আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। প্রিয় পরিণতি চ্যানেলের শ্রোতা বন্ধুরা আশা করি আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সকলে ভালো আছেন। প্রিয় দর্শক ইসলামী সুগন্ধি ব্যবহার করা প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের একটি সুন্নাহ। সুগন্ধি মনকে পরিশুদ্ধ করে। এবাদতে মনোযোগ বাড়ায় এবং মানুষের মাঝে একটি সুন্দর প্রভাব সৃষ্টি করে। আপনাদের কেউ যদি খাঁটি হালাল ও অথেন্টিক আতর বা পারফিউম খুঁজে থাকেন তবে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন অথবা স্ক্রিনে প্রদর্শিত হয়াপ নাম্বারে মেসেজ পাঠাতে পারেন আমাদের পরিণতি শপে পাবেন 100% অরিজিনাল সুগন্ধি ইনশাআল্লাহ আপনারা যখনই সময় পান তখনই দেখে নিতে পারেন বা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্ডার করতে পারেন অতিরিক্ত কথা বলার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী
এবার চলুন আমরা মূল আলোচনায় ফিরে যাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেয়ামতের দিন যাকে হিসাবের সম্মুখীন করা হবে তাকেই শাস্তি দেয়া হবে। এ কথা শুনে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তাআলা তো কোরআনে বলেছেন, যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে তার হিসাব নিকাশ সহজ হয়ে যাবে। কিতাবাহুবিয়া ফাসাফাসা হিসাবাইয়া যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে তার হিসাব নিকাশ সহজ হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ আয়াতে যাকে সহজ হিসাব বলা হয়েছে সেটা প্রকৃতপক্ষে পরিপূর্ণ হিসাব নয়। কেবল আল্লাহর সামনে উপস্থিতি। যে ব্যক্তির কাছ থেকে তার কৃতকর্মের পুরোপুরি হিসাব নেওয়া হবে সে
আজাব থেকে কিছুতেই রক্ষা পাবে না। গুনাহের আধিক্য, বড়ত্ব, স্থায়ী অভ্যাস, নিয়তে গড়ল এ সকল কারণে তাদের হিসাব দীর্ঘ এবং কঠিন করা হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার হবে সে হলো শহীদ। তাকে উপস্থিত করার পর তার উপর আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ গুলো জানিয়ে দেয়া হবে সকল অনুগ্রহ সে স্বীকার করে নেবে আল্লাহতালা বলবেন এতসব অনুগ্রহ পেয়ে তুমি কি করেছ সে বলবে আমি আপনার জন্য যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছি আল্লাহ তাআলা বলবেন তুমি মিথ্যা বলছো বরং তুমি যুদ্ধ করেছ যেন তোমাকে বীর বলা হয় আর সেটা তোমাকে দুনিয়াতে বলা হয়েছে তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপের আদেশ দেশ
করা হবে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অপর ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা সম্পদ দিয়েছিলেন রিজিকের প্রশস্থতা দান করেছেন তাকে উপস্থিত করা হবে। তার উপর আল্লাহ তাআালার অনুগ্রহগুলো জানিয়ে দেওয়া হবে। সকল অনুগ্রহগুলো সে স্বীকার করে নেবে। আল্লাহ তাআলা বলবেন এতসব নেয়ামত পেয়ে তুমি কি আমল করেছ? সে বলবে যত পন্থায় আপনি দান করতে বলেছেন সকল পন্থায় আমি আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান করেছি। আল্লাহ তাআলা বলবেন তুমি মিথ্যা বলছো। বরং তুমি এজন্য দান করেছ যেন তোমাকে দানবীর বলা হয়। আর দুনিয়াতে তোমাকে তা বলা হয়েছে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপের আদেশ হলে টেনে হিচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। প্রিয় ভাই ও বোন
আমার সেদিন ভয়াবহ সে অবস্থায় সকল মাখলুকাত যখন সর্বশক্তিমান আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে কঠিন সেই দৃশ্য নগ্ন পায়ে হেঁটে চলবে কোন বাহন নেই দেহে কোন বস্ত্র থাকবে না খতনাবিহীন অবস্থায় ঠিক প্রথম যেভাবে এসেছিল দুনিয়ায় সে এক মহা ত্রাসপূর্ণ সুদীর্ঘ এক একটি দিন একটি দিন 5 হাজার বছরের সমান দুশ্চিন্তায় সেদিন সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠবে। অহংকারীরা চরম অহংকারীরা চরম লাঞ্চনার শিকার হবে। অত্যাচারীরা ভীত সন্ত্রস্ত থাকবে। সবাই সেদিন মহাবিচারালয়ে দাঁড়াবে। কেয়ামতের সেই বিচারালয়ে সেদিন সূর্যকে অতি নিকটবর্তী করা হবে। আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সেই পরিস্থিতি হবে চরম ভীতিকর। সেই বিচারালয়ে সকল অপরাধী উপস্থিত থাকবে। সকল সাক্ষীর সমাবেশ ঘটবে। অন্তর সমূহ প্রকম্পিত
থাকবে। অজুহাত পেশ করার কোন সুযোগ থাকবে না। আমলনামা উন্মুক্ত হবে। যেহেবা সকল কৃতকর্মের স্বীকারক্তি দেবে। সেদিন সবাই ন্যায়বিচার পাবে। মহান রাব্বুল আলামীন ন্যায়বিচারের অধিপতি। সেদিন কারো প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করবেন না। আল্লাহতালা বলেন এরপর প্রত্যেকে পরিপূর্ণভাবে পাবে যা সে অর্জন করেছে। আর তাদের প্রতি কোন অন্যায় করা হবে না। আরেক আয়াতে বলা হয়েছে ওই দিনকে ভয় করো যেদিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। এরপর প্রত্যেকেই তার কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে। এবং তাদের প্রতি কোনরূপ অবিচার করা হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, বান্দাগণ, নিশ্চয়ই অবিচারকে আমি নিজের জন্য হারাম করেছি। তোমাদের জন্য তা নিষিদ্ধ করেছি।
সুতরাং তোমাদের পরস্পরে অবিচার করো না। হে আমার বান্দাগণ, তোমাদের প্রত্যেকেই পথভ্রষ্ট। তবে আমি পথ দেখাই। সুতরাং আমার কাছেই সঠিক পথ প্রার্থনা করো। অবশ্যই আমি তোমাদের পথ দেখাবো। আমি তোমাদের খাদ্য দান করি। আমার কাছেই খাদ্য প্রার্থনা করো। অবশ্যই আমি তোমাদের খাদ্য দেব। হে আমার বান্দাগণ, আমি বস্ত্র দান করি। সুতরাং আমার কাছে বস্ত্র প্রার্থনা করো। আমি তোমাদেরকে বস্ত্র দেব। হে আমার বান্দাগণ, তোমরা রাত দিন অপরাধ করতে থাকলেও আমি তোমাদের সকল অপরাধ ক্ষমা করে দেব। সুতরাং আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। আমি অবশ্যই ক্ষমা করে দেব। হে আমার বান্দাগণ, কখনো তোমরা আমার কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না, এবং
কোন উপকারও করতে পারবে না। হে আমার বান্দাগণ, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জীন ইনসান সকলেই যদি তোমাদের সর্বাধিক তাকওয়া বিশিষ্ট লোকের মত হয়ে যায়, তবে এর দ্বারা আমার রাজত্ব কিছুই বৃদ্ধি পাবে না। হে আমার বান্দাগণ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জিন ইনসান সকলেই যদি তোমাদের অতি নিকৃষ্ট পাপিষ্ঠদের মত হয়ে যাও তবে এর দ্বারা আমার রাজত্বে বিন্দ্র মাত্র হ্রাস পাবে না হে আমার বান্দাগণ তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলেই যদি একটি বিশাল সমতল ভূমিতে একত্রিত হয়ে আমার কাছে চায় আর যদি আমি সকলের চাওয়া পূরণ করি এর দ্বারা আমার বিন্দুমাত্র রাস পাবে না হে আমার বান্দাগণ তোমরা যা আমল করো আমি তা
সংরক্ষণ করে রেখে দেব। এরপর তা তোমাদেরকে প্রতিদান স্বরূপ পূর্ণরূপে বুঝিয়ে দেব। প্রতিদানে যে উত্তম কিছু পায় সে যেন আল্লাহ তাআালার প্রশংসা জ্ঞাপন করে। ভিন্ন কিছু পেলে কেবল নিজেকেই যেন তিরস্কার করে। হ্যাঁ এটি হলো শেষ বিচারের দিন। যেখানে প্রত্যেকেই নিজ নিজ কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে। কোরআনে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি কোন গুনাহ করে তা তারই দায়িত্বে থাকে। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কোন মানুষ যদি অন্যের পথভ্রষ্টতার কারণ হয় ইচ্ছা করে অন্যকে পাপের পথ বাতলে দেয় তবে সে অপরাধ করে যতটুকু গুনাহ অর্জন করেছে তার সমপরিমাণ যে গুনাহের পথ দেখিয়েছে তার উপরও আসবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
যে ব্যক্তি কাউকে সৎপথের দিকে আহ্বান করলো তার আহ্বানে সাড়া দানকারী সকলের সৎকর্মের সওয়াব সমপরিমাণ তাকেও প্রদান করা হবে। কারো প্রতিদানে বিন্দু পরিমাণও কমতিতে হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি গুনাহের কাজে আহ্বান করলো তার আহ্বানে সাড়াদানকারী সকলের গুনাহের সমপরিমাণ তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। কারো গুনাহ হ্রস ব্যতীতই। প্রিয় ভাই ও বোন আমার কেয়ামতের দিনে শেষ বিচারের ভয়াবহ সেই অবস্থায় আমরা যেন আরশের ছায়ায় স্থান পাই। আমাদের হিসাব যেন সহজ হয়। আমরা সে চেষ্টাই করি। আল্লাহ তাআালার সন্তুষ্টির পথ বেছে নেই। সৎকর্মশীলদের কাতারে আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমিন। প্রিয় ভাই ও বোন আমার কেয়ামতের সেই কঠিন দিনে মানুষ সুদীর্ঘকাল অপেক্ষায়
থাকবে। উত্তপ্ত সূর্যের নিচে দাঁড়িয়ে থাকবে। ভয়ে আতঙ্কে অন্তর শুকিয়ে যাবে। চরম ত্রাস সৃষ্টি হবে। সীমালঙ্ঘনকারীদের চোখ অস্ত্র ঝরতে ঝরতে শুকিয়ে যাবে। তাদের সকল আশা নিরাশায় পর্যবষিত হবে। নবীগণ পর্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত থাকবেন। ফেরেশতাগণ ভয়ে অস্থির থাকবে। সেদিন মানুষ এ ভয়াবহ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সুপারিশকারী খুঁজবে। একাধিক হাদিসে সুপারিশের বিবরণ এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল সৃষ্টিকে একটি সমতল ভূমিতে একত্রিত করবেন। আল্লাহ তাআালার কথা সেদিন সকলেই একত্রে শুনতে পাবে। সকলকে আল্লাহ একসাথে দেখবেন। সূর্যকে সেদিন অতি নিকটবর্তী করা হবে। মানুষ সেদিন চরম ভীতিপ্রদ পরিস্থিতি এবং অতিশয় দুর্ভোগের শিকার হবে। অবস্থা যখন
ভয়াবহ আকার ধারণ করবে তখন তারা দ্রুত বিচারকার্য শুরুর প্রার্থনা করবে। একে অন্যকে বলতে থাকবে তোমরা কি নিজেদের পরিস্থিতি লক্ষ্য করছো না? তোমরা কি চরম দুর্ভাগ্য সহ্য করছো না? কেন তোমরা প্রতিপালকের কাছে একজন সুপারিশকারী খুঁজে বের করছো না? তখন কেউ কেউ বলবে চলো পিতা আদমের কাছে যাই। এরপর তারা হযরত আদম আলাইহিস সালামের কাছে এসে বলবে হে পিতা আপনি মানবজাতির পিতা আল্লাহ তাআলা আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। তারপর রুহ ফুঁকে দিয়েছেন। ফেরেশতাদের প্রতি আপনাকে সেজদা করার আদেশ করেছেন। সুতরাং আজ আপনি আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি তো দেখছেন আমরা কি দুর্ভোগের মধ্যে আছি। কি ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সময় অতিবাহিত
করছি। উত্তরে হযরত আদম আলাইহি সালাম বলবেন, নিশ্চয়ই প্রতিপালক আজ এমন রাগান্বিত হয়ে আছেন। অতীতে কখনো এমন রাগান্বিত হননি। ভবিষ্যতেও হবেন না। তিনি আমাকে একটি নির্দিষ্ট গাছের ফল খেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু আমি তার অবাধ্য হয়েছিলাম। হায় আমার কি উপায়? আমার কি উপায়? অন্যদের কাছে যাও। এরপর সবাই হযরত নূহ আলাইহিস সালামের কাছে গিয়ে বলবে হে আল্লাহর নবী নূহ আপনাকে আল্লাহ তাআলা কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সুতরাং আপনি আল্লাহ তাআালার কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। হযরত নূহ আলাইহি সালাম বলবেন নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আজ এমন রাগান্বিত হয়েছেন। অতীতে কখনো এমন রাগান্বিত হননি। ভবিষ্যতেও হবেন না। আমি তো আমার কওমের
উপর বদ্ধদ করেছিলাম। ফলে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিলেন হায় আমার কি উপায় হায় আমার কি উপায় যাও অন্যদের কাছে যাও এরপর তারা হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালামের কাছে এসে বলবেন হে খলিলুল্লাহ আপনি তো আল্লাহর নবী আপনি হলেন আল্লাহর বন্ধু সুতরাং আপনি আল্লাহ তাআালার নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন দেখছেনই তো আমাদের কি দুরবস্থা কি দুর্ভোগে সময় কাটছে আমাদের হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বলবেন নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আজ এমন রাগান্বিত হয়েছেন অতীতে কখনো এমন রাগ অতীতে কখনো এমন রকম রাগান্বিত হননি ভবিষ্যতেও হবেন না হায় আমার কেউ পায় হায় আমার কেউ পায় তোমরা মুসার কাছে যাও এরপর তারা হযরত মুসা
আলাইহি সালামের কাছে যাবে বলবে হে মুসা আপনি তো আল্লাহর রাসূল রিসালাত দিয়ে আল্লাহ তাআলা আপনাকে সম্মানিত করেছেন। আপনি আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। দেখছি তো আমরা কি দুরবস্থায় আছি কি দুর্ভোগে সময় কাটাচ্ছি মুসা আলাইহি সালাম বলবেন নিশ্চয় আল্লাহপাক আজ এমন রাগান্বিত হয়েছেন অতীতে কখনো এরকম রাগান্বিত হননি ভবিষ্যতেও হবেন না হায় আমার কি উপায় আমার কি উপায় তোমরা ঈসার কাছে যাও এরপর তারা হযরত ঈসা আলাইহি সালামের কাছে এসে বলবে হে ঈসা আপনি হলেন আল্লাহর রাসূল শিশুকালে আপনি কথা বলেছেন সুতরাং আপনি আল্লাহ আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। দেখছেনই তো আমরা কি দুরবস্থায় আছি। কি
দুর্ভোগে সময় কাটাচ্ছি। ঈসা আলাইহি সালাম বলবেন নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা যেমন রাগান্বিত হয়ে আছেন অতীতে কখনো এমন রাগান্বিত হননি ভবিষ্যতেও হবেন না। তারপর তিনি বলবেন তোমরা বরং শেষ নবী মুহাম্মদের কাছে যাও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর তারা আমার কাছে আসবে। তারা বলবে হে শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি হলেন শেষ নবী ও রাসূল আপনি আল্লাহর প্রিয় হাবিব আল্লাহ তাআালার কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন দেখছেন তো আমরা কি দরবস্থায় আছি কি দুর্ভোগের সময় পার করছি এরপর আমি গিয়ে আরশের নিচে দন্ডায়মান হব আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে সিজদায় লুটিয়ে পড়বো তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমার মনে তার
প্রশংসা সমূহ ঢেলে দেবেন আমার জন্য তার গুণগান স্তুতি ও সকল তারিফ উন্মোচন করে দেবেন যা ইতে পূর্বে কারো জন্য উন্মোচন করেননি এরপর বলা হবে হে মোহাম্মদ মাথা উঠান প্রার্থনা করুন আপনাকে দেয়া হবে সুপারিশ করুন গৃহীত হবে আমি বলব হে মহান প্রতিপালক আমার উম্মত আমার উম্মত হে প্রতিপালক আমার উম্মত আমার উম্মত হে প্রতিপালক আমার উম্মত আমার উম্মত এরপর বলা হবে আপনার উম্মত থেকে যাদের হিসাব নেই তাদেরকে ডানদিকের দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করান। অন্য দরজা দিয়েও প্রবেশ করতে পারেন। অন্য দরজা দিয়েও প্রবেশ করতে পারবে। এরপর আল্লাহ তাআলা বিচারকার্য শুরু করবেন। হাদিসটি তিরমিজী শরীফে এসেছে। জান্নাতবাসীদেরকে জান্নাতে প্রবেশের
অনুমতি দেয়ার পর তারা জান্নাতের ভেতর প্রবেশ করার অনুমতি প্রদানের সুপারিশ করতে একজন সুপারিশকারী খুঁজবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ সকল মানুষকে একত্রিত করবেন। এরপর মুমিনদের জন্য জান্নাত নিকটবর্তী করা হবে। তারা হযরত আদম আলাইহি সালামের কাছে এসে বলবে, হে আমাদের পিতা, আমাদের জন্য জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করুন। হযরত আদম আলাইহিস সালাম বলবেন, তোমাদেরকে তো এই পিতার ভুলেই জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল। এ সুপারিশের যোগ্য আমি নই। তোমরা আমার সন্তান ইব্রাহিমের কাছে যাও। তারা হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের কাছে গিয়ে বলবে হে ইব্রাহিম আপনি আমাদের জন্য জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করুন। ইব্রাহিম আলাইহি সালাম বলবেন এ সুপারিশের
যোগ্য আমি নই। তোমরা মূসার কাছে যাও। তিনি আল্লাহর সাথে কথা বলেছিলেন। তারপর মুমিনগণ মূসা আলাইহি সালামের কাছে যাবে। মুসা আলাইহি সালাম বলবেন এ সুপারিশের যোগ্য আমি নই। তোমরা ঈসার কাছে যাও। তিনি রুহুল্লাহ। তারা হযরত ঈসা আলাইহি সালামের কাছে যাবে। হযরত ঈসা আলাইহি সালাম বলবেন, এ সুপারিশের যোগ্য আমি নই। তোমরা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাও। এরপর তারা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতির সুপারিশ প্রার্থনা করবে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করবেন। আল্লাহ তাআলা অনুমতি দেবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনার জন্য সুপারিশ করবেন। সেটিও মাকামে মাহমুদ থেকে এ সুপারিশও নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নির্দিষ্ট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেয়ামতের দিন আমি হব মানুষের নেতা। কেন জানো? পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে আল্লাহ তাআলা একটি প্রশস্ত সমতল ভূমিতে একত্রিত করবেন। সেদিন সকলেই আল্লাহ তাআালার কথা শুনতে পাবে। আল্লাহ তাআলা সকলকে একসাথে দেখতে পাবেন। সূর্যকে অতি নিকটবর্তী করা হবে। সেদিন মানুষ অত্যাধিক দুশ্চিন্তা এবং অতিশয় দুর্ভোগে থাকবে। শাফায়েতের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হয়ে যেতেন। প্রত্যেক নবীকেই আল্লাহ তাআলা একটি মকবুল দোয়া করার সুযোগ দিয়েছিলেন। সকল নবীগণ দুনিয়াতেই সে দোয়া করে
ফেলেছিলেন। তবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শতকষ্ট ও দুর্ভোগে পড়েও সে দোয়া করেননি। পরকালে উম্মতের জন্য শাফায়াতের দোয়া সঞ্চিত রেখেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রত্যেক নবীকেই আল্লাহ তাআলা একটি মকবুল দোয়ার সুযোগ দিয়েছেন। সকল নবী সেই দোয়া দুনিয়াতে করে ফেলেছেন। আর আমি সেই দোয়া পরকালে শাফাতের জন্য রেখে দিয়েছি। আল্লাহর সাথে শরিক না করে যে মৃত্যুবরণ করবে আল্লাহ চাহেন তো সেই বান্দা সেই সুপারিশের মাধ্যমে নাজাত পাবে। যাদের জন্য শাফায়াত কাজে আসবে না কেয়ামতের দিন সকল সৃষ্টি শাফায়াত কামনা করবে কারো আশা পূরণ হবে কেউ খালি হাতে ফিরবে সেদিন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে ওই সব লোক যারা
দুনিয়াতে শিরিক করত মূর্তি পূজা করতো কবর পূজা করতো মূর্তির কাছে কিছু প্রার্থনা করত বিপদ দূর করার জন্য মৃত আত্মার কাছে প্রার্থনা করত কবরে সেজদা করত পীরকে সেজদা করত মান্য করত। তাদের কবরের পাশে পশু জবাই করত। মূর্তি পূজার মত করে কবরের পাশে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করত। কবরে বাতি জ্বালাতো। কেয়ামতের দিন সেসব উপাস্যরা তাদের উপাসনার কথা অস্বীকার করবে। তারা তাদের কোন উপকারই করতে পারবে না। আজাব থেকে বাঁচাতে পারবে না। দুনিয়াতে কাফের মুশরিকরা তাদের উপাস্যদের কাছে শাফায়াতের যে ধারণা পোষণ করে থাকে। কবর পূজারীরা তাদের কথিত বাবাদের কাছে যে সুপারিশ আশা করে তাদের নামে পশু জবাই করে
এবাদত মনে করে কবরে স্পর্শ করে কবরকে সেজদার স্থান বানায় এসব ক্ষেত্রে তারা পরকালে তাদের কাছ থেকে শাফায়াত কামনা করে তারা বলে পীর বাবা আমাকে পরকালে বাঁচাবে মুনকার নাকির প্রশ্ন করলে বলব আমি অমুক পীরের লোক অমুক পীর আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এসব ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়েছেন কোরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেন আর কোন কোন লোক এমনও রয়েছে অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালোবাসা পোষণ করে যেমন আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে তাদের ভালোবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশি। আর কতই না উত্তম হতো যদি জালেমরা পার্থিব্য কোন কোন
আজাব প্রত্যক্ষ করেই উপলব্ধি করে নিত যে যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর আজাবই সবচেয়ে কঠিনতর সুতরাং সাবধান কবর পূজা যারা করে মাজারে যারা অর্থ ব্যয় করে ওসিলা গ্রহণ করে দোয়া তাওয়াফ অথবা সেজদা করে কবরস্থ ব্যক্তির নৈকট্য হাসিল করতে চায় সে চরম পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত পরকালে কখনই সে শাফায়াত প্রাপ্ত হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আল্লাহ তাআালার কাছে হযরত সুলাইমান আলাইহি সালামের মত রাজত্ব চান না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম হেসে দিয়ে বললেন, হতে পারে আল্লাহ তাআালার কাছে তোমাদের সাথের জন্য হযরত সুলাইমান আলাইহি সালামের রাজত্বের চেয়ে উৎকৃষ্ট কিছু
রয়েছে। প্রত্যেক নবীর জন্যই আল্লাহ তাআলা একটি মকবুল দোয়ার সুযোগ দিয়েছেন। কেউ এ প্রার্থনা দুনিয়াতে করে তা অর্জন করেছেন। কেউ কওমের উপর বদদোয়া করেছেন ফলে তাদের এ দোয়া কবুল হয়েছে। আমাকেও আল্লাহ তাআলা একটি দোয়ার সুযোগ দিয়েছেন। আর সেটি আমি কেয়ামতের ময়দানে আমার উম্মতের জন্য সুপারিশ হিসেবে রেখেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণ গুনাহগারদের জন্য সুপারিশ করবেন। তবে যদি তার গুনাহ কবিরা গুনাহের ঊর্ধে হয়, শিরক হয় তবে কখনো তিনি সুপারিশ করবেন না। হাশরের মাঠে আল্লাহ তাআালার পক্ষ থেকে বান্দাদের জন্য চরম দয়ার বহির্প্রকাশ হলো যে তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা ক্রোধ ও শাস্তি প্রদানের পূর্বে দয়া ও সহনশীলতার আচরণ করবেন।
বান্দাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহের নিদর্শন হলো গুনাহের কারণে জাহান্নামে প্রবেশকারী মুমিনের মুক্তির জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামকে তিনি সুপারিশের অনুমতি দেবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর ফিরে এসে আল্লাহ সকল প্রশংসা ও গুণগান গাইবো। এরপর সেজদায় পড়ে যাবো বলা হবে হে মুহাম্মাদ মাথা উঠান। বলুন আপনার কথা শোনা হবে। সুপারিশ করুন গৃহীত হবে। আমি বলব হে প্রতিপালক আমার উম্মত আমার উম্মত তখন বলা হবে যান যার অন্তরে অনুপরিমাণ ক্ষুদ্র পরিমাণ ঈমানও আছে সরিষার দানার পরিমাণ ঈমানও আছে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করুন এরপর আমি গিয়ে তাদেরকে বের করব এরপর আমি বলব হে প্রতিপালক যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে
তাদের ব্যাপারে আমাকে অনুমতি দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন সেটি আপনার জন্য নয় তবে আমার মর্যাদা ও অহংকারের শপথ আমার মহত্ব বড়ত্বের শপথ যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে নিশ্চয়ই আমি তাকে জাহান্নাম থেকে বের করব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নাম থেকে মুক্ত কিছু মুমিন গুনাহগারের অবস্থার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, সুপারিশের প্রেক্ষিতে তারা জাহান্নাম থেকে বের হবে। আগুনে পুড়ে তারা শুকন শশার মত হয়ে যাবে। শাস্তির পরও একত্ববাদী বিশ্বাসী অনেক মুমিনকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আগুনে পুড়ে কয়লা সাদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পরও অনেকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। জান্নাতে দেয়া হবে। জান্নাতবাসী তাদেরকে জাহান্নামী বলে
সম্বোধন করবে। এ ধরনের সুপারিশ মুশরিক ব্যতীত অন্য সব লোকের জন্য। গুনাহের শাস্তি ভোগ করার পর সুপারিশের প্রেক্ষিতে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা হবে। এরপর মহান রাব্বুল আলামীন বলবেন এরপর আমার অনুগ্রহ ও দয়ায় জাহান্নাম থেকে অনেক সম্প্রদায় যারা আগুনে পড়ে অঙ্গার হয়ে গিয়েছিল বের করে জান্নাতের প্রবেশমুখে প্রবাহমান একটি নদীতে নিক্ষেপ করবেন ওই নদীর পানিকে আবে হায়াত বলা হয় এরপর তারা নদীর উপকূল থেকে দ্রুত উঠতে থাকবে ঠিক যেমন প্রবাহিত পানিতে জমাট মাটি থেকে দ্রুত চারা উৎপন্ন হয় এবং তোমরা পাথর ও বৃক্ষের আশপাশে এগুলো অধিক পরিমাণে দেখে থাকো যেগুলোতে সূর্যের আলো যেগুলোতে সূর্যের আলো পড়ে সেগুলো সবুজ এবং
যেগুলো আলো বঞ্চিত সেগুলো সাদা হয়ে যায়। সেই নদী থেকে তারা উজ্জ্বল মতি সদৃশ্য হয়ে বের হবে। তারা হবে কেবল দয়াময় আল্লাহর অনুগ্রহ দ্বারা মুক্তিপ্রাপ্ত দল। কোন প্রকার আমল ও কল্যাণ সম্পাদন ছাড়াই আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। কোরআন হলো আল্লাহর বাণী। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ উপায়। কোরআনের পাঠককে প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে নেকি দেয়া হয়। দুনিয়াতে পবিত্র কোরআন সম্মান ও মর্যাদার এবং পরকালে মুক্তির উপায়। মুসলিম শরীফে আছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করো। কেননা কেয়ামতের দিন সে তার সাথীদের জন্য সুপারিশকারী হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন কেয়ামতের দিন পবিত্র কোরআন এসে বলবে
হে আল্লাহ তাকে আমার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট দিয়ে সজ্জিত করুন এরপর তাকে সজ্জিত করা হবে তারপর কোরআন বলবে হে পালনকর্তা তাকে আরো বেশি সজ্জিত করুন তখন তাকে শ্রেষ্ঠত্বের অলংকার পড়ানো হবে কোরআন বলবে হে আল্লাহ তার প্রতি আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যান আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হবেন তারপর বলা পড় এবং উন্নীত হও। প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে তোমাকে প্রতিফল দেয়া হবে। মুসনাদে আহমদে কোরআন পাঠকের মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেয়ামতের দিন কবর অনুমোচিত হওয়ার পর ব্যক্তি কবর থেকে মলিন চেহারা নিয়ে উঠবে। তখন কোরআন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করবে, চিনতে পেরেছ আমায়? ব্যক্তি বলবে না তোমাকে
চিনি না সে বলবে আমি তোমার সঙ্গী আল কোরআন কত দ্বিপ্রহর তোমাকে তৃষ্ণার্ত রেখেছি কত রাত তোমাকে জাগ্রত রেখেছি নিশ্চয়ই প্রত্যেক ব্যবসায়ী নিজের ব্যবসার পেছনে লেগে থাকে অবশ্যই আজ তুমি সকল ব্যবসাকে জয় করেছ এরপর সে তার ডান হাতে রাজত্ব দেবে বাম হাতে স্থায়িত্ব দেবে মাথায় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়িয়ে দেবে তার পিতা-মাতাকে উত্তম সাজে সজ্জিত করা হবে যা দুনিয়াতে তারা পায়নি উই বলবে কিসের বিনিময়ে আমাদেরকে এসব পড়ানো হচ্ছে বলা হবে তোমার সন্তান কোরআনকে বন্ধুর রূপে গ্রহণ করার কারণে এরপর বলা হবে পড়ো এবং জান্নাতের কক্ষ সমূহে পদোন্নতি লাভ করো এভাবে সে যতক্ষণ তার তেলের সাথে পড়তে থাকবে ততক্ষণ উপরে
উঠতে থাকবে তো ভাই ও বোন আমার আমরা বুঝলাম কেয়ামতের দিন কোরআন সুপারিশকারী রূপে আসবে ঠিক তেমনিভাবে দুটি বড় সূরা সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান তাদের পাঠককে জাহান্নাম থেকে মুক্তির পক্ষে যুক্তি পেশ করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি এ দুটি সূরার অধিক পরিমাণে তেলাওয়াত করবে কেয়ামতের দিন সে সুপারিশ লাভে ধন্য হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কোরআন পড়। কেননা সে তার সঙ্গের ব্যাপারে সুপারিশকারী হবে। দুটি বড় সূরা সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান পাঠ করো। কেননা এ দুটি সূরা কেয়ামতের দিন দুটি ছায়াদানকারী মেঘমালার মত আসবে অথবা মনে হবে তারা উভয়ে দুটি সারিবদ্ধ পাখির বহর তাদের সঙ্গীদের
পক্ষে তারা যুক্তি দাঁড় করাবে তো ভাই আসুন কোরআনকে সঙ্গী বানাই কোরআন পরকালীন বিপদের দিনে আপনার সাথে থাকবে সুপারিশকারী হবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন আল্লাহ তাআালার কাছে কোরআন মাজিদ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আর কোন সুপারিশকারী নেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, লোহা যেমন মরিচা ধরে, আত্মায়ও তেমনি মরিচা ধরে। জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ, তাহলে এ মরিচা কি দিয়ে পরিষ্কার হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মনোযোগ সহকারে কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত করা এবং বেশি বেশি করে মৃত্যুকে স্মরণ করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমিন। প্রিয় ভাই ও বোন আমার, হাশরের মাঠে চলবে প্রত্যেকের হিসাব নিকাশ। আল্লাহ তাআলা স্বয়ং বিচারক
সবাই যার যার কৃতকর্মের ফল পেয়ে যাবে একসময় বিচারকার্য সমাপ্তির মাধ্যমে সকলের চিরস্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত হয়ে যাবে কেউ যাবে জান্নাতে কেউ যাবে জাহান্নামে হয়তো জান্নাত নয়তো জাহান্নাম মৃত্যুর পর এ দুটি হল জীন ইনসানের চিরস্থায়ী ঠিকানা বিচার দিবসের শেষ পর্যায়ে প্রত্যেক সম্প্রদায়কে দুনিয়াতে তারা যে উপাস্যদের পূজা করতো তাদের অনুসরণ করতে বলা হবে তখন তখন তারা দেখতে পাবে দুনিয়ায় তারা যে উপাস্যদের পূজা করত তাদের হাজির করা হয়েছে। তাদের উপাসনাকারী সম্প্রদায় নিজ নিজ উপাস্যকে অনুসরণ করবে। তাদের পেছন পেছনে যাবে। যে সূর্য পূজা করত সে সূর্যের পেছনে পেছনে হাঁটবে। যে চন্দ্র পূজা করত সে চন্দ্রের পেছনে পেছনে যাবে। যারা মূর্তি
পূজা করত তারা মূর্তির পেছনে পেছনে যাবে। যারা ফেরাউনকে খোদা মানতো তারা ফেরাউনের পেছনে পেছনে চলবে। এভাবে সকলেই চলতে চলতে জাহান্নামে গিয়ে নিপতিত হবে। কোরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা বলছেন, আর আমি মুসা আলাইহি সালামকে প্রেরণ করি আমার নিদর্শনাদি ও সুস্পষ্ট সনদ সহ। ফেরাউন ও তার পরিষদ বর্গের কাছে। তবুও তারা ফেরাউনের হুকুমে চলতে থাকে। অথচ ফেরাউনের কোন কথা ন্যায়সঙ্গত ছিল না। কেয়ামতের দিন সে তার জাতির লোকদের আগে আগে চলতে থাকবে এবং তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পৌঁছে দেবে। আর সেটা অতিব নিকৃষ্ট স্থান যেখানে তারা পৌঁছেছে। আর এই জগতেও তাদের পেছনে লানত রয়েছে এবং কেয়ামতের দিনও অত্যন্ত জঘন্য প্রতিফল যা তারা
পেয়েছে। আরেক আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহ বলেন আমি কিন্তু তাদের প্রতি জুলুম করি নাই বরং তারা নিজেরাই নিজের উপর অবিচার করল। ফলে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যেসব মাবুদকে ডাকতো আপনার পালনকর্তার হুকুম যখন এসে পড়ল তখন কেউ কোন কাজে আসলো না। তারা শুধু বিপর্যয়ে বৃদ্ধি করল। এরপর মুমিন ও আহলে কিতাব ইহুদি খ্রিস্টান ছাড়া কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিষ্কার বিবরণ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেয়ামতের দিন এক ঘোষক প্রত্যেক সম্প্রদায়কে নিজ নিজ উপাস্যের অনুসরণ করতে ঘোষণা করবে। তখন ইহুদিদেরকে ডেকে বলা হবে তোমরা কিসের উপাসনা করতে? তারা বলবে আমরা আল্লাহর সন্তান উজাইরের
উপাসনা করতাম। বলা হবে তোমরা মিথ্যা বলছো আল্লাহর কোন স্ত্রী সন্তান নেই এখন তোমরা কি চাও বলবে হে প্রতিপালক আমরা খুবই তৃষ্ণার্ত আমাদেরকে পানি দিন এরপর তাদেরকে ইঙ্গিত করে বলা হবে তোমাদেরকে আজ পরিতৃপ্ত করা হবে না এরপর তাদের জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে এরপর তারা জাহান্নামে নিপতিত হবে এরপর আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্যদের উপাসনাকারী সকল সম্প্রদায় তাদের উপাস্যদের অনুসরণ করে জাহান্নামে গিয়ে নিপতিত হবে। শেষ পর্যন্ত সৎ ও পাপিষ্ঠদের মধ্যে আল্লাহর এবাদতকারী ও আহলে কিতাবরা অবশিষ্ট থাকবে। এরপর খ্রিস্টানদেরকে ডেকে বলা হবে তোমরা কিসের উপাসনা করতে? তারা বলবে আমরা আল্লাহর পুত্র মাসিহের উপাসনা করতাম। তাদেরকে বলা হবে তোমরা মিথ্যা
বলছো। আল্লাহর কোন স্ত্রী সন্তান গ্রহণ করেননি। এখন তোমরা কি চাও? তারা বলবে আমরা খুব পিপাসার্ত আমাদের পানি দিন এরপর তাদেরকে ইঙ্গিত করে বলা হবে তোমাদেরকে আজ পরিতৃপ্ত করা হবে না এরপর তাদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে মনে হবে তারা মরচিকা সাদৃশ্য একে অন্যের সাথে মিশে গেছে এরপর তারাও জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে শেষ পর্যন্ত যখন সৎ ও পাপিষ্ঠদের মধ্যে কেবল আল্লাহর উপাসনাকারীগণ অবশিষ্ট থাকবে তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদেরকে বলবেন তোমরা এখন কিসের অপেক্ষা করছো। সবাই তো নিজ নিজ উপাস্যদের পেছনে পেছনে চলে গেছে। তখন তারা বলবে হে আমাদের প্রতিপালক দুনিয়াতে আমরা আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরিবারকে অতি দারিদ্রতায় রেখে
চলে এসেছিলাম। তাদেরকে সময় দিতে পারিনি। এরপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আপন জ্যোতি প্রকাশ হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জ্যোতি দেখে সবাই সেজদায় পড়ে যাবে। এরপর দুনিয়াতে যারা কেবল আল্লাহ তাআালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করত তাদেরকে আল্লাহ তাআলা সেজদার শক্তি দেবেন। আর যারা লোক দেখানো নামাজ আদায় করতো তাদের পেটকে শক্ত কঠিন করে দেবেন। ফলে তারা যখন সেজদা করতে যাবে উপর হয়ে পড়ে যাবে। এরপর সেজদাকারীগণ মাথা উঠাবে দেখবে প্রতিপালক স্বরূপে ফিরে গেছেন। আল্লাহ বলবেন আমি তোমাদের প্রতিপালক। সকলেই বলবে হ্যাঁ আপনি আমাদের প্রতিপালক। এরপর স্থাপন করা হবে পুলসিরাত। যা জাহান্নামের উপর স্থাপিত হবে। সাহাবায়ে কেরামগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল,
পুলসিরাত কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অতি পিচ্ছিল পথ। যাতে বাঁকা পেরেক, ধারালো লোহা এবং সাদান নামক এক জাতীয় কাঁটা বিছানা থাকবে। মুমিনগণ কেউ তার উপর দিয়ে চোখের পলকে কেউ বিদ্যুৎ গতিতে কেউ পাখির মত উড়ন্ত গতিতে কেউ দ্রুতগামী অশ্ব বাহনের গতিতে পার হয়ে যাবে আবার কেউ ক্ষত-বিক্ষত দেহ নিয়ে আহত অবস্থায় কোন রকমে পার হবে আবার কেউ চলতে না পেরে জাহান্নামে পতিত হবে পুলসিরাতে ওঠার পূর্বে এই হবে মানুষের অবস্থা তখন হাশরের ময়দানে মুমিন মুসলমান ছাড়া কেউ থাকবে না তাদের মধ্যে কেউ থাকবে পাপী কেউ খাঁটি মুমিন প্রিয় ভাই ও বোন আমার কেয়ামতের দিনের প্রেক্ষাপটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো
পুলসিরাত অতিক্রম। সে এক বিপদজনক সেতু। যার দৃশ্য বড়ই ভীতিপ্রদ। দুনিয়াতে যেসব মুমিন ঈমানের উপর অবিচল ছিল তাদের জন্য পুলসিরাত পার হওয়া সহজ হবে। আর যারা সত্য ও ন্যায়কে অস্বীকার করেছিল সেসব ক্ষতিগ্রস্তদের পদস্খলন ঘটাবেন। সে এক কঠিন পরীক্ষা। যে মুক্তি পেয়ে যাবে সে সফল। আর যে আটকে যাবে সে মহাদুর্ভাগা। পুলসিরাত জাহান্নামের উপরি ভাগে স্থাপিত দীর্ঘ সেতু। যা সকলকে অতিক্রম করতে হবে। সে এক দীর্ঘ সেতু যা তরবারের চেয়ে ধারালো চুলের চেয়ে চিকন। যাতে সাদান নামক কাঁটা বিছানো থাকবে। বর্শির ন্যায় ধারালো চিকন লোহা তাতে প্রথিত থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এরপর জাহান্নামের মধ্যে উপরি ভাগে সেতু স্থাপন
হবে। জিজ্ঞেস করা হলো হে আল্লাহর রাসূল সেতু কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন অতি পিচ্ছিল পথ যাতে বাঁকা মাথা বিশিষ্ট পেরেক ধারালো লোহা এবং নজরদ এলাকার সাদান নামক কাটা বেছানো থাকবে। আমলনামা বিতরণ কৃতকর্মের পরিমাপ কতিপয় সুপারিশ সম্পাদন হাউজে হাউজে অবতরণ হিসাব এবং মানুষের বিচারকার্য সমাপ্ত হওয়ার পর সিরাত স্থাপন করা হবে। মুশরিকরা সিরাত অতিক্রম করবে না। কারণ হাশরের ময়দানে মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত থাকবে। প্রথম দল যারা নিষ্ঠাবান মুমিন যারা আল্লাহর এবাদত করেছে আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করেনি। দ্বিতীয় দল মুনাফিক তৃতীয় দল কাফের মুশরিক যারা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাভ্যস্ত করেছিল। কাফের মুশরিকরা পুলসিরাত অতিক্রম করবে না। পুলসিরাত
স্থাপনের পূর্বেই তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আর যাদের মুমিন মুসলমান বলা হতো একবার হলেও যারা কালেমা উচ্চারণ করে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে কেবল তারাই পুলসিরাতে উঠবে আর মুনাফিকরা একত্ববাদে বিশ্বাসী নবী রাসূলদের অনুসারীরা দাঁড়িয়ে যাবে তাদের ভেতর গুনাহগার ও মুনাফিকরাও থাকবে পুলসিরাতে ওঠার পূর্বে গাঢ় অন্ধকারে ছেয়ে যাবে এর মধ্যে ঈমান ও সৎকর্ম অনুপাতে প্রত্যেকের মাঝে নূর বিতরণ করা হবে ঈমান ও সৎকর্মশীলগণ সে নূরের আলোতে পুলসিরাত পার হয়ে যাবে। আর মুনাফিকরা পড়ে যাবে অন্ধকারে। এখানে মুনাফিকরা ঈমানদারদের থেকে পৃথক হয়ে যাবে। তারা পেছনে পড়ে থাকবে। মুমিনগণ আগে আগে চলে যাবে। তাদের মাঝে প্রাচীর দাঁড় করিয়ে দেয়া হবে। ফলে
তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা কোরআনে পাকে বলেছেন যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসী নারীরা মুমিনদেরকে বলবে তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করো আমরা কিছু আলো নেব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবে তোমরা পেছনে ফিরে যাও এবং আলোর খোঁজ করো। এরপর উভয় দলের মাঝে দাঁড় করা হবে একটি প্রাচীর। যার একটি দরজা হবে তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। কোরআন সুন্নাহর অনুসারী মুমিনদেরকে কেয়ামতের দিন জ্যোতি দেয়া হবে যা সেই মহা অন্ধকারে তাদের জন্য আলো হিসেবে কাজ দেবে। এবং পুলসিরাতে পদস্খলন হতে তাদের রক্ষা করবে। আর কোরআন সুন্নাহ থেকে বিমুখতা প্রদর্শনকারী মুনাফিকরা কেয়ামতের দিন
সেই মহা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবে। পুলসিরাতে ব্যক্তির আমলই তাকে পার করবে। আমল অনুযায়ী কারো গতি হবে বিদ্যুতের ন্যায়, কারো গতি হবে বাতাসের ন্যায়। অপরদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম পুলসিরাতে দাঁড়িয়ে বলতে থাকবেন, হে আল্লাহ মুক্তি দিন, মুক্তি দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের প্রথম দল পুলসিরাত বিদ্যুৎ বেগে পার হয়ে যাবে। এরপর আরেকদল বাতাসের গতিতে, আরেকদল পাখির মত উড়ন্ত গতিতে আরেকদল উটের চলার গতিতে আমলি তাদের পার করবে। তোমাদের নবী পুলসিরাতের উপর দাঁড়িয়ে বলতে থাকবে হে প্রতিপালক মুক্তি দিন মুক্তি দিন শেষ পর্যন্ত কারো কারো আমল দুর্বল হওয়ার কারণে চলতে পারবে না ফলে তারা হামাগুড়ি দিতে দিতে চলবে প্রিয়
ভাই ও বোন আমার সে ভয়াবহ অবস্থার কথা ভাবুন তো মনে করুন আপনি পুলসিরাতের উপর দাঁড়িয়ে নিচে জাহান্নামের আগুন দাও দাউ করে জ্বলছে চারপাশে ঘোর অন্ধকারে ঘেরা কখনো আপনি হাঁটছেন কখনো পড়ে যাচ্ছে ন কখনো হামাগুড়ে দিয়ে চলছেন। আপনার সামনে পেছনে অসংখ্য মানুষ পা পিছলে পড়ে যাচ্ছে। কাটা বৃদ্ধ হচ্ছে। আগুন ঝলসে দিচ্ছে শরীর। আপনার চোখের সামনে কেউ কেউ জাহান্নামের আগুনে পড়ে যাচ্ছে। হায় কি ভয়াবহ অবস্থা। আমলেই সেখানে আলো হবে। পুলসিরাত পার হতে সাহায্য করবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন। প্রিয় ভাই ও বোন আমার। পুলসিরাত পার হওয়ার পরও পরীক্ষা বাকি থাকবে। সেটা হলো কেসাস।
দুনিয়াতে তাদের পরস্পরের হক অবিচারের বদলা নেওয়া হবে। এটা মহান রাব্বুল আলামীনের একটি হেকমত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুমিনদের জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে সবাইকে স্বচ্ছ ও পবিত্র করে দিতে চাইবেন। যেন কারো কোন দাবি অবশিষ্ট না থাকে। এটা নতুন কোন শাস্তি নয়। এটা আল্লাহ তাআলা বান্দাকে পুত পবিত্র করে জান্নাতে দেয়ার একটি পথ। জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে মুমিনদের মধ্য থেকে অবিচারের বদলা কেসাস গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নাম থেকে মুক্ত হওয়ার পর জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি সুর স্থানে মুমিনদেরকে থামানো হবে। দুনিয়াতে পরস্পরের প্রতি যদি কোন হক বাকি থাকে বা কারো প্রতি অবিচার করে থাকে তার
বদলা দেয়া হবে। শেষ পর্যন্ত তারা সম্পূর্ণ পুতপবিত্র হওয়ার পর জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। ওই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ। জান্নাতে তারা নিয়ে যাবাসস্থল নিয়ে। জান্নাতে তারা নিয়ে যাবাসস্থল নিয়ে অনেক গর্ব করবে। কেসাস গ্রহণের পদ্ধতিটাও হবে এরকম। সেদিন তো কোন সম্পদ থাকবে না। থাকবে না কোন সন্তান সন্ততি। টাকা পয়সার কোন মূল্য থাকবে না। কেসাস হবে সৎকর্মফল বা অসৎকর্মফল বিনিময়। সুতরাং যারা দুনিয়াতে অন্যের মাল হরণ করেছিল, অপরকে কষ্ট দিয়েছিল, আঘাত করেছিল, সেখানে অন্যায়ের পরিমাণে অপরাধী থেকে সৎকর্মফল কেটে নেয়া হবে। এভাবে সৎকর্মফল শেষ হয়ে গেলে দ্বিতীয় পক্ষের অসৎকর্মফল তার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হবে। এটি মহান রব্বুল
আলামীনের চরম ইনসাফ। সেখানে পূর্ণ ইনসাফ কায়েম হবে। বান্দাদের পরস্পর কোন অবিচার তিনি অবশিষ্ট রাখবেন না। তাদের কোন অনুতাপ আফসোস বাকি রাখবেন না। এর মাধ্যমে সবাইকে সন্তুষ্ট করে পুত পবিত্র করে জান্নাতে দেবেন। হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন। হঠাৎ দেখলাম তিনি হাসছেন। হাসির ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাঁতগুলো প্রকাশ হয়ে গিয়েছিল। জিজ্ঞেস করা হলো কেন হাসছেন? হে আল্লাহর রাসূল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাশরের মাঠে আমার উম্মতের দুই ব্যক্তি আল্লাহ তাআালার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়বে। একজন বলবে, হে প্রতিপালক, এ ভাই থেকে আমার প্রতি অবিচারের মূল্য গ্রহণ করুন।
দ্বিতীয় ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি অবিচার পরিমাণ মূল্য পরিশোধ করো। সে বলবে হে প্রতিপালক আমার কাছে তো কোন সৎকর্মফল অবশিষ্ট নেই। প্রথমজন বলবে হে প্রতিপালক তাহলে সে আমার অসৎ কর্মফল বহন করুক। একথা বলার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের চক্ষুদায় অস্ত্রশিক্ত হয়ে উঠলো। এরপর বলতে লাগলেন, সেদিন মানুষ তাদের পাপের বোঝা নিজের ঘাড় থেকে সরাতে চাইবে। এরপর আল্লাহ তাআলা অবিচারের মূল্য প্রার্থনাকারীকে বলবেন, চোখ তুলে দেখো। বিচারপ্রার্থী চোখ তুলে দেখে বলতে থাকবে হে প্রতিপালক আমি দেখতে পাচ্ছি মনিমুক্তায় সুশোভিত স্বর্ণখোচিত শহর ও সোনালী প্রাসাদ হে প্রতিপালক এগুলো কোন নবীর জন্য কোন সিদ্দিকের জন্য এগুলো নাকি কোন শহীদের
জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলবেন যে ব্যক্তির অবিচারের মূল্য পরিশোধ করবে তার জন্য বিচারপ্রার্থী বলবে কে এর মূল্য পরিশোধ করবে আল্লাহ তাআলা বলবেন তুমি তুমি পরিশোধ করবে। বিচার প্রার্থী বিস্মিত হয়ে বলবে কিভাবে? আল্লাহ তাআলা বলবেন তাকে ক্ষমা করার মাধ্যমে। বিচার প্রার্থী বলবে হে আল্লাহ আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। তারপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলবেন যাও তোমার ভাইয়ের হাত ধরে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং পরস্পরের মধ্যে মীমাংসা স্থাপন করো। কেননা কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা মুমিনদের মাঝে মীমাংসা স্থাপন করবেন। প্রিয় ভাই ও বোন আমার বাস্তবতা তো এটাই। সবাই সবার
হকের বিষয়ে খেয়াল রাখে। একত্ববাদের দাবি এটা নিজেকে যত ঝামেলা মুক্ত করে পরকালের পথে যাত্রা করা যায় ততই কল্যাণ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে খাঁটি বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমিন। পুলসিরাতে নূর লাভের পর মুমিনগণ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে যে দোয়াটি করবে আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারীমে তা বর্ণনা করেছেন রব্বানা আতমিমলানা নূরানা ওগফিরলানা ইন্নাকা আলা কুল্লিশাইন কদির হে আমাদের পালনকর্তা আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করে দিন নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান