আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আল্লাহর অশেষ রহমতে আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি আল্লাহতালা হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে শাম ও সিরা রাজ্য দান করার আশ্বাস দিয়েছিলেন সে মর্মে আল্লাহতালা জিহাদে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে আদেশ দিলেন এবং জিহাদে অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে বনী ইসরাইলদের 12 গোত্রের 12 জন নেতা বাছাই করে সেখানে প্রেরণ করতে বললেন তারা সেখানে জিহাদের স্থান অবস্থান ও পরিবেশ সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করবে অতঃপর হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহতালার আদেশ অনুসারে বনী ইসরাইলদের 12 গোত্র থেকে 12 জন লোক বাছাই করে তাদেরকে সিরিয়া প্রেরণ করলেন সেখানে গিয়ে তারা বিরাটময় লোকের সাথে সাক্ষাৎ
পেল এবং বিরাট বিরাট ফলমূল দেখল যা তারা কোনদিন কল্পনা করতে পারেনি কথিত আছে তখন সেখানে যে আঙ্গুর উৎপন্ন হতো তার একটি আঙ্গুর মিশরের 10 জনের খাদ্যের জন্য যথেষ্ট ছিল উহার ওজন ছিল প্রায় কয়েক মণ একটি আনারসের খোসার ভেতরে মিশরের 10 জন লোক বসবাস করতে পারতো একটি কলার ওজন ছিল আট নয় মণ তার 10 জনের কম লোকে উঠাতে পারতো না সেখানে মানুষও ছিল অত্যাধিক দীর্ঘ গায় তার মধ্যে উজবিন অনক নামের এক ব্যক্তি ছিল সর্বাধিক লম্বা সে নাকি 3000 গজ লম্বা ছিল সমুদ্রে তার হাঁটু পরিমাণ পানির বেশি কোথাও দেখা যায়নি উজবিন অনক ছিল হযরত আদম আলাইহিস সালামের
গোত্র সে 3000 500 বছর বেঁচে ছিল বনী ইসরাইলের 12 জন নেতা উজের কাছে গিয়ে তাকে দেখামাত্র ভয়ে দাঁতে খিল লেগে গেল এত দীর্ঘ মানুষ হতে পারে তারা কল্পনা করতে পারেনি ওদেরকে দেখে জিজ্ঞাসা করল তোমরা কারা কি জন্য এসেছো তখন তারা বলল আমরা বনী ইসরাইলদের লোক আমাদের নবী হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আমাদেরকে এখানকার অবস্থা জানার জন্য প্রেরণ করেছে আমরা তোমাদের সাথে জিহাদ করার জন্য আল্লাহতালার কাছ থেকে আদেশ পেয়েছি তাই জিহাদের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে আমরা এসেছি তখন উস্তার বিরাট দাঁত বের করে একটা অট্ট হাসি দিল অতঃপর 12 জন বনী ইসরাইল কে নিয়ে পকেটে পুড়ে নিল ওই
12 জন বনী ইসরাইল কে নিয়ে উজ বাড়ি চলে গেল এবং তার স্ত্রীর নিকট গিয়ে তাদেরকে পকেট থেকে বের করে মাটিতে রাখলো এবং তাদের পিপিলি কান্নায় পিশে মারার কথা বলল তখন তার স্ত্রী বলে এ দুর্বল মানুষ মেরে কোন সুনাম হবে না এ কাজে আল্লাহতালা নারাজ হতে পারেন তার চেয়ে এদের ছেড়ে দিয়ে 70 দেশ ত্যাগ করার কথা বলো তার স্ত্রীর কথা অনুসারে সকলকে ছেড়ে দিল এবং বলল এখনই এই দেশ ছেড়ে চলে যা আর কোনদিন যেন এখানে না দেখি বনী ইসরাইলের 12 জন নেতার মধ্যে ইউসা ও কালুত নামের দুইজন ছাড়া সকলে অত্যন্ত ভীত হলো সকলে দ্রুত দৌড়াদৌড়ি করে
দেশে ফিরলো তারা দেশে ফিরে সকলে একমত হয়েছিল যে সিরিয়ার প্রকৃত ঘটনা হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ও হযরত হারুন আলাইহিস সালাম ছাড়া অন্য কারো সাথে বলা যাবে না এমনিতে তারা জিহাদে যেতে অনিচ্ছুক তারপরে যদি এই বৃহৎ আকারের মানুষের কথা দ্বারা অবগত হয় তাহলে কেউ আর এই পথে পা বাড়াবে না এ সিদ্ধান্তের পর তারা পাঁচ দিন যাবত বিশ্রাম নিল তারপরে হযরত মুসা আলাইহিস সালামের নিকট সমস্ত ঘটনা বলল হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ঘটনা শুনে বিস্মিত হলেন তবুও আল্লাহতালার নির্দেশ তাকে অবশ্যই কার্যকরী করতে হবে তাই তিনি সকল বনী ইসরাইলকে সিরাজ যাত্রার নির্দেশ দিলেন হযরত মুসা আলাইহিস সালামের কথা অগ্রাহ্য
করার ক্ষমতা কারো নেই তাই তারা প্রস্তুত হয়ে রওনা করল বনী 12টি গোত্র প্রায় 6 লক্ষ লোক সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করল এর মধ্যে সিরিয়ার সফরকারী 12 জন নেতার মধ্যে দুইজন নেতা ইউশা ও কালুব ছাড়া বাকি 10 জনে নিজ নিজ ওয়াদা ভঙ্গ করে গোত্রের নিকট সিরিয়ার বিপদের খবর জানিয়ে দিলেন তখন বনী ইসরাইলের প্রায় সকল মানুষের মনে ভীষণ ভীতির সৃষ্টি হলো ফলে তারা নবীর সাথে সিরিয়া যেতে অস্বীকার করল হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এ খবর জানতে পেরে তাদের বারবার আল্লাহতালার বিজয়ের অঙ্গীকার শোনাতে লাগলেন বিশেষ করে ইউশা ও কালুত শরবত ঘুরে ঘুরে মানুষকে অভয় দিতে লাগলেন সারাদিন পথ চলার পরে
রাত্রির বিরতির জন্য নবী সকলকে নিয়ে এক পাহাড়ী এলাকায় অবস্থান নিলেন রাত্রিবেলা বনী ইসরাইলের লোকেরা সিরিয়া যাত্রা করার বদলে মিশর অভিমুখে রওনা করল গভীর রাত পর্যন্ত হেঁটে তারা তিয়া নামক এক স্থানে উপস্থিত হলো তিয়া নামক জায়গাটি ছিল ফিলিস্তিনি জর্ডান ও মিশরের মাঝখানে অবস্থিত এর দৈর্ঘ্য ছিল 100 km এবং প্রস্তুত ছিল 60 km ইসরাইলরা এ ময়দানে এসে আর সম্মুখে অগ্রসর হতে পারলো না কেমন যেন অবস্থা হলো তারা সেখান থেকে হাঁটা আরম্ভ করল কয়েক ঘন্টা পরে সেখানে এসে পৌঁছালো মিশর যাত্রার উদ্দেশ্য তারা দিবাত্র হাঁটতে লাগলো কিন্তু ঘুরে ফিরে তারা একই জায়গায় এসে পৌঁছায় সম্মুখে পেছনে তারা কোন দিকে
যেতে পারে না শুধু দেয়া ময়দানের মধ্যে দিবাত্র ঘুরতে থাকে অনেকে মনে করল এটা হযরত মুসা আলাইহিস সালামের বদদোয়ার ফল অতএব হযরত মুসা আলাইহিস সালামের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া কোন উপায় নেই হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বনী ইসরাইলদেরকে বাধা প্রদান করে কোন রকমের জিহাদের জন্য সিরিয়ার যাত্রায় রাজি করাতে পারলো না অবশেষে তিনি হযরত হারুন আলাইহিস সালাম ইউশা ও কালুত কে নিয়ে সিরিয়া যাত্রা করলেন বাকি সমস্ত লোকেরা মিশর ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিয়া ময়দানে উপস্থিত হলো হযরত মুসা আলাইহিস সালাম প্রথমে সিরিয়া পৌঁছে প্রথমেই উজবিন অনুকের নিকট গেলেন এবং তাকে বললেন আমি আল্লাহর নবী মুসা আমি তোমাকে দ্বীনের দাওয়াত দিতে
এসেছি তুমি এখন কালিমা পাঠ করে আল্লাহর উপর ঈমান আনো অন্যথায় আমি তোমার সাথে জিহাদ করব উজ হযরত মুসা আলাইহিস সালামের কথা শুনে বলল তুমি সেই নবী যে ফেরাউনের নীল নদী ডুবিয়ে মেরেছো তবে আমাকে মারা এত সহজ সাধ্য নয় তুমি তোমার আল্লাহকে নিয়ে দেশে যাও আমাকে বিরক্ত করো না বেশি বাড়াবাড়ি করলে পাহাড় চাপা দিয়ে পিশে মেরে দেব হযরত মুসা আলাইহিস সালাম পুজের কথা শুনে নিজ হাতে লাঠির উপর ভর করে পা দিয়ে উঠে লাঠি ঘুরিয়ে তাকে আঘাত করল এ আঘাতটি মাটি থেকে 120 গজ উপরে লাগে তাতে উজের হাঁটুতে গিয়ে আঘাত পড়ে উজ এ আঘাতে ভীষণ যন্ত্রণা বোধ
করে এবং অধিক ক্রোধান্বিত হয়ে পার্বত্য এলাকার দিকে দৌড় দেয় অল্পক্ষণের মধ্যে সে বিশাল পর্বত উপরিয়ে মাথায় তুলে হযরত মুসা আলাইহিস সালামের দিকে ফিরে আসতে থাকে প্রতিমধ্য আসমান থেকে দুটো বড় পাখি এসে উঁচের মাথার উপরের পর্বতের চোড়ার উপর ঠকর দিয়ে ছিদ্র করতে থাকে পাখির বিরাট বিরাট ঠোঁট দ্বারা ক্রমাগত আঘাতের পর আঘাত করতে থাকায় একটু পরে বিরাট এক গর্ত হয়ে উজের মাথা পর্যন্ত এসে যায় গর্তটি মাথার অতি নিকটবর্তী হঠাৎ একটি শব্দ করে পাহাড়টি তার মাথায় পড়ে যায় তার কাঁধে এসে পাহাড়টি ঠেকে পড়ে উজের মাথা চোখ মুখ সবই পর্বতের মধ্যে চলে যায় এখন সে আর কিছুই দেখতে পায়
না এখন সে পর্বতটি মাথার উপর দিয়ে উঠিয়ে ফেলে দেওয়ার জন্য প্রাণপন চেষ্টা করল কিন্তু পর্বতটি এমন ভাবে আটকে গেল যে বহু চেষ্টা করে সে পর্বতটি উঠাতে পারলো না তখন সে মনে মনে ভাবলো এটাকে আর এক পাহাড়ের সাথে আঘাত দিয়ে ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলতে হবে এভাবে ভাবনা চিন্তা করে আস্তে আস্তে সে সম্মুখ দিকে অগ্রসর হতে থাকে হঠাৎ একটি নদীর ভাঙ্গন পাড়ে পা দিতেই সে উপর হয়ে নদীতে পড়ে যায় তখন তার মাথা পর্বতের ভারে পানির মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে পা দুটো উপরে উঠে যায় বহু চেষ্টা চালিয়ে সে উঠতে পারলো না প্রায় দুই ঘন্টা পর সে ওখানে ছটফট করে
অবশেষে মৃত্যুবরণ করে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম হযরত হারুন কালুত ও ইউসা বহুদূরে বসে উজের অন্তিম অবস্থা দেখে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে অতঃপর তারা সম্মুখ দিকে আর অগ্রসর না হয়ে বনি ইসরাইলদের নিকট চলে আসে বনী ইসরাইলদের নিকট এসে দেখেন তারা তিয়া ময়দান প্রদক্ষিণ করে চলেছে কেউ এই ময়দানের বাহিরে যেতে পারছে না হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তাদেরকে বললেন তোমরা দানব আকৃতির যে উজের ভয়ে মিশর ফিরে আসছিলে সে উজ মৃত্যুবরণ করেছে এখন আর তোমাদের ভয় নেই এখন আমার সাথে সিরিয়া চলো কিন্তু বনী ইসরাইলরা রাজি হলো না তারা বলল আমরা দুঃখ-কষ্ট ভোগ করলেও সিরিয়া যাব না যদি আমাদের
মৃত্যুবরণ করতে হয় তাতেও আমরা সম্মত আছি কিন্তু সিরিয়া যেতে রাজি নই হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তখন আর কি করবে নিরুপায় হয়ে বনী ইসরাইলদের মায়ায় তিনিও সেখানে থেকে গেলেন তিয়া ময়দানটি ছিল একটি মরু ময়দান সেখানে কোন গাছপালা খাদ্য কিছুই ছিল না এক প্রান্তে কাটা গাছের এক জঙ্গল ছিল সেখানে কোন খাদ্য বা পশু ছিল না বনি ইসরাইলদের মজুদ খাদ্য শেষ হয়ে গেল তারা হযরত মুসা আলাইহিস সালামের নিকট গিয়ে বলল হে নবী আমরা আপনাকে সঠিক নবী বলে বিশ্বাস করি এবং আল্লাহতালার উপর আমাদের ঈমানের বহাল আছে আমরা আপনার অনুগত আমরা এই জিহাদের হুকুম ব্যতীত আর সকল হুকুম পালন করতে
সম্মত আছি আমরা সকলে আপনার আত্মীয়-স্বজন ও বংশীয় লোক এখন আমরা খাদ্যের অভাবে মৃত্যুবরণ করব আর আপনি তা নীরবে সহ্য করবেন আপনি আমাদের খাদ্যের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করুন অতঃপর হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বনী ইসরাইল দের কথা উপেক্ষা করতে পারলেন না তিনি তাদের মহব্বতে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করলেন এবং খাদ্যের ব্যবস্থা চাইলেন আল্লাহতালার নবীর দোয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বলেন হে নবী তুমি তোমার অবাধ্য কওমের জন্য যে বদদোয়া করেছিলে আল্লাহ তা কবুল করেছে এখন তাদের জন্য দোয়া করছো এটা তোমার আল্লাহ কবুল করবে না তোমার বংশের লোকেরা এতিয়া ময়দানে 40 বছর কাটাবে এটাই তাদের শাস্তি হিসেবে মঞ্জুর করা হয়েছে হ্যাঁ তাদের
আহারের ব্যবস্থাটা করে দেওয়া হবে তাদের জন্য মান্না ও সালোয়ার নামের দুই রকমের খাবারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি অতঃপর পরের দিন ভোরবেলা থেকে ধনিয়া ফলের ন্যায় এক প্রকার ফল বৃষ্টির ধারানার ন্যায় আকাশ থেকে পতিত হতে থাকে ফলগুলো খুব মিষ্টি ও তৃপ্তিদায়ক বনী ইসরাইলের লোকেরা এ ফলগুলো কুড়িয়ে নিয়ে খেত বিকেল বেলা এক প্রকার ছোট ছোট পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে এসে তাদের কাছে বসতো তারা এ পাখির জবেহ করে তার গোস্ত ভোনা করে খেত এভাবে তাদের দিন গুজরান হতে থাকে প্রখর রোদে পানির অভাবে বনী ইসরাইলরা খুবই যন্ত্রণায় সম্মুখীন হলো তখন তারা নবীর নিকট গিয়ে পানি এবং ছায়াপ্রাপ্তির আবেদন করল নবী দোয়া
পরামর্শ হয়ে আল্লাহতালার নিকট ফরিয়াদ জানালেন আল্লাহতালা তখন তাদের জন্য স্থায়ীভাবে মেঘমালার ব্যবস্থা করে দিলেন যাতে তারা রোদের তাপ থেকে মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হয় অতঃপর পানির ব্যবস্থার জন্য আল্লাহতালা হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে তার হাতের লাঠি দ্বারা নির্দিষ্ট এক পাথরের উপর আঘাত করতে বলল হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর আদেশ অনুসারে উক্ত পাথরের উপর লাঠি দ্বারা আঘাত করলেন অমনি সেখান থেকে 12টি পানির নহর প্রবাহিত হতে আরম্ভ করল বনী ইসরাইল 12 গোত্রের মধ্যে ঐক্য ছিল না তারা প্রত্যেকে অপরের চাইতে বনিয়াদি বলে দাবি করতো যার ফলে একদল লোকেরা অপর দলের খাদ্য ও পানির মুখাপেক্ষিত হতে চাইতো না এ অন্তর্দন্ত
তাদের মাঝে দীর্ঘকাল থেকে বলব ছিল এ অবস্থা চলাকালীন সময়ে বনী ইসরাইলরা তিয়া ময়দান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখে কিন্তু কারো পক্ষে তা সম্ভব হয় না সারাদিন সারারাত হাঁটার পরে যেখানের মানুষ সেখানে ফিরে আসতো হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহতালার আদেশক্রমে বনী ইসরাইলদের নিয়ে জিহাদের উদ্দেশ্যে সিরা যাত্রা করেছিলেন অতএব এ নবীর পক্ষে আল্লাহর আদেশের পরিপন্থী মিশর যাত্রার পক্ষে রায় প্রদান করা অথবা বনী ইসরাইলদের মিশরের পথ প্রদর্শন করা কোন ক্রমে সম্ভব ছিল না তাই তিনি বনী ইসরাইলদের রক্ষার জন্য সিরা গমনের কথা ছাড়া তার উপায় ছিল না আর সিরা যাত্রার বিষয়ে বনী ইসরাইল দল আদৌ সম্মত ছিল না
এমত অবস্থায় বনী ইসরাইলদের সঙ্গে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ও হযরত হারুন আলাইহিস সালামকে নিয়ে তিয়া ময়দানে বসবাস করতে হলো যদিও কয়েক বছর কষ্ট করে বনী ইসরাইলরা অতিষ্ট হয়ে যায় তখন তারা হযরত মুসা আলাইহিস সালামের নিকট সিরা যাত্রার ওয়াদা করে কিন্তু এসময় হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার অনুমতি প্রার্থনা করে তখন আল্লাহতালা তাদের সিরিয়া যাওয়ার অনুমতি দিলেন না বরং আল্লাহতালা নবীকে জানিয়ে দিলেন যে দেয়া ময়দানে তাদেরকে এভাবে 40 বছর শাস্তি ভোগ করতে হবে তারপর মুক্তি পাবে এবং সিরিয়া বিজয় হবে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার ঘোষণার পর আর কোন কথা বলতে সাহস পেলেন না বনী ইসরাইলদের
সাথে তিনিও তিয়া ময়দানে থেকে গেলেন বনী ইসরাইলের লোকেরা আসমানী খাদ্য মান্না ও সালোয়া নিয়মিত খেত এবং বস্তাবন্দি করে জমা রাখতো হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এ খাদ্য জমা করতে নিষেধ করতো কিন্তু তারা শুনলো না প্রায় এক মাসের খাদ্য জমা করে রেখে দিল তখন আল্লাহতালা উক্ত আসমানী খাবার বন্ধ করে দেন তখন তারা অস্থির হয়ে পড়ে এবং হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর দরবারে দোয়া করে খাদ্যের ব্যবস্থা করতে বলে হযরত মুসা তাদের খাদ্যের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন তখন আল্লাহতালা তাদের খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে আবার খাদ্য দিতে আরম্ভ করেন আল্লাহতালা যে পরিমাণ খাদ্য তাদের দিত সে খাবার তারা সংগ্রহ করে
রাখতে পারতো না একদা বনী ইসরাইলের লোকেরা হযরত মুসা আলাইহিস সালামের নিকট বলল হে নবী আমরা এক ঘেয়ে খাবার আর কতদিন খাবো আমাদের এই খাদ্য অরজি ধরে গেছে অতএব আপনি আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন আমাদের জন্য শাকসবজি তরি তরকারি পেঁয়াজ রসুন ইত্যাদি জাতীয় খাবার ব্যবস্থা করুক হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর নিকট এ খাবার বিষয়ে আরজ করলেন আল্লাহতালা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে দেন এবং বলেন যে তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এ খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে অতএব রুচি পরিবর্তনের জন্য কোন ব্যবস্থা করা হবে না হ্যাঁ তারা যদি রুচি পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন খাবারের দাবি করে তবে তাদেরকে পার্শ্ববর্তী শহরে যেতে বলুন
কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে তাদের পক্ষে 40 বছরের মধ্যে কোন শহরে যাওয়ার ক্ষমতা নেই বনী ইসরাইলরা তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এর উপর অনেক উত্তপ্ত করেছে দাবির পরে দাবি আদায় করে অনেক সুযোগ সুবিধা তারা ভোগ করেছে যদি হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তাদের প্রতি আন্তরিক না রাখতেন এবং তাদের দাবিসমূহ আল্লাহর দরবারে মঞ্জুর না করে দিতেন তাহলে তারা শেয়াল কুকুরের ন্যায় অল্পদিনের মধ্যে সমলে ধ্বংস হয়ে যেত হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ইচ্ছা করলে তাদের থেকে মৃত হয়ে ভালোভাবে জীবনযাপন করতেন কিন্তু সে চিন্তা কোনদিন তার মাথায় উদয় হয়নি এভাবে তিনি 30 বছর অতিবাহিত করার পর ওখানে তিনি ইন্তেকাল করেন যেদিন 40
বছর পূর্ণ হলো সেদিন তারা তিয়া ময়দান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পেল 40 বছর পর একদিনও আর তাদের সেখানে অবস্থান করতে হয়নি তারা ওখান থেকে বের হয়ে নিজের দেশে মিশরে চলে গেলেন আর কতকে কালুদ ও ইউসার সাথে ছিড়া বিজয়ের জন্য রওনা করল কালুত ইউসা উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে নবতি লাভ করেন তারা হযরত মুসা আলাইহিস সালামের কাঙ্খিত আশা সিরা বিজয় বাস্তবায়িত করল যে বিজয় অর্জনের কথা ছিল 40 বছর বছর পূর্বে বনী ইসরাইলদের নাফরমানির জন্য তা অর্জন হলো 40 বছর পরে ইউসা আলাইহিস সালাম ছিলেন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের বংশধর ইউসা আলাইহিস সালামের পরে কালুত আলাইহিস সালাম নোবা
লাফ করেন তিনি ছিলেন ইহুদ বিন ইয়াকুব আলাইহিস সালামের বংশধর