আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি বন্ধুরা আজকের এই ভিডিওতে আমরা একজন কৃপণ ব্যক্তির কবরের রাজাবের বিষয়কর ঘটনা সম্পর্কে বলতে চলেছি যা শুনে আপনার মন ছুয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ তাই ভিডিওটি একবারে শেষ পর্যন্ত দেখবেন বহুদিন আগের কথা কোন এক গ্রামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রী এবং সন্তানদেরকে নিয়ে বাস করতো সে ছিল অত্যন্ত কৃপণ এবং সে কৃপণ ব্যক্তি তার টাকা-পয়সা সবসময় গুনে গুনে রাখতো সে এতটাই কৃপণ ছিল যে সে তার সমস্ত সম্পদ একটি সিন্দুকে রাখতো তারপর সেই সিন্দুকটিতে আরো একটি বড় সিন্দুকে রেখে দিত সে তার প্রয়োজনীয় তার সম্পদ খরচ করতে
চাইতো না তার স্ত্রী এবং সন্তানেরা খুবই কষ্টে দিন কাটাতো এমনকি মাঝে মাঝে তার স্ত্রী ক্ষুধার যন্ত্রণায় অন্য মানুষের কাছ থেকে খাবার ভিক্ষা করতে বাধ্য হতো এতে সেই কৃপণ ব্যক্তির কোন মাথা ব্যথা ছিল না সে ব্যক্তির স্ত্রী মাঝে মাঝে কৃপণকে উদ্দেশ্য করে বলতো এ সমস্ত সম্পদ জমিয়ে রেখে আমাদের কি হবে যে সম্পদ আমাদের কোন কাজেই আসছে না এত সম্পদ থাকার পরেও আমরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছি কিন্তু এ সমস্ত কথা শুনলেই সে কৃপণ ব্যক্তি খুবই রাগ করতো এবং সে বলতো এসব সম্পদ আমার আমি এগুলো খরচ করবো না কি করব সেটা আমার ব্যাপার এ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়
ঝগড়া হতো কিন্তু এরপরেও সে কৃপণ ব্যক্তির মধ্যে কোন পরিবর্তন আসেনি সময়ের নিয়মে সে কৃপণ ব্যক্তির বয়স বাড়তে থাকে সময়ের পরিক্রমায় একসময় সে বৃদ্ধ হয় কিন্তু তার মধ্যে ওই একই রকমের কৃপণ থেকে যায় তার আখিরাত নিয়ে কোন চিন্তাই ছিল না সে শুধু ভাবতো তার বয়স হয়েছে মৃত্যু এগিয়ে আসছে তার মৃত্যুর পর এসব সম্পদের কি হবে একদিন সে তার স্ত্রীকে ঠিক একই কথা বলে জিজ্ঞাসা করে আমার মৃত্যুর পর আমার এই সমস্ত সম্পদের কি হবে কে দেখবে তখন সেই ব্যক্তির স্ত্রী জবাব দেয় কেন তুমি জানো না পিতার মৃত্যুর পর সন্তানেরা পিতার সম্পদের অংশীদার হয় আর এটাই আল্লাহতালার বিধান
সে কৃপণ ব্যক্তি তার স্ত্রীর কথা শুনে খুব রেগে যায় এবং বলে আমি সারাজীবন এত মেহনত করে সম্পদ অর্জন করেছি আর আমার সন্তানেরা সেগুলো এমনি এমনি পেয়ে যাবে কিন্তু না আমি এমনটা হতে দেবো না আমি এমন কিছু করব যাতে আমার সম্পদ আমার কাছে থাকে আমি তোমাদের এক কানা করেও দেবো না তার স্ত্রী শুধু অবাক হয় এবং মনে মনে চিন্তা করে যাক অন্তত তার মৃত্যু হবে এই বিশ্বাসটা তো রয়েছে কিন্তু তার কৃপণতা গেল না সে এখনো তার সম্পদ কাউকে দিতে চায় না এরপর সে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে তার ব্যাপারে হেদায়েত চাইতে থাকে একদিন সে কৃপণ ব্যক্তি উদাস
মনে বাহিরে বসেছিল তখন তার সামনে একজন লোক আসে লোকটি দেখতে একদম সাদাসিদে ছিল কিন্তু মূলত সে ছিল একজন ভন্ড ফকির সে এই কৃপণ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করে তোমার কি হয়েছে তোমাকে এত পেরেশান লাগছে কেন তোমার সমস্যা আমাকে বলো আমি তোমার সমাধান খুঁজে দেখব মহান আল্লাহতালা আমাকে অনেক ইলম দিয়েছেন আমি যা দোয়া করি তা কবুল হয়ে যায় আর এই ব্যাপারে অনেক সাক্ষীও রয়েছে সেই কৃপণ ব্যক্তি এই ভন্ড ফকিরের কথায় ডুবে যেতে লাগলো এরপর সেই ভন্ড ফকির তার নিজের ব্যাপারে আরো অনেক ভালো ভালো কথা বলতে লাগলো একসময় পর সেই কৃপণ ব্যক্তি এই ভন্ড ফকিরের পাতা ফাঁদে পা দিল
তখন কৃপণ বলল আমি সারাজীবন আমার কষ্টার্জিত সম্পদ মানুষের কাছ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছি কিন্তু এখন আমি বৃদ্ধ হয়েছি আমি প্রায় সময় অসুস্থ থাকি হয়তো আমার জীবনের আর খুব বেশি বাকি নেই আমার পেরেশানি একটাই আমার মৃত্যুর পর আমার সম্পদের কি হবে সেই ভন্ড ফকির তার কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে কিছুক্ষণ পর সেই ভন্ড ফকির বলে তুমি এক কাজ করো তোমার পরিবারের কাছে একটি অসিয়ত করে রাখো যে তোমার মৃত্যুর পর যখন তোমাকে দাফন করা হবে তখন যেন তোমার সম্পদও তোমার সঙ্গে দাফন করা হয় তখন সে কৃপণ বলে কিন্তু আমি তো জানি মৃত্যুর পর সম্পদ কোন কাজে আসে
না তখন সেই ভন্ড ফকির বলে তুমি চিন্তা করো না আমি তোমার জন্য দোয়া করব তুমি যেন মৃত্যুর পরেও এই সম্পদ ব্যবহার করতে পারো আর তুমি যা খরচ করবে তার দ্বিগুণ ফেরত পাবে সে ভন্ড ফকির এতক্ষণ যাবত উক্ত কৃপণ ব্যক্তির মনের মত করে কথা বলছিল আর এই ফকিরের কথা শুনে কৃপণ ব্যক্তি খুবই খুশি হয় সে তখনই তার স্ত্রী এবং পরিবারের কাছে যায় এবং ওসিয়ত লিখিয়ে নেয় যেন মৃত্যুর পর তার সম্পদ তার সঙ্গে দাফন করা হয় এ সমস্ত কথা শুনে তার স্ত্রী খুবই অবাক হয় এবং বলে তোমাকে এসব কে বলেছে তখন সে কৃপণ ব্যক্তি বলে আমাকে এসব
বলেছে এক আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি সে অনেক জ্ঞানী এবং বহু লোক তাকে অনুসরণ করে আর সে আমার জন্য দোয়া করেছে এখন আমি তোমাকে যেমনটা করতে বলছি তেমনটাই করো সে রিপন ব্যক্তির স্ত্রী ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী কিন্তু তার এই সম্পদের প্রতি কোন লোভ ছিল না সে খুব ভালোভাবে জানতো তার স্বামী মারা গেলে তারা লাওয়ারিশ হয়ে যাবে কিন্তু এসব জানার পরেও তার স্বামী তাদের জন্য এক পয়সাও রাখতে রাজি ছিল না বুদ্ধিমতী রমণী বুঝতে পারলো কোন আল্লাহওয়ালা ব্যক্তির কথাই নয় বরং তার স্বামী একজন ভন্ড ফকিরের ফাঁদে পড়েছে এবার সে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য চাইতে লাগলো এবং সে বলল ইয়া মহান
আল্লাহ তাআলা আমি এবং আমার সন্তানেরা আপনার কাছে পানহা চাচ্ছি এখন একমাত্র আপনি আমাদের সাহায্যকারী এই ঘটনার কিছুদিন পর সেই কৃপণ ব্যক্তি মারা যায় যেদিন সেই কৃপণ মারা যায় সেদিনে সেই ভন্ড ফকির আসে এবং কৃপণ ব্যক্তির স্ত্রীকে বলে সেই সিন্দুকটি কোথায় যেখানে তোমার স্বামী তার সমস্ত সম্পদ রেখে দিয়েছে কৃপণ ব্যক্তির স্ত্রী সেই ভন্ড ফকিরের উপর খুব রাগ হয় কিন্তু সে সেই সিন্দুকটিকে ফকিরের হাতে তুলে দেয় যখন সেই সিন্দুকটিকে কবরের দিকে নিয়ে যাওয়া হতো ছিল তখন সবাই খুব অবাক হয়ে যায় মৃত্যুর পরেও এই কৃপণ ব্যক্তি তার সম্পদ ছাড়েনি একমাত্র আল্লাহতালা জানেন কবরে তার সঙ্গে কেমন আচরণ করা
হবে এরপর তাদের একজন আত্মীয় আসে এবং জিজ্ঞাসা করে তুমি সিন্দুকটিকে কেন ওই ভন্ড ফকিরের কাছে দিলে জবাবে সেই কৃপণ ব্যক্তির স্ত্রী বলে আমার স্বামী আমার কাছে ওসিয়ত করেছে এবং ওয়াদাও নিয়েছে যেন আমি তার ওসিয়ত পূরণ করি এখন আমি কিভাবে এই ওয়াদা ভঙ্গ করব কিন্তু আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করছি আমার বিশ্বাস তিনি আমাদেরকে সাহায্য করবেন আর যেটি আমাদের প্রাপ্য একমাত্র আল্লাহতালাই পারেন সেটি আমাদের মিলিয়ে দিতে এরপর সেই কৃপণ ব্যক্তির আত্মীয়রা কিছু লোককে সঙ্গে নিয়ে কবরস্থানে গেল যেখানে উক্ত কৃপণ ব্যক্তির সম্পদকে দাফন করা হয়েছিল সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পেল এক ব্যক্তি কৃপণ ব্যক্তির কবর খুরে সেই সিন্ধু
বের করতে চাইছে এবং সেই কবর থেকে আগুন বেরিয়ে সেই লোকটিকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে এবং সেই কবর থেকে অনেক জোরে জোরে কান্নার আওয়াজ আসছে এটা দেখে সবাই বুঝতে পারলো সেই লোকটি আর কেউ নয় এটা ছিল সেই ভন্ড ফকির এবং সবাই মিলে সে সিন্দুকটিকে উদ্ধার করে সে কৃপণ ব্যক্তির স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করল