এক তরুণ ব্যাংকার তার স্ত্রীকে খুন করার দায়ে জেলে যায় কিন্তু তার ভাষ্যমতে তাকে বিনা দোষেই সাজা দেওয়া হয়েছে কারণ সে এই খুনটা করেনি কিন্তু তবুও তাকে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হলে বন্দি জীবন কাটাতে হয় তার তবে এই বন্দী জীবনটাকেও সে এমনভাবে গুছিয়ে নেয় যাতে তার জেল বন্দীকে আর বন্দি জীবন মনে হয় না কিন্তু তবুও তার সেই গোছানো জীবনটাও শেষ করে দিতে চায় জেলের ভিতরের কিছু মানুষ তাই সে সিদ্ধান্ত নেয় এই জেল থেকে বেরিয়ে আসার তো কিভাবে সে তাদের সবাইকে টেকা দিয়ে নিজেই এই জেল থেকে পালিয়েছিল এটা জানতে হলে দেখতে হবে পুরো ভিডিও। বলছিলাম 1994 সালে রিলিজ
হওয়া বিখ্যাত মাস্টারপিস মুভি দ শশাঙ্ক রিডেমশনের কথা। এই মুভিটাই হচ্ছে আইএমডিবিতে পাওয়া সবচেয়ে হাইয়েস্ট রংকিং এর মুভি। তো চলো আর প্যাচাল না বাড়িয়ে শুরু করা যাক আজকের মুভি এক্সপ্লেনেশন। সাল 1947। আমেরিকার পোর্টল্যান্ড শহরের ন্যাশনাল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এন্ড্রি ড্রুফ্রেনেরর বিরুদ্ধে কোর্টে তার স্ত্রী এবং তার স্ত্রীর প্রেমিককে হত্যার কেস চলছিল। বিপক্ষে উকিল একে একে তার বিরুদ্ধে সব প্রমাণ হাজির করলেও এন্ডি সেসব প্রমাণকে অস্বীকার করতে থাকে। বেশ কিছুটা সময় আগেই সে তার নিজের স্ত্রীর এফেয়ারের ব্যাপারে জেনে গিয়েছিল। তাই সে তাকে ফলো করতে করতে এক রাতে সোজা স্ত্রীর প্রেমিকের বাসায় চলে আসে। স্ত্রীর কাছ থেকে এমন প্রতারণার শিকার
হয়ে সে ডিপ্রেস থাকে। আর এরপর সে গাড়িতে বসে একের পর এক মদের বোতল শেষ করে যাচ্ছিল। তার হাতে ছিল একটা সিক্স শর্ট রিভলভার। আর এটা দিয়েই তখন তার স্ত্রী ও তার প্রেমিকের খুলি উড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা হচ্ছিল তার। কিন্তু এন্ডি সেটা না করে বাসায় ফিরে আসে এবং আসার পথে রিভলভারটা নদীতে ফেলে দেয়। তবে এন্ডি তার স্ত্রীকে খুন না করলেও পরের দিন সকালে সেই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ঠিকই তার স্ত্রী ও তার প্রেমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের শরীরে গুনে গুনে আটটা বুলেট ফায়ার করা হয়েছিল। আর এই কারণে স্বাভাবিকভাবেই সমস্ত সন্দেহ গিয়ে পড়ে এন্ডির ঘাড়ে। কিন্তু সে যতবারই আদালতে
খুনের কথা অস্বীকার করে ততবারের বিপক্ষের উকিল তাকে চুপ করিয়ে দেয়। যদি সে ফিরে এসে রিভলভার নদীতেই ফেলে দিয়েছিল তাহলে তার স্ত্রী আর প্রেমিককে খুন করল কে? কোর্টও ধরে নেয় যে অন্ডি হয়তো মিথ্যা বলছে এবং আদালত তাকে জোরা খুনের জন্য দুই মেয়াদের যাবজীবন কারাদণ্ড দিয়ে দেয়। এরপরে এন্ডির ঠাই হয় তৎকালীন পোর্টল্যান্ডে সবচেয়ে বড় জেল শ্মশাঙ্কে। এই জেলে আরেক কয়েদি ছিল এলিস বয়ের যার ডাক নাম রেড। রেড অনেক বছর আগে জাল টাকার নোট পাচার করতে গিয়ে ধরা খেয়ে যাব জজীবন কারাদণ্ড ভোগ করছে। এর মাঝে বেশ কয়েকবার তার সাজা কমানোর আবেদন অর্থাৎ প্যাডেলের রিভিউর জন্য ডাকা হয়েছিল। কিছু
সময় পরপর জেল কর্তৃপক্ষ নিজেই কয়েদিদের আচরণের কথা বিবেচনা করে তাদের সাজা কমানোর জন্য ডাক দেয়। কিন্তু প্রতিবারই রেড যখন জেলের কর্মকর্তাদেরকে বলে যে সে শুধরে গেছে ততবারই তার সাজা কমানোর অনুরোধ রিজেক্ট হয়ে যায়। আর সেই কারণে রেডও আর এই জেল থেকে বের হতে পারে না। তবে বের হতে না পারলেও জেলের ভিতরে তার জীবন ভালোই কাটছিল। আমেরিকার জেল বলে কথা। তাই জেলের ভিতরে কয়েদিদের জন্য ভালো স্পেস থাকে। এছাড়াও রেড তার কানেকশন ব্যবহার করে নিয়মিত কয়েদিদের জন্য বাইরে থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র আনিয়ে দিত। অর্থাৎ সে এই জেলের ভিতরে এক প্রকার ব্যবসা খুলে বসেছে। এবার এন্ডিকে যখন এই জেলে
নিয়ে আসা হয় তখন তার চেহারা ছিল একদম বিধ্বস্ত। দেখে যেন মনে হচ্ছিল যে যেকোনো মুহূর্তেই সে কান্নায় ভেঙে পড়বে। এমনকি রেড সহ বাকি কয়েদিরা নিজেদের মধ্যে বাজিয়ে ধরেছিল যে সেদিন রাতেই এন্ডি সবার সামনে হাউমাউ করে কেঁদে উঠবে। তার সাথে আরো যারা নতুন কয়েদি হিসেবে আসে তাদেরকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় জেলের ওয়ার্ডন নর্টনের কাছে। নর্টন জানায় তার জেলের একচাই নিয়ম। ঈশ্বর থেকে কখনো দূরে থাকা যাবে না। তাই জেলের সবাইকে একটা করে বাইবেল দেওয়া হবে এবং বাকি নিয়মগুলো তারা ধীরে ধীরে বুঝতে পারবে। ওয়ারডেন তাদের সবার সাথে জেলের সিকিউরিটি গার্ডদের ক্যাপ্টেন হ্যাডলির সাথেও পরিচয় করিয়ে দেয়। এই হ্যাডলি
ছিল খুবই নির্দয় আর ভয়ঙ্কর স্বভাবের লোক। কোনো কারণ ছাড়াই কয়েদিদেরকে সে ভয়ানকভাবে মারধর করা ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাস। এভাবে ওয়ার্ডেন আর গার্ডদের সাথে পরিচয় করানোর পর নতুন কয়েদিকে প্রথমে গোসল করিয়ে তাদের ছেলে নিয়ে যাওয়া হয়। আর পুরনরা তো আগে থেকেই নিজ নিজ সেলে অবস্থান করছিল। এখন আমেরিকান জেল হলে কি হবে? জেল তো জেলই। দিনের বেলায় সব কয়েদিদের মুক্ত মানুষের মতন ঘুরতে দেওয়া হলেও রাতে ঠিকই তাদেরকে বদ্ধ কুঠুরিতে ঘুমাতে দেওয়া হয়। আর নতুন কয়েদিদের জন্য প্রথম রাতটা কেয়ামতের চাইতেও কম না। মুক্ত জীবন থেকে এই বদ্ধ আর নিষ্ঠুর পরিবেশে এসে অনেকেই প্রচন্ড ভেঙে পড়ে। ঠিক সেদিন রাতেও
মোটাসোটা এক লোক গভীর রাতে লাইট নিভিয়ে দেওয়ার পরেই কান্না শুরু করে। এই কান্ড দেখে পুরাতন কয়েদিরা তার উপর প্রচুর হাসাহাসি করতে থাকে। এমন সোরগোল শুনে গার্ড হার্ডলি এসে সেই লোকটার কান্না থামাতে বললেও লোকটা তার কোন কথাই শোনে না। তারপর হ্যাডলি সেই লোকটাকে ভীষণ নির্দয়ের মতন প্রচন্ড মারধর করে মেজেতে ফেলে চলে যায়। এই ভয়ানক দৃশ্য দেখে বাকি সবাই ভয়ের চুপটি মেরে বসে থাকে। অর্থাৎ প্রথম রাতেই তারা বুঝে যায় যে জেলের জীবন আসলে কেমন। এবার পরের দিন সকালে উঠে সবার প্রেজেন্ট কাউন্ট করার পর তাদেরকে সকালের নাস্তা দেওয়া হয়। জেলের সেই বাসি পচা নাস্তা খেতে গিয়ে এন্ডি তার
ভিতরে একটা পোকা আবিষ্কার করে। মানে এখন থেকে এই পচা বাসি খাবারই তাকে খেতে হবে। সেই পোকাটা যখন সে ফেলেই দিতে যাচ্ছিল তখন পাশ থেকে এক বৃদ্ধ লাইব্রেরিয়ান ব্রুস সে তাকে চেয়ে নিয়ে নিজের পকেটে থাকা পোষা পাখিকে খেতে দেয় জেলের বিশাল সেই লবিতে লম্বা ডাইনিং টেবিলে বসে সবাই একসাথে খাবার খাচ্ছিল তাদের মধ্যে ছিল হেয়ড নামের এক লোক সে তার এক সঙ্গীর সাথে নিজের আরেক আহত সঙ্গীর ব্যাপারে আলাপ করতে গেলে এন্ডি তার কাছে হঠাৎ লোকটার নাম জিজ্ঞেস করে কিন্তু হেইড এই সামান্য কথায়ও তাকে খুব নির্দয়ভাবে চুপ করিয়ে দেয় মানে বোঝাই যাচ্ছিল যে জেলের ভিতরের লোকগুলো খুব একটা
সুবিধ দেন না। তাই এন্ডিও তারপর থেকে কারো সাথে তেমন একটা কথা বলতো না। এভাবেই একদিন জেলে গোসল করার সময় সিস্টার গ্যাং নামের খতরনাক এক গ্যাং এর মেম্বার বোগাস ডায়মন্ড এসে তার সাথে কথা বলতে চায়। এই গ্যাং এর কাজ ছিল নিয়মিত জেলের ভিতরের কয়েদিদের উপরে টর্চার করা। এন্টিটাকে ভয় না পেয়ে ইগনোর করে চলে যায়। আর এভাবেই সে বেশিরভাগ সময় চুপচাপ হয়ে কাটাতে থাকে। জেলের নিয়ম অনুসারে সে নিজের মত করে জেলের ভিতরের কাজগুলো করতে থাকে। কিন্তু সে এই কাজ করতে গিয়ে কারো সাথে কিন্তু কথা বলে না। অবশেষে এক বিকেলে সবাই মিলে জেলের ভিতরে খেলাধুলা করার সময় প্রথমবারের
মতন সে নিজে গিয়ে রেডের সাথে পরিচয় হয়। মানে আমেরিকানরা কিন্তু জেলের ভিতরেও খেলাধুলা করার সুযোগ পেত। যাই হোক এন্ডি রেডকে নিজের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের মধ্যে ছোটখাটো আলাপ হয়। এখানে সে জানত যে রেড হরহামিশায় তার কানেকশন কাজে লাগিয়ে বাইরে থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র আনিয়ে থাকে। তাই এন্ডি তার কাছে একটা র্যাক হ্যামার এনে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। প্রথমে রেড ভেবেছিল যে এই র্যাক হ্যামার হয়তো বড় সাইজের কোন হাতুড়ি আর এন্ডি হয়তো সেই হ্যামার দিয়ে কারোর মাথা ফাটাবে নয়তো জেলের দেওয়ারের টানেল খুলে পালানোর চেষ্টা করবে কিন্তু এন্ডি তাকে বলে যে সে যখন হ্যামারটা চোখে দেখবে তখনই সে বুঝে যাবে
যে এই হ্যামার দিয়ে এসব কাজ করা যায় না এই হাতুরি কেবল এই ছোট ছোট পাথরকে ঠুকে ঠুকে বিভিন্ন শেপের খেলনা বানানোর জন্য ব্যবহার করা হয় এসব শোনার পর রেড তার হ্যামার এনে দেওয়ার জন্য 10 ডলারের বিনিময়ে ডিল করে আর কিছুদিন পরে রেড তার কানেকশন কাজে লাগিয়ে হাতুড়ি নিয়ে আসে জেলের ভিতরে। এবার সেটাকে হাতে নিয়ে সে বুঝতে পারে যে এই পিচ্চি হাতুড়ি দিয়ে দেওয়ালের ট্যানেল বানাতে কমপক্ষে 10 বছর সময় লাগবে। অতঃপর জেলের ডেলিভারি ম্যানকে ঘুষ দিয়ে সে হাতুড়িটা এন্ডির কাছে পৌঁছে দেয়। এরপর থেকেই তার সাথে রেডের বেশ ভালোই খাতির জমে যায়। কিন্তু এন্ডির কপালে যেন সেই
সুখ বেশিদিন লেখা ছিল না। সিস্টার গ্যাং এর লিডার বক্সকে ইগনোর করার জন্য সেই লোকটা তার উপরে ভীষণ খ্যাপা ছিল। একদিন জেলের ভিতরে কাজ করার সময় লোকটা তার গ্যাং নিয়ে এসে এন্ডির উপরে হামলা করে বসে। তারা তাকে প্রচন্ড মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয়। এন্ডি এতটাই মার খায় যে তাকে জেলের হসপিটালে নিয়ে গিয়ে ট্রিটমেন্ট করতে হয়। কিন্তু সে কখনোই কাউকে জানায়নি যে কারা তাকে এভাবে মেরেছিল। তবে গোপন রাখার পরেও সিস্টার গ্যাং তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি। টানা দু বছর ধরে তারা সুযোগ পেলেই নানা সময়ে তার উপর হামলা করে অমানসিক নির্যাতন চালাতো। কিন্তু তবুও এন্ডি তাদের ব্যাপারে কোন গার্ডকে
কিছুই জানায়নি। জেলের জীবনের দু'বছর পার হওয়ার পর হঠাৎ একদিন এন্ডির সামনে বাইরে যাওয়ার একটা সুযোগ আসে। পোটল্যান্ড শহরের একটা লাইসেন্স প্লেট ফ্যাক্টরির ছাদ মেরামত করতে শ্মশাঙ্ক জেল থেকে কিছু ভলেন্টিয়ার ডাকা হয়। এখন বাইরের হাওয়ায় যেতে পারবে ভেবেই এনডিআর রেড সহ প্রায় 100 ভলেন্টিয়ার এই কাজে যোগ দেয়। শুধুমাত্র মুক্ত বাতাসের স্বাদ পাওয়ার জন্য তারা তীব্র রোদের ভিতরে সেই বিল্ডিং এর ছাদে ঢালাইয়ের কাজ করতে থাকে। এভাবে কাজ করার সময় হঠাৎ সবাই শুনতে পায় যে হ্যাডলি জেলের আরেক গার্ডের সাথে কিছু সম্পত্তির ব্যাপারে আলাপ করছে। তার এক মৃত ভাইয়ের কাছ থেকে সে 35,000 ডলার পেলেও সেই টাকাটা সে পুরোপুরি
নিতে পারছে না। কারণ এর জন্য তাকে অনেকগুলো ট্যাক্স পে করতে হবে। এই কথা শোনার পরেই এন্ডি হঠাৎ হ্যাডলির দিকে হাঁটা দেয়। রেড সহ বাকি সবাই অবাক হয়ে ভাবে যে এন্ডির কি মারা যাওয়ার ইচ্ছা জেগেছে? কিন্তু এন্ডি তবুও এগিয়ে গেলে গার্ডরা তার দিকে পিস্তল তাগ করে বসে। এবার এন্ডি সরাসরি হ্যাডলিকে জিজ্ঞেস করে বসে যে সে তার স্ত্রীকে বিশ্বাস করে কিনা এবং তার কনফিডেন্ট আছে কিনা যে তার স্ত্রী তাকে পিছনে পিছনে ছুরি বসাবে না এই কথা শোনার পরেই হ্যাডলি ভাবে এন্ডি তার সাথে হয়তো মজা করতে এসেছে তাই সে ভয়ানক রেগে গিয়ে তাকে বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে নিচে ফেলে
দিতে যায় তখন এন্ডি হাঁপাতে হাঁপাতে বলতে থাকে যে আমেরিকার প্রতিটা নাগরিকই কমপক্ষে 60 হাজার ডলার পর্যন্ত ট্যাক্স ফ্রি সম্পত্তি নিজের স্ক্রিন নামে লিখে দেওয়ার অধিকার রাখে তার মানে এই 35 হাজার ডলার যদি হ্যাডলি তার স্ক্রিন নামে ট্রান্সফার করে দেয় তাহলে তাকে এক টাকাও খরচ করতে হবে না। কিন্তু এর জন্য ডকুমেন্ট সেটআপ করতে গেলে লয়ারের পিছনেও প্রচুর টাকা খরচ হবে। তবে হ্যাডলি চাইলে এন্ডির নিজের ব্যাংকিং এক্সপেরিয়েন্স কাজে লাগিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে এই সব ডকুমেন্টস সেটআপ করে দিতে পারবে। আর এর বিনিময়ে সে নিজের সঙ্গীদের জন্য জাস্ট কয়েক বোতল বিয়ারই চায়। এই কথা শোনার পর হ্যানডলি তার প্রস্তাবে রাজি
হয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। আর এন্ড্রিও ঠিক তাকে 35 হাজার ডলার পাইয়ে দিয়ে বিয়ার আদায় করে নেয়। এভাবে সে প্রচন্ড ঝুঁকি নিয়ে শুধুমাত্র সঙ্গীদেরকে রিফ্রেশ করার জন্য বিয়ারের ব্যবস্থা করে। এমনকি এই বিয়ার হাতে পেয়ে কিছুদিন আগে তার সাথে ঝগড়া করে বসা হেইডও তার ফ্যান হয়ে যায়। যাইহোক এভাবে আরো বেশ কিছু সময় পার করে ফেলে এন্ডি। এর মধ্যে রেডের সাথে তার সম্পর্ক আরো বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এন্ডির দাবা খেলার ভীষণ শখ ছিল। কিন্তু জেলের ভিতরে বসে তার জন্য কোন গুটি ছিল না। তাই এন্ডি নিজেই পাথরকে রক হ্যামারের মাধ্যমে শেপ দিয়ে চেস পিস অর্থাৎ গুটিগুলো বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু
জেলের বাইরের ময়দানে তেমন ভালো পাথরও ছিল না। তবে রেট কিন্তু ঠিকই তার জন্য পাথর যোগাড় করার প্ল্যান করতে থাকে। এখন তোমাদেরকে তো আগেই বলেছি যে আমেরিকান জেলগুলোতে কয়েদিদেরকে প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপনই করতে দেওয়া হয়। এতক্ষণে তোমরা নিশ্চয়ই সেটা বুঝে গেছো। এবার আমরা দেখতে পাই যে জেলের কুয়াদিদের জন্য লিটারেলি মুভি দেখারও ব্যবস্থা রয়েছে। ঠিক এমনই একদিন সবাই একসাথে বসে মুভি দেখার সময় এন্ডি রেড কে তার জন্য সেই মুভির নায়িকা রিটা হেইথের একটা ছবি আনিয়ে দিতে বলে। সেই ছবি নাকি সে নিজের সেলের দেওয়ালে টানিয়ে রাখবে। এখানে এন্ডির সেলের দেওয়ালে আগে কয়াদিদের নাম নিজেই খোদায় করে রেখেছিল। তাই সে
নিজেও র খাবার দিয়ে তার দেওয়ালে নিজের নাম খোদায় করে রাখে। আর এই লেখাটা ঢাকার জন্যই সম্ভবত রিটার্ড ছবি আনার কথা সে রেডকে বলে। আর রেডও তাকে এই ছবি আনিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে জেলে সে থিয়েটার থেকে বেরনোরের পরেই আবারো সিস্টার গ্যাং এর লোকরা এসে তার উপরে হামলা করে। এবার এন্ডি নিজেও তাদেরকে মারতে গেলে তারা তাকে মেরে প্রায় আধমরা বানিয়ে ফেলে। এবারের মারটা এতটাই তীব্র ছিল যে এন্ডিকে প্রায় এক মাস হসপিটালে কাটাতে হয়। আর এদিকে কালপিট বক্সকে জেলের ছোট্ট কালকুঠিরিতে এক মাসের জন্য বন্ধ করে রাখা হয়। বলে রাখি জেলের কোন কয়াদি খুব বড় অপরাধ করলে তাদেরকে
এই কাঠুরিতে বন্দি করে দেওয়া হতো। বক্সের সেই সাজা শেষ হওয়ার পর তাকে নিজের ছেলে নিয়ে এসে আপ্যায়ন করে হেডলি এবং তার দলবল। এখানে বক্স নিচে যেমন কুকুর হ্যাডলি তার চাইতেও অনেক বড় মুগুর। সে বক্সকে তার নিজের থেরাপিতেই এমন মার দেয় যাতে বক্স প্রায় পঙ্গু হয়ে যায়। তারপর থেকে তাকে লিটারালি হুইল চেয়ারে বসে দিন পার করতে হয়। অন্যদিকে এই ঘটনার পর এন্ডির গায়ে কেউ আর আঁচড় দেওয়ার সাহস পায়নি। ওদিকে রেড ইতিমধ্যে রিটার ছবি আনিয়ে দেওয়ার পর প্রায় প্রতি মাসে সে কোন না কোন নায়িকার ছবি নিয়ে আসতে থাকে এর কিছুদিন পর জেলের সব কয়াদিদের মাটি কোপানোর কাজে
লাগিয়ে দেওয়া হলে রেড আর হেওয়েট সহ বাকি কয়েদিরা এন্ডির জন্য পাথর কালেক্ট করতে শুরু করে আর এই পাথরগুলোকে এন্ডির নিজের সেলে নিয়ে গিয়ে র্যামারের সাহায্যে শেপ দিয়ে এবং পলিশ করে দাবার গুটি বানানোর চেষ্টা করতে থাকে এভাবেই তারা বেশ কিছুটা দিন সুখে শান্তিতে কাটায়। কিন্তু কিছুদিন পর হঠাৎ এক ওয়ারডেন তার গার্ডদের নিয়ে এসে এন্ডিকে দেখতে আসে। তারা তার সব দাবার গুটিগুলোকে ফেলে দিয়ে জিনিসপত্র সব উল্টেপাল্টে চেক করে যে কোথাও কোন কিছু আছে কিনা। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো যে তারা কোথাও সেই রক্যামারটা খুঁজে পায় না। ওয়ারডেন এন্ডির হাতে বাইবেল দেখে সেটা নিজের হাতে নেয়। তবে বাইবেল না
উল্টিয়ে তার কাছে কিছু প্রশ্ন করে। আর এন্ডিও সেই প্রশ্নগুলো ঠিকঠাক জবাব দিলে তারা সন্তুষ্ট হয়ে চলে যায়। তবে এন্ডির সেল চেক করতে আসাটা কেবলই একটা বাহানা ছিল। আসলে ওয়ারডেন তাকে জেলের কোন একটা কাজে রেখে নিজের জন্য ইউজ করতে চাইছিল। কারণ এন্ডির ব্যাংকিং নলেজ ইতিমধ্যে তার নজরে এসেছে। তাই সে তাকে শ্মশাঙ্ক প্রিজন লাইব্রেরি ব্রুকস এর অ্যাসিস্টেন্ট বানিয়ে দেয়। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছো। আমেরিকান জেলগুলোতে লিটারালি লাইব্রেরিও থাকে। যদিও বা সেই বইগুলো অদত কেউই পড়ে না। যাই হোক এন্ডি বুঝতে পারছিল না যে এত বছরে যখন ব্রুক্সের জন্য কোন অ্যাসিস্টেন্ট আনা হয়নি তাহলে হুট করে কেন তাকে অ্যাসিস্টেন্ট বানিয়ে দেওয়া
হলো। তবে কিছুক্ষণ পরেই এন্ডি তার আসল উদ্দেশ্যটা বুঝতে পারে। যখন হার্ডলি তার কাছে ডিকেন্স নামের আরেক গার্ডকে নিয়ে আসে। ডিকেন্স এন্ডির কাছ থেকে তার নিজের ছেলের জন্য একটা চাইল্ড এডুকেশন ফান্ডের ডকুমেন্ট সেটআপ করে দিতে বলে। আর তাকে হেল্প করার পর জেলের সমস্ত গার্ড ধীরে ধীরে নিজেদের সব ফাইনান্সিয়াল ব্যাপার নিয়ে এন্ডির কাছে আসা শুরু করে। এমনকি ওয়ার্ডেন নিজেও ট্যাক্স কমানোর জন্য তার হেল্প নিতে থাকে। এছাড়াও জেলের বাজেট থেকে কিভাবে ব্যয় কমিয়ে টাকা বাঁচানো যায় সেই দায়িত্ব এসে পড়ে এন্ডির উপর। এভাবেই সে হয়ে ওঠে জেলের ভিতরের একজন ব্যাংকার। এই কাজে তাকে সাহায্য করার জন্য রেড কেও অ্যাসিস্টেন্ট
হিসেবে রেখে দেওয়া হয়। অর্থাৎ তারা দুজনেই এই পয়েন্টে বেশ সুখে দিন কাটাচ্ছিল। ফাইনান্সিয়াল কাজগুলো করার পাশাপাশি এন্ডি জেলের লাইব্রেরিকে আপডেট করে নতুন নতুন বই আনতে চাইছিল। তবে ওয়ারডেনকে সেই কথা জানানোর পর ওয়ারডেন তাকে জেলের সীমিত বাজেটের কথা বলে এই ব্যাপারটা না করে দেয়। তখন এন্ডি তাকে বলে যে সে প্রতি সপ্তাহে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে একটা করে চিঠি লিখবে বই পাঠানোর জন্য। যদিও ওয়ারডেন তাকে চিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেয়। কিন্তু এন্ডি কখনোই তার চিঠির জবাব পায়নি। তারপরেও সে হতাশ না হয়ে গিয়ে প্রতিনিয়ত চিঠি লিখেই যেত। এদিকে একদিন হঠাৎ এন্ডি অ্যালরেড জানতে পারে যে লাইব্রেরিয়ান বুক হেওয়েডকে কোন
এক কারণে ছুরি দিয়ে জিম্মি করে রেখেছে। দ্রুত তারা তার কাছে গিয়ে তাকে শান্ত করার পর সবাই জানতে পারে যে হেওয়েড আসলে স্ট্রেস তাকে বিদায় জানাতে এসেছিল কারণ জেল কর্তৃপক্ষ ব্রুক্সকে মুক্তি দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 50 বছর ধরে এখানে থাকতে থাকতে ব্রুক্স জেলকে নিজের ঘরবাড়ি মনে করতো। তাই এখান থেকে ফেরত যাওয়ার কথা শুনেই সে প্রচন্ড ক্ষেপে গিয়েছিল। কিন্তু নিয়ম তো নিয়মই। তাই তাকে শেষমেষ দায়িত্ব ছেড়ে যেতেই হয়। অর্থাৎ লাইব্রেরির পুরো দায়িত্বটা এখন একা এন্ডির কাঁধে এসে পড়ে। অন্যদিকে ব্রুক্কস বাইরের পৃথিবীতে গিয়ে যেন সম্পূর্ণ এক নতুন পৃথিবীকে দেখে। এই 50 বছরে পৃথিবী যে এতটা পাল্টে
যেতে পারে তার কোনো ধারণাই ছিল না। কিছুদিন সে এক লোকাল ফুড স্টোরে কাজ নিয়ে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু শ্মশাং জেলই ছিল তার আসল ঠিকানা। তাই বাইরের এই মুক্ত পৃথিবী তার জন্য দম বন্ধ করে দিচ্ছিল। অবশেষে সে জেলের ভিতরে থাকা সঙ্গীদের কাছে একটা চিঠি পাঠিয়ে নিজেই সুইসাইড করে নেয়। ব্রুক্স এর এই করুণ পরিণীতিতে এন্ডি সহ সবাই বেশ স্যাড ছিল। তবে এর পরপরই এন্ডির কাছে এমন এক খবর আসে যাতে সে খুশিতে প্রায় আকাশের চাঁদ হাতে পায়। এতদিন ধরে জেলের লাইব্রেরির জন্য বই আনার কথা বলে পাঠানো প্রত্যেকটা চিঠিগুলোকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইগনোর করলেও এবার তারা বেশ
কিছু বই জেলের জন্য পাঠিয়ে দেয়। এন্ডি ওই বই গুলো গোছাতে গিয়ে সেখানে পুরাতন এক গ্রামোফোনের সিডি খুঁজে পায়। হঠাৎ কি মনে করে সে পাশে থাকা গ্রামোফোনে সেই সিরিজটা প্লে করতে থাকে। শুধু তাই নয় জেলের মাইক গুলোর সাথে ওই গ্রামোফোনের কানেকশন লাগিয়ে দিয়ে জেলের সমস্ত মাইকে সেই গান বাজাতে থাকে। কয়েক মুহূর্তের জন্য শ্মশাঙ্কের ভিতরে থাকা সমস্ত কয়েদিন নিজেদেরকে মুক্ত স্বাধীন অনুভব করতে থাকে। তবে এন্ডি কিন্তু এই কাজের জন্য শাস্তিও পায়। ওয়ারডেনের আদেশে দরজা ভেঙে তাকে বের করে দু সপ্তাহের জন্য কাল কুঠুরিতে বদ্ধ করে রাখা হয়। তখন সময়টা ছিল 1963 সাল। অর্থাৎ জেলে আসা প্রায় 16 বছর
পার করে ফেলেছে এন্ডি এর মাঝে আরো একবার রেডকে প্যারালের জন্য ডাকা হয় কিন্তু এবারও তার অফার রিজেক্ট করে দেওয়া হয় অন্যদিকে কিছুদিন পর এন্ডি তার লাইব্রেরির জন্য আরো একটা ডোনেশন আদায় করতে সক্ষম হয় কারণ গত বছরে সে ছোট্ট ডোনেশনের পর এন্ডি স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে সপ্তাহে দুটো করে চিঠি পাঠাচ্ছিল অবশেষে তারা শ্মশাঙ্কের জন্য একই সাথে প্রচুর বই পাঠায় আর এন্ডিও সবাইকে নিয়ে প্রিজন লাইব্রেরিটাকে নতুন করে সাজিয়ে তোলে তারা সেই লাইব্রেরিটার নাম রেখে দেয় ব্রুক্স এর নামে। ঠিক এক বছরের মধ্যেই দেশের সবচেয়ে সুন্দর প্রিজন লাইব্রেরি হিসেবে এই লাইব্রেরি সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এর জন্য ওয়ার্ডের নর্টন সব ক্রেডিট
নিয়ে নিলেও পুরো কৃতিত্বটাই ছিল আসলে এন্ডির। এদিকে নর্টন টাকা কামানোর আরেকটা নতুন উপায় বের করে ফেলে। সে কনস্ট্রাকশন কোম্পানিসহ নানা কোম্পানিকে নিয়মিত জেল থেকে লেবার সাপ্লাই দিতে থাকে। আর তাদের বিনিময়ে পাওয়া টাকাগুলো সে নিজের একাউন্টে পুড়ে নেয়। এছাড়াও কন্ট্রাক্ট পাওয়ার জন্য কোম্পানিগুলো তাকে মোটা অংকের ঘুষও দিতে থাকে। আর এই টাকাটা লন্ডারিং করার জন্য সে এন্ডিকে ব্যবহার করা শুরু করে। অন্যদিকে রেন্ডাল স্টাফেন্স নামের ভুয়া একাউন্টে এই টাকাগুলো জমা হতে থাকে। এভাবে আরো দু বছর পার হয়ে যায়। 1965 সালের শুরুতে শ্মশান জেলে নতুন বন্ধুদের সাথে টম উইলিয়ামস নামের এক নতুন তরুণের আগমন ঘটে। শুরুতে তাকে অনেকে অপছন্দ
করলেও ধীরে ধীরে তার হাসি খুশি স্বভাবের কারণে সবাই তাকে পছন্দ করতে শুরু করে। এন্ডির সাথে প্রথমে তার কিছুটা শীতল কথাবার্তা হলেও পরে তার লাইব্রেরির ব্যাপারে জানতে পেরে টমি ব্যাপক আগ্রহী হয়ে ওঠে কারণ সে জেলে বসে এখন নিজের জেনারেল এডুকেশন ডেভেলপমেন্টের এক্সাম পাস করতে চাইছিল এটা শুনে এন্ডি তাকে হেল্প করতে রাজি হয়ে যায় টমির অক্ষর চিন্তে কিছুটা সমস্যা থাকায় এন্ডি তাকে বর্ণমালা থেকে শুরু করে সবকিছুই শেখাতে থাকে অবশেষে পরীক্ষার দিন এন্ডি নিজেই জেলে বসে তার পরীক্ষা নেয় কিন্তু পরীক্ষার সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর টমি নিজের উপরে প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে তার উত্তরপত্র মুছে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। কারণ
তার মনে হচ্ছিল যে এই পরীক্ষায় সে দু' নম্বরও পাবে না। কিন্তু এন্ডি তার সেই মোচড়ানো উত্তরপত্র কুড়িয়ে নিয়ে বোর্ডের কাছে পাঠিয়ে দেয়। অন্যদিকে টমি রেডের সাথে কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ জানতে পারে যে এন্ডি তার স্ত্রী ও তার প্রেমিককে খুন করার জন্য এই জেলে এসেছে। এই কথা শোনার পর টমি হঠাৎ ভাবনায় পড়ে যায়। তারপর সে এন্ডি আর রেডকে চার বছর আগের একটা ঘটনা খুলে বলে। তার পাশের ছেলে ছিল ভয়ানক এক ডাকাত। যে ডাকাতি করতে গিয়ে প্রচুর লোক মেরেছিল। আর সেই লোকটা প্রায় ভীষণ গর্বের সাথে নিজের খুনগুলোর কথা বলে বেড়াত এমনি একদিন সে টমিকে বলে বসে যে
একবার ডাকাতি করতে গিয়ে সে অন্তরঙ্গ অবস্থায় এক কাপলকে খুন করেছিল আর সেই খুনের দায়ে গিয়ে পড়েছিল এক ব্যাংকারের কাঁধে তার মানে এই কাহিনী যে কোন দিকে মন নিচ্ছে তা তো তোমরা বুঝতেই পারছো এন্ডি যে আসলে নির্দোষ ছিল সেটা এতদিন কেউ বিশ্বাস করেনি অথচ শুরু থেকে এন্ডি এই একই কথা বলে আসছিল যে সে নিজের স্ত্রীকে খুন করেনি এখন টমির কাছ থেকে এই কথাগুলো জানার পর সে ওয়ারডেনের কাছে গিয়ে এসব খুলে বলে। কিন্তু তবুও ওয়ারডেন তার কথায় কান না দিতে চাইলে এন্ডি ভাবে যে হয়তো সে মানি লন্ডারিংয়ে ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়টা পাচ্ছে। তাই এন্ডি বলে বসে যে
এখান থেকে বের হয়ে গেলে এই মানি লন্ডারিং এর কথা সে কাউকেই জানাবে না। কিন্তু তাতে ওয়ারডেন আশ্বস্ত হওয়া তো দূরের কথা উল্টো টাকার কথা শুনেই সে যেন ছেদ করে জ্বলে ওঠে। তাই প্রচন্ড রেগে গিয়ে সে সাথে সাথেই এন্ডিকে এক মাসের জন্য কালকুঠরিতে পাঠিয়ে দেয়। ওদিকে টমির রেজাল্ট কার্ড এসে পৌঁছালে সে জানতে পারে যে সে আসলে ওই পরীক্ষায় পাশ করে গেছে। অর্থাৎ তাকে নিয়ে এন্ডির যে বিশ্বাস ছিল সেটা পুরোপুরি সফল হয়েছে। সেদিন রাতেই ওয়ার্ডেন হঠাৎ জেলের বাহিরের ফাঁকা মাঠে টমিকে ডেকে পাঠায়। সেখানে ডাকার পর ওয়ারডেন তাকে জিজ্ঞেস করে যে এন্ডির ব্যাপারে যে সেই কথাগুলো বলেছে সেটা
সে কোর্টে বলতে পারবে কিনা। টমি ভাবতে থাকে যে ওয়ার্ডেন হয়তো এন্ডিকে হেল্প করার কথাই ভাবছে। তাই সে সাথে সাথে হ্যাঁ বলে দেয়। এই কথা শুনেই ওয়ারডেন খুশি হয়ে তার পিঠ চাপড়া দিয়ে সামনের দিকে হাঁটা শুরু করে কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই পিছন থেকে তার পিঠে পরপর তিনটা গুলি চালায় গার্ড হার্ডলি তার মানে ওয়ারডেন এন্ডিকে জেল থেকে বের হতে না দেওয়ার জন্য টমিকে শেষ করে দিল ভাইরে ভাই আমার জীবনে আমি আর কোন মুভিতে এতটা নির্মম দৃশ্য দেখিনি এই সিন দেখে লিটারালি আমার বুক কেঁপে উঠছিল টমির কিন্তু স্ত্রী এবং একটা সন্তান ছিল আর ওয়ারডেন সেটা জানতো কিন্তু তবুও সে
নিজের মানি লন্ডারিং এর এই তরুণ ছেলেটাকে মারতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি। এই খবর সে নিজেই আবার এন্ডির কাছে নিয়ে যায়। যদিও সে বলে যে টমি জেল থেকে পালাতে গিয়ে মারা পড়েছে। কিন্তু এন্ডি ঠিকই আসল কাহিনী বুঝে যায়। এবার ওয়ারেন তাকে হুমকি দিয়ে বলে যে যদি সে তার জন্য আর কাজ করতে না চায় তাহলে তার সব গার্ড প্রোটেকশন তুলে নেওয়া হবে। যার ফলে তাকে এই জেলে সমস্ত দাগী অপরাধীদের সাথে এক ভয়ঙ্কর ছেলে রাখা হবে। এছাড়াও জেলের লাইব্রেরিটাকে সে গুড়িয়ে দিয়ে সমস্ত বইপত্র পুড়িয়ে ছাই করে দেবে। এসব কথা বলার পর ওয়ারডেন তাকে আরো এক মাসের জন্য কাল কুঠুরিতে
বদ্ধ করে রাখার আদেশ দেয়। এর ঠিক দু মাস পর কালকুঠুরি থেকে মুক্তি পেয়ে এন্ডি রেডকে বলে যে তার স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য সে নিজেই দেয়। যদিও ট্রিগারটা সে জানেনি। কিন্তু তার স্ত্রীকে সে নিজের করে নিতে পারেনি। আর এটাই হলো তার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এন্ডি আরো বলে যে তার জীবনের ইচ্ছে হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পাশে জি হুয়াতেন জু নামের এক মেক্সিকান দ্বীপে থাকা এরপর সে হঠাৎ রেড কে বলে যদি রেড এখান থেকে কখনো বেরোতে পারে তাহলে তাকে বাক্সটন শহরের একটা মাঠে যেতে হবে সেখানকার এক ভাঙ্গা পাথরের দেওয়ালের পাশে ওক গাছের নিচে পাথরের জিবিতে কিছু একটা পোতা আছে যেটা
তাকে খুঁজে বের করতে হবে কিন্তু সেখানে কি আছে সে এটা রেডকে বলে সেদিন খাওয়া দাওয়ার সময় রেড সবাইকে জানায় যে এন্ডি কেমন যেন অদ্ভুত আচরণ করছে। এরপর হেইউড হঠাৎ বলে ওঠে যে এন্ডি তো তার কাছ থেকে প্রায় ছ ফুট লম্বা দড়িও চেয়েছে। তার মানে কি সে এখন সুইসাইড করতে যাচ্ছে? সবার মনে এই সন্দেহটা ইতিমধ্যে দানা বাধতে থাকে। এদিকে সেদিন কাজ শেষে যথারীতি এন্ডি ওয়ার্ডেনের জন্য ব্যাংকের টাকা ডিপোজিট করে দেয়। এরপর ওয়ার্ডেনের ফাইল ভল্টে রাখার পর সে এন্ডিকে আদেশ দেয় যেন সেলে ফিরে যাওয়ার আগে এন্ডি তার জুতো পালিশ করে দেয়। আর এন্ডিও সেই কথা অনুসারে জুতো
পালিশ শুরু করে। এবার কাজ শেষে সন্ধ্যাবেলায় সে সবার সাথে নিজের সেলে ফিরে আসে। সেদিনের রাতটা ছিল রেডের জীবনের দীর্ঘতম রাত। এন্ডির চিন্তায় সে সারারাত ধরে ঘুমাতে পারেনি। কিন্তু পরের দিন সকালবেলা সবার সেল খুলে যখন হেড কাউন্টের জন্য ডাকা হয় তখন এন্ডি তার সেল থেকে বের হয় না। এই দৃশ্য দেখে রেডের বুক তখন আরো বেশি ধরফর করে ওঠে। জেলের এক গার্ড যখন তাকে কয়েকবার ডেকে কোন সারা শব্দ পায় না তখন সে সেলের ভিতরে গিয়ে যা দেখে তাতে তার হুশ একদম উড়ে যায়। সেলের ভিতরে এন্ডির কোন চিহ্নই নেই। মানে সেল থেকে পুরোপুরি গায়েব হয়ে গেছে। অথচ এই
সেল বাইরে থেকে লক করা ছিল এবং তার দেওয়ালের ভিতরে কোন গর্ত দেখা যাচ্ছে না। তাহলে এন্ডি আসলে কোথায় গেল? কাল সন্ধ্যায় তার নাম রেস্ট্রিবুকে এন্টি করিয়ে দিয়ে তাকে সেলে ঢোকানো হয়েছিল। ওয়ারডেনের কাছে এই খবর গেলে সে তো পুরোই পাগল হয়ে যায়। প্রথমে সে রেডকে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করতে থাকে যে এন্ডি তাকে কিছু বলেছে কিনা। কিন্তু রেড কিছু না জানার কথা বললে সে পাগলের মতন এন্ডির বানানো দাবার গুটিগুলো এদিক সেদিক ফেলে দিতে থাকে তবে হঠাৎ এর মধ্যে একটা গুটি দেওয়ালে টাঙানো নায়িকার ছবির ভিতরে ঢুকে যায় অবাক হয়ে ওয়ারডেন সেই ছবির দিকে হাত বাড়ালে তার হাতটাও ছবির
ভিতরে ঢুকে পড়ে এরপরে ছবি সরিয়ে দেখা যায় যে ছবির পিছনে রয়েছে বিশাল এক টানেল ভাইরে ভাই তার মানে 20 বছর ধরে এন্ডি তার র্যামার দিয়ে দাবার গুটি বানাচ্ছিল না বরং সে এখানে খোদাই করছিল তার পালিয়ে যাওয়ার জন্য একটা ট্যানেল। অথচ এতদিন ধরে কেউই কোন কিছুই টের পায়নি। আর বুঝতেই পারছো দেওয়ালে টাঙানো ছবিটা আসলে এই ট্যানেলটাকেই আড়াল করার জন্য রেখেছিল। অথচ কেউই সেটা খেয়াল করেনি। জেলের গার্ডরা দ্রুত বাইরে সার্চ করে নালা থেকে এন্ডির পুরাতন জামা আর সাবান খুঁজে পায়। আসলে এন্ডি হেইডের কাছ থেকে রশি সুইসাইডের জন্য চায়নি। বরঞ্চ সে সেটা চেয়েছিল তার পায়ের সাথে নিজের জিনিসপত্রগুলো
বেঁধে রাখার জন্য। সেদিন রাতে প্রচন্ড বজ্রপাত হওয়াতে এই রাতটায় ছিল তার জন্য বেস্ট একটা রাত। রাতের বেলা ছবিটাকে সে সরিয়ে টানেলের ভিতরে ঢুকে আবারও সেটা ঠিকঠাক করে দেয়। এরপর সে রেডকে দিয়ে আনার টর্চ দিয়ে ট্যানেলের পথ ধরে এগোতে শুরু করে। গত 20 বছর ধরে এন্ডি জেলের সুয়েস পাইপ অব্দি এই ট্যানেল খুড়ে ফেলেছিল। আরো ভয়ানক ব্যাপার হলো পাইপের কাছে পৌঁছানোর পর বজ্রপাতে শব্দের সাথে মিলিয়ে মিলিয়ে সেই পাইপের একের পর এক ইট দিয়ে বাড়ি মারতে থাকে। যার ফলে বজ্রের শব্দের কারণে সেই বাড়ির আওয়াজ কারো কানে পৌঁছায়নি। তারপর পাইপ ফেটে গেলে সে তার ভিতরে ঢুকে পড়ে। এই পাইপের
ভিতরে ছিল জেলখানার সমস্ত কয়েদিদের মলমূত্র। মানে চিন্তা করো 500 গজের এই পাইপ পেরনোর জন্য একটা মানুষের কতটা মানসিক শক্তির দরকার। ভাইরে ভাই এই প্রচন্ড নোংরা গায়ে মেখেও এন্ডি অবশেষে বাইরে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়। আর বেরিয়ে এসেই সে মুক্তির আনন্দে নিজের দু হাত মেলে ধরে। তারপর সে নিজেকে পরিষ্কার করে নিয়ে সকাল বেলায় ব্যাংকের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এতদিন ধরে ওয়ারডেনের মেরে খাওয়া টাকাগুলো যে রেন্ডাল স্টেফেন নামের লোকটার একাউন্টে যাচ্ছিল সেই লোকটা অদতে অ্যান্ডি নিজেই ছিল। তাই সমস্ত আইডি প্রুফ ও সিগনেচার দিয়ে এন্ডি ওয়ারডেনের কাছ থেকে 3 লাখ 73,000 ডলার তুলে নেয়। আর অন্যদিকে ওয়ারডেন পরের দিন
সকালে নিজের জুতোর বক্স খুলে দেখতে পায় যে একজোড় ছেড়া পুরাতন জুতো। তার মানে সে যে জুতো জোড়া এন্ডি কে পলিশ করতে দিয়েছিল সেই জুতোগুলো এন্ডি পলিশ করেছে ঠিকই কিন্তু তবে সেটা তার জন্য নয় নিজের জন্য সেদিন রাতে কেই তার পায়ে এই নতুন জুতো জোড়া গুলো খেয়ালই করেনি। ওদিকে ব্যাংকে যাওয়ার পর সব টাকা তুলে নিয়ে এন্ডি ওয়ার্ডেনের নামে মানি লন্ডারিং এবং সমস্ত ডকুমেন্ট সহ টমির মার্ডারের কথা উল্লেখ করে একটা ফাইল ব্যাংক কর্মচারীদের হাতে তুলে দিয়ে দা বিউগাল নামের একটা ম্যাগাজিনের মেইল এড্রেসে পোস্ট করে দিতে বলে। পরের দিন সকালে সেই ম্যাগাজিনের প্রথম পাতায় ছাপা হয় শ্মশাং জেলের
ওয়ারডেনের দুর্নীতি আর ইনোসেন্ট টমির মার্ডারের খবর। এই খবর প্রকাশ হওয়া মাত্রই পুলিশ এসে প্রথমে হেডলি আর তার সঙ্গীদেরকে পাকড়াও করে ফেলে। এতদিন ধরে কয়াদিদের সাথে কুকুরের মতন ব্যবহার করা হেডলিকে এখন দেখে মনে হচ্ছিল যে সে একটা নেংটি ইদুর। অন্যদিকে ওয়ারডেন পত্রিকার সে খবর পড়ে দ্রুতই নিজের ভল খুলে দেখে যে সেখানে এন্ডিকে দেওয়া বাইবেলের সাথে একটা ফেক ফাইল ছাড়া আর কিছুই নেই। এই বাইবেল খুলে সে দেখতে পায় যে তার ভিতরের পৃষ্ঠাগুলো পারফেক্ট ভাবে হাতুড়ি লুকানোর জন্য কাটা রয়েছে তার মানে এন্ডি এতদিন রক হ্যামার এই বাইবেলের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল আর এর জন্য গার্ডরা সেই হাতুড়িকে কোনদিনও খুঁজে
পায়নি ভাইরে ভাই এই লেভেলের মাস্টার প্ল্যান লিটারেলি মানি হাইস্টের প্রফেসরের চেয়েও বহু গুনে মানে এবার বুঝতে পারলে তো এই মুভিটাকে কেন পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা মুভি বলা হয় যাই হোক কিছুক্ষণ পর ওয়ারডেন দরজার সামনে তাকে অ্যারেস্ট করার জন্য হাজির হয় পুলিশ। কিন্তু তার পুলিশের হাতে ধরা দেওয়া কোন ইচ্ছেই ছিল না। তাই পুলিশ দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার আগে সে নিজেকে শুট করে শেষ করে দেয়। এভাবে সেই নিষ্ঠুর ওয়ার্ডের নরটন তার কাজের উপযুক্ত পরিণতি পায়। এরপর এন্ডি চলে যাওয়ার পর রেড জেলের ভিতরে একা একা তাকে মিস করতে থাকে। তবে কিছুদিন আগে তার কাছে পোস্টকার্ড আসলে সে বুঝতে পারে
যে এন্ডি ইতিমধ্যে তার স্বপ্নের দ্বীপে পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে আরো কয়েকদিন পর রেডকে আবারো ব্যারেলের জন্য ডাকা হয়। আগের প্রতিটা মিটিংয়ে সে নিজেকে শুধরে ফেলার কথা বললেও এবার সে পুরো উল্টো জবাব দেয় সে জানায় যে অনেক বছর আগে সে যে অপরাধ করেছে তার জন্য সে নিজের তরুণ সত্তার উপরে আফসোস করে তার জীবন শেষ করার জন্য সে নিজেকে দায়ী মনে করতে থাকে কিন্তু অন্য কেউ তাকে সাধু মনে করে কিনা তাতে তার কিছু আসে যায় না তাই অফিসাররা এবার তার জন্য যা ইচ্ছা সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেননা সে কারোর কেয়ারই করে না তবে মজার ব্যাপার হলো আগের প্রতিটা মিটিংয়ে
এ ভদ্রভাবে উত্তর দেওয়ার পরেও তাকে প্রতিবারই রিজেক্ট করা হয়েছিল। কিন্তু এবার পুরোপুরি পাকা উত্তর দেওয়ার পর তাকে প্যারেলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মানে সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে তা ব্যাকা করতে হয়। প্রায় 40 বছর পর জেল জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে রেড বাইরের পৃথিবীটাকে নতুন করে দেখে। ধীরে ধীরে সে খাপ খাইয়ে নিয়ে সে ব্রুক্স যেখানে গিয়েছিল সেখানে বসবাস শুরু করে। এমনকি ব্রুক্স এর মতোই সেই দোকানটাতেও সে কাজ শুরু করে দেয়। রেড বাইরের দুনিয়ার জীবনের সাথে কিছুটা খাপ খাইয়ে নিলেও ব্রুক্স এর মতো সেও সহজে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারে না। কেননা জেলের চাঁদ দেয়াল তার কাছে আপন
হয়ে গিয়েছিল যার কারণে তারও ব্রুক্স এর মতো নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ইচ্ছে করে। তবে সে এন্ড্রিকে প্রমিস করেছিল যে জেল থেকে বের হতে পারলে সে বাক্সটনের সেই ওক গাছের নিচে গিয়ে কিছু খুঁজবে। যেটার কথা এন্ডি তাকে বলেছিল। ঠিক সেই কথা মোতাবেক একদিন সকালে সে ঠিকঠাক ওই লোকেশনে চলে যায়। এরপর ঢিবি থেকে পাথর সরিয়ে সে একটা টিনের বক্স খুঁজে পায়। এই বক্সের ভিতরে একটা খামে কিছু টাকা এবং একটা চিঠি লেখা ছিল। এই চিঠিতে এন্ডি তাকে লিখেছিল যে যেহেতু তুমি এতদূর এসেছো তাহলে আরো কিছুটা আসো। আমার নিজের কাজের জন্য একজন সঙ্গী দরকার। আর তোমার চাইতে বেটার আমি
আর কাউকেই খুঁজে পাবো না। তারপর রেড এন্ডির দেওয়া লোকেশন অনুসারে মেক্সিকোর সেই দ্বীপে চলে যায়। দ্বীপে যাওয়া মাত্রই তার সাথে আবারো দেখা হয় তার পুরাতন বন্ধু এন্ডির সাথে অনেকদিন পর দুই বন্ধু আবারো একত্রিত হয়ে নিজেদের নতুন জীবন শুরু করে আর ঠিক এমন হ্যাপি এন্ডিং এর মাধ্যমে এই অসাধারণ মুভিটা এখানেই শেষ হয় তো কি বুঝলে এই মুভিটা আমাদেরকে যেমন জেল জীবনের নিষ্ঠুরতা সম্পর্কে ধারণা দিল ঠিক তেমনি এটা বোঝালো যে মানুষ অনেক সময় বিনাদোষে শাস্তি ভোগ করে আবার কোন কোন অপরাধী ভালো হতে চাইলেও আশেপাশের লোকেরা তাকে ভালো হতে দেয় তবে সদিচ্ছা থাকলে নিজেই সব অতীত ভুলে এন্ডির
মত নতুন করে জীবন গড়ে তোলা সম্ভব। আর এভাবেই এই অসাধারণ মেসেজের মাধ্যমে এই মাস্টারপিস মুভিটা এখানেই শেষ হয়। তো ভিডিওটা ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই একটা লাইক করতে ভুলো না। আর সেই সাথে সাথে নতুন ভিডিও দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে এখানেই বিদায় নিচ্ছি। ধন্যবাদ।