আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি পৃথিবীতে আল্লাহতালা কিছু মানব মানবী সৃষ্টি করেছেন সীমাহীন ধৈর্য দিয়ে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট ও নির্যাতন সহ্য করে ন্যায়ের পথে অবিচল ছিলেন দুনিয়ার আরাম আয়েশকে পদঘাত করে আল্লাহর ভালোবাসাকে প্রাধান্য দিয়েছেন তাদের অন্যতম হলেন বিবি আসিয়া ঈমান জন্য নিজের প্রাণ বিসর্জনকারী একজন মহিয়শী নারী যিনি হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে মায়ের মত স্নেহ দিয়ে লালন পালন করেছিলেন এবং শিশুকালে তাকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে বাঁচিয়েছিলেন কিন্তু যখন ওই মহিয়শী নারী আল্লাহর উপর ঈমান আনলো তখন ফেরাউন তার সাথে কি আচরণ করেছিল এবং তার সাথে এমন
কি ঘটেছিল যার কারণে তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তম নারীর উপাধি দেওয়া হয়েছে ফেরাউন ছিল মিশরের একজন জালিম বাদশা সে মিশরে বসবাসকারী বনী ইসরাইল সম্প্রদায়কে গোলাম বানিয়ে রেখেছিল এবং তাদের উপর জুলুমের পাহাড়ে চাপিয়ে দিয়েছিল ফেরাউন অত্যন্ত অহংকারী বাদশা ছিল এবং সে নিজেকে মানুষের খোদা এবং রিজিকদাতা হিসেবে দাবি করতো কিন্তু কারো মধ্যে এমন সাহস ছিল না যে সে ফেরাউনের বিরোধিতা করবে তাই আল্লাহতালা ফেরাউনকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ফলে বনী ইসরাইল সম্প্রদায়ে হযরত মুসা আলাইহিস সালামের জন্ম হয় যখন হযরত মুসা আলাইহিস সালামের জন্ম হলো তখন ওই সময়কালে ফেরাউন তার সৈন্যবাহিনীদেরকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছিল যে বনী ইসরাইলের মধ্যে যেই
ছেলে সন্তানের জন্ম হবে তাকে যেন হত্যা করা হয় তাই এ মুসিবত ও বিপদের সময়ে হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লামের আম্মাজান তাকে একটি সিন্দুকে রেখে সিন্দুকটিকে মজবুত করে বন্ধ করে দিলেন অতঃপর তাকে নীল দরিয়ায় ভাসিয়ে দিলেন এদিকে নীলনদ থেকে বের হয়ে নদীর একটি ডাল ফেরাউনের রাজমহলের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে আর আল্লাহর কুদরতে সিন্দুকটি ভাসতে ভাসতে নীল ননদের ওই ডাল দিয়ে ফেরাউনের রাজমহলের কাছে চলে গেল ওই সময় নদীর কিনারায় ফেরাউনের স্ত্রী হযরত আসিয়া দাঁড়িয়ে নদীর দৃশ্য দেখছিলেন হযরত আসিয়া অত্যন্ত সুন্দরী এবং সুন্দর মনের মানুষ ছিলেন এবং তিনি কোন অসুস্থতার কারণে অত্যন্ত কষ্টে ছিলেন ফেরাউন তার অনেক চিকিৎসা করিয়েছিল
কিন্তু কোন ফলাফল পায়নি বলা হয়ে থাকে যে গণকেরা তাকে বলেছিল যে ফেরাউন আমরা ভবিষ্যৎ করছি যে এই নীল দরিয়া থেকে একজন মানুষ তোমাদের ঘরে প্রবেশ করবে যদি তার মুখের লালা এই অসুস্থ মহিলার শরীরে মালিশ করা হয় তাহলে সে সুস্থ হয়ে যাবে এদিকে যখন নদীতে ভাসমানবান সিন্দুকের দিকে হযরত আজিয়া দৃষ্টি গেল তখন তিনি চাকরদেরকে সিন্দুকটিকে তুলে আনার নির্দেশ দিলেন যখন ওই সিন্দুককে পানি থেকে উঠানো হলো এবং সিন্দুকটিকে খোলা হলো তখন হযরত আসিয়ার মনে হলো সিন্দুকে নূরের আলো চমকাচ্ছে এবং তা দেখে হযরত আসিয়ার অন্তর আলোকিত হয়ে গেল এবং হযরত আসিয়ার অন্তরে বাচ্চাটির মায়া বসে গেল অতঃপর এই
বাচ্চাটির মুখের লালা যখন তার হাতে পড়লো তখন সাথে সাথে সে সুস্থ হয়ে গেল ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়ার গর্ভে কোন ছেলে সন্তান ছিল না কারণ তিনি সন্তানহীন ছিলেন ফলে তার পবিত্র মনে মাতৃস্নেহ জেগে উঠলো এবং তিনি হযরত মুসা আলাইহিস সালামের লালন পালনের দায়িত্ব নিয়ে নিলেন এভাবেই আল্লাহর কুদরতে মুসা আলাইহিস সালামের লালন পালন ওই ফেরাউনের মহলেই হলো যা মুসা আলাইহিস সালামের হাতেই ধ্বংস হওয়ার ছিল কোন কোন মুফাসসিরগণ বলেছেন আসলে ফেরাউন শব্দটি তখনকার সময়ে মিশরের বাদশাহীরের উপাধি ছিল এবং হযরত মুসা আলাইহিস সালামের কাহিনীর ধারাবাহিকতায় দুইজন ফেরাউনের নাম উল্লেখ পাওয়া যায় একজন ওই ফেরাউন যার জামানায় তিনি জন্ম হয়েছিলেন এবং
যার ঘরে তিনি লালন পালন হয়েছিলেন আর দ্বিতীয় ফেরাউন ওই ফেরাউন ছিল যার কাছে তিনি ঈমানের দাওয়াত এবং জাতির মুক্তির দাবি নিয়ে গিয়েছিলেন অতঃপর সে সমুদ্রের রূপে ধ্বংস হয়েছিল আর বিবি আসিয়ার স্বামী অর্থাৎ যে ফেরাউন মুসা আলাইহিস সাল্লামকে নিজের ঘরে রেখেছিলেন সেই ফেরাউনের নাম ইতিহাসের বই পুস্তকে রামেসিস সানি বলা হয়েছে আসলে বিবি আসিয়া রিয়ান বিন ওয়ালিদের নাতনী ছিলেন রিয়ান বিন ওয়ালিদ ওই বাদশাহ ছিলেন যিনি হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের জামানায় মিশরের মন্ত্রী ছিলেন এবং তিনি হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের উপর ঈমানও গ্রহণ করেছিলেন অতঃপর যখন মিশরে কীর্তিদের ক্ষমতা এলো তখন ফেরাউন তার ক্ষমতার বলে বিবি আসিয়াকে বিবাহ করেছিল
এবং তাকে ধমক দিয়েছিল যে যদি তিনি বিবাহ থেকে অস্বীকৃতি জানান তাহলে তার মাতা-পিতাকে হত্যা করা হবে কিন্তু বিবাহের পরেও আল্লাহতালা বিবি আসিয়াকে ফেরাউনের অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ রেখেছিলেন ফলে ফেরাউন আসিয়ার উপর কর্তৃত্ব কাটাতে পারেনি ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন যে আল্লাহতালা ফেরাউনকে পুরুষত্বহীন বানিয়ে দিয়েছিলেন কিছু কিছু ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন ফেরাউনের এমন একটি বিরল রোগ ছিল যার কারণে চিকিৎসকগণ তাকে সারাজীবন স্ত্রীর সাথে বিশেষভাবে সময় কাটানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাই ফেরাউন কখনো ধারে কাছেও যেতে পারেনি আসলে এটাও আল্লাহতালার একটি হেকমত ছিল যাতে বিবি আসিয়া ফেরাউনের নাপাক শরীর থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন যাই হোক হযরত মুসা আলাইহিস সালামের লালন-পালন ফেরাউনের মহলে
রাজপুত্রদের মতোই হয়েছিল সব ধরনের আরাম আয়েশের ব্যবস্থা তার জন্য বরাদ্দ ছিল কিন্তু কীর্তিদের মধ্যে জীবন ও অতিবাহিত করার পরেও মুসা আলাইহিস সালাম স্বভাবগতভাবে তাদের থেকে ভিন্ন ছিলেন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ফেরাউনের অহংকার এবং নিজেকে খোদা হিসেবে দাবি করাকে অপছন্দ করতেন এবং সর্বদা একত্ববাদ সম্পর্কিত কথা অকপটে বলে যেতেন যা ফেরাউন এবং তার দরবারের মানুষেরা পছন্দ করতো না অতঃপর খুব তাড়াতাড়ি ওই সময়টা এসে গেল যখন আল্লাহতালা মুসা আলাইহিস সালামকে নবুয়াত দান করেছিলেন এবং তিনি ফেরাউনের দরবারে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে এসেছিলেন ওই সময় ফেরাউনের চাহিদার কারণে জাদুকর এবং মুসা আলাইহিস সালামের মধ্যখানে জাদুর প্রতিযোগিতা হয়েছিল যেখানে হযরত মুসা আলাইহিস
সালামের লাঠি বাস্তবিকভাবে সাপে পরিণত হয়েছিল ফলে জাদুকরদের কাছে সত্য উন্মোচন হয়ে গেল যে মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর সত্য রাসূল ও নবী যিনি আমাদের হেদায়েতের জন্য আল্লাহতালার পক্ষ থেকে এসেছেন অথচ ফেরাউন তার দাবি এবং অহংকারে অবিচল রয়ে গেল এবং মুসা আলাইহিস সালামের দাওয়াত কে অস্বীকার করে দিল প্রিয় বন্ধুগণ এই দরবারে বিবি আসিয়াও বিদ্যমান ছিলেন তিনি যখন এই দৃশ্য দেখলেন তখন তার অন্তরে ঈমানের প্রদীপ জ্বলে গেল তিনি মুসা আলাইহিস সালামের উপরে ঈমান নিয়ে আসলেন বিবি আসিয়া মিশরের ফেরাউনের স্ত্রী এবং রানী ছিলেন তার কাছে বিপুল পরিমাণ ধন সম্পদ বিদ্যমান ছিল কিন্তু তার কাছে আমি বা অহংকার ছিল না
বরং তিনি সবসময় গরীব এবং নিঃস্ব মানুষদের সহানুভূতির জন্য আগ্রহী থাকতেন তিনি মন খুলে তাদের জন্য দান খয়রাত করতেন আর এজন্যই তাকে আম্বুল মাসাকিন অর্থাৎ মিসকিনদের মা বলা হতো যেহেতু বিবি আসিয়া তার স্বামীর জুলুম অত্যাচারের ব্যাপারে ভালো করেই জানতেন তাই তিনি তার ঈমান প্রকাশ করেননি তিনি চুপে চুপে এক আল্লাহর এবাদত বন্দেগী করতেন এবং আল্লাহর কাছে এই দোয়া করতেন যে হে আল্লাহ আমাকে ফেরাউন এবং তার কাজকর্ম থেকে মুক্তি দান করুন আমি তার কুফরি কাজকর্মের প্রতি অসন্তুষ্ট হযরত আসিয়া গোপন মুসা আলাইহিস সালামের প্রভুর ইবাদত করতেন এবং দোয়া ও ইস্তেগফারের মশগুল থাকতেন এভাবে চলতে চলতে একদিন ফেরাউন বিবি আসিয়ার
ঈমানের সম্পর্কে জেনে যায় ফেরাউন একদিন তার রাজমহলের মানুষদেরকে বলল তোমরা কি আমার স্ত্রীর ব্যাপারে কিছু জানো বা আমার স্ত্রীর ব্যাপারে তোমরা কি জানো সবাই আছিয়ার অত্যন্ত প্রশংসা করল এবং তার ভালো ভালো দিকগুলো বর্ণনা করল তখন ফেরাউন বলল তোমাদের কি জানা নেই যে সে আমাকে ছাড়া অন্য খোদার উপাসনা করে অতঃপর ফেরাউন হযরত আসিয়াকে দরবারে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান করল এবং তাকে জিজ্ঞাসা করল যে তুমি কাকে তোমার উপাস্য হিসেবে মানো তখন হযরত আসিয়া নির্ভিকভাবে জবাব দিলেন আমি মুসা আলাইহিস সালামের রবের উপর ঈমান রাখি যিনি আমার তোমার এবং সবার উপাস্য ফেরাউন এ জবাব শুনে রাগান্বিত হয়ে গেল অতঃপর খুব
তাড়াতাড়ি শহরে এই কথা প্রসিদ্ধ হয়ে গেল যে ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া ফেরাউনের ধর্ম বাদ দিয়ে মুসা আলাইহিস সালামের ধর্ম গ্রহণ করেছেন তাই সর্বপ্রথম ফেরাউন বিবি আসিয়াকে বুঝিয়ে সুজি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মুসা আলাইহিস সালামের ধর্ম বাদ দেওয়ার জন্য বলল কিন্তু যখন আসিয়া পাহাড়ের মত মজবুত ঈমান দেখালো তখন সে বিবি আসিয়াকে নির্যাতন করার সিদ্ধান্ত নিল ফেরাউন তার বাহিনীকে নির্দেশ দিল যে বিবি আসিয়াকে উত্তপ্ত মরুভূমিতে বালির উপর শুইয়ে দেয়া হোক নির্দেশ মোতাবেক উত্তপ্ত গরমের মধ্যে মরুভূমির বালিতে ছেড়ে দেওয়া হলো ফেরাউন ওই জায়গায় যাওয়া আশা করতো এবং বলতো এখনো সময় আছে তুই আমার ধর্মে ফিরে আয় যদি তুই আমার কথা
মেনে নিস তাহলে রাজমহলে সুখময় জীবন অপেক্ষা করছে কিন্তু হযরত আসিয়ার উপর এসব কথা কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি কেননা তার জান্নাতের ওই সুখ স্বাচ্ছন্দের জীবনের উপর গভীর বিশ্বাস ছিল যা আল্লাহতালা তাকে দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যখন ফেরাউন হযরত আসিয়ার অনুরবিচল সিদ্ধান্ত দেখল তখন সে তাকে শহীদ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল সে তার বাহিনীকে হুকুম যে যেখান থেকে হোক বড় বড় পাথর নিয়ে আসো এবং তার উপর রেখে দাও অতঃপর যখন বাহিনীরা পাথর নিয়ে আসে এবং বিবি আসিয়াকে শুয়ে দেয় তখন তিনি আকাশের দিকে তাকালেন তখন মহান আল্লাহতালা তার জন্য গোটা আকাশের পর্দা তুলে দিয়েছিলেন এবং জান্নাতকে এবং সেখানে তার
জন্য যে প্রাসাদ বানানো হয়েছে সেগুলোকে বিবি আসিয়ার চোখের সামনে তুলে ধরলেন অতঃপর বাহিনীরা ওই পাথরকে তার উপর ফেলে দেয় ফলে তিনি শাহাদত বরণ করেন প্রিয় বন্ধু বন্ধুগণ বিবি আসিয়ার ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস পাওয়া যায় একটি হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন অনেক পুরুষ মানুষ কামালতির দরজায় পৌঁছাতে পেরেছে কিন্তু মহিলাদের মধ্যে ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া এবং ঈসা আলাইহিস সালামের আম্মাজান মারিয়াম ব্যতীত কোন নারী কামালতির দরজায় পৌঁছাতে পারেনি