আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি বন্ধুরা আজকের এই ভিডিওতে আমরা একজন বাদশাহ ও তার চারজন স্ত্রীর একটি বিষয়কর ঘটনা সম্পর্কে বলতে চলেছি যা শুনে আপনার মন ছুঁয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ তাই ভিডিওটি একবারে শেষ পর্যন্ত দেখবেন কোন এক দেশে একজন বাদশা ছিলেন সেই বাদশার চারজন স্ত্রী ছিল তাদের মধ্যে প্রথম স্ত্রী তেমন আহামরি সৌন্দর্যের অধিকারী ছিল না সে শ্যামলা গাত্রের এবং খুবই সহজ সরল ছিল চতুরতা তার স্বভাবে ছিল না আর এই কারণে বাদশাহ তাকে অনেক বেশি ভালোবাসতেন এবং সবচাইতে বেশি সম্মান প্রদান করতেন অন্য তিনজন স্ত্রী ছিল অত্যধিক সুন্দরী কিন্তু
তারা বাদশার এই আচরণে খুবই অসন্তুষ্ট ছিলেন কারণ বাদশা প্রথম স্ত্রীর তুলনায় তাদের কম ভালোবাসতেন যদিও বাদশা কখনো তার অন্য স্ত্রীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন না বরং যথেষ্ট ভালো বাসতেন কিন্তু তাদের মাঝে দিনে দিনে হিংসাত্মক মনোভাব বাড়তে লাগলো তারা সবাই প্রথম স্ত্রীর দোষ ধরতো এবং বিভিন্ন বিষয়ে ছোট করে কথা বলতো বাদশার কাছে বড় স্ত্রীর সম্পর্কে নিন্দা করতো যেন বাদশাহ ও স্ত্রীকে সহ্য করতে না পারেন যদিও তাদের চেষ্টা খুব একটা সফল হতো না কারণ বাদশা তার বড় স্ত্রীকে খুবই ভালোবাসতেন এবং শ্রদ্ধা করতেন অন্যান্য স্ত্রীরা সবসময় ভাবতো আমাদের স্বামী এই স্ত্রীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন এর কারণটা কি এমনটা
উনি কেন করেন এজন্য অন্য স্ত্রীগণ বাদশাকে প্রায়ই বলতো আপনি আপনার প্রথম স্ত্রীর প্রতি কেন এতটা বেশি ভালোবাসা প্রদর্শন করেন সবসময় আমাদের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করেন কি আছে ওই শ্যামলা গাত্রীর মেয়ের মাঝে যা আমাদের মাঝে নেই আমরা ওর থেকে অধিক সৌন্দর্যের অধিকারী এবং বুদ্ধিমতী কিন্তু আপনি সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি কেবল ওর সাথে পরামর্শ করেন আমরা কেন সেসব কিছুর ভাগীদার হতে পারি না তারা এ সমস্ত প্রশ্ন বাদশাকে প্রায় করতো বাদশা যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছিলেন তিনি স্ত্রীদের সাথে তর্কে জড়াবেন না তিনি সমস্ত প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে যেতেন বলতেন সঠিক সময় আসলে তোমাদের সকল প্রশ্নের উত্তর আমি দেব এভাবেই অনেকদিন
কেটে গেল তার জন্য সকল স্ত্রীরা ক্রমেই হিংসাত্মক হয়ে উঠলো একদিন বাদশাহ তার রাজদরবারের সদস্যদের সাথে বসেছিলেন বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলেন হঠাৎ তার খেয়াল হলো এবার স্ত্রীদের প্রশ্নগুলোর জবাব দেওয়া প্রয়োজন তারা অনেকদিন ধরে এক ওই প্রশ্ন বারবার করছেন আজ না হয় তাদের সকল চিন্তা দূর হয়ে যাক তাই তিনি একটি পরিকল্পনা করলেন রাজদরবারের সকল স্ত্রীদের ডেকে বললেন আজ আমি অনেক খুশি তাই আমি ঠিক করেছি যে আমি আমার সকল স্ত্রীদের ভালো ভালো উপহার দেব আজ তোমরা যা চাইবে আমি তোমাদের তাই দেব সুন্দরী তিন স্ত্রী খুবই খুশি হয়ে গেল এ কথা শুনে তারা ভাবতে লাগলো এইতো সুযোগ আজ আমরা
শাহী খাজানা থেকে নিজের ইচ্ছেমত মনিমুক্তা হীরে জহরত নেব বাদশা তার এক প্রজাকে হুকুম করল শাহী খাজানা থেকে হীরা মানিক সোনার রুপা সবকিছুই এনে জড়ো করতে এরপর সে তার স্ত্রীদের বলল এখানে যে বস্তুর উপর হাত রাখবে তাকে উপহার হিসেবে তা দেওয়া হবে এটা শোনার পর স্ত্রীরা নিজেদের পছন্দ ঠিক করে দিল কে কোন জিনিসটা নিবে অতঃপর বাদশার ইশারা পাওয়া মাত্রই সুন্দরী স্ত্রীরা নিজেদের পছন্দের জিনিসের উপর হাত রাখলো কেউ হীরার উপর কেউ স্বর্ণের উপর কেউ বা জহরতের উপর হাত রাখলো ফলে বাদশা তাদের পছন্দকৃত গহনাগুলো দিয়ে দিল কিন্তু প্রথম স্ত্রী যেখানে দাঁড়িয়েছিল সেখানে সেভাবে দাঁড়িয়ে রইল এটা দেখে অন্য
সকল স্ত্রীগণ হাসতে লাগলো এবং তার মজা ওড়াতে লাগলো তারা বাদশাকে বলল আমরা বলেছিলাম না ওর বুদ্ধির অভাব আছে ও ভীষণ বোকা আমরা সুযোগের সৎ ব্যবহার করে কত দামি দামি জিনিস নিয়ে নিলাম আর ও বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছে বাদশা এবার মুচকি হেসে বলল এখন আমি তোমাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেব স্ত্রীগণ জিজ্ঞাসা করল কোন প্রশ্ন বাদশা বলল তোমরা তো সবসময় বলো যে আমি আমার বড় স্ত্রীকে কেন সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি কি কারণে তার সাথে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করি সুন্দরী স্ত্রীরা এবার একটু অবাক হলো এরপর বাদশাহ তার প্রথম স্ত্রীর নিকটে গিয়ে বলল হে আমার প্রিয়তম স্ত্রী তুমি কেন
সবার মতো হীরামনি মুক্তা স্বর্ণ রোপ্য নিলে না তুমি কেন কোন কিছুই নিজের জন্য গ্রহণ করলে না তখন সেই স্ত্রী বলতে শুরু করল হে বাদশা আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন আমি আমার প্রিয় কিছু বেছে নেই আপনি তো বলেছিলেন আজকে যে যে জিনিসের উপর হাত রাখবে সেটা তার হয়ে যাবে বাদশাহ ভেবেছিলেন তার স্ত্রী হয়তো কারণ বিশ্লেষণ করবেন কিন্তু তা সে করেননি এবার বাদশা বলল হ্যাঁ আমি বলছিলাম আজকে যে জিনিসের উপর হাত রাখবে সে জিনিসটা তার তুমি নিশ্চয়ই তোমার প্রিয় জিনিসটা তুলে নিতে পারো তখন তার স্ত্রী বলল বেশ তো আজ আমি আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসে হাত রাখবো আমার সবচেয়ে প্রিয়
যাকে আমি সবকিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসি এবং সব কিছুতেই অগ্রাধিকার দেই এই বলে সে সোনা রুপা হীরা বহুমূল্য জিনিসের পাশ দিয়ে হেঁটে চলল কিন্তু সে কোন কিছুর উপর হাত রাখলো না বাকি স্ত্রীরা অবাক হয়ে যাচ্ছিল অতঃপর সে বাদশার কাছে এসে দাঁড়ালো এবং বলল এ আমি আপনার উপর হাত রাখলাম আপনি আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় এবং সবচেয়ে দামি এবং এই জিনিসগুলো থেকে অধিক মূল্যবান আমি এখন আপনার উপর হাত রাখলাম সুতরাং আপনি এখন সম্পূর্ণ আমার আপনার সাথে সাথে এই খাজানাগুলো গুলোর মালিক আমি তাহলে শুধু শুধু কেন দুই একটা জিনিস আমি নেব যেখানে সবটাই আমার তার কথা শুনে বাদশার মুখ
আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো সে সঠিক মানুষটাকেই সঠিক জায়গা প্রদান করেছে সে যেন এরকম জবাবে প্রত্যাশা করেছিল তার প্রিয় স্ত্রীর কাছে সে তার হাত ধরে বাকি যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলল দেখো ওর বুদ্ধিমত্তা ও ভালোবাসা ওর কাছে এই মূল্যবান বস্তুর তুলনায় অধিক মূল্যবান আমি আর এই কারণে আমি ওকে এত ভালোবাসি সে একবারও ওই খাজানার দিকে ফিরেও তাকায়নি বরং সেই মানুষটাকে বেছে নিয়েছে যে ওই খাজানার মালিক তোমরা ওকে বোকা বলে হেয় করো আসলে এগুলোর বোকামি নয় বরং গভীর বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ তোমাদের নিকট এই মূল্যবান জিনিসগুলো অধিক প্রিয় ছিল আর ওর নিকট আমার ভালোবাসা এবার নিশ্চয়ই তোমরা সকলেই তোমাদের উত্তর পেয়ে
গেছো কেন আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি ও সম্মান দেই সে আমার দেখা সবচেয়ে সম্মানীয় এবং বুদ্ধিমতী নারী তবে তার মানে এই নয় যে আমি তোমাদের ভালোবাসি না আমি তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি এবং সম্মান করি অবশেষে অন্য স্ত্রীরা তাদের নিজেদের ভুল বুঝতে পারলো তো বন্ধুরা কেমন লাগলো আমাদের আজকের এই ভিডিওটি কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন আজ তাহলে এই পর্যন্তই আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ