আমাদের প্রতিটা মানুষের মধ্যেই লোভ-লালসা কমবেশি সবার মধ্যেই থাকে তবে যখন এই গুনাগুন গুলো অত্যাধিক মাত্রায় বেড়ে যায় তখন তা আমাদের দিয়ে এমন কিছু কাজ করিয়ে ফেলে যা মুহূর্তের মধ্যেই আমাদের জীবনকে নষ্ট করে দিতে পারে আজকের মুভিটি ঠিক এই বিষয়ক আমি নিজে যখন মুভিটি দেখতে শুরু করি প্রথম দিকে মনে হচ্ছিল এটি তেমন কিছু ভালো হবে না কিন্তু মুভির শেষে এমন একটি টুইস্ট রিভিল হবে যা আপনার পুরো চিন্তা ভাবনাই উল্টে দেবে তাই আমি অনুরোধ করবো ধৈর্য ধরে মুভিটি শেষ পর্যন্ত দেখুন তো শুরু করা যাক আজকের মুভির আলোচনা মুভিটির নাম আনাগাগা ও অতিথি তবে একটি অনুরোধ রইল আমার
এই এক্সপ্লেনেশন যদি ভালো লাগে তাহলে দয়া করে একটি কমেন্ট করবেন এতে আমি আরো মোটিভেশন পাবো এই কথাগুলো বলেই মুভির বিশ্লেষণ শুরু করছি মুভির শুরুতেই একটি কীর্তনের সভা দেখা যায় যেখানে একজন ধর্মগুরু বিভিন্ন জ্ঞানের কথা বলছিলেন অনেক মানুষ মন দিয়ে তার কথা শুনছিলেন কিন্তু এক যুবতী মেয়ে তার নাম মাল্লিকা যাকে সবাই ভালোবেসে মালি বলে ডাকে তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তার কীর্তনে বিন্দুমাত্র মনোযোগ নেই মালির মা তাকে সতর্ক করে বলেন এইভাবে বসে আছিস কেন মালি গলায় বিরক্ত এনে বলে খেয়ে দেয়ার কোন কাজে নেই এর জ্ঞান শুনবো চরিত্রহীন একটা লোক ধর্মের জ্ঞান দিচ্ছে নিজের চোখ তো সবসময় মেয়েদের
উপরেই থাকে আর সে কিনা অন্যদের জ্ঞান দিচ্ছে তার মা তাকে বকাবকি করে বলেন তুই এমন বাজে কথা কিভাবে বলতে পারিস মাল্লি হেসে উত্তর দেয় আমার জন্মগত গুণ এটা তুমি পারবে না এখান থেকে বোঝা যাচ্ছিল মালি খুবই সোজা সাপটা মেয়ে সে যা মনে করে তাই মুখের উপর বলে দেয় কীর্তন শেষ করে মালি ও তার মা বাড়ির পথে রওয়ানা হয় তাদের বাড়ি বেশ দূরে আর যেতে হয় নির্জন রাস্তা ধরে মালির মা বলে তাড়াতাড়ি কর তোর বাবা বাড়িতে অপেক্ষা করছে মালি ক্ষুব্ধ স্বরে উত্তর দেয় বাবা যদি আমাকে নিয়ে এতই চিন্তা করতো তাহলে এতদিনে আমি দুতিনটা বাচ্চার মা হয়ে
যেতাম তুমি তো কখনো আমার বয়সে ছিলে তুমি তুমি কি আমার কষ্ট বুঝতে পারো কেমন মা তুমি এখান থেকে বোঝা যায় মালি ও তার পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ তারা অত্যন্ত গরীব তার বাবা একজন মাতাল মালির বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও তার এখনো বিয়ে হয়নি মালির জীবন এবং তার আশেপাশের ঘটনা থেকে স্পষ্ট এই গল্প এক দারুণ টুইস্টের দিকে এগিয়ে চলেছে তার মা চুপ হয়ে যায় বাড়ি ফিরে তারা ঘুমাতে যাচ্ছিল এমন সময় একটি গাড়ি করে কয়েকজন লোক সেখানে আসে তারা জানায় তাদের মেয়ের প্রসব বেদনা শুরু হয়েছে তাই তারা মালির মাকে ডেকেছে সাহায্যের জন্য মালির মা তৎক্ষণাৎ পানি গরম করতে
যায় মেয়েটি ব্যথায় চিৎকার করলে বাইরে থেকে মালির বাবা যিনি সেদিনও মদ্যপান অবস্থায় ছিল সে ভুলভাল কথা বকতে থাকে সে মাটিতেই শুয়ে থাকে কিছুক্ষণ পর মেয়েটির একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয় উপস্থিতি সবাই আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে পড়ে এবং পূর্ণামাও অর্থাৎ মালির মাকে ধন্যবাদ জানায় আসলে পূর্ণামা আশেপাশের গ্রামে প্রসব করানোর দায়িত্ব সামলাতেন আগের যুগের এ ধরনের মহিলাদের দাইমা বলা হয় হতো বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে পূর্ণামা মুগ্ধ হয়ে মাল্লির দিকে তাকিয়ে থাকেন তার মনে হয় কবে তিনি মাল্লির সন্তানকেও এভাবে কোলে তুলে নিতে পারবেন গরীবের সংসার যেখানে সকলে মিলে মাঠে কাজ করে কোন রকম দুবেলা খাবার জোটায় তাদের দিন কাটে তেমনই
এক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে একদিন এক অন্ধ বাঁশিওয়ালা বাঁশি বাজাতে বাজাতে নদীর পাড়ে দিয়ে যাচ্ছিল হঠাৎ তার পা কিছুতে আটকে যায় হাত দিয়ে স্পর্শ করে দেখে সেখানে একটি জোড়া জুতো আর কয়েকটি সুটকেস পড়ে রয়েছে বাঁশিওয়ালা ভাবে কেউ হয়তো তার জিনিসপত্র রেখে নদীতে আত্মহত্যা করেছে এটা ভেবে সে ভয়ে চিৎকার করে লোকজন ডাকতে থাকে ঠিক তখনই এক থলথলে ভুড়িওয়ালা লোক জলের মধ্যে থেকে উঠে আসে লোকটি এসে বলে চিৎকার করছেন কেন কি হয়েছে বাঁশিওয়ালা বলে ও তাহলে তুমি বেঁচে আছো আমি তো ভয়ে অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু তুমি নিজের জিনিসপত্র এখানে রেখে জলের মধ্যে কি করছিলে লোকটি বলে আমি নিঃশ্বাস
বন্ধ করে জলের নিচে থাকার ব্যায়াম করছিলাম বাসি আলো অবাক হয়ে কে জিজ্ঞেস করে তোমাকে তো এখানকার মনে হচ্ছে না কোথা থেকে এসেছো লোকটি উত্তর দেয় আমি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরি নিজের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সম্পদ কামিয়ে নিয়েছি এখন সেই সম্পদ নিয়েই এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছি এই থলথলে ভুড়িওয়ালা লোকটির নাম শ্রীনু শ্রীনু তার জামাকাপড় পড়ে সুটকেস দুটি হাতে নেয় এবং হাঁটতে শুরু করে পথের মধ্যে একটি মন্দির দেখতে পেয়ে সেখানে পুজো দেয় সেদিন সকালে মল্লিদের বাড়িতে এক সাধু বাবা আসে তিনি বলে আমি ভবিষ্যৎ বলতে পারি যদি নিজের ভবিষ্যৎ জানতে চাও তবে আমার কাছে এসো মালির বাবা-মা তখন তুলচড়াচ্ছিলেন পূর্ণামা
বিরক্ত হয়ে বলে আমাদের কাছে তোমার কথা শোনার মতো কোন সময় নেই এখান থেকে চলে যাও সাধু হেসে বলে আমি দেখতে পাচ্ছি তোমাদের উপর মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ বর্ষণ হতে চলেছে মালির বাবা বিদ্রুপ করে বলে তাই নাকি আমাদের ঘরে গিয়ে খুঁজে দেখো যদি একটাও টাকা পাও তবে আমি তোমাকে পাঁচ টাকা দেব আর যদি না পাও তবে তুমি আমাকে দু টাকা দিও যাও যাও বড় কথা শুনতে চাই না সাধু বলে আমি তো স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি মা লক্ষ্মী নিজে হেঁটে তোমাদের বাড়ি আসছেন এখন সেটা তোমাদের হাতে তোমরা সেটা ধরে রাখতে পারো নাকি হারিয়ে ফেলো ঠিক তখনই মালি এসে উত্তেজিত
গলায় বলে এখান থেকে যাবি না তোকে এখানেই পুঁতে ফেলবো যা যা ফালতু কথা বকছে সাধু রেগে গিয়ে তাদের বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায় আর অন্যদিকে শ্রীনু মালিদের বাড়িতে ঢোকে শ্রীনু বাড়িতে গিয়ে পূর্ণিমার কাছে একটু পানি চায় পূর্ণামা তাকে ভেতরে আসতে বলেন পানি খাওয়া হয়ে গেলে পূর্ণামা শ্রীনুর কাছে জানতে চায় সে কোথা থেকে এসেছে শ্রীনু হেসে বলে আমি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াই সেই সব জায়গার পরিবেশ আর অনুভূতি নিয়ে বই লিখি আমি কার্টুনও বানাই মালির বাবা অবাক হয়ে প্রশ্ন করে কার্টুন আবার কি জিনিস শ্রীনু ব্যাখ্যা করে কার্টুন মানে হচ্ছে ব্যঙ্গচিত্র মজার ছলে সমাজের নানা বিষয় তুলে ধরা হয়
এরপর শ্রীনু তার ব্যাগ থেকে প্রসাদ বের করে পূর্ণিমার হাতে দেয় শ্রেণু ব্যাখ্যা করে পূর্ণিমা প্রথমে নিতে চান না কিন্তু শ্রীনু জোড়াজোরি করলে তিনি তা নেন পুরো সময়টা মালি নীরবে দাঁড়িয়ে সবকিছু লক্ষ্য করছিল এরপর শ্রীনু বলে মাঝি আমার শরীর চেয়ে একটু ভালো নেই আর আশেপাশের গ্রামে পৌঁছাতে রাত হয়ে যাবে তাই যদি আজকের রাতের জন্য এখানে থাকতে দেন তবে খুব ভালো হয় মালির বাবা সন্দেহভাজন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ও মানে এই ব্যাপার দুটো ভালো কথা বলেই এখানে থাকতে চাচ্ছ তাইতো তুমি বেশ চালাক তাই না শ্রীনু তৎক্ষণাৎ বলে না না আমার কোন খারাপ উদ্দেশ্য নেই শুধু আশ্রয়ের প্রয়োজন পূর্ণামা
বলেন তুমি তো দেখতেই পাচ্ছ আমরা কত গরীব তাছাড়া তুমি হাঁটতে শুরু করলে এখনো শহরে পৌঁছে যেতে পারবে সেখানে ভালোভাবে থাকতে পারবে শ্রীনু বিনয়ের সঙ্গে বলে আমি তো বিভিন্ন জায়গায় ঘুরি আমার বেশি কিছু দরকার নেই শুধু একটু খাবার আর আমার থাকার জায়গা হলেই চলবে যা আপনারা খান আমিও তাই খাবো আর রাতে এই বারান্দায় শুয়ে পড়বো আমার জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা করতে হবে না তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে চুপ থাকে শ্রীনু অবশেষে বলেন আমি বুঝতে পারছি আপনারা হয়তো ভাবছেন বাড়িতে একটি যুবতী মেয়ে আছে তাই অচেনা কাউকে থাকতে দিলে লোকে নানান কথা বলবে মালের বাবা গভীর স্বরে বলে
আমাদের বাড়ির আশেপাশে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোন বাড়ি নেই কেউ মরে গেলেও লোকে জানতেও পারবে না ভয়ের কিছু নেই তবে তুমি অচেনা ব্যক্তি তোমাকে বিশ্বাস করতে একটু কষ্ট হচ্ছে প্রণামা মাল্লির দিকে তাকালে মাল্লি বলে আমি কিছু জানিনা তোমাদের যা ভালো মনে হয় তাই করো অবশেষে তারা শ্রীনুকে থাকার অনুমতি দেয় শ্রীনু ঘরে প্রবেশ করে তবে তার জুতো বাইরেই রেখে আসে জুতোর বিষয়ে পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটবে কিছুক্ষণ পর ফ্রিনু মালির বাবাকে দেখে তিনি গুটে তৈরি করছেন ফ্রিও জানতে চায় আপনি এ কাজ কেন করছেন মালির বাবা উত্তর দেয় না করলে রাতে চাও জুটবে না তুমি কি চা খাও ফ্রিনু
হেসে বলে হ্যাঁ খাই তখন মালির বাবা পূর্ণামাকে বলেন ওকে এক কাপ চা দাও মালি তৎক্ষণাৎ বলে যা পাবো তাই চলবে বলছিলে আর এখন দেখো নীলজ্যের মত চা চাইছে পূর্ণামা সংকোচনের সঙ্গে বলেন বাড়িতে চাপাতা নেই আমরা তো গরীব এই কথা শুনে শ্রীনু কিছু টাকায় এগিয়ে দিয়ে বলে চাপাতা আনতে এই টাকাটা রাখুন মালির বাবা প্রথমে নিতে চান না কিন্তু পরে বাধ্য হয়ে নেন মালি তখন বলে বাবা বেঁচে যাওয়া টাকা থেকে আমার জন্য কিছু খাবার আনবে কথাটা শুনে শ্রীনু মৃদু হেসে ফেলে মালি রেগে বলল এভাবে হাসছো কেন তোমার চায়ের জন্য দুধ আমি দোয়াবো মালি গরুর দুধ দোয়াছিল তখন
শ্রীনু তাকে দেখে বলে তোমার নাম কি মাল্লি মালি হেসে উত্তর দেয় আমার নাম মাল্লিকা মা-বাবা ভালোবেসে আমাকে মালি বলেই ডাকে শ্রীনু আশেপাশে তাকিয়ে জিনিসপত্র দেখতে থাকে একটি ছোট সাইকেল দেখে সে সেটি পরীক্ষা করতে শুরু করে একসময় শ্রীনু কিছু ব্যায়াম করছিল মল্লিকা তাকে দেখে মুচকি হাসে ধীরে ধীরে সে শ্রীনুকে কিছুটা পছন্দ করতে শুরু করে চা বানানোর সময় মল্লিকার মন বারবার শ্রীনুর কথায় আটকে যাচ্ছিল চা তৈরি হলে সে শ্রীনুকে দেয় শ্রীনু চা খেয়ে বলে খুব ভালো হয়েছে মল্লিকা এক দৃষ্টিতে শ্রীনুর চা খাওয়া দেখতে থাকে এমন সময় তাদের বাড়িতে বীরান্না নামের এক লোক আসে সে এসে মালের বাবাকে
অপমান করে কারণ তিনি ফসলে পানি দিতে ভুলে গিয়েছেন বীরান্না রেগে গিয়ে বলে টাকা ধার নেওয়ার সময় কিছু মনে ছিল না আর এখন শোধের সময় আসলেই ভুলে যাচ্ছ এরকম যদি চলতে থাকে তবে তোমার চামড়া তুলে নেব আমি পূর্ণিমা শান্ত গলায় বলে এই ফসলের চিন্তা তোমার থেকে আমাদের অনেক বেশি নেহাত বিপদে পড়েছিলাম না হলে কখনোই তোমার কাছে জমি বন্ধক রাখতাম না কথা বলতে বলতেই বীরান্না হঠাৎ মল্লিকাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় মালি রাগে ফেটে পড়ে এসে তার কুকুরকে উদ্দেশ্য করে বলে থু কুকুর কোথাকার চুপচাপ দুধ খা নিজের মুখ আয়নায় দেখেছিস কুকুরের থেকেও জঘন্য বসে বসে খেতে দিচ্ছি বলে
সেটার সুযোগ নিচ্ছিস কেটে পুঁতে ফেলবো তোকে মালি এই কথাগুলো ইনডাইরেক্টলি বীরান্নাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছিল আর বীরান্না সেটা ভালোভাবেই বুঝতে পারে মালি ঠান্ডা গলায় বলে বীরান্না সাহেব আমি নিজের বাবাকে জমিতে পাঠাবো চিন্তা করার কিছু নেই আপনি এখন যেতে পারেন বিরিয়ানার আগে গজগজ করতে করতে চলে যায় এরপর পূর্ণিমা আর মালি মিলে ধান বাড়াচ্ছিল ঠিক তখন ফ্রেনু এসে জিজ্ঞেস করে লোকটি কে ছিল মালির বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে একসময় আমরা অনেক বড় লোক ছিলাম এই বাড়িয়ার পাশের নয় একর জমি আমারই ছিল কিন্তু একটা কঠিন অসুখের পেছনে সব টাকা খরচ হয়ে যায় তারপর একে একে সব জমি বিক্রি করতে হয়
এমনকি বাড়িটাও বন্ধক রাখতে হয় এখন আমি নিজের জমিতেই নিজেই মজুরি খাট এই কথা শুনে শ্রীনু ভেতর থেকে তার সুটকেস নিয়ে আসে পূর্ণমাকে জিজ্ঞেস করে আপনাদের ঠিক কত টাকা ঋণ আছে পূর্ণমা একটু লজ্জাবোধ করে শ্রীনু বলে বলুন না লজ্জা পাবেন না মালির বাবা কণ্ঠস্বর নরম করে বলে 25 হাজার টাকা ঋণ আর 35 হাজার টাকা সুদ তখন শ্রীনু তার সুটকেস খুলে সবাইকে দেখায় সুটকেস ভর্তি সোনা গয়না আর টাকা দেখে তাদের চোখ প্রায় কপালে উঠে যায় তারা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিল না মাল্লি বিস্মিত হয়ে বলে হ্যাঁ আমরা গরীব কিন্তু তোমার কাছে ভিক্ষা চাইনি ফ্রিনু শান্ত স্বরে বলে ছি
ছি এমনটা বলবেন না আমি একজন অনাথ ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্টে এই সম্পদ অর্জন করেছি আপনাদের মত সম্মানীয় মানুষদের সামনে এই বিষয়গুলো আমি শুধুমাত্র উদাহরণ দিতে চেয়েছি সম্পদ আজ আমার কাছে আছে কাল অন্য কারো কাছে থাকবে মানুষ যদি ইচ্ছে করে তবে পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের জোরে সবকিছু করতে পারে আপনারা তিনজন মিলে একবার ভাবুন কতটা অর্জন করতে পারবেন আমি যদি একা পারি তবে আপনারা অবশ্যই পারবেন আমি ভুল কিছু বললে আমাকে ক্ষমা করবেন পূর্ণিমা চোখের কোণে জল এনে বলে তুমি কেন ক্ষমা চাইছো আর এগুলো তো তুমি কত কষ্ট করে অর্জন করেছো ঠিক তখনই একটি টিকটিকি মালের গায়ে পড়ে সঙ্গে
সঙ্গে সেটি লাফিয়ে শ্রীনুর গায়েও পড়ে পূর্ণামা আতঙ্কিত হয়ে বলে এটা তো অশুভ লক্ষণ টিকটিকি গায়ে পড়া অশুভ হয় যাও তোমরা গিয়ে স্নান করে নাও শ্রীনুরু সুটকেস নিয়ে ঘরে চলে যায় মালি স্নান করতে করতে শ্রীনুর কথাই ভাবছিল তার মনে বারবার সুটকেসের গয়না আর টাকাগুলোর ঘুরপাক খাচ্ছিল সে কল্পনা করতে থাকে গয়নাগুলো পড়লে তাকে কেমন লাগবে আর শ্রীনুর পাশে কেমন মানাবে ঠিক তখন তার মা তাকে ডাকলে সে চমক ভেঙে উঠে দাঁড়ায় পূর্ণামা বলে আমি আর তোমার বাবা খেতে যাচ্ছি আর খেয়াল রাখিস এই বলে তারা চলে যায় রিনু গোসল সেরে বারান্দায় মাথা মুছিল মালি এসে মুচকি হেসে বলে টিকটিকি
পড়বে জানলে পানি গরম করে রাখতাম কি জানি তোমার আবার ঠান্ডা পানিতে স্নান করার অভ্যাস আছে কিনা শ্রীনু হেসে বলে আমি তো বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াই সব জায়গায় কি আর গরম পানি মেলে নদীনালা পুকুর ঝর্ণা যাই পাই সেখানে স্নান করে নেই এটাই আমার অভ্যাস মালিক প্রশ্ন করে তুমি এসব অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস করো শ্রীনু গভীর হয়ে বলে হ্যাঁ করি প্রাচীন পন্ডিতদের কথার পিছনে সবসময় কোনো না কোন কারণ থাকে আর মাঝে এমন ভাবে বললেন আমি না করতে পারলাম না মালি মুচকি হেসে বলে বাইরে থেকে কঠোর মনে হলেও তোমার মনটা বেশ নরম শ্রেণু হেসে বলে বলে তুমি ও তোমার
কথাগুলো বেশ তীঘ্ন কিন্তু তোমাকে দেখলে আমার মা লক্ষ্মীর কথা মনে পড়ে মালি মজা করে বলে মা লক্ষ্মীকে দেখেছো পা থেকে মাথা পর্যন্ত সোনায় মোড়ে থাকেন তিনি আর আমাকে দেখো শ্রীনু হেসে বলে তাহলে শুধু সোনার অভাব সোনা তো আমার কাছেই আছে চাইলে এখনোই দিতে পারি মাল্লি লজ্জা পেয়ে বলে না না আমি চাই না এই বলে সে চলে যায় কিন্তু যেতে যেতে আবার ফিরে এসে বলে তুমি যদি একবার দাও তবে পড়ে দেখতে পারি শ্রীনু বলে পড়তে দেবো শ্রীনু মুচকি হেসে সুটকেস থেকে গয়না বের করে দেয় গয়নাগুলো দেখে মল্লি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় কিছু একটা ভেবে সে আচমকা
চিৎকার করে ওঠে শ্রীনু উদ্বিগ্ন হয়ে বলে কি হয়েছে মাল্লি ধীরে ধীরে বলে কাটা ফুটেছে খুব যন্ত্রণা হচ্ছে শ্রীনু জিজ্ঞাসা করে কোথায় তখন মাল্লি ধীরে ধীরে তার শাড়ি তুলে শ্রীনুকে ফিরিস করার চেষ্টা করে এই দৃশ্য দেখে শ্রীনু প্রচন্ড রেগে গিয়ে বলে তুমি কি করছো এটা কি তোমার উচিত মালি লজ্জায় মাথা নিচু করে মালি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলে আমি আবার কি করলাম ফ্রি রাগে গজগজ করতে করতে বলে তুমি কি করেছো তা আমি শুরু থেকেই লক্ষ্য করেছি তোমার আচরণ খুব অদ্ভুত মালি গাল ফুলিয়ে জবাব দেয় তাহলে তুমি বলতেই চাইছো আমি খারাপ মেয়ে আমি একটু গয়না দেখতে
চেয়েছি আর তাতেই তুমি আমাকে ভুলভাল বিচার করছো তোমার কাছে গয়না চাইলেই আমি খারাপ মেয়ে হয়ে গেলাম আমার পায়ে কাঁটা ফুটেছে সেটা দেখানোর জন্যই শাড়ি একটু তুলেছিলাম আর তুমি সেটা অন্যভাবে নিলে হ্যাঁ আমার এখনো বিয়ে হয়নি কিন্তু তবুও কখনো আমার মনে খারাপ চিন্তা আসেনি কথা শেষ করেই মাল্লি রাগে ফুসতে ফুসতে বেরিয়ে যায় সন্ধ্যা নেমে আসে ফ্রি কিছুক্ষণ পরে মালির কাছে গিয়ে ধীর গলায় বলে মালি আমি ব্যবহারটা একটু বেশি খারাপ করে ফেলেছি আমি সত্যি তোমার কাছে দুঃখিত মালি ভ্রুকুচকে জবাব দেয় ঠিক আছে অন্তত এটা তো বুঝলাম যে তুমি ভালো মানুষ কিছুক্ষণ পর পূর্ণামা আর সুবাইয়া বাড়িতে ফেরে
পূর্ণামা শ্রীনুকে জিজ্ঞেস করে আজ মসলা ভাত বানাচ্ছি তুমি খাবে তো শ্রীনু হাসিমুখে বলে মাঝি আপনি যা দেবেন তাই খাবো তবে আমার খুব চিকেন কারি খেতে ইচ্ছে করছে বানাবেন কি সুমাইয়া একটু হতাশ গলায় বলে আমরা গরীব মানুষ চিকেন কারি বানানোর মতো সামর্থ্য আমাদের নেই চিকেন কারি বানাতে কত টাকা লাগতে পারে সুমাইয়া অবাক হয়ে বলে 20 টাকা লাগবে শ্রীনু খিলখিলিয়ে হেসে 200 টাকায় এগিয়ে দিয়ে বলে এতে সবকিছু কিনে আনুন আর বাকি টাকা দিয়ে যা ইচ্ছা কিনবেন পূর্ণিমা প্রথমে একটু রেগে উঠে বলে অতিথির কাছ থেকে টাকা নেওয়া ভালো নয় শ্রীনু হাত জোর করে বলে মাসি আমাকে ছোট করবেন
না আমার খুব চিকেন কারি খেতে ইচ্ছে করছে অবশেষে পূর্ণিমা রাজি হয় সুবাইয়া বাজারে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়ে শ্রীনু তখন জানতে চায় বাথরুমটা কোথায় সুবাইয়া ইশারা করে বলে বাড়ির পেছনে পুকুর আছে ওখানে চলে যাও শ্রীনু পেছনে যায় এদিকে মাল্লি বসে গফির চিন্তায় ডুবে থাকে হঠাৎ সে তার মাকে বলে মা কেউ যদি তোমার কাছে 20 টাকা চায় তুমি কি তাকে 200 টাকা দেবে পূর্ণামা একটু অবাক হয়ে বলে আমি কি পাগল নাকি মালি রহস্যময় বলে তাহলে ভাবো স্নেহ কেন দিল আমার মনে হয় এসব টাকা ওর উপার্জন করা নয় নিশ্চয়ই কোথা থেকে চুরি করেছে নিজের কষ্টে উপার্জন করা হলে
কেউ এভাবে টাকা খরচ করতে পারে পূর্ণমা একটু বিরক্ত গলায় বলে এসব ভাবনা মাথা থেকে সরাও কিন্তু মালির মাথায় একটু দুষ্টু পরিকল্পনা আসে সে বলে ও বেঁচে থাকলে টাকাগুলো ওর কাছেই থাকবে আর যদি মরে যায় তাহলে টাকাগুলো আমাদের হয়ে যাবে এত সোনাগনা আমাদের কপালে এসেছে আর আমরা এমন করে হারিয়ে যেতে দেব পূর্ণামা আটকে উঠে বলে এমন কথা মুখেও আনবি না মালি থমকে বলে চুপ করো তুমি তো বুড়ো হয়ে গেছো কিন্তু আমার জীবন তো এখনো পড়ে আছে আমার অনেক স্বপ্ন আছে আর যেসব স্বপ্ন পূরণ করার একটাই উপায় সেটা হলো শ্রেণুর মৃত্যু পূর্ণামা বারবার মাল্লিকে বারণ করতে থাকে
কিন্তু মাল্লি স্থির কন্ঠে বলে আমার কথা না শুনলে আমাকে একটাই উপায় নিতে হবে বিরানার কাছে নিজেকে সপি দিয়ে তোমাদের ঋণ শোধ করতে হবে বলো কোনটা ভালো পূর্ণামা স্তব্ধ হয়ে যায় মালি যোগ করে মনে এই সাধুর কথা মা লক্ষ্মী নিজে আমাদের বাড়িতে এসেছে এভাবে যেতে দেওয়া পাপ অবশেষে সুমাইয়া ও পূর্ণামা আনতে হলেও রাজি হয় সুমাইয়া বলে তুই মেয়ে হিসেবে যাক করার কর আমি ছেলের মতো যা পারি করব এদিকে রান্নাঘরে এসে শ্রীনু বলে মাসি আপনি কি হত্যার ব্যাপারে কিছু ভাবেন হত্যার কথা শুনে মা মেয়ে দুজনেই চমকে ওঠে তারা ভাবে শ্রীনু হয়তো সবকিছু বুঝে গেছে কিন্তু শ্রীনী নির্লুপ্ত
গলায় বলে মুরগি হত্যা করাটা কি ঠিক মালি হাসতে হাসতে বলে এক প্রাণী আরেক প্রাণীকে খেয়ে বেঁচে থাকে এটা প্রাকৃতিক নিয়ম এতই যখন ভাবো তাহলে চিকেন কারি খেতে চেয়েছিলে কেন ফ্রেনু একটু হেসে বলে না না আসলে মনে প্রশ্ন জাগলো তাই বললাম এদিকে মালির বাবা বাজারে গিয়ে রঙিন পানিতে ডুবে যায় দোকানদার ও তার ছেলে তাকে বারবার প্রলুব্ধ করে তাকে লাল পানি আরো পান করতে সুবাইয়া তাদের কথায় এসে গ্লাসের পর গ্লাস পান করতে থাকেন তখন মনোযোগ দিয়ে ডায়রিতে কিছু একটা লিখছিল মাঝে মাঝে মাথা তুলে প্রশ্ন করছিল রান্নার কতক্ষণে হবে এদিকে পূর্ণামা আর মাল্লি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিল এবং
মালির বাবা বাড়ি ফিরবে কিনা সেই অপেক্ষায় ছিল মাল্লি একটু বিরক্ত হয়ে বলে আমি তো জানতাম ওই মাতাল বাবা আজ কিছু একটা গোলমাল করবেই ওর কাছে আজ এত টাকা ছিল সারারাত নেশা করে নিশ্চয়ই কোন গর্তে পড়ে থাকবে আর যা করার আমাদেরই করতে হবে তারা দুজন তখন বসে চিন্তা করতে থাকে শ্রেণুকে কিভাবে মেরে ফেলা যায় পূর্ণামা একটু অস্বস্তি নিয়ে বলে কারো রক্তের হাত ভেজানো কি ঠিক হবে মালি রেগে গিয়ে বলে তুমি কি বলতে চাইছো এত বড় সুযোগটা হাতছাড়া করব লক্ষী এসে দরজায় দাঁড়িয়ে আছে আর আমরা তাকে বিদায় করে দেব পূর্ণাম্মা নিরপায় গলায় বলে তা নয় তবে রক্তপাতের
দরকার নেই আমরা ওকে বিষ দিয়ে কাজটা করতে পারি এরপর পূর্ণাম্মা জঙ্গল থেকে বিষাক্ত পাতাগুলো নিয়ে আসে পাতা বেটে সেই মিশ্রণ খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেয় রান্না শেষে খাবার বেড়ে শ্রীনুকে খেতে দেয় শ্রীনু খাবার জন্য হাত বাড়াতে গেলে পূর্ণামা বলে তোমার হাতে তো নোংরা আগে তা ধুয়ে শ্রীনু হাসিমুখে উঠে হাত ধুতে যায় কিন্তু মাল্লি রেগে ফিসফিসিয়ে বলে আর যাকে মারবো তার প্রতি এত দরদ দেখানোর মানে কি তাদের কথার মধ্যেই হঠাৎ বাড়িতে পুলিশ এসে উপস্থিত হয় পুলিশদের দেখে পূর্ণমা আর মাল্লি ভয়ে কাজ হয়ে যায় পূর্ণমা শ্রীনুকে বাড়ির পেছনে অপেক্ষা করতে বলে পূর্ণমা সতর্ক গলায় বলে যতক্ষণ না ডাকছি
ততক্ষণ তুমি এখানে এসো না শ্রীনু একটু মজা করে বলে মনে হচ্ছে আজ চিকেনকারি আর আমার কপালে জুটবে না পুলিশ তখন জানায় শক্তি সাহেবের বাড়িতে বড় চুরি হয়েছে খবর পেয়েছি চোর এদিকেই এসেছে আপনারা কি কাউকে দেখেছেন পূর্ণমা দ্রুত বলে না না কই এখানে তেমন কাউকে তো দেখিনি পুলিশ ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নিচ্ছিল কিন্তু তখনই চিকেন কারির ঘ্রাণ পেয়ে তারা খাওয়ার জন্য অনুরোধ জানায় পূর্ণিমা প্রথমে একটু দ্বিধায় পড়ে যায় কিন্তু উপায় না দেখে তাদের ভেতরে নিয়ে গিয়ে খাবার পরিবেশন করে একজন পুলিশ শ্রেণীর জন্য রাখা থালা থেকে খেতে যাচ্ছিল পূর্ণামা থালাটা তারা কেড়ে নেয় কারণ সেটাতে বিষ মেশানো
ছিল তাড়াহুড়া করতে গিয়ে থালাটা হাত ফসকে মাটিতে পড়ে যায় পূর্ণিমা তখন অন্য থালায় খাবার বেড়ে পুলিশকে দেয় পুলিশরা খাওয়া শুরু করে কিন্তু তখনই মালির কুকুরটা এসে পড়ে মাটিতে পড়ে থাকা খাবার খেতে শুরু করে মাল্লিয়ে কুকুরকে তাড়াতে গেলে পুলিশ বলে তাড়াচ্ছ কেন এমনিতেই তো খাবারটা নষ্ট হয়ে গেছে কুকুরটাকে খেতে দাও কুকুরটি পড়ে থাকা সব খাবার খেয়ে ফেলে কিছুক্ষণ পরে পুলিশটা খাওয়া শেষ করে চলে যায় কিন্তু যাওয়ার সময় বারান্দায় কুকুরটিকে শুয়ে থাকতে দেখে একজন পুলিশ বলে এমন ভাবে ঘুমাচ্ছে যেন সে মারা গিয়েছে পূর্ণমা আর মালি ভয়ে কাঁপতে থাকে পুলিশ চলে যাওয়ার পর মালি দ্রুত কুকুরটিকে দেখে সে
বুঝতে পারে কুকুরটি বিষাক্ত খেয়ে মারা গিয়েছে মালি চুপি চুপি কুকুরটিকে তুলে নিয়ে বাড়ির পেছনে গিয়ে মাটিতে কবর দিয়ে আসে এরপর পূর্ণামা শ্রীনুকে খাবার বেড়ে দেয় শ্রীনু খুব আনন্দের সঙ্গে খাবার খেতে থাকে খাওয়া শেষে সে হাত ধুতে যায় হাতে ধুয়ে ফিরে এলে পূর্ণামা ও সুবাইয়াকে প্রমাণ করে আপনাদের রান্না অসাধারণ হয়েছে অনেক ধন্যবাদ এখন আমি ঘুমাতে যাচ্ছি শ্রীনু ঘুমিয়ে গেলে মালি তার মাকে সন্দেহজনক গলায় বলে তুমি কি ওর খাবারে বিষ দাওনি পূর্ণামা চুপ করে থাকে আসলে নিজের হাতে কাউকে বিষ খাওয়ানোর সাহস তার হয়নি বুক কেঁপে উঠেছিল অবশেষে সে ফিসফিসিয়ে বলে আজ যাই হোক না কেন আমি আর
কিছু করতে পারবো না মালি রেগে বলে তুমি যাই বলো আমি ওকে মারবই এদিকে মালির বাবা তখনও দোকানে বসে মদ্যপান করছিলেন দোকানে কর্মচারী তাকে দেখে বলে আপনি আর খাবেন না এখন আপনার বাড়ি যাওয়া উচিত মালির বাবা অবাক হয়ে বলেন কেন কর্মচারী একটু চিন্তা করে কথা বলে আপনাদের বাড়িতে না একটা ছেলে এসেছে আপনি জানেন না মালির বাবা আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করে তুই এটা জানলি কি করে কর্মচারী তখন বলতে শুরু করে আমরা দেখেছি শ্রীনু আপনাদের বাড়ি যাওয়ার আগে এই দোকানে এসে দাঁড়িয়েছিল সে দোকানের মালিককে সামনে দেখে বলে চাচাজি আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন আমি সুবাইয়ার ছেলে কৃষ্ণা দোকানদার
অবাক হয়ে বলে তুমি সুবাইয়ার ছেলে যে বহু বছর আগে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলে শ্রেণী একটু লজ্জার সঙ্গে মাথা নিচু করে বলে হ্যাঁ চাচাজি আমি সেই ছেলে দোকানদার গভীর শ্বাস ফেলে বলে তোমার মা আজও রোজ তোমার জন্য কাঁদে তোমার বাবা তো প্রতিদিন এখানে এসে রঙিন পানি খায় তোমার বোনের এখনো বিয়ে হয়নি তবে তুমি ফিরে এসেছো এটা ভেবে ভালো লাগছে এখন সব ঠিক হয়ে যাবে রেনু একটু মৃদু হেসে বলে চাচা আপনি দয়া করে বাবাকে বলবেন না যে আমি এসেছি আমি দেখতেই চাই তারা আমাকে চিনতে পারে কিনা এই কথাটা শুনে দোকানদারের মন একটু ভারী হয়ে যায় আর অন্যদিকে
মালির বাবা যিনি তখন দোকানেই ছিলেন পুরো কথাটি শুনে স্তব্ধ হয়ে যান তার মনে আকাশ ভেঙে পড়ার মত অবস্থা হয়ে যায় কারণ তিনি নিজেই তার ছেলেকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছেন অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ঢলতে ঢলতে তিনি বাড়ির দিকে রওনা হন কিন্তু তার শরীর এতটাই ভারী হয়ে গিয়েছিল যে ঠিকমত হাঁটতেও পারছিল না এদিকে একটি ধারালো চাকু হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে শ্রীনুর কাছে গিয়ে বসে সে নিজের নীরব ক্রোধকে সংযত রেখে শ্রীনুকে মুখ চেপে ধরে একটানে তার গলাও কেটে ফেলে পূর্ণামা চিৎকার করে ওঠে চারপাশে যেন মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় সে সময় পাশ দিয়ে একজন বাঁশিওয়ালা যাচ্ছিল চিৎকার শুনে সে থেমে
যায় এবং পূর্ণাম্মাকে ডাকতে থাকে কিন্তু বাড়ির ভেতর থেকে কোন রকম সাড়া না পেয়ে সে চলে যেতে উদ্যত হয় ঠিক সেই সময় তার পা স্লিনের পড়ে থাকা জুতোর সঙ্গে থেকে যায় জুতোটার দিকে তাকিয়ে সে অবাক হয়ে যায় এটা তো কৃষ্ণার জুতো সুবাইয়া নিশ্চয়ই রঙিন পানির দোকানে থাকবে ওকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে অন্যদিকে অনেক কষ্টে মালির বাবা বাড়িতে পৌঁছান সেখানে এসে তিনি দেখেন পূর্ণামা একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে বাইরে বসে আছেন তিনি উদ্দিগ্নভাবে জিজ্ঞাসা করেন শ্রীনু কোথায় পূর্ণামা ভেতরের দিকে ইঙ্গিত করেন সুবাইয়া ভেতরে ঢুকে যায় তাতে তার হৃদয় ভেঙে যায় শ্রীনুর মৃতদেহ মেজোতেই পড়ে আছে তিনি ছেলের নিত্য এর কাছে
বসেই হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে থমকে যান বারবার কৃষ্ণ কৃষ্ণা বলে ডাকতে থাকেন এসময় মাল্লি যিনি বাইরে কবর খুরছিল চিৎকার শুনে ভেতরে চলে আসেন সুবাইয়া পূর্ণামাকে মুখে মুখে দোষারোপ করে বলে তুমি তোমার নিজের ছেলেকে নিজেই মেরে ফেলেছো মালির বাবার শরীর ঠান্ডা হয়ে যায় পূর্ণিমার চোখে জল জমে যায় নিজের ছেলেকে মেরে ফেলার কথা শুনে তার মার আত্মা যেন কেঁপে ওঠে মালির মা কান্নায় ভেঙে পড়ে সেই মুহূর্তে একটি ফ্ল্যাশব্যাক দেখা যায় কৃষ্ণার বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার দিনের ঘটনা সেদিন পূর্ণামা মালের চুল কেটে দেওয়ার জন্য কৃষ্ণাকে খুব বকাবকি করছিলেন সেই ভয়ে কৃষ্ণা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল সেই স্মৃতি যেন এখন
জীবন্ত হয়ে ফিরে আসেন সেই ঘটনাটাই একটা ছবির মাধ্যমে নিজেই ডায়রিতে একে রেখেছিল তিনজনেই কান্নায় ভেঙে পড়ে দৃশ্যটা এতটাই হৃদয় বিতরক যে কেউ ভাষায় প্রকাশ করতে পারবে না পূর্ণামা হঠাৎ রান্নাঘরে চলে যায় এবং বিষ মাখানো খাবার নিয়ে আসে বিন্দু দ্বিধা করে না সে খাবার খেতে শুরু করে মালিয়ার বাবা তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা না করে নিজেরাই সেই খাবার খেতে শুরু করে কারণ তাদের ভেতরেও অপরাধবোধ এবং অনুশোচনার আগুন জ্বলতে থাকে সেই দৃশ্যে ধীরে ধীরে বোঝা যায় টাকার লোভ মানুষকে কতটা অন্ধ করে দিতে পারে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষ এমন কিছু করে ফেলে যা থেকে তার নৈতিকতার সম্পর্ক এবং আবেগ
সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে টাকার লোভে অন্ধ হয়ে নিজের মনুষ্যত্ব হারিয়ে তারা নিজের ছেলেকে হত্যা করে আর সেই অপরাধবোধ যন্ত্রণার ভারে তারা নিজেরাই নিজেদের জীবন শেষ করে দেয় মালি ও তার মা শ্রীনুর নিতর দেহকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে অন্যদিকে সুবাইয়া তাদের মৃতদেহের উপর তুলো ঢালতে থাকে কিছুক্ষণ পরেই সেই তুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয় মুহূর্তের মধ্যেই সারা ঘর দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে বাইরে থাকা বাঁশিওয়ালা ঘটনাটি দেখে অবাক হয়ে যায় এবং তৎক্ষণাৎ গ্রামের লোকজনকে ডাকতে ছুটে যায় কিন্তু ততক্ষণ সবকিছুকে কিছু শেষ হয়ে গিয়েছিল আগুনের লেলিহান শেখা পুরো বাড়িটাকে গ্রাস করে ফেলেছে দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনের
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামবাসী নির্বাক হয়ে পড়ে শেষ দৃশ্যে আমাদের সামনে শ্রীনুর লেখা একটি চিঠি পড়ে আমাদের শোনানো হয় সেখানে শ্রীনু লিখেছিল আজকের দিনটা আমি কোনদিন ভুলতে পারবো না আজ 15 বছর পর আমি আমার শিকরে ফিরে এসেছি আমার পরিবারকে আবার কাছে পেয়েছি তাদের দেখেই আমার মন চাইছিল সবাইকে জড়িয়ে ধরি বলতে চাইছিলাম আমি তোমাদের কৃষ্ণা কিন্তু যখনই দেখলাম আমার নিজের বোন মল্লিকা আমার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে আছে আমি থমকে গেলাম শ্রীনুতার লেখায় আরো বলে বীরান্না যখন মা-বাবাকে অপমান করছিল তখন মনে হচ্ছিল সব টাকা তার মুখে ছুড়ে মারি এবং সমস্ত ঋণ শোধ করে দেই কিন্তু কেন যেন সেটা করতে
পারলাম না পরে মনে হলো এই বাড়ি ফিরে আসার জন্য হয়তো আমার এতদিন অপেক্ষা ছিল চিঠিতে আরো একটি হৃদয় বিতরক অংশী শ্রীণীও লিখেছিল আমার যুবতী বোন যখন আমার প্রতি এক অদ্ভুত আকর্ষণ অনুভব করতে শুরু করল তখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সব সত্যি কথা বলে দেব কিন্তু পরে মনে হলো সত্যি জানার পর মল্লিকা নিজের ভাইয়ের প্রতি এই অনুভূতির জন্য নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবে না এই লজ্জা ও অপরাধবোধ তার সারাজীবনকে বিশিয়ে তুলবে তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যেভাবেই হোক যেভাবে অচেনা হয়ে এসেছিলাম সেভাবেই কাল সকালে সমস্ত গহনা ও টাকা-পয়সা রেখে চুপচাপ বাড়ি থেকে চলে যাব শেষে শ্রীনতার প্রার্থনা ব্যক্ত
করে রেখেছিল আমার পরিবার এর জন্য একটাই প্রার্থনা ওরা যেন সুখে থাকে আর আমার বোন মল্লিকা যেন কখনো আমাকে এই দৃষ্টিতে না দেখে এটাই আমার চাওয়া শ্রীনুর চিঠি শেষ হলে দর্শকদের মনে একটি গভীর শূন্যতা নেমে আসে চিঠির প্রতিটি বাক্য যেন হৃদয়ে ঝড় তোলে তারপরে একটি বর্ণনা শোনা যায় মল্লিকা যদি তার লোভ এবং কামনাকে সংযমে রাখতে পারতো তাহলে হয়তো পুরো পরিবারটি সুখেই থাকতে পারতো কিন্তু একটি ভুল সবকিছুকে জ্বালিয়ে দিয়ে গেল তো বন্ধুরা আজকের মুভিটি কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন আর আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না আজকের জন্য এইটুকুই দেখা হবে নেক্সট ভিডিওতে এমন একটি হৃদয় বিতরক
গল্প আমাদের জীবনের সবচেয়ে গাড় বাস্তব গুলোর প্রতিফলন দেখায় লোভ কামনা অপরাধবোধ এবং অনুশোচনার পরিণতি