আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম অনেক সাধনার মাধ্যমে তিনি মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ করেন সত্য দ্বীনের প্রচার করতে গিয়ে তিনি অনেকগুলো কঠিন কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন কিন্তু তিনি সকল পরীক্ষায় সম্মানজনকভাবে উত্তীর্ণ হন তার পিতা ছিলেন মুশরিক যার নিকট সবসময় আজর নামক একটি মূর্তি থাকতো বিধায় তাকে আজম নামে ডাকা হতো তৎকালীন মুশরিকদের সর্দার ক্ষমতাধর নমরুদের আধিপত্যকে উপেক্ষা করে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাওহীদের দাওয়াত দিতে থাকেন একদিন মুশরিকরা সকলে মেলায় সমবেত হয় কিন্তু ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাতে অংশগ্রহণ করেননি ইতোমধ্যে নমরুদের রাজপ্রাসাদ ফাঁকা
পেয়ে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সেখানে গিয়ে একটি কুঠার দিয়ে সবগুলো মূর্তি ভেঙে ফেলেন এবং বড় মূর্তিটির নাক কান কেটে তার গলায় কুঠারটি ঝুলিয়ে দিলেন প্রাসাদে ফিরে এলে তারা এ অবস্থা দেখার পর ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে এর জন্য দায়ী করে তিনি স্পষ্টভাবে বলে দিলেন কোঠা নিয়ে দাঁড়ানো তোমাদের বড় প্রভুকে জিজ্ঞেস করো কেন সে অন্যদেরকে ভেঙে ফেলল তারা আশ্চর্য হয়ে বলল মূর্তি কি কথা বলতে পারে জবাবে তিনি বললেন যারা কথা বলতে পারে না নিজেদের রক্ষা করতে পারে না তারা কিভাবে তোমাদের প্রভু হতে পারে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের অপ্রতিরোদ্ধ দাওয়াতি তৎপরতা চিরতরে নির্মূলের লক্ষ্যে নমরুদ তার সভাসদকে নিয়ে বসে বসে সিদ্ধান্ত
নিল যে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম এই কাজ হতে নিবৃত না হলে তাকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হবে অন অটল সিংহ সাদুল ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বাতিলের কাছে মাথা নত না করে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে বেছে নিলেন পিতা আজরও ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নমরুদকে সহযোগিতা করে তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হলে মহান আল্লাহর নির্দেশে আগুন শীতল ও সহনীয় হয়ে গেল আর অগ্নিকুণ্ড পরিণত হলো ফুলবাগানে ভাবে মুশরিকদের চোখে তাক লাগিয়ে মহান আল্লাহ তার নবীকে রক্ষা করেন যারা পরকালীন জীবনের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে বিকিয়ে দেয় আল্লাহর সন্তোষ লাভের আশায় তার রাহে নিজেদের উৎসর্গ করে তাদেরকে মহান আল্লাহ সহযোগিতা করেন যেমনটি করেছিলেন
ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম যখন নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে সহি সালামতে বের হয়ে আসলেন তখনও তার সম্প্রদায়ের লোকেরা ঈমান আনতে রাজি হলো না বরং অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করল তখন তিনি বললেন আমি পৌত্তলিকতার স্থান ছেড়ে এমন জায়গায় চলে যাব যেখানে স্বাধীনভাবে আমার রবের ইবাদত করতে পারব 70 তিনি আমাকে এমন স্থানের পথ বাঁধলে দিবেন সূরা সাফাত আয়াত 99 এরপর তিনি শিয়স্ত্রী হযরত সারা আলাইহিস সালামকে নিয়ে নমরুদের নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য বাবিল শহর থেকে শাম দেশে হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হলেন হযরত সারা আলাইহিস সাল্লাম ছিলেন যুগের শ্রেষ্ঠ সুন্দরীদের একজন এদিকে তৎকালীন সময়ে মিশরের বাদশার স্বভাব যার ধর্ম ছিল যে
কোন সুন্দরী মহিলার ইজ্জত লুন্ঠন করা এর জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সে লোক নিয়োগ করে রেখেছিল যাদের কাজ ছিল সুন্দরী সুন্দরী রমণী বিভিন্ন স্থান থেকে পাকড়াও করে আনা অথবা বাদশার কাছে পেশ করা সে যুগে সুন্দরী রমণীদের জন্য উক্ত বাদশার কবল থেকে রেহাই পাওয়া ছিল বড় দুরুহ ব্যাপার পথ চলতে চলতে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম শিয়স্ত্রীকে নিয়ে যখন বাবিলের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মিশরের সীমান্তে প্রবেশ করলেন তখনই মিশরের বাদশা সাদেব বিন সাদেব মাতান্তরে সিনান বিন উলওয়ান অথবা ওমর বিন ওমরুল কাইসের বাহিনী হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের কাছে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসা করল আপনার সঙ্গে এই মহিলা কে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম
শুনেছিলেন কোন রমণীর সাথে তার আপন ভাই অথবা পিতা থাকলে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় না তাই তিনি জবাব দিলেন এ আমার বোন অর্থাৎ ধর্মীয় বোন এছাড়াও তিনি চাচাতো বোনকে বিবাহ করেছিলেন সেদিক থেকেও বংশগত বোন একথা বলেও হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম রেহাই পেলেন না শেষ পর্যন্ত তারা হযরত সারা আলাইহিস সালামকে ছিনিয়ে নিয়ে বাদশার হাতে অর্পণ করল বাদশা এত সুন্দরী রমণী দেখে প্রায় হুশ হারিয়ে ফেলল এবং তখনই তাকে বেইজ্জতি করার জন্য শাহী মহলের খাস কামড়ায় প্রবেশ করালো এদিকে স্ত্রী হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর শরণাপন্ন হয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন তখন আল্লাহ তাআলা কুদরতিভাবে হযরত
ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের জন্য সমস্ত প্রাচীর এবং গাছপালার আবরণ উঠিয়ে দিয়ে বাদশার খাস মহলে সারা আলাইহিস সালামের অবস্থান স্বচ্ছ কাচের ন্যায় পরিষ্কার করে দিলেন যাতে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম শিব স্ত্রীর সাথে বাচ্চার আচরণ ও কার্যকলাপ স্বচক্ষে দেখে স্ত্রীর সতীত্বের ব্যাপারে সন্দেহমুক্ত থাকেন কেননা হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের চরিত্রগত সব ধরনের অসৎ আচরণকে সর্বাবস্থায় বড় ঘৃণা করতেন এদিকে শাহী মহলে খাস কামড়ায় অসৎ উদ্দেশ্যে বাদশা যখনই হযরত স্যার আলাইহিস সালামের দিকে হাত প্রসারিত করতে উদ্যত হলো তখনই বাদশার হাত সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেল তৎক্ষণাৎ বাদশা বিকলতা লাঘবের জন্য হযরত স্যার আলাইহিস সালামের কাছে ক্ষমা প্রার্থী হলো তখন হযরত সারা আলাইহিস
সালামের দোয়ায় সে আবার হাতের মধ্যে পূর্বের শক্তি ফিরে পেল এরপর সে আবার অসৎ উদ্দেশ্যে হাত বাড়াতে চাইলে দ্বিতীয়বার বিকল হয়ে গেল বাদশা আবার ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে দোয়া ভিক্ষা চাইল তখনও হযরত সারা আলাইহিস সালাম আবার দোয়া করল সে পুনরায় হাতের মধ্যে পূর্বের শক্তি ফিরে পেল এরপর সে আবার তৃতীয়বার অসৎ উদ্দেশ্যে হাত বাড়াতে চাইলে দ্বিতীয়বার আবার বিকল হয়ে গেল বাদশাহ এবার খুব কাকুতি মিনতি করে ক্ষমা চাইলো এবং ওয়াদা করল যে আর কখনো এমন কাজ করবো না তখন হযরত স্যার আলাইহিস সালাম আবার দোয়া করলে সে আবার হাতের মধ্যে পূর্বের শক্তি ফিরে পেল বাদশা এবার পরাজিত চেহারায় কোন রকমে কামড়া
থেকে বের হলো এবং দারোয়ানকে ডেকে বলল তোমরা এটি কি নিয়ে এসেছো এতো মানুষ নয় বরং জান্নাতের কোন হুর যাও একে আজাদ করে দাও আর এর খেদমতের জন্য হাজেরা নামক বাদী দিয়ে দাও তাই দেয়া হলো হযরত সারা আলাইহিস সালাম ও হাজেরা উভয়ে যখন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের নিকট পৌঁছলেন তখন তিনি নামাজে লিপ্ত ছিলেন হাতের ইশারায় তিনি নামাজে হযরত স্যার আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলেন কি খবর ওই শরীয়ত নামাজের মধ্যে ইশারায় কোন কিছু জিজ্ঞাসা করা জায়েজ ছিল হযরত স্যার আলাইহিস সালাম জবাব দিলেন আল্লাহতালা পাপিষ্ঠের চক্রান্ত নসাদ করে দিয়েছেন আর হাজেরা নামক এই বাদী আমি উপহার পেয়েছি এদিকে হযরত
স্যার আলাইহিস সালামের গর্ভে এ পর্যন্ত কোন সন্তান হয়নি বলে তিনি নিজেকে বন্ধ মনে করতেন তাই তিনি স্বামীর নিকট হাজেরা নামক বাদী পেশ করে আরজ করলেন আপনি একে বিবাহ করুন তাহলে হয়তো তার থেকে আপনার কোন সন্তান হবে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাকে আজাদ করে বিবাহ করলেন এবং এই বলে দোয়া করলেন হে আমার রব আমাকে এমন সন্তান দান করুন যে হবে সৎকর্মশীলদের থেকে সূরা সাফাত আয়াত 100 ফলশ্রুতিতে হাজেরা আলাইহিস সালামের গর্ভে হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের জন্ম হয় মা হবার পর সারা আলাইহিস সালামের মা হবার ইচ্ছা জাগে কিন্তু সে সময় সারা ও ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম দুজনেই বৃদ্ধ ছিলেন
অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের ইচ্ছা পূরণ করে সুসংবাদ পাঠিয়ে সারা আলাইহিস সালামের মা হবার কথা জানালেন এর কিছুকাল পরে সারা আলাইহিস সালামের গর্ভে হযরত ইসহাক আলাইহিস সালামের জন্ম হয় যিনি ইসমাইল আলাইহিস সালামের থেকে 13 বছরের ছোট ছিলেন তো বন্ধুরা কেমন লাগলো আমাদের আজকের এই ভিডিওটি কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন আজ তাহলে এই পর্যন্তই আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ