আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি বন্ধুরা আজকের এই ভিডিওতে আমরা ইউসুফ আলাইহিস সালামের কূপ থেকে মুক্তি ও মিশরে বিক্রি হওয়ার বিষয়কর ঘটনা সম্পর্কে বলতে চলেছি যা শুনে আপনার মন ছুঁয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ তাই ভিডিওটি একবারে শেষ পর্যন্ত দেখবেন বিভিন্ন তাফসীরে উল্লেখ আছে ইউসুফ আলাইহিস সালামকে কুপে ফেলে দেওয়ার পর তার ভাইয়ের তার জামাকাপড়ে প্রাণীর রক্ত মেখে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরে আসে তারা বাবাকে বলল হঠাৎ এক নেগড়ে বাঘ এসে ইউসুফকে খেয়ে ফেলেছে কিন্তু প্রকৃত ঘটনা কি ছিল আল্লাহতালা কিভাবে তাকে মুক্ত করেছেন আলোচ্য আয়াতে সে বিষয়ে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে পবিত্র
কোরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন এক যাত্রী দল এলো তারা তাদের পানির সংগ্রাহককে প্রেরণ করল সে তার বালতি বা পানির ডোল নামিয়ে দিল সে বলে উঠলো কি সুখ খবর এ যে এক কিশোর তারপর তারা তাকে পণ্যরূপে লুকিয়ে রাখলো তারা যা করছিল সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ জ্ঞাত ছিলেন সূরা ইউসুফ আয়াত 19 মোহাম্মদ ইবনে ইসহাক রহমাতুল্লাহি আলাই বলেন ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইয়েরা তাকে কূপে নিক্ষেপ করার পর এর পাশে সারাদিন অবস্থান করেছিল ইউসুফ আলাইহিস সালাম কি করেন তার মাধ্যমে কি কি ঘটনা ঘটে তা জানা ও দেখার কৌতুহল থেকেই তারা অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেয় কূপে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পর পর ইউসুফ আলাইহিস
সালাম তিনদিন তিন রাত ছিলেন ঘটনাক্রমে এক বাণিজ্য কাফেলা বাণিজ্যের সম্ভার নিয়ে মাদিয়ান থেকে মিশর অভিমুখে যাচ্ছিল পথ ভুলে তারা ইউসুফ আলাইহিস সালাম যে কূপে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন সেটির নিকট পৌঁছে যায় কূপের পাড়ে আবহাওয়া প্রাকৃতিক পরিবেশ ভালো দেখতে পেয়ে তারা সেখানেই যাত্রা বিরতি করে কিন্তু কূপটি সাপ বিচ্ছু দ্বারা পরিপূর্ণ এবং জনবসতি থেকে দূরে ছিল তদুপুরি এই কূপের পানি ছিল লবণাক্ত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে নিক্ষেপ করার পর এই কূপের পানি মিষ্টি হয়ে যায় বাণিজ্য কাফেলা অধিপতির নাম ছিল মালিক ইবনে জাজ তার এক গোলাম ছিল নাম তার বসরা বসরা পানি তোলার জন্য কূপের ঢোল ছাড়ে তখন মহান আল্লাহ তাআলার হুকুমে
জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম বললেন ইউসুফ আপনি ঢোলে বসে পড়ুন বসরার ঢোল উঠে দেখে শশীতুল্য সুন্দর এক কিশোর বালক এত সুদর্শন বালক সে দ্বিতীয় কাউকে দেখেনি বাণিজ্য কাফেলার লোকেরা তার সৌন্দর্য দর্শনে বিমোহিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল হে বৎস তুমি কি মানুষ নাকি ফেরেশতা নাকি পরিজাদা ইউসুফ আলাইহিস সালাম বললেন আমি আদম আলাইহিস সালামের বংশধর এই সময় ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইয়েরা সবাই কূপের কাছেই ছিল সরগোল শুনে তারা ইউসুফ আলাইহিস সালাম কে দেখতে পেয়ে বলল এ আমাদের গোলাম ভয়ে পালিয়ে এসেছে এবং এই কূপে পড়ে গেছে এই মিথ্যাচার শুনে ইউসুফ আলাইহিস সালাম কিছু বলতে চাইলে সামন ইব্রানী ভাষায় ইউসুফের উদ্দেশ্যে বলল যদি
যদি এইসব লোককে কিছু বলো তবে তাকে মেরে ফেলবো তখন ইউসুফ আলাইহিস সালাম ভয়ে আর কিছু বললেন না কাফেলা অধিপতি মালেক ইবনে জাজ তাকে কাফেলা লোকজনের মধ্যে দিয়ে লুকিয়ে রাখেন কাফেলা লোকেরা জিজ্ঞাসা করল ছেলেটিকে কোথা থেকে এনেছো কাফেলা অধিপতি মালেক বলল এটা মহান আল্লাহতালা প্রদত্ত লাভজনক এক সামগ্রী ইউসুফকে কূপ থেকে উঠানোর পর ইউসুফ ভ্রাতারা এসে বলল আমরা আমাদের গোলামটিকে বিক্রি করব কাফেলা অধিপতি মালিক বলল ভালো কথা আমি তাকে কিনে নেব কিন্তু আমার নিকট মাত্র 18 মিশরীয় দিরহাম আছে অথচ বেচা কেনায় মিশরীয় দিরহাম অন্য কোথাও চলে না সুতরাং তোমরা মিশরীয় দিরহাম মূল্য গ্রহণে স্বীকৃত হলে আমি তোমাদের
এ গোলামকে কিনে নেব মিশরীয় মুদ্রা গ্রহণ স্বীকৃত হয়ে ভাইয়েরা ইউসুফকে কাফেলা অধিপতি মালিকের নিকট সমর্পণ করল আর এই ঘটনার রহস্য হচ্ছে মিশরীয় দুই দিরহাম কেনানি এক দিরহামের সমান এই হিসাবে মিশরে 18 কেরানী মুদ্রায় নয় দিরহাম হয় আর এই নামমাত্র মূল্যে ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইয়েরা তাকে কাফেলা অধিপতির কাছে বিক্রি করে দেয় তাদের উদ্দেশ্য ছিল পিতার দৃষ্টি থেকে তাকে দূরে নিক্ষেপ করা নতবা ইউসুফ ভ্রাতারা কিন্তু দ্বীনহীন নিঃস্ব ছিলেন না মহান আল্লাহতালা বলেন আর তাকে বিক্রি করে দিল নিতান্তই হীনমূল্যে মাত্র কয়েকটি দিরহামের বিনিময়ে এবং তারা তো তার প্রতি বিমুখী হয়েছিল সূরা ইউসুফ আয়াত 20 আবারো অপর এক বর্ণনা
রয়েছে পরের দিন ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভ্রাতারা সকলে কূপের পাড়ে এসে ইউসুফ আলাইহিস সালামকে কাফেলার সঙ্গে দেখতে পেয়ে নিজেদের গৃহবৃত্ত বলে দাবি করে বসে এই দাবি করে ভ্রাতারা 18 মিশরী দিরহামের বিনিময়ে তাকে কাফেলা অধিপতি মালেকের নিকট বিক্রি করে দেয় ভাইদের যারা ইউসুফ আলাইহিস সালামকে কূপে নিক্ষেপ এবং কাফেলার আধিপত্যের নিকট বিক্রিতে সম্ভাব্য শরিক ছিল তারা সকলে মিলে তার বিক্রয় মূল্য 18 দিরহাম নিজেদের এর মধ্যে অসমা বন্টন করে নেয় মাত্র একজন এই মূল্য থেকে কিছুই গ্রহণ করেনি অতঃপর কাফেলার লোকেরা তাকে মিশরে এনে বিক্রি করে দেয় দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে মিশরের রাজত্ব তার ভাগ্যলিপিতে নির্ধারিত ছিল যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ অন্যের
খেদমত না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত খাদেমদের মূল্য ও মর্যাদা সম্পর্কে অবহিত হতে এবং নিজেকেও খেদমত পাবার যোগ্য বলে দাবি করতে পারবে না কাফেলা অধিপতি মালেক ইবনে জাজ ইউসুফকে খরিদ করেছিল তার খেদমতের শর্তে এবং এ মর্মে ইউসুফ ভ্রাতাদের থেকে একটি বিক্রয় রশিদ পত্র লিখিয়ে এই বিক্রয় রশিদ পত্রের ভাষা ছিল এরূপ মালিক ইবনে জাজ ইব্রাহিমের পুত্র ইসহাক এবং ইসহাকের পুত্র ইয়াকুবের পুত্রদের থেকে একটি ইব্রানী গোলাম মাত্র 18 দিরহামে খরিদ করেছে নির্ভরযোগ্য সাক্ষীর সম্মুখে তাকে খরিদ করে হস্তে সমর্পণ করা হচ্ছে এরপর মালিক ইউসুফ আলাইহিস সালামকে জিঞ্জির বদ্ধ অবস্থায় ঘোড়ার পিঠে উঠিয়ে তার গায়ে একটি মোটা পশমী কম্বল ছড়িয়ে দিয়ে
পথ চলতে শুরু করল কিছুদূর যেতেই পতিমধ্যে ইউসুফ আলাইহিস সালামের মায়ের কবর ছিল তিনি সেখানে অবতরণ করে মায়ের কবর জিয়ারত করেন আর অবিরল ধারায় কাঁদতে শুরু করেন তিনি কবরস্থ মাকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলেন মা ভাইয়েরা ঈর্ষা বসত আমার উপর খুব বেশি জুলুম করেছে এবং এই কাফেলা অধিপতির কাছে তোমাকে বিক্রি করে দিয়েছে আমার ঘড়িদার মনিব আমার পায়ে বেড়ি পড়িয়েছে তারা আমার পিতার খেদমত স্বদেশ ভূমি এবং আপনার কবর সবকিছু থেকে আমাকে দূরে নিক্ষেপ করেছে ইতিমধ্যে বাণিজ্য কাফেলার সামনে কিছুদূর চলেও গেছে কাফেলা থেকে এক লোক দৌড়ে এসে বলল ওহে গোলাম তুমি এখনো এখানে আসলে সত্যিই তো তুমি পলায়ন পর
মানসিকতা সম্পন্ন এই বলে সে ইউসুফ আলাইহিস সালামকে থাপ্পড় মারলো তখন ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম আকাশের দিকে মাথা উঠিয়ে বলল ইয়া মহান আল্লাহ তাআলা এই জালিমদের অনিষ্ট আর দুষ্কৃতিপনা থেকে আমাকে রক্ষা করুন আমার উপর দিয়ে যে বিপদ মুসিবত যাচ্ছে তা সবকিছুই আপনি জানেন আল্লাহ আমি আর সহ্য করতে পারছি না এসব মাতম শেষে ইউসুফ আলাইহিস সালাম কাফেলা শামিল হন ইতিমধ্যে আকাশে ভীতিকর এক খন্ড মেঘ দেখা দেয় এবং সেই সঙ্গে প্রবল বাতাস বইতে শুরু করে এবং বজ্রবিজলির গর্জন শুরু হয় কাফেলা সবাই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয় কাফেলার সকলে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগলো ভেবে দেখো কি গুনাহের কারণে আমরা এমন
কঠিন বিপদে পতিত হয়ে যে ব্যক্তি ইউসুফ আলাইহিস সালাম কে চড় মেরেছিল সে বলল আসলে আমার গুনাহের কারণেই কাফেলা শুদ্ধ সবাই এই বিপদে পতিত হয়েছি যখন আমি এই গোলামকে থাপ্পড় মেরেছিলাম তখন সে আকাশের দিকে মুখ উঠিয়ে কেঁদে কেঁদে কি জানি একটা বলেছিল তখনই এই ধ্বংসকারী বিপদ আমাদের উপর আপতিত হয় এই কথা শুনে সকলে ইউসুফ আলাইহিস সালামের নিকটে গিয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তাদের ক্ষমা প্রার্থনায় ইউসুফ আলাইহিস সালাম দোয়া করেন তৎক্ষণাৎ মহান আল্লাহতালার হুকুমে বিপদ বাতাস বন্ধ হয়ে যায় কাফেলা এখান থেকে রওনা দিতেই মিশরে খবর পৌঁছে যায় মালেক ইবনে জাজ সুন্দর সুদর্শন এক ইবরানী
গোলাম নিয়ে আসছে যার মত সুদর্শন এই ধরায় আর কেউ নাই এক্ষেত্রে সে নিজেই নিজের উদাহরণ এই সংবাদ শুনতে পেয়ে মিশর শহরের সব লোক বাণিজ্য কাফেলার অভ্যর্থনার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসে ইউসুফ আলাইহিস সালামের যে রূপ সৌন্দর্য এবং গুণ বৈশিষ্ট্যের কথা শুনতে পেয়েছিল তাকে দেখে তারা স্রোত সংবাদ থেকে অনেক গুণ বেশি পেল কাফেলা অধিপতি মালেক নিজের ঘর সুসজ্জিত করে এবং তাতে রুমের রেশমের বিছানা বিছায় এবং ইউসুফ আলাইহিস সালামকে আভিজাত্যপূর্ণ পোশাক ও মাথায় স্বর্ণমুকুট পরিয়ে দেয় অতঃপর সে শহরময় প্রচার করে আমি সুন্দর সুদর্শন সৎচরিত্র সুচতুর জ্ঞানী এক গোলামকে বিক্রয় করতে চাই যিনি খরিদ করতে চান তিনি যেন সময়মতো
আসেন এ ঘোষণায় মিশরের উচ্চবিত্ত নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত সব ধরনের লোক এসে মালেকের অবস্থানস্থলে ভিড় জমায় ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন দেখতে পেলেন আগত ক্রেতারা তার মূল্য সম্পর্কে দ্বিধায় রয়েছে তখন তিনি মনে মনে বললেন মালিক তো আমাকে বিক্রয় করতে ভুল করেছে কারণ যে ভাইয়েরা আমার সবকিছু সম্পর্কে অবগত ছিল তারাই যেখানে আমাকে মাত্র 18 মিশরী দিরহামে বিক্রি করেছে সেখানে এ জায়গায় কেই বা আমাকে চেনে আমার সম্পর্কে কেউ তো কিছুই জানে না তাহলে মালিক কেন আমার এত দাম চাইছে যেখানে আমার পরিচিত রক্ত সম্পর্কিত ভাইদের হাতেই এত কম দামে বিকৃত হয়েছি সুতরাং এখানে তো তার চাইতেও কম দামে বিক্রি হওয়ার কথা
কাফেলা অধিপতি মালেক ইউসুফ আলাইহিস সালামকে অভিজাত পোশাক পরিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দেয় এবার কাফেলা অধিপতি মালেকের বিক্রয় প্রতিনিধি হাকডাক করতে লাগলো কে এই সুদর্শন জ্ঞানী যুবককে ক্রয় করবে যার নজির এই পৃথিবীতে নাই ইউসুফ মালেককে বললেন এভাবে নয় বরং বলো কে খরিদ করবে এই দুর্বল নিঃস্ব অপরিচিত অত্যাচারিতকে যার নজির পৃথিবীতে নাই বিক্রয় প্রতিনিধি বলল এভাবে বলা রীতিবিরুদ্ধ যাই হোক অনেক দামাদামির পর অবশেষে মিশরের বাদশাহ জুলেখার স্বামী ইউসুফ আলাইহিস সালামকে খরিদ করে নেন ঘরে নিয়ে পত্নী জুলেখাকে বললেন আমি অনেক মূল্যে একে খরিদ করে এনেছি অতএব ভালোভাবে রাখবে এবং নিজের সন্তানের মত আদর যত্ন করবে একে গোলাম ভেবো না
এবং এর সঙ্গে গোলামের মত আচরণ করো না আজিজ মিশরের উল্লেখিত কথাবার্তা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন আর মিশরে যে তাকে খরিদ করেছে সে তার স্ত্রীকে বলল একে ভালোভাবে মর্যাদা সহকারে রেখো সম্ভবত একে দিয়ে আমাদের উপকার হবে অথবা আমরাই একে সন্তান বানাবো সূরা ইউসুফ আয়াত 21