শয়তান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে আরজ করল হে খোদা আমি তোমার কসম খেয়ে বলতে পারি আইয়ুব নবী একমাত্র তোমার প্রদত্ত সম্পদের লোভে ও আরাম আয়েশের তৃপ্তিতে তোমার এবাদত বন্দেগী করে থাকে যদি তার এই ধন সম্পদ ও সুখ-শান্তি বিলীন হয়ে যায় তাহলে একদিনও সে এবাদতে লিপ্ত থাকবে না হে খোদা তুমি নবীর উপর হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা দাও আমি একটু দেখি তোমার আইয়ুব কতটা তোমার বিশ্বস্ত নবী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শয়তানকে জানিয়ে দিলেন তোমাকে নবীর উপর হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা প্রদান করা হলো তোমার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই তুমি নবীকে পরীক্ষা করে দেখতে পারো শয়তান আল্লাহর প্রদত্ত ক্ষমতা পেয়ে একজন প্রতীক সেজে হযরত
আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গমন করল আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গিয়ে নিজ দরিদ্রতা প্রকাশ করে শয়তান বলল হুজুর আমাকে কয়েকদিন আপনার বাসায় থাকার অনুমতি প্রদান করুন হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটি সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করলেন কারণ তার শরীর থেকে এক প্রকার তীব্র গন্ধ বের হচ্ছিল তখন হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম তার সেই আবেদন নাকজ করে দিয়ে বললেন আমি তোমাকে কিছু টাকা পয়সা দিচ্ছি তুমি অন্যত্রে গিয়ে থাকার ব্যবস্থা করো শয়তান হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই ব্যবহারে খুবই ক্ষিপ্ত হলো তাই মলিন মুখে সে ফেরত গেল এরপরে সে চিন্তা করতে লাগলো কিভাবে নবীর ক্ষতি করা যায় অনেক চিন্তা ভাবনা করে সে
স্থির করল যে নবীর ফলবাগানে আগুন ধরিয়ে দেবে যেই ভাবনা সেই কাজ একদিন সে নবীর ফলবাগানে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল শয়তানের লাগানো আগুনে অনেকগুলি ফলবাগান নষ্ট হয়ে গেল ফলবাগানের কর্মচারীরা দৌড়ে গিয়ে নবীর কাছে এই খবর পৌঁছালো তাদের কাছ থেকে এই সংবাদ শুনে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর সম্পদ আল্লাহ নিয়ে গেছেন এতে আমার চিন্তিত হবার কোন কারণ নেই শয়তান যখন দেখলো হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফলবাগান ধ্বংস করে দেওয়ার পরেও বিন্দুমাত্র বিচলিত হলেন না তিনি তখন তার মনে আগুন ধরে গেল অতঃপর সে আবার চিন্তা করতে লাগলো কি করে নবীর ক্ষতি করা যায় পরের দিন শয়তান নবীর
আস্থা বলে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল সেখানে আগুন এক ঝোড়ের আকারে সমস্ত মাঠ পরিভ্রান্ত হয়ে গেল যাতে সমস্ত পশু মারা গেল এবং কিছু সংখ্যক রাখালও সেই আগুনে মৃত্যুবরণ করল অন্যান্য রাখাল গুলি এই খবরটি দ্রুত নবীর কাছে পৌঁছে দিল খবর শুনে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের নিয়তে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তিনি বলতে লাগলেন আল্লাহর সম্পদ আল্লাহ তাআলা নিয়ে গেছে এতে আমার বিচলিত হবার তো কিছুই নেই শয়তান যখন দেখলো এত কিছুর পরেও নবীর সামান্যতা বিচলিত হচ্ছে না তখন তার মনে আরো আগুন জ্বলে উঠলো এরপরে সে নবীর আরো বড় ক্ষতি করার চিন্তা করতে লাগলো হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের 12 জন
সন্তান ছিল তারা মক্তবে পড়াশোনা করতো মক্তবে পড়ালেখা করার জন্য প্রতিদিনের মত একদিন সকালে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের 12 জন সন্তানই ওস্তাদের কাছে মক্তবে পড়াশোনা করতে গেল এমন সময় ওস্তাদ কোন এক কাজে সেই মক্তব থেকে বের হলো আর শয়তান এই সুযোগে সেই মক্তবের ছাদ দসিয়ে দিল এতে করে হযরত হযরত আয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের 12 জন সন্তানের মৃত্যুর মুখে পতিত হলো মক্তবের ওস্তাদ কাঁপতে কাঁপতে গিয়ে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালো হে আল্লাহর নবী আমি কোন এক কাজে মক্তবের বাহিরে গিয়েছিলাম এর মধ্যেই এমারাতের চাঁদ ধষে পড়ে আপনার 12 জন সন্তানের মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েছে ওস্তাদের মুখে এই কথা শুনে
হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহর সম্পদ আল্লাহই নিয়ে নিয়েছেন এতে আমার বিচলিত হবার তো কিছুই নেই শয়তান যখন দেখল সন্তানের মৃত্যুতে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঈমানে মোটেও কমতি আসলো না তখন সে হিংসায় জলে পড়ে ছারখার হয়ে যেতে লাগলো এবং সে আরো বড় ক্ষতি করার চিন্তা ভাবনা করতে লাগলো এদিকে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুশমনেরা নবীর এই পরীক্ষা দেখে খুব খুশি হলো নবীর কর্মচারী ও চাকরবাকররা নবীর এই করুন অবস্থা দেখে যে যেদিকে পারলো চলে গেল নবীর বাড়িঘর বাগান আস্তাবল সবকিছু শূন্য হয়ে পড়ে রইল এই সুযোগে শত্রুরা এসে সবকিছু লুট করতে
আরম্ভ করল বিধ্বস্ত বাড়ির সকল মালামাল তারা নিয়ে গেল বাগানের বাকি সকল ফল ও ফসল নিয়ে তাদের মধ্যে কারাকারি আরম্ভ হলো এক কথায় হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরাম আয়েশ সন্তান সন্ততি ও সমুদয় ধন সম্পদ সপ্তাহকালের মধ্যেই শেষ হয়ে গেল হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের চারজন স্ত্রী ছিল তিনজন নবীর সঙ্গে ঝগড়া করে এবং তর্ক-বিতর্ক করে বিদায় হয়ে গেল বাকি রইল একমাত্র হযরত হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবসময় তিনি নবীর সাথে সাথে থাকতেন দেশের মানুষ নবীর নবুয়তি দাবির প্রতি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও উপহাস আরম্ভ করে দিল কেউ কেউ বলল আইয়ুব যদি আল্লাহর নবী হতো তাহলে তার উপরে এরকম গজব কেন নাযিল
হলো আসলে সে নবী নয় মিথ্যে নবুয়তের দাবির কারণে আল্লাহ তাআলার গজব তার উপর নাযিল হয়েছে এদিকে নবীর ভক্তদের মধ্যেও ভাঙ্গন দেখা দিল এ অবস্থা দেখে শয়তান তেমন খুশি হতে পারলো না কারণ সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে কোন পরিবর্তন আসলো না তিনি এবাদতগারের মধ্যে থেকে পূর্বের ন্যায় একই রকম মনোযোগের সাথে এবাদত করে যাচ্ছিলেন তিনি যেন তার এই বিশাল ধ্বংসের কোন খবরই রাখেন না কোন রকম হতাশা বা আফসোসের চিহ্ন মাত্র তার মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছিল না লোকজন যাতায়াতকালে বলতে লাগলো হে আইয়ুব তুমি নবুয়তের দাবি করে সমূলে ধ্বংস হয়ে গেলে এর চাইতে নবুয়তের দাবি
পরিত্যাগ করা তোমার জন্য মঙ্গলজনক ছিল যেমন দেখো আমরাই আমরা নবীও না আর গজবেও পতিত হইনি এছাড়া লোকেরা নানান ধরনের তুচ্ছ তাচ্ছিল্যমূলক কথা হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে বলতে লাগলো হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সমস্ত কথার প্রতি আদব রক্ষেপ করলেন না তিনি পূর্বে যতটুকু সময় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করে কাটাতেন তাও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিলেন এইসব দৃশ্য দেখে শয়তান আর বসে থাকতে পারলো না সে চিন্তা করতে লাগলো কিভাবে নবীর আরো গুরুতর ক্ষতি করা যায় চিন্তা করতে করতে সে একটি ষড়যন্ত্র আঁটলো ষড়যন্ত্র মাপিক সে নবীর সাক্ষাৎ প্রাপ্তি হয়ে তার নিকটে পৌঁছালো এবং নবীর কাছে গিয়ে বলল হুজুর
আমি আপনার একজন ভক্ত আপনার কাছে আমার কিছু আরজি ছিল এই বলে সে নবীর কাছে কথা বলার বান করে গেল এবং তার মুখটি নবীর কানের কাছে নিয়ে দুই কানে দুটি ফুঁ দিয়ে বিদায় হয়ে গেল পরের দিন নবীর শরীরে ফুসকার মতো এক প্রকার ফুঁড়া উঠে ভরে গেল তিনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবাদত বন্দেগীতে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হলো স্ত্রী রহিমা তার সেবাযত্ন করছিলেন আস্তে আস্তে ফুঁরা গুলো বড় হয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করল দীর্ঘদিন এই অবস্থা কাটানোর পরে নবীর শরীরের মাংসের মধ্যে এক প্রকার কিটের দেখা দিল আরো কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পরে নতুন আরো দুরকমের পোকার সৃষ্টি হলো এই পোকাগুলো নবীর
শরীরের মাংস ও রক্ত খেতে আরম্ভ করল অন্যদিকে নবীর স্ত্রীর জমা করা টাকা পয়সা সবকিছু শেষ হয়ে গেল তাদের দারুণভাবে খাদ্যের অভাব দেখা দিল শুধু পানি পান করে নবী ও তার স্ত্রী রহিমা কয়েকদিন অতিবাহিত করলেন তারপর আর ধৈর্য ধারণ করতে পারলেন না হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালামের নিকটে গিয়ে আরজ করলেন হে আল্লাহর নবী এখন আমাদের কাছে আর কিছুই নেই অতএব গ্রামে গিয়ে মানুষের বাসায় কাজ করে উপার্জন করা ছাড়া আমাদের কাছে অন্য কোন পথ নেই আপনি যদি আমাকে অনুমতি দিতেন তাহলে আমি গ্রামে গিয়ে মানুষের বাসায় কাজ করে হালাল রুজি উপার্জন করতে পারতাম আর তা
দিয়ে আমাদের আহারের ব্যবস্থা করতে পারতাম হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীর মুখে এই সকল কথা শুনে অনেকক্ষণ কাঁদলেন তারপর তিনি বললেন হে রহিমা তোমাকে কষ্ট দেবার কোন মানসিকতাই আমার ছিল না কিন্তু আমি অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েছি তাই বাধ্য হয়েই তোমাকে অনুমতি দিতে হচ্ছে তুমি যাও মানুষের বাসায় গিয়ে কাজ করো তারপরেও তো কিছু হালাল রুজি উপার্জন করা যাবে নবীর অনুমতি পেয়ে বিবি রহিমা মানুষের বাসায় কাজ করতে আরম্ভ করে দিলেন এদিকে গ্রামবাসী আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরের অবস্থা দেখে অত্যন্ত ভীত সন্তুষ্ট হয়ে পড়লো ঘৃণায় তাদের শরীর গিরগির করতে লাগলো এছাড়া মাংস পোচার গন্ধে মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়লো তাই একদিন
তারা হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে বলল হে আইয়ুব তুমি অতি সত্যর আমাদের এই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্রে চলে যাও না হলে আমরা তোমাকে বের করে দিতে বাধ্য হব হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে মাত্র তিনজন লোক ছিল তখন একজন ছিলেন তার স্ত্রী রহিমা আর দুইজন হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিষ্য ও ভক্ত তারা সবসময় নবীর দেখাশোনা ও সেবা করতো গ্রামবাসীদের ক্রমাগত চাপের মুখে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিষ্যরা তাকে বহন করে অন্য গ্রামে চলে যাওয়ার জন্য রওনা করল অনেকক্ষণ পথ চলার পর তারা অপর এক গ্রামে উপস্থিত হলো সেই গ্রামের লোকেরা হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরের অবস্থা দেখে
বলল তোমরা এখনই একে নিয়ে অন্যত্রে চলে যাও না হলে আমরা তাকে মেরে এখান থেকে তাড়িয়ে দেব এভাবে শীর্ষরা সাতটি গ্রাম হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে ঘুরলো কিন্তু কোন গ্রামের লোকেরাই হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশ্রয় দিল না তখন শীর্ষরা বিরক্ত হয়ে গেল এবং রাস্তার পাশে ময়লা ও আবর্জনা ফেলার এক স্থানে গাছের ছায়ায় হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রেখে বিদায় গ্রহণ করল বিদায়ের প্রকালে তারা বলাবলি করতে লাগলো হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম আল্লাহ আল্লাহর নবী হওয়া সত্ত্বেও তার উপরে এই ধরনের মুসিবত কেন আসলো অন্যজন উত্তর দিল হয়তোবা তিনি আল্লাহ তাআলার মর্যা বিপরীত কোন কাজ করেছেন না হয় তার এই
পরিণতি কেন হবে তারা একজন আরেকজনকে বলল নবী যখন আল্লাহর মনোনীত কার্যকলাপ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তখন আর তার পিছনে থেকে আমাদের কোন লাভ নেই চলো আমরা এখান থেকে চলে যাই দুজনে এ ব্যাপারে একমত হলো এবং হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালামকে গাছের নিচে রেখেই তারা বিদায় গ্রহণ করল হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ছেড়ে যাওয়ার পাত্রী নন তাই তিনি সদা সর্বদা নবীর খেদমতে ব্যস্ত থাকতেন দিনের কিছু সময়ে মানুষের বাসায় গিয়ে কাজ করে যা সামান্য উপার্জন করতেন তা দ্বারা স্বামীর জন্য ঔষধ ও খাবারের ব্যবস্থা করতেন এভাবেই দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে গেল হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালামের শরীরের কত কিট
মরে যায় আবার কত নতুনভাবে কত কিটের জন্ম হয় এভাবে দিন দিন কীটের সংখ্যা [ __ ] ছাড়া আর কমে না তার শরীরের সামান্য হাড্ডি মাংস ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না একদিন হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীর থেকে কয়েকটি কিট গড়িয়ে পড়ে গেল তখন হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রী রহিমাকে ডেকে বললেন রহিমা মানুষ মাটির তৈরি মানুষ মৃত্যুবরণ করার পরে তার শরীরের হাড় মাংস পুনরায় মাটিতে পরিণত হবে মাঝখানে আল্লাহর কিছু পোকা যদি এই মাংস ও রক্ত খেয়ে কিছুটা তৃপ্তি লাভ করতে পারে এতে আপত্তি কিসের এতে অন্তত ওদের খাবার দানের পূর্ণতা পাওয়া যাবে অতএব যেই কীটগুলি গড়িয়ে মাটিতে
পড়ে গেছে ওইগুলিকে উঠিয়ে পুনরায় আমার শরীরের সঙ্গে লাগিয়ে দাও হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বামীর আদেশ অনুসারে গড়িয়ে পড়া কিটগুলিকে পুনরায় উঠিয়ে তার শরীরের সঙ্গে লাগিয়ে দিলেন একদিন হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রামে গিয়ে কোন কাজ পেলেন না তখন তিনি খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন কাজের জন্য তিনি হন হয়ে সারা গ্রামে ছুটে বেড়াতে লাগলেন কিন্তু কোথাও কোন কাজ পেলেন না অবশেষে তিনি একজন মহিলার কাছে গিয়ে বললেন আপনি আমাকে আজকের জন্য কিছু অর্থ ধার দিন আমি আগামী দিনে সে অর্থ আপনাকে পরিশোধ করে দেব আমার স্বামী অত্যন্ত রোগাগ্রস্ত আমি আজকে কোন কাজের ব্যবস্থা করতে পারিনি আপনি যদি আমাকে কিছু অর্থ
ধার দিতেন তাহলে সেই অর্থ দ্বারা আমি আমার স্বামীর জন্য ঔষধ ও খাবার নিয়ে যেতে পারতাম আর না হলে আমার স্বামীকে না খেয়ে থাকতে হবে আপনি আমার প্রতি একটু দয়া করুন মহিলা হযরত রাহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা শুনে বলল আমি কাউকে টাকা ধার দেই না জীবনে অনেক মানুষকে টাকা ধার দিয়েছি কিন্তু তারা কেউ আজ পর্যন্ত আমার টাকা ফেরত দেননি অতএব তোমার এই ভাওতাবাজির অভিনয় বাদ দিয়ে সোজা বাড়ির পথ দেখো আমি কোন টাকা তোমাকে ধার দিতে পারবো না হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তবে আমাকে কিছু কাজ দিন সেই কাজের বিনিময়ে না হয় আমাকে টাকা দেবেন মহিলা বলল আমার
কাছে কোন কাজ নেই তবে আমি তোমাকে এক শর্তের বিনিময়ে টাকা ধার দিতে পারি তোমার মাথার চুলগুলি আমার খুব পছন্দ হয়েছে তুমি যদি তোমার মাথার চুলগুলি কেটে আমাকে দিয়ে দাও সেই চুলগুলির বিনিময়ে আমি তোমাকে কিছু টাকা দিতে পারি হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হে মহিষী নারী আমার স্বামী অত্যন্ত রোগাগ্রস্ত তার সমস্ত শরীর পোকায় খেয়ে ফেলে তিনি কোন কঠিন জিনিস স্পর্শ করতে পারেন না তিনি যখন বিছানা থেকে ওঠেন তখন আমার মাথার চুল ধরে বিছানা থেকে উঠেন আমি যদি মাথার চুলগুলি কেটে আপনাকে দিয়ে দেই তাহলে আমার স্বামী কি ধরে বিছানা থেকে উঠবেন তখন সেই মহিলা বলল ঠিক আছে
তাহলে তুমি তোমার মাথার অর্ধেকটা চুল কেটে দিয়ে দাও আমি সেই অর্ধেক চুলের বিনিময়ে তোমাকে টাকা দিব হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম চতুর্দিকে নিরুপায় হয়ে শেষ পর্যন্ত মহিলার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলেন এবং তার মাথার অর্ধেক চুল কেটে তাকে দিয়ে দিলেন এবং তার কিছু অর্থ গ্রহণ করে সেই অর্থ দ্বারা স্বামীর জন্য কিছু আহার ও ঔষধ ক্রয় করে বাড়ির পথে রওনা করলেন শয়তান যখন দেখলো হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাথার অর্ধেক চুল কেটে ফেলেছেন শয়তান এটিকে হযরত আইয়ুব ও বিবি রহিমার মাঝে ভুল বোঝাবুঝির জন্য একটি মুখ্যম সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করল এরপরে সে একজন দরবেশের বেশে হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালামের
কাছে এসে বলল হুজুর আপনি একজন আল্লাহর নবী অথচ আপনার স্ত্রীর চরিত্র অত্যন্ত জঘন্য সে বিভিন্ন জায়গায় চুরি করে এবং চুরির মাধ্যমে অন্যায় ভাবে অর্ধ উপার্জন করে যার ফলে আজকে এক ঘটনায় মানুষ তাকে হাতে নাতে ধরে ফেলেছে এবং তার মাথার অর্ধেক চুল কেটে দিয়েছে সে বাড়িতে ফিরে আসলে আপনি এর সত্যতা দেখতে পারবেন আমরা নবী হিসেবে আপনাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি তাই আগে থেকেই আপনাকে এই ঘটনা জানিয়ে গেলাম এই বলে শয়তান বিদায় গ্রহণ করল হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয়তানের এই কথা বিশ্বাস করলেন এবং অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে একাকি বললেন আমার স্ত্রী এমন স্তরে গিয়ে পৌঁছেছে আমি কল্পনা করতে পারি
না আমি আর তার উপার্জিত অর্থ খাবো না সে আমাকে এযাবত অসৎপথের উপার্জন খাইয়েছে এজন্য আমি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত অনুতপ্ত হে আমার মাবুদ রহমানুর রহিম তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও আমি যদি সুস্থ হয়ে উঠি তাহলে অবশ্যই তাকে 100 বেত্রাঘাত করব পুনরায় আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি আমি সুস্থ হবার পরেই অবশ্যই তাকে 100 বেত্রাঘাত করব সেদিন সন্ধ্যাবেলা হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীর খবর শুনে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হয়ে রইলেন যখন সন্ধ্যাবেলা হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে ফিরে আসলেন তখন হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে কোন কথা বললেন না রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বামীর এই অবস্থা দেখে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তার
নিকটে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন হে প্রাণের স্বামী আপনার কি হয়েছে কেন আপনি আমার সঙ্গে কোন কথা বলছেন না কিন্তু হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথার কোন উত্তর দিলেন না এরপর হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে খাবার ওষুধ পরিবেশন করলেন কিন্তু হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাও প্রত্যাখ্যান করলেন রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম আইয়ুব আলাইহিস এর পা জড়িয়ে ধরে বললেন হে প্রাণের স্বামী দয়া করে আপনি আমাকে বলুন কেন আপনি আমার প্রতি মনোক্ষুন্ন হয়েছেন তখন হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমার চরিত্র এত নিচে নামতে পারে আমি কল্পনাও করতে পারিনি তুমি চুরি করে এতদিন আমাকে খাবার খাইয়েছো অসৎপথের উপার্জন আমাকে খাইয়েছো আমি
এটা কল্পনাও করতে পারিনি আমি না জেনে তোমার উপার্জন খেয়েছি আজ এক দরবেশ আমাকে তোমার ব্যাপারে জানিয়ে গেল সে বলল যে তুমি চুরির কারণে হাতে নাতে ধরা পড়েছো আর তার কারণেই মানুষ তোমার মাথার অর্ধেক চুল কেটে দিয়েছে হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে যেন আসমান থেকে মাটিতে পতিত হলেন এবং তার দু চোখ দিয়ে জরজর করে অস্ত্র গড়িয়ে পড়তে লাগলো তখন তিনি দুই হাত তুলে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে বলতে লাগলেন হে আল্লাহ হে রহমানুর রহিম তুমি সবকিছুই জানো আমি কি উদ্দেশ্যে কি করেছি কিছুই তোমার অগোছরে নয় এমন অবস্থায় আমার স্বামীকে কে বা কারা মিথ্যে
অভিযোগ শুনিয়ে আমার ব্যাপারে বিভ্রান্ত করে তুলল আমি কিছুই জানিনা হে আল্লাহ তুমি আমার স্বামীকে সঠিক ঘটনা অবগত করো হে রহমানুর রহিম আমি এইজন্য মানুষের কাছে ধরনা দিতে যাব না আপনি আমার একমাত্র ভরসা তুমি আমার সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক অতএব এর বিচার তুমি করো যে জালিম আমার স্বামীর মনে আমার ব্যাপারে কুধারণা সৃষ্টি করে গিয়েছে তার তুমি সঠিক বিচার করো হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই ফরিয়াদ শুনে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠলো তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত জিবরাঈল আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাঠিয়ে দিলেন হযরত জিবরাঈল আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম এর নিকট এসে বললেন হে আল্লাহর নবী
আপনার স্ত্রী অত্যন্ত সৎ এবং নেককার শয়তান দরবেশের সুরতে এসে আপনাকে বিভ্রান্ত করে আপনার স্ত্রীর ব্যাপারে কুৎসা বর্ণনা করেছে প্রকৃতপক্ষে আপনার স্ত্রীর কোন দোষ নেই অতএব আপনি আপনার স্ত্রীর পরিবেশিত খাদ্য গ্রহণ করুন এবং আপনি তার প্রতি রাজি ও খুশি হয়ে যান হযরত জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য শুনে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম রহিমাকে ডেকে বললেন রহিমা আমাকে ক্ষমা করে দাও শয়তান তোমার ব্যাপারে আমাকে মিথ্যা সংবাদ শুনিয়ে বিভ্রান্ত করেছিল আর তুমি আমার প্রতি মনোক্ষুন্ন হবে না কারণ আমি না বুঝেই এই সকল কথা তোমাকে বলেছিলাম আর কখনোই তোমার প্রতি আমি রাগ করবো না হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বামীর মুখে এ
ধরনের কথা শুনে অত্যন্ত খুশি হয়ে গেলেন এবং তিনি পুনরায় পূর্ণ উদ্যামে স্বামীর সেবা যত্ন করতে লাগলেন বিবি রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিদিনই নিয়মিত শ্রমের বিনিময়ে কিছু অর্থ উপার্জন করে জীবিকার ব্যবস্থা করতেন শয়তান যখন নবীকে হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্পর্কে অভিযোগ করে কোন সফলতা পেল না তখন সে একজন বৃদ্ধ মানুষের সুরত ধরে একদিন হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পতিমধ্যে জিজ্ঞাসা করল হে মা তোমাকে এমন দুরবস্থাগ্রস্ত দেখাচ্ছে কেন হযরত রহিমা উত্তর দিলেন আমার স্বামী খুবই অসুস্থ তার শরীরে গা হয়েছে তাতে পোকা জন্মেছে তার শরীরের রক্তমাংস পোকায় খেয়ে ফেলেছে তাই আমি তাকে নিয়ে দিবাত্র খুবই চিন্তাগ্রস্ত থাকি তখন সেই বৃদ্ধের
স্রোতী শয়তান বলল আমি এই ঘা ও ক্ষতের একটি অমুক ওষুধের কথা তোমাকে বলে দিতে পারি যদি তুমি তোমার স্বামীকে না জেনে এটা ব্যবহার করতে পারো তাহলে একদিনের মধ্যেই এই রোগ থেকে সে মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হবে বিবি রহিমা বলল হুজুর দয়া করে আমাকে ওষুধের নামটি বলে দিন আমি এটা ব্যবহার করার চেষ্টা করব তখন বৃদ্ধ বলল এই ওষুধ সম্পর্কে যদি তোমার স্বামীকে পূর্বেই অবগত করে দাও তাহলে সে এই ওষুধ ব্যবহার করতে অস্বীকার করতে পারে অতএব তুমি যদি তাকে না জানিয়ে ব্যবহার করতে পারো তাহলে অবশ্যই সে আরোগ্য লাভ করবে অতঃপর বৃদ্ধ বিবি রহিমাকে জিজ্ঞেস করল মা তোমার
স্বামীর নাম কি বিবি রহিমা বললেন আমার স্বামীর নাম হযরত আইয়ুব তিনি আল্লাহ তাআলার একজন নবী প্রথম জীবনে তিনি খুবই সম্পদশালী ছিলেন পরবর্তীতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে বিভিন্ন বালা মুসিবত দ্বারা পরীক্ষায় ফেলেছেন এখন তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত শয়তানের সুরতদারী বৃদ্ধ রহিমার কথা শুনে বলল তাকে যখন গ্রামের মানুষেরা গ্রাম থেকে বের করে দিয়েছিল তখন আমি তাকে একবার দেখেছিলাম তার জন্য আমার কাছে উপযুক্ত ওষুধ আছে বিবি রহিমা বললেন হুজুর দয়া করে তাহলে আমাকে সেই ওষুধটি প্রদান করুন বৃদ্ধ বলল তুমি এখানে একটু অপেক্ষা করো আমি ওষুধ এনে এখনই তোমাকে দিচ্ছি এই বলে বৃদ্ধ চলে গেল বিবি রহিমা সেখানে বৃদ্ধের
অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলেন কিছু সময় পরে বৃদ্ধ এক বোতল পানি জাতীয় ঔষধ এবং মাংস জাতীয় এক প্রকার ঔষধ নিয়ে হাজির হলো বৃদ্ধ রহিমার হাতে বোতল তুলে দিয়ে বলল এই ঔষধ তার শরীরে লাগাবে এবং মাংস জাতীয় ঔষধ দিয়ে বলল এটা ভুনা করে তাকে খেতে দেবে দেখবে আগামী দুইদিনের মধ্যে তার শরীর অর্ধেক সুস্থ হয়ে যাবে তারপরের দিনও এভাবেই লাগাবে দুইদিনের মধ্যে তিনি আরোগ্য লাভ করবেন হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম হলেন আল্লাহর নবী আমাদের প্রিয় পথ প্রদর্শক তার প্রতি আমাদের প্রাণের গভীর আকর্ষণ রয়েছে অতএব তার সামান্য উপকার করতে পারলে নিজেকে ধন্য বলে মনে করব আমি তার একজন কঠিন ভক্ত কিন্তু
শত্রুদের সতর্ক বিরোধিতার কারণে আমি তার কোন খোঁজখবর নিতে পারিনি তবে আগামীতে আমি সরাসরি তার নিকট দেখা করব এই ধরনের লম্বা বক্তব্য দিয়ে শয়তান বিবি রহিমার আস্থা অর্জন করে সেখান থেকে বিদায় গ্রহণ করল বিবি রহিমা ঔষধ নিয়ে নবীর কাছে পৌঁছায় প্রথমে তারা আহারাদি সম্পূর্ণ করেন এরপর তিনি অনেক চিন্তা ভাবনা করতে লাগলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত নবীকে না জানিয়ে এই ওষুধ ব্যবহার করতে সাহস পেলেন না তাই তিনি নবীর কাছে গিয়ে বললেন হে আল্লাহর নবী আজ এক বৃদ্ধ পথের মধ্যে আমাকে এক প্রকার ওষুধ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন এই ওষুধ নিয়মিত দুইদিন ব্যবহার করলেই আপনি পরিপূর্ণ আরোগ্য লাভ করবেন হযরত
আইয়ুব আলাইহিস সালাম বিবি রহিমার কথা শুনে বললেন হে রহিমা তুমি কি মনে করো আমার এই রোগ ওষুধের মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করার রোগ এটা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন এবং তিনি এই রোগ সারিয়ে তুলবেন কোন ঔষধে এই রোগ কমবে না হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বামীর কথা শুনে বললেন যিনি এই ঔষধ দিয়েছেন তিনি একজন মুসলমান তিনি আপনারও ভক্ত তাই তার ওষুধের ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই এখন আপনার মর্জির উপর নির্ভরশীল হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম বললেন আপাতত তুমি ওষুধটা রেখে দাও আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোন সংবাদ না পেলে আমি এই ওষুধ ব্যবহার করতে পারি না হযরত রহিমা আলাইহি
ওয়াসাল্লাম নবীর আদেশ পেয়ে নবীর বিছানার কাছেই সেই ওষুধ রেখে দিল পরের দিন সকালে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবি রহিমাকে ডেকে বললেন হে রহিমা আমি অসুস্থ হবার পর থেকে প্রতি রাতে দুইবার আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের তাজাল্লি দর্শন করতাম এবং সেই তাজাল্লি ধর্ষণ করে মনে অশেষ তৃপ্তি লাভ করতাম কিন্তু আজকে রাত্রে আমি সেই তাজাল্লি প্রদর্শন করতে সক্ষম হইনি কিন্তু এর কারণ কি তা আমি বুঝতে পারলাম না রহিমা বললেন হে প্রাণের স্বামী আপনি একজন আল্লাহর নবী এর উপযুক্ত কারণ হয়তো আপনি ভালো জানেন আমি একজন আল্লাহর বান্দি আমি কি করে জানবো এর উপযুক্ত কারণ কি এরপর হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম
খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন এভাবেই এক এক করে তিন দিন কেটে গেল তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের তাজাল্লি দর্শন করতে সক্ষম হলেন না অবশেষে তিনি দুই হাত তুলে আল্লাহর দরবারে কেঁদে কেঁদে তাজাল্লি দর্শন লাভের জন্য ফরিয়াদ জানাতে লাগলেন হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমি জানিনা কি ভুলের কারণে আপনার তাজাল্লি দর্শন লাভ করতে আমি সক্ষম হচ্ছি না আমার যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে আমার ভুলগুলিকে মার্জনা করুন আর দয়া করে আপনার তাজাল্লি দর্শন থেকে আমাকে বঞ্চিত করবেন না হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই রূপ দোয়ার পরে হযরত জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তাকে জানালেন হে আল্লাহর নবী আপনার বিছানার পাশে শারাবের
বোতল ও শুকুরের মাংস রাখা আছে এই সকল হারাম জিনিস আপনার বিছানার পাশে রেখে আপনি কিভাবে আল্লাহর তাজাল্লি দর্শনের আশা করতে পারেন আপনি যদি পুনরায় আল্লাহ তাআলার তাজাল্লি লাভ করতে চান তাহলে অবশ্যই এই জিনিসগুলি এখনই বিছানার পাশ থেকে অপসারণ করুন গভীর রজনীতে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম রহিমাকে ডেকে বললেন হে রহিমা আমার বিছানার কাছে কোথায় সারাফ ও শুকুরের মাংস আছে দেখো অতি সত্য সেগুলোকে অপসারণ করো এই বস্তুগুলো এখানে থাকার কারণেই আমি আল্লাহর তাজাল্লি দর্শন করতে ব্যর্থ হচ্ছি বিবি রহিমা নিদ্রা হতে জাগ্রত হয়ে চতুর্দিকে ভালো করে খোঁজাখুঁজি করলেন কিন্তু তিনি কোথাও সারাফ ও শুকুরের মাংস পেলেন না তখন
হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম তাকে বললেন তোমার আনা সেই ওষুধগুলি কোথায় বিবি রহিমা বললেন ওগুলি এখানেই আছে আপনার বিছানার পাশেই নবী বললেন সেগুলিকে এখান থেকে কে সরিয়ে ফেলো আমার মনে হয় এগুলি সারাফ ও শুকুরের মাংস নবীর আদেশ পেয়ে বিবি রহিমা তখন সেই ঔষধগুলোকে দূরে সরিয়ে দিলেন তারপর হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার ধ্যানমগ্ন হলেন যখন রজনী শেষের দিকে আসলো তখন আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিৎকার দিয়ে উঠে বললেন হে রহিমা এবার আমি আল্লাহর তাজাল্লি দর্শন করতে সক্ষম হয়েছি রহিমা ভেবে দেখো তাহলে এই ওষুধগুলি ছিল সারাফ এবং শুকুরের মাংস এগুলি আমার নিকট থাকায় আমি আজ তিনদিন পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার তাজাল্লি
প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হচ্ছি এগুলি যে তোমাকে দিয়েছে সে মানুষ নয় সে মানুষরূপে শয়তান এই ওষুধগুলি দিয়ে তোমাকে এবং আমাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে আমরা শয়তানের ধোঁকা থেকে রক্ষা পেতে সক্ষম হয়েছি হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম এইভাবে দীর্ঘ 18 বছর যাবত নির্মম রোগ সুখ ও দুঃখ যাতনা ভোগ করছিলেন শেষের দিকে যখন পোকাগুলো তার চোখ ও জিহ্বায় আক্রমণ করতে লাগলো তখন তিনি কেঁদে কেঁদে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করলেন হে আল্লাহ আমার চোখ আমি স্ত্রীকে দর্শন করি এবং সূর্য দেখে নামাজের ওয়াক্ত ঠিক করি আর জিহ্বা দ্বারা তোমার জিকির আজগার করি অতএব এই দুইটি জিনিসও
যদি পোকামাকর খেয়ে নষ্ট করে ফেলে তাহলে তোমার এবাদত করা আমার জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে এই দোয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা তার নবীকে জানিয়ে দিলেন আমি অচিরেই আপনাকে রোগমুক্ত করব এবং আপনার স্ত্রীকে পুরস্কৃত করব কোন একদিন ভোরবেলা রহিমা যখন কাজে বের হয়ে গেলেন রহিমা কাজে বের হয়ে যাওয়ার পরে হযরত জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন হে আল্লাহর নবী আপনি আপনার পদযুগল দিয়ে মাটির উপর আঘাত করুন আপনার আঘাতের ফলে একটি নহর সৃষ্টি হবে আপনি সেই নহরের পানি দিয়ে গোসল করুন এবং পেট ভরে সেই পানি পান করুন অল্পক্ষণের মধ্যেই আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন হযরত আইয়ুব আলাইহি
ওয়াসাল্লাম হযরত জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরামর্শ অনুসারে পা দ্বারা মাটিতে আঘাত করলেন তখন সেখান থেকে একটি পানির ফোয়ারা সৃষ্টি হলো এবং সেই ফোয়ারা থেকে পানি উত্থলিত হয়ে আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরে পতিত হলো আল্লাহ মেহেরবানীতে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরে সেই ফোয়ারার পানি লাগার সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরের কতস্থান গুলি ভালো হয়ে যেতে লাগলো এবং সেখানে নতুন চামড়া গজালো অতঃপর নবী এসে সেই ফোয়ারার পানিতে ভালো করে গোসল করলেন সমস্ত শরীরে নতুন চামড়া গজালো এবং তার ক্ষতগুলি এমন ভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল যেন তার শরীরে কোনদিনই কোন ক্ষত এবং রোগের চিহ্ন ছিল না ফোয়ার পানিতে গোসল করার পরে তার শরীর
পূর্বের চাইতে অনেক উজ্জ্বল ও সুন্দর হয়ে উঠলো মুখমন্ডল চন্দ্রের ন্যায় জলজল করতে লাগলো তিনি গোসল সমাধান করে পেট ভরে সেই ফোয়ারার পানি পান করলেন এতে তার ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে গেল এমন সময় তিনি দেখলেন একজন ফেরেশতা দূর থেকে থলে ভর্তি করে কাপড়-চোপড় নিয়ে তার কাছে হাজির হয়ে বলল হে আল্লাহর নবী এগুলো আপনার জন্য জান্নাত থেকে নিয়ে আসা হয়েছে এগুলি আপনি পরিধান করুন এরপর লোকটি চলে গেল হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুটলা খুলে দেখতে পেলেন সেখানে জান্নাতি কাপড় রয়েছে অতঃপর তিনি জান্নাতি জামাকাপড় পরিধান করে বর্ণনার্থিক সুন্দর অধিকারী হলেন তার মনে অশেষ তৃপ্তি এলো তিনি দীর্ঘ
18 বছর রোগে ভোগার পরে আজকে পরিপূর্ণভাবে আরোগ্য লাভ করলেন এবং হাঁটতে ও চলতে সক্ষম হলেন তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে করতে কিছুদূর গিয়ে বনের এক প্রান্তে বসে রইলেন এমন সময় বিবি রহিমা কষ্টে উপার্জিত কিছু টাকা ধারা খাবার ক্রয় করে দ্রুত স্বামীর নিকট ফিরে আসলেন তিনি তার স্বামীর নিকটে ফিরে এসে দেখলেন তার স্বামী তার বিছানায় নেই হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে পড়লেন অতঃপর তিনি সেখানে বসে চিৎকার করে কাঁদতে আরম্ভ করলেন এবং বিনয়ের সাথে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে প্রার্থনা করলেন হে আমার মাবুদ আমি জানিনা আমার স্বামীকে কে নিয়ে গিয়েছে তাকে কি কোন
বাঘে খেয়ে ফেলেছেন নাকি অন্য কোন জীবজন্তু গায়েব করে দিয়েছে আমি কিছুই জানিনা হে আমার মাবুদ তোমার কাছে আমার ফরিয়াদ জানাচ্ছি তুমি আমার স্বামীকে আমার কাছে ফেরত দাও হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনি দয়ার সাগর আপনি পারেন না এমন তো কোন কাজ নেই আমার স্বামীকে ছাড়া আমি কোনভাবেই বাঁচবো না এভাবে অনেকক্ষণ যাবত হযরত রহিমা আলাইহি সালাম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে ফরিয়াদ করার পরে উঠে দাঁড়ালেন এবং তিনি এদিকে সেদিকে ছুটাছুটি করে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুঁজতে লাগলেন তিনি দেখতে লাগলেন কোথাও হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় কিনা তিনি অনেকক্ষণ ছোটাছুটি করার পরে তিনি হযরত আইয়ুব
আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন চিহ্ন কোথাও খুঁজে পেলেন না এরপর তিনি দেখতে পেলেন দূরে এক ব্যক্তি সুন্দর পোশাক পরিচ্ছেদ করে বসে আছেন তিনি সেই ব্যক্তির নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন জনাব এখানে গাছের নিচে একজন রোগী ছিল আপনি কি তার কোন খবর জানেন হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতক্ষণ দূরে বসে হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছিলেন তাৎক্ষণাৎ তিনি হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তার পরিচয় প্রকাশ করলেন না তিনি হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন রোগী তোমার কি হয় হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তিনি আমার প্রাণের স্বামী ছিলেন তিনি আল্লাহর একজন নবী ছিলেন তার নাম হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি
দীর্ঘ 18 বছর যাবত রোগাগ্রস্ত অবস্থায় এখানে ছিলেন একমাত্র আমি তার দেখাশোনা করতাম কিন্তু আজকে কাজের পরে ফিরে এসে আমি আমার স্বামীকে দেখতে পাচ্ছি না আমি জানিনা আমার স্বামী এখন কোথায় আছে কি অবস্থায় আছে তাকে কি কোন বাঘে খেয়ে ফেলেছে না অন্য কোন প্রাণী নিয়ে গেছে আপনি যদি তার কোন খোঁজ বা সংবাদ জেনে থাকেন দয়া করে একটু আমাকে জানান হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি যদি আপনার স্বামীর চেহারা দেখেন তাহলে আপনি কি আপনার স্বামীকে চিনতে পারবেন হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন কি বলেন জনাব যে স্বামীর দীর্ঘ 18 বছর যাবত আমি
খেদমত করলাম তার চেহারা দেখলে আমি তাকে চিনতে পারবো না এরপরে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে ফেললেন এবং বললেন দেখুন তো এই ব্যক্তিকে চিনতে পারেন কিনা বিবি রহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের নূরানী চেহারার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন তখন তিনি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন হে আল্লাহর নবী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনাকে এইভাবে সুস্থ করে তুলবেন আমি কল্পনাও করতে পারিনি আমি তো আপনার চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়ছিলাম আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া যে তিনি আপনাকে সুস্থ করে দিয়েছেন এবং পুনরায় আমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন এভাবে স্বামী এবং স্ত্রী অনেকক্ষণ যাবত
কান্না করতে লাগলেন এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে দুজনেই অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বিবি রহিমাকে বললেন কিভাবে তিনি সুস্থ হলেন এবং কিভাবে হযরত জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সুস্থ করার জন্য নহর সৃষ্টি করে দিলেন আর হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীকে সেই নহরে গোসল করার জন্য অনুরোধ করলেন স্বামীর কথামতো হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই নহরে গোসল করলেন সেই নহরে গোসল করার সাথে সাথেই হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারাও চাঁদের ন্যায় জলজল করতে লাগলো 18 বছরের যুবতীর ন্যায় শরীরের রূপ লাবণ্য ফিরে আসলো এরপরে হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির দিকে ফিরে আসার
জন্য পথ অতিক্রম করতে লাগলেন তারা তাদের বাড়িতে এসে দেখলেন তাদের দালানকোটা সব পূর্বের মত অক্ষয় অবস্থায় রয়েছে অতঃপর তারা ভেতরে প্রবেশ করে দেখলেন তাদের ছেলেমেয়েরা সেখানেই বসে খেলা করছে পিতা-মাতাকে দেখে তারা সকলেই এসে তাদেরকে জড়িয়ে ধরলো এবং তারা জিজ্ঞেস করল আপনারা কয়েকদিন যাবত কোথায় ছিলেন হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমরা আল্লাহর দাওয়াতে গিয়েছিলাম তখন ছেলেমেয়েরা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো এবং তাদেরকে বলল কেন আপনারা আমাদেরকে একা রেখে দাওয়াতে গিয়েছিলেন উত্তরে হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম বললেন তা তোমাদেরকে পরে বলবো ওদিকে মাঠ থেকে পুনরায় খাদেমগণ এসে বলল হে আল্লাহর নবী আপনার পশুপাখি বাগবাগিচা যা যা ধ্বংস হয়েছিল আজকে
তা আবার পুনরায় আমরা আগের অবস্থায় ফিরে পেয়েছি এগুলো কিভাবে সব আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে আমরা কিছুই জানিনা কিছুক্ষণ পরে কয়েকজন খাদেম এসে বলল হুজুর আপনার ধন দৌলত আসবাবপত্র মানুষ যা যা লোড করে নিয়েছিল তা সম্পূর্ণরূপে আমরা ফিরে পেয়েছি সমস্ত মালপত্র আমাদের এই প্রাসাদের একটি কক্ষে রক্ষিত আছে হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালামের আরো কয়েকজন পুরাতন খাদেম এসে তার বন্ধু-বান্ধব ও উন্নয়নের আগমন খোঁজখবর নেওয়ার কথা নবীকে জানালেন নবী সকল খবর শুনে পুনরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এবাদতে মশগুল হয়ে পড়লেন হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবীকে এসে বললেন হে আল্লাহর নবী আপনি রোগাগ্রস্ত অবস্থায় রহিমার চুল কাটার ঘটনা শুনে ক্রোধান্বিত হয়ে
কসম খেয়েছিলেন যে তাকে 100 বেত্রাঘাত করবেন সেক্ষেত্রে আপনি যে ঘটনার জন্য কসম খেয়েছিলেন তা মিথ্যা বলে পরিণত হয়েছে বটে কিন্তু আপনার সত্যের কসম বাতিল হয়নি অতএব আপনি 100 গমের শীষ একত্রিত করে বিবি রহিমার শরীরে মৃদু স্পর্শ করুন তাতে আপনার কসমের স্বার্থ পূর্ণ হয়ে যাবে এবং হযরত রহিমা আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন কষ্ট হবে না জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরামর্শ অনুসারে তখন হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম 100 গমের শীষ একত্রিত করে বিবি রহিমার শরীরে একবার মৃদু আঘাত করলেন এতে নবীর কসমও পূর্ণ হয়ে গেল এবং বিবি রহিমারও কোন কষ্ট হলো না প্রিয় দর্শক শ্রোতা শয়তান হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অসংখ্যবার চ্যালেঞ্জ
করেছিল কিন্তু হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তিনি কোনভাবেই বিভ্রান্ত করে পথভ্রষ্ট করতে পারেনি আমরাও যদি হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের মত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পথে ধৈর্য ধারণ করতে পারি তাহলে শয়তান কখনোই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না প্রিয় দর্শক দর্শক এই ছিল আমাদের আজকের ভিডিও ভিডিওটি কেমন লাগলো একটি লাইক দিয়ে কমেন্ট করে জানাবেন এবং পরবর্তী ভিডিও পেতে আমাদের চ্যানেলটি অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করবেন আপনারা সকলেই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ