এসে সত্যি মজা লাগল। থ্যাংক ইউ। এসব বিক্রমই করেছে। ওর প্রিয় মেয়ের জন্মদিন প্রতিবছর ধুমধাম করে পালন করা হয়। তাতে কি হয়েছে? মেয়ের জন্মদিন বাবা ধুমধাম করে পালন করবে না তো কে করবে? ঠিক বলেছেন। কিন্তু ওকে খুশি লাগছে না কেন? মনে হচ্ছে কোন চিন্তায় মগ্ন রয়েছে। না না ও বোধহয় নিজের উপহারের অপেক্ষা করছে। তাই বুঝি? কেন? কোন বিশেষ উপহারের আসার কথা বুঝি? হ্যাঁ। ইন্টারনেটের অর্ডার করা হয়েছিল। চলে আসার তো কথা। কিন্তু দেখুন না এই কুরিয়ারের লোকগুলো এখনো এলো না। এই জন্যই আমি কম্পিউটার থেকে কোন জিনিস কিনিনি না। কে জানে সময় আসবে কি আসবে না। কোয়ালিটি ঠিক
হবে কি হবে না। চল না। চল না। আমি আমি আসবো না। তোমরা যাও। আচ্ছা আপনারা কথা বলুন আর আমি একটু ওদিকটা দেখে আসছি ঠিক আছে কি হয়েছে সোনা এত চুপচাপ কেন তোমার বাবাকে বলবে না তোমার ডল তো আমি কিন্তু আমার ডল কোথায় সোনা এসে যাবে ডল আজ না এলে কাল চলে আসবে না আমার আজই যাই আমার জন্মদিন আজকে কাল না নিশ্চয়ই খুলবো এক্ষুনি খুলছি। আমার দল এসে গেছে। আরে কিন্তু কুরিয়ারের লোকটা কোথায় চলে গেল? বুঝতে পারছি না। তারা ছিল বোধহয় তাই চলে গেছে। কুরিয়ারওলাকে ছাড়ো না মা। গিফট তো পেয়ে গেছি। খোলো তাড়াতাড়ি। দেখি কি আছে।
তাড়াতাড়ি এই নাও ওয়াও কি সুন্দর না দেখো কি হল ছেড়ে দাও এটা কি করলে তুমি দলটা নষ্ট করে দিলে এটা কি? মানুষের চোখ। এখন কেমন আছে স্যার? অবস্থা খুব একটা ভালো না। গুড়িটা একদম বুকের পাশেই লেগেছে। আচ্ছা। আর স্যার বাঁচার আশাও খুব কম দেখতে পাচ্ছি। আচ্ছা পুরবি কোথায়? যখন কোন সিআইডি অফিসার ছুটিতে থাকে তখন তার গুলি চালানোর আগে 10 বার ভাবা উচিত বুঝেছো? আমি কি করবো স্যার? আমার কিছু করার ছিল না। একজন অসহায়ের প্রাণ বাঁচাতে আমাকে এসব করতে হয়েছে। এর বুকে গুলি চালিয়ে শরীরের তো অন্য কোন জায়গায় গুলি চালাতে পারতে। আমি আপনাকে কি করে বোঝাব?
কিছু বোঝানো দরকার নেই আমাকে। আর বোঝানোর বাকিটা কি আছে? তুমি আমাকে মিথ্যে বলেছ আমাকে। এই অফিসারদের দেখছো দুজন সিনিয়র অফিসারদের? এরা আজ পর্যন্ত আমাকে মিথ্যে কথা বলেনি। দুদিন হয়নি সিআইডিতে জয়েন করেছো আর তুমি এরকম করবে আমি কখনো এটা আশা করিনি। না স্যার আমি সবসময়ের জন্য সিআইডি জয়েন করতে চেয়েছিলাম স্যার। আমি আমি দেশের সেবা করতে চেয়েছি। দোষীকে শাস্তি দিতে চেয়েছি স্যার। আর এখন আমি তাই করেছি। আমি কোন মহিলার উপর অত্যাচার হতে দেখতে পারবো না। আর এই লোকটা যদি আমি এই লোকটাকে না মারতাম তাহলে নিজের স্ত্রীকে মেরে ফেলতো স্যার। স্যার এ মানুষ নয় এ জানোয়ার স্যার। এ
কোন জানোয়ার নয়। এ একটা মানুষ মানুষ। আর তুমি তুমি শুধুমাত্র একজন অফিসার। কাউকে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার তোমার অধিকার নেই। এই অধিকার শুধুমাত্র আদালত দিতে পারে। বুঝেছো? অভিজিত সাসপেনশন অর্ডারটা দিয়ে দাও ওকে। না স্যার স্যার। স্যার এটা স্যার এরকম করবেন না স্যার স্যার আমার ক্যারিয়ার আমার স্বপ্ন সব শেষ হয়ে যাবে আমি কি করব স্যার দেখ তুমি শুধু এটা প্রার্থনা করো যেন লোকটা বেঁচে যায় কারণ এ যদি মারা যায় তাহলে তোমার সিআইডিতে থাকা অসম্ভব হয়ে যাবে না স্যার হ্যালো এসিবি প্রদ্যমান কি পোতলটা প্লাস্টিকের কিন্তু চোখ দুটো মানুষের অভিজিত দেখে তো বিশ্বাসই করা যায় যে কেউ এরকম জঘন্য কাজ
করতে পারে একবারও খেয়াল করে না বাচ্চাদের দের কথা খুব কষ্ট করে আমি ঘুম পাড়িয়েছি মীরা আর সিমিকে বাকি সব বাচ্চাদেরও আমরা বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি মাথায় উঠে না স্যার প্রয়োজন কি পড়েছিল প্লাস্টিকের পুতুলের মধ্যে মানুষের চোখ লাগানোর স্যার এই চোখটা কোন জন্তুরও তো হতে পারে না বিবেক দেখো দেখে তো মনে হয় না এটা কোন জন্তুর চোখ বরং মনে হচ্ছে এটা মানুষের চোখ কোন মানুষের চোখ পুতুলের মধ্যে লাগিয়ে এরা কেন বিক্রি করছে চোখটা তো পোচতেও শুরু করেছে এই পুতুলটা কোথা থেকে কিনেছেন আপনি? স্যার এটা আমরা কিনিনি বরং আনিয়েছি। কোথা থেকে? আগে ইন্টারনেট থেকে। একটা সাইট আছে www.নিol.com
ওখানেই এ ধরনের পুতুল পাওয়া যায়। তারমানে এই পুতুলটা আপনার বাড়িতে কোন কুরিয়ারের লোক নিয়ে এসেছিল? হ্যাঁ। কোন কোম্পানির কুরিয়ার ছিল? আই মিন রশিদ রশিদ আছে না আপনার কাছে? ডলটা আসলে দরজার বাইরে রেখে চলে গেছে। আমি তাকে দেখতেও পাইনি। আশ্চর্য কথা বলছেন। আপনি এটা জানেন না যে কোন কোম্পানি ছিল। কে এসে পুতুলটা বাইরে রেখে গেছে সেটাও জানেন না। কটা নাগাত হয়েছে? এই ধরুন রাত 10 টা নাগাত? রাত্রি 10:00 টায়? হ্যাঁ। হ্যাঁ। বড় আশ্চর্য ব্যাপার। অভিজিত রাত্রি 10:00 টার সময় কুরিয়ারের লোক আসে। রিসিডে কোন সাইন না করিয়েই এখানে পার্সেলটা রেখে চলে যায়। কিছু গোলমাল আছে ব্যাপারটা। কিছু
গোলমাল নিশ্চয়ই আছে। স্যার ওই ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখতে হবে যে এই লোকটার পরিচয় কি আর কেন এই পুতুল বিক্রি করছে। হ্যাঁ বিবেক ওয়েবসাইটে গিয়ে তো আমরা দেখবোই। প্রথমে প্রথমে এটা খবর নিতে হবে যে নীলছে চোখওয়ালা এমন কোন লোকের নিখোঁজ হওয়ার রিপোর্ট লেখানো হয়েছে কিনা। মানুষের চোখ আর জন্তুদের চোখের মধ্যে পার্থক্য থাকে। কেমন পার্থক্য স্যার? জন্তুর চোখের সাইজ আর গঠন মানুষের চোখের গঠন আর সাইজের থেকে আলাদা হয়। কিন্তু জন্তুর চোখও তো মানুষের চোখের মধ্যে দেখতে হয় স্যার। দেখতে এক হতে পারে কিন্তু হয় না। দেখো মানুষ সোজা দেখে আর জন্তু বেশিরভাগ চারিদিকে দেখে। এইজন্য জন্তুদের চোখ বাইরের দিকে
বেরিয়ে থাকে। অনেক বড় হয়। যেমন এইরকম। মানুষের চোখ আর জন্তুদের চোখের মধ্যে পার্থক্য হয়। এই দেখো এর সাইজ দেখো। আর মানুষের চোখের সাইজ দেখো। আর দেখো এর যে মাসেলস হয় সেগুলো আলাদা রকম হয় মানুষের চোখের মাসেলস এর থেকে আর বস আমি এই চোখটাকে খুব ভালো করে চেক করেছি আর এটা নিশ্চিত যে এই চোখ কোন একজন মানুষের ডক্টর সালুকে এই চোখটা এত ধীরে ধীরে পড়ছে কেন সেটা এই জন্য দয়া যে এই চোখের উপর এক বিশেষ ধরনের আস্তরণ আছে যে কারণে পচনের প্রসেস একটু ধীরে ও এই কারণেই চোখটা আস্তে আস্তে পড়ছে হ্যা এতে ফরমালডিহাইড কেমিক্যাল লাগানো আছে
যেটা চোখকে তাড়াতাড়ি পৌঁছতে দেয় না। কিন্তু তাতে কতদিন ভালো থাকবে? যখন এই কেমিক্যাল শুকিয়ে যাবে তখন তো ফের পৌঁছতে শুরু করবে। হ্যাঁ সে কথাটা তো ঠিক। যদি পুতুলটা ভেঙ্গে না যেত তাহলে কম করে এই চোখটা 10 বার 12 দিন ঠিক থাকতো। কোন পাগলের কাজ নিশ্চয়ই এটা। ভয়ঙ্কর মানসিক বিকারে ভুগছে। না হলে কেউ মানুষের চোখ লাগাবে কেন এখানে? শুধু মানুষ নয় বস। জীবিত মানুষ। কি? হ্যাঁ বস। এই চোখ যখন বার করা হয়েছিল সেই মানুষটি বেঁচে ছিল। জীবিত মানুষের চোখ বের করে নেওয়া হয়েছিল। এ দেখো এই চোখের পেছনে যে নার্ভ আছে তাতে এখনো রক্ত লেগে আছে। এর
মানে এটা পরিষ্কার। যখন এই চোখটা বার করা হয়েছিল তখন মানুষটা জীবিত ছিল। বেচারার কতই না কষ্ট হয়েছে। কতই না চেঁচিয়েছে যন্ত্রণা পেয়ে? কিন্তু ডক্টর সালুকে কোন মানুষের চোখ এত এত ছোট পুতুলের মধ্যে কি করে? এটা সার্জারি। কোন একজন ভালো সার্জেন এই চোখটাকে আকারে ছোট করেছে এই পুতুলের চোখের মাপে। আর এই কাজটা কোন একজন স্পেশালিস্ট করতে পারে। কোন একজন ভালো সার্জেন্ট অথবা কোন ভালো ডাক্তার। ডক্টর নয় সার্জেন্ট। স্যার হতে পারে এই কাজটা কোন চোখের ডাক্তার করেছে। কারণ চোখের ডাক্তাররাই ভালো করে জানে। চোখকে কি করে প্রিজার্ভ করতে হয়? ডক্টর সালুকে চোখ দেখে কি এটা বলা সম্ভব যে,
সেই চোখটা পুরুষের না মহিলার? হ্যাঁ জানতে পারা যাবে। দেখো এই যে আমরা যে নার্ভটা দেখতে পাচ্ছি এতে যে রক্ত লেগে আছে এইটা যদি ডিএনএ টেস্ট করা যায় তাহলে জানতে পারা যাবে যে এই চোখটা কোন মহিলার না পুরুষের আর আমি এই রক্তটার ডিএনএ টেস্ট করেছি এবং তাতে জানতে পেরেছি এই চোখটা কোন মহিলার কোন মেয়ের চোখ কি জানি বেচারি বেঁচে আছে কিনা তোমার মনে আছে আমরা একটা কম্পিউটার হ্যাকারকে ডেকেছিলাম যে ওই আলিবাগের কেসে আমাদের হেল্প করেছিল রডেন হ্যাঁ রোডেন হয়তো ও আমাদের বলতে পারবে যেই পুতুল বিক্রির ওয়েবসাইটটা কে চালায় আর চালানোই বা হয় কোথা থেকে স্যার খুলে
গেছে ইউনিকডলউট.com এটা সেই ওয়েবসাইট যেখান থেকে বিক্রম তার মেয়ের জন্য পুতুল কিনেছিল আচ্ছা এর কোন অ্যাড্রেস বা ফোন নাম্বার রয়েছে কি না স্যার অ্যাড্রেস আর ফোন নাম্বার তো নেই কিন্তু একটা ইমেইল এড্রেস আছে99@অফমেল ওয়েবসাইট তো নকল মনে হয়েছে বস ওপর থেকে আইওয়াস চলছে পুতুল বিক্রি করার কিন্তু পর্দার পেছনের গল্প অন্য কিছু মনে হচ্ছে হ্যালো স্যার চলো ভাই রডন কাজে লেগে পড়ো। তুমি তো ইন্টারনেটের জঙ্গল থেকে সবকিছু খুঁজে বের করতে পারো। একটু খোঁজ নাও এই ওয়েবসাইটটা কে চালাচ্ছে? এক্ষুনি বলছি স্যার। স্যারকেল বল। স্যার আমি মিসিং বিউরো থেকে আসছি। গত 10 দিনের মধ্যে পাঁচ জনের মিসিং হওয়ার
রিপোর্ট আছে। এর মধ্যে কারোর চোখ কি নীল রঙের ছিল? হ্যাঁ স্যার আলিয়া নামের একটা মেয়ে ছিল। ওর চোখ নীল রঙের। হতে পারে এই মেয়েটাই আলিয়া। আচ্ছা এটা বলো যে আলিয়া কি করতো? মডেল স্যার সনিকা মডেলিং এজেন্সি থেকে ওর নিখোঁজ হওয়ার রিপোর্ট লিখেছিল। সনিকা মডেলিং এজেন্সি? স্যার তার থেকে অদ্ভুত ব্যাপার এটা ওরা আলিয়া নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার রিপোর্ট তো লিখিয়েছিল কিন্তু দুদিন আগে ওরা রিপোর্টটা উইথড্র করে নেয়। রিপোর্ট উইথড্র করেছে। কেন এই মেয়েটা ফিরে এসেছে নাকি? না স্যার। তাহলে রিপোর্ট ফিরিয়ে নিল কেন? স্যার। রোডেন কিছু জানতে পেরেছে। কি জানতে পারলে রোডেন? স্যার এই ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেস পেয়ে
গেছি। ভেরি গুড। আমরা জানতাম তুমি পারবে। ওয়েবসাইটটা চালাচ্ছে কে? কোন ইরা নামের মেয়ে? ওরই আইপি অ্যাড্রেস এটা। আচ্ছা এটা বলো যে এই ওয়েবসাইট থেকে বিক্রম ছাড়া আর কাকে কাকে বিক্রি করা হয়েছে? পাঁচ জন অর্ডার দিয়েছিল কিন্তু পুতুল পৌঁছেছে কিনা এটা বলতে পারব না। এই ওয়েবসাইটটা কবে শুরু করা হয়েছিল? এই ধরুন দু সপ্তাহ আগে। দু সপ্তাহ আগে। এই কম্পিউটারটা কোথায় আছে? কোথা থেকে চালাচ্ছে এই ওয়েবসাইট? সেসব জানতে পারবো কি? সেটাও পেয়ে যাবো স্যার। পাওয়া যাবে সব? ভেরি গুড। তো যতক্ষণে ও সেই কম্পিউটারের খোঁজ নিচ্ছে যেখান থেকে ধান্দা চলছে ততক্ষণ আমরা সোনিকা মডেলিং এজেন্সিতে গিয়ে ঘুরে আসি।
খোঁজ নিয়ে দেখি যে ওরা আলিয়া নিরুদ্দেশ রিপোর্ট ফিরিয়ে নিল কেন? তুমি একটাও কাজ ঠিক করে করতে পারো না। ক্লায়েন্ট আমাদের স্পষ্ট বলে দিয়েছে এই অডের জন্য লম্বা মডেল চাই। আর তুমি কোন মডেল পাঠিয়েছো? যার হাইট মাত্র পাঁচ ফুট। সরি ম্যাডাম। শুধু সরি বলেই কাজ হবে না। জানিনা ওই ক্লায়েন্টের শুটিং কতক্ষণ বন্ধ ছিল। তাহলে আলিয়াকে পাঠিয়ে দিতে পারতেন। আপনারা কারা? এর আত্মীয় কে? যখনই কোথাও কারোর উপর অত্যাচার হয়, আমরা তার আত্মীয় হয়ে যাই। অদ্ভুত তো? এতজন আত্মীয়? হ্যাঁ। খুনিরা আমাদের ভালোবেসে সিআইডি বলে ডাকে। সিআইডি? হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন আপনি। আমরা শুনেছিলাম আপনি আলিয়ার গায়েব হওয়া রিপোর্ট লিখিয়েছিলেন।
হ্যাঁ। তাহলে সে রিপোর্ট ফিরিয়ে নিলেন কেন? সেদিন র্যাম শো করতে করতেও হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। তাই আমি ওই রিপোর্ট লিখিয়েছিলাম। কিন্তু দুদিন পরে ওর ফোন এসেছিল। ও একদম ঠিকঠাক আছে। আর ও শিমলাতে ফিরে গেছে। তাই আমি ওই কেসটা ফিরিয়ে নিয়েছিলাম। আলিয়া শিমলা চলে গেছে? হ্যাঁ স্যার। ও বলল যে মডেলিং আর করবে না আর সারা জীবনের মধ্যে শিমলা চলে যাবে। এই ফোনটা কি ওর নিজের মোবাইল থেকে করেছিল? হ্যাঁ স্যার। এই নাম্বার থেকেই ফোন করেছিল। আর আমি লাউডস্পিকারে কথা বলেছিলাম। ম্যাডামও শুনেছিলেন। আগে হ্যাঁ। স্যার এটাও তো হতে পারে যে অন্য কেউ কথা বলেছে আলিয়ার ভয়েসে। কিন্তু আর
কেউ এরকম কেন করবে? কারণ আমরা সন্দেহ করছি যে হয়তো আলিয়াকে কেউ কিডন্যাপ করে নিয়েছে। এ কি বলছেন আপনারা? আচ্ছা এই শিমলার কোন এড্রেস বা ফোন নাম্বার আছে আলিয়ার। না স্যার আমরা কখনো ওর শিমলার বাড়ি এড্রেস নেইনি। কোন মডেল তো সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে বাড়ি কেন চলে যাবে? আর সেটাও নিজের শো সম্পূর্ণ না করে। এটা তো আমাদের কাছেও অদ্ভুত লাগছে। ওর সাথে কি কারোর ঝগড়া হয়েছিল? না তো। আচ্ছা চলে যাওয়ার আগে শেষবার ও কার সঙ্গে দেখা করেছিল? এক মিনিট স্যার। স্যার এই ডায়রির মধ্যে আমি আলিয়ার সমস্ত এপয়েন্টমেন্ট লিখে রেখেছি। ওর শেষ এপয়েন্টমেন্ট সুবিধা হসপিটালে ছিল। ওর বোধহয়
চোখের কোন চেকআপ করানো ছিল। আর কোন আই সার্জেন্টের কাছে এপয়েন্টমেন্ট ছিল। আই সার্জেন্ট। আচ্ছা আলি আর আই হসপিটালে যাওয়ার কি প্রয়োজন পড়ল? আচ্ছা চল হসপিটালে গিয়ে দেখি। হ্যা রডেন জানা গেল এই কম্পিউটার কোথায় রয়েছে ফ্যান্টাস্টিক আর্ট কলেজ ওকে ওকে ভেরি গুড এসিপি স্যারকে বলতে হবে যে কম্পিউটারের ব্যাপারে আপনি কথা বলছিলেন সেটা এইখানে কিন্তু আমার মনে হচ্ছে না ইরা এরকম কিছু করতে পারে। এই সেই কম্পিউটার এটাই তাহলে ইরার কম্পিউটার। হ্যা আমরা যেমনটা ভেবেছিলাম ঠিক তেমনটাই হয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই কম্পিউটার থেকে পুতুল বিক্রি করা হচ্ছে। আর ওই পুতুলের চোখ নকল নয় বরং আসল চোখ। মানুষের চোখ। জীবিত
মানুষের চোখ বের করে ওই পুতুলে সেট করা হচ্ছে। আর যে ওয়েবসাইট থেকে এগুলো বিক্রি করা হচ্ছে সেই ওয়েবসাইট ইরান নামে। এর উত্তর তো ইরাই দিতে পারবে। কিন্তু আপনাকে আমি বললাম না ও মুম্বাই গেছে। মেনে নিলাম যে ও মুম্বাই গেছে। কিন্তু ওর ফোনটা কেন বন্ধ? ও নিশ্চয়ই কোন গোলমাল করেছে। এজন্য ওর ফোনটা বন্ধ রেখেছে। সচিন চেক করো কম্পিউটার। স্যার। একটা কথা বলুন। হ্যা স্যার। গত কয়েকদিনে কি ইরার ব্যবহার কেমন ছিল? মানে বলতে চাইছি যে ইরার ব্যবহারটা কি কোন অস্বাভাবিক পেয়েছেন? খারাপ ব্যবহার। হ্যাঁ স্যার। কোন একটা বিষয় নিয়ে খুব চিন্তাই ছিল। আমি দু একবার ওকে জিজ্ঞাসাও করেছিলাম
কিন্তু আমাকে কিছু বলেনি। স্যার। এই দেখুন স্কেচেস। এগুলো তো একদম সেরকম যেরকম পুতুলগুলো ছিল। দেখেছেন প্রিন্সিপাল? এবার করুন ওর প্রশংসা। আমি কিছু বুঝতে পারছি না স্যার। স্কেচগুলো দেখুন। পুতুলগুলোর দেখুন ওদের চোখগুলো। একেবারে জীবন্ত মানুষের চোখের মত সেই একই রকম চোখ যেটা আমরা ওই পুতুলে পেয়েছিলাম না স্যার এটা হতে পারে না এই স্কেচগুলো ইরা ম্যাডামের হতেই পারে না কেন হতে পারে না স্যার উনি কখনো চোখ আঁকতেনই না উনার সমস্ত স্কেচেস আর মূর্তি বিনা চোখেই বানানো কি বললে তোমাদের ইরা ম্যাডাম চোখ বানাতেনই না স্যার উনি চোখ আঁকতে ভয় পেতেন উনার এরকম একটা ফোবিয়া ছিল আর উনি আমাদেরকেও
চোখ আঁকতে তাই বারণ করতেন আর নিজেও বানাতেন কি প্রিন্সিপাল বাবু কি বলছে আপনার স্টুডেন্ট আপনি একটু আসুন আমার সাথে আসুন না প্লিজ প্লিজ আসুন আসুন প্লিজ এক্সকিউজ ম্যাম হ্যাঁ বলুন আপনাদের মধ্যে কে পেশেন্ট ইনি কি আমি কোন পেশেন্ট দেখুন আমরা সিআইডি থেকে এসছি। সিআইডি হ্যা আমরা এখানে আলিয়া নামের একটি মেয়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এসছি। যে আপনাদের হসপিটালে এসেছিল চিকিৎসা করাতে। কবে এসেছিল স্যার? এই ধরুন পাঁচদিন আগে। এক মিনিট। একটু দেখোতো আলিয়া নামে কোন মেয়ে এসেছিল কিনা পাঁচ দিন আগে। এক মিনিট। না। এই নামের কোন মেয়ে এখানে আসেনি। এটা কি করে সম্ভব? ভালো করে দেখুন। ওই
মেয়েটা এখানে এসেছিল। আমাদের ইনফরমেশন কনফার্মড। হ্যাঁ এক মিনিট। সরি স্যার এই নামের কোন মেয়ে আসেনি। যদি আসতো তাহলে আমাদের কম্পিউটারে তার রেকর্ড নিশ্চয়ই থাকতো স্যার। আচ্ছা। আপনি একটু এই ছবিটা দেখুন। এই আলিয়া কখনো দেখেছে নাকি? না স্যার আমি কখনো ওকে হসপিটালে দেখিনি। স্যার আমি কি এই ফটোটা দেখতে পারি? হ্যাঁ নিশ্চয়ই দেখুন। ডক্টর অক্ষয় এতো সেই মেয়েটি না যে শুক্রবার ডক্টর নৈতিকের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। হ্যাঁ হ্যাঁ এতো এতো সেই আপনারা চেনেন ওকে? হ্যাঁ চিনি কে? কিন্তু ব্যাপারটা কি? এই মেয়েটা কিছুদিন ধরে নিখোঁজ। আর আমাদের সন্দেহ যে ও নিখোঁজ হওয়ার পিছনে ডক্টর নৈতিকের হাত রয়েছে। এই
আপনারা কি বলছেন? দেখুন ডক্টর নৈতিক মানুষ হিসেবে ভীষণ ভালো। উনি কারোর ক্ষতি কেন করতে যাবেন? উনি কতটা ভালো মানুষ সেটা আমরা বুঝবো। ডাকুন ওনাকে। ডক্টর নৈতিক প্লিজ এক মিনিট বাইরে আসবেন। সিআইডি এসেছে। আগে আপনি বলুন আলিয়া কোথায়? আলিয়া কে আলিয়া? আচ্ছা আচ্ছা হ্যাঁ হ্যাঁ ওই আলিয়ার কথা জিজ্ঞেস করছেন। ওয়েল অফিসার হাউ ডু আই নো আমি কি করে জানবো সেই আলিয়া কোথায়? জানিনা বললে কাজ হবে না ডক্টর। আলিয়া পাঁচ দিন আগে আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। আর এই রেকর্ডে তার নাম পর্যন্ত নেই। একচুয়ালি অফিসার ও আমার কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই এসেছিল। হতে পারে সেই কারণেই হয়তো ওর
নামটা রেকর্ডে নেই। অফিসার আমি ওকে কয়েকটা চোখের ওষুধ দিয়েছিলাম যার থেকে ওর সাইড ইফেক্ট হয়েছিল। সেই কারণেই ও আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। চোখের ওষুধ দিয়েছিলেন নাকি? চোখ তুলে ফেলেছিলেন? হোয়াট? কি বলছেন আপনারা এসব অফিসার? আমি একজন ডক্টর। আই এম এন আই সার্জেন। আমি আমি চোখ তুলে নেব কারোর। দেখুন। হ্যাঁ কাজল আলিয়ান মোবাইল টেস্ট করা গেছে। কোথায়? বান্ধবগড়ের জঙ্গলে। স্যার এটাই ওই ফাইল স্যার। যেখানে আপনার প্রশ্নের উত্তর আছে। তাহলে ইরার চোখ না বানানোর ফোবিয়ার ব্যাপার এই ফাইলে আছে? হ্যাঁ। 16 বছর আগে ইরা এই কলেজেই পড়তো। ওই সময় সব সত্যি কথা এখানে আছে। তার মানে আপনি
গত 16 বছর ধরে ইরাকে চেনেন। হ্যাঁ। আমি ওকে 16 বছর ধরে চিনি। এই জন্য আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না। ইরার মত একটা ভালো মেয়ে এইরকম কিছু করতে পারে। এই ছবিটা দেখুন স্যার। এটাই সেই লোক যার জন্য ইরা চোখ আকাই ছেড়ে দিয়েছে। ইনি প্রফেসর সুদান। প্রফেসর সুদান উনি খুব ভালো মূর্তি আঁকতে পারতেন কিন্তু যদি কোন স্টুডেন্ট মূর্তি বানাতে গিয়ে গন্ডগোল করে ফেলতো তাহলে খুব রেগে যেতেন একদম পাগলের মতো করতেন ভুল বলতে কি ধরনের ভুল প্রফেসর সুদানের মানুষের চোখের প্রতি খুব আকর্ষণ ছিল তিনি এটাই চাইতেন যে মূর্তির চোখেও এতটাই প্রাণ থাকুক যতটা মানুষের চোখে থাকে কিন্তু প্রিন্সিপাল বাবু
মূর্তি তো মূর্তিই হয় আর ওই চোখটা যতই প্রাণবন্ত করার চেষ্টা করুন না কেন সেটা তো কৃতিম থেকে যাবে আর এই কথাটাই প্রফেসর সুদান বোঝার চেষ্টাই করতেন না। উনার মাথায় তো একটাই ভূত চেপেছিল। মূর্তির চোখে প্রাণ দেবার ভূত। কিন্তু প্রফেসর সুদানের এই পাগলামর সাথে ইরার কি সম্পর্ক? 13ই নভেম্বর 1995 এর কথা। একটা মেয়ে ছিল যে একটা মূর্তির চোখ আকতেই পারছিল না। রাগের মাথায় প্রফেসর ওই মেয়েটার চোখ উপড়ানোর চেষ্টা করছিল। বলেছিল তোর চোখ উপড়ে ওই মূর্তির চোখে বসাবো। ও মাই গড। স্যার মনে হয় এই প্রফেসর সুদানের মানসিক অবস্থা ঠিক ছিল না। তারপর কি হলো ওই মেয়েটার? প্রফেসর
কি ওর চোখটা বের করেছিল? উনি তো চোখটা প্রায় বের করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু ঠিক সময় ইরা এসে ওকে বাঁচায়। এই ঘটনার পর আমরা তো প্রফেসরকে কলেজ থেকে বেরই করে দিই। কিন্তু ইরা এই ব্যাপারটা মেনে নিতে পারিনি। ওর মনে চোখ বানানোর ভয় বসে যায়। আচ্ছা এই পুতুল জীবন্ত মানুষের চোখ তোলা কাউকে খুন করা আর তাছাড়া ওই ওয়েবসাইটে ইরার নাম দেওয়া এই সবকিছুর পেছনে প্রফেসর সুদানের হাত নেই তো? আচ্ছা প্রফেসর সুদান থাকেন কোথায়? আপনি কি জানেন? প্রফেসরকে কলেজ থেকে বার করার পর ওর আর কোন খবর নেই। আরো একটা কথা স্যার। যে সময় প্রফেসরকে কলেজ থেকে বের করা হয়
ওই সময় কিছু স্টুডেন্ট কলেজ ছেড়ে চলে যায়। ও আচ্ছা আপনার কি এটা মনে আছে? যেদিন প্রফেসরকে বের করে দেওয়া হয়, কোন কোন স্টুডেন্ট ছেড়ে গেছিল? আর কেন ছেড়ে গেছিল? একদম ভক্ত ছিল উনার। বলছিল এত ট্যালেন্টেড প্রফেসরকে কলেজ থেকে বের করতে দেবো না। বিশেষ করে ওনার এক প্রিয় স্টুডেন্ট। কে সেই প্রফেসরের প্রিয় স্টুডেন্ট? তার নাম কি জানা যাবে? এই সেই জঙ্গল না যেখানে আলিয়ার মোবাইল ট্রেস হয়েছে। হ্যাঁ স্যার। কিন্তু এরকম একটা ভয়ঙ্কর জঙ্গলে আলিয়া আসতেই বা গেল কেন? রাত সাড়েনটার সময় ঘুরতে তো আসেনি। কিছু হয়েছে নিশ্চয়ই। মনে হয় কেউ ওকে জোর করে এখানে নিয়ে এসেছে। স্যার
মনে হচ্ছে যে চোখটা আমরা পেয়েছি সেটা আলি। তোর মুখে কি ভালো কথা নেই? কেন বেচারি মেয়েটার চোখ কেড়ে নিচ্ছিস? স্যার আমি কোথায় ওর চোখ কেড়ে নিচ্ছি। আমার যা মনে হয়েছে তাই আমি বললাম। চুপ। অলক্ষণে কথা একদম মুখ থেকে বের করবি না। এক মিনিট এক মিনিট। কাজে মন দাও। আশপাশটা ভালো করে দেখো। কোন প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা। এক মিনিট এক মিনিট। জুতোটা দেখছো? এটা তো কোন পুরুষের জুতো। রক্ত লেগে আছে। এটা তো উল্টো হয়ে গেল। খুনছিলাম মেয়েটাকে। আর এখানে তো একটা পুরুষের জুতো পাওয়া গেল। স্যার এটাও তো হতে পারে যে আলিয়া নিজেকে বাঁচানোর জন্য ওই লোকটাকেই
মেরে দিয়েছে। স্যার যদি এই লোকটা মরেই গিয়ে থাকে তাহলে ওই চোখটা কার? এই লোকটার নাকি আলিয়ার? এই মুহূর্তে তো কিছু বলা বেশ মুশকিল। ফেরে। আমরা এখনো পর্যন্ত না আলিয়ার লাশ পেয়েছি না এই ব্যক্তির। স্যার হ্যা। এই দেখুন স্যার এইখান দিয়ে কাউকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আরে হ্যাঁ চলো তো একটু দেখি এই চিহ্ন কতদূর অব্ধ গেছে। চিহ্ন তো জলের দিকে গিয়ে পৌঁছেছে। মাই গড। এই চিহ্ন তো জলাশয়ে এসে মিশেছে। এমনটা নয় তো যে লাশটা জলেই রয়েছে। একটা কাজ করো ডুবুরি দিয়ে ডাকো। সাবধানে আস্তে আস্তে নিয়ে এসো। সাবধানে নিয়ে এসো। আস্তে ধরো ধরো আস্তে আস্তে এদিকে এদিকে
এদিকে আনো সোজা করো দেখলেন স্যার আপনি বিবেকের মুখ কনার বচনের মত একেবারে খুনি তো আলিয়া শুধু চোখই উপরে নেয়নি ওকে মেরেও ফেলেছে একটা কাজ করুন তো আপনারা ভেতরে গিয়ে দেখুন তো আর কিছু পাওয়া যায় কিনা মাই গড আরো একটা লাশ। একটা লাশ খুঁজতে এসে তো দুটো লাশ পাওয়া গেল। আরো একটা লাশ। আশ্চর্য বিষয় একটার পর একটা লাশ পাওয়া যাচ্ছে পাঁচ পাঁচটা লাশ শুধুমাত্র আলিয়াই নয় পাঁচ পাঁচ জনকে খুন করেছে ওই খুনি প্রথমে চোখ উপড়েছে আর তারপর এদের খুন করেছে স্যার এসব আমি একদম দেখতে পারছি না। ভেবেই গাছ শিউড়ে উঠছে। কত কষ্টই না পেয়েছে এরা। খুনি
তো প্রথমে সবার চোখ উপড়েছে। তারপর এদের খুন করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। খুন করার প্রবণতা খুব বেড়ে চলেছে। বিভিন্নভাবে মানুষ খুন করে চলেছে। এটা দেখেছো? খুনি তো দেখছি অস্ত্র রেখে দিয়েছে এখানে। ওয়েবসাইটে পাঁচজন অর্ডার দিয়েছিল স্যার। আর এখানেও স্যার পাঁচটা লাশ পেয়েছি। হ্যাঁ বিবেক। আমার মনে হয় যত মানুষ ওই ওয়েবসাইটে পুতুলের অর্ডার দিতে থাকবে এই পাগল খুনি ততই একের পর এক খুন করতে থাকবে। স্যার এই খুনিকে খুব তাড়াতাড়ি আমাদের ধরে ফেলতে হবে। তা না হলে হাহাকার ফেলে দেবে। খুনের হাতিয়ার। আর ওখানে রক্ত মাখার জুতো পেয়েছি স্যার। এগুলো কেন রেখে গেল? বুঝতে পারছি না। সেটাই তো। খুনের
খুব কনফিডেন্স আছে। জেনে শুনে এক একটা সূত্র রেখে দিয়েছে। যাতে আমরা এই লাশগুলো খুঁজে পাই। ওখানে জুতো আর এখানে খুন করার অস্ত্র। এই অস্ত্র দিয়েই আমরা কিছু না কিছু পাব। লাশগুলো ফরেন্সিক ক্লাবে পাঠিয়ে দাও। এই প্রফেসরের যদি সত্যিই বদলা নেওয়ার থাকতো তাহলে আগেই নিতে পারতো। এই 16 বছর পরে হঠাৎ করে ঘুম থেকে জেগে একটার পর একটা খুন করে চলেছে। ডক্টর নৈতিক। তাহলে এই দ্বিতীয় শত্রুটা ডক্টর নৈতিক নয় তো হ্যাঁ স্যার ডক্টর নৈতিকে তো কলেজ ছেড়ে গেছিল ও চায়নি প্রফেসর সুদানকে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হোক সে তো খুব বড় একজন ভক্ত ওই ডক্টরের কিন্তু একটা
কথা আমাদের ভুললে চলবে না যে আলিয়া উধাও হওয়ার আগে ডক্টর নৈতিকের সাথেই দেখা করেছিল একে যেভাবেই হোক খুঁজে বের করতেই হবে ও যখন মুম্বাই এসেছিল তখন এয়ারপোর্ট থেকে নিশ্চয়ই ট্যাক্সি তো নিয়েই থাকবে তাই এয়ারপোর্টে গিয়ে খোঁজ নি। ডক্টর সালুকে পাঁচটা লাশ একসাথে পেলাম। তাই পাঁচটাকেই একসাথে নিয়ে আসতে হলো। আরে ভাই তোমরা তো লাশের লাইন লাগিয়ে দিয়েছো দা। এটা তো ঠিক নয়। আমরা কি করব? আমরাও তো এই ঝটকাটা এত সহজে মেনে নিতে পারছি না। পাঁচটা লাশ একসাথে। কিছু জানা গেল এই ছুরিটা থেকে। এই ছুরি দেখে তো বিষয়টা আরো আশ্চর্য লাগছে। কেন সালুকে স্যার? খুন তো এই
ছুরি দিয়েই হয়েছিল। যেটা গলায় গাঁথা ছিল। তাহলে আশ্চর্যের কি আছে? বস এই ছুরিটা কোন পেইন্টারের ছুরি। এটা কোন পেইন্টারের? হ্যাঁ দয়া। এই ছুরির উপর রক্ত তো লেগেছিলই। এর উপর কিছু পেইন্টও লেগেছিল। এমন ধরনের পেইন্ট যা পেইন্টিং করার কাজে আসে। তার মানে হল খুন দুজন করছে। একজন পেইন্টার আরেকজন সার্জেন্ট। কিংবা হয়তো এটাও হতে পারে শচীন যে আসলে একটাই লোক। সে একজন ভালো ডাক্তারও বটে আবার একজন পেইন্টারও। সেটি ডক্টর নৈতিকও তো ওই একই কলেজে পেইন্টিং শিখতে যেতেন যেখানে প্রফেসর সুদান শেখাতেন তার মানে নৈতিক একজন পেন্টারও আবার সার্জেনও স্যার এটাও তো হতে পারে যে এই কাজটা এমন একটা
লোক করছে যে চায় যে সমস্ত প্রমাণ যেন ডক্টর নৈতিকের বিরুদ্ধেই যায় যাতে সে ফেসে যায় এ কাজটা সেই লোকই করতে পারে যে ডক্টর নৈতিকের শত্রুর রীতিমত আর স্যার ডক্টর নৈতিকের শত্রুদের মধ্যে প্রথম নামটা আসে ইরার ইরাই করছে মনে হয় এসব ওর আইপি অ্যাড্রেস পেয়েছিলাম আমরা ওই ওয়েবসাইট থেকে www.উনিক.com থেকে ইরা হোক বা নৈতিক কিংবা সুদান এদের মধ্যে যেই করে থাকুক খুবই কৃণ কাজ করেছে। পাঁচ পাঁচটা লোকের চোখ উপড়ে নিল। এদের মনটা একবারও কাঁপলো না। এরকম কাজ করার আগে যে এরা বেঁচে আছে জীবিত। একবার শুধু এইটা জানতে পারি যে বাকি চারটা লাশ কাদের। তাহলে খুনিকে খুঁজে
পাওয়াটা সহজ হবে। আর স্যার আমরা এখন এতদূর জানতে পেরেছি যে ওই নীলচে চোখটা আলিয়ারই। আর এই চারজনেরও চোখ ঠিক সেইভাবেই নেওয়া হয়েছে যেভাবে আলিয়ার খুব নিখুতভাবে ডক্টর সালুকে কোন রকম বিশেষত্ব আছে কি এই লাশগুলোর কোনটায় কোন রকম কোন চোট বা আর অন্য কিছু একটা জিনিস আছে দয়া যেটা এই লোকগুলোর চোখ উপড়ে নেওয়ার থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর জীবিত মানুষদের চোখ উপড়ে নেওয়ার থেকে ভয়ঙ্কর আর কি বা হতে পারে স্যার আছে ফ্রেডি আছে সারিকা এই দেখুন ক্যাকটাস গোল্ডেন ব্যারেল ক্যাকটাস। আর এই ক্যাকটাস সম্পূর্ণটাই এই কাঁটাগুলো সমেত এদের গলার মধ্যে থেকে পাওয়া গেছে। এই লাশগুলোর গলায় এই ক্যাকটাস ছিল।
একদম তাই। আর এই ক্যাকটাসের জন্যই এদের সবার ভোকাল কড মানে কথা বলার শিরা পুরোপুরি ফেটে গেছিল। এই ক্যাকটাস ওদের গলায় ঢোকানো হয়েছিল এই কারণে কারণ যখন চোখটা উপড়ানো হচ্ছিল যাতে না চেচায়। এক্সাক্টলি একবার এই খুনিটাকে হাতের মধ্যে পাই এমন হাল করবো জন্মানোর জন্যই আফসোস করবে হতভাগা স্যার হ্যাঁ কাজল এই বাকি চারজনের ব্যাপারে কিছু জানতে পারলে হ্যাঁ স্যার এরাও সবাই মডেল ছিল ও তার মানে এই খুনিটা শুধু মডেলদেরই নিশানা করে যাচ্ছে না স্যার শুধু মডেলরাই নয় বরং এমন মডেল যাদের সাথে ডক্টর নৈতিকের আলাদা সম্পর্ক আছে কিন্তু এই মডেলগুলো ডক্টর নৈতিকের সাথে কি সম্পর্ক আছে স্যার এদের
এদের পাঁচজনকেও গত এক মাসে ওখানেই দেখা গিয়েছিল যেখানে ডক্টর নৈতিক কাজ করেন হসপিটাল সুবিধাতে। ও তাহলে এই ব্যাপার। হ্যালো। হ্যাঁ। কোথায়? আচ্ছা। ঠিক আছে। কি হয়েছে কাজল? স্যার এয়ারপোর্ট থেকে ফোন করেছিল। এরা এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি নিয়ে কোন সংস্কৃতি আর্ট গ্যালারিতে গিয়েছিল। সংস্কৃতি আর্ট গ্যালারি এক্সকিউজ মি ইয়েস হ্যালো আমি কি করতে পারি আপনাদের জন্য? এই ফটোটা একটু মন দিয়ে দেখুন। আচ্ছা এই মেয়েটি কি তিনদিন আগে আপনার গ্যালারিতে এসেছিল? এয়ার থেকে এসেছিল ট্যাক্সি নিয়ে। একে আমি চিনি না। ইরার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তো ইরার নামটাও বললাম না। কি? আপনি ইরাকে চেনেন তো? ইরাকে চেনেন কিনা?
কেন খুঁজছেন ওকে আপনারা দেখুন ম্যাডাম আমরা সিআইডি অফিসার সিআইডি আগে হ্যাঁ ও মুম্বাই আসার পর থেকে নিখোঁজ ওকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কোথায় আছে ও দেখুন আমি সত্যিই জানিনা এরা কোথায় ওতো প্রফেসর সুদানের ঠিকানা জিজ্ঞাসা করতে এসেছিল এক মিনিট এক মিনিট কি বললেন আপনি এরা প্রফেসর সুদানের অ্যাড্রেস জানতে চেয়েছিল হ্যা আপনার কাছে কি ওনার অ্যাড্রেস আছে না আসলে আমাদের গ্যালারি ওনার মূর্তিগুলো একসময় রাখতো এইজন্য ওর মনে হয়েছে। এখানে ওর ঠিকানা পাওয়া যাবে। ও কেন খুঁজে বেড়াচ্ছে প্রফেসর সুদানকে? ওর মনে হয় প্রফেসর সুদান ওকে মারতে চাইছে। এখান থেকে ও কোথায় গেছে? কিছু জানেন আপনি? দেখুন
এসব কিছু তো বলেনি। কিন্তু ওর মনে হয়েছে প্রফেসর সুদান ছাড়া আরেকজন কেউ আছে। যে হয়তো ওকে মারতে চাইছে। এই দ্বিতীয় লোকটা কে? তা তো আমি জানি না। কিন্তু এখানে আসার পরে ওকে ফোন করেছিল। ওকে হুমকিও দিয়েছে। যে যদি ও দেখা করতে না আসে তো ফল খারাপ হতে পারে। তাহলে ওই লোকটা কি এখানে এসেছিল ইদার সঙ্গে দেখা করতে? আগে ওদের দুজনের মধ্যে ঝগড়াও হয়েছিল। ওই লোকটা বলছিল যে প্রফেসর সুদান যদি বদলাই নিতে চাইতো তাহলে তো আগেই নিতে পারতো। এখন কেন নেবে? তারপর কি হলো? তারপরে জানিনা। উনি হয়তো একজন ডাক্তার। তারপরে উনার ফোন এলো আর উনিও চলে
গেলেন। হয়তো কোন পেশেন্টকে দেখতে গেলেন। ভালো করে দেখুন। ইনিই কি সেই ডক্টর? আগে হ্যাঁ। উনিই ছিলেন ও ডক্টর নৈতিক হ্যালো ম্যাডাম কেমন আছেন আমি ঠিক আছি কিন্তু আমি কি আগে কখনো আপনাদের দেখেছি দেখে থাকবেন আমাদের তো অনেকেই দেখেছে হসপিটালে কি রোদ আছে আরে কিরকম রসিকতা করছেন আপনি? হসপিটালে কখনো রোদ্দুর ওঠে নাকি? আরে তুমি কখনো দেখেছো এরকম হতে? তাহলে এরা দুজনে কালো চশমা কেন পড়েছে? আমাদের ওই যে ওই হয়েছিল ওই ওই কি বলে? কি? কি ভাবছিলাম জানো আমি? আমি কোথায় ভেবেছিলাম? হ্যাঁ মানে ভেবেছিলাম ভেবেছিলাম যে আমাদের হয়েছিল ওই চোখে যেটা হয়েছিল আমাদের চোখে ওই ইকোলাইটিস। না
রিপাইটিস। ও চোখে যেটা হয় না কনজাক্টিবাইটিস হয়ে গেছে না না ছানি পড়েছিল না না তুমি তো কনজাক্টিভটিস তুমি ছানি বললে তুমি বললে আচ্ছা চুপ করো না কনজেক্টিভস হয়েছে একটা কথা বলুন এদের দুজনের একসাথে কি করে এটা হল আসলে ব্যাপারটা কি এরা দুজনের জমজ ভাই একই সময় জন্ম নিয়েছে তারপরে একই সময় স্কুলে গেছি একই সময় কলেজে গেছি ওঠা বসা খাওয়া দাওয়া সমস্ত কিছু একসাথে তাই কনজেক্টিভ একসঙ্গে হয়েছে কোন ব্যাপার না আপনারা একদম ঠিক জায়গায় এসেছেন আমাদের হসপিটালে খুব ভালো ভালো চোখের ডাক্তার রয়েছে এই দুজনের চোখও ঠিক হয়ে যাবে না খুব ভালো ডাক্তার ডক্টর নৈতিক খুব ভালো
ডাক্তার আপনারা ডক্টর নৈতিককে দিয়ে চেকআপ করাবেন উনি তো খুবই ভালো ডাক্তার তাই না? আচ্ছা এখন কি ভেতরে আছেন উনি? উনি এই সময় থাকেন না। আচ্ছা উনি কি বাড়িতে আসতে পারবেন আমার ছেলেদের দেখার জন্য? আপনি কি বলছেন? উনি চোখের সার্জেন্ট। উনি আপনাদেরকে দেখতে বাড়ি যেতে পারেন না। আরে আমরা উনাকে দেখাতে যদি হসপিটালে আসতে পারি তাহলে উনি কেন আমাদের দেখতে বাড়িতে যাবেন না? খুবই অন্যায় কথা এটা। ও বাবা আমরা চোখ ডাক্তারের কাছেই দেখাবো তুমি ব্যবস্থা করো না আচ্ছা আমরা এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে কিন্তু বিকেল পাচটা থেকে সাতটার মধ্যে আসবেন না কেন না আসলে ওই টাইমে উনি ডিউটি করেন না
পাচটার সময় কোন ডিউটি শেষ হয়ে যায় নাকি না ডিউটি তো রাত 9টা অব্ধি থাকে কিন্তু রোজ সন্ধেবেলা উনি দু ঘন্টার জন্য বাইরে যান পাচটা থেকে সাতটা পাচটা থেকে সাতটা পর্যন্ত উনি এখানে থাকেন না তাইতো ঠিক আছে পাচটা ডাক্তারকে বলবেন আমরা এসেছি। চলো স্যার ডক্টর নৈতিককে ফলো করে আমরা এখানে এসে পৌঁছেছি। প্রায় আধা ঘন্টা হয়ে গেল উনি ভেতরে গেছেন। মনে হয় ভেতরে কোন গন্ডগোল হচ্ছে। স্যার আমাদের কিন্তু ওকে তখনই অ্যারেস্ট করা উচিত ছিল। যখন ও বাড়ির ভেতরে ঢুকছিল। কেন জানিনা মনে হচ্ছে ওই সব কটাকে খুন করেছিল। হ্যাঁ কাজল আমরা নৈতিককে অ্যারেস্ট করিনি এই কারণে যে ওকে
আমরা প্রমাণ সমেত ধরবো। পাচটা প্রায় বাজে স্যার। নৈতিকের বাইরে আসার সময় হয়ে গেছে। স্যার ওই দেখুন শয়তানের নাম নিয়েছেন আর শয়তান হাজির হয়ে গেছে। কিছু ফেলে দিলে দয়া লাল রং লেগে আছে মনে হচ্ছে। এতো রক্ত স্যার। স্যার কোথাও ইরাকে খুন করে ফেলেনি তো। সেটা তো ভেতরে গেলেই জানা যাবে যে ও খুন করেছে কিনা। চলো ভেতরে যাই আমরা। হঠাৎ করে এই গেট থেকেই তো বেরোলো। বোঝা যাচ্ছে না কোন বাংলোতে গিয়েছিল ও। আরে এই ওয়াচম্যান কি হয়েছে স্যার? ওই যে লোকটা এক্ষুনি এখান থেকে বের হলো কোন বিল্ডিংটায় গিয়েছিল তুমি জানো কি? ওই যে শেষের বাড়িটা আছে না
উনি ওখানে গিয়েছিলেন। থ্যাংকস। দরজা তো খোলা দেখছি। এর মানে বোঝো নিখিল? হ্যাঁ স্যার। গন্ডগোল তো আছেই। দয়া। স্যার সব জায়গায় তো ভালো ভালো পেইন্টিং লাগানো আছে দেখছি। মনে হচ্ছে এটা কোন আর্টিস্টের বাড়ি। সুদান সুদান কি হয়েছে তোমার? কোথায় ছিলেন? আপনারা কারা? আর আপনারা ভেতরে কি করে এলেন? দেখুন আমরা সিআইডি থেকে এসেছি। সিআইডি আপনি কে স্যার আমি ওনার নার্স আমি ওনার দেখাশোনা করি আপনি সারাদিন কি এখানেই থাকেন হ্যাঁ স্যার আমি সকাল আটটা থেকে সন্ধে আটটা পর্যন্ত এখানেই থাকি এই নাও সেই ওষুধগুলো যেগুলো ও হো হো ডাক্তার নৈতিক আসুন আসুন আপনারা এখানে আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি
কেন আমরা দেখলাম তো আপনাকে এখান থেকে বেরিয়ে গাড়িতে করে গেলেন তো আপনার হাতে রক্ত লেগেছিল রক্ত রক্ত ওই হাতটা দেখান আপনার দেখান এটা কার রক্ত কিনার আচ্ছা আচ্ছা এই রক্তের কথা জিজ্ঞেস করছেন আপনারা এসিপি সাহেব এই এই দেখুন এই এই দেখুন সুদান স্যারের হাত কতটা কেটে গেছে তাই ওনার হাতটা ব্যান্ডেজ করার সময় ওনার হাতের রক্তটাই আমার হাতে লেগে গেছে অনেক নাটক হয়েছে সত্যি কথা বলুন। এই খুনটা আপনি করেছেন তো? খুন নৈতিক নাম না আপনার। নৈতিকের অর্থ হলো সততা। নাম নৈতিক স্যার। কিন্তু কাজ সব অনৈতিক করে। এমনিতে আই সার্জেন্ট। কিন্তু আসলে মানুষের চোখ উপড়ে নেয়। আর
তারপর তাকে খুন করে। কি? এসব কি কথা বলছেন আপনারা স্যার? আমি কারোর চোখ তুলে নিইনি। না তো কাউকে খুন করেছি আমি। আমি তো রোজ এখানে দু ঘন্টা ওনার দেখাশোনা করার জন্য আসি। প্যারালালিসিস হয়ে গেছে না ওনার? উনি কথাও বলতে পারেন না। কোথাও এমন নয় তো যে এনার ইশারায় তুমি খুনগুলো করছো। আরে তখন থেকে কি সব বলে যাচ্ছেন আপনারা। সুদান স্যার একজন আর্টিস্ট। খুনি নয়। আমার তো মনে হয় এই খুন এমন কোন মানুষ করেছে যে আমাকে আর সুদান স্যারকে বরবাদ করে দিতে চায়। তাহলে তুমি ইরাকে মিথ্যা বললে কেন? যে তুমি জানো না সুদান কোথায় আছে? ভয়
পেয়ে গেছিলাম আমি। কারণ আমি চাইনি যে ইরা এসে সুদান স্যারকে সেই সমস্ত কথা বলে সেই সমস্ত প্রশ্ন করে যেগুলো যেগুলো সুদান স্যার ভুলে যেতে চান মাইলটা সার্চ করো প্রতিটা কোনা ভালো করে দেখো আরে কি কি সার্চ করবেন স্যার স্যার শুনুন এখানে আপনারা কিছু খুঁজে পাবেন না চেস কে খেলে এই চেস সুধান বাবু আর আপনি কফি কে খায় কফি তুমি খাও না স্যার আমি কফি খাই না তাহলে মিস্টার সুদান আর আপনি খান দেখুন এসিপি স্যার আমি আপনাকে বললাম না আমি রোজ এখানে দু ঘন্টার জন্য আসি দু ঘন্টায় অনেক কিছু হয় ডক্টর নৈতিক স্যার উনি ছাড়াও এখানে
আরো কেউ আসে মনে হয় হ্যাঁ আসে তো নিশ্চয়ই স্যার হ্যা এদিকে দেখুন স্যার এই ক্যাকটাসের ছবিটা ভেতরের রুমের দেয়ালে টাঙ্গানো ছিল এসিপি স্যার এই ক্যাকটাসের পেইন্টিংটা তো অনেকদিন ধরে ওই দেওয়ালে ঝোলানো রয়েছে। খুব সুন্দর তো পেইন্টিংটা মনে হচ্ছে ক্যাকটাসের আসল চারা গাছ দেখে এই পেইন্টিংটা বানানো হয়েছে। আশেপাশে কি আছে ক্যাকটাসের চারা গাছ? স্যার এক মিনিট। এক মিনিট আপনি। এক মিনিট আপনি চুপ করে থাকবেন। বলতে দিন ওকে। স্যার ক্যাকটাস গাছ তো আউটহাউসের বাইরে আছে। ক্যাকটাসের চারা গাছ আউটহাউসের পাশে দয়া। ডক্টর নৈতিক আপনিও যাবেন নাকি? চলুন চল। এবার তোমার চোখ তুলে নেওয়ার সময় এসে গেছে। খুবই সুন্দর
তোমার এই চোখ দুটো। এবার এগুলো আমার হয়ে যাবে। এই মাই গড অক্ষয় তুমি এটা তুমি কি করছো? দেখো তুমি আমার কথা শোনো। ছেড়ে দাও ইরাকে। এই এই এক পাও এগোবে না। আমি এর চোখ উপড়ে নেবো। আমি এর চোখ দুটো উপরে নেবো কিন্তু বলছি। এই ছুমি না ওকে। ছাড়। এই এগোবে না কিন্তু। অক্ষয় পাগলামি ছাড়ো আর আমার কথা শোনো। এখন পর্যন্ত তুমি অনেকের চোখ নষ্ট করেছো। পাঁচজনকে খুনও করেছ আমি তোমার কাছে এটা আশা করিনি অক্ষয় এবার দেখে নিলে তো তোমরা এমনিতে শুনবে না এখুনি দেখো আমি কি করতে পারি আমি আমি তোরও চোখে পুড়ে নেব আমি তোদের
সবার চোখ উপড়ে নেব আমাদের সবাই চোখ উপড়ে নেবি তুই লজ্জা হওয়া উচিত তোর তুই একজন ডাক্তার চোখের ডাক্তার তোর কাজ হলো মানুষের চোখে দৃষ্টি ফেরানো তার চোখ ছিড়িয়ে নেওয়া নয় যখন প্রতিশোধের আগুন জ্বলে না তখন কিছুই দেখা যায় না তাই তুমি মানুষের চোখ বের করতে শুরু করলে যাতে ডক্টর নৈতিক ফেসে যান। এর নামও নিও না আমার সামনে। আমি ঘেন্না করি এর নামটাকে। কিন্তু আমি তোমার কি ক্ষতি করেছিলাম? আমি তো সবসময় তোমাকে আমার বন্ধু বলে ভাবতাম। আরে কেমন বন্ধু তুই? সবসময় তুই আমার থেকে আগে থাকার চেষ্টা করতিস। কলেজে হসপিটালে? তোর থেকে আমি অনেক বড় ডাক্তার। কিন্তু
হসপিটালের লোকেরা তোকেই প্রমোশন দিতে চেয়েছিল। আমাকে নয়। সামান্য একটা প্রমোশনের কারণে তুমি মানুষকে খুন করতে শুরু করলে। একবারও তোমার মনে এ কথাটা এলো না যে তোমার এই ব্যক্তিগত আক্রোশ কত মানুষের জীবন শেষ করে দিল একেবারে না আমি শুধু আর শুধুমাত্র নৈতিকের ক্ষতি চেয়েছিলাম আমি আমি এর অতীতের সুবিধা নিতে চেয়েছিলাম ইরার সঙ্গে এর শত্রুতার আর প্রফেসর সুদানের প্রতি এর ভালোবাসার অনেক পাপ করেছিস তুই এর শাস্তি তো তোকে পেতেই হবে আদালত হয়তো তোকে ফাঁসিতেই ঝোলাবে ফাসি স্যার অক্ষয় না হয় ফাঁসি হয়ে গেল। কিন্তু পুরবীর কি হবে? পুরবীর কি হবে সেটা তো এসিপি স্যারই ঠিক করবেন। মালিকের গাড়ি
এখানে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হচ্ছে আজকে মালিক বাড়ি যায়নি। কিছু না কিছু তো আছেই। মালিক মহেন্দ্র বাবু আছেন? আরে কোথায় আপনি? বাইরে গাড়িতেও নেই, ভেতরেও নেই। যাক গে আমি তো কাজ শুরু করে দিই। এই এই জলের অবস্থাটা কোথা থেকে আসছে? এই জলের আওয়াজটা তো বেসমেন্ট থেকে আসছে। এখনই দেখছি। বোঝো কেউ বেসমেন্টের কল খুলে রেখে চলে গেছে। তাই বলি কোথা থেকে জলের আওয়াজ আসছে। আরে উফ জলই জল বাপরে। জলের নলটা খোলা। স্যার মনে হচ্ছে এই বেসিনটার পাইপে কিছু আটকে গেছে। সেজন্য সমস্ত জল বেরিয়ে আসছে। এটা কেউ জেনে শুনে করেনি তো? স্যার। স্যার এই দেখুন। স্যার এই মাথার
পেছনে হালকা চোটের চিহ্ন আছে। এই দেখুন ঘুরাও তো একটু স্যার। দেখি আর কোন ক্ষত আছে কিনা। স্যার এই দেখুন। এখানে সারা গায়ে আঘাতের চিহ্ন। এটার মানে হলো স্যার ওর সঙ্গে কারো হাতাহাতি হয়েছিল। কিন্তু কার সাথে? কে? তুমি তো বলেছিলে এখানে কেউ ছিল না। একা ছিলেন মহেন্দ্র বাবু। তাহলে এই আঘাতগুলো লাগলো কি করে? আমি জানিনা স্যার। মিথ্যা বলছে স্যার। ওই কারো সাথে মিলে ওর মালিককে খুন করেছে। খুন স্যার এরকম দোষ দেবেন না স্যার। কাকে সঙ্গে নিয়ে খুন করেছো? কাকে সঙ্গে নিয়ে? আমি খুন করিনি স্যার। দেখো মিথ্যে কথা বলবে না। তোমারই কোন সঙ্গীর সাথে ওর হাতাহাতি হয়েছে।
আর তুমি ওর মাথার পেছনে আঘাত করেছো। আর অজ্ঞান করে দিয়েছো। আর তারপরে তুমি জলের পাইপটা খুলে রেখেছো। এই ভেবে যে জল মহেন্দ্র বাবুর মুখ দিয়ে ওনার ফুসফুসে যাবে। আর ওনার মৃত্যু হয়ে যাবে। না স্যার। এরকম দোষ দেবেন না স্যার। আপনি দরকার পড়লে আমায় ফাঁসি দিয়ে দিন। হ্যাঁ ফাঁসিতে তো ঝোলা বই যদি তুমি খুন করে থাকো। বুঝেছো? এই দেখুন স্যার ওর দুটো হাত দিয়ে গলাটা চেপে ধরেছে কেন? ওর হাতটা সরাও তো। দেখোতো ওখানে কোন আঘাত আছে কিনা? এটা কি? হাতটা পুড়ে গেছে। কিন্তু স্যার ওর হাতটা পুড়লো কি করে? এখানে না পোড়ার কোন জিনিস আছে? আর না
এখানে আগুন লাগার মত কিছু ঘটেছে। সেটাই তো। কে? ওনার হাতটা তুমিই পুড়িয়েছো তাই না? বাইরে কোথাও আর তারপরে এখানে রেখে চলে গেছো আমি ওনার হাত পোড়াইনি স্যার তাহলে কে পুড়িয়েছে আমি কিচ্ছু জানিনা স্যার তুমি শেষ লোক ছিলে তো যে এখান থেকে গিয়েছিলে না স্যার সবার শেষে তো আমাদের মালিকই যেতেন আমি তো সবসময় উনার আগে চলে যেতাম আর কাল রাতে আমি যখন গেলাম তখন উনি একদম ঠিক ছিলেন কিন্তু তুমি তো বলেছিলে শাটার তো তুমিই বন্ধ করেছিলে কালকে রাত্রে হ্যা স্যার আজ সকালে এসে আমি দোকানে শাটার খুলেছিলাম স্যার তাহলে মহেন্দ্র বাবুকে নিজে নিজেকে কে মেরেছে স্যার এইটা
হলো মৃত্যুর কারণ এজমার পাম্প এই ফ্রিজের সামনে পড়েছিল এজমা রোগীর পাম্প কে মহেন্দ্র বাবুর এজমার প্রবলেম ছিল হ্যাঁ স্যার স্যার হতে পারে যখন মহেন্দ্রর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় আর যখন ও মাটিতে পড়ছিল ওর মাথাটা কোন কিছুর সাথে বাড়ি খায় সেই কারণে ওর মাথায় আঘাত লাগে আর স্যার মুখের মধ্যে জল ঢুকে যাওয়ার কারণে দম আটকে যায় আর মারা যায় না সচিন জলের পাইপ খোলা রাখা মহেন্দ্র বাবুর মাথার উপর চোট আর ওনার পোড়া হাত নিশ্চয়ই এর মধ্যে কিছু ব্যাপার আছে এটা কোন এক্সিডেন্ট নয় সচিন খুন করা হয়েছে খুন একটু বডিটা উল্টাও অভিজিত বস আমার মনে হয় না একে
কেউ মেরেছে এর আঘাতটা গভীর নয় একদম ফ্ল্যাট হতে পারে এ কোনভাবে পড়ে গেছে আর তখনই চোট লেগেছে হয়তো জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেছে হতে পারে স্যার ও এজমার পেশেন্ট ওনার ইনহেলারটা আমরা ফ্রিজের পাশ থেকে পেয়েছি ও গুড মর্নিং স্যার এক্সকিউজ এই তুমি এখানে কি করছো? এটা স্যার ওকে এসিপি স্যার ওকে এখানে পাঠিয়েছেন। কিন্তু স্যার ও তো ওর বান্ধবীর স্বামীকে গুলি করেছিল। বিবেক সেই সময় পরিস্থিতি অন্যরকম ছিল। সেই সময় যদি ওর বান্ধবীর বরকে গুলি না করতো তাহলে হয়তো ওর বান্ধবী আর জীবিত থাকতো না। কিন্তু স্যার অপরাধটা তো হয়েছেই ওর হাত দিয়ে। তারপরেও না ওই ওই ব্যক্তি এখনো
বেঁচে আছে যার উপরে ও গুলি চালিয়েছিল। আর এই ধরনের ঘটনা তো যেকোনো সময় যে কারো সাথে হতে পারে বস এই লোকটির মৃত্যু এজমার কারণে হয়নি আস্তমার কারণে হয়নি তাহলে কি জন্য হলো অভিজিত এর মৃত্যু দম আটকে হয়েছে তার মানে কেউ ওকে গলা টিপে খুন করেছে না গলায় তো সেরকম কোন চিহ্ন নেই তাহলে তাহলে আমি কি বলব সেটা তোমরা খুঁজবে থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ। ইউ আর ওয়েলকাম। আবার ওই বেসমেন্টে গিয়ে দেখতে হবে। ওখানেই পাওয়া যেতে পারে ওর মৃত্যুর কোন সূত্র। স্যার। এই সালুকে স্যারও না মাঝেমধ্যে যা মাথায় আসে তাই বলে দেন। এত বড় একটা ঘরে কেউ
দমবন্ধ হয়ে কি করে মারা যায় স্যার? ফেদ্রিক সোজা কথা ঘরটা চারিদিক থেকে বন্ধ। হাওয়া ঢোকার কোন রাস্তাই নেই এই ঘরে। তাহলে কি হবে? ওই রুমে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যাবে। আর মানুষ দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে। স্যার মৃত ব্যক্তি আস্তামার রুগী ছিল। যখনই ওর শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল ওর তো এখান থেকে উপরে পালানো উচিত ছিল। হ্যাঁ বিবেক উপরে পালিয়ে যেতে পারতো কিন্তু হয় ও উপরে পালাতে পারেনি বা পালানোর আগেই কি গিরিশ যখন তুমি পার্লার থেকে যাও তখন মহেন্দ্র কোথায় ছিল তখন উনি পার্লারের উপরেই বসে কাজ করছিলেন সত্যি বলছো হ্যাঁ সত্যিই বলছি এই পার্লারেই ছিল হ্যা মহেন্দ্র তো
পার্লারে বসেছিল তাহলে ও নিচে বেসমেন্টে কেন আসলো? কি জন্য এসেছিল? স্যার খুনি হয়তো ওকে ওপরেই খুন করে নিচে এনে ফেলে দিয়েছে না বিবেক এখনো পর্যন্ত আমরা জানতে পারিনি যে মহেন্দ্রকে কেউ মেরেছে নাকি ও নিজেই মারা গেছে গিরিশ হ্যাঁ বল তুমি ছাড়া তুমি ছাড়া আর কে কে জানতো যে মহেন্দ্র বাবু এখানে বেশিক্ষণ বসতেন স্যার এখানে যারা যারা কাজ করে তারা প্রত্যেকেই জানে যে উনি সবার শেষে যান সবাই জানতো হ্যাঁ কোথায় তারা ব্যাস ওরা এসেই পড়বে আমি ওদের বাইরে সব একজোট হতে বলেছি গিরিশ বলছে ও নাকি পার্লারের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল করিডরের সাটার পর্যন্ত ভেতর থেকে বন্ধ
করা ছিল তাহলে খুনি খুন করে পালালো কিভাবে কিভাবে এখান থেকে গেল কিভাবে যেতে পারে? শেষবারের মতো জিজ্ঞেস করছি আর কোন রাস্তা আছে বাইরে যাওয়ার? না স্যার আর আর কোন রাস্তা নেই। আর কোন রাস্তা নেই। পার্লারের দুটো দরজা বন্ধ ছিল। আর কোন রাস্তা নেই বাইরে বেরনোর। কিন্তু খুনি মহেন্দ্রকে খুন করে এখান থেকে পালালো কিভাবে? কিভাবে ও এখান থেকে পালালো? ঠিক আছে মেনেই নিলাম। যে মহেন্দ্র নিজে নিজেই মারা গেছে দম আটকে। কিন্তু ওর দম আটকালো কিভাবে? কিভাবে ওর দম আটকায়? শ্বাস নেওয়ার জন্য নিজেই নিজেকে বাঁচানোর জন্য ও বাইরে কেন পালালো না? না না কিছু একটা গোলমালা আছে।
স্যার খুনি জানলা দিয়ে পালিয়েছে। ফেদ্রিকা একটা কাজ করো বাইরে গিয়ে দেখো দেখো কোন প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা কাজল আর বিবেক তোমরা এখানেই থাকবে এই রুমটা সার্চ করো প্রতিটা কোনা ভালো করে দেখো দেখো কিছু পাওয়া যায় কিনা স্যার হুম জালনাতে টেপ দিয়ে বন্ধ করা রয়েছে। এভাবে তো হাওয়া ঢুকতেই পারে না। কে এই জানলা? আগে থেকেই এরকম ছিল। জানালা তো আগে থেকেই বন্ধ ছিল কিন্তু। কিন্তু কে? কিন্তু এই টেপ লাগানো ছিল না স্যার। টেপ লাগানো ছিল না। তাহলে কে টেপ লাগিয়েছে? হ্যাঁ? স্যার সেটা তো আমি জানি না স্যার। তুমি তো কিচ্ছু জানো না। আমার সন্দেহ ঠিকই আছে।
মহেন্দ্রর মৃত্যু দম আটকানোর কারণেই হয়েছে। আর যে এটা করেছে ভেবে চিনতে প্ল্যানিং করে করেছে। ও প্রথমে জানলাটাকে ভালো করে টেপ দিয়ে আটকে রেখেছে যাতে হাওয়া ভেতরে না ঢুকতে পারে। আর তারপরে মহেন্দ্র যখন এই বেসমেন্টে আসে খুনি তখন ওই বিষাক্ত গ্যাস ঘরের মধ্যে ছেড়ে দেয় আর মহেন্দ্রর মৃত্যু হয়। স্যার কিন্তু ঘরের মধ্যে গ্যাস ঢোকার কোন একটা রাস্তা তো থাকা উচিত। এই জানলাগুলো তো বন্ধ তাহলে রাস্তা বেরোবে পুরবি রাস্তা বেরোবে। চলো। এটাই হলো পার্লারের পেছনের দরজা। আর তার ঠিক অপোজিটে এক, দুই, তিন। তিনটে দরজা। তার মধ্যে এটা হলো বেসমেন্ট। বাকি দুটো দরজা কি হতে পারে? ভালো করে
দেখো পেছনটাও দেখো মেঝেতে খুব ভালো করে দেখো দেওয়ালের দিকটাও ভালো করে দেখো দেখো কোন ফুটো পাওয়া যায় কিনা যেখান দিয়ে ওই বিপদজনক গ্যাস ভেতরে ছাড়া হয়েছে। ইয়েস স্যার স্যার। হ্যা দেখো ভালো করে দেখো। প্রত্যেকটা জিনিস ভালো করে দেখো। কি হয়েছে ব্যাট্রিক ইদুর হাতি ইদুরকে ভয় পায়। স্যার হ্যাঁ কাজল এই দেখুন স্যার এখানে গর্ত রয়েছে দেখো আমি বলেছিলাম না ফুটো আছে কিন্তু স্যার এরকম ফুটো তো ইলেকট্রিকের তার বা সেরকম কিছু যাওয়ার জন্য করা হয় দেওয়ালে। যদি এটা ইলেকট্রিকের তার ঢোকানোর জন্য করা হয়ে থাকে তাহলে দু থেকে তিন ইঞ্চির বেশি গভীর হতে পারে না। দেখো কতটা গভীর
দেখো ভালো করে। স্যার পেন তো পুরোটাই দেখছি দেওয়ালের ভেতরে চলে গেল। হ্যাঁ। ফুটোটা একটু বেকা উপরের দিকে বেকা উপরের দিকে চলো আমরা গিয়ে দেখি অন্যদিকটা কোন দিক দিয়ে বেরিয়েছে বেসমেন্টে যে ফুটোটা আমরা দেখেছি ওই ফুটোর মুখ মনে হয় এই রুম থেকে বেরনোর কথা পেডিক সব বাক্সগুলো এখান থেকে সরাও ফুটো এই দেওয়ালেই আছে মনে হচ্ছে বিবেক কোথায় চলে গেল স্যার বিবেক তো করিডরেই এসছিল হয়তো পার্লারে কিছু খুঁজছে স্যার হ্যাঁ পার্টি এই দেখুন স্যার ঠিক সেরকমই আরেকটা ফুটো ঠিক যেমন নিচে বেসমেন্টে ছিল। হ্যাঁ ফেড্রিক এটা ওই গর্তেরই মুখ। আর এই গর্ত দিয়েই খুনি ওই বিপদজনক গ্যাস বেসমেন্টের
ভেতর ছেড়ে দেয়। কিন্তু ও এখান থেকে পালালো কি করে? কোন দিক দিয়ে পালিয়েছো? কিভাবে? ফেরে এই কার্পেটটা সরাও। দেখো তার নিচে কিছু আছে কিনা। মাই গড। এটা তো আরেকটা গোডাউন কাজল তাড়াতাড়ি একটা টর্চ নিয়ে এসো স্যার হ্যাঁ টর্চ যতক্ষণ না আসছে আমি নিচে গিয়ে দেখবো একবার তুমি যাবে নিচে অন্ধকারে হ্যাঁ স্যার ভয় পাবে না তো রেডি আর ভয় সাবধানে যাও হ্যাঁ স্যার আর কোন গোলমল করো না একদম স্যার সাবধানে হ্যা হ্যা সাবধানে ও মাগো বেবি কি হয়েছে স্যার যেখানে যাবে সেখানে গোলমাল করবে স্যার হ্যা ফেডক ফেড্রিক ফেডক কোথায় গেল প্যাটি কোথায় তুমি আরেক কি হয়েছে
তোমার আমার হ্যা তোমার কিছু না কিছু তুমি কিভাবে পড়ে গেলে আরে পাউডার গুলো তোমার কিভাবে নাকে মুখে লাগলকে হাসছেন কেন স্যার? হ্যাক মুখে এসপি স্যার এসব আপনি কি কথা বলছেন? ফ্রেডি স্যার মজা করছেন কেন? মজা এটা তো ড্রাগস। ফেড্রিক কোন মজা করছে না। এই ড্রাগস ফেড্রিকের শরীরে গেছে। কাজল একে তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিয়ে যাও যাও কাজলের সঙ্গে হসপিটালে যাও স্যার সাবধানে সাবধানে সাবধানে স্যার সাবধানে চলুন স্যার সাবধানে আছে স্যার এটা তো পুরো একটা ড্রাগসের ল্যাব এটা তো ফ্যাক্টরি হ্যা হ্যা কোন বড় র্যাকেট এখানে আছে মনে হচ্ছে। মনে হয় ওই মহেন্দ্র আইসক্রিম পার্লারের আড়ালে ড্রাগসের ব্যবসা করে।
আরে দড়ি শিয়ারির উপরে। কেন? কাউকে বেঁধে রেখেছিল নাকি? বিবেক কি এখানে বেঁধে রাখেনি তো? হ্যাঁ পুরবি হতে পারে হতে পারে বিবেককেই বেঁধে রেখেছিল কাজল বলছিল যে ও আইসক্রিম পার্লারে গিয়েছিল কিছু খুঁজতে খুঁজতে খুঁজতে ও এখানে আসেনি তো হয়তো ওই লোকগুলো স্যার রক্ত এই দেখুন এতো টাটকা রক্ত মনে হচ্ছে এটা বিবেকের রক্ত নয় তো একটা কাজ করো এই রক্তটা তোলো আর ফরেন্সিক ক্লাবে পাঠিয়ে দাও ততক্ষণ আমি বাকি কর্মচারীদের দের সাথে কথা বলি। স্যার তোমার নাকের নিচে আইসক্রিম পার্লারের বেসমেন্টে রুম নাম্বার 12 তে ড্রাগস তৈরি হয় আর তুমি বলছো তুমি কিছু জানো না? হ্যাঁ। এটা হতে পারে
না। বুঝেছো? স্যার আমি সত্যি বলছি আমি কিচ্ছু জানি না। সত্যি বলছো। তোমরা কিচ্ছু জানো না সেটা তো আমরাই জেনে নেব বুঝেছো ? তোমাদের সকলের ডিটেলস আমার চাই সবার ডিটেলস নাম আর ঠিকানা সমেত এক্ষুনি| ডক্টর সাহেবকে জানা গেল এই মহেন্দ্র খুন কিভাবে হয়েছে? না এখনো জানা যায়নি। আরে এত সময় লাগার কেস কিভাবে সলভ হবে স্যার? আরে অভিজিত তোমাকে বারবার বলেছি তুমি ঘোড়ায় জিন দিয়ে কখনো এখানে এসো না। তুমি দেখছো না আমি কাজ করছি। এক মিনিট এক মিনিট। গৌতম এটা তো জানা গেছে যে ওই আইসক্রিম পার্লারের বেসমেন্টে যে রক্ত পাওয়া গিয়েছিল সেটা কার? দুনিয়ায় কোটি কোটি লোক
আছে অভিজিত সেটা যে কারোর হতে পারে আমি কি করে বলব? আরে কি হয়েছে ওনার এত মেজাজ গরম কেন? অভিজিত দেখো একটা ব্যাপার তো সিওর যে ওই রক্তটার ব্লাড গ্রুপ বি পজিটিভ। বি পজিটিভ? বি পজেটিভ ব্লাড গ্রুপ তো স্যার বিবেকেরও। বিবেকের? যেই ভয় পাচ্ছিলাম সেটাই হয়েছে। বিবেক সেই সময় ছিল ওখানে। কিন্তু গেল কোথায়? এই ড্রাগের জ্যাকেটটা আবার বিবেককে গায়েব করে দিল না তো? তোকে আমি একদম খুশি করে দেব। আদা জল খেয়ে ঢুকে পড়। ড্রাগ বিক্রি করা গ্যাং। বেঁচে যদি ফ্রি সারাজীবন পায়ের উপর পা তুলে খাবি। আর মরে যাস যদি তোর বাচ্চারা তোর সুনাম করবে। সব পয়সা
তোর বাচ্চাদের দিয়ে দেবো। শুধু তুই এইটুকু খবর এনে দে যে বিবেক কোথায়? ড্রাগ ডিলারদের খপ্পরে আছে না নেই। ওকে আমি তোর ফোনের জন্য অপেক্ষা করবো ঠিক আছে। স্যার বিবেকের কোথাও কোন খোঁজ পাচ্ছে না। ও হসপিটালও নেই আর এমনকি এমনকি কিচ্ছু না স্যার। কিছু নয় কি? স্যার আমি ভেবেছিলাম কেউ ওকে আবার মেরে দেয়নি তো এজন্য আমি মর্গেও খুঁজে নিয়েছিলাম তো ওখানেও নেই হঠাৎ উধাও হয়ে গেল কোথায় আমরা হয়তো ছিলাম ওখানে গেলে যাবে কোথায় স্যার স্যার এটা মহেন্দ্রর মোবাইলের কল ডিটেলস আর ওর আইসক্রিম পার্লারের কল ডিটেলস কাল রাত 11 টার সময় ল্যান্ডলাইন থেকে কেউ একজন কল করেছিল।
পুরো দেড় মিনিট ধরে কথা হয়েছে। স্যার তার মানে আইসক্রিম পার্লার বন্ধ হওয়ার ঘন্টাখানিক পর কেউ মহেন্দ্রকে ফোন করেছিল। আর এই কাজ এমন কোন লোকই করতে পারে যে জানে যে মহেন্দ্র এত রাতেও ওখানেই থাকতে পারে। ওই আইসক্রিম পার্লারে। স্যার এরকমটাও তো হতে পারে। যে ফোন করেছে সেই মহেন্দ্রকে বেসমেন্টে যাওয়ার জন্য বলেছে। হতেও পারে পুরবি। কিন্তু ওর দম বন্ধ হলো কি করে বেসমেন্টে গিয়ে? স্যার এটা আমিও ভাবছিলাম। বেসমেন্টে ওর যদি দম নিতে অসুবিধা হয় তো ওখানে দাঁড়ালো কেন? পালালো না কেন? হ্যাঁ সচিন এ কথাটাও মাথায় ঢুকছে না। বেসমেন্টে কোন গন্ডগোল আছে। বিবেকও বেসমেন্ট থেকেই উধাও হয়েছিল। এক
কাজ করো। বেসমেন্টটা আরেকবার তল্লাশি করে দেখো। হয়তো আমাদের কোন কিছু নজর এড়িয়েছে। আর এই নাম্বারটারও খোঁজ করো। খোঁজ করো যে এই নাম্বারটা কোথাকার নাম্বার। স্যার বেসমেন্টের সমস্ত জায়গায় দেখলাম কোথাও কিছু নেই। কাজল কখনো কখনো চোখের সামনে প্রমাণ থাকলেও আমাদের নজরে পড়ে না। এই কেসে এমন কোন জিনিস আছে এমন কোন জিনিস যেটা এখনো এখনো আমাদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে। স্যার এমন কি হতে পারে? সচিন খুনি যতই চালাক হোক না কেন কোন না কোন ভুল সে নিশ্চয়ই করে থাকে। কোন না কোন প্রমাণ তো সে রেখেই যায়। আমাদের ওই প্রমাণটা খুঁজে বের করতে হবে। খোঁজো ভালো করে স্যার। বেসিনের
জলটা তো সেই একই রয়ে গেছে। শচেন হ্যা স্যার। সচিন এই বেসিনের নিচের পাইপটা খুলে দেখো। দেখো কিছু আটকে আছে কিনা। হ্যাঁ। স্যার মনে হয় এর মধ্যে কিছু আটকে আছে দেখো বের করো স্যার এই দেখুন পাথর পাথর আমি বলেছিলাম না সচিন জেনে শুনে এটা করা হয়েছে। জেনে শুনে প্রথমে পাথর আটকে যায় পাইপে। আর তারপরে জলের নলটা চালু করে দেয়। কিন্তু স্যার মহেন্দ্রর মৃত্যুর সাথে জলের কি সম্পর্ক থাকতে পারে? হ্যাঁ স্যার। জল তো আগুন নেভায়। তাহলে হাত কি করে পুড়লো ওনার? যেটা ছোয়ার পরে মহেন্দ্রর হাত পুড়ে যায়। ওই জিনিসের ক্ষেত্রে জল বারুদের মতন কাজ করেছে। জিনিসটা কি
এমন হতে পারে? মনে হচ্ছে এই লোকটা জ্বলন্ত কোন জিনিস দু হাতে ধরেছিল। যেটার কারণে এর হাত দুটো খুব বাজে অবস্থায় পুড়েছে। হ্যাঁ বস। হাত খুব খারাপভাবে পুড়ে গেছে আর এর ক্ষত থেকে পুজো বেরচ্ছে দেখো। কিন্তু যেই জিনিসের হাতটা পুড়েছে সেই জিনিসটা তো ওখানে ছিলই না। যদি সেই জিনিসটা পুড়ে ছাইও হয়ে থাকবে তাহলে তো কিছু থাকবে ওখানে। এই লোকটি সেই জিনিসটাকে খেয়ে নিয়েছে। রশি কথা করছোস আলুকে? খেয়ে নিয়েছে মানে? খেয়ে নিয়েছে মানে সেই জিনিসটা এখনো এর মধ্যে আছে। তার মানে এর পেটে আছে। পেটে নয় বস। তাহলে? এর ফুসফুসের মধ্যে আছে। আর সেই কারণেই এই লোকটির মৃত্যু
হয়েছে। মানে জ্বলন্ত জিনিসটা হাওয়া হয়ে গেছে। আর হাওয়া হয়ে ওর লাংসে চলে গেছে। আগে হ্যাঁ। কি আগে? আরে বস। এই লোকটি জ্বলন্ত জিনিসের জন্য মরেনি। তাহলে এ জ্বলন্ত বরফের কারণে মরেছে। জ্বলন্ত বরফ? হুম। বরফে আগুন লাগতে পারে। বরফে তো আগুন লাগতে পারে না। কিন্তু বরফ আগুন লাগাতে পারে। মানে হসপাইট। বুদ্ধিমান মেয়ে। আর বরফ কিভাবে আগুন লাগাতে পারে সেটা এর দুটো হাত দেখলেই বোঝা যায়। এ দেখো বস। এই লোকটির দুটি হাত খুব খারাপভাবে পুড়ে গেছে। বস এ দুটো হাত দিয়ে অনেকক্ষণ পর্যন্ত ড্রাই আইস ধরেছিল। অনেকক্ষণ পর্যন্ত। কারণ এর হাতের ওপরের ছালটাই শুধু পড়ে যায়নি। এই দেখো
এর হাতের ভেতরের মাংসও খুব বাজেভাবে পুড়ে গেছে। কিন্তু এতক্ষণ ধরে ও বরফটা কেন ধরে রেখেছিল? বস। এই লোকটি প্রথমে অজ্ঞান ছিল। হ্যা। এর মাথার উপর তো আঘাত আছে। আর যখন এই লোকটির জ্ঞান ফেরে ও দেখলো ঘরের মধ্যে চারিদিকে ড্রাই আইস পড়ে আছে। আর তার উপরে জল পড়ছে। আর যখন ড্রাই আইস জলের সঙ্গে মেশে তখন কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি হয়। আর ওই কার্বন ডাইঅক্সাইডের কারণে এই লোকটির শ্বাস বন্ধ হতে থাকে। এই লোকটি নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য কোনভাবে ড্রাই আইসকে সরিয়ে দিয়ে উপরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ওপরের দরজা বন্ধ ছিল। এই লোকটি আবার নিচে আসে। কিন্তু ততক্ষণে
ঘরের মধ্যে কার্বন ডাইঅক্সাইড পুরোপুরি ভরে গিয়েছিল। আর ওই কার্বন ডাইঅক্সাইডের কারণে এর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আর লোকটি মারা যায়। মরার সময় খুব যন্ত্রণা পেয়েছে বেচারা। স্যার এই ড্রাই আইস যা জিনিস তা তো সব ফ্যাক্টরিতে পাওয়া যায় না। খুব বেশি হলে তিন চারটা ফ্যাক্টরিতে পাওয়া যায়। আমরা এটা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারি যে পরশু রাতে এই আইসক্রিম পার্লারে কে ড্রাই আইস নিয়ে এসেছিল। হ্যাঁ অভিজিত। এই ড্রাই আইস ফ্যাক্টরির আমরা খোঁজ নিতে পারি। হ্যাঁ সচিন কোথা থেকে? মালাঠির পিসিও থেকে স্যার কেন জানিনা সকাল থেকে মাথায় আজেবাজে চিন্তা করছে। কেন? কি হয়েছে তোমার? মেরেছে নাকি গার্লফ্রেন্ড নাকি ফোনে
কিছু বলে ফেলেছে। না এরকম কোন ব্যাপার নয় স্যার। স্যার কি বলব এই ব্যাপারে? ছেড়ে দিন ওসব। কিন্তু মন তো মানে না স্যার। বারবার সেই একই কথা মাথায় আছে। মন বলে কথা। ওকে এরকমই থাকতে দাও শচিন। এ যদি নরম থাকে তবে জীবনটাও বেশ মজাদার হয়ে দাঁড়ায়। আর একবার শক্ত হয়ে গেলে না জীবনের আর মজাই থাকে না। স্যার এটা আপনি ঠিক বলেছেন। আচ্ছা এই বাজে খেয়ালটা এলো কেন তোমার মাথায়? এই বিবেকের ব্যাপারে এখনো কোন খোঁজ পেলাম না। আরে এই কথা ভেবে আমারও তো মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আরে গেল তো গেল কোথায়? স্যার বিবেক ফোন কেন করছে না?
আমি কিন্তু জানি বিবেক কোথায়? স্যার আপনি জানেন? স্যার এতক্ষণ বলেননি কেন? আরে আমি তো এখনই সব জানতে পারলাম। ওই দেখো সিগনালের নিচে। কি হাল হয়েছে দেখো শরীরের। তার উপরে ছেড়া ময়লা পোশাক পড়ে আছে। এক কাজ করো তো। তুমি গাড়িটাকে ঘুরিয়ে ওদিকে লাগাও। ঠিক আছে। চল। ঠিক আছে স্যার। বিবেক বিবেক আরে কি হয়েছে তোমার? বিবেক তুমি চিনতে পাচ্ছ না? এর কি হয়েছে? কিছু বলছে না তো বিবেক চিনতে পারছিস উনি দোয়া স্যার আমি সচিন ও পুরবি কেউ কিছু খাওয়ালো নাকি বিবেক চলো চলবে তুলে নিয়ে যেতে হবে স্যার চলো চলো আরে ভাই শোনো টাকা টাকা কে দেবে আরে
ভাই খাতায় লিখে রাখো না বিকেলে এসে দিয়ে যাব বাবার জমিদারি নাকি শেষ তিন মাস ধরে এই একই ডায়লগ শুনে আসছি এটা কিন্তু বাজে কথা বলছো ভাই ভাব তুলে বলো না কিন্তু তোমার টাকা নিয়ে কি আমি পালি যাচ্ছি নিয়ে পালাচ্ছিস না কিন্তু দিচ্ছিসও তো না ওসব নাটক ছাড় এখন টাকা দে তোমাকে কিন্তু এখনো আমি বুঝেই যাচ্ছি ভাই বাড়াবাড়ি করছো কিন্তু তুমি এই ব্যাপার কি করছিস তোরা এখানে হ্যা কেন মারপিট করছিস আরে স্যার গত এ তিন মাস ধরে ফোন করেই যাচ্ছে আর টাকাই দিচ্ছে না কেন টাকা দিচ্ছিস না কেন হ্যা বল ওকে দেলেন স্যার টাকা টাকা থাকা
সত্ত্বেও টাকা দিচ্ছিল না। আবার যেন এরকম না হয়। যা এখান থেকে বেরো। এই আপনারা সরে যান। যান। তোমার টাকা পেয়ে গেছো তো? হ্যাঁ স্যার। এবার খুশি তো? হ্যাঁ স্যার অনেক অনেক ধন্যবাদ। দেখো আমি সিআইডি অফিসার। সিআইডি? হ্যাঁ। এই পিসিওতে পরশু রাতে 11 টায় কেউ ফোন করতে এসেছিল। পরশুদিন রাতে 11 টার সময় একটু ভেবে বলো যদি কিছু মনে পড়ে। হ্যাঁ স্যার। আমি যখন দোকান বন্ধ করার সময় বাইরে বেরিয়েছিলাম তখন গাড়ি নিয়ে একজন ফোন করতে এসেছিল তারপর আমি তো তখনই ওকে বারণ করে দিলাম কিন্তু তখন বলল যে খুব দরকারি একটা ফোন আছে খুব ধষামোত করছিল তখন আমিও
বললাম ঠিক আছে ভাই নাও করে নাও ও একা ছিল নাকি কেউ ছিল না স্যার ওর সঙ্গে আরেকটা লোকও ছিল কিন্তু ও গাড়িতেই বসে ছিল তুমি কিছু শুনেছিলে কি কথা বলছিল স্যার কথাবার্তা তো আমি শুনিনি আমি তো বাড়ি যাবার জন্য তাড়াহুড়ো করছিলাম ভাবছিলাম কখন ওনার ফোন শেষ হবে আর আমি বাড়ি যাবো কেমন গাড়ি ছিল মনে আছে মানে বলতে চাইছি নাম্বার গাড়ির নাম্বার স্যার নাম্বার তো মনে নেই কিন্তু স্যার বড় গাড়ি ছিল সাদা রঙের। ওই যে লোকটা ফোন করতে এসেছিল আশেপাশে দেখেছো কখনো? স্যার আগে তো কোনদিনও দেখিনি। 30 35 বছরের ছিল। আর হ্যাঁ স্যার উনি ঘুরিয়ে হাঁটছিলেন।
দয়া এই ড্রাগস এত ডেঞ্জারাস যদি কারো শরীরে একবার ঢোকে না সে শেষও হয়ে যেতে পারে। হ্যাঁ স্যার দেখুন না বিবেকের কি অবস্থা হয়েছে। স্যার বিবেককে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে এডমিট করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে স্যার। না দা আমার তো মনে হয় না ও এত তাড়াতাড়ি সুস্থ হবে কম করে তো এক মাস লাগবেই ওর স্যার এই আইস ফ্যাক্টরির পাশেই আছে ড্রাই আইস ফ্যাক্টরি এটাই শেষ আইস ফ্যাক্টরি স্যার আর এই আইস ফ্যাক্টরি সবচেয়ে বেশি ড্রাই আইস বিক্রি করে স্যার তাহলে দয়া ওই বরফ ওই আইস ফ্যাক্টরি থেকে নিয়ে গেছে ও চলো গিয়ে দেখি আরে কি হয়েছে ভাই?
তোমার কি হয়েছে? কি হয়েছে ভাই? কি হয়েছে? কি হয়েছে? কি? কি হয়েছে? পাঁচ বছর ধরে তুমি এখানে কাজ করছো তারপরেও এত বড় গাফিলতি গ্লাভস না পড়েই তুমি এভাবে ড্রাই আইসে হাত দিলে কেন? আরে একে পরে বকো আগে হসপিটালে নিয়ে যাও না হলে ওষুধ লাগাও ওষুধ আছে এখানে শোনো ওকে অফিসে নিয়ে যাও সেখানে ফার্স্ট এইড বক্স আছে যাও তাড়াতাড়ি যাও আর তোমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার মুখ কি দেখছো যাও তাড়াতাড়ি কাছে যাও কাছে যাও খুব জ্বালা করছি স্যার আসন স্যার যে পিসিও থেকে মহেন্দ্র কে ফোন করা হয়েছিল ওই পিসিও মালিক বলছিল যে ওখানে দুজন এসেছিল ফোন করতে
একজন গাড়িতেই বসেছিল আর যে ফোন করছিল সে খুরিয়ে হাঁটছিল ল ও খুরিয়ে হাটছিল আপনি একটু বলুন তো পরশুরাতে এখান থেকে 15 টা বরফের বার আপনি কাকে বিক্রি করেছেন পরশুরাতে কাকে বিক্রি করেছেন তাড়াতাড়ি বলুন স্যার দেখে বলতে হবে খুব ইমারজেন্সি অর্ডার ছিল স্যার আর এক্ষুনি চাই এরকমটাই বলেছিল চলুন বলবেন চলুন খুব জ্বলছে হ্যাঁ স্যার পেয়ে গেছি পাওয়া গেছে কি নাম স্যার জিত নামের একজন এই অর্ডারটা দিয়েছিল জিত কোন কন্টাক্ট নাম্বার আছে হ্যা হ্যা 1805976298 স্যার এটা তো ভুয় নাম্বার আমি তো সেটাই ভাবছিলাম কোন অপরাধী তার অরিজিনাল ফোন নাম্বার দেয় না আচ্ছা এটা বলুন এই বরফের বারগুলো
কে নিয়ে গিয়েছিল নন্দু নিয়ে গিয়েছিল স্যার আমাদের টেম্পো ড্রাইভার কোথায় আছে নন্দু হয়তো টেম্পোতে ঘুমচ্ছে নিয়ে চলুন আসুন স্যার। এদিকে এই শোনো নন্দু কোথায় আছে? স্যার ওই টেম্পোতে ঘুমোচ্ছে। আসুন স্যার। যখনই দেখি ঘুমোচ্ছে। জানিনা কি হয়েছে ওর। নন্দু কে? কে কি হয়েছে মালিক নেমে আয় তারপরে বলছি কি হয়েছে নেমে আয় কি হয়েছে মালিক পরশু রাতে মহেন্দ্রর আইস পার্লারে ড্রাই আইসের স্ল্যাব তুমি নিয়ে গেছিলে নিয়ে গিয়েছিলাম কি হয়েছে নন্দ ভদ্রভাবে কথা বল ওনারা সিআইডি থেকে এসেছেন এক মিনিট এই ছবিটা দেখো এড়ি আইসক্রিম পার্লারে নিয়ে গেছিলে তো হ্যা হ্যা আচ্ছা ওই বরফের বারটা তুমি নামিয়েছিলে নাকি অন্য
কেউ মালিক আমার কাজ গাড়ি নিয়ে যাওয়া। বরফ নামানোর জন্য দুজন লোক এসেছিল। ওরাই সব বরফ নামাচ্ছিল। আচ্ছা ওদের মধ্যে কেউ ঘুরিয়ে হাটছিল। খোড়াতে তো আমি কাউকে দেখিনি স্যার। কিন্তু হ্যা একজনকে দেখি দাঁতের নিচে কিছু একটা চেবাচ্ছিল। তামাক বা গুটকা জাতীয় এরকম কিছু। আচ্ছা। পিসিও থেকে বলছিল ওই লোকটা খুরিয়ে খুরিয়ে হাঁটছিল। আর এই ড্রাইভার বলছে যে প্রতি দু মিনিট অন্তর নিজের দাঁতের নিচে কিছু রেখে দিয়ে দাঁত দিয়ে চিব ছিল। একই লোকই না দুজন আলাদা আলাদা। এবার তো বাড়ি যেতে দাও। কেউ কোথাও যাবে না যতক্ষণ না আমরা জানতে পারবো খুন কে করেছে বুঝেছো? কিন্তু স্যার আমাদের উপর
কেন সন্দেহ করছেন? আমরা তো প্রথম থেকেই বরবাদ হয়ে রয়েছি। কারোর উপর সন্দেহ করছি না। খোঁজ খবর করছি। সবাই নিজে নিজের হাত সামনে রাখো। কেন? হাত সামনে রাখো। আপনারা আমাদের হাত দেখে কি করবেন? খুন কি আমরা করেছি নাকি? চুপচাপ নিজেদের হাত বাড়িয়ে দাও। চলো চলো। হাত দেখাও। কাজল। উল্টো করো। এদিকে আসো এদিকে আসো দাড়াও ওদিকে যান তুমিও আসো এদিকে চলো এদিকে আসো দাঁড়াও স্যার আমি কিছু করিনি আমি কারোর খুন করিনি স্যার একটু বাদে বুঝে যাবো সেটা চলো এদিকে আসো আমি কিছু করিনি স্যার চলো আমি কিছু করিনি স্যার। স্যার এই চারজনই তামাক খায় স্যার। তামাক খাও লজ্জা
করে না? জানো না তামাক সব থেকে বড় বিষ। ক্যান্সার হয় ক্যান্সার। স্যার এই বাকি যারা রয়েছে না সবাইকে লাইন দিয়ে হাঁটতে বল। দেখি ওরা কিভাবে হাটে। চল দেখি। তোমরা এক করে এখান থেকে সব বাইরে যাও। চল। সবার পাই তো ঠিক আছে স্যার কেউই খুঁড়িয়ে হাঁটছে না হুম সেটাই তো একটা কাজ করো এই বাকি যে চারজন রয়েছে না তাদের সবার পা চেক করো স্যার একবার প্যান্টটা উচু কর তো স্যার আমি সত্যি বলছি স্যার আমি কিছু করিনি স্যার চুপ প্যান্ট উচু এই পায়েরটা প্যান্ট উচু কর এই পাটা পাকা রেখে ওই পাটা ওই পাটা তো তুই তাহলে ধর
স্যার আমি কিছু করিনি স্যার স্যার বিশ্বাস করুন স্যার আমি কিছু করিনি পালাচ্ছিলে কেন আমি খুন কেন করেছিস তুই এসব আপনারা কি বলছেন আপনারা যাকে খুশি ধরে বলবেন যে খুন সে করেছে প্রশ্ন আমি একে করেছি। আর উত্তর তুই দিচ্ছিস। আরে যাও যাও অনেক দেখেছি তোমাদের মত সিআইডির লোক। অনেক দেখেছিস হ্যাঁ? আরেকবার দেখ। আমি আর কিছু করবো না স্যার। আর কোনদিন আমি ড্রাগ ছোবো না স্যার। ড্রাগ খাইয়ে খাইয়ে মানুষকে জানতো লাশ তৈরি করছিলি। জানতো লাশ। স্যার আমি বলছি স্যার। কান ধরছি স্যার। এরপরে আর এরকম ভুল কাজ কোনদিন করবো না স্যার। আর তুই টাকার লোভে আমি অন্ধ হয়ে
গেছিলাম স্যার। টাকার লোভে অন্ধ হয়ে গিয়ে বিষ বিক্রি শুরু করেছিস। মহেন্দ্রকে খুন কেন করেছিস? স্যার ওই ড্রাগের ব্যবসা ওই আইসক্রিম পার্লার থেকেই চলতো। আর একদিন হঠাৎ করে মহেন্দ্র ওটার খবর পেয়ে যায়। তারপর তারপরে মহেন্দ্র হুমকি দিতে থাকে যে আমাদের ধরিয়ে দেবে। আমরা জানতাম যে মহেন্দ্র হাবানি আছে। তাই আমরা দুজন প্ল্যান করি যে বেসমেন্টে আটকে রাখবো আর ড্রাই আইস ঢেলে দেব যাতে ও দম বন্ধ হয়ে মরে যায়। আর কেউ যাতে বুঝতেও না পারে যে ওর মৃত্যু কিভাবে হয়েছে। আরে আরে দরজা খোলো। যাতে ড্রাই আইস থেকে যে গ্যাস বের হয় তাতে দম বন্ধ হয়ে যায় আর ও
মরে যায়। আমরা জানতাম যে মহেন্দ্র প্রায়ই অনেক রাত পর্যন্ত ওই আইসক্রিম পার্লারে কাজ করে। আর ওই রাতে ও ওখানে ছিল। এইজন্যই আমরা ওকে ফোন করেছিলাম। তোরা দুজন বিবেককে কি করে উধাও করলি? সেই সময় আমি আরেকটা বেসমেন্টেই ছিলাম যখন আপনারা ওখানে পৌঁছন। জানিনা কোত থেকে হঠাৎ করে বিবেক ওই বেসমেন্টে চলে এলো। আমার মনে হয়েছিল যে আমরা ধরা পড়ে যাব। তাই আর তোরা সঙ্গে সঙ্গে বিবেককে ইনজেকশন দিয়ে দিলি। হ্যাঁ। আর ও মাদক আসক্ত হয়ে পড়েছিল। আর বারবার ড্রাগ চাইতে শুরু করেছিল। আর তারপরে আমরা পিছনের রাস্তা দিয়ে বের করে ওকে রাস্তায় ছেড়ে দিই। তোদের মত লোকেদের জন্যই আজকে
ইয়ং জেনারেশন নেশার শিকার হয়ে যাচ্ছে। আর অগন্তি পরিবার শেষ হয়ে যাচ্ছে। তোদের দুজনের তো ফাসি হওয়া উচিত। ফর মোর আপডেট সাবস্ক্রাইব আয়ার চ্যানেল। ক্লিক শোক এন্ড এনজয় ওয়াচিং ভিডিও।