বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসলীলার একেবারে দ্বারপ্রান্তে কিন্তু মুশকিল হলো নকলের সুযোগ করে বছরের পর বছর পরীক্ষার খাতা দেখার পদ্ধতি শিথিল করে রেখেও সে সময় পাশের হার বাড়ানো যাচ্ছিল না সুতরাং শিক্ষা ব্যবস্থায় এন্ট্রি নিল নতুন এক ট্যাকটিক্স এমসিকিউ একই সাথে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পলিসি বাস্তবায়ন বেসরকারি ইউনিভার্সিটি গাইড বই আর কোচিং ব্যবসার জমজমাট বাণিজ্য অথচ পাশের হার কিন্তু উঠে গেল তুঙ্গে একটা কথা বলি এই ধ্বংসলীলা না একেবারে সাজানো গোছানো প্রিপ্ল্যানড সরকার শিক্ষানীতি প্রণয়নকারী সংস্থা কোচিং সেন্টার আর গাইড ব্যবসা লোকাল রাজনীতি সবকিছু একটা আরেকটার সাথে যুক্ত যার বলির পাঠা আপনি আমি আমরা 1990 এর দশকে বাংলাদেশের শিক্ষা
ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো চালু হয় এমসিকিউ বা নৈভিত্তিক মনে হতেই পারে তাতে সমস্যাটাই বা কি যারা এই এমসিকিউ পদ্ধতি প্রণয়ন করেছিল তাদের ব্যাখ্যাটা ছিল অনেক জোস মানে শিক্ষা কমিশনের ভাষ্যমতে রচনামূলক প্রশ্নগুলো একটা শিক্ষার্থীর শিক্ষা বা মেধা যাচাইয়ের জন্য যথেষ্ট নয় একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার খাতায় একটা রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর কত পাতা লিখবে কতটুকু লিখবে সেটা যেহেতু আইডেন্টিফাই করা সম্ভব না তাই এ একজন এ এক রকম নাম্বার পাচ্ছে শিক্ষা কমিশন নিজেই বলছে যে পরীক্ষার খাতা যে দেখছে মানে পরীক্ষকের পছন্দ অপছন্দের উপরেও নাম্বার কম বেশি হওয়া স্বাভাবিক এতে করে কোন শিক্ষার্থী এক বা দুই নম্বরের জন্য ডিভিশন বাই স্টার বাই
স্ট্যান্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সুতরাং পরীক্ষা পদ্ধতিতে যদি যদি এমসিকিউ ইন্ট্রোডিউস করা হয় তাহলে এই সমস্ত ঝামেলা থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব পরীক্ষায় 50% রচনামূলক আর 50% এমসিকিউ রাখলে ইনজাস্টিস বা অবিচার হওয়ার মাত্রা অনেক কমে যাবে এমনকি আন্দাজে উত্তর করে নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনাও কমবে এখানে বলা আছে বড় বড় প্রশ্নের উত্তর মুখস্ত করার সম্ভাবনাও কমবে কিন্তু আসলেই কি তাই হলো শুনে মনে হলো না যে বাহ এমসিকিউ পদ্ধতি চালু করলে তো শিক্ষার্থীদের ব্যাপক লাভ হবে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরাট একটা বিপ্লব ঘটবে কিন্তু বাস্তবতা কি তাই বলছে 1990 এর দশকে মানে সে সময় বিশ্বব্যাংক আইএমএফ পরিচালিত স্ট্রাকচারাল এডজাস্টমেন্ট পলিসি লেস এফেয়ার
ইকোনমির মত নানা রকম ভুল বাস্তবায়নে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুরু হয় এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর কাঁচামাল হলো শিক্ষার্থী কিন্তু মুশকিল হলো নকলের সুযোগ করে বছরের পর বছর পরীক্ষার খাতা দেখার পদ্ধতি শিথিল করে রেখেও সে সময় পাশের হার বাড়ানো যাচ্ছিল না আর পাশের হার কম মানে ইন্টারন্যাশনাল গোল ফিলাপ হচ্ছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র পাচ্ছে না ব্যবসায় ধ্বস তা তো আর হতে দেওয়া যায় না সুতরাং শিক্ষা ব্যবস্থা এন্ট্রি নিল নতুন এক ট্যাকটিক্স এমসিকিউ শুরু হলো 500 টি নির্বাচিত প্রশ্নের প্রশ্ন ব্যাংক বাণিজ্য গাইড বইয়ের দোকানের বাইরে পড়ে গেল লাইন একের পর এক শিক্ষার্থে মুখস্ত করতে লাগলো 500 টি
এমসিকিউ ব্যাস রিটেনে ফেইল করেও মুখস্ত করা এমসিকিউতে পাশ একই সাথে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পলিসি বাস্তবায়ন বেসরকারি ইউনিভার্সিটি গাইড বই আর কোচিং ব্যবসার জমজমাট বাণিজ্য কিন্তু শিক্ষা আর শিক্ষার্থী তারা পড়ে থাকলো সেই মুখস্ত নির্দয় বরং রচনামূলক প্রশ্নের কারণে যাও বা শিখতো তাও এখনো পাক অথচ পাশের হার কিন্তু উঠে গেল তুঙ্গে এটা তো গেল শুধুমাত্র একটা উদাহরণ মুক্তিযুদ্ধের পর 1972 সালের শর্ট সিলেবাস 80 দশকে বিজ্ঞান শাখায় লাইব্রেরি ইন্টিগ্রেশন পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিবর্তন প্রাইমারি স্কুলে 80 ভাগ নারী শিক্ষক নিয়োগ জিপিএ পদ্ধতি চালু পিসি জেএসসি চালু সৃজনশীল প্রশ্নের আবির্ভাব স্কুলের ভর্তি পরীক্ষায় লটারি আর কোটার প্রচলন পিএইসি ও জেএসসি আবারো বাতিল
প্রত্যেকটার পেছনে আছে বিরাট রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক খেল তামাশা আর সবশেষ 2021 থেকে যে সমন্বিত একমুখী শিক্ষাক্রম চালু হলো সেটা হলো কফিনের একেবারে শেষ পেরেক আমি যত অনুসন্ধান করেছি যত পড়েছি এই ধ্বংসলীলার পেছনের গল্প আর রাজনীতিকে যতবার খোঁজার চেষ্টা করেছি ততবার অবাক হয়েছি ততবার নিজেকে বিট্রেইড ফিল হয়েছে আর আমাদের আজকের ভিডিও সেটা নিয়েই হাউ দে স্টোল আওয়ার এডুকেশন বাংলাদেশ [প্রশংসা] [প্রশংসা] বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে হর হামেশা অনেকেই কথা বলেন কিন্তু কিভাবে একেবারে ঢেলে সাজিয়ে একটি আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা যায় সেই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই হিমসিম খান কারণটা হলো সরষের ভেতরে যে ভূতটা আছে তার হাত অনেক
লম্বা আমি চাইলেই আজকের ভিডিওটা শুধুমাত্র বর্তমান সময়ের জগা খিচুড়ি পরিস্থিতি দিয়ে শুরু করতে পারতাম কিন্তু আজকের এই জগা খিচুড়ি একদিনে তৈরি হয়নি এর পেছনেও আছে লম্বা এক ঐতিহাসিক পরিক্রমা আর সেই পরিক্রমা আমার বানানো কোন কথা নয় সবকিছু ডকুমেন্টেড সবকিছু একেবারে পাই টু পাই হিসাব করে লেখা এবং সংরক্ষণ করে রাখা কোন কিছু বানানো নয় প্রত্যেকটা ফ্যাক্টস এন্ড ফর দ্যাট থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ রাখাল রাহা ফর দিস আমেজিং বুক যিনি আসলে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বেশ কিছু বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন ব্রিটিশরা এই উপমহাদেশে এসেছিল বাণিজ্য করতে তবে কালের পরিক্রমায় এই উপমহাদেশের সমস্ত ক্ষমতা
বাগিয়ে নেয় তারা বিশাল আর বিচিত্র এই উপমহাদেশকে শাসন করতে নানান রকম নীতিমালার প্রবর্তন করে তারা যার মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী নীতিমালা হলো শিক্ষা মাথায় রাখতে হবে আমাদের বর্তমান যে ক্লাসরুম স্টাইল পড়ানোর যে তরিকা তথা সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার সূত্রপাত কিন্তু হয়েছিল সেই ব্রিটিশ আমলে আর ব্রিটিশরা এই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন কিন্তু আমাদেরকে শিক্ষিত করার জন্য করেনি দেই হ্যাড সাম আদার প্ল্যানস লর্ড বেবিংটন মেকেলের কথা মনে আছে যিনি আমাদের এই উপমহাদেশে শিক্ষানীতির প্রথম স্তম্ভ খাড়া করেছিলেন শিক্ষানীতি কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে মেকেলের বিখ্যাত প্রস্তাবনার নাম মিনিটস অন এডুকেশন যেখানে তিনি নিজেই বলছেন আমাদের এমন একটি শ্রেণী তৈরি করা উচিত
যারা রক্ত ও বর্ণে ভারতীয় কিন্তু চিন্তা ভাবনার রুচি কিংবা বুদ্ধিতে হবে ইংরেজ একটু ভালোভাবে খেয়াল করবেন তার এই কথার পেছনে আসলে তিনটি যুক্তি আছে বা তিনটি উদ্দেশ্য আছে এক ইংরেজি ভাষায় শিক্ষিত কর্মচারী তৈরির মাধ্যমে ব্রিটিশ প্রশাসন পরিচালনা যেন সহজ করা যায় দুই স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্রিটিশ সংস্কৃতি বা ভাবধারার প্রচার প্রসার করা আর তিন ব্রিটিশদের প্রতি আনুগত্যশীল একটি শ্রেণী তৈরি করা যার মধ্য হলো ব্রিটিশরা শিক্ষানীতিটাকেই এমন ভাবে তৈরি করেছিল যেন উপমহাদেশের ছাত্ররা পাশ করে বের হওয়ার সাথে সাথে অফিসের কেরানীর চাকরি পেয়ে যায় অনেকেই সমালোচনা করে বলেন ব্রিটিশ সেই শিক্ষা নীতি ছিল কেরানী উৎপাদন কারখানা আর বড়
বড় সমস্ত চাকরি ছিল ব্রিটিশদের হাতেই সীমাবদ্ধ উপমহাদেশের একটা ছাত্র যত ভালো রেজাল্টই করুক না কেন কেরানীর উপরের কোন পদে চাকরি পাওয়ার সুযোগ তার ছিল না বললেই চলে কারণ শিক্ষানীতিটাই ছিল এমন ভাবে তৈরি করা মানে সে সময় সবচাইতে বড় বড় চাকরিগুলো ছিল ব্রিটিশদের হাতে আর বর্তমান সময় ঠিক এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচাইতে বড় বড় চাকরিগুলো ভারতীয়দের হাতে [মিউজিক] মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমাদের দেশের অনেক ছাত্র যুদ্ধে অংশ নেয় বছরের পর বছর বন্ধ থাকে স্কুল কলেজ আর তারই প্রেক্ষিতে 1972 সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আবির্ভাব ঘটে অটোপাস সিস্টেমের জানেন এই অটোপাস সিস্টেমে তৎকালীন সরকারের কি সাফাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের কারণে
একটানা প্রায় 340 দিন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল ফলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অনেকে মানসিকভাবে ভেঙেও পড়েছিল তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর সকল শিক্ষার্থীকে অটোপাস দেওয়া উচিত আর শুধু অটোপাস না এর সাথেই চালু হলো আরেক নতুন পাশ মেশিন শর্ট সিলেবাস যার পেছনে যুক্তি হলো এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা যেহেতু যথাযথ ক্লাস ও প্রস্তুতি নিতে পারেনি অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন সে কারণে পুরো সিলেবাসে পরীক্ষা নিলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হবে তাই সিলেবাস হাজার থেকে কমিয়ে 300 করা উচিত এবং উচ্চতর গণিত আর বিজ্ঞানের ব্যবহারিক আর মৌখিক পরীক্ষা না নেওয়া উচিত শুনে মনে হচ্ছে না বাহ
শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে সরকারের এত সুন্দর একটা অতুলনীয় পদক্ষেপ সত্যি অতুলনীয় কিন্তু ভালো অর্থে না খারাপ অর্থে দেখেন মুক্তিযুদ্ধ আর তার মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা নিশ্চয়ই একটা জাতির জন্য বিরাট গৌরবময় সাফল্য কিন্তু ঠিক এই সাফল্যের পরেই শিক্ষা ব্যবস্থায় যে কাল রাত্রে শুরু হলো সেটা আসলে কতটুকু ডেঞ্জারাস সেটা কল্পনাতীত প্রথমত অটোপাস স্মৃতি চালুর সাথে সাথে এতকাল ধরে ফেইল করে আসা বিপুল সংখ্যক ছাত্র সেবার পরীক্ষায় নাম লেখালো যার ফলে সার্টিফিকেট পেয়ে গেল সবাই সকল শিক্ষার্থীর মাঝে পড়াশোনা না করেই পরবর্তী শ্রেণীতে ওঠার চাহিদাও তৈরি হলো একইভাবে শর্ট সিলেবাসের কারণে বাড়তে শুরু করল নকলের প্রবণতা কারণ সে সময় শুধু অটোপাস বা
শর্ট সিলেবাসই ইন্ট্রোডিউস করা হয়নি মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগকে মাথায় রেখে পরীক্ষা কেন্দ্রের শিথিলতাও বাড়ানো হয়েছে ফলে শুরু হয়েছে নকলের উপর নকল যা আর কোনদিনই ঠিক করা সম্ভব হয়নি এমনকি কোন কেন্দ্রে নকল হবে কি হবে না তা নিয়েও শুরু হয় বিরাট এক বাণিজ্য দুমড়ে মুছড়ে যায় তামাম শিক্ষা ব্যবস্থা যে কাল রাত্রি থেকে আমরা এখনো বের হতে পারিনি এখনো কিছু হলেই অটোপাস বা শর্ট সিলেবাসের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে ছাত্ররা কিন্তু সেই সময়ের এই গল্পটা ধ্বংসলীলার কেবলমাত্র [মিউজিক] শুরু 1980 থেকে 1990 পর্যন্ত এই সময়টায় দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে কফিনে পোড়ার প্রস্তুতি শুরু হয় আমরা একে একে সেই প্রক্রিয়া রিভিল করবো
কিন্তু তার আগে উই হ্যাভ টু থ্যাঙ্ক আওয়ার টুডেজ স্পন্সর উইজডম এডুকেশন উইজডম এডুকেশন সম্পর্কে আপনাদেরকে একটু বলি আপনার কাজে লাগতে পারে আমি পার্সোনালি কখনো কখনো ভাবি উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যাব কিন্তু গাইডেন্স নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে যাই মানে কোন দেশের কোন ইউনিভার্সিটি ভালো হবে ক্যারিয়ার কেমন হবে স্কলারশিপ কেমন হবে এরকম অনেক কিছু এন্ড ফর দ্যাট উইজডম ক্যান বি গ্রেট হেল্প বলে রাখা ভালো উইজডম এডুকেশন গত এক দশক ধরে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের হায়ার এডুকেশনের জন্য বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি ব্রিটিশ কাউন্সিল পিয়ারসন এবং টোফেলের অফিশিয়াল পার্টনারও বটে পাশাপাশি আইসি ইএফ এআইসি আই এএ এন এফ
এসএ এবং এফ এসিডি সিএবি সার্টিফাইড একটি প্রতিষ্ঠান বলতে পারেন কনসাল্টেন্সি ফার্ম উইজডম এডুকেশন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া কানাডা ইউকে ইউএসএ এবং নিউজিল্যান্ডের মত পাঁচটি ইংরেজি ভাষাভাষী দেশের 300 এরও বেশি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কাজ করছে গত 10 বছরে এই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় 2000 এর বেশি শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছে তারা সঠিক বিশ্ববিদ্যালয় কোর্স নির্বাচন অ্যাপ্লিকেশন প্রসেস স্কলারশিপ ম্যানেজমেন্ট ডকুমেন্ট প্রিপারেশন ভিসা সাবমিশন সহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সকল সাপোর্ট দিয়ে থাকে এছাড়া আইএলস টোফেল এবং পিটিই পরীক্ষা রেজিস্ট্রেশনে শিক্ষার্থীদের সহায়তাও করে ঢাকার একেবারে প্রাণকেন্দ্র বনানী ও ধানমন্ডিতে তাদের অফিস রয়েছে বাকি বিস্তারিত কমেন্ট বক্সে আমরা আপাতত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ফিরি আপনার মাথায়
কি কখনো প্রশ্ন এসেছে বর্তমান সময়ে আমরা জাতিগতভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে কেন এত বেশি পিছিয়ে কেন সাইন্সের সাবজেক্ট গুলো দেখলেই বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর গলা শুকিয়ে আসে কেনই বা টিউশনের উপর টিউশন পড়েও পরীক্ষার হলে ফিজিক্সের অংক ঘাম ছুটে যায় অথবা কি কারণে ঢাকা বা শহরের শিক্ষার্থীদের তুলনায় প্রান্তিক গ্রামের স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা এত বেশি পিছিয়ে ওয়েল এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব যদি আমরা 80 এর দশকে শিক্ষানীতিতে ইন্ট্রোডিউস করা দুইটি বিষয়ের দিকে খুব ভালোভাবে মনোযোগ দেই প্রকৃতপক্ষে সেখানেই লুকিয়ে আছে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর 80 এর দশকে বাংলাদেশের শিক্ষানীতিতে যে দুটি বিষয় ইন্ট্রোডিউস করা হয় তার মাঝে একটা হলো মাধ্যমিক স্তরে ল্যাব নির্ভর
ও অভিজ্ঞতা ভিত্তিক বিজ্ঞান বইয়ের প্রচলন অর্থাৎ তখন থেকেই মাধ্যমিক স্তরের বিজ্ঞান শিক্ষায় এক বিরাট পরিবর্তন আসে সাইন্স ল্যাম্প আর প্র্যাক্টিক্যাল আর এই নতুন শিক্ষানীতির পেছনে শিক্ষা কমিশনের দোহাই হলো বিজ্ঞান হাতে কলমে শিখার বিষয় এই যে শুধু তথ্য মুখস্ত করে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো করলেও প্রকৃতপক্ষে বিজ্ঞানের ব্যবহারিক বিষয়ে অদক্ষ থেকে যায় তাই শিক্ষার্থীরা যদি মাধ্যমিক স্তরের শুরু থেকেই ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞান শিখতে পারে তবে বিজ্ঞান হয়ে উঠবে আনন্দের বিষয়ে সর্বোপরি দেশ এগিয়ে যাবে কিন্তু এই নীতি চালুর পর বাস্তবতা হয়ে গেল ভিন্ন ঢাকা বা বৃহত্তর জেলা শহরগুলোর স্কুল বাদে অন্যান্য স্কুলের ল্যাবের উপকরণ তো দূরে থাক কিছু কিছু
জায়গায় ল্যাবই ছিল না ল্যাব থাকলেও সেখানে তা ব্যবহার করার মতো শিক্ষক বা সুযোগ কোনটাই ছিল না ফলে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের তত্ত্বনির্ভর বই থেকে যাও বা শিখতো সেটারও আর উপায় বাকি থাকলো না আর এর কারণে দুটি বিষয় ঘটলো এক শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানকে পেতে লাগলো ভয় আর দুই জেলা শহর আর প্রান্তিক গ্রামের ছাত্রদের মাঝে শুরু হলো বিশাল এক বৈষম্যের লাইন আমাকে যদি প্রশ্ন করেন আমি আমার ল্যাব ক্লাসগুলো থেকে কি শিখেছি উত্তর হবে নাথিং কিচ্ছু শিখিনি বোর্ড পরীক্ষার আগে প্র্যাক্টিক্যাল খাতা কপি করে জমা দেওয়া আর সময় অপচয় ছাড়া কিচ্ছু হয়নি আপনার ক্ষেত্রে হয়তো একই আমি হল অফ করে বলতে পারি
বেশিরভাগ ছাত্র সাইন্সকে ভয় পায় বা সাইন্সে তাদের অনীহা কাজ করে এটা কোন নতুন প্রবলেম না 1980 এর দশক থেকে চলে আসছে এই প্রবলেম এবং ডাটা বলছে 80 এর দশকে এই বিভীষিকার কারণে 90 সালের পর থেকে সাইন্সের ছাত্রের সংখ্যা নেমে আসে অর্ধেকে বাড়তে থাকে মানবিক আর বাণিজ্য শাখার ছাত্র এমন একটা দেশের বিজ্ঞান চর্চা আসলে কিভাবে উন্নত হবে তবে হ্যাঁ উন্নত এক জায়গায় হয়েছে আর সেটা হলো কোচিং বাণিজ্য সাইন্সের ছাত্ররা যত বেশি সাইন্স ভয় পাচ্ছে সাইন্সকে সহজ করার জন্য তত বেশি গাইড প্রশ্ন ব্যাংকার পরীক্ষায় 100% কমনে নিশ্চয়তা দেওয়া কোচিং সেন্টার গুলো মাথা চারা দিয়ে উঠতে লাগলো স্কুলের
ল্যাব ক্লাসের তাগিদে আসল ক্লাসের যে সময় নষ্ট হচ্ছে সিলেবাস যে কভার হচ্ছে না সেই সিলেবাস গুলো কভার করার তাগিদে শুরু হলো টিউশন ব্যবসা আর কোচিং বাণিজ্য সকাল থেকে সন্ধ্যায় স্কুল থেকে কোচিং কোচিং থেকে অমুক স্যার তমুক স্যার বাসায় আসলে হোম কম্পিউটার যাচ্ছে তাই অবস্থা কিন্তু দিনশেষে মাথার ভেতরে শূন্য এইতো গেল একটা মাত্র পার্ট কিন্তু শিক্ষা কমিশন এখানেই থেমে থাকলো না বৈষম্যকে চূড়ান্ত লেভেলে নিতে চালু করল আরো এক নতুন শিক্ষানীতি 80 এর দশকে শিক্ষকেরা একত্র হয় বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কিন্তু সেই দাবিকেও সলভ করা হয় খুবই টেকনিক্যাল ওয়েতে থানা বা উপজেলার বাইরে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি
দিয়ে দেওয়া হয় কারণ কারণ হলো যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিকূলতার কারণে অনেকেরই বাড়ি থেকে কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসতে ব্যাপক কষ্ট হয় অনেকেই বিলম্বে আসে পরীক্ষা খারাপ করে অনেকে পরীক্ষা দিতেও ব্যর্থ হয় তাই শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে থানা বা উপজেলার বাইরে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিলে শিক্ষার্থীদের উপকার হবে গুড ভেরি গুড খুবই ভালো সিদ্ধান্ত কিন্তু প্রান্তিক অঞ্চলের নতুন কেন্দ্রগুলোতে যে অসাধু উপায় তৈরি হলো কতটুকু নকল হবে বা কতটুকু হবে না সেটা নিয়ে যে একটা দর কষাকশিষে শুরু হলো নতুন এক বাণিজ্য শুরু হলো সেটার দায়ভার্তা তাহলে কার সেই সমস্ত নতুন কেন্দ্রগুলোতে নকলের অবাধ সুবিধা পেয়ে কয়েক গুণ শিক্ষার্থী
ভর্তি হতে লাগলো ঠিকই সেই সমস্ত স্কুলগুলোর আয় রোজগার বাড়লো ঠিকই শিক্ষকদের বেতন ভাতা বাড়ানোর দাবি থামানো গেল ঠিকই কিন্তু শিক্ষার মান উন্নয়নে লাভের লাভ কি এক চুলও হলো প্রান্তিক অঞ্চলে শিক্ষার মান কি আরো বেশি পিছিয়ে পড়লো না যদিও এখনো অনেক হিসাব নিকাশ বাকি [মিউজিক] 90 এর দশকে শিক্ষানীতিতে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয় বেশ কিছু বিষয়ে নতুন করে যুক্ত হয় যার মাঝে আমরা গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় নিয়ে কথা বলব এর প্রথমটাই হলো এমসিকিউ প্রথা চালু যেটা নিয়ে আমরা ভিডিওর শুরুতে একবার আলোচনা করেছি কিভাবে পাশের হার আর গাইড বাণিজ্যকে লেভারেজ করেছে শিক্ষা কমিশন এই এমসিকিউ পদ্ধতির মাধ্যমে সুতরাং
নতুন করে আর বলছি না মুভিং টুয়ার্ডস দি নেক্সট টপিক আমরা দেখতে পাই 90 এর দশকে প্রাইমারি লেভেলে 80% নারী শিক্ষক নিয়োগের বিধান চালু হয় আপাদৃষ্টিতে দেখে মনে হতেই পারে প্রাইমারি লেভেলে ছোট শিশুদের আরো ভালোভাবে বুঝতে আর পড়াতে নারী শিক্ষকের শ্রেয় কিন্তু খেলাটা আসলে অন্য জায়গায় মেইনলি যেটা হয়েছিল বাংলাদেশের মত একটা তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রে নারী শিক্ষা নারীর ক্ষমতায়ন নারীর কর্মসংস্থান বাড়ানো এই বিষয়গুলো বিদেশী শক্তির দান অনুদান আর ঋণ বাড়ানোর পূর্ব শর্ত হিসেবে কাজ করে আর সেইসব প্রাপ্তির শর্ত পূরণে শিক্ষাখাত সবচেয়ে সুবিধাজনক তবে মুশকিলটা হলো 90 এর দশকে শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন নারীর সংখ্যা নেহাতি কম ছিল
তাই নারীকোটা পূরণের জন্য মেয়েদের শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে করা হয় এসএসসি পাশ একই সাথে এমসিকিউ আর শিথিল মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে পাশের হার রাতারাতি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয় আর সেই এসএসসি পাশ নারীদের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকতার দায়ভার দিয়ে দিলে ব্যাপারটা আসলে কেমন দাঁড়ায় প্রাইমারি শিক্ষা খাতের মত বেসিক লেভেলেই শিক্ষার হত্যা অযোগ্য শিক্ষক দিয়ে পাঠদান শিক্ষার একেবারে গোড়ায় গন্ডগোল বলে রাখা ভালো দুর্নীতিয়ে লবিং করে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকতার চাকরি বাগানো তখন যে ছিল না তা কিন্তু না একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে মানে 2000 থেকে 2010 অব্ধি শিক্ষাকে আরেক দফা হত্যা করা হয় কয়েক ধাপে যার মাঝে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় নিয়ে আমাদের
এই চ্যাপ্টারের অনুসন্ধান প্রথমটি হলো ডিভিশন স্টার স্ট্যান্ড এগুলোকে বাদ দিয়ে জিপিএস সিস্টেম চালু যার পেছনে এই নীতি নির্ধারকদের লজিক হলো পুরাতন পদ্ধতিতে দেখা যায় এক নম্বর কম পাওয়ার কারণে কেউ সেকেন্ড ডিভিশন পাচ্ছে কেউ স্ট্যান্ড করতে পারছে না এমনকি ফেলও করছে সুতরাং নম্বরই হয়ে পড়ছে মানের নির্দেশক কিন্তু বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ করে ফলাফল ঘোষণা করলে শিক্ষার্থীরা কোন বিষয়ের নম্বর জানতে পারবে না এতে বৈষম্য যেমন কমবে শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাসও বাড়বে আর এটাই মূল্যায়নের আধুনিক পদ্ধতিও বটে আমার প্রশ্ন হলো কোন বৈষম্যকে তারা কমাতে চায় যেই বৈষম্য এতদিন ধরে রীতিমত প্ল্যান করে তৈরি করা কোন আত্মবিশ্বাসকে
তারা বাড়াবে গাইড বইয়ের এমসিকিউ মুখস্ত করে ফাঁকা মাথা নিয়ে যারা পাশ করে এসেছে তাদের আত্মবিশ্বাস যদি তা নাই হয় তাহলে প্রথমবার জিপিএ পদ্ধতি চালুর পর সারাদেশে মাত্র 20 জন জিপিএ ফাইভ কেন পেল না এসব আসলে কিছুই না খেলাটা এবারও প্রতিবারের মতোই ভিন্ন আর সেটা বুঝতে আমাদেরকে দ্বিতীয় স্টেপের দিকে একটু মনোযোগ দিতে হবে আর সেই দ্বিতীয় স্টেপটা হলো প্রথমবারের মতো পিসি এবং জেএসসি পরীক্ষা চালু এখানেও নীতি নির্ধারকদের সেই একই বৈষম্যের বয়ান অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় তাদের প্রতি এক ধরনের বৈষম্য করা হয় এমনও হতে পারে যে তারা বৃত্তি পাওয়ার উপযুক্ত ছিল এছাড়াও পাবলিক
পরীক্ষাতি কাটাতে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা গুরুত্ব ভূমিকাও রাখতে পারবে কিন্তু বাস্তবতা কি জানেন জাতিসংঘে 2015 সালের মধ্যে সমস্ত শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের যে একটা অঙ্গীকার করা হয়েছিল আর সেই অঙ্গীকার পূরণ করতে পারলেই যে সমস্ত বৈদেশিক দান অনুদান ধার জোগাড় করা সম্ভব ছিল তার তাগিদেই পিসি আর জেএসসি পরীক্ষার চালু এখন পিসি আর জেএসসি পরীক্ষায় হুট করে আগের নিয়মে নাম্বারের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে গেলে তো সমস্যা শতভাগ পাস নিশ্চিত করাও কঠিন তাহলে কি করা যায় জিপিএ চালু হোক শতভাগ পাস হোক সার্টিফিকেট উন্মাদনা তৈরি হোক আর যত বেশি বোর্ড পরীক্ষা তত বেশি সিরিয়াসনেস তত বেশি টিউশন তত বেশি গাইড
বইয়ের সেলস আর কোচিং বাণিজ্যের তুলগালাম আর জাতিসংঘের টার্গেট ফিলাপ করতে পারলে বৈদেশিক দান অনুদান ঋণের একটা ব্যাপার-স্যাপার তো আছেই কিন্তু খেলাটা এখানেই শেষ না এরপর একে একে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু প্রাথমিক স্তরে ছয়টি বই থাকলেও হুট করে মাধ্যমিক স্তরে 14 টি বই ধরিয়ে দেওয়া স্কুল পর্যায়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করে লটারি ও কোটা প্রথার আবির্ভাব কলেজে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করে এসএসসির ফলাফল থেকে সরাসরি ভর্তির সিদ্ধান্ত এরপর আবার পিএইসি এন্ড জেএসসি পরীক্ষা বাতিল নতুন কারিকুলামের আবির্ভাব সবকিছু একটা প্যান মাফিক সাজানো নকশা যেখান থেকে চাকরির বাজারে ব্রিটিশ আমলের মতো সবচাইতে ছোট ছোট চাকরিগুলো পাবে
আমাদের দেশের মানুষ আর সব বড় বড় চাকরিগুলো যাবে ভারতীয়দের কাছে নকশা ইম্পেরিয়ালিজমের নতুন এক নীল নকশা কিন্তু এইসব বিষয় আমরা কভার করবো আমাদের দ্বিতীয় পর্বে আজকের মত আমাদের প্রথম পর্ব এখানেই শেষ কি একটু হলেও কি নিজেকে নিজের দেশে বিট্রেড ফিল হচ্ছে [মিউজিক]