আমি আমার সারাজীবনে দেখেছি রবীন্দ্র চর্চা যত রকম সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল আছে গান হোক নাচ হোক আবৃত্তি হোক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান হোক বেতা টিভি সব জায়গাতে আমি সবচেয়ে প্রাধান্য দেখেছি সবচেয়ে বেশি দেখেছি ওভারওয়েলমিং বেশি দেখেছি রবীন্দ্র চর্চা আমি দোষপন্দ কিছু বলছি না শুধু আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হতো যে একজনকে আমরা বানিয়েছি রাজনৈতিক ঈশ্বর রাজনৈতিক জগতের আরেকজনকে আমরা মানে শেখ হাসিনার আরেকজনকে বানিয়েছে হচ্ছে সাংস্কৃতিক জগতের ঈশ্বর এই ঈশ্বরদের দাপটের কাছে নজরুলের মত গণমানুষের যারা প্রতিনিধি ছিল তাদেরকে আসলে কোনদিন সেভাবে তুলে ধরা হয় নাই এটা আমার জাস্ট অনেস্ট রিয়ালাইজেশন তবে আমার নিজের কাছে মনে হয়েছে আমাদের জাতীয় জীবনে আমাদের
যে রাজনৈতিক চরিত্র রয়েছে আমাদের যে সামাজিক চরিত্র রয়েছে এই রাজনৈতিক সামাজিক চরিত্রে নজরুল অনেক অনেক বেশি রেলিভেন্ট কারণ উনি বিদ্রোহের কবি আমরা বারবার বিদ্রোহ করি আমরা যখন সব মানে কি বলবো আশা হারিয়ে ফেলেছিলাম অধিকাংশ মানুষ এবং আমরা যখন নিয়তির মতই ধরে নিয়েছিলাম যে হিসাব করতাম যে 2042 নাকি 82 আর গুনতাম কত বয়স হলে একজন মানুষ আসলে স্বাভাবিক মৃত্যু হয় এটা গুনতাম আর কতদিন এবং মাঝে মাঝে আমি দুঃখ করে বলতাম যে আমার মনে হয় উনি আমাদের সবাইকে আউটলিভ করবে আউটলিভ করা তো বুঝছেন আর কি আমাদের আমরা পড়ে যাবে কিন্তু উনি বেঁচে থাকবে এবং ধীরে ধীরে কিন্তু
বয়স কম ছিল উনার তো এরকম একটা সময়ে আমাদের তরুণরা যেই মহান বিদ্রোহ করলো যে অবিশ্বাস্য বিদ্রোহ করলো জীবনের মায়া ত্যাগ করে আমি তো ওদের সাথে অনেক কথা হয় জাস্ট মনে হয়েছে আমাদের আমি আমাকে মাঝে মাঝে বলে নাহিদ আসিফরা বলতো আর কি যে 18 তে যারা আন্দোলন করেছিল তারা তাদের সাথে তাদের একটা পার্থক্য আছে 18 তে যারা আন্দোলন করেছিল তারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে আসতে পারে নাই এবং ওরা ডিটারমাইন ছিল মরে গেলে মরে যাব রাজপথ ছাড়বো না এবং এই সাহস তারা আমাদের মত বৃদ্ধ মানুষদের মনে সঞ্চারিত করতে পেরেছিল এরকম একটা মানে বিদ্রোহী জাতি এরকম একটা অপরাজীয়
জাতি তার জন্য তো সবচেয়ে বেশি রেলিভেন্ট নজরুলের হওয়ার কথা সকল চর্চার মধ্যেই উনার উপস্থিত থাকার কথা আমি তো কবিতা পড়তে পারি না বাট যখন আমরা এই কবিতার লাইনগুলো শুনি যে বিদ্রোহী রণক্লান্ত আমি সেইদিন হব শান্ত যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশের বাতাসে ধ্বনিবে না এর চেয়ে এর চেয়ে মহান কথা আর কি থাকতে পারে মানে এর চেয়ে আমাদের যেই যেই শোষণ শুধু বাংলাদেশে না পৃথিবীতে নানান দেশে নানান যুগে এবং এখনো হয় এখানে আপনার মজলুম মানুষের পক্ষে এর চেয়ে সত্য উচ্চারণ এর চেয়ে সঠিক উচ্চারণ কি হতে পারে তারপর যখন আমি এসব কিছু জিনিস পড়ি পড়ছিলাম হঠাৎকার মনে হলো
যে বক্তৃতা করতে করতে মাহমুদ ভাইকে জিজ্ঞেস করবে যে আমি সেইদিন হব শান্ত জবের উৎপীড়িতের ক্রন্দরোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না মাহমুদ ভাই একটু জিজ্ঞেস করবো মাহমুদ ভাই এখন কি একটু শান্ত হয়েছেন একটু শান্তি লাগছে একটু বোধহয় লাগছে আমি মাহমুদ ভাইয়ের কথা একটু বলব আমার কাছে মনে হয় যে উনি আমার সামনে একজন জীবন্ত নজরুল আমি আপনাদের অনেস্টলি বলি আমাকে আমার নিজের সাহস এবং দেশপ্রেম নিয়ে আমার একটু আত্মতৃপ্তি আছে কিন্তু আমি যখন মাহমুদ ভাইয়ের দিকে তাকাই আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে মাহমুদ ভাই কি আমার চেয়ে সাহসী আমি বলব অবশ্যই সাহসী মাহমুদ ভাই কি আমার চেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক অন্য
কারো নাম বলে আমি সন্দেহ করতাম কিন্তু মাহমুদ ভাইয়ের নাম যদি কেউ বলে আমি সন্দেহ করবো না এবং আমরা সেই শাহবাগের দুঃস দিনগুলোতে আপনাদের একটু মনে করি আমার রুমে আগুন দেওয়া হয়েছিল 16 থেকে 20 টা ব্যানার টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে প্রচন্ড মানে প্রচন্ড মানে অদ্ভুত লাগতো যে এইরকম একটা একটা সময় বাংলাদেশে আসবে যে সামান্য একটা কথা বলার জন্য রোগের মধ্যে আগুন দিয়ে দিল তখন একটু নিজেও একটুখানি অবদমিত হয়ে গিয়েছিলাম ভাবতাম যে আর কত রিস্ক নেব একটু বুঝে চলা শুরু করেছিলাম সেরকম সময় একদিন দেখলাম প্রথম আমার দেশে প্রায় আট কলাম
হেডিং ছিল একটা আট কলাম বড় বড় আপনার অক্ষরে শাহবাগে ফ্যাসিবাদের প্রতিধ্বনি মানে আমি বিশ্বাস করতে পারি না এটা সম্ভব ওই সময় বসে এরকম একটা হেডলাইন করা আমার তো মনে হয় মাহমুদ ভাই শুধু এই হেডলাইনের জন্য বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে প্রতিবাদের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং এরপর আমার একটা জিনিস মনে আছে যেদিন উনাকে আদালত প্রাঙ্গণে আক্রমণ করা হয় যেদিন উনার পুরা শরীর রক্তাক্ত ছিল আমি কয়েকদিন আগে ভিডিওটা আবার দেখেছি আমার মনে হয় কি আমরা সবাই একটু দাঁড়িয়ে উনাকে একটু সম্মান জানাই এই দেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং জুলুমের বিরুদ্ধে উনি যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে আমাদের প্রত্যেক তরুণের জীবনে এটা একটা
পাথেয় হয়ে থাকুক ধন্যবাদ বসে আমাদের কবি নজরুলের আরেকটা কবিতা আছে ছোটদের জন্য লেখা কিন্তু কি মিনিংফুল কবিতা উনি সেখানে বলেছেন যে আমরা যদি না জাগিমা কেমনে সকাল হবে তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে তো আমাদের অনেকের মনে হয় আমাদের তরুণরা আমাদের যুবকরা আমাদের ছাত্ররা যেভাবে প্রাণ দিয়েছে তারা জেগে উঠেছে জেগে উঠেছিল দেখে রাতটা চলে গেছে বাট আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের কি রাত আসলে চলে গেছে আমাদের একটা রাত চলে গেছে আমাদের আরো রাত ভবিষ্যতে আসবে আমাদের এখানে এই রাত আনার যে এজেন্টরা তারা সক্রিয় আছে কাজেই আমাদের যে দীর্ঘস্থায়ী রাত যারা উপহার
দিয়েছিল যারা চাপিয়ে দিয়েছিল আমাদের অবশ্যই তাদের বিচার করতে হবে আমাকে অনেক সময় আপনারা বলেন যে পুলিশ এটা করলো কেন জিনিসপত্র দাম মারলো কেন আমি আইনমন্ত্রী আমার দায়িত্ব হচ্ছে একটা সুবিচার নিশ্চিত করা সেটা করতে পারি নাকি দেখেন যদি যতদিন বেঁচে আছি এই লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হবো না যারা জুলাই হত্যাকাণ্ড করেছে অবশ্যই বাংলাদেশে তাদের বিচার হবে অবশ্যই তাদের বিচার [প্রশংসা] হবে আমাদের এখানে আরেকটা সাংস্কৃতিক লড়াই রয়েছে এখানে শিবলিরা রয়েছে আব্দুল হায়দ শিকদার ভাই রয়েছে মাহমুদ ভাই রয়েছে আমাদের এখানে আমি কোন শত্রুতা বসত বলছি না আমাদের দেশের সর্বক্ষেত্রে বিশেষ করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যেভাবে ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা করা
হয়েছে অবিশ্বাস্য মাত্রায় চলে গেছে মাহমুদ ভাই নিশ্চয়ই আপনি তিন মাসের মধ্যে টের পাচ্ছেন আমাদের এখানে এমনকি একটা সামান্য বিয়ের প্রোগ্রামের মধ্যেও আমি দেখি আমার নিজের চোখে দেখা হিজাব করা মেয়ে সেও হিন্দি নাচের তালে তালে ড্যান্স করছে এমন ভাবে অনুপ্রবেশ করিয়েছে ভারত বাংলাদেশে কোন জিনিস ফ্রি দেয় না এতগুলো টিভি কেন ফ্রি দিয়েছে এই সামান্য প্রশ্ন আমরা করতে ভুলে গিয়েছিলাম তো এই সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে কোন অন্য দেশের প্রতি শত্রুতা থেকে না নিজের আত্মপরিচয় নিজের আত্মমহিমা নিজের আত্ম অহংকারকে বুঝার জন্য এই লড়াই মাহমুদ ভাইয়ের পত্রিকা অব্যাহত রাখবে জুলুমের বিরুদ্ধে পত্রিকার লড়াই অব্যাহত থাকবে এটা কামনা
করছি নজরুল ইনস্টিটিউটে আমাদের বন্ধুরা আছে বাংলা একাডেমীতে বন্ধুরা আছে সমস্ত ক্ষেত্রে নজরুলকে নজরুল চর্চাটা শুরু হবে এবং এই চর্চাটা খুব আনন্দময় ভাবে করতে হবে আব্দুল হাই শিকদার ভাই বলল না যে চাপিয়ে দেও না চাপিয়ে দেওয়ার পরিণতি কি হয় এই শত শত মূর্তি ভাঙ্গার মধ্যে তো আপনারা দেখেছেন চাপিয়ে দেওয়ার দরকার নেই এটাকে আনন্দময় ভাবে উপভোগ্যভাবে সবার কাছে অংশগ্রহণমূলকভাবে সবার কাছে জিনিসটাকে স্প্রেড করতে হবে আমরা আমাদের তরুণদের মধ্যে সতস্ফুর্তভাবে যে দেয়াল লিখন দেখেছি এই দেয়াল লিখনের ভাষা বাংলাদেশের প্রতিটা প্রান্তরে নিয়ে যেতে হবে আমি আর কিছু বলবো না ভবিষ্যতে মাহমুদ ভাই বলছেন যে উনি আব্দুল্লাহ শিকদার ভাইয়ের পরে
বক্তৃতা দিবেন না আমি পরে আগে কোন সময় বক্তৃতা দিব না উনি বক্তা চাইলে আমি শ্রোতার আসনে বসবো ধন্যবাদ সবাইকে আচ্ছা আমি তো সংবিধান সংস্কার কমিশনের কেউ না বাট যখন এটা পলিটিক্যাল ডায়লগ হবে যেখানে আমার ইনভল্ভ স্কোপ থাকবে অবশ্যই আমি এটা বলব তবে আমি নজরুল একাডেমী আব্দুল হাই শিকদার ভাই মাহমুদুর রহমান ভাই উনাদের কাছে রিকোয়েস্ট করবো মাহমুদ রহমান ভাইকে রিকোয়েস্ট করা একটু রিস্কি কারণ উনি গতানুঙ্গুঙ্গিক জিনিস পছন্দ করেন না আব্দুল্লাহ শিকদার ভাই লতিফুল ইসলাম শিবলি ভাইকে রিকোয়েস্ট করবো আপনারা সংবিধান সংস্কার কমিটিতে এটলিস্ট একটা চিঠি পাঠিয়ে রাখেন তাহলে এটা একটু রেলেভেন্ট হবে ও আচ্ছা সরি সরি না
সেটা তো নির্বাচন কমিশন না উনি তো নির্বাচন কমিশন এটা একটা ফরমাল একটা ইয়ে গেলে চিঠি গেলে তারপর সুবিধা হবে ঠিক আছে ধন্যবাদ সবাইকে থ্যাঙ্ক ইউ اللہ