আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আল্লাহর অশেষ রহমতে আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম ছিলেন বনী ইসরাইল সম্প্রদায়ের একজন নবী ও রাসূল মহান আল্লাহতালা তার উপর জবুর কিতাব নাযিল করেছিলেন আল্লাহ তাকে অনেক অলৌকিক ক্ষমতা দান করেন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম খুব সাহসী ও নির্ভিক ছিলেন তিনি বীরত্বের জন্য সবার শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত হন এবং তার দরবার সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল আল্লাহতালা নির্দেশক্রমে হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম নিয়মিত রাজকার্য পরিচালনা আরম্ভ করলেন এবং বিচারের ক্ষেত্রে জটিল বিষয়ে নিজেই ফয়সালা করতেন একদা হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের রাজদরবারে দুই বিবাদকারী এসে হাজির হলো একজন
বলল হুজুর এ লোকটির ছাগলের পাল এসে আমার ক্ষেতের সমস্ত ফসল খেয়ে ফেলেছে এখন আমার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দিন ফলে হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তার কর্মচারীর দ্বারা ছাগল ও ফসলের মূল্য নির্ধারণ করলেন তাতে দেখা গেল ফসলের দাম ছাগলের দামের চেয়ে অধিক এসেছে তখন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম খেতওয়ালাকে ছাগল গুলো দিয়ে বললেন তোমার ফসলের বিনিময়ে এই ছাগল গুলোকে নিয়ে যাও আজ থেকে এগুলো তোমার হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের রায় শুনে উভয়পক্ষ রাজ দরবার থেকে বিদায় নিল ছাগলওয়ালার রায় শুনে কাঁদতে কাঁদতে দরবার থেকে বের হয়ে গেল দরজায় হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের সাত বছরের পুত্র শাহজাদা সুলাইমান আলাইহিস সালাম এর
সাথে তার সাক্ষাৎ হলো শাহজাদা সুলাইমান আলাইহিস সালামের একটি লোককে কাঁদে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন হে বুড়ো তুমি কাঁদছো কেন লোকটি বলল শাহজাদা সে কথা বলে আর লাভ নেই শাহ খলিফা আমাদের একটি মামলার রায় দিয়েছেন যে রায়ে আমি রাস্তার ফকির হয়ে গেছি তাই কোন উপায় না দেখে আল্লাহর দরবারে কাঁদছি শাহ হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন তোমার মামলার বিষয়টি কি ছিল আমাকে বলো ছাগলওয়ালা বলল আমার একপাল ছাগল আমার প্রতিবেশীর ক্ষেতে ঢুকে তার ফসল খেয়ে ফেলেছে খলিফা এজন্য আমার সব ছাগল তাকে দিয়ে দিয়েছেন এখন আমার অবস্থা খুবই বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ আমার আর কোন আয় রোজগারের ব্যবস্থা নেই
ছাগলের দুধ বিক্রয় করে আমার জীবিকা নির্বাহ হতো শাহ হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম পিতার রায় শুনে ছাগলওয়ালাকে বললেন তুমি পুনরায় খলিফার দরবারে গিয়ে বলো হুজুর আমার মামলার বিষয়টা আর একটু ভেবে চিনতে রায় দিলে বেঁচে যেতাম না হয় আমার পরিবারে বেঁচে থাকার কোন উপায় থাকবে না লোকটি শাহজাদের পরামর্শ অনুসারে খলিফা দরবারে পৌঁছে অনুরূপ আরজ করল খলিফা তখন তাকে জিজ্ঞেস করল তোমাকে একথা কে শিখিয়ে দিয়েছে লোকটি বলল শাহজাদা সুলেমান আলাইহিস সাল্লাম তখন খলিফা শাহজাদাকে দরবারে ডেকে পাঠালো সুলাইমান আলাইহিস সালাম পিতার নিকট আসলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তুমি ছাগলওয়ালাকে পুনরায় বিচারের জন্য আমার নিকট প্রেরণ করেছো সুলাইমান উত্তর দিলেন হ্যাঁ
পাঠিয়েছি হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তখন বললেন তুমি কি মনে করো আমার বিচার ন্যায় সংগত হয়নি সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন ন্যায়সঙ্গত হয়েছে বটে তবে সূক্ষ হয়নি তখন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম সুলাইমান আলাইহিস সালাম কে বললেন আচ্ছা বিচারটি যদি তোমার মত করে করতে তাহলে কিভাবে করতে সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন যদি আপনি আদেশ দেন তাহলে আমি বলতে পারি হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তখন বললেন হ্যাঁ আমি তোমাকে আদেশ দিলাম তখন সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন আমার বিবেচনা অনুসারে বিচারটি এমন হলে ভালো হতো ছাগলওয়ালা আপাতত ছাগলগুলোকে ক্ষেতওয়ালাকে দিয়ে দেবে সে ওহাদ দুধ পান করবে এবং ছাগলওয়ালা ক্ষেতওয়ালার ক্ষেতে পানি দিবে যখন
ক্ষেত পূর্ণের ন্যায় তর তাজা হবে সেদিন ক্ষেতলা ছাগল গুলোকে ছাগলের মালিককে দিয়ে দিবে হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম সুলাইমান আলাইহিস সালামের রায় শুনে বললেন তোমার রায়টা উত্তম অতএব এটাই কার্যকর করা হবে হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম সুলাইমান আলাইহিস সালামের বিচক্ষণতা দেখে তখনই মনে করেছিল যে আল্লাহতালা তাকে একদিন শ্রেষ্ঠ মর্যাদাবান করে প্রতিষ্ঠিত করবেন আর একদিনের ঘটনা হযরত সুলাইমানের উপস্থিতিতে এক বৃদ্ধা এসে হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের নিকট নালিশ করল এবং বলল হে আল্লাহর খলিফা আমি আমার বাসায় অভুক্ত ছেলেমেয়ে ও মেহমান রেখে আমি কিছু আটা আনতে যাই যা দিয়ে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করব আমি সে আটা নিয়ে আসার পরে হঠাৎ
বাতাস এসে আমার আটাগুলো উড়িয়ে নিয়ে যাই তাই আমি এখন খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত কারণ খালি হাতে বাসায় গিয়ে মেহমান ও ছেলেমেয়েদের সম্মুখে কি দেব আমার বাসায় অন্য কোন খাবার নেই অতএব আপনি বাতাসের বিচার করুন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম বৃদ্ধার অভিযোগ শুনে খুবই সমস্যায় পতিত হলেন তিনি তখন বৃদ্ধাকে বললেন বৃদ্ধা মা আমি বাতাসের বিচার কিভাবে করব বাতাস আমার অধীন নয় তাই তাকে হাজির করা সম্ভব নয় তার চাইতে আমি আমার নিজের টাকা থেকে পাশের আটা দিচ্ছি তুমি এটা দ্বারা রুটি করে মেহমানদের আপ্যায়ন করো বৃদ্ধা একথায় রাজি হলে হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তাকে পাশের আটা দিয়ে বিদায় করলেন বৃদ্ধা খলিফা
দরবার থেকে বিদায় নিয়ে যখন সম্মুখের দরজায় গিয়ে পৌঁছালো তখন শাহ হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের সাথে তার সাক্ষাৎ হলো হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম বৃদ্ধা মহিলাকে দেখে বললেন কি হয়েছে বৃদ্ধা খলিফার দরবারে ভিক্ষা নিতে এসেছিলে বুঝি বৃদ্ধা বলল না বাবা আমি আসছিলাম বাতাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার উদ্দেশ্যে কিন্তু খলিফা আমার অভিযোগ গ্রহণ করলেন না তিনি আমাকে কিছু আটা দিয়ে বিদায় করলেন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তখন ঘটনার বিবরণ জানতে চাইলেন বৃদ্ধা তাকে তখন সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলল তখন হযরত সুলাইমান বললেন তুমি পুনরায় খলিফার নিকট চলে যাও এবং বলো যে খলিফা আমি আপনার নিকট এসেছি বিচারপ্রার্থী হয়ে ভিক্ষা নিতে
আসিনি অতএব আমি এ আটা নিব না আপনি আমার অভিযোগের বিচার করুন তাই বৃদ্ধা শাহজাদার কথা অনুসারে খলিফার নিকট গিয়ে নতুন করে তার অভিযোগ পেশ করল খলিফা তখন খুবই মুশকিলে পড়লেন তিনি বৃদ্ধা মহিলাকে দশম মণ আটা দিয়ে রাজি করলেন বৃদ্ধা যখন আটার বস্তা বহনকারীদেরকে নিয়ে যখন পূর্বের স্থানে পৌঁছালো তখন শাহাজা সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন কি হে বৃদ্ধা তোমার অভিযোগের বিচার পেয়েছো নাকি ভিক্ষা নিয়ে বাড়ি যাচ্ছো তখন বৃদ্ধা খলিফার ব্যবহারের কথা বলল তখন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন তুমি আরো অনেক কিছু পাবে এজন্য তুমি পুনরায় খলিফার নিকট গিয়ে বাতাসের বিচার প্রার্থী হও ভিক্ষা নিয়ে বিদায়
হইও না বৃথা দেখলো খলিফার নিকট গেলে তার সম্পদ বৃদ্ধি পায় অতএব শাহজাদার ন্যায় এক বিরাট ব্যক্তিত্বের কথায় সে আবার যাবে তার ভয়ের কোন কারণ নেই খলিফা রাক্ষ করলে সে সাহায্যতার কথা বলবে তাই এ সমস্ত চিন্তা করে সে খলিফার নিকট গিয়ে বলল হুজুর অভিযোগের বিচার না করে আমাকে ভিক্ষা বাড়িয়ে দিলেন এতে কিয়ামতের দিন আপনি ন্যায়বিচারক বলে দাবি করতে পারবেন আমি সেদিন কিন্তু বলব খলিফা আমার অভিযোগের বিচার করেন নাই খলিফা বৃদ্ধার কথা শুনে বললেন তোমাকে এ সমস্ত কে শিখিয়ে দিয়েছে বৃদ্ধা বলল শাহজাদা সুলাইমান আলাইহিস সালাম আমাকে সবকিছু বলে দিয়েছে তখন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম শাহজাদাকে দরবারে ডাকলেন
সুলাইমান আলাইহিস সালাম পিতার নিকটে এসে সালাম দিলেন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম বললেন তুমি বারবার বৃদ্ধাকে আমার নিকট প্রেরণ করে আমাকে হয়রানি করে তুলছো কেন বাতাস কি আমার অধীন যে আমি তাকে এনে বৃদ্ধার সম্মুখে বিচার করব এটা একটা অসম্ভব ব্যাপার অতএব এ বিষয়ে বৃদ্ধাকে তুমি পুনঃপুনো কেন প্রেরণ করেছো পিতার কথা শুনে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন হে আল্লাহর খলিফা আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করলে বাতাস অবশ্যই আপনার নিকট এসে হাজির হবে তখন আপনি তার জবান বন্দি শুনে ন্যায়বি বিচার করবেন না হয় আপনি ন্যায়বিচারের গাফিলতি করছেন বলে কেয়ামতের দিন ভীষণ বিপদের সম্মুখীন হবেন আপনার দোয়ার পরে যদি আল্লাহ
বাতাসকে আপনার দরবারে হাজির না করে দেন তখন আপনার আর কৈফত দেবার মতো কথা থাকবে না কিন্তু বাতাসকে হাজির করার দোয়া না করে আপনি বৃদ্ধাকে বিদায় করতে পারেন না বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করে হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম সুলাইমানকে বললেন হ্যাঁ তোমার কথা যুক্তিসংগত অতএব চলো আমরা বাপ বেটা মিলে আল্লাহর দরবারে বাতাসকে হাজির করার দোয়া করি এই বলে দুইজন নবী আল্লাহর দরবারে হাত তুললেন দুইজন উঁচু পর্যায়ের নবীর দোয়া আল্লাহতালা বেকার করে দিতে পারেন না তিনি বাতাসকে একটি আকৃতি করে হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের দরবারে হাজির করে দিলেন ফলে বাতাস নবী দয়কে সালাম করে তাদের সম্মুখে দন্ডায়মান হয়ে রইল হযরত
দাউদ আলাইহিস সালাম তখন বাতাসকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি এ বৃদ্ধার আটা কেন উড়িয়ে নিয়েছো বাতাস উত্তর দিল হে আল্লাহর খলিফা বৃদ্ধা যখন আটা নিয়ে বাসায় ফিরছিল তখন গভীর সমুদ্রে একটি জাহাজের তলদেশ ছিদ্র হয়ে যাত্রীরা ও বহু মূল্যবান দ্রব্যাদি তলিয়ে যাচ্ছিল এসময় যাত্রীরা নিয়ত করে যদি তাদের জাহাজ এ বিপদ থেকে রক্ষা পায় তাহলে তারা জাহাজের সকল মালামাল গরীব দুঃখীকে দান করবে এ সমস্ত যাত্রীর মধ্যে অনেক নেককার লোক ছিলেন যাদের দোয়া কবুল করে জাহাজ উদ্ধারের নিমিত্ত আমাকে নির্দেশ প্রদান করেন আমি তখন বৃদ্ধার আটা উড়িয়ে নিয়ে সে জাহাজের তলদেশের ছিদ্র বন্ধ করে দেই ফলে জাহাজ ও যাত্রীরা মৃত্যুর বিপদ
থেকে রক্ষা পায় হযরত জিজ্ঞেস করলেন জাহাজটি এখন কোথায় তখন বাতাস বলল জাহাজটি এইমাত্র শহরের প্রান্তে সমুদ্রতীরে নঙ্গর করেছে তখন তিনি বললেন তুমি তাহলে যেতে পারো আমি জাহাজের খবর নিচ্ছি হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম সমুদ্রতীরে লোক প্রেরণ করে জাহাজের যাত্রী এবং নাবিকদের ডাকলেন কিছু সময়ের মধ্যে তারা এসে খলিফার দরবারে এসে পৌঁছালো তখন তিনি বললেন তোমরা জাহাজের সমুদয় মালামাল গরীব দখিদের মধ্যে বিতরণের অঙ্গীকার করেছো সে মর্মে এ বৃদ্ধাকে সমস্ত মালামালের অর্ধেক দিবে আর বাকি অর্ধেক গরীব দুঃখীদের মধ্যে বিতরণ করবে জাহাজের নাবিক ও যাত্রীরা খলিফার কথা শিরধার্য করে নিল বৃদ্ধাকে তাদের সঙ্গে নিয়ে গেল এবং জাহাজের সমুদয় মাল খালাস
করে সুষ্ঠ বন্টন করে অর্ধেক বৃদ্ধাকে দিয়েছিল বাকি অর্ধেক গরীব দুঃখীকে দান করল দীর্ঘদিন পরে একদা হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম বৃদ্ধার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন এসময় তিনি দেখতে পেলেন যে বাড়ির কোন চিহ্ন নেই সেখানে বিরাট বিরাট অট্টালিকা আর চতুর্দিকে ফুল বাগান সম্মুখে দারোয়ান চত্তরে ঘোড়ার গাড়ি তখন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম সেখানে লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন এখানে এক বৃদ্ধার বাড়ি ছিল সে বৃদ্ধা এখন কোথায় লোকেরা তার কথার উত্তরে বলল হুজুর এ প্রাসাদ অট্টালিকা সে বৃদ্ধা মহিলা সে নাকি বাতাসের বিরুদ্ধে আপনার কাছে অভিযোগ করে অনেক ধন সম্পদের মালিক হয়েছে এখন তার সাক্ষাৎ লাভ করা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর হযরত দাউদ
আলাইহিস সালাম তখন বৃদ্ধাকে খবর দিতে বললেন বৃদ্ধা খলিফার কথা শুনে তড়িৎ তার সম্মুখে হাজির হলো খলিফা বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করলেন বৃদ্ধা তুমি এমন কি কাজ করেছো যে আল্লাহতালা তোমার এ বিপুল ধন সম্পদের মালিক করেছেন বৃদ্ধা বলল হুজুর আমি তেমন বিশেষ কোন নেক কাজ করেছি বলে আমার মনে পড়ে না তবে একদিন এক ভিক্ষুক আমার বাসায় এসে বলল মা আমি তিন দিনের উপবাসী আমাকে কিছু খেতে দাও ক্ষুধায় আমার জান বেরিয়ে যাচ্ছে তখন আমি ঘরে গিয়ে দেখলাম ঘরে সামান্য এক টুকরা রুটি ছাড়া ঘরে আর কিছু নেই তখন আমি রুটির টুকরা এনে ভিক্ষুককে খেতে দিলাম ভিক্ষুক তখন রুটি টুকরা খেয়ে
বলল এতে আমার ক্ষুধার জ্বালা আদৌ মিটেনি অতএব আমাকে আর কিছু খেতে দাও তখন আমি তাকে বললাম বাবা আমার ঘরে আর কিছু নেই তবে কিছু সময় অপেক্ষা করুন আমি আটা এনে তোমাকে রুটি করে দেই একথা বলে আমি রুটি আনতে গিয়ে বাতাসের সম্মুখীন হই এবং আটা সম্পূর্ণ উড়িয়ে নেই তখন আমি আপনার দরবারে গিয়ে বাতাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করি আপনি ও শাহজাদা সুলাইমান আলাইহিস সালাম দোয়া করে বাতাসকে হাজির করে ডুবন্ত জাহাজের যে অর্ধেক সম্পদ আমাকে প্রদান করেছিলেন ওহা ছিল আমার উন্নতির প্রধান কারণ উক্ত সম্পদের অধিকারী হওয়ার পরে আমার ছেলেরা বিদেশের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করে তাতে আল্লাহ আমাকে অনেক বরকত
দিয়েছে আমি অনেক অর্থসম্পদের মালিক হয়েছি গোটা শহরে আমার চেয়ে অধিক সম্পদশালী কেউ আছে বলে আমার জানা নেই হুজুর আপনি আমাকে এখন সম্পদশালী করে দিয়েছেন এবার পরকালের মুক্তির ব্যবস্থা করে দিন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম বললেন তুমি যে সম্পদ পেয়েছো তোমার আটার বদলে পেয়েছো বাকি ভিক্ষুকের আপ্যায়নের প্রতিফল আল্লাহতালা তোমাকে পরকালে দান করবেন সুবহানাল্লাহ প্রিয় দর্শক এই ছিল আমাদের আজকের এই ঘটনা কেমন লাগলো কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন আজ তাহলে এই পর্যন্তই আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ