আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি বন্ধুরা আজকের এই ভিডিওতে আমরা মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ও এক রাখালের বিষয়কর ঘটনা সম্পর্কে বলতে চলেছি যা শুনে আপনার মন ছুঁয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ তাই ভিডিওটি একবারে শেষ পর্যন্ত দেখবেন বেশ কিছুদিন পূর্বে প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন তার ইন্তেকালের পর হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এখন মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা লোকেরা খলিফাকে আমিরুল মুমিনীন বলে ডাকে বিভিন্ন অভাব অভিযোগ পেশ করে নিজেদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করে নেয় আর অন্যায়কারী ও জালিমরা ভোগ
করে কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর চমৎকার একটা অভ্যাস ছিল সময় পেলে তিনি শহরের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ে কখনো বা চলে যেতেন শহরের বাহিরে একেবারে পল্লী এলাকায় সেখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন তাদের খোঁজখবর নিতেন যারা অভাব অনটনে আছে তাদের অভাব দূর করতেন যারা রুগ্ন অসুস্থ তাদের সেবা যত্ন করতেন কোথাও অন্যায় অবিচার দেখলে তার প্রতিকার করতেন একদিন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু চলতে চলতে শহরের বাহিরে বহুদূর চলে যান সাথে কোন সফর সঙ্গী ছিল না ফলে অনেক পথ চলার কারণে একসময় তার প্রচন্ড ক্ষুধা লাগলো ধুধু মরু প্রান্তরে কোথাও কোন লোকালয় চোখে পড়ছে না
ক্ষুধার যন্ত্রণায় তিনি অস্থির মুখে দেওয়ার মতো দুমুঠো খাবারও কাছে নেই এবার তাহলে উপায় হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ক্ষুধা পিপাসায় কাতর হয়েও সামনে চলতে লাগলেন বেশ কিছু পথ অগ্রসর হওয়ার পর একটি বকরির পাল নজরে পড়লো তিনি মনে মনে ভাবলেন বকরির মালিক থেকে কিছু দুধ নিয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণা নিবৃত করবেন তাই সেখানে গিয়ে বললেন ভাই আমি একজন মুসাফির সাথে কোন খাবার নেই আমার বেশ ক্ষুধা পেয়েছে যদি তুমি অনুগ্রহ করে কিছু পয়সার বিনিময়ে আমাকে সামান্য দুধ দাও তবে বড়ই উপকৃত হব উত্তরে লোকটি বলল হে সম্মানিত অতিথি আমি অবশ্যই আপনার আবেদন পূর্ণ করতাম দুধ পান করিয়ে আপনার ক্ষুধার যন্ত্রণা
দূর করতাম কিন্তু দুঃখ লাগছে এজন্য যে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমি তা পারছি না কারণ এসব বকরির মালিক আমি নই রাখাল মাত্র সুতরাং আপনি বলুন মালিকের অনুমতি ব্যতীত দুগ্ধ দহন করে কিভাবে আপনাকে তা পান করাবো রাখালের সততায় একটা খুশি দোলা দিয়ে যায় খলিফার অন্তরে ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে একটা মৃদু ক্ষীণ হাসির রেখা অভূতপূর্ব আনন্দে হৃদয় মন নেচে ওঠে তার সেই সাথে ভুলে যান ক্ষুধা পিপাসার যন্ত্রণার কথাও হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কিছুক্ষণ নির্বাক দৃষ্টিতে রাখালের দিকে তাকিয়ে থাকেন তারপর তাকে আরেকটু পরীক্ষা করার জন্য বলেন যদি আমার কথা মতো কাজ করো তবে তোমাকে দারুণ একটি প্রস্তাব শোনাবো
বুঝতেই পারছো প্রস্তাবটি নিশ্চয়ই লাভজনক হবে তখন রাখাল বলল বলুন আপনার কি প্রস্তাব খলিফা বললেন তুমি একটি বকরি আমার নিকট বিক্রি করো বকরির মূল্য এখনই তোমাকে দিয়ে দেব এতে বকরি দহন করে আমি যেমন দুধ পান করতে পারবো তেমনি প্রয়োজন হলে তা জবাই করেও খেতে পারবো পরে মালিক তোমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বলবে একে বাঘে খেয়ে ফেলেছে আর বাঘ তো বকরির উপর হামলা করেই থাকে বাঘ আসলেই বকরি খেল কিনা তা তো মালিক আর যাচাই করে দেখবে না আর যাচাই করবেই বা কেমন করে এখন তো তোমার সাথে অন্য কোন রাখাল নেই যে তার কাছে মালিক জিজ্ঞেস করে প্রকৃত
অবস্থা অবগত হবেন এদিকে আমার দেওয়া অর্থগুলো তোমার নিকট থাকলে বিপদে আপদে অনেক উপকারে আসবে প্রয়োজনে খরচ করতে পারবে ইচ্ছে হলে পরিবারের লোকদের জন্য ভালো কোন জিনিস ক্রয় করে নিবে এতে তারা তোমার উপর সীমাহীন খুশি হবে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাবে মোট কথা আমার এই প্রস্তাবটি তোমার জন্য বড়ই কল্যাণ বয়ে আনবে সেই সাথে আমারও কিছু উপকার হয়ে যাবে রাখাল খলিফাকে চিনতে পারেনি সে এতক্ষণ তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিল খলিফার বক্তব্য শেষ হলে রাখাল বলল ভাইজান আপনার ধারণা মতে প্রস্তাবটি হয়তো বেশ সুন্দর এবং উভয়ের জন্য সুবিধাজনক প্রস্তাবটি মেনে নিলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে আমার আপনার কিছু ফায়দা হবে এতে
কোন সন্দেহ নেই কিন্তু আমার কথা হলো মিথ্যা বলে মালিককে না হয় প্রতাারিত করতে পারব তাকে বুঝিয়ে দিতে পারব সত্যিই বকরিটিকে বাঘে খেয়ে ফেলেছে কিন্তু যিনি আমার মালিকেরও মালিক যিনি সবকিছু দেখেন শুনেন বোঝেন সেই রাব্বুল আলামীন আল্লাহকে তো প্রতারিত করা যাবে না পার পাওয়া যাবে না মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সুতরাং আমার পক্ষে আপনার প্রস্তাব মেনে নেওয়া কিছুতেই সম্ভব নয় রাখালীর বক্তব্য শুনে আবারো এক আনন্দে আপ্লুত হলো খলিফার হৃদয় মন খুশির ঝাপটা তার সমস্ত অন্তরে একটা শান্তির প্রলেপ বুলিয়ে দিয়ে গেল তিনি বললেন যতদিন এ পৃথিবীতে তোমার ন্যায় সৎ আল্লাহ ভীরু ও বিশ্বস্ত মানুষ বিদ্যমান থাকবে ততদিন এ জাতির
উপর কোন বিপর্যয় নেমে আসবে না মনে রেখো যে পর্যন্ত মানুষের মধ্যে আল্লাহর নিকট জবাবদিহিতার ভয় থাকবে সে পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অবশিষ্ট থাকবে আর যেদিন মানুষের হৃদয় থেকে জবাবদিহিতার ভয়ে বিলুপ্ত হবে সেদিন মানুষ আর মানুষ থাকবে না হায়নায় পরিণত হবে বাঘের ন্যায় হিংস্র ও রাক্ষসের ন্যায় রক্ত পিপাসু প্রিয় দর্শক কোন গুনাহ করার সুযোগ এলে আমরাও যদি ওই বিশ্বস্ত রাখালের ন্যায় আল্লাহর উপস্থিতির কথা স্মরণ করি এবং তার নিকটের জবাবদিহি করার ভয় করি তবে আমরা খোদাভীরু হতে পারব সফল হতে পারবো দুনিয়া আখিরাত উভয় জাহানেই হে আকাশ বাতাস ও চন্দ্র তারকার সৃষ্টিকর্তা তুমি আমাদের তৌফিক দাও
আমিন