আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আল্লাহর অশেষ রহমতে আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি কোটি কোটি মুসলিম হৃদয় যার প্রতি আবেগ অনুভূতি আর ভালোবাসা শিক্ত যার ব্যাপারে এতটুকু মন্দ কথা উচ্চারণ করলে রক্তক্ষরণ ঘটে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মোমেন মুজাহিদের আত্মা কিন্তু ইসলাম প্রচারের প্রারম্ভকালে এ মানুষটিকে সহ্য করতে হয়েছিল বহু অপমান আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়েছিল তার পবিত্র দেহ শুনতে হয়েছিল পাগল গণক মিথ্যাবাদী জাদুকর এমন নানা অপবাদ ইসলামের ইতিহাস থেকে আজ আমরা তুলে ধরবো এমন এক নরাধমের কথা যে ছিল রাসূলের একান্ত আপনজন অথচ সে ছিল অজ্ঞ আর অভিশপ্ত ইতিহাসে সেই একমাত্র
ব্যক্তি যে রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র চেহারা মোবারক লক্ষ্য করে থুতু নিক্ষেপের দুঃসাহস দেখিয়েছিল আর এর পরিণতি হিসেবে তাকে পৃথিবীতে ভোগ করতে হয়েছিল ভয়ানক শাস্তি কে ছিল সেই ব্যক্তি রাসূলের সাথে কি ছিল তার সম্পর্ক আর কি ঘটেছিল তার কপালে তা জানতে হলে সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখতে থাকুন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আপন চাচা আবু লাহাব তলব করেছে তার দুই পুত্রকে একজন উদবা আরেকজন উথাইবা পুত্রদেরকে উদ্দেশ্য করে আবু লাহাব বলল আমি আমার ভাতিজা মোহাম্মদকে নিজের প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসতাম যখন তার জন্ম হয়েছিল তখন আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে আমি আমার কৃতদা কে আজাদ করে দিয়েছিলাম শুধু তাই নয়
তার সাথে আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করার জন্য আমি তার দুই কন্যা রুকাইয়া আর উম্মে কুলসুমের সাথে তোমাদেরকে বিয়ে দিয়েছিলাম কে জানতো আমার ভাতিজা একদিন আমাদের বংশের মুখে চুনকালি লাগাবে কে জানতো সে আমাদের পূর্বপুরুষের ধর্মকে অস্বীকার করে নিজেকে নবী ঘোষণা করবে হাই যদি জানতাম তবে কখনোই তোমাদের দুজনকে তার কন্যাদের সাথে বিয়ে দিতাম না পুত্র উদবা আর উথাইবা তখন মাথা নিচু করে মাটির দিকে তাকিয়েছিল পিতার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস তাদের ছিল না অতঃপর আবু লাহাব বলল মোহাম্মদের কন্যাদেরকে তোমরা এখনই তালাক দেবে এটাই আমার সিদ্ধান্ত বড় পুত্র উদবা তার এই কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেল সে বলল
আপনি কি বলছেন আব্বাজান পিতার অপরাধের কারণে কেন আমরা তার কন্যাদেরকে শাস্তি দেব আবু লাহাব বলল মোহাম্মদকে কষ্ট দেওয়ার জন্যই তোমরা তাদেরকে তালাক দেবে আর সে যখন জানতে পারবে যে তার অপরাধের কারণে তার কন্যাদেরকে তালাক দেয়া হয়েছে তখন তার চেহারা কেমন হয় তা আমি দেখতে চাই পিতা আবু লাহাবের এমন জিঘাংসামূলক সিদ্ধান্ত উদবা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না সে তার স্ত্রী রুকাইকায় প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসতো আর মৃত্যু যে বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি সে তার স্ত্রীকে দিয়েছিল সেই প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তার হৃদয় উতলা হয়ে ওঠে সে মনের মধ্যে কিছুটা সাহস সঞ্চার করে পিতা আবু লাহাবকে বলে আব্বাজান আপনি
আপনার ভাতিজাকে কষ্ট দিতে কেন এত মরিয়া আমার জন্য চাচারাও তাকে নবী হিসেবে গ্রহণ করেননি তথাপি তারা কেউই তাকে কষ্ট দেন না আমাদের বোন হাশিম গোত্রের অধিকাংশ লোকই তার নতুন ধর্মের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে কিন্তু তারা তাকে অত্যাচারী কুরাইশদের হাতে ছেড়ে দেয়নি বরং বাহিরে কেউ তাকে কষ্ট দিতে এলে তারা সকলে মিলে তাকে রক্ষা করে তার নিরাপত্তা দেয় কেবল আপনি ব্যতিক্রম আপনি তাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সবসময় উদগ্রীব হয়ে থাকেন এটা কি অন্যায় নয় এটা কি আরবদের হাজার বছরের ইতিহাস প্রতি অসম্মান নয় ছেলে উদ্বার মুখে এমন কথা শুনে রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠে আবু লাহাব তার উজ্জ্বল চেহারা মুহূর্তের মধ্যে
রক্তবর্ণ ধারণ করে সে চিৎকার করে বলে নিচু লোকেরা তাদের কন্যা সন্তানদেরকে জন্মের পরে জীবন্ত কবর দিয়ে দেয় কত ভালো হতো যদি আমিও তোমাকে জন্মের পরেই কবর দিয়ে দিতাম পিতার মুখে এমন কথা শুনে উদবা তার ভাষা হারিয়ে ফেলে সে মাথা নিচু করে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকে অতঃপর নীরবতা ভাঙ্গে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে আবু লাহাবের অপর পুত্র উথাইবা সে বলে আব্বাজান ভাই উদবাজ যা বললেন আমি কখনো আপনাকে তা বলবো না আমি এখনই আমার স্ত্রীকে তালাক দিচ্ছি অভিশাপ আমার স্ত্রী উম্মে কুলসুমের প্রতি আর অভিশাপ তার পিতার প্রতি অতঃপর সে তৎক্ষণাৎ উম্মে কুলসুমকে তালাক দিয়ে দেয় আর প্রবল পারিবারিক চাপের
মধ্যে উদ্বা বাধ্য হয় তার স্ত্রী রুকাইয়াকে তালাক দিতে এ সংবাদ যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছায় তখন নিজের কন্যাদের ব্যথা বেদনায় তার হৃদয় পূর্ণ হয়ে যায় নবী পরিবারে সেদিন কান্নার মাতন উঠেছিল আর এটাই চেয়েছিল চাচা আবু লাহাব ও তার স্ত্রী উম্মে জামিল তারা দিনের পর দিন রাসূলের পরিবারকে উৎপীড়ন করে গেছে কিন্তু তাদের খায়েশ তাতে মিটেনি অবশেষে তারা বেছে নেয় চূড়ান্ত জিগাংসার পথ আর এই জিহাসার পথে অতি উৎসাহের সাথে পিতা-মাতাকে সমর্থন দেয় তাদের পুত্র উথাইবা এই ঘটনার কিছুকাল পরের কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দেখা হয় আবু লাহাবের পুত্র উথাইবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে দেখার সাথে সাথে সে অঘত্য ভাষায় তাকে গালাগালি করতে শুরু করে মূলত সে ছিল পিতা-মাতার মতোই রাসূলের প্রতি ঘৃণা পোষণকারী ব্যক্তি আর সে ছিল প্রচন্ড দুরাচারী সে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে যায় আর টেনে হিচড়ে তার জামা ছিড়ে ফেলে অতঃপর সে তার পবিত্র দেহ মোবারক উদ্দেশ্য করে থুতু ছিটিয়ে দেয় আল্লাহ সেই থুতু তার প্রিয় হাবিবের গায়ে লাগতে দেননি তথাপি নিজের চাচাতো ভাই এবং এককালে জামাতা উথাইবার এমন আচরণে আল্লাহর হাবিব ভীষণ কষ্ট পান নিজের কন্যাদের তালাকের ঘটনার ক্ষত তখন তার হৃদয় থেকে শুকিয়ে যায়নি এর মধ্যে উথাইবার এমন পাশবিক আচরণ তাকে ভীষণ মর্মাহত করে তোলে
নিজের অজান্তেই তার মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে এক অভিশাপ হে উথাইবা একটা নিকৃষ্ট কুকুর তোমাকে পরাজিত করবে অভিশাপ তো উথাইবা জানতো না নবীজির দীর্ঘশ্বাসের সাথে বেরিয়ে আসা এই অভিশাপ তার জীবনে বয়ে আনবে মর্মান্তিক পরিণতি কিছুকাল পরের কথা পিতা আবু লাহাবের সাথে ব্যবসার কাজে ছিড়া আগমন করে উথাইবা জারকা নামক স্থানে রাত্রি যাবনের জন্য তাবু ফেলে তাদের কাফেলা স্থানীয় লোকেরা এ জায়গায় তাবু বলতে দেখে তাদেরকে সতর্ক করে বলে সেখানে রাতের বেলায় হিংস্র প্রাণীর ঘোরাফেরা করে তোমরা যদি সাবধান না থাকো তাহলে প্রাণ নাশের আশঙ্কা রয়েছে স্থানীয়দের কথার সত্যতা দেখা যায় কিছুক্ষণ পরে একটু অন্ধকার নেমে আসলেই তারা দেখতে
পায় একটা হিংস্র বাঘ তাদের তাবুর চারপাশে ঘোরাফেরা করছে আবু লাহাব ওই বাবা এর আত্মা তখন কেঁপে ওঠে তাদের মনে পড়ে যায় রাসূলের দেওয়া সেই অভিশাপের কথা একটি নিকৃষ্ট কুকুর উথাইবাকে পরাজিত করবে উথাইবা কম্পিত কন্ঠে বলে আল্লাহর কসম এই বাঘ আমাকে খাবলে খাবে আমার ধ্বংস অনিবার্য মোহাম্মদ আমাকে বদদোয়া দিয়েছিল আজ আমি সিরিয়ায় অবস্থান করছি অথচ সে মক্কায় বসে থেকেই আজ আমাকে হত্যা করবে উতাইবাকে এতটা উতলা হতে দেখে আবু লাহাব তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে সে বলে পুত্র আমার অবশ্যই তোমাকে রক্ষা করব অতঃপর আবু লাহাবের সিদ্ধান্তক্রমে উথাইবা তাবুর চারপাশে বৃত্তাকারে অনেকগুলো উট শুয়ে দেয়া হয় তারা আশা
করেছিল ক্ষুধার্থ প্রাণীটি শিকারের সন্ধানে এসে থাকলে উথাইবা নিকটে পৌঁছানোর আগেই শিকার হিসেবে এই উটগুলোকে পেয়ে যাবে এবং তাদের একটিকে নিয়ে বিদায় হয়ে যাবে তারা ভাবতে পারেনি আল্লাহতালা তার নবীর দেওয়া এই অভিশাপ বাস্তবায়ন করার জন্য যে হিংস্র প্রাণীটিকে পাঠিয়েছেন সে উথাইবাকে না নিয়ে ফিরে যাবে না উথাইবা নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে কাফেলা সবাই শুয়ে পড়ে দীর্ঘ সফর ক্লান্তির কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা গভীর নিদ্রায় ঢলে পড়ে প্রাণের ভয়ে উৎকণ্ঠিত উথায় বা জেগে থাকার চেষ্টা করেছিল কিন্তু বেশিক্ষণ তা সম্ভব হয়ে ওঠে না তার চোখে ভর করে রাজ্যের ক্লান্তি আর নিজের অজান্তে সে ডুবে যায় গভীর নিদ্রায় আর এটাই ছিল তার
জীবনের শেষ নিদ্রা প্রভাতে সূর্যের আলো ফুটে ওঠার সাথে সাথে কাফেলার ঘুম ভেঙে যায় আবু লাহাবের চিৎকার শুনে তারা ছুটে গিয়ে দেখে তাবুর নিকটে মাটিতে বসে বুক চাপড়ে মাতম করছে আবু লাহাব তারা সেখানে উথাইবাকে খুঁজে পায় না বরং খুঁজে পায় তার রক্তাক্ত কাপড় আর মাটিতে দেখতে পায় তার নাপাক রক্তের গভীরতায় তাদের বুঝতে বাকি থাকে না যে আশঙ্কা নিয়ে তারা ঘুমিয়েছিল সে আশঙ্কায় সত্য হয়েছে তারা অবাক হয়েছিল এটা ভেবে যে এত চমৎকার উট থাকতে প্রাণীটি কেন উথাইবাকে বেছে নিল আর হিংস্র প্রাণীদের আগমন সত্ত্বেও উটগুলো কেন বিন্দুমাত্র শব্দ করল না আর উথাইবা কেন চিৎকার করল না তারা জানতো
না এটা ছিল উথাইবার অবধারী পরিণতি রাসূলের সাথে দুশমনি করে ক্ষমা পেয়েছিল বহু কুরাইশ মদিনার মুসলিমদের বিরুদ্ধে অধিকাংশ যুদ্ধে কাফের কুরাইশদের নেতৃত্ব দানকারী আবু সুফিয়ান কেও ক্ষমা করেছিলেন আল্লাহর নবী আর এক অভিশপ্ত কুরাইশ নেতা আবু জাহেলের ইকরামার জন্য তিনি দু হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন আর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন অথচ এই ইকরামা ছিল যুদ্ধা অপরাধী রাসূলের প্রিয় সাহাবীদের রক্তে রঞ্জিত ছিল তার হাত তথাপি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ক্ষমা করেছিলেন কিন্তু উদয় বা যে আচরণ নবীর প্রতি করেছিল তার জন্য সে স্বয়ং আল্লাহ পাকের ক্রোধের পাত্রে পরিণত হয়েছিল আল্লাহতালা তার জন্য নির্ধারণ করেছিলেন এই মর্মান্তিক
শাস্তি আর আল্লাহ যাকে পাকড়াও করেন তার সাধ্য নেই কোন কৌশল অবলম্বন করে নিজেকে রক্ষা করার তো প্রিয় দর্শক এই ছিল আমাদের আজকের এই ঘটনা কেমন লাগলো কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন আজ তাহলে এই পর্যন্তই আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ [মিউজিক]