই দেরি না করে মা আসিয়া মুসা আলাইহিস সাল্লামকে কোলে তুলে নিল এবং ফেরাউনের কাছে গিয়ে বলল দেখুন কত সুন্দর শিশু এই শিশুটিকে আমি লালন পালন করব এটা শুনে ফেরাউন বলল না এই শিশুই হয়তো আমাদের শত্রু হবে এটাই বনি ইসরাইলদের মধ্যে থেকে কোন এক শিশু হতে পারে একে আমি হত্যা করব তখন মা আসিয়া বলল কি বলছেন এটা যদি বনি ইসরাইলদের কোন শিশু হতো তাহলে নদীর
স্রোতে উল্টো দিকে কিভাবে আসলো এটা তো ওইদিকে যাওয়ার কথা ছিল এই যুক্তি শুনে ফেরাউন আর কিছু বলল না শুধু বললেন ঠিক আছে তুমি এই শিশুকে লালন-পালন করতে পারো অতঃপর মা আসিয়া হযরত মুসা আলাইহিস সালাম কে নিয়ে রাজদরবারে প্রবেশ করলেন ফেরাউন যখন মুসা আলাইহিস সালামকে কোলে তুলে নিল এবং নিজের সন্তান রূপে আদর করার জন্য চুম্বন দিতে যাবে এমন সময় হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম আল্লাহর হুকুমে ওই কচি শিশু হাতে এত জোরে ফেরাউনকে চড় মারলো যেন রাজদরবার কেঁপে গেল মনে হলো যেন ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেছে তখন ফেরাউনের মনে সন্দেহ প্রকাশ পেল মনে মনে বলতে লাগলো নিশ্চয়ই এই শিশু
কোন সাধারণ শিশু নয় একে পরীক্ষা করতে হবে তখন ফেরাউন একজনকে বলল যাও কিছুটা স্বর্ণ আনো আর তার সাথে আগুন নিয়ে এসো এই শিশুকে পরীক্ষা করব এটা শুনে সেখানে থাকা উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে গেল এই লোকটি যখন আগুন আর স্বর্ণ নিয়ে আসলো ঠিক ওই সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এর মাধ্যমে হযরত মুসা আলাইহিস সালামের হাত আগুনের দিকে ঘুরিয়ে দিল আর মুসা আলাইহিস সাল্লাম চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো তখন আসিয়া বলল আপনার মত কঠিন হৃদয় এবং নিষ্ঠুর এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই এই কচি শিশু কি আগুন এবং স্বর্ণের কোন পার্থক্য জানে অতঃপর ফেরা মনে ছন্দ
মুছে গেল আর এইভাবে হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম ফেরাউনের বাড়িতেই বড় হতে লাগলো প্রিয় দর্শক আজকের ভিডিও এখানেই শেষ আসসালামু আলাইকুম সবাই ভালো থাকবেন