এই ম্যাপে আপনারা যে রেড ডটেরিয়াটা দেখতে পাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার টোটাল পপুলেশনের 90% এখানেই থাকে। আর উপরের দিকে এই যে বাকি পুরো এলাকাটা দেখতে পাচ্ছেন এই সম্পূর্ণ জায়গাটা ফাঁকা। দেখুন অস্ট্রেলিয়াতে এই মুহূর্তে এত পরিমাণ জমি ফাঁকা আছে। যদি দেশের সবাইকে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয় তাহলে প্রত্যেকে পাঁচ একর জমি পাবে। এবার প্রশ্ন হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া তো ভীষণই উন্নত একটা দেশ যেখানে ঝাঁ চকচকে রাস্তাঘাট রয়েছে বড় বড় ইনফ্রাস্ট্রাকচার রয়েছে তাহলে কেন অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ এলাকা এখনো খালি পড়ে আছে আর কেনইবা এখানকার জনসংখ্যা কম আর একটা শকিং ফ্যাক্ট আমি আপনাদেরকে বলি আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার কথা ভাবলে সবার প্রথমে আমাদের মাথায়
আসে কিছু সাদা চামড়ার মানুষের কথা কিন্তু ইতিহাস বলছে আসল অস্ট্রেলিয়ানরা সাদা চামড়া ছিল না তো প্রশ্ন হচ্ছে আসল অস্ট্রেলিয়ান কারা তাদের সাথে কি হয়েছিল আর আদৌ কি তারা আজ বেঁচে আছে তো বন্ধুরা আমি রচছি মিশন আপনাদের সাথে। আজ কথা হবে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাস নিয়ে। তো চলুন শুরু করা যাক। অস্ট্রেলিয়া। এই নামটা শুনলেই সবার আগে যে ব্যাপারটা আমাদের মাথায় আসে সেটা হলো চারিদিকে ঝা চকচকে সমুদ্র, বড় বড় বিল্ডিং, রাস্তাঘাট, কোয়ালিটিফুল লাইফ। ইভেন অনেক ভারতীয়র কাছে অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে সেটেল হওয়ার একটা স্বপ্ন। কিন্তু তারপরেও অস্ট্রেলিয়া আজ মাইলের পর মাইল এলাকা খালি পড়ে আছে। আর এর পেছনে রয়েছে দেশটার অদ্ভুত
জিওগ্রাফি এবং তার করুণ এক ইতিহাস। তো প্রথমে আমরা শুরু করি অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাস দিয়ে। ইংরেজরা আমাদের ভারতের সাথে কতটা খারাপ করেছিল সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ানদের সাথে ইংরেজরা আরো খারাপ করেছিল। আজ থেকে প্রায় 65,000 বছর আগের কথা যখন আইসিএস চলছিল। এই সময় সমুদ্র বরফের চাদরে ঢেকে গিয়েছিল। সেই সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে পায়ে হেঁটে একদল মানুষ সমুদ্রপথে অস্ট্রেলিয়ার মেইন ল্যান্ড এসেছিল। আর এর আগে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় কোন মানুষের বসবাস ছিল না। এরপর আস্তে আস্তে এই আদিম মানুষেরা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ইভেন এটাও মনে করা হয় অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের সংস্কৃতি পৃথিবীর ওল্ডেস্ট কালচার গুলোর মধ্যে একটা। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার
হলো অস্ট্রেলিয়াতে এত হাজার বছর ধরে মানুষ বসবাস করছে তাদের নিজস্ব একটা কালচার আছে এটা 1788 সালের আগে পর্যন্ত বহির্বিশ্বের কেউ জানত না 1606 সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে বাণিজ্য করে ফেরার সময় উইলিয়াম জেইন নামে একজন ডাচ নাবিক বিশাল সামুদ্রিক ঝড়ের সামনে পড়েছিলেন। আর এই সময় সমুদ্রের স্রোতের টানে ভাজতে ভাজতে তার জাহাজটা অনেকটা দক্ষিণ দিকে চলে আসে। ঝড় বন্ধ হওয়ার পর চারিদিকে যখন সবকিছু পরিষ্কার হয় তখন উইলিয়াম জাহাজ থেকেই দূরে জঙ্গলে ঘেরা একটা আইল্যান্ড দেখতে পেয়েছিলেন। এরপরেই ভারত মহাসাগরের দক্ষিণে থাকা এই আইল্যান্ডটার কথা ধীরে ধীরে গোটা পৃথিবী জানতে পারে। আর সেই সময় এই খবরটা ইংরেজদের কানেও গিয়েছিল। আর
তখন থেকেই ইংরেজরা এই আইল্যান্ডটার খোঁজ শুরু করে দেয়। ইতিমধ্যেই ইংরেজরা পৃথিবীর অনেকগুলো দেশে নিজেদের উপনিবেশ তৈরি করেছিল। আর আপনারা তো জানেন যে ইংরেজরা কতটা দয়ালু। তারা এই দখল করা দেশগুলো থেকে ধনরত্ন নিয়ে নিজেদের দেশে চলে যেত। আর এভাবেই ইংরেজরা পৃথিবীর শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠেছিল। এবার ইংরেজরা যখন অস্ট্রেলিয়ার খোঁজ পেল তখন এই আইল্যান্ডে গিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে এখানে ধনসম্পত্তির লুট করার লোভ ছাড়তে পারেনি। 1770 খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ এক্সপ্লোরার ক্যাপ্টেন জেমস কুক আর তার চারজন সঙ্গী এই নতুন আইল্যান্ডটা খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে। আর তারা শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব দিকে বোটানি বেতে পৌঁছায়। আর এই বোটানি বে শহরটা বর্তমানে
সিডনিতে রয়েছে। তো যাই হোক যখন জেমস কুক আর তার সঙ্গীরা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পৌঁছায় তখন অস্ট্রেলিয়ার যে প্রাচীন আদিবাসীরা ছিল তারা তাদেরকে শত্রু ভাবে আর তাদের উপর অ্যাটাক করে দেয়। অবস্থা এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায় যে জেমস কুক তার নিজের জীবন বাঁচাতে সেখান থেকে পালিয়ে আসে। এই ঘটনার প্রায় 18 বছর পর 1778 সালের 18ই জানুয়ারি স্যার আর্থার ফিলিপ 11 টা জাহাজে করে 300 জন লোককে নিয়ে আবারো বোটানি বেতে এসে হাজির হন। আর এবার তারা অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব দিকে অনেকটা এরিয়া দখল করে নেয়। তবে এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার যে প্রাচীন আদিবাসীরা মানে যাদেরকে অ্যাবরিজিনাল অস্ট্রেলিয়ান বলা হয় তারা ইংরেজদের সাথে
কোনো রকম ঝামেলা না করে একটা নেগোসিয়েশন করে। তো এই সময় ইংরেজরা এখানে যে আদিবাসীরা তাদেরকে এটা ওটা বুঝিয়ে কনভিন্স করে যে তারা এখানে শুধুমাত্র একটা ছোট্ট কলোনি তৈরি করবে আর লোকাল অস্ট্রেলিয়ানদের কোন সমস্যা হবে এমন কোন কাজ তারা করবে না উল্টে ইংরেজদের জায়গা দিলে তাদের উন্নতি হবে তারা শিক্ষিত হতে পারবে এবং তারাও ইংরেজদের মতো অ্যাডভান্স হতে পারবে আর এইসব কথা শুনে সেই সাদাসিদে অস্ট্রেলিয়ানরা ইংরেজদের ফাঁদে পা দেয় তারা বুঝতেও পারছিল না যে এই ইংরেজরা ঠিক কত বড় বিশ্বাসঘাতক অস্ট্রেলিয়ায় পৌছানোর মাত্র আট দিনের মাথায় 26শে জানুয়ারি ইংরেজরা অস্ট্রেলিয়াতে একটা পিনাল কলোনি তৈরি করে। এবার এই পিনাল
কলোনি কি? চলুন এবার সেটা বলি। এই পিনাল কলোনিগুলো অনেকটা জেলের মত। এখানে একটা এরিয়ার মধ্যে কয়েদিদের নজরবন্দী করে রাখা হয়। আর তাদেরকে দিয়ে জোরপূর্বক কাজকর্ম করানো হয়। আর্থার ফিলিপ যখন অস্ট্রেলিয়াতে এসেছিলেন তখন তিনি জাহাজ ভর্তি করে বেশ কিছু দুর্ধর্শ কয়েদিদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে এসেছিলেন। এদের মধ্যে চোর, ডাকাত এমনকি খুনি আর ধর্ষকরাও ছিল। 1788 সালে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম কলোনি তৈরি মাত্র 100 বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইংরেজরা প্রায় 1.5 লক্ষেরও বেশি কয়েদিদের অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়েছিল। আর এতে সবথেকে বেশি সমস্যার মুখে পড়ছিল সেই লোকাল অস্ট্রেলিয়ানরা যারা এই জায়গায় হাজার হাজার বছর ধরে বসবাস করছিল। ইংরেজরা প্রথমে তাদেরকে বড় বড় স্বপ্ন দেখে
ফুসলিয়ে এই জায়গায় কলোনি তৈরি করে। কিন্তু আস্তে আস্তে যখন ইংরেজদের সংখ্যা বাড়তে থাকে তখন তারা তাদের কলোনির এরিয়া গুলোকেও বাড়াতে থাকে। ইভেন যে এরিয়াগুলো একবার ইংরেজরা কবজা করে ফেলতো সেইসব এরিয়াতে লোকাল অস্ট্রেলিয়ানদের ঢোকার কোন রাইটই ছিল না। সেখানে তারা চাষাবাদও করতে পারতো না। ইভেন গাছের ফল খাওয়া তো দূরের কথা। তারা যদি গাছ ধরতো তাদের উপর অকথ্য অত্যাচার করা হতো। লোকাল অস্ট্রেলিয়ানদের ধরে ধরে তাদেরকে দিয়ে দাসের মতো চাষাবাদের কাজ করানো হতো। আর কেউ যদি তাদের কথা না শুনতো তাদেরকে মেরে ফেলা হতো। বাড়ির মেয়েদেরকে ধর্ষণ করা হতো। ছোট ছোট বাচ্চা তাদেরকেও মেরে ফেলা হতো। আর এই নিরীহ
আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ানরা অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে দিন দিন ইংরেজদের গোলামে পরিণত হয়। ইংরেজরা অস্ট্রেলিয়ানদের দেশে প্রথমে কবজা করে। তারপর সেখানকার নেটিভদের নিজেদের দাস বানিয়ে ফেলে। ঠিক যেমনটা তারা ভারতীয়দের সাথে করেছিল। আর আপনারা একবার ভাবুন যে ইংরেজরা ঠিক কতটা নির্লজ্য। যে 26 শে জানুয়ারি তারা প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া একটা পিনাল কলোনি তৈরি করেছিল। সেই দিনটাকে তারা আজও ধুমধাম করে পালন করে। অ্যাজ এ অস্ট্রেলিয়ান ডে হিসাবে। এই যে নেটিভ অস্ট্রেলিয়ানরা এরা কিন্তু আধুনিক সভ্যতার ব্যাপারে কিছুই জানতো না। ইভেন তারা আধুনিক চাষাবাদ সম্পর্কেও জানতো না। তারা সেই প্রাচীন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতো। পশু পালন করত। পশুদের মাংস খেয়ে নিজেদের জীবন কাটাতো। ইভেন
তাদের ঘরবাড়ি বলতে কিছু ছিল না। তাদের ছোটখাটো রোগ হলে তারা গাছপালা দিয়ে সেই রোগের ওষুধ বানাতো। আর এর পেছনে রয়েছে দেশটার অদ্ভুত জিওগ্রাফি। এই সময় যেহেতু এই নেটিভ অস্ট্রেলিয়ানরা পুরো বহির্বিশ্বের সাথে ডিসকানেক্টেড ছিল। তাই এদের মধ্যে তেমন কোন সিরিয়াস রোগ ছিল না। অন্যদিকে ইংল্যান্ডে সে সময় যক্ষা, কলেরা, চিকেন পক্স, স্মল পক্স এই ধরনের মারণ রোগগুলো হুহু করে বাড়ছিল। আর ইংরেজরা যখন তাদের দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন কয়েদিদেরকে পাঠাতো তাদের অনেকের শরীরের মধ্যেই এই রোগগুলোর ভাইরাস থাকতো। আর তারা যখন অস্ট্রেলিয়ার সমাজে মিশতে শুরু করতো, তাদের থ্রুতে নেটিভ অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যেও এই রোগগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। যে রোগগুলোর সাথে
প্রতিরোধ করার কোন ওষুধ এই নেটিভ অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে ছিল না। এবার একটা কথা আমি আপনাদেরকে বলতে যাচ্ছি যেটা শুনলে আপনারও রাগে গা জ্বলে উঠবে। অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইংরেজদের কাছে এইসব রোগের ওষুধ থাকতো। কিন্তু তারা ইচ্ছে করে এই নেটিভ অস্ট্রেলিয়ানদের সেই ওষুধ দিত না। যাতে তারা সেই রোগের কবলে পড়ে মারা যায় এবং তাদের পপুলেশন ধীরে ধীরে কমে যায়। ভাবতে পারছেন ইংরেজরা ঠিক কতটা নিষ্ঠুর ছিল। তো এই ভাইরাসের কবলে পড়ে নেটিভ অস্ট্রেলিয়ানদের প্রায় 50% পপুলেশন শেষ হয়ে যায়। আর এর সাথেই তাদের উপর চলত অকথ্য অত্যাচার। শেষ পর্যন্ত ইংরেজদের এই অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে 1795 সালে নেটিভ অস্ট্রেলিয়ানরা তাদের এগেন্স্টে বিদ্রোহ
ঘোষণা করে। তারা ক্লিয়ারলি ঘোষণা করে যে এরপর থেকে কোন অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজদের দাসত্ব করবে না। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ানদেরই অধিকার থাকবে। কিন্তু তাদের দাবি ইংরেজরা কেন মানবে? ফলে শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে ভীষণ যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধ টানা 100 বছর ধরে চলে। এই লম্বা যুদ্ধের সময় প্রায় 80 থেকে 85 শতাংশ নেটিভ অস্ট্রেলিয়ানরা মারা যায়। কারণ তাদের কাছে কোন উন্নত হাতিয়ার ছিল না। 1900 সাল আস্তে আস্তে অবস্থা এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায় যে নেটিভ অস্ট্রেলিয়ানদের সংখ্যা সাড়ে সাত লক্ষ থেকে কমে 70 হাজার এগিয়ে পৌঁছায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার খোঁজ পাওয়ার পর থেকেই ইংরেজ, পর্তুগিজ, ফরাসি এমনকি জার্মান থেকেও বিভিন্ন কোম্পানির
ট্রেডের নামে অস্ট্রেলিয়াতে আসতো। আর অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশীদের সংখ্যা 50 লক্ষ হয়ে যায়। এই বহিরাগতরা প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার অল্প অল্প করে জায়গা কবজা করত। আর কিছুদিন পর সে জায়গাটাকে নিজেদের কলোনি ঘোষণা করত। এর ফলে কি হয়? একদিকে যেমন নেটিভ অস্ট্রেলিয়ানদের পপুলেশন কমিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। তাদের গণহত্যা করা হচ্ছিল। অন্যদিকে যারা বহিরাগত তাদের পপুলেশন বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে ইংরেজরা অস্ট্রেলিয়ার আলাদা আলাদা উপনিবেশ গুলোকে একসঙ্গে করে 1901 সালে কমনওয়েলথ স্টেট অফ অস্ট্রেলিয়া নামে একটা নতুন দেশ তৈরি করে। আর এরই কয়েক বছরের মধ্যে 1914 সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রচুর নেটিভ অস্ট্রেলিয়ান মারা গিয়েছিলেন। কারণ সে সময় যেহেতু
অস্ট্রেলিয়া ইংরেজদের উপনিবেশ ছিল তাই জাপানি সেনারা অস্ট্রেলিয়ার উপর অনেকগুলো অ্যাটাক করেছিল। ফলে নেটিভ অস্ট্রেলিয়ানদের সংখ্যা দিন দিন আরো কমতে থাকে। 1901 সালে অস্ট্রেলিয়াকে যখন একটা নতুন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় তখন অস্ট্রেলিয়ার 90% পপুলেশন ছিল সাদা চামড়ার। আর যারা অরিজিনাল অস্ট্রেলিয়ান মানে যারা কালো চামড়ার মানুষ ছিল তাদের সংখ্যা ছিল মাত্র 7 থেকে 8 পারসেন্ট। এমনকি ইংরেজরা এতটাই বর্ণবিদ্বেশী ছিল যে তারা অস্ট্রেলিয়ায় সাদা চামড়া নয় এমন মানুষদের ইমিগ্রেশন বন্ধ করে দিয়েছিল। ইভেন এরপর টানা 60 বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় এই রুলটাই চলছিল। ফাইনালি 1966 সালে এই নন হোয়াইট ইমিগ্রেশন পলিসি তুলে দেওয়া হয়। আর ইমিগ্রেশনের ক্রাইটেরিয়া থেকে স্কিন
কালারকে বাদ দেওয়া হয় এবং স্কিলের উপর ফোকাস করা হয়। আর এরপরেই এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা থেকে প্রচুর সংখ্যায় মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন। ফলে এখানকার জনসংখ্যা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে আলাদা আলাদা রিলিজিয়ন আলাদা আলাদা কালচারের মানুষ থাকেন। এবার আপনার মনে একটা প্রশ্ন আসতে পারে যে আগে অস্ট্রেলিয়ার লোকজন কম ছিল সে সময় জায়গা ফাঁকা ছিল এটা মানলাম। কিন্তু এখন তো অস্ট্রেলিয়ায় অনেক লোকজন বসবাস করে। ইভেন এখন ইমিগ্রেশন পলিসিও অনেক ইজি করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে এখনো কেন অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ এলাকা খালি পড়ে আছে? এই বিষয়টা বোঝানোর জন্য আপনাদেরকে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাপটাকে একটু ভালো করে বুঝতে হবে। আমরা যদি অস্ট্রেলিয়ার ম্যাপটাকে
ভালো করে দেখতে পাই তাহলে দেখতে পাব যে এখানকার মেইন সিটি যেমন সিডনি, মেলবর্ন, ব্রিজবেন এই শহরগুলোতে গেলে আপনি বেশ ভালোই ভিড়ভাটটা দেখতে পাবেন। ইভেন মেলবার্নে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে 453 জন লোক বসবাস করেন। এটা পুরো অস্ট্রেলিয়ার সবথেকে ঘিঞ্জি এলাকা। ইভেন সিডনিতেও কয়েক লক্ষ মানুষ বসবাস করেন। আর এই শহরগুলো দেখলে কেউ আন্দাজাও করতে পারবে না যে এই দেশটার 95% এলাকা খালি পড়ে আছে। দেখুন অস্ট্রেলিয়ার মেইনল্যান্ডকে তিনটে ভাগে ভাগ করা হয়েছে। দেশটার পশ্চিম দিকে পুরো এরিয়াতেই মরুভূমি ছড়িয়ে আছে। এই মরুভূমিগুলোতে কোন গাছপালা নেই। বছরে মাত্র কয়েকবার বৃষ্টি হয়। আর এখানে জলের পরিমাণ এতটাই কম যে একটা নালা বা
খালও নেই। সাথে এই জায়গাগুলোর টেম্পারেচার থাকে অনেক বেশি। এখানে শুধুমাত্র মানুষ না কোন প্রাণীর ক্ষেত্রেও সারভাইভ করা ভীষণই কঠিন। তাই স্বাভাবিকভাবেই পুরো এলাকাটা খালি পড়ে আছে। আর এই মরুভূমির আশেপাশে যে জঙ্গলগুলো রয়েছে সেখানে বেশ কিছু উপজাতি বসবাস করে কিন্তু ঈদের সংখ্যাও খুব বেশি নয়। 10 থেকে 12 হাজার। মরুভূমির পরেই রয়েছে নিচু এলাকা। এখানে বেশ কিছু জলের সোর্স আছে। কিন্তু সেই জলে নুনের পরিমাণ এতটাই বেশি যে খাওয়া তো দূরের কথা। আপনি সেগুলো চাষাবাদেও ব্যবহার করতে পারবেন না। তাই এখানেও মানুষের পক্ষে থাকা সম্ভব নয়। আর একদম পূর্ব দিকটাতে আছে একটা বিরাট পর্বত। এই পার্বত্য এলাকাগুলোতে বেশ কয়েকটা
পাহাড়ি নদী আছে। আর এগুলো সবকটাই মিষ্টি জলের নদী। ফলে এখানে জল যেমন খাওয়াও যায় তেমনি এগুলোকে চাষাবাদের কাজেও লাগানো যায়। কিন্তু প্রবলেমটা হলো এই পাহাড়ের দুর্গম জায়গা। এই পাহাড় এতটাই দুর্গম যে কোন মানুষ এখানে গিয়ে ঘরবাড়ি বানিয়ে থাকতে পারেনি। তাছাড়া এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত কীটপতঙ্গ এবং সাপ রয়েছে। তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো? এই যে পুরো জায়গাটা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এই পুরো জায়গাটাই বর্তমানে খালি পড়ে রয়েছে। তবে এই যে রেড ডটেড এরিয়াগুলো দেখতে পাচ্ছেন এখানেই সিডনি, মেলবর্ন, ব্রিজবেন এই শহরগুলো রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে গরম, জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস এসে পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খায়। আর এখানে প্রচুর পরিমাণে
বৃষ্টিপাত হয়। তাই এখানে খাবার জল, চাষের জমিতে সেজ দেওয়ার জল সবটাই এভেলেবেল আছে। তাছাড়া একদম সমুদ্রের পাশে হওয়ায় এখানে না খুব বেশি গরম না খুব বেশি ঠান্ডা। মানে সারা বছর একটা মনোরম পরিবেশ থাকে। তাই এই অঞ্চলেই মানুষজন বেশি পরিমাণে বসবাস করেন। কিন্তু এই পাহাড়ের ঠিক উল্টো দিকেই কোন বৃষ্টিপাত হয় না। ফলে এই জায়গায় মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে আর যার কারণে এখানে কেউ বসবাস করেন না। এগুলো ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার জিওগ্রাফিতে আরো একটা বড় সমস্যা আছে। আর সেটা হচ্ছে সাইক্লোন। উত্তরে প্রশান্ত মহাসাগরের গরম বাতাস আর দক্ষিণে অন্টার্টিকা থেকে আসা ঠান্ডা বাতাস। এই দুটো ডিফারেন্ট টাইপের হাওয়া যখন মুখোমুখি হয়
তখন বিরাট বিরাট সামুদ্রিক ঝড় তৈরি হয়। আর সেই ঝড় বাড়তে বাড়তে সাইক্লোনের রূপ নেয়। আর শেষমেষ অস্ট্রেলিয়ার যে কোস্টাল এরিয়া গুলো রয়েছে সেখানে আছড়ে পড়ে এবং দেখা গেছে যে গড়ে প্রতিবছরে অস্ট্রেলিয়ায় চার থেকে পাঁচটা সাইক্লোন হয় যেগুলো এখানে শহরকে তচনচ করে দেয়। বহু মানুষ এতে মারাও যায়। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার বর্তমানে কম জনসংখ্যার পেছনে আরো একটা কারণ হলো লো বার্থ রেট। বিগত কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়াতে বার্থ রেট এতটাই কমেছে। যেখানকার সরকার রীতিমত সাধারণ মানুষের কাছে রিকোয়েস্ট করছে বাচ্চা জন্ম দেওয়ার জন্য আসলে কি বলুন তো এখনকার দিনে সবাই একটু ফ্রি থাকতে চায় মানে কেউই নিজের পরিবারকে বেশি বড় করতে
চায় না আর এর প্রভাবটা অস্ট্রেলিয়াতেও পৌঁছেছে আর এইসব কারণের জন্যই অস্ট্রেলিয়ার প্রায় 95% এলাকা খালি পড়ে আছে এবং এখানের জনসংখ্যা ভীষণই কম তবে এই ভিডিওটা নিয়ে আমি যখন রিসার্চ করছিলাম তখন আমার একটা জিনিস সব থেকে বেশি খারাপ লাগে যখন আমি এই নেটিভ অস্ট্রেলিয়ানদের সাথে ইংরেজরা যে অত্যাচার করেছিল তার ব্যাপারে জানতে পারি ইভেন আজকের দিনেও আমরা একুবিংশ শতাব্দীতে বসবাস করছি। আজও এই নেটিভ অস্ট্রেলিয়ানরা অনেক দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে আছে। আর হ্যাঁ অস্ট্রেলিয়ার মত জাপানও কিন্তু একটা ভীষণই উন্নত দেশ। কিন্তু এখানেও বার্থ রেট ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে এবং জাপান ধীরে ধীরে একটা অন্ধকার সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই বিষয়ে ডিটেইলসে জানার জন্য আপনারা এই ভিডিওটা দেখুন। তো আমি ছিলাম মিঠুন আপনাদের সাথে। দেখা হবে পরের ভিডিওতে। ততদিন ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।