আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি বন্ধুরা আজকের এই ভিডিওতে আমরা তিন ভাইয়ের একই নামের একটি বিষয়কর ঘটনা সম্পর্কে বলতে চলেছি যা শুনে আপনার মন ছুয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ তাই ভিডিওটি একবারে শেষ পর্যন্ত দেখবেন এক আরো ব্যবসায়ীর তিন ছেলে ছিল যাদের প্রত্যেকের নাম রেখেছিলেন আব্দুল্লাহ একদিন সেই ব্যক্তি মৃত্যু সজ্জায় যখন উপনীত হলো তখন সে দ্রুত তার তিন পুত্রকে ডেকে ওসিয়ত করে বলল আব্দুল্লাহ আমার মিরাজের সম্পদ পাবে আব্দুল্লাহ আমার মিরাজের সম্পদ পাবে না এবং আব্দুল্লাহ আমার মিরাজের সম্পদ পাবে এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই কোন আব্দুল্লাহ কিভাবে সেটা ব্যাখ্যা করার
আগেই তার রুহ কবজ করা হলো তিনি মারা গেলেন যেহেতু তিনজনের নামে আব্দুল্লাহ আর ইন্তেকালের আগে বাবা তিনজনের নাম আব্দুল্লাহ উল্লেখ করে দুজনকে মেরাজের দিয়েছেন আর একজনের ব্যাপারে বলেছেন সে সম্পদ পাবে না কিন্তু থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হবে তাই বাবা মারা যাওয়ার পরে তিন ভাই পড়ে গেল এক মহাসংকটে আসলে এদের মধ্যে কার ব্যাপারে বলেছেন যে সে পৈত্রিক সম্পদ পাবে না আর কোন দুজনের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে সে পৈত্রিক সম্পত্তি পাবে কেননা তিনজনের নামই তো এক আর বাবা ব্যাপারটা একদম খোলাসা করে বলতে পারেননি শুধু তাদের নাম আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ বলেছে তাই তারা এই ফয়সালা নেওয়ার জন্য তৎকালীন আরবের
কাজী যিনি আসলে বিচার আচার করতেন মানুষের মধ্যে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কাজীর কাছে গিয়ে তারা উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল ফলে তিন ভাই শহরে কাজের উদ্দেশ্যে সফরে বের হলো প্রতিমধ্যে তারা এমন এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেল যে তার কোন এক হারানো জিনিস খুঁজে বেড়াচ্ছিল তখন সেই তিন ভাই ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করল কি ব্যাপার ভাই তুমি কি খুঁজছো তখন সে ব্যক্তি বলল আরে ভাই আমার একটি উটনি হারিয়ে গেছে এবং আমি তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি তখন এই তিন আব্দুল্লাহর প্রথম আব্দুল্লাহ জিজ্ঞাসা করল তোমার উটনির কি একটি চোখ কানা ছিল সে লোকটি উত্তর দিল আরে হা আমার উটনির একটি চোখ কানা ছিল
এরপর দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ জিজ্ঞাসা করল তোমার উটনির কি একটি পা খোঁড়া ছিল সে লোকটি তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল আরে হাদম ঠিক বলেছ ওই এক চোখ কানা এক পা খোড়া এটাই আমার উটনি ছিল এরপর আব্দুল্লাহ বলল তোমার উটনির কি একটি লেজ কাটা ছিল সে ব্যক্তি আনন্দিত হয়ে বলল একদম সব মিলে গেছে ঠিক আছে এবার আমার উটনি কোথায় বলো এরপর এরা বলল হ্যাঁ আসলে তোমার উটনি কোথায় তা আমরা জানিনা এই কথা শুনে শহরের স্থানীয় উটের মালিক প্রচন্ড ক্ষেপে গেল এবং তাদের তিনজনকে ধরে বলল আমি নিশ্চিত তোমরা আমার উটনির খবর জানো কিন্তু তোমরা গোপন করেছো তোমাদেরকে এখনই শহরের কাজের কাছে
নিয়ে যাব যেন তোমাদেরকে আচ্ছা করে শাস্তি দেয় আর আমার উটনিটা যেন বের হয়ে যায় এরপর তারা কসম করে বলল আল্লাহর কসম আমরা জানিনা তোমার উটনি কোথায় ঠিক আছে সমস্যা নাই তুমি কাজীর কাছে চলো আমরা উনার কাছে যাচ্ছিলাম যাই হোক এই তিন ভাইকে ধরে টেনে কাজীর দরবারে হাজির করা হলো এবং এই শহরে ব্যক্তি সুদৃঢ়ভাবে কাজীর নিকট অভিযোগ পেশ করল যে মুহতারামা আমি নিষিধ এই তিন ভাই আমার উট নিয়ে জবাই করে খেয়েছে অথবা সেটি লুকিয়ে রেখেছে কারণ এরা তিনজনই আমার উটনির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন সম্পর্কে জানে এখন অপরাধ লুকানোর জন্য মিথ্যা বলছে কাজী সাহেব পুরো বিষয়টি শুনে চুপচাপ
কিছুক্ষণ ভাবলেন এরপর তিন ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন দেখো একটা বিষয় তো বোঝা যায় যে উটনি তোমাদের তিনজনের কাছে রয়েছে কারণ তোমরা এই উটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছো যা একেবারে মিলে যাচ্ছে তোমাদের জন্য ভালো যে তোমরা অপরাধ স্বীকার করে নাও তখন প্রথম আব্দুল্লাহ বলল জনাব আমরা এই উটনিকে দেখিনি তবে হ্যাঁ এটা সত্য যে আমরা তার উটনির কিছু আলামত দেখতে পেয়েছি তখন কাজী সাহেব জিজ্ঞেস করল কি এমন আলামত দেখলে যে উটনির শরীরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন তোমরা বলে দিলে তখন প্রথম আব্দুল্লাহ বলল দেখুন উটনির একটি চোখ কানা ছিল এটা বুঝতে পেরেছিলাম কেননা সেই ব্যক্তি যে রাস্তা দিয়ে আসছিল
সে রাস্তার একপাশে যত ঘাস ছিল সব ঘাস কোন একটি খেয়ে নিয়েছে আর রাস্তার অপর পাশের ঘাসগুলো ছিল একদম তরতাজা এর কারণ একটি হতে পারে উটনির এক চোখ কানা শুধুমাত্র একপাশের ঘাস দেখতে পেয়েছে এবং তাই খেয়ে সাবার করেছে অন্য পাশের ঘাস দেখতে পায়নি দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ বলতে লাগলো আমি রাস্তায় দেখতে পেয়েছি মাটির ওপরে উটের তিনটি পায়ের দাগ খুব স্পষ্ট ফুটে রয়েছে কিন্তু চতুর্থ পায়ের দাগ মাটির ওপরে খুব হালকাভাবে পড়েছে এর একটাই অর্থ হতে পারে যে এই লোকের উটনির একটি পা খোড়া ছিল তৃতীয় আব্দুল্লাহ বলল উট রাস্তা দিয়ে চলার সময় যখন বিষটা ত্যাগ করে তখন সে তার লেজ
নাড়াতে থাকে যার ফলে লেজের আঘাতে বীজটা রাস্তার এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে কিন্তু আমরা যে পথ দিয়ে আসছিলাম সেখানে দেখতে পেয়েছি উটের বীজটা এক লাইনে সোজা বরাবর পড়ে আছে যার অর্থ কেবল একটাই হতে পারে যে এ লোকের উটনির লেস কাটা ছিল তাই সে তার বীজটার ডানে বামে ছিটিয়ে ফেলতে পারেনি কাজী একেবারে অবাক হয়ে গেলেন সঙ্গে সঙ্গে সেই উটের মালিকের দিকে তাকালেন এবং বললেন তুমি যেতে পারো উটের মালিক বলল হ্যাঁ কাজী সাহেব আমারও তাই মনে হচ্ছে তবে এই তিন ব্যক্তি যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মানুষ এতে কোন সন্দেহ নেই কাজী সাহেব তাকে বললেন তোমার উটনি এই লোকদের কাছে
নেই আর তারা তোমার উটনি দেখেনি উটের মালিক মাথা নেড়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর সেই তিন ভাই কাজীর নিকট নিজেদের ঘটনা খুলে বলল ঘটনা শুনে কাজী খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন কাজী সাহেব সেই তিন ভাইকে বললেন আরে এইমাত্র যে সমস্যার সমাধান করলাম তার থেকেও তো দেখতে পাচ্ছি তোমাদের সমস্যা বড় জটিল আচ্ছা ঠিক আছে তোমরা আজ রাত আমার মেহমানখানায় কাটাও আমি আগামীকাল চিন্তা ভাবনা করে তোমাদেরকে এর কোন একটি সমাধান বলবো সে তিন ভাই যখন কাজীর মেহমান খানায় গিয়ে উঠলো তখন তারা পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পারলো যে তাদের উপর নজরদারী করা হচ্ছে কিছুক্ষণ পর তাদের জন্য খাবার আনা হলো
সেখানে রান্না করা গোস্ত এবং রুটি পরিবেশন করা হয়েছিল প্রথম ভাই খাবারের দিকে তাকিয়ে বলে দিল এই গোস্ত কুকুরের গোস্ত দ্বিতীয় ভাই বলল যে মহিলা এই রুটি তৈরি করেছে সে মহিলা গর্ভবতী এবং অত্যন্ত দুঃখী তৃতীয় ভাই বলল এই কাজী তার মায়ের অবৈধ সন্তান এই তিন ভাইয়ের কথা কাজীর কানে পৌঁছালো কাজী পরের দিন এই তিন ভাইকে তার আদালতে ডেকে পাঠালেন এবং এই তিনজনকে উদ্দেশ্য করে বললেন তোমাদের মধ্যে কে বলেছিল যে এখানে কুকুরের গোস্ত রান্না করা হয়েছে প্রথম ভাই বলল আমি বলেছিলাম কাজেই বাবুর্চিকে ডেকে জিজ্ঞাসা করল বাবুর্চি স্বীকার করল বাবুর্চি জানালো রান্না করার মতো ঘরে কিছু ছিল না
অতঃপর সে একটি রাস্তার কুকুরকে মেরে তার গোস্ত রান্না করে এদের জন্য পাঠিয়ে দিল কাজী প্রথম ভাইকে জিজ্ঞাসা করল তুমি কিভাবে বুঝতে পারলে যে এই গোস্ত গরুর গোস্ত নয় এটা কুকুর গোস্ত প্রথম ভাই উত্তর দিল গরুর ছাগল কিংবা উটের গোস্তের মাংসের নিচে চর্বি লেগে থাকে কিন্তু এই গোস্তের সব জায়গায় চর্বি ছিল এবং চর্বির নিচে কোন কোন জায়গায় গোস্ত লেগেছিল কাজী তখন বলল তুমি হচ্ছ প্রথম আব্দুল্লাহ যে তার বাবা আর মিরাজের থেকে সম্পদ পাবে এরপর কাজী পুনরায় তাদেরকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞাসা করল তোমাদের মধ্যে কে বলেছিল যে তোমাদের পরিবেশন করা রুটিগুলো এমন কোন মহিলা বানিয়েছে যে গর্ভ এবং
সে খুব দুঃখ দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে জবাবে দ্বিতীয় ভাই বলে উঠলো আমি এই কথা বলেছিলাম কাজী তাকে জিজ্ঞাসা করল তোমার কেন এমনটা মনে হয়েছে তখন দ্বিতীয় ভাই জবাব দিল কারণ হচ্ছে আমি দেখতে পেয়েছি রুটিগুলো একদিকে ফুলে আছে এবং ঠিকমত রান্না হয়েছে কিন্তু অপর পাশ কাঁচা এবং মোটা হয়ে গেছে ঠিকমতো ফুলেনি আমি তা দেখে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে রুটি তৈরি করা মহিলা তিনি এমন একজন নারী যিনি কষ্ট হয় বিধায় বেশি ঝুকতে পারছিলেন না এবং তিনি তার সামনের দিকে ভালোমতো দেখতে পাচ্ছিলেন এর দ্বারা এটাই বোঝা যায় যে সেই মহিলা গর্ভবতী যার ফলে রুটি বানাতে তার খুব
কষ্ট হচ্ছিল কাজী বলল তুমি হচ্ছ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ যে তার বাবা আর মিরাজ থেকে সম্পদ পাবে কাজী পুনরায় তাদের তিন ভাইকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞাসা করল তোমাদের মধ্যে কে বলেছিল যে আমি আমার মায়ের অবৈধ সন্তান তৃতীয় ভাই বলল একথা আমি বলেছিলাম কাজী তার দরবার থেকে উঠে অন্তর মহলে গেল এবং নিজের মায়ের কাছে জিজ্ঞাসা করল এক কথা কি সত্যি যে আমি তোমার অবৈধ সন্তান তখন কাজীর মা তাকে বলল হ্যাঁ একথা সত্যি যে তুমি আমার অবৈধ সন্তান কাজী পুনরায় দরবারে আসলো এবং তৃতীয় আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করল তুমি কিভাবে জানতে পারলে যে আমি আমার মায়ের অবৈধ সন্তান তৃতীয় আব্দুল্লাহ উত্তর দিল
তুমি যদি বৈধ সন্তান হতে তাহলে তুমি মেহমানখানা আমাদের উপর নজরদারী করতে না আর না আমাদেরকে কুকুরের গোস্ত রান্না করে খাওয়াতে আর এক অসহায় গর্ভবতী মহিলাকে দিয়ে কাঁচা রুটি বানিয়ে আমাদেরকে খাওয়াতেন কাজী তৃতীয় ভাইকে উদ্দেশ্য করে বলল তুমি হচ্ছ সেই আব্দুল্লাহ যে তার বাবার মিরাজ থেকে কোন সম্পদ পাবে না তৃতীয় আব্দুল্লাহ বিনয়ের সাথে বলল কেন আমি তোমার বদনাম করেছি তখন কাজী সাহেব বলল দেখো তুমি আমার জন্য যা বলেছো যদি সত্যিকার অর্থে আমি রাগ এবং ক্ষোভের সাথে নিতাম সেক্ষেত্রে আমি তোমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করতাম আসলে আমি যা বলছি তাই সত্য কারণ সত্য কথা হচ্ছে একজন নাজায়েজ সন্তানই আরেকজন
নাজায়েজ সন্তানকে ঠিক ঠিক চিনতে পারে আর আমিও ঠিক তোমাকে চিনে নিয়েছি তুমিও তোমার মায়ের একজন নাজায়েজ সন্তান তোমার পিতা তিত আব্দুল্লাহকে কোন প্রকার সম্পদ দিয়ে যায়নি পিতার মিরাজ থেকে তুমি কোন সম্পদ পাবে না যেমনটা আমিও পাইনি মৃত আব্দুল্লাহ যে মূলত বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে সে তার মাকে জিজ্ঞেস করল এই ঘটনাটি কি ঠিক তাদের মা তখন বলল যে হ্যাঁ একদিন তোমার বাবা ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলেন তখন মসজিদের দরজার কাছে তোমাদের বাবা একটি বাচ্চাকে দেখতে পান তিনি তখন সেই বাচ্চাটিকে নিজের সাথে করে ঘরে নিয়ে আসেন তোমাদের আব্বা সেই বাচ্চাটির নাম তোমাদের বাকি দুই ভাইয়ের নামের
সাথে মিলিয়ে আব্দুল্লাহ রেখেছিলেন কারণ তিনি অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুইটি নামকে তিনি খুব পছন্দ করতেন এক হচ্ছে আব্দুল্লাহ এবং আব্দুর রহমান এজন্য তিনি সবচেয়ে উৎকৃষ্ট আব্দুল্লাহ নামটি তোমাদের তিনজনকে রেখেছেন তোমাকে কুড়িয়ে পেয়েছি একথা কখনো তোমাকে বলতে নিষেধ করেছেন কিন্তু যেহেতু শরীয়ত মোতাবেক শুধুমাত্র নিঃসন্তানদেরকে সম্পদ দেওয়া উচিত তাই তোমার বাবার সম্পদ ওই দুজনকে দিয়েছেন আর তোমার জন্য শুধু থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তো বন্ধুরা কেমন লাগলো আমাদের আজকের এই ভিডিওটি কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন আজ তাহলে এই পর্যন্তই আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ