আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আল্লাহর অশেষ রহমতে আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি চোর মনে করে আল্লাহর একজন অলির হাত কেটে দেয়া হয়েছিল কিন্তু কেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই আল্লাহর ওলির সাথে কি ঘটেছিল তা জানতে হলে ভিডিওর একেবারে শেষ পর্যন্ত থাকুন কোন সময়কার ঘটনা কোন এক এলাকায় একজন আল্লাহওয়ালা বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন তিনি পার্থিব জীবনের সমস্ত সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে নিজের রবের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করেন তাই তিনি জনবসতি ছেড়ে একাই পাহাড়ে গিয়ে থাকতে শুরু করে দেন সেখানে তিনি আল্লাহতালার ইবাদত আল্লাহতালার জিকিরে তিনি তার সম্পূর্ণ সময় কাটাতে শুরু করলেন এভাবেই তিনি দুনিয়াদারী লোকজন
থেকে দূরত্ব স্থাপন করেছিলেন যে জঙ্গলে তিনি থাকতেন সেখানে অসংখ্য গাছ ছিল আর সেই গাছগুলিতে বিভিন্ন ধরনের ফল ধরেছিল সেই আল্লাহওয়ালা বুজুর্গ ব্যক্তির খাদ্য ছিল সে জঙ্গলের ফলমূল সে জঙ্গলের ফলমূল ছাড়া তা তিনি অন্য কিছু আর খেতেন না একদিন বসে বসে মনের মধ্যে না জানি কি স্মরণ আসলো তার তাই তিনি আল্লাহতালার সঙ্গে একটি অদ্ভুত ওয়াদা করে ফেললেন তিনি আল্লাহ তাআলার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি করে নিলেন এবং বললেন হে আমার আল্লাহ পরবর্তীতে না আমি এই গাছগুলি থেকে কোন ফল পেড়ে খাবো না আমি অন্য কাউকে বলবো যে সে যেন আমাকে ফল পেড়ে দেয় আমি সেই ফলগুলি খাবো না যে গাছগুলির
ডাল মাটি থেকে উপরে থাকবে আমি শুধুমাত্র সেই ফলগুলি খাবো যেগুলি ডাল হওয়ার চাপে নিজে নিজে ঝরে মাটিতে পড়ে যাবে অর্থাৎ আমি কোনদিনও আর ফল পেড়ে খাবো না না কাউকে ফল পেটে দেওয়ার জন্য বলবো এই ওয়াদার উপর সেই বুজুর্গ ব্যক্তিটি অনেক বছর ধরে কায়েম থাকলেন অর্থাৎ ওয়াদা করার পর থেকেই তিনি আর ফল পেটে খেতেন না না তিনি কারো কাছ থেকে খাবার চাইতেন বরং যে ফলগুলো আপনা আপনিতে মাটিতে পড়ে যেত তিনি শুধুমাত্র সেই ফলগুলি ভক্ষণ করতেন একবার আল্লাহতালা তার পরীক্ষা নিতে শুরু করলেন ফলে পাঁচ দিন কেটে গেল কিন্তু কোন গাছ থেকে কোন ধরনের ভয় ঝরে পড়লো না
তাই ক্ষুধার তাড়নায় দরবেশ অনেক কষ্ট পেলেন তিনি ক্ষুধার জন্য অস্থির হয়ে পড়লেন কোনভাবেই তিনি শান্তি পাচ্ছিলেন না এ অবস্থায় তিনি জঙ্গলে পথ দিয়ে কোথাও যাবার সময় পেয়ারার একটি গাছ দেখতে পেলেন যার ডালগুলি হাওয়ায় দুলছিল বড় বড় পেয়ারা সেই গাছের ডালের ঝুলছিল দরবেশ সেখানে দাঁড়িয়ে অনেক আশ্বাস দৃষ্টিতে সে পেয়ারা গুলি দেখতে শুরু করল দরবেশ অনেক ধৈর্য ধারণ করল আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখলো তিনি তার ওয়াদা স্মরণ রেখে হঠাৎ করে অনেক জোরে হাওয়া বইতে শুরু করল দরবেশ অনেক আশাবাদী হলো সে ভাবলো যে হয়তো আমার জন্য এই ফলটি ঝরে মাটিতে পড়ে যাবে কিন্তু অনেকক্ষণ ধরেই অনবরত বায়ু প্রবাহিত হওয়া
সত্ত্বেও কোন ফল ঝরে পড়লো না এখন দরবেশ অধৈর্য হয়ে গেল আর তার নফস নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেল আর ক্ষুধার তাড়নায় তিনি আল্লাহতালার কাছে যে প্রতিশ্রুতি করেছিলেন সেটি ভেঙে দিলেন আর হাত বাড়িয়ে পেয়ারা পেড়ে নিলেন আর তিনি পেটের ক্ষুধা নিবারণ করলেন এরপর সেই পাহাড়ে ডাকাতের একটি দল চলে আসলো রাতের বেলায় গ্রামে গিয়ে সেই ডাকাতের দল লোকজনদেরকে লুন্ঠন করে নিত আর দিনের বেলায় আবারো ফিরে এসে সে জঙ্গলের পাহাড়ে গিয়ে লুকিয়ে থাকতো একবার সে ডাকাতদের সম্বন্ধে বাদশার সিপাহীরা খবর পেয়ে যায় তাই অনেকগুলো সিপাহী এসে পাহাড়টিকে চারিদিক থেকে ঘেরাও করে দরবেশের এবাদতখানা সে ডাকাতদের কাছে ছিল সিপাহীরা সমস্ত চোরদেরকে
গ্রেফতার করল আর সেই আল্লাহওয়ালা বুজুর্গকে সে চোরদের সঙ্গে মনে করে গ্রেফতার করে নেয়া হলো আর তাদের সকলকে বাদশার আদেশ অনুযায়ী কারাগারে বন্দি করা হলো এবং কিছুদিন পরে তাদেরকে আদালতে হাজির করা হলো সেখানে এই ফরমান জারি করা হলো যে প্রত্যেক চোরের বা পা এবং ডান হাত কেটে নেওয়া হোক জল্লাদ বাদশার হুকুম পাওয়া মাত্রই তলোয়ার চালাতে শুরু করে দিল এবং সকল চোরের হাত ও পা কাটা হলো সেই সাথে দরবেশের ডান হাতটি কেটে ফেলা হলো অর্থাৎ যে হাত দিয়ে পেয়ারা পেরেছিল আর যে হাত দিয়ে ভক্ষণ করেছিল সেই হাতটি কেটে গেল যখন জল্লাদ তার বা পা কাটার জন্য তলোয়ার
চালাতে চাচ্ছিল ইতিমধ্যে একজন ব্যক্তি ঘোড়ায় চড়ে খুব দ্রুততার সঙ্গে সেখানে এসে উপস্থিত হলো আর চিৎকার করে জল্লাদ কে ডেকে বলল এই অভিশপ্ত ব্যক্তি একটু লক্ষ্য করে দেখুন এ লোকটি কোন সাধারণ মানুষ নয় আর কোন চোর না বরং তিনি হলেন অনেক বড় একজন আল্লাহওয়ালা হুজুর ব্যক্তি আর তুমি তাকে শাস্তি দিচ্ছ এখন আল্লাহর আজাবের অপেক্ষায় থাকো ঘোড়ায় আরোহণকারী ব্যক্তির এমন কথা শুনে জল্লাদের হাত থেকে তলোয়ার পড়ে গেল আর সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সে এখান থেকে পালিয়ে গেল এবং বাদশার কাছে গিয়ে উপস্থিত হলো আর সেই ঘোড়ায় আরোহণকারী ব্যক্তির কথা সে বাদশাকে জানিয়ে দিল বাদশাহ এমন কথা শুনে অবাক
হয়ে গেল আর সেও অনেক ভয় পেল আর ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সে আল্লাহওয়ালা বুজুর্গ ব্যক্তির কাছে এসে উপস্থিত হলো আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিদের সামনে হাত জড়ো করে বলতে লাগলো হে আল্লাহর নেক বান্দা আমি এটি বুঝতে পারিনি যে আপনি আসলে কে আমরা আপনাকে চোর বা ডাকাত মনে করেছিলাম আমরা মনে করেছিলাম যে আপনি তাদের এই সঙ্গী যারা রাতের বেলায় গ্রামের লোকজনদেরকে লুটে নেয় আমি না জেনে আপনার উপর অনেক অত্যাচার করেছি আমার অজ্ঞতার জন্যই এত বড় ভুল হয়েছে আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন বুজুর্গ ব্যক্তি বলল এখানে তোমার কোন ভুল নেই আমি যে গুনাহ করেছি তার জন্যই আমার হাত কেটে
ফেলা হয়েছে তুমি তো এ বিষয়ে কিছুই জানো না যে আসলে আমার হাত কি জন্য কেটে ফেলা হয়েছে সুতরাং তুমি নিশ্চিন্ত থাকো ওই বলে সে বুজুর্গ সেখান থেকে চলে গেল এর কিছুদিন পরের ঘটনা একদা এক ব্যক্তি বিনা অনুমতিতে সে বুজুর্গ ব্যক্তির কঠিরের ভেতরে প্রবেশ করে আর প্রবেশ করে সে একটি বিস্ময়কর দৃশ্য দেখতে পেল যে হাত কাটা সেই আল্লাহর ওলি নিজের দুই হাত নিয়ে পাঞ্জাবি সেলাই করছেন সে এমন দৃশ্য দেখে সে অবাক হয়ে যায় আর সে বলতে লাগলো হুজুর আমি এসব কি দেখছি আপনার দুটি হাতে সহি সালামত রয়েছে লোকজন তো আপনার ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের কথোপকথন করে তখন
দরবেশ বলল আরে ও আমার জানে দুশমন তুমি আমার কুটিরে আমার অনুমতি ছাড়াই কেন প্রবেশ করলে সে লজ্জিত হয়ে বলতে লাগলো হুজুর আমি আপনার সঙ্গে মোলাকাত করার জন্য অনেক উৎসাহ ছিলাম অর্থাৎ আমি আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাচ্ছিলাম আর আপনার কাছে জানতে চাচ্ছিলাম যে আসলে এমনটা কি হয়েছিল এজন্য আমি আপনার কাছে অনুমতি না নিয়েই আপনার কুটির ভেতরে প্রবেশ করে গিয়েছি দরবেশ তার ভালোবাসা এবং সম্মানকে দেখে বলল তুমি যখন এসে গিয়েছো তাহলে আমার কাছে এসে বসো কিন্তু খবরদার যা কিছু তুমি নিজের চোখে দেখলে আমার জীবিত থাকাকালীন তুমি কাউকে জানা মানুষের চাওয়া বা না চাওয়াতে কোন কিছুই ঘটে না
তাদের কথোপকথনের মাঝখানে তার সঙ্গে মোলাকাত করার জন্য বাহিরে আরো অনেক মানুষ জমা হয়ে গিয়েছিল তারাও সেই আল্লাহওয়ালা বুজুর্গ ব্যক্তিটিকে দুই হাতে পাঞ্জাবি সেলাই করতে দেখে নিল এখন সবাই বুঝে গেল যে তিনি একজন অনেক বড় আল্লাহর ওলি আর তার উপর আল্লাহর এক বিশেষ রহমত রয়েছে দরবেশ যখন জানতে পারলো যে সবার কাছে তার রহস্য খুলে গিয়েছে যে তার হাত কেটে গিয়েছে কিন্তু আল্লাহতালার কুদরতে এই হাতটি সহি সালামতে রয়েছে তখন তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন হে আল্লাহ এই হিকমত আপনি ভালোভাবে জানেন আমি যতটা এটি গোপন করতে চেষ্টা করেছি আপনি ততটাই সেটিকে প্রকাশ করে দিয়েছেন এরপর তিনি আল্লাহু আকবার
সুবহানাল্লাহ ধ্বনি উচ্চারিত করলেন আর তিনি আল্লাহতালার দরবারে সেজদায় পড়ে গেলেন আর সেজদায় পড়ে অনেক কান্না করলেন আর বললেন হে মালিক আপনি যা করেন সেগুলির মধ্যে কোনো না কোনো হিকমত লুকিয়ে থাকে আমাদের সকলের গুনাহ গুলো মাফ করে দিন আপনি এটি তো দেখলেন যে আমি আমার প্রতিশ্রুতিকে ভাঙলাম আর গাছ থেকে পেয়ারা পেড়ে খেলাম আপনি আমাকে সে কাজের জন্য শাস্তিও দিলেন কিন্তু আপনি আপনার বান্দাকে কতই না ভালোবাসেন আপনি আমাকে লোকজনের কাছে অসম্মানিত হতে দেননি আমার হাত তো কেটে গিয়েছিল কিন্তু তারপরে আবারো সেই হাত ফিরে আসলো ইয়া আল্লাহ আপনি কতই না মেহেরবান আমাদের সমস্ত গুনাহ গুলোকে মাফকারী আপনি আমাদেরকে
বারবার মাফ করে দেন ইয়া আল্লাহ আমি আপনার বারগাহে আমার ভুলের জন্য তওবা করেছি আমার তওবা কবুল করে নিন আর আমাকে মাফ করে দিন সুবহানাল্লাহ বন্ধুরা আল্লাহর যারা অলি হয়ে থাকেন আল্লাহ তাআলার সঙ্গে যদি তারা কোন ধরনের ওয়াদা করে থাকেন তাহলে তারা অবশ্যই তার ওয়াদা কায়েম করে থাকেন আর যদি কোন কারণে তারা সেই ওয়াদাকে ভঙ্গ করে দেন তাহলে তারা আল্লাহতালার শাস্তি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন আর আল্লাহতালা নিজের বান্দাদের জন্য কতই না মেহেরবান যে তিনি তার বান্দাদেরকে ওয়াদা ভঙ্গ করার জন্য শাস্তিও দেন আবার তার উপর বিশেষ ধরনের রহমত করে তাকে লোকজনদের সম্মুখে অসম্মানিত হওয়া থেকে বাঁচিয়ে নেন
আল্লাহতালা তাকে অবশ্যই করেন যারা আল্লাহর কথা মেনে চলেন আল্লাহ তাআলা তাকে কখনোই বিপদে একা ছেড়ে দেন না আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সকলকেই প্রকৃত ঈমানদার হওয়ার তৌফিক দান করুন আমিন