আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আল্লাহর অশেষ রহমতে আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি প্রিয় দর্শক আজকের এই ভিডিওতে আমরা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ও এক চোর এবং একজন কসাইয়ের একটি বিষয়কর ঘটনা সম্পর্কে বলতে চলেছি যা শুনে আপনি বিস্মিত হয়ে যাবেন তাই ভিডিওটি একবারে শেষ পর্যন্ত দেখবেন শীতের সকাল চতুর্দিক কুয়াসাচ্ছন্ন পথে ঘাটে চলাফেরার এখনো শুরু হয়নি প্রত্যেকে নিজ নিজ বাসস্থানে টুকটাক কাজকর্মে ব্যস্ত কেউ সুললিত কন্ঠে কোরআন তেলাওয়াত করছে কেউ বা জিকির আজকারে নিমগ্ন তখন ছিল মুসলিম বিশ্বের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর শাসনকাল এর সাত সকালে খলিফা হযরত ওমর
রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কি একটা জরুরি কাজে আপন গৃহে অবস্থান করেছেন এমন সময় কারো সবিনয়ে আহ্বান কানে আসতেই তিনি দরজার দিকে দৃষ্টি ফেরালেন দেখলেন দারুল খিলাফতের পুলিশ প্রধান দরবারে উপস্থিতির জন্য অনুমতি প্রার্থনা করছে তার পেছনে একদল মানুষ এবং প্রত্যেকেই কি যেন বলাবলি করছে ওর মধ্যে একজনের হাতে বেড়ি লাগানো পুলিশের চার ব্যক্তি তাকে ধরে রেখেছে লোকটির উভয় হাত রক্তে রঞ্জিত এবং ডান হাতে একটি ধারালো ছুরি ছুরি থেকে এখনো রক্ত পড়ছে সকলের পেছনে একটি লাশ লাশটির গায়ে মারাত্মক জখম কয়েকজন পুলিশ লাশটি বহন করে নিয়ে এসেছে উপস্থিত জনতা জোর গলায় বলছে আমরা হত্যার পরিবর্তে হত্যা চাই গ্রেফতারকৃত লোকটি যুবক
বয়সের ভয়ে তার চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে পা দুটি থরথর করে কাঁপছে খলিফা পুলিশ প্রধানকে ভেতরে নিয়ে ঘটনার বিবরণ জানতে চাইলেন এবং বললেন ঘটনা খুলে বলতে পুলিশ বলতে লাগলেন হে আমিরুল মোমেনীন আজ ভোরে আমরা যখন টহল দিচ্ছিলাম তখন হঠাৎ একটি স্থানে লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে আমরা দ্রুত সেখানে যাই এবং কাছে গিয়ে দেখি এই যুবকটির ছুরি হাতে লাশের কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং ছুরি হতে তাজা রক্ত ঝরে পড়ছে এদিকে নিহত ব্যক্তির দেহ থেকে অবিরাম ধারায় রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে ঘটনাস্থলে আমরা তাকে ছাড়া আর কাউকে সেখানে খুঁজে পাইনি ফলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস যে এই যুবকই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল
তাই ন্যায়বিচারের জন্য তাকে আপনার দরবারে উপস্থিত করেছি পুলিশ প্রধানের বক্তব্য শেষ হবার পর হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কিছু কিছুক্ষণ কি যেন ভাবলেন তারপর যুবকটিকে লক্ষ্য করে বললেন তুমি কি সত্যি এই ব্যক্তিকে হত্যা করেছো যুবকটি বলল হ্যাঁ আমি এই ব্যক্তিকে হত্যা করেছি এতটুকু বলে যুবক থেমে গেল আর একটি কথাও তার মুখ থেকে বের হলো না কেন হত্যা করেছে কিভাবে হত্যা করেছে ইত্যাদি জানার জন্য বারবার আপ্রাণ চেষ্টা করা হলো কিন্তু কোন ফলাফল হলো না কে এক অজ্ঞাত কারণে যুবক সম্পূর্ণ নীরবতা অবলম্বন করল আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হত্যার ব্যাপারে হত্যাকারী স্বীকারোক্তি পেলেন পেলেন বাহ্যিক
প্রমাণও সুতরাং কেন বা কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তা না জেনেও শরীয়তের ফায়সালা শুনে দেওয়ার জন্য তার সামনে অন্য কোন বাধা ছিল না তাই তিনি সকলের সামনে ফায়সালা শুনিয়ে দিলেন এবং বললেন হত্যার পরিবর্তে হত্যাই হলো এই যুবকের শাস্তি আসর পর্যন্ত তাকে কয়েদখানায় আটকে রেখে নামাজের পর সকল মানুষের সামনে তাকে কতল করা হবে যুবককে কয়েদখানায় নেওয়ার জন্য পুলিশের লোকজন উদ্বত হলো ঠিক এমন সময় উপস্থিত লোকদের ভিড় ঠেলে এক ব্যক্তির সামনে এগিয়ে এলো সে পুলিশের লোকদের থেমে যাওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানালো তারপর হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে লক্ষ্য করে বললেন হে আমিরুল মুমিনীন এ যুবক নিহত ব্যক্তির হত্যাকারী
নয় সে সম্পূর্ণ নির্দোষ তার কোন অপরাধ নেই সকল অপরাধ আমার আমি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী আর আমি তার হত্যাকারী লোকটি একশ্বাসে দ্রুত কথাগুলো বলে শেষ করল হঠাৎ আগন্তকের মুখে কথা শুনে সবাই বিস্ময় হতবাক কিছুক্ষণ পর আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আগন্তুক লোকটিকে কাছে ডাকলেন এবং বললেন তোমার দাবিতে আমরা সবাই আশ্চর্যবোধ করছি এবার এর ব্যাখ্যা শোনাও দেখি লোকটি বলল জনাব আমি নিঃস্ব অবস্থায় নিতান্তই গরীব মানুষ আজ দুইদিন যাবত ক্ষুধার যন্ত্রণায় অতিষ্ট ক্ষুধা নিবারণের জন্য সামান্য টাকা-পয়সা আমার কাছে ছিল না এমত অবস্থায় অভিশপ্ত শয়তান আমাকে অন্যায় কাজে প্রোরাজিত করল বলল এ লোকটি কোন দামি পোশাকে
সজ্জিত হয়ে কোথায় যাচ্ছে তার বেশভূষা ও শ্বাসজ্জা দেখে অনুমান করা যায় নিশ্চয়ই সে বড় কোন ব্যবসায়িক হবে তার সঙ্গে অবশ্যই মূল্যবান অর্থসামগ্রী রয়েছে যদি তুমি এ সুযোগে তাকে হত্যা করতে পারো তবে কেউ জানতেও পারবে না তার হত্যাকারীকে অপরদিকে তুমি সহজেই তার টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতে পারবে এতে তোমার ক্ষুধার জ্বালা তো নিবারণ হবেই ভবিষ্যতেও বেশ কিছুদিন আরাম আয়েশে জিন্দেগী যাপন করতে পারবে হে আমিরুল মুমিনীন ক্ষুধার যন্ত্রণায় অতিষ্ট হওয়ার কারণে আমি ভালোমন্দ পার্থক্য করার জ্ঞানটুকু পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছিলাম ফলে শয়তানের প্ররোচনায় ধন সম্পদের লোভ একটা প্রবল উন্মুক্ত আমাকে পেয়ে বসলো পর্বত পরিমাণ লোক লালসা চতুর্দিক থেকে ঘিরে ধরলো এরপর
খঞ্চর কোষ মুক্ত করে লোকটির অপেক্ষায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম যখন সে আমার নিকটবর্তী নির্জন স্থানটিতে এলো তখনই কাল বিলম্ব না করে আমি তার উপর অতর্কিত হামলা করে বসি এবং খঞ্জরের আঘাতে তাকে হত্যা করে ফেলি এরপর যখন টাকা পয়সা তালাশ করার জন্য তার পকেটে হাত দেই ঠিক তখন দূর থেকে পুলিশের আওয়াজ শুনতে পাই ফলে গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে টাকা-পয়সার লোভ লালসা পরিত্যাগ করে সেখান থেকে দূরে সরে পড়ি এবং আশেপাশে লুকিয়ে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছিলাম দেখলাম পুলিশের লোকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এই ব্যক্তিকে ছুরি হাতে পেয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে এলো এবার আমি মানুষের সাথে চিৎকার করতে করতে আড়াল থেকে বেরিয়ে এলাম তারপর
সকলের সাথে এমন ভাবে মিশে গেলাম যে আমি যে নিহত ব্যক্তির প্রকৃত হত্যাকারী সে কথা বোঝার কোন উপায় রইল না জনতার ভিড়ে মিশে গিয়ে সবকিছু আমি অবলোকন করছিলাম তখন দেখলাম সুঠাম দেহের অধিকারী অল্পবয়স্ক সুন্দর সুস্থ যুবককে বিনা অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো তখন আমার চৈতন্য ফিরে এলো বিবেকের দংশন বারবার আমার হৃদয় আকাশে ক্ষতবিক্ষত করতে লাগলো ভাবলাম আমি তো এখন দুই ব্যক্তির হত্যাকারী সাব্যস্ত হলাম একদিকে নিজের হাতে একজন লোককে হত্যা করলাম আবার অন্যদিকে আমারই জন্য আরেকজন নিরপরাধ লোকের জীবন চিরকালের জন্য স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে জনাব এই কথাগুলো ভাবতেই আমার সমস্ত মানবসত্তাগুলো একত্রে জাগ্রত হয়ে উঠলো হাশরের ময়দানে আল্লাহর সামনে
কি জবাব দেব এ চিন্তা আমাকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলল তাই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলাম আখেরাতের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির তুলনায় দুনিয়ার শাস্তি যেহেতু কিছুই নয় সেহেতু প্রকৃত সত্য আমি আপনার নিকট বলে দেব এ সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নের জন্য আমি আপনার দরবারে হাজির হয়েছি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে দিয়েছি আসল হত্যাকারী আমি এই ব্যক্তি সম্পূর্ণ নির্দোষ সুতরাং আমার বিচার করুন লোকটির কথা শুনে সকলের মনে একটি প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিল তারা মনে মনে বলতে লাগলো এ ব্যক্তি যদি প্রকৃত হত্যাকারী হয় তাহলে গ্রেফতারকৃত যুবক কেন খলিফার নিকট হত্যার ব্যাপারে স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দী দিল এরূপ বলার কারণ কি খলিফার মনেও একই প্রশ্ন তোলপাড় করছে
তিনি বিষয়টি পরিষ্কার রূপে অনুধাবন করার জন্য গ্রেফতারকৃত যুবককে সম্বোধন করে বললেন এ লোকটি যা কিছু বলেছে তা কি ঠিক তুমি কি নিহত ব্যক্তির হত্যাকারী নও যুবক বলল হ্যাঁ তার কথা সম্পূর্ণ ঠিক আমি প্রকৃত হত্যাকারী নয় খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন তাহলে কেন তুমি মৃত্যুর স্বীকারক্তি দিলে কেন তুমি হত্যার কথা স্বীকার করলে যুবক বলল হে আমিরুল মুমিনীন আমি একজন কসাই আজ খুব ভোরে একটি গরু জবাই করেছি এবং কাজ সেরে আমি দোকানের দিকে যাওয়ার জন্য ফিরে তাকাতেই দেখি সামনে একটি তরতাজা লাশ রক্তে গড়াগড়ি খাচ্ছে ফিনকি দিয়ে রক্ত প্রবাহ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখে আমি
হতভম্ব হয়ে গেলাম সবকিছু ভুলে আমি ছুরি হাতে ওই লাশের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম তখন আমার হাতে ছুরিটি রক্তে রঞ্জিত কোন লোকজনও তখন সেখানে উপস্থিত ছিল না ইতিমধ্যে সেখানে পুলিশ এসে উপস্থিত হলো তখন আমার হতভম্ব অবস্থা দূর হয়নি আমি অপরক নেত্রে লাশের দিকে চেয়ে আছি আমি তখনই জ্ঞান ফিরে পেলাম যখন আমাকে গ্রেফতার করা হলো এবং লোকজন বলতে লাগলো এই ব্যক্তি তাকে হত্যা করেছে আমার হাতে রক্ত মাখা ছুরি পাশে সেই রক্তাক্ত লাশ অন্য কেউ এখানে উপস্থিত নেই এমত অবস্থায় আমার মনে ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেল যে আমি আর বাঁচতে পারবো না কেননা এ পরিস্থিতিতে আমি নিজের জন্য
যতই সাফাই গান গাই না কেন তা কেউ বিশ্বাস করবে না সকলে আমাকে মিথ্যাবাদী বলে ধিক্ষার দেবে এবং বলবে দেখো না বেচারা কত সাহস রক্তে রঞ্জিত লাশের পাশে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর হত্যার কথা অস্বীকার করছে এ এক জঘন্য লোক তাকে ডবল শাস্তি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হোক হে আমিরুল মুমিনিন যখন আমি বুঝলাম একমাত্র মহান আল্লাহর কুদরত ছাড়া আমার বাঁচার কোন উপায় নেই আমার কথায় একটি শিশু বাচ্চাও বিশ্বাস করবে না তখন আমি মিথ্যা স্বীকার করে নিয়ে আল্লাহর আশ্রয় দেওয়া ও সাহায্যের অপেক্ষায় প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত করেছি আমার বিশ্বাস ছিল আমি যেহেতু প্রকৃতপক্ষে নির্দোষ তাই আল্লাহতালা যেকোনো উপায়ে আমাকে
রক্ষা করবেন আর যদি দুনিয়ার বিচার থেকে নিষ্কৃতি নাও পাই তথাপি পরকালীন জীবনে আল্লাহতালা আমাকে এর উত্তম বদলা প্রদান করবেন যুবকের বক্তব্য শোনার পর সকলের সামনে মূল ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত হলো সকলে বিষয়টি বুঝতে পারলো এবার বিচারের পালা আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করলেন তার নিজ পুত্র হযরত হাসান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর নিকট এ ব্যাপারে তার মতামত জিজ্ঞাসা করলেন হযরত হাসান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সামান্য চিন্তা ফিকির করলেন তারপর বললেন আমিরুল মুমিনীন দ্বিতীয় ব্যক্তির যদিও এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে কিন্তু হত্যার কথা স্বীকার করে সে এমন এক ব্যক্তির জীবন রক্ষা করেছে যার ব্যাপারে আপনি মৃত্যুর
ফায়সালা শুনিয়ে ফেলেছিলেন আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি একটি সত্তাকে জীবিত করল সে যেন সকল মানুষকে জীবন দান করল সুতরাং এ ব্যাপারে আমার অভিমত হলো উভয় কে মুক্তি দেয়া হোক হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আপন ছেলের যুক্তিসংগত মতামতের সাথে ঐক্যমত পোষণ করলেন এবং উভয়কে মুক্তি দিলেন তো প্রিয় দর্শক এ ছিল আমাদের আজকের এই ভিডিও কেমন লাগলো কমেন্ট করে আমাদের অবশ্যই জানাবেন আজ তাহলে এই পর্যন্তই আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ