আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আল্লাহর অশেষ রহমতে আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফাই রহমাতুল্লাহি আলাইহির নাম আমরা কমবেশি সবাই শুনেছি তিনি অত্যন্ত উঁচু স্তরের একজন বুজুর্গ ছিলেন তার জীবনে অনেক বিষয়কর ঘটনা ঘটে আর আজকের এই ভিডিওতে আমরা হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফাই রহমাতুল্লাহি আলাইহির জীবনের একটি বিষয়কর ঘটনা সম্পর্কে বলছি চলেছি যা শুনে আপনার মন ছুঁয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ তাই ভিডিওটি একবারে শেষ পর্যন্ত দেখবেন ঘটনাটি হলো জীবনভর তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা শরীফে উপস্থিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে সে স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি দোয়া করতেন
অবশেষে মহান আল্লাহতালা তাকে হজ পালনের সৌভাগ্য দান করলেন তিনি হজে গেলেন আর হজ শেষ করার পর তিনি গেলেন মদিনায় যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওজা শরীফে উপস্থিত হলেন তখন তার অবচেতন মন থেকে হৃদয় নিংড়ানো কিছু কথা বেরিয়ে এলো তিনি বললেন হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমি দূরে ছিলাম তখন আমি আমার আত্মাকে আপনার খেদমতে পাঠাতাম আমার আত্মা আমার প্রতিনিধি হয়ে মদিনার মাটিতে চুমু খেত আজ মহান আল্লাহতালার অনুগ্রহে আমি সশরীরে উপস্থিত হয়েছি আমার ঠোঁটদয় চুম্বন করার সৌভাগ্য লাভ করেছে হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফাই রহমাতুল্লাহি আলাইহির এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা
হতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জ্যোতির্ময় হাত বাড়িয়ে দিলেন তখন উপস্থিত সকলেই প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত মোবারক দেখার সৌভাগ্য অর্জন করলেন এবং হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রে ভাই রহমাতুল্লাহি আলাই সেই হাত মোবারকে চুম্বন করে ধন্য হলেন অতঃপর তিনি মদিনা থেকে বিদায় গ্রহণ করলেন এর মূল রহস্য কি তা কেবলমাত্র আল্লাহতালা ভালো জানেন এ ঘটনার পর হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফাই রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন এ ঘটনার দ্বারা মহান আল্লাহতালা আমাকে এমন ভাবে সম্মানিত করেছেন যা ইতিপূর্বে আর কাউকে করেননি কিন্তু এই ঘটনা আমার অন্তরে কোনরূপ অহংকার সৃষ্টি করবে না তো এই কথা ভেবে তিনি মসজিদে
নববীর দরজায় শুয়ে পড়লেন এবং উপস্থিত সবাইকে আল্লাহতালার কসম দিয়ে বললেন মহান আল্লাহ তাআলার কসম তোমরা সকলেই আমাকে মারিয়ে যাও এবং তিনি অন্তরে যে সামান্য অহংকারের আশঙ্কা করেছেন এবং তার সঙ্গে সঙ্গেই তার চিকিৎসা করলেন অহংকার তার অন্তরকে কলুষিত করতে না পারে একবার হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফায় রহমাতুল্লাহি আলাই বাজারে যাচ্ছিলেন প্রতিমধ্যে তিনি একটি কুকুর দেখতে পেলেন এই কুকুরটির সারা শরীরে ঘা ছিল ব্যাধিতে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল যে কুকুরটি হাঁটতে পারছিল না যারা মহান আল্লাহ তাআলার বিশেষ বান্দা তারা সকল মাখলুককে ভালোবাসেন এ ভালোবাসা মূলত মহান আল্লাহ তাআলার জন্যই যখন হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফাই রহমাতুল্লাহি আলাই ক্লান্ত
অবসান অবস্থায় কুকুরটিকে দেখতে পেলেন তখন তার অন্তরে কুকুরটির প্রতি মায়ামতা জেগে উঠলো তিনি কুকুরটিকে নিয়ে ঘরে চলে গেলেন এবং ডাক্তারকে খবর দিলেন এবং চিকিৎসা করালেন ডাক্তার কুকুরটির শরীরে মালিশ করার জন্য একটি মলম দিলেন হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেভায় রহমাতুল্লাহি আলাই নিজের হাতে কুকুরের শরীরে মলম লাগিয়ে দিতেন এইভাবে কয়েক মাস চলার পর কুকুরটি সুস্থ হয়ে গেল তখন তিনি তার এক ঘনিষ্ঠ জনকে বললেন যদি কেউ এই কুকুরটি দেখাশোনার দায়িত্ব নিত তাহলে অনেক ভালো হতো আর যদি কেউ না নেয় তাহলে আমি আর দায়িত্ব নিলাম এ ঘটনার পর একদা হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফাই রহমাতুল্লাহি আলাই কোথাও যাচ্ছিলেন সময়টা
ছিল বর্ষাকাল তিনি ফসলী জমির আইলের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন দুইদিকেই কাঁদা মাটির ক্ষেত হাঁটতে হাঁটতে এমন একটি নালার কিনারে এসে দাঁড়ালেন যে তার বিপরীত দিক থেকে একটি কুকুর আসছিল তাকে দেখে কুকুরটিও দাঁড়িয়ে গেল নালাটি পার হওয়ার পথে এতটাই সরু যে দুজন একসঙ্গে পার হওয়া সম্ভব নয় হয়তো কুকুরটিকে কাঁদায় নামতে হবে নয়তো হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফ ভাই রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে কাঁদায় নামতে হবে মনের ভেতর দ্বন্দ শুরু হলো কে কাঁদায় নামবে আমি নাকি এই কুকুর ঠিক এমন সময় মহান আল্লাহতালা কুকুরকে বাকশক্তি দান করলেন এবং শুরু হলো কুকুর এবং হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফ ভাই রহমাতুল্লাহি আলাইহির মধ্যে
কথাবার্তা সে কথাবার্তার ভাষা ও ধরণ কি ছিল তা একমাত্র মহান আল্লাহতালা ভালো জানেন হতে পারে মহান আল্লাহতালা কুকুরটিকে সাময়িক সময়ের জন্য বাকশক্তি দান করেছিলেন আবার এমনও হতে পারে তাদের কথাবার্তা মৌখিক হয়নি হয়েছে অন্তরে অন্তরে সে যাই হোক হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফায় রহমাতুল্লাহি আলাই কুকুরটিকে বললেন তুমি নিচে নেমে দাঁড়াও আমাকে রাস্তা পার হতে হবে কুকুরটি বলল আমি কেন নিচে নামবো আপনি এত বড় দরবেশ মহান আল্লাহ তাআলার ওলি হিসেবে এই পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ান মহান আল্লাহ তাআলার ওলিদের স্বভাব হলো অন্যকে নিজের উপর প্রাধান্য দেওয়া তারা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করে নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয় আপনি কেমন অলি আপনি
আমাকে কাঁদায় নামতে বলছেন আপনি নিজে কেন নামছেন না হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফায় রহমতুল্লাহি আলাই বললেন দেখো তোমার এবং আমার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে আমাকে নামাজ পড়তে হয় কিন্তু তোমার উপর কোন নামাজ নেই কাঁদায় নামার কারণে যদি তোমার শরীর নাপাক হয়ে যায় তবে তোমাকে গোসল করতে হবে না পবিত্র হতে হবে না আর যদি আমি কাঁদায় নামি তাহলে আমার শরীর নাপাক হয়ে যাবে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে আমাকে গোসল করতে হবে কাপড় ধুতে হবে এজন্য আমি তোমাকে কাঁদায় নামতে বলছি কুকুরটি এবার হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফায় রহমাতুল্লাহি আলাইহি কে বলল খুবই চমৎকার কথা কাপড় নাপাক হয়ে যাবে জনাব
যদি আপনার কাপড় নাপাক হয়ে যায় তাহলে তার চিকিৎসা খুবই সহজ ধুয়ে ফেললেই কাপড় পাক হয়ে যাবে আর যদি নিচে নেমে দাঁড়ায় তাহলে আপনার অন্তর নাপাক হয়ে যাবে আপনার মনে এই ভাবনার উদয় হবে আমি একটা মানুষ আর এটা একটা কুকুর আমি এর চাইতে উত্তম আর এই ভাবনা আপনার অন্তরকে নাপাক করে ফেলবে নিজের অন্তর এভাবে নাপাক করার চাইতে কাপড় নাপাক করা অনেক ভালো সুতরাং আপনি নিচে নেমে যান এবং আমাকে যেতে দিন কুকুরের জবাব শুনে হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফাই রহমাতুল্লাহি আলাই নিরত্তর হয়ে পড়লেন এবং বললেন তুমি ঠিকই বলেছ কাপড় ধোয়া যাবে কিন্তু অন্তর ধোয়া যাবে না একথা
বলে হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফায়ী রহমাতুল্লাহি আলাই কাঁদায় নেমে কুকুরকে যেতে দিলেন কুকুরের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটার পর মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফাই রহমাতুল্লাহি আলাইহির প্রতি এই মর্ম এলহাম হলো হযরত সৈয়দ আহমদ কোভিদ রেফাই রহমাতুল্লাহি আলাই আমি তোমাকে জ্ঞানের এমন এক সম্পদ দান করলাম যার মর্যাদা অন্য সকল জ্ঞানের চাইতে অনেক বেশি কয়েকদিন আগে একটি কুকুরের দুর্দশা দেখে তুমি ব্যথিত হয়েছিলে এবং কুকুরের প্রতি তুমি যে যত্ন নিয়েছিলে এটা তারই বিনিময় তার প্রতিদান স্বরূপ আজ একটি কুকুরের দ্বারা তোমাকে এমন এক জ্ঞান দান করলাম যে জ্ঞান সকল জ্ঞানের চাইতে শ্রেষ্ঠ এবং সার কথা
হলো একজন মানুষ নিজেকে কুকুরের চেয়েও শ্রেষ্ঠ মনে করবে না বরং নিজেকে কুকুরের চেয়েও তুচ্ছ মনে করবে তো প্রিয় দর্শক এই ছিল আমাদের আজকের এই ভিডিও কেমন লাগলো কমেন্ট করে আমাদের অবশ্যই জানাবেন আজ তাহলে এই পর্যন্তই আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ