[মিউজিক] বিশ্বনবীর প্রিয়তমা স্ত্রী হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা অত্যন্ত সুন্দরী এবং বুদ্ধিমতী নারী ছিলেন তিনি হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর আদরের কন্যা ছিলেন তার পিতার মত তিনিও অত্যন্ত রাগী স্বভাবের মানুষ ছিলেন এমনকি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচাইতে গরম মেজাজের একটু এদিক সেদিক হলেই তিনি রেগে একেবারে আগুন হয়ে যেতেন উহুদ যুদ্ধের সময় হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার প্রথম স্বামী খুনাইজ ইবনে হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ইন্তেকাল করেন অল্প বয়সে স্বামীহারা হয়ে হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা দুচোখে অন্ধকার দেখতে লাগলেন অবশেষে নিরুপায় হয়ে তার বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নিলেন কিন্তু এখানে এসেও তিনি মনে
শান্তি পাচ্ছিলেন না বারবার মনে পড়ছিল প্রিয় স্বামীর স্মৃতি তার হাসি তার খুনশুটি তার ভালো ভালোবাসার প্রতিটা মুহূর্ত সবকিছু যেন তাকে পাগল বানিয়ে দিচ্ছিল তাই হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা একাকি চুপটি মেরে বসে চোখের পানি ফেলতে লাগলেন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আদরের কন্যার এই অবস্থা দেখে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন হাফসা তুমি তো আমার কলিজার টুকরা মেয়ে তুমি এমন করলে আমি জীবিত থেকেই মরে যাব তুমি একটু সবুর করার চেষ্টা করো এটাই আল্লাহর বিধান এই বিধান সবাইকে মেনে নিতে হবে এমনকি তোমাকেও মেনে নিতে হবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাকে এর চেয়ে উত্তম জীবনসঙ্গিনী দান করবেন তিনি এমন প্রতিদান
দেবেন যে তুমি সম্পূর্ণরূপে খুশি হয়ে যাবে কিন্তু কে শুনে কার কথা হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তবুও কেঁদেই যাচ্ছেন অবশেষে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মেয়ের এই অবস্থা সহ্য করতে না পেরে সেখান থেকে চলে আসলেন এরপর ইদ্দত পালন শেষ হওয়ার পর ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু একদিন বিধবা মেয়ে হাফসার জন্য পাত্র খুঁজতে বের হলেন চলতে চলতে তিনি উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কাছে গেলেন কারণ কিছুদিন হলো তিনি তার স্ত্রী রুকাইয়াকে হারিয়েছেন তাই তিনিও বেশ বিষন্ন ছিলেন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হযরত উসমানকে প্রস্তাব দিয়ে বললেন ভাই উসমান আপনি যদি চান তাহলে আমার বিধবা মেয়ে হাফসাকে বিয়ে করতে পারেন তখন
উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু জবাব দিলেন আচ্ছা আপনি যান আমি বিষয়টি ভেবে দেখব অতঃপর হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সেখান থেকে চলে গেলেন কয়েকদিন পর একদিন রাস্তায় উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর সাথে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর দেখা হয়ে গেল তখন তিনি বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দিলেন অতঃপর হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কাছে উপস্থিত হলেন এবং তাকে বললেন আপনি যদি চান তাহলে আমার মেয়ে হাফসাকে আপনার সঙ্গে বিয়ে দিতে পারি কিন্তু আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এই প্রস্তাবের কোন উত্তর দিলেন না এভাবে পরপর উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এবং আবু বকর
প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বাড়ি ফিরলেন বাড়িতে এসে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কষ্টে পাথর হয়ে আল্লাহর কাছে আরজ করলেন হে আল্লাহ কি হলো কেন আমার বন্ধুরা আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে কেন তারা আমার সঙ্গে এমন আচরণ করছে এমন সময় হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা সেখানে এসে উপস্থিত হলেন তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মেয়ে হাফসাকে উদ্দেশ্য করে বললেন হে আমার মেয়ে হাফসা কেন তোমার ব্যাপারে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না কেন তারা আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে তোমাকে বিয়ে করার প্রস্তাবে কেন তারা তোমার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তখন অদৃশ্য থেকে আওয়াজ হলো হে ওমর ইবনুল খাত্তাব হে
আল্লাহর রাসূলের মহান সাহাবী আপনি থামুন দয়া করে আপনি থামুন আপনি এভাবে বলবেন না আপনার প্রস্তাব কেউ ফিরিয়ে দিতে পারে না এমন কারো সাধ্য নেই যে আপনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবে আপনি হলেন ওমর আপনি তো সেই ব্যক্তি যার ইসলাম গ্রহণের জন্য স্বয়ং আল্লাহর হাবিব দোয়া করেছিলেন আপনি তো সেই ব্যক্তি যার ইসলাম গ্রহণের সংবাদে সাহাবায়ে কেরাম নারায়ে তাকবীর স্লোগান দিয়েছিলেন সুতরাং কেউ আপনাকে উপেক্ষা করতে পারবে না অবশ্যই এর মধ্যে কল্যাণকর কিছু রয়েছে অবশ্যই আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য এর চেয়ে উত্তম কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন আপনি তো আপনার মেয়ের জন্য একজন উপযুক্ত পাত্র খোঁজ করছেন আর আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য
এমন একজন পাত্র প্রস্তুত করেছেন যা আপনি কল্পনাও করতে পারেননি হে ওমর হে ইসলামের অতন্ত্র প্রহরী আল্লাহ তাআলা আপনাকে খুশি করতে চেয়েছেন আল্লাহ তাআলা কখনো ধৈর্য ধারণকারী মুমিনদের বিনিময় নষ্ট করেন না আপনি এখানে সেখানে প্রস্তাব দিয়ে ফিরছেন অথচ আল্লাহ তাআলা আপনার মেয়ের জন্য সর্বসময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে নির্বাচন করেছেন আল্লাহ তাআলা এমন এক ব্যক্তিকে আপনার কাছে প্রস্তাব দিয়ে প্রেরণ করবেন যিনি সবার মাঝে শ্রেষ্ঠতর যার থেকে উত্তম পাত্র এই জমিনে আর কেউ নেই হে ওমর তিনি আর কেউ নন তিনি স্বয়ং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এই কথাগুলি শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলেন খুশিতে তিনি বাকরুদ্ধ
হয়ে গেলেন অতঃপর আবারো আওয়াজ এলো সুসংবাদ গ্রহণ করুন হে ওমরের কন্যা আপনার জন্য আনন্দের বার্তা অপেক্ষা করছে আল্লাহ আপনার জন্য এমন এক ব্যক্তিকে নির্বাচন করেছেন যিনি আপনার আঁখি যুগল শীতল করে দেবেন নিশ্চয়ই তা আপনার জন্য একটি উত্তম সংবাদ কারণ আপনি এমন এক ব্যক্তির প্রিয়তমা স্ত্রী হতে যাচ্ছেন যার জন্য গোটা সৃষ্টিকুল পাগল পারা উক্ত কথা শুনে হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা অত্যন্ত আনন্দিত হলেন পরদিন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে উপস্থিত হলেন এবং তার কষ্টের কথাগুলো জানালেন তিনি বললেন উসমান এবং আবু বকরের কাছে আমার মেয়ে হাফসার প্রস্তাব দিয়েছিলাম কিন্তু
তারা ফিরিয়ে দিয়েছে তাদের এই আচরণে আমি খুবই ব্যথিত হয়েছি ওমরের মুখে এসব কথা শুনে বিশ্বনবী ওমর কে বললেন আমি কি তোমাকে এমন এক সন্ধান দেবো যা তোমার জন্য উসমানের চেয়ে উত্তম এবং উসমানের জন্য হবে তোমার চেয়ে উত্তম উত্তরে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ অবশ্যই বলুন তখন হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমি হাফসার জন্য তোমাকে প্রস্তাব দিচ্ছি আর উসমানকে প্রস্তাব দিচ্ছি আমার মেয়ে কুলসুমের ব্যাপারে অর্থাৎ আমি তোমার মেয়েকে বিয়ে করব আর উসমান বিয়ে করবে আমার মেয়ে এই প্রস্তাব শুনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আনন্দচিত্তে প্রস্তাবটি গ্রহণ করে নিলেন অতঃপর উভয় বিয়ে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হলো
রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কন্যা এবং উসমানের সঙ্গে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা উম্মে কুলসুমের বিয়ে হলো বিয়ের পরদিন একদিন আবু বকর ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর সাথে সাক্ষাৎ হয়ে গেল তখন কুশল বিনিময়ের পর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন ভাই ওমর আমি আপনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়াতে আপনি কষ্ট পেয়েছিলেন হয়তো তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন হ্যাঁ তা তো বটেই কষ্ট তো পাওয়ারই কথা তখন আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন ভাই ওমর আপনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পিছনে আমার ব্যক্তিগত কোন কারণ ছিল না আসলে একদিন আমি বিশ্বনবীর মুখে আপনার
কন্যা হাফসার বিয়ের ব্যাপারে আলোচনা করতে শুনেছিলাম কিন্তু কিন্তু তখন বিষয়টি আপনাকে জানানো ভালো মনে করিনি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে বিয়ে না করলে অবশ্যই আমি তাকে বিবাহ করতাম উক্ত কথা শুনে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সেখান থেকে চলে গেলেন এদিকে হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে মহা সুখ স্বাচ্ছন্দে সংসার করতে লাগলেন কিন্তু এই সুখের সংসারে মাঝেমধ্যেই ঝামেলা তৈরি হতো কারণ হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন অত্যন্ত রাগী স্বভাবের কিন্তু রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি কোন কঠিন আচরণ করতেন না কারণ রাগী মেয়েদের আচরণ মাঝেমধ্যে কঠিন হলেও তাদের ভালোবাসা প্রচন্ড গভীর হয়
একদিন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার নিজ বাড়িতে কি এক যেন বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তায় মগ্ন ছিলেন তখন তার স্ত্রী এসে উপস্থিত হলেন এবং বললেন এত কি ভাবছেন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন এটা নিয়ে তোমাকে এত ভাবতে হবে না তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর স্ত্রী বললেন আমার কথা আপনার ভালো লাগছে না তাইতো হাফসাকে গিয়ে দেখুন রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কেমন কথা কাটাকাটি করে এটা শুনে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তখনই রওনা হলেন এবং হাফসা এর ঘরে উপস্থিত হলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি নাকি বিশ্বনবীর সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করো হাফসা তখন বললেন এরকম
তো কখনো কখনো হয়েই যাই তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন সাবধান আর কখনো এমন করবে না আর তুমি এই কথা কখনো ভাববে না যে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার রূপে মুগ্ধ বরং সর্বাবস্থায় তার ইচ্ছা এবং সন্তুষ্টিকে মেনে নিবে উক্ত কথাগুলি ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলে সেখান থেকে চলে গেলেন আরেকদিন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হাফার বাড়িতে এসে দেখলেন তার আদরের কন্যা বিশ্বনবীর সাথে তর্ক বিতর্ক করছে এই দৃশ্য দেখে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু একেবারে আগুন হয়ে গেলেন তিনি তার কন্যাকে প্রহার করতে উদ্যত হলেন তখন বিশ্বনবী দুজনের মাঝখানে দাঁড়ালেন তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু লজ্জিত হয়ে
তার মেয়েকে শাসালেন এবং উচ্চস্বরে বললেন খবরদার রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথার পিঠে এমন ভাবে কথা বলবে না এই কথা বলে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সেখান থেকে চলে গেলেন তখন মহানবী হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হাফসা দেখলে তোমাকে কিভাবে রক্ষা করলাম তখন হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা অত্যন্ত লজ্জিত হলেন একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসার ঘরে আসলেন কিন্তু হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা তখন ঘরে ছিলেন না কোন এক প্রয়োজনে তিনি বাহিরে ছিলেন তাই আল্লাহর রাসূল একাকিত্ব দূর করার জন্য উম্মুল মুমিনিন মারিয়া কীর্তি রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহাকে তার কাছে ডেকে আনলেন অতঃপর হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার
বিছানায় বসে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারিয়া কিপতিয়ার সঙ্গে কিছুটা একান্ত সময় কাটান তার সাথে খুনশুটি করেন এমন সময় হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা তার ঘরে এসে মারিয়া কিপতিয়াকে দেখে মারাত্মক রেগে গেলেন স্ত্রী হিসেবে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে অভিমান করলেন এবং রাগের মাথায় অনেক তিক্ত কথা বলে ফেললেন এমত অবস্থায় মারিয়া কিপতিয়া সেখান থেকে চলে গেলেন স্ত্রী হাফসা রেগে যাওয়ার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিমান ভাঙ্গানোর জন্য আদরের কন্ঠে বললেন আল্লাহর কসম তুমি চাইলে আমি আর মারিয়ার সঙ্গে কখনো মিলিত হব না তবুও আমি তোমার হাসিমুখ দেখতে চাই তখন হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা
বললেন হ্যাঁ তাহলে তাই হোক আপনি আর কখনো মারিয়াকে কাছে আসতে দিবেন না তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আরেকটা কথা আমাদের এই চুক্তির ব্যাপারটা যেন কেউ না জানে কিন্তু কথাই আছে মেয়েরা সবকিছু হজম করতে পারলেও কথা হজম করতে পারে না তাই কিছুদিন না যেতেই হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা আম্মাজান আয়েশার কাছে তা প্রকাশ করে দিলেন এদিকে হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম কিছু আয়াত নিয়ে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে উপস্থিত হলেন এবং বললেন হে আল্লাহর নবী আল্লাহতালা আপনার জন্য যা হালাল করে স্ত্রীদের সন্তুষ্টির জন্য আপনি তা কেন হারাম করেছেন আল্লাহ তাআলা আপনার এই ত্রুটি
ক্ষমা করে দিয়েছেন কেননা আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু আল্লাহ তাআলা আপনাদের জন্য কসম থেকে অব্যাহতি লাভের উপায় নির্ধারণ করে দিয়েছেন আর আপনি আপনার স্ত্রীকে যে বিষয়টি গোপন রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন সেই কথা আপনার স্ত্রী গোপন রাখতে পারেনি তা সে প্রকাশ করে দিয়েছে উক্ত কথাগুলো বলে হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম সেখানে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন অতঃপর বিশ্বনবী হাফসার কাছে গিয়ে বললেন আমি তোমাকে একটা সামান্য বিষয় গোপন রাখতে অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু স্ত্রী হিসেবে তুমি সেটাও রাখতে পারোনি আমি তোমার কাছে এমনটা আশা করিনি হাফসা তখন হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন আপনাকে এই খবর কে জানিয়েছে তখন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যিনি সবকিছু জানেন সবকিছুর খবর রাখেন তিনি আমাকে জানিয়েছেন যদি তুমি এবং আয়েশা আল্লাহর কাছে তওবা করো তাহলে তোমাদের জন্য ভালো কেননা তোমাদের অন্তর নবীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঝুঁকে পড়েছে আর যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য করো তাহলে জেনে রাখো নবীর বন্ধু হলেন মহান আল্লাহ তাআলা জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এবং সৎ কর্মশীল মুমিনরাও তদুপরি ফেরেশতারাও তার সাহায্যকারী অতঃপর রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কসমের কাফফারা আদায় করলেন এবং সেখান থেকে চলে গেলেন একদিন আসরের পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জয়নব রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার ঘরে একটু বেশি সময় অবস্থান করেন এদিকে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা এই
বিষয়টিকে সহজভাবে মানতে পারলেন না তিনি একজন গোয়েন্দা লাগিয়ে বিলম্বের কারণ জানতে চেষ্টা করলেন গোয়েন্দা মহিলার কারণ জানতে চলে গেলেন বেশ কিছুক্ষণ পর গোয়েন্দা এসে সুসংবাদ দিল কোন এক মহিলা হাদিয়া হিসেবে জয়নবের কাছে কিছু মধু পাঠিয়েছিলেন তখন আম্মাজান জয়নব রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা এই মধু নবীজিকে পান করতে দিয়েছিলেন আর নবীজি প্রিয় খাবার পেয়ে সেখানে একটু বেশি সময় কাটিয়েছেন কথাগুলি শুনে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা মনে মনে ঠিক করলেন এর একটা বিহীত করতেই হবে অতঃপর তিনি হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার কাছে গিয়ে বললেন জানো হাফসা একটা বিষয় কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি তখন হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন কি সেটা হযরত
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন আল্লাহর রাসূল প্রতিদিন আসরের নামাজের পর আমাদের সবার সাথেই সাক্ষাৎ করেন কিন্তু জয়নবকে দেখলাম প্রতিদিন নবীজিকে মধু খাওয়াই তখন হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন ও আচ্ছা এই কথা তাহলে তুমি কি বলতে চাচ্ছ তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন আমরা এক কাজ করব যাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জয়নবের ঘরে কিছু মধু না খান তখন হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন কিন্তু কিভাবে আল্লাহ ওর রাসূল তো মধু পছন্দ করেন তাছাড়া তুমি এমন কি করবে যে তিনি আর মধু খাবেন না তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার কাছে
আসবেন তখন তুমি বলবে যে আপনার মুখে তো মাগাফিরের গন্ধ আর কিছুই তোমাকে করতে হবে না পরের দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জয়নবের ঘরে মধুপান করে সাফিয়ার ঘরে গমন করলেন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা আগে থেকেই সাফিয়ার সাথে কথা বলেছিলেন তাই তিনি অপেক্ষায় ছিলেন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাফিয়ার ঘরে আসলেন তিনি বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি কি মাগাফির খেয়েছেন কেমন যেন মাগাফিরের গন্ধ পাচ্ছি তখন হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন কই না তো তবে একটু আগেই জয়নবের কাছ থেকে মধু খেয়েছি সেটার গন্ধ তো এমন হওয়ার কথা না আচ্ছা আমি দেখছি ব্যাপারটা অতঃপর নবী করীম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসার কাছে আসা মাত্রই তিনি নাক ছিটকিয়ে বললেন ছি ছি আপনি কোথা থেকে কি খেয়ে এসেছেন আপনার মুখ থেকে মাগাফিরের গন্ধ আসছে আসলে মাগাফির ছিল এক প্রকার নেশা জাতীয় ফল তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনে করলেন হয়তো তিনি মাগাফির ফুলের মধু পান করেছেন তখন নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এখন থেকে আমার জন্য মধু পান করা হারাম আর জীবনে কখনো মধু পান করবো না অতঃপর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহাকে বললেন আমার জন্য মধু হারাম করার কথাটি আর কারো কাছে প্রকাশ করবে না কারণ জয়নব বিষয়টি জানতে পারলে অনেক কষ্ট
পাবে কিন্তু হাফসা নবীজির নির্দেশকে মানতে পারেননি তিনি আয়েশার কাছে বিষয়টা প্রকাশ করে দিলেন তখন আল্লাহ তাআলা জিব্রাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে আয়াত নাযিল করলেন জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এসে নবীজিকে সবকিছু জানিয়ে দিলেন হাফসাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এই আচরণে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত কষ্ট পেলেন এই ঘটনা জেনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে এক তালাক দিয়ে দিলেন তালাক পেয়ে হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা দিশেহারা হয়ে পড়লেন তিনি কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না এদিকে মেয়ের তালাকের খবর যখন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কাছে আসলো তখন তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন তিনি হতাশ হয়ে বললেন হায় এটা কি হয়ে গেল ওমরের
বংশে এটা কি হয়ে গেল গেল আল্লাহ তাআলা কি ওমর এবং তার মেয়ের পরিণতির কথা ভাবলেন না এরপর ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কন্যা হাফসার বাড়িতে রওনা দিলেন মেয়ের ঘরে এসে আদরের মেয়ের মলিন চেহারা দেখে তিনি তেমন কিছু বলতে পারছেন না তাই তিনি দৃঢ়ভাবে কিছুক্ষণ মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেন তিনি বুঝতে পারলেন না যে কিভাবে তাকে সান্ত্বনা দিবেন শেষে তিনি একটি কথাই বললেন শোনো হাফসা ওমরের বংশে যদি আল্লাহ তাআলা কোন কল্যাণ লিখে থাকে তাহলে আল্লাহর রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে চূড়ান্তভাবে তালাক দিবেন না ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর এই কথায় হাফসা কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেন এদিকে জিব্রাইল
আলাইহিস সালাম নবীজির কাছে আগমন করেন এবং সুপারিশ করে বললেন হে ভাই মোহাম্মদ আপনি এরকম করবেন না হাফসা রাগী স্বভাবের হলেও তিনি অত্যন্ত নেককার মহিলা তিনি অত্যাদি রোজা পালন করেন আর রাত জেগে আল্লাহর ইবাদত করেন এমনকি জান্নাতেও তিনি আপনার স্ত্রী হবেন তাই তাকে তালাক দিবেন না অতঃপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারো হাফসাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলেন আসলে কতই না ভাগ্যবান ছিলেন এই নারী যার জন্য স্বয়ং জিব্রাইল আলাইহিস সালাম দুনিয়াতে আগমন করে সুপারিশ করেছিলেন আরেকদিন হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা এবং অন্যান্য পত্নীগণ একজুট হয়ে বিশ্বনবীর কাছে আবেদন করলেন হে আল্লাহর রাসূল আল্লাহ তাআলা এখন আপনার হাতে
অনেক গুনিমতের মাল দিয়েছেন তাই এখন থেকে আমাদের ভরণ-পোষণ বাড়িয়ে দিতে হবে এই আবেদনে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক ব্যথিত হলেন কারণ নবী-পত্নীগণ বিলাসী জীবনযাপন করবেন এটা তিনি কল্পনাও করতে পারছিলেন না তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস স্ত্রী সংযম থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং আলাদা একটি ঘরে তিনি একা বসবাস করতে লাগলেন এদিকে মুনাফিকরা মানুষের কাছে রটিয়ে দিল রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সকল স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন এই খবর শুনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নবীজির কাছে গিয়ে বললেন হে আল্লাহর রাসূল আপনি কি আপনার পত্নীগণকে তালাক দিয়েছেন তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন
না আমি তাদেরকে তালাক দেইনি তবে তাদেরকে এই অধিকার দিয়েছি তারা চাইলে চলে যেতে পারে এই কথা শুনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মসজিদে গিয়ে উপস্থিত হয়ে সমস্ত মুসলমানদের উদ্দেশ্যে উচ্চকণ্ঠে বললেন আপনারা সবাই জেনে রাখুন আল্লাহর রাসূল তার স্ত্রীদেরকে তালাক দেননি এই খবর শুনে সমস্ত মুসলমানরা তাদের মনে স্বস্তি ফিরে পেলেন এদিকে বরণ-পোষণের দাবিকে কেন্দ্র করে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার খানিকটা মর্মালীন তৈরি হলো সমাধানের জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে বললেন আমার এবং তোমার মাঝে সমাধানের জন্য উপর আরেকজনকে ডাকো তখন হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন হ্যাঁ তাহলে ডাকুন তখন নবী
করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমার বাবাকে ডাকলে মন্দ হয় না সুতরাং তোমার বাবাকে আসতে বলো হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার কাছে সংবাদ পাঠালেন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু খবর পেয়ে হাফসার বাড়িতে চলে আসলেন তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে বললেন বলো কি বলতে চাও তোমার বাবাকে বলে ফেলো তখন হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা রাগান্বিত হয়ে বললেন হে আল্লাহর রাসূল আপনিই বলুন আপনি তো সত্য ছাড়া আর কিছুই বলেন না হাফসার কথায় আক্রোশের আওয়াজ পেয়ে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ভীষণ চটে গেলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলে হাফসাকে চর বসিয়ে দিলেন তখন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন অনেকটা নির্দেশের সুরে তাকে বললেন ওমর অনেক হয়েছে এবার থামো কিন্তু ওমরের মাথায় ওঠার রাগ সহজে থামছে না তিনি রাগান্বিত হয়ে মেয়েকে বললেন হে আল্লাহর শত্রু নবীজি সর্বদায় সত্য বলেন ওই সত্তার শপথ যিনি তাকে সত্য নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন আজ রাসূল না থাকলে তোমাকে আমি মেরেই ফেলতাম অতঃপর হাফসা সকল স্ত্রীগণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন তাদের কেউ নবীজিকে ছেড়ে যেতে রাজি হলেন না তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিয়ে আপন করে নিলেন একবার রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল মুমিনীন হযরত সাফিয়ার
ঘরে প্রবেশ করলেন ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে দেখলেন তিনি অঝোরে কান্না করছেন তখন বিশ্বনবী তাকে বললেন তুমি কাঁদছো কেন তখন সাফিয়া রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন হাফসা আমাকে ইহুদির মেয়ে বলে গালি দিয়েছে তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে ডেকে এনে বললেন হে হাফসা তুমি আল্লাহকে ভয় করো আর সাফিয়াকে বললেন তুমি নবী হারুনের বংশধর সে সম্পর্কে তিনি তোমার পূর্ব পিতা আর নবী মুসা আলাইহিস সালাম তোমার পিতব্য তাছাড়া তুমি একজন নবীর স্ত্রী হাফসা তোমার থেকে কোন দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ বলো ফলে সাফিয়া রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা অত্যন্ত খুশি হয়ে গেলেন উম্মতের এই জননী হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা মুসলমানদের অনেক দুর্দিনে
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছিলেন অতঃপর 45 হিজরীর শাবান মাস মাসে 63 বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চিরদিনের জন্য তিনি বিদায় নিলেন ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন [মিউজিক]