1946 সালে গ্রেট ব্রিটেন ঘোষণা করে ভারতবর্ষকে স্বাধীনতা দেবে তারা। লাস্ট ভাইসরয় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন ডিসিশন নেন সেই তারিখটা হবে 1947 এর আগস্ট মাসে। কিভাবে ভাগটা করা হবে? খুবই ইজি আনসার জানি ধর্ম বা রিলিজিয়নের বেসিসে। মুসলিমদের জন্য একটা দেশ আর হিন্দুদের জন্য আর একটা। স্বাভাবিকভাবেই প্রথমদিকে প্রবল আপত্তি জানিয়েছিলেন জহরলাল নেহেরু আর মোহনদাস কারমচাঁদ গান্ধী। বাট রাজি হয়েছিলেন সকল মুসলিম নেতা। মোহাম্মদ আলী জিন্নার সাথে যখন কংগ্রেস ঐক্যে পৌঁছাতে পারল না, তখন পাকিস্তান আর ভারতে জন্ম নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট দ্য সিরিয়াল রেডক্লিফের হাত ধরে পার্টিশন হয় বিশাল এই উপমহাদেশের। এন্ড আজ পর্যন্ত
এই পার্টিশনটাকে ভাবা হয় পৃথিবীর ইতিহাসের ওয়ান অফ দ্যা উয়ারেস্ট এন্ড ব্লাডিয়েস্ট পার্টিশন। এই পার্টিশনের সাথে জড়িত পলিটিক্যাল চরিত্র আর ঘটনাগুলা নিয়ে আমরা কম বেশি চিনি আর জানি। বাট এর সাথে ব্রিটিশদের সাইট থেকেও বেশ বড় কিছু নাম আছে। একই সাথে আছে অনেকগুলো ছোট ছোট গল্প। আর এই দেশভাগের পেছনের পলিটিক্স নিয়ে আপনি YouTube এ খুঁজলে অসংখ্য ভিডিও পেয়ে যাবেন। আর আমি যেহেতু একটু ম্যাপ নিয়ে কাজ করতেই বেশি পছন্দ করি। তাই লেটস মেক দিস ভিডিও ডিফারেন্ট ফ্রম দোস। আজকের ভিডিওতে পলিটিক্সকে একপাশে রেখে এই উপমহাদেশের মানচিত্রে দাগ কাটার সেই ছোট ছোট গল্পগুলো নিয়েই কথা বলব। আর এই ভিডিওটা কিন্তু
এম্পায়ার নামের এই প্লেলিস্টের একেবারে শেষ ভিডিও। প্রায় 300 বছর ধরে ব্রিটিশরা কিভাবে এই উপমহাদেশের বনিকের বেশে এসে রাজা হয়ে উঠেছিল আর কিভাবেই বা চলে যাওয়ার সময় এই অঞ্চলকে ভাগ করে দেয়ার ড্রাইভিং সিটে তারাই বসেছিল সেইটাই পাবেন এই প্লেলিস্টের আগের ছয়টা ভিডিওতে। তো চলেন আজকের ভিডিও শুরু করি। উপমহাদেশকে ভাগের আগে সেই সময় সোশ্যাল অবস্থাটা আমাদের একটু শর্টে বোঝা দরকার। সে সময় হিন্দু মুসলিমের পাশাপাশি একটা বড় শিখ কমিউনিটি ছিল এই উপমহাদেশে কিন্তু দেশভাগের প্রশ্নে তাদেরকে কোনো রকম জায়গা দেয়া হয়নি দুইটা মেজর ক্যারেক্টার ছিল কংগ্রেস আর মুসলিম লীগ আর এই দুইটা দলই আল্টিমেটলি মেনে নেয় যে দেশভাগ হবে
বাট কোথা থেকে সেই ডিমার্কেশন লাইনটা আঁকা হবে তা নিয়ে কেউই সিওর ছিল না কারণ উপমহাদেশের মধ্যে ছোট ছোট জায়গাগুলোতেও মুসলিম মেজরিটি এরিয়া ছিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে স্পেশালি পাঞ্জাব আর বাংলা প্রভিন্সে পাঞ্জাবের ষোল টি মুসলিম স্টেট আর বাংলাতে মোট 13 হিন্দু মুসলিমের পারসেন্টেজও অলমোস্ট সেমই বলা যায়। আর সেই সময় পাঞ্জাবের শিকরাও শুরু করে নতুন এক কাহিনী। এই একটা প্রফেন্সেই তাদের একটা বড় কমিউনিটি ছিল। বাট পুরো ভারতের হিসেবে তারা আসলে একেবারেই মাইনরিটি। কিন্তু ওয়ার্ল্ড ওয়ার ওয়ান থেকে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে বড় এন্ড স্ট্রং একটা পার্ট ছিল এই শিখ কমিউনিটি। সো তাদের পলিটিক্যাল ক্যাপাবিলিটি মোটামুটি নোটিশ করার মতোই ভালো ছিল।
আর সেটা রেস্ট ধরেই মাস্টার তারাসিং দাবি করেন যে পাকিস্তান বানানো হলে সেটা শিখদের জন্য ভালো হবে না। তারা দাবি জানায় খালিস্তানের। এন্ড অবভিয়াসলি সে সময় উপমহাদেশের মেজর দুইটা পলিটিক্যাল পার্টির কেউই সেটা মানতো না। খেয়াল রাখবেন এই যে ঘটনাগুলো বলছি এগুলো কিন্তু ঝামেলার শুরুটা হয়েছিল 46 এ যে দেশ ভাগটা করা হবে পরের বছর সেই ঘোষণাটা আসার পর। আর ব্রিটিশদের দিক থেকেও সে সময় কিন্তু 47 এ তাদের এই দেশ ছেড়ে যেতেই হবে এমন একটা প্ল্যানেই ছিল। উপমহাদেশের পলিটিক্যাল লিডারদের সাথে মাল্টিপল মিটিংয়ের পর জুন থ্রি প্ল্যান এপ্রুভ করা হয়। এই প্ল্যানে পাঞ্জাব আর বাংলাকে পারমিশন দেয়া হয় যে
তারা নিজেদেরকে ভাঙতে চায় নাকি না। আর যদি চায় তাহলে তাদের জন্য কমিশন গঠনের বিষয়ে বলা হয়। এরপরই জুলাইয়ের 18 তারিখ ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট রয়েল সিগনেচার পেয়ে যায়। আর 47 এর জুলাই ব্রিটিশরা আইনজীবী সিরিল রেডক্লিফ কে দায়িত্ব দেন এই কাজ করার জন্য। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এই রেডক্লিফের কোন আইডিয়াই ছিল না এই উপমহাদেশের ব্যাপারে। ইনফ্যাক্ট দ্যাট ওয়াজ দা ফার্স্ট টাইম যখন সে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। প্লাস তাকে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছিল 300 বছরের শাসন ভাগ করার জন্য। পরবর্তীতে 1971 সালে কুলদীপ নায়ারের সাথে একটা সাক্ষাৎকারের রেডক্লিফ বলেন যে তিনি অলমোস্ট ভুল করেই লাহোরকে দিয়ে দিয়েছিলেন
ইন্ডিয়ার পার্টে। অর্থাৎ এতটাই আনপ্রিপেয়ারড ছিলেন তিনি। আর এই ইন্টারভিউতেই তিনি বলেছিলেন এই কাজ করার জন্য কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতো আর যেই কাজটা তিনি করতে পেরেছিলেন মাত্র পাঁচ সপ্তাহতে তো যাই হোক তাকে দেয়া টাইমের মধ্যেই রেডক্লিফ সাহেব দুইটি বাউন্ডারি কমিশন গঠন করেন প্রতিটা কমিশনে মুসলিম লীগ আর ন্যাশনাল কংগ্রেস থেকে দুইজন সদস্য থাকেন বাট বুঝতেই পারছেন এই দুই দল কোন কিছুতেই আসলে একমত হতে পারছিল না সো সব ডিসিশনেই লাস্ট কলই আসতো রেডক্লিফের থেকেই আর এই রেডক্লিফের উপর ইন্সট্রাকশন ছিল বেশ ক্লিয়ার এলাকা ভাগ করার মেনফ্যাক্ট হবে রিলিজিয়ন। আর এর সাথে কিছু আদার ফ্যাক্টরসও কনসিডার করা
যাবে। বাট সেই আদার ফ্যাক্টর গুলো কি সেটা ক্লিয়ার করা হয় নাই জনগণের কাছে। ধারণা করা হয় যে এদের মধ্যে নদীনালা ইরিগেশন চ্যানেল এইসব কনসিডার করা হয়েছিল। ইনিশিয়ালি ব্রিটিশদের আরেকটা প্ল্যান ছিল যে এই উপমহাদেশকে এতটাই টুকরো টুকরো করবে তারা যেন তারা কখনোই আর ইউনাইটেড না হতে পারে। বাট পরে তারা বুঝেছিল এরকম করলে সম্ভাবনা থাকে এই কেস থেকেই একটা ইউনাইটেড লিডার উঠে আসার। এন্ড দ্যাট মিন্স রিস্কি ফর দ্যা ব্রিটিশ ইন্টারেস্ট। তারা চাচ্ছিল এমন একটা ফিউচার যেটা তারা সহজেই প্রেডিক্ট করতে পারবে। এন্ড ইন্ডিয়ার দায়িত্ব কংগ্রেসের হাতে আর পাকিস্তানের দায়িত্ব মুসলিম লীগের হাতে দেয়া সেই প্রেডিক্টেবল ফিউচারের মধ্যেই ছিল।
এখন এই র্যাডক্লিফ পুরো ব্রিটিশ ইন্ডিয়া ভাগ করা শুরু করলেও তার দায়িত্বের মধ্যে মূলত ছিল দুইটা অঞ্চলকে ভাগ করা। একটা আমাদের বাংলা আরেকটা পাঞ্জাব। কারণ ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে একটা ক্লিয়ার রিলিজিয়াস মেজরিটি থাকলেও পাঞ্জাব আর বাংলায় সেই মেজরিটি ছিল না। সো এই কাজের জন্যই তারা কমিটি করা শুরু করে এন্ড ফাইনাল ডিসিশনটার নাম দেয়া হয় দ রেডক্লিফ অওয়ার্ড। শুরুতেই পাঞ্জাব। রেডক্ক্লিফওয়ার্ডে আনডিভাইডেড পাঞ্জাবের 62% পায় ইন্ডিয়া। সাথে 55% পপুলেশন। কাশ্মীর বর্ডার থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণের উজ নদী ধরে যাওয়া এই বর্ডার গুরুদাসপুরের এক তহসিল জায়গা পাকিস্তানকে দিয়ে বাকিটা ইন্ডিয়াকে দিয়ে দেয়। যেখানে উজ নদী রাভি নদীর সাথে মিলিত হয়েছিল সেখান
থেকেই বাউন্ডারি রাভি নদী ফলো করে সাউথ ওয়েস্টের দিকে এগোতে থাকে যতক্ষণ না এই লাইন অমৃতসর আর লাহোরকে ভাগ করা লাইনের সাথে দেখা করে এই রেডক্লিফ বাউন্ডারি ফিরোজপুর ডিস্ট্রিক্ট এর কাছে এসে সুতলেজ নদী ধরে ফিরোজপুর আর মন্থগুমেরি বিভাগকে ভাগ করে এরপর রেডক্লিফ লাইন শেষ হয় ভাওলপুরের বর্ডারে এসে আর এই ভাওলপুর ছিল প্রিন্সলি স্টেটগুলোর মধ্যে একটা আর সেই সময় পুরো উপমহাদেশে প্রায় 500 টার মত প্রিন্সলি স্টেট ছিল। এন্ড তাদের সবাইকেই ব্রিটিশরা অপশন দিয়েছিল যে তারা যদি চায় তাহলে স্বাধীন থাকতে পারবে অথবা ভারত বা পাকিস্তান যেকোনো একটার সাথে যোগ দিতে পারবে। কিন্তু এই লাইনে সবথেকে বড় কন্ট্রোভার্সি আসে
পাঞ্জাবের মুসলিম মেজরিটি এলাকা গুরুদাসপুরের বেশিরভাগ জায়গা ভারতকে দিয়ে দেয়া নিয়ে। তখন এটার সিগনিফিকেন্স না বোঝা গেলেও পরবর্তীতে দেখা যায় এই এলাকা দিয়েই জাম্মু আর কাশ্মীরের ডিরেক্ট রুট পাচ্ছে ভারত। যেটা ইউজ করেই 1948 এ তারা কাশ্মীরকে এনেক্স করে। কিন্তু এই তো গেল জাস্ট পাঞ্জাবের কাহিনী। এই ডিমার্কেশন লাইন ছিল মাত্র 553 কিলোমিটারের। বাট বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে ভাগ করা লাইন ছিল প্রায় 4096 কিলোমিটার। আর এই বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে ভাগ করার দায়িত্ব ছিল চারজনের হাতে। বিজান কুমার মুখার্জি, সিসি বিশ্বাস, আবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম এবং এস এ রহমান। এই চারজনের সমন্বয়ে বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন গঠন করা হয়েছিল। দুইজন হিন্দু আর দুইজন মুসলিম
অর্থাৎ দুইজন মুসলিম লীগের আর দুইজন কংগ্রেসের। এই কমিটি জুলাই 18 থেকে জুলাই 24 আর আগস্ট 4 থেকে আগস্ট 6 পর্যন্ত মোট দুই ধাপে টোটাল নয় দিনের মধ্যেই 2500 মাইলের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে ভাগ করে ফেলে। থানাকে ইউনিট ধরে বাংলা ভাগ করা শুরু হয়। আগস্টের 15 তারিখে আটটা মেজরিটি ডিস্ট্রিক্টকে ওয়েস্ট বেঙ্গলে পাঠানো হয়। এন্ড তারা হয় ভারতের পার্ট। দার্জিলিং আর জলপাইগুড়ি যায় ইন্ডিয়ার কাছে। আর এইদিকে ওই দিনেই নদীয়াকে পাকিস্তানের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। এই নদীয়ার মধ্যে ছিল কৃষ্ণনগর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা আর রানাঘাট। বাট নদী আর এইটা নিয়ে শুরু হয় আন্দোলন। এন্ড এই খবর মাউন্ট ব্যাটেনের কাছে গেলে সে
আদেশ দেয় রানাঘাট আর কৃষ্ণনগর সদরকে ইন্ডিয়ার কাছে দিয়ে দেয়ার জন্য। আর এইটাই একমাত্র কাহিনী না। মুসলিম মেজরিটি মালদা আর দিনাজপুরও পাকিস্তানকে দেয়া হয়। বাট 18 তারিখে আবারো মালদা আর চাচালকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেয়া হয়। দিনাজপুর থেকে বালুঘাটকে আলাদা করে নাম দেয়া হয় পশ্চিম দিনাজপুর। কিন্তু সবথেকে বড় কাহিনীটা সম্ভবত ছিল মুর্শিদাবাদকে নিয়েই। মুর্শিদাবাদ মুসলিম মেজরিটি। সো স্বাভাবিকভাবেই সেটাকে পাকিস্তানের অংশ করার কথা এন্ড সেটাই করা হয়। বাট কংগ্রেস আর ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অতুল্য ঘোষের লবিংয়ে এই কয়েকদিন পর মুর্শিদাবাদকে ইন্ডিয়ার কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। আর এই মুর্শিদাবাদ টেকনিক্যালি খুবই ভাইটাল একটা পয়েন্ট। কলকাতা পোর্টের হেডওয়াটার এই মুর্শিদাবাদ দিয়েই আসে গঙ্গা
বেল্ট দিয়ে। বিহারের গঙ্গা আর পোর্ট অফ কলকাতার শিপিং রোড এই মুর্শিদাবাদ দিয়ে যায়। এন্ড পুরো রিজিয়নের পানির কন্ট্রোল করা পসিবল এই মুর্শিদাবাদের কারণেই। এন্ড প্রথমে পাকিস্তানকে দেয়া হলেও পরবর্তীতে সেটা চলে যায় ভারতের হাতে। এন্ড এখানেই একটা কাহিনীও আছে। রেডক্লিফকে চুজ করার পেছনে অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট ছিল যে এই লোক একজন ইমপার্শিয়াল পার্সন। কিন্তু লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন এই কমিশনকে নিজের দিকে টেনে নিয়েছিল। তার বন্ধু জহরলাল নেহেরুকে হেল্প করার জন্য। বলা হয় এই পার্টিশন ম্যাপ পাবলিশ হওয়ার আগেই নাকি জহরলাল নেহরুকে দেখানো হয়েছিল। এন্ড সেখানেও কিছু এডিট করা হয় নেহরুর রেকমেন্ডেশনের মতে। ফর এক্সাম্পল পাঞ্জাবের মধ্যে দিয়ে যাওয়া লাইনটা নাকি
ইন্ডিয়ার দিকে একটু হালকা বাকিয়ে দেয়া হয়েছিল যাতে করে একটা ইরিগেশন চ্যানেল তারা পেতে পারে মুসলিম মেজরিটি মুর্শিদাবাদ কেও ভারতের অংশ করা হয় যাতে করে কলকাতা থেকে গঙ্গার এক্সেস তারা ধরে রাখতে পারে ইনিশিয়ালি আপনারা 1905 সালের বঙ্গভঙ্গের যে ম্যাপটা দেখেছিলেন অনেকটা সেই ম্যাপের আদলে খুলনাকেও নাকি ইন্ডিয়ার পার্ট হিসেবে ধরা হয়েছিল বাট মুর্শিদাবাদ এন্ড খুলনা দুইটাই ইন্ডিয়া সাইডে চলে গেলে সমস্যা যেটা নিয়ে গ্যাঞ্জাম হওয়ার সম্ভাবনা ছিল আর এই কারণে খুলনাকে বাংলার পার্ট করে দেয়া হয়। এমনকি এই রেডক্লিফ নাকি কাশ্মীর নামে যে একটা প্রিন্সলি স্টেট আছে সেটা ইংল্যান্ডে ফেরত যাওয়ার আগে জানতোও না। আর পাশাপাশি এই কমিশনের বেশ
কিছু সমস্যাও কিন্তু ছিল। কমিশনের সবাই ছিল লয়ার। এন্ড রেডক্লিফ যখন এই ধরনের ম্যাপ ভাগের জন্য স্পেশালিস্ট আনতে চেয়েছিল ব্রিটিশরা মানা করে দিয়েছিল। রেডক্লিফ যখন বাইরে থেকে হেল্প আনতে চাইলেন ব্রিটিশরা বলল বাইরে থেকে হেল্প আনা ব্রিটিশদের জন্য অপমানজনক হবে। আর যেহেতু মুসলিম লীগ আর কংগ্রেস কোন ইউনিটেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে নাই। সো আল্টিমেটলি পার্টিশনের সব ডিসিশনই আসছিল রেডক্লিফের হাত ধরেই। আর তার কানেই কথা তুলছিলেন জহরলাল নেহেরুর ইশারায় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন। আর এদিকে আবার ভারতের সেই জুলাই মাসের হিউমিড আবহাওয়া রেডক্লিফের একদমই ভালো লাগছিল না। সো সেও তাড়াহুড়া করা শুরু করে। আগস্টের 12 তারিখের মধ্যেই ভারতের পার্টিশন ম্যাপ রেডি
হয়ে যায়। বাট সেই ম্যাপ দেখে রেডক্লিফ নিজেই বুঝেন যে এইটা আগে আগে পাবলিশ হলে বিপদ আছে আর এই কারণেই 14 15 তারিখ ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে হওয়ার দুইদিন পর 17 তারিখ এই ম্যাপ পাবলিক করা হয়েছিল আর তারপরই শুরু হয়ে যায় ভয়ঙ্কর এক কেস রেডক্লিফ লাইনের নিচে হুট করে অনেকে আবিষ্কার করে নিজের দেশে তারাই এখন মাইনরিটি মেবি দেশটা আর নিজেরও না কারণ ব্রিটিশরা বলে দিয়েছে হিন্দুর দেশ ভারত আর মুসলিমদের দেশ পাকিস্তান ভয়ে আতঙ্কে শুরু হয় নিজের দেশের দিকে যাত্রা 15 মিলিয়ন মানুষ ডিসপ্লেসড হয়। ইভেন মানুষেরা কয়েক শত মাইলও ট্রাভেল করে নিজের দেশে পৌঁছানোর জন্য। আর সাথে কমিউনাল ভায়োলেন্স
তো আছেই। মুসলিম লীগ তাদের মিলিশিয়া গঠন করে। সেইম কাজ করে রাইট উইং হিন্দু গ্রুপগুলো। ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ মাথা চারা দিয়ে ওঠে। ভারত থেকে খেদানো হয় মুসলিমদের আর পাকিস্তান থেকে হিন্দুদের। দেশভাগের মাত্র দুই সপ্তাহ পরই দ্যা স্ফিয়ারে একটা আর্টিকেল পাবলিশড হয়। আর এই আর্টিকেলে ইস্ট পাঞ্জাব স্পেশালি অমৃতসর লাহোর আর রাওলাপিন্ডি হয়ে যে বিভৎস খুন হত্যা রাহাজানির ছবিগুলো উঠে আসে। এক রিপোর্টার বলেন যে হেলিকপ্টার করে এই এরিয়া পার হওয়ার সময় তিনি কম করে হলেও 50 টা জায়গায় আলাদাভাবে আগুন জ্বলতে দেখেন। বাট এই দেশভাগের পরের সেই বিভৎস ঘটনাগুলো নিয়ে আমরা সবাই কম বেশি জানি। আর এরপরে এটা যে লং
লাস্টিং প্রভাবটা সেটা নিয়ে আসলে এই ভিডিওতে ডিসকাস করে শেষ করা যাবে না। হয়তোবা কোন আলাদা ভিডিও লাগবে সেটার জন্য। আর আজকের ভিডিওটার টপিক যেহেতু সোলি বেসড অন ম্যাপ তাই এইসব ঘটনার দিকে আর না গেলাম। আপনারা জানিয়েন এই ভিডিওটা আপনাদের কেমন লাগলো। আর এই ভিডিওতে ইউজ করা সবগুলো সোর্সই আপনারা কমেন্ট বক্স সরি ডেসক্রিপশন বক্সে পেয়ে যাবেন। সো দ্যাটস অল ফর টুডে। আন্টিল মাই নেক্সট আপলোড। হ্যা এ গুড। গুড বাই। [মিউজিক]