আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি বন্ধুরা আজকের এই ভিডিওতে আমরা বলব যে হযরত নূহ আলাইহিস সালামের ইন্তেকালের দিন সকালে কি ঘটেছিল সেই সম্পর্কে একটি বিস্ময়কর ঘটনা যা শুনে আপনার মন ছুঁয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ তাই ভিডিওটি একবারে শেষ পর্যন্ত দেখবেন হযরত নূহ আলাইহিস সালামের কওমের লোকেদের মধ্যে এক হতভাগা বদমাশ বৃদ্ধ লোক ছিল যার নাম ছিল কিসরা একদিন সে তার ছেলেকে ডেকে বলল শোনো ব্যাটা কখনো নূহ আলাইহিস সালামের কথায় কান দিবে না এবং তাকে যেখানে দেখতে পাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে তাকে যেভাবেই হোক কষ্ট দেওয়ার কেননা সে আমাদের বাপ-দাতাদের ধর্ম
সম্পর্কে মন্দ কথা বলে এবং আমাদের দেবতাদের সম্পর্কে বাজে কথা বলে ছেলেকে এ নসিহত করার পর সে বৃদ্ধ লোকটি ছেলেকে সাথে করে সন্ধানে বের হলো প্রতিমধ্যে হযরত নূহ আলাইহিস সালামের সাথে দেখা হলো সে তার ছেলেকে কে বলল ব্যাটা এ হচ্ছে সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে আমি তোমাকে সাবধান করেছিলাম এ লোক একজন জাদুকর মিথ্যুক এর কথায় কখনো নিজের বাপ দাদা ধর্ম ত্যাগ করবে না নিজের বাপ দাদাদের ধর্ম ছেড়ে দিবে না এই হতভাগা ছেলে তার বাবার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে তার বাবার হাত থেকে লাঠি নিয়ে হযরত নূহ আলাইহিস সালামের মাথায় আঘাত করল ফলে হযরত নূহ আলাইহিস সালামের মাথা ফেটে
রক্ত বের হতে লাগলো হযরত নূহ আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন হে আমার রব রব আমি আমার কওমের লোকদেরকে দিন-রাত হেদায়েতের পথে আহ্বান করেছি কিন্তু এরা সবসময় তাওহীদ থেকে পালিয়ে বেরিয়েছে অতঃপর তিনি বললেন হে আল্লাহ যদি তুমি এদের প্রতি রহম করতে চাও তাহলে এদেরকে হেদায়েতের রাস্তা দেখাও আর নয়তো আমার ধৈর্য বাড়িয়ে দাও কেননা আমার ধৈর্য এবং সহন ক্ষমতা শেষ হয়ে গিয়েছে এদের মন্দ ব্যবহার সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে হায় যদি আমি এটা জানতে পারতাম যে এই কহমের মধ্যে কে হেদায়েত লাভ করবে তখন আল্লাহতালার পক্ষ হতে নূহ আলাইহিস সালামের নিকট ওহী পাঠানো হলো তোমার কর্মের লোকেদের
মধ্যে আর কেউ ঈমান আনবে না যারা ঈমান আনার ছিল তারা ইতিমধ্যেই ঈমান এনে ফেলেছে নতুন করে আর কেউ ঈমান আনবে না অতঃপর আল্লাহ তাআলা বললেন হে নূহ এখন আর হেদায়েত পাওয়ার মতো কোন পিতার ওরশে কেউ নেই এবং কোন মায়ের গর্ভেও আর কেউ অবশিষ্ট নেই একথা শোনার পর হযরত নূহ আলাইহিস সালাম বললেন হে আমার রব আপনি এই জমিনে একজন কাফেরকেও আর অবশিষ্ট রাখবেন না আল্লাহতালা হযরত নূহ আলাইহিস সালামের দোয়া কবুল করলেন তার কওমের লোকেদের উপর আল্লাহর পক্ষ হতে আজাবের ফয়সালা হয়ে গেল বিখ্যাত মুফাসসির হাফেজ ইবনে কাসীর রহমতুল্লাহি আলাই লিখেছেন হযরত নূহ আলাইহিস সালামের জন্ম হযরত আদম
আলাইহিস সালামের মৃত্যুর 126 বছর পর হয়েছিল হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে আল্লাহতালা ওই সমস্ত জড়িলুল কদর নবীদের মধ্যে গণনা করা হয়েছে যাদের উল্লেখ কোরআনুল কারীমের রয়েছে নবীদের মধ্যে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম সবচেয়ে দীর্ঘ হায়াত লাভ করেছিলেন কিন্তু তা সত্ত্বেও হযরত নূহ আলাইহিস সালামের একটি দাঁতও পড়েনি এমনকি তার মাথার একটি চুলও সাদা হয়নি তার ইবাদতের উদাহরণ এমন ছিল যে সারাদিন রাত ইসলামের দাওয়াত এবং অন্যান্য কাজকর্মে ব্যস্ত থাকার পরেও তিনি দৈনিক 1000 রাকাত নামাজ আদায় করতেন এবং তিনি সর্বপ্রথম নবী ছিলেন যার বদদোয়ার কারণে তার পুরো উম্মতকে আল্লাহতালা ধ্বংস করে দেন তার কওমের লোকেরা তার উপর অনেক জুলুম নির্যাতন
করা সত্ত্বেও তিনি কখনো তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেননি এমনকি তিনি প্রত্যেকটি লোকের ঘরে ঘরে গিয়ে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাতেন যার কারণে লোকেরা তাকে পাগল মনে করতো মহাপ্লাবনের আজাব আসার পূর্বে তার কওম হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে নানাভাবে কষ্ট দিতে লাগলো কওমের লোকেরা তাকে এমন পরিমাণ মারধর করতো যে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম বেহুশ হয়ে যেতেন এরপর কওমের লোকেরা তাকে কম্বলে পেঁচিয়ে তার ঘরে ফেলে রেখে যেত আর ভাবতো হয়তো তিনি মারা যাবেন অনেক সময় তাকে বেহুশ অবস্থায় কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘরে ফেলে রেখে তার উপরে পাথর চাপা দিয়ে রাখা হতো রাত্রিবেলায় হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এসে সেই পাথর সরিয়ে দিত
এবং হযরত নূহ আলাইহিস সালাম কে সেখান থেকে বের করে আনতো তখন হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম নিজের ডানা দিয়ে হযরত নূহ আলাইহিস সালামের ক্ষতস্থান বুলিয়ে দিত এরপরে তার সমস্ত আঘাত এবং ক্ষতস্থান ভালো হয়ে যেত পরের দিন সকালে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম পুনরায় তার কওমের লোকদেরকে গোমরাহী থেকে হেদায়েতের পথে আনার জন্য তাদেরকে দাওয়াত দিতেন তারিখ আত তাওয়ারিতে উল্লেখ রয়েছে হযরত আব্দুল্লাহ আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে মহাপ্লাবনের পর হযরত নূহ আলাইহিস সালাম আরো প্রায় 350 বছর জীবিত ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন হযরত নূহ আলাইহিস সালামের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলো তখন তিনি একটি
পাহাড়ের উপর চড়েছিলেন সে সময় মালাকুল মউত অর্থাৎ মৃত্যুর ফেরেশতা তার কাছে আসলো মৃত্যুর ফেরেশতা হযরত নূহ আলাইহিস সালামের পেছনে পেছনে পাহাড়ের উপরে উঠলেন যখন হযরত নূহ আলাইহিস সালাম মৃত্যুর ফেরেশতার মুখোমুখি হলেন তখন মালাকুল মউত তাকে বলল হে আল্লাহর নবী আপনার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম মালাকুল মউতকে মৃত্যুর যন্ত্রণা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন তখন মালাকুল মউত অত্যন্ত জোরালো একটি চিৎকার দিয়ে উঠলো সে চিৎকারের আওয়াজ শুনে জঙ্গলের সমস্ত জীবজন্তু এক জায়গায় জড়ো হতে লাগলো এরপর হযরত নূহ আলাইহিস সালাম মালাকুল মউতকে জিজ্ঞাসা করলেন আমাকে কিছুটা সময় দাও যাতে আমি আমার পরিবারের লোকেদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে
আসতে পারি তখন মালাকুল মউত হযরত নূহ আলাইহিস সালাম কে বলল আমার বিলম্ব করার কোন অনুমতি নেই আমি আপনাকে কিছু সময় অবকাশ দিব সেই সুযোগ নেই তখন হযরত নূহ আলাইহিস সালাম বললেন এ জঙ্গলে আমার জানাজার নামাজ কে আদায় করবে তখন মালাকুল মউত বলল হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম ফেরেশতাদের একটি জামাত নিয়ে রওনা দিয়েছেন তিনি আপনার জানাজার নামাজ আদায় করার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন হযরত নূহ আলাইহিস সালাম এ সংবাদ শুনে সন্তুষ্ট মনে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন ইতিমধ্যেই হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম ফেরেশতাদের জামাতসহ উপস্থিত হয়ে গেলেন তিনি হযরত নূহ আলাইহিস সালাম কে বললেন হে নবীদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ হায়াত
প্রাপ্ত নবী এই দুনিয়ার জীবন সম্পর্কে মন্তব্য কি হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উত্তরে বললেন এই দুনিয়ার উদাহরণ সেই বাড়ির মত যার মধ্যে দুইটি দরজা রয়েছে এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে অন্য দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে হবে অতঃপর মৃত্যুর ফেরেশতা মালাকুল মউত হযরত নূহ আলাইহিস সালামের রুহ মোবারক কবজ করলেন ফেরেশতাদের জামাত হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে গোসল করালেন তাকে কাফন পড়িয়ে সেখানে তার জানাজার নামাজ আদায় করা হলো বলা হয়ে থাকে যে আসমানের সমস্ত মাখলুকেরা অন্য কোন মানুষের মৃত্যুতে এত বেশি কাঁদেনি যতটা হযরত নূহ আলাইহিস সালামের মৃত্যুতে কেঁদেছিল আল্লাহতালার কাছে দোয়া করি আল্লাহতালা হযরত নূহ আলাইহিস সালামের কবরে কোটি কোটি
রহমত এবং শান্তি বর্ষিত করুন আমিন