যার বিয়ে তার খবর নেই পারাপশীর ঘুম নেই এই বাংলায় এই বাংলাদেশে যে মৌলবাদী সন্তানেরা ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে যে বাংলাদেশে হিন্দু নিধন হিন্দুদের বাড়ি আক্রান্ত হচ্ছে হিন্দুরা রক্তাক্ত হচ্ছে সমস্ত কিছু নিয়ে এক বিন্দু কোন মিথ্যা কথা বলেনি সেটা আরো চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করবে মোহাম্মদ ইউনুসকে যে ডাক্তার বাবু আপনি আসলে করছেনটা কি আপনি পারবেন চুপ করে থাকবেন না বলুন কথা বলুন কারণ আজ যদি আপনি চুপ থাকেন কাল এই অশ্লিনগুলো মাথার উপরে বসে আপনাদের জান মান সব খেয়ে নেবে আফগানিস্তানে যেরকম হয় ইরাকে যেরকম হয় সিরিয়াতে যেরকম হয় কোথায় গুলি মারবে হোক বিতর্ক [প্রশংসা] [মিউজিক] ছাত্র জনতার মাসব্যাপী
আন্দোলনের মুখে গত 5 আগস্ট যখন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলো তারপর থেকে ভারতীয় মিডিয়ার বিশেষ করে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার আচরণ এই প্রবাদটাই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল এক কোটির বেশি হিন্দু শরণার্থীকে নেওয়ার জন্য সবাই মানসিক তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হবে এই বিপ্লব আসলে ছাত্রজনতা করেনি বরং করেছে কোন জঙ্গি গোষ্ঠী সরকার পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার কিছু ঘটনা ঘটেছে সেটাকে অস্বীকার করার উপায় নেই কিন্তু রিপাবলিক টিভি টাইপের মিডিয়া হাউস গুলো প্রোপাগান্ডা শুনলে যে কেউ ভাববে বাংলাদেশে বোধহয় হিটলারি ও কায়দায় সংখ্যালঘুদের উপর ম্যাসাকার চলছে শেখ হাসিনার পতনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যত না মন খারাপ
তার চেয়ে বেশি মন খারাপ বোধহয় করেছে ভারতের মিডিয়া হাউস গুলো কিন্তু কেন ভারতীয় মিডিয়ার এ হেনো আচরণ কেন জুলাই বসন্তকে মেনে নিতে তাদের এত অনীহা কেনই বা সত্যের ধার না ধরে মিথ্যে এমন বাহারি পরিবেশন [মিউজিক] রেমন ম্যাক্সেসে অ্যাওয়ার্ড জয়ী ভারতীয় সাংবাদিক রবীশ কুমার আজ থেকে প্রায় আট বছর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমের একটা বড় অংশকে আখ্যায়িত করেছিলেন গদি মিডিয়া নামে গদি বলতে তিনি মূলত বুঝিয়েছিলেন সিংহাসনকে অর্থাৎ রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যে বা যারা আছে তাদের পা চেটে টিকে থাকাই এই মিডিয়ার কাজ ভারতে ইলেকট্রনিক মিডিয়া তথা টিভি চ্যানেলগুলোর কর্মকাণ্ড যারা বিগত এক দশক ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন দেশটির
শতকরা 99 ভাগ টিভি চ্যানেলই সে দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা বিজেপির সুরে কথা বলে সাংবাদিকতার নীতি বা নৈতিকতার বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করেই একের পর এক গুজব ছড়ানো হয় চ্যানেলগুলোতে তৈরি করা হয় সাম্প্রদায়িক হানাহানির একটা সুস্থ পরিবেশ বাংলাদেশে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সেই অসৎ সাংবাদিকতার দেখা মিলল আরো একবার এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি নগ্নরূপে জুলাই বিপ্লব যতদিন কোটা সংস্কারের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ ছিল ততদিন ভারতীয় মিডিয়া এই আন্দোলন নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ দেখায়নি যেহেতু শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি ভারতের একচেটিয়ে সমর্থন ছিল এ কারণে সম্ভবত দেশটির মিডিয়াও চায়নি শেখ হাসিনা সরকার বিব্রত হয় এমন কোন সংবাদ প্রচার করতে যদিও আন্দোলন
জোরদার হওয়ার পর এবং ইন্টারনেট শাটডাউনের মত ঘটনাগুলো ঘটার পর প্রিন্ট মিডিয়া কিছু খবর প্রকাশ করেছিল কিন্তু সেখানেও ছাত্র আন্দোলনের এই ইস্যুটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে অনেক জায়গায় তবে সবকিছু বদলে গেল 5 আগস্ট শত শত ছাত্র এবং নিরীহ মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে আর ঠেকে থাকতে পারলো না স্বৈরাচারী সরকারের মাসদ দেশ ছেড়ে পালালেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক তারপর থেকেই যেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে পুঞ্জিভূত ক্ষোভ ছাড়তে শুরু করল ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো বেশিরভাগ চ্যানেলেই গোটা আন্দোলনটাকে আমেরিকান ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখানো হলো বলা হলো বাংলাদেশের কট্টরপন্থী ধর্মীয় সংগঠনগুলোই নাকি এই আন্দোলন করেছে 5 আগস্ট থেকে ভারতীয় চ্যানেলগুলোতে
সবচেয়ে বেশি চর্চিত বিষয় ছিল বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পথ পরিবর্তন বাংলাদেশ নিয়ে প্রত্যেকটা মিডিয়ার ঘন্টার পর ঘন্টাব্যাপী প্রোগ্রাম তৈরি করতে থাকলো তাদের সেসব খবর এবং টকশো দেখে যে কেউ ভেবে নিতে পারে যে বাংলাদেশ বোধহয় আফগানিস্তান হয়ে গেছে তালিবানদের মত কোন কট্টরপন্থী ধর্মীয় সংগঠন বোধহয় শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করে ক্ষমতার দখল দিয়েছে অথচ গত 15 বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ব্যাপারে তারা একটি শব্দ উচ্চারণ করেনি প্রায় হাজার খানিক নিরীহ মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরে একটি বারের জন্য বিগত তিনটি নির্বাচনে যে এদেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগের সুযোগই পায়নি এই সত্যিটাও তারা উপেক্ষা করে গেছে অবলীলায় তাদের নিউজ রিপোর্ট
এবং টকশোর আলাপ জুড়ে ছিল শুধু পতিত স্বৈরাচারের জন্য মায়া কান্না তারা শুধু বলে গেল আমেরিকা পাকিস্তান এবং আইএসআই নাকি বাংলাদেশের এই অবস্থার জন্য দায়ী তবে এর চেয়েও জঘন্য যেটা তারা ঘটালো সেটা হচ্ছে মিথ্যা তথ্য এবং গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক হানাহানি ঘটানোর চেষ্টা 5 আগস্ট সরকার পতনের পর দেশের বেশ কিছু স্থানেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে যেহেতু প্রায় তিন দিন বাংলাদেশ সরকার বিহীন ছিল এবং পুলিশ বাহিনী ছিল কর্মবিরোতিতে সে কারণে এই ঘটনাগুলো ঠেকানো যায়নি সুযোগ সন্ধানী একটি গোষ্ঠী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনা ঘটিয়েছে কিন্তু এর বিপরীত চিত্র আমরা দেখেছি
দেশ জুড়ে আমরা দেখেছি এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা রাত জেগে হিন্দুদের মন্দির পাহারা দিয়েছেন দল বেঁধে তারা ঠেকিয়েছেন আক্রমণ শুধু তাই নয় এই অস্থির সময়ের সুযোগ নিয়ে হিন্দু প্রতিবেশীর বাড়িতে কেউ যাতে হামলা বা লুটপাট চালাতে না পারে সেজন্য অনেক এলাকায় দল বানিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে অথচ ভারতীয় মিডিয়া এসব কিছুই দেখায়নি তারা দেখায়নি সম্প্রীতির বন্ধন তারা বলেনি ভ্রাতৃত্ববোধের গল্প কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধবিহার পুড়িয়ে দেয়ার পুরনো ভিডিও দেখিয়ে ভারত মিডিয়ার একটি অংশ দাবি করল এসব নাকি 5 আগস্টের পর ঘটেছে এমনকি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তজার বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার ভিডিও ফুটেজটি
দেখিয়ে ভারতের বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেল দাবি করেছিল এটি নাকি ক্রিকেটার লিটন দাসের বাড়ি পোড়ানোর ভিডিও এবং হিন্দু হবার অপরাধী নাকি পোড়ানো হয়েছে লিটনের বাড়ি লিটন পরে নিজের ফেসবুক পেইজে এই ঘটনাকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন কিন্তু যে চ্যানেলগুলো এই ভুয়া খবর প্রচার করেছে তারা কিন্তু নিজেদের প্লাটফর্মে এই ঘটনার কোন ফলোআপ রিপোর্ট আর করেনি করেনি নিজেদের ভুল স্বীকার কারণ তারা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিল সেটাই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আবারো বলছি এটা ছাত্র আন্দোলন নয় এটা স্বাধীনতা ভারতীয় দৈনিক টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বরাদ দিয়ে বলা হয় শিগঘরি বাংলাদেশ থেকে
এক কোটির বেশি শরণার্থী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করবে অথচ বাস্তবে এমন কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি ভারতের টিভি চ্যানেলে যখন হিন্দুদের গণহত্যার বানোয়াট খবর প্রচারিত হচ্ছে তখন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন নেতা গোবিন্দচন্দ্র প্রামাণিক আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যতদূর তিনি জানতে পেরেছেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন হিন্দু ব্যক্তিরা ছাড়া সাধারণ হিন্দু ব্যক্তি বা পরিবার আক্রমণের শিকার হয়নি গোবিন্দ প্রামাণিক আরো বলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন নেতা হিসেবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি হামলার কারণ রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িক নয় [মিউজিক] দেশ জুড়ে যতগুলো হিন্দু বাড়ি বা অবস্থানের হামলা হয়েছে তার চেয়ে 10 গুণ বেশি মুসলমান বাড়িতে হামলা হয়েছে শুধু আওয়ামী
লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিনেত্রী আজমিরী হক বাধন শুরু থেকেই আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন একটা পর্যায়ে তিনিও রাস্তায় নেমে এসেছেন মাথায় লাল সবুজের পতাকা বেঁধে অথচ তার ছবি ব্যবহার করে গুজব রটানো হয়েছে তিনি নাকি একজন হিন্দু নারী যিনি নিজের ঘরবাড়ি এবং সম্পদ রক্ষার দাবিতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন নবগ্রহ মন্দিরে আগুন লাগার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে দেখাতে চেয়েছিল ভারতীয় মিডিয়া অথচ পরে জানা যায় উত্তেজিত জনতা স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দিয়েছিল কার্যালয়ের ঠিক পেছনের মন্দিরের অবস্থান হওয়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে মন্দিরের একাংশেও কিন্তু এই সত্যিটা বেমালুম চেপে গেছে ভারতীয় মিডিয়া নইলে যে গলার রগ ফুলিয়ে চিৎকার করে
হিন্দু খাত প্রেমে হ্যাঁ বলার সুযোগটাও হারাতে হতো তাদের এই যে ছবিটা আগুন জ্বালার ছবি সবাই সবাই বলল রিপাবলিক বাংলা নাকি বিভিন্ন ভিডিও দেখাচ্ছে যে ভিডিও নাকি ফেক আমি আবার কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের দিন অর্থাৎ 5 আগস্ট রাতে বাংলাদেশের 64 জেলার মধ্যে প্রায় 20 টি জেলায় হিন্দু বাড়িতে হামলা ও লুটপাট হয়েছে আলজাজিরার প্রতিনিধিরা যে কয়েকটি জেলায় আক্রমণ ও লুটের ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয় বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই ওইসব বাড়িতে হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটেছে ভারতের মিডিয়ার হাউস গুলোর মধ্যে
অন্যতম প্রভাবশালী হচ্ছে টাইমস গ্রুপ সেই গ্রুপের মালিকানাধীন মিরর নাউ এর youtube চ্যানেলে অ্যাটাক অন হিন্দু ইন বাংলাদেশ ম্যাস মার্ডারস কিলিংস বাই মব শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয় সেই ভিডিওতে চারটি বাড়িতে সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ফুটেজ দেখানো হয়েছে সেই ভিডিওতে দাবি করা হয় এই চারটি বাড়ি নাকি বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অথচ দেশীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে জানা যায় এই চারটি বাড়ির মধ্যে অন্তত দুটো বাড়ি মুসলিমদের মালিকানাধীন মিরর নাও এই ভুয়া ভিডিওর জন্য কোন ধরনের ক্ষমা প্রার্থনাই করেনি সংশোধনও আনেনি ভিডিওটির শিরোনামটাই ছিল বিভ্রান্তিকর কারণ এই ঘটনায় কোন ধরনের গণহত্যার খবর পাওয়া যায়নি অথচ তারা দাবি করেছেন বাংলাদেশে নাকি হিন্দুদের উপর ম্যাসমার্ডার
বা গণহত্যা চলছে ভিডিওটিতে আরো দাবি করা হয়েছে জনতার হাতে 24 জনকে জীবিত পুড়িয়ে মারা হয়েছে অথচ এরকম কোন ঘটনার কথা বাংলাদেশের মানুষ জানেই না আরেক অকাল কুশমান্ডের কথা না বললেই নয় সেটা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের টিভি চ্যানেল রিপাবলিক বাংলা রিপাবলিক টিভি চ্যানেলটির মূল মালিক হচ্ছে বিজেপি বন্ধী সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী যিনি নিজের চ্যানেলে ঘৃণা ছড়ানোর কাজে সিদ্ধ হস্ত যাকে তাকে জঙ্গি বা আরবান নকসাল খেতাব দেয়ার যার ঝুড়ি মেলাফা সেই চ্যানেলেরই বাংলা ভার্সনে গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের ছাত্র জনতার আন্দোলন নিয়ে একের পর এক কটু কথা এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে ময়ূখরঞ্জন ঘোষ নামের একজন উপস্থাপক রাস্তার ক্যানভাসার কিংবা সার্কাসের
ক্লাউনের মত অশ্লীল ভঙ্গিমায় ঘন্টার পর ঘন্টা চিৎকার করে দাবি করেছেন বাংলাদেশের এই বিপ্লব নাকি পাকিস্তানের আইএসআই এবং আমেরিকার যৌথ ষড়যন্ত্র এই চ্যানেলে দেখানো হয়েছে বাংলাদেশে নাকি হিন্দু তরুণীদের জোর করে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অথচ নোয়াখালীতে সংঘটিত সেই ঘটনাটির নেপথ্য ছিল পারিবারিক কলহ সেখানে ধর্মীয় কোন দৃষ্টিকোণই ছিল না কিন্তু রিপাবলিক মাখলার তাতে বয়েই গেছে তাদের কাজ গুজব ছড়িয়ে বিভেদ সৃষ্টি করা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করা তারা তাই টিনের চশমা চোখে দিয়ে নিজেদের কাজটাই এক মনে করে গেছে ভারতীয় হিন্দুদের মধ্যে যারা কট্টরপন্থী তারা এসব ভুয়া রিপোর্ট এবং ভিডিও লুফে নিয়েছিল ভারতের মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছিল
বাংলাদেশের নাম দিয়ে প্রকাশিত এইসব ভুয়া ভিডিও এবং মনগড়া রিপোর্টকে ব্যবহার করে অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছিল যে কলকাতা পুলিশ তাদের ফেসবুক পেইজে বিবৃতি দিতে বাধ্য হয় যাতে স্থানীয় হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে কোন ধরনের সহিংসতা বেঁধে না যায় সেই বিবৃতিতে কলকাতা পুলিশ বলেছিল সাধারণ মানুষ যাতে যাচাই বাছাই না করে টিভি চ্যানেলের খবরে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে টিভি চ্যানেলগুলোর কাজ সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেছিল কলকাতা পুলিশ যদিও এই চ্যানেলগুলো গত 10 বছরে একবারের জন্য সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ করেছে কিনা সন্দেহ আছে গুজবের ভাগার হওয়াটাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল এবং তারা সফলভাবেই সেটা হতে পেরেছে জেলে পড়েন এবং সেই জেলে পড়ার
দায়িত্বটা শেখ হাসিনার থেকে শেখেন কি বিগত 15 বছর ধরে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশ ছিল ভারতের সবচেয়ে কাছের বন্ধু ভারত বরাবরই বাংলাদেশের কাছ থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় সব সুবিধা আদায় করে নিয়েছিল সেটা হোক ট্রান্জিট কিংবা হোক প্রতিরক্ষা চুক্তি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ভারত সরকারের আস্থা ছিল চোখে পড়ার মতোই এ কারণে শেখ হাসিনা যখনই ক্ষমতা হারালেন সেটা ভারতের জন্য বিশাল একটা মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠলো আঞ্চলিক রাজনীতিতে বেশ কয়েক বছর ধরেই ভারত বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তাদের রেশারেশি নেপালের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নেই ভুটান অনেক বেশি চীন ঘেসা হয়ে পড়েছে মালদ্বীপ থেকেও ভারতীয় নৌসেনাদের
দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সে দেশের সরকার সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একমাত্র মিত্র ছিল বাংলাদেশ আরো ভালোভাবে বললে শেখ হাসিনা সেই শেখ হাসিনার এমন পতন ভারত সরকার বা ভারতের মিডিয়া কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি এ কারণেই প্রথমে ছাত্রজনতার বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হলো তারপর সেটিকে মৌলবাদের মোরকে আবদ্ধ করার চেষ্টা হলো সেটাও যখন সম্ভব হলো না তখন ভুয়া ভিডিও এবং রিপোর্টে ছয় লাভ করে ফেলা হলো টিভি চ্যানেল গুলোকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়ানো হলো ঘৃণা সেগুলো যখন ধরা পড়ে যাচ্ছিল যখন মিথ্যে প্রোপাগান্ডা হেরে যাচ্ছিল সত্যের কাছে তখন পাশাপাশি প্রচারণা চালানো হলো পুরো ব্যাপারটা ঘটিয়েছে আমেরিকা এবং পাকিস্তান মিলে
এর মধ্যে ভারতের চ্যানেলগুলো প্রতিদিন নিয়ম করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করতে পুরো ব্যাপারটা শুরু থেকে দেখলে মনে হবে কি দারুন একটা নাটকই না মঞ্চস্ত হচ্ছে সবাই যার যার রোল অনুযায়ী অভিনয় করে যাচ্ছে একের পর এক অথচ এই মিডিয়াগুলো কিন্তু একবারের জন্য প্রশ্ন করেনি 2008 সালে যে রাজনৈতিক দল বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছিল 15 বছরের ব্যবধানে তাদেরকে গদি থেকে টেনে নামানোর জন্য কেন লাখো মানুষ প্রাণের ভয় উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছিল তারা জানতে চায়নি মাত্র অল্প কয়েকদিনের আন্দোলনে কিভাবে প্রায় 1000 মানুষ নিহত হয় কিভাবে পুলিশকে ওপেন ফায়ারের লাইসেন্স দেয়া হয় গণভবনে লুটপাটের ভিডিও নিয়ে তারা অজস্র
কথা বলেছেন কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে সীমাহীন লুটপাটের খোঁজ তারা নিতে চাননি ভাস্কর্য ভাঙ্গা নিয়ে তারা মায়া কান্না করলেন অথচ ছয় বছরের রিয়া গোপ কিংবা চার বছরের আহাত আন্দোলনের সাথে যাদের কোন সম্পর্ক ছিল না সেই নিরপরাধ শিশুরা কেন নিজেদের বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হলো এই প্রশ্ন করার সাহস তাদের হলো না কারণ সেসব প্রশ্ন করলে তারা ঘৃণা ছড়াতে পারবেন না তাদের পারপাস সার্ভ হবে না সাংবাদিক শব্দটাকে কেন অনেকেই সাংঘাতিক হিসেবে উচ্চারণ করেন সেটা গত দুই সপ্তাহে দেখিয়ে দিয়েছে ভারতীয় মিডিয়ার একটা বড় অংশ তাদের মিথ্যাচারের নমুনা দেখলে হিটলারের প্রোপাগান্ডা মিনিস্টার জোসেফেলস লজ্জা পেয়ে যেতেন সাংবাদিকতা নিয়ে যারা পড়াশোনা
করেন বা হলুদ সাংবাদিকতা নিয়ে যারা জানতে চান তাদের জন্য ভারতের টিভি চ্যানেল গুলোর এই কাজটা দারুণ একটা পোর্টফোলিও হয়ে টিকে থাকবে যুগ যুগ ধরে সরকার পতনের পর বাংলাদেশের বেশ কিছু জায়গায় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হয়েছে ধানমন্ডির 32 নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে কিংবা বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে এই তথ্যগুলোকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই এগুলো যে ঘৃণিত কাজ তাতেও কারো কোন সন্দেহ নেই কিন্তু তিলকে তাল বানিয়ে মিডিয়াকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়ার মত ঘৃণ্য কাজ যারা নগ্নভাবে করতে পারে তারা ওই হামলাকারী বা লুটেরা গোষ্ঠীর চেয়েও ভয়ঙ্কর এতে সম্ভবত কারো কোন দ্বিমত
থাকবে না জুলাই বিপ্লব স্বৈরাচারের পতন ঘটানোর পাশাপাশি এই ঘৃণিত মানুষ এবং প্লাটফর্ম গুলোকেও আমাদের ছিনিয়ে দিয়ে গেল اللہ