একদা সাদ্দাত তখন নবজাত শিশু তার মায়ের সাথে জাহাজে করে গভীর সমুদ্র দিয়ে পাড়ি দিয়েছে সাদ্দাতের বয়স তখন দুইদিন কি তিনদিন হবে জাহাজ যখন সমুদ্রের মাঝে গেল তখন হঠাৎ প্রবল বেগে ঝড় বৃষ্টি শুরু হলো আর এই জাহাজটি গভীর সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছে দেখে সাদ্দাতের মা জাহাজে একটি কাঠ ভাসতে দেখে মা খুব কষ্ট করে শিশুটিকে নিয়ে কাঠে ভাসতে লাগলো জাহাজে সবাই মারা গেল কিন্তু সাদ্দাত এবং তার মা বেঁচে রইল বিশাল এই সমুদ্রের মাঝে সাহায্য করার মতো তাদের কাছে কেউ নেই এক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া শিশুটির কথা ভাবতেই মায়ের চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে গেল কিভাবে বাঁচাবে এই শিশুকে সে
কিছুই বুঝতে পারছে না অস্থিরতার কালো মেঘ ছেয়ে যায় তার সমস্ত হৃদয়ে এমন সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আজরাইল ফেরেশতাকে ডেকে বলল হে আজরাইল যাও ওই গভীর সমুদ্রের মাঝে মা ও শিশু দুজনেই বেঁচে আছে তাদের মধ্য থেকে এখনি মা মায়ের জান কবজ করে নিয়ে আসো আজরাইল ফেরেশতা হুকুম পাবা মাত্র বিশাল সমুদ্রের মাঝে এসে দেখল মা তার শিশুকে আদর করছে দুধ খাওয়াচ্ছে শিশুকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে এটা দেখে আজরাইল ফেরেশতার একটু দুঃখ হলো সে মনে মনে বলল হে আল্লাহ এখনই তো মায়ের জান কবজ করব কিন্তু এই শিশুটির কি হবে তারপর এক বুক ব্যথা নিয়ে মায়ের জান কবজ করে
আজরাইল ফেরেশতা চলে এলো আল্লাহ তাআলার আদেশে সমুদ্র শান্ত হয়ে গেল শিশুটি ভাসতে ভাসতে সমুদ্রের কিনার এক জঙ্গলের ধারে এসে পৌঁছালো শিশুটি কান্না করছে কেননা তার খুব খিদে পেয়েছে ওই জঙ্গলে ছিল বিশাল বাঘ ও বাঘিনী তাদেরও বাচ্চা হয়েছিল কিন্তু তাদের বাচ্চাগুলো কেউ বেঁচে নেই আল্লাহ তাআলার আদেশে বাঘ শিশুটির দিকে এগিয়ে এলো শিশুটিকে দেখে বাঘেরও এত মায়া হলো যে শিশুটিকে বাঘ দুধ পান করালো এভাবেই সেদিন অতিবাহিত হয়ে গেল পরের দিন একজন জেলে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ওই জঙ্গলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল এমন সময় হঠাৎ করে তার চোখ গেল ওই শিশুটির দিকে শিশুটিকে দেখে তার খুব মায়া হলো সে বলতে
লাগলো হে আল্লাহ কি সুন্দর দেখতে এই বাচ্চাটি জানিনা এই বাচ্চাটি কার এমন জায়গায় কিভাবে বাচ্চাটি বেঁচে আছে তার তো খাবার কিছু নেই জানিনা কোন মায়ের এই সন্তান এসব কথা ভাবতে ভাবতে তার এত মায়া হলো শেষ পর্যন্ত সে বাচ্চাটিকে তুলে নিল এবং বাচ্চাটিকে নিয়ে আপন গোত্রের সর্দারের কাছে নিয়ে আসলো তাদের সর্দার শিশুটিকে দেখে খুবই মুগ্ধ হলো এবং বলল এই শিশুটি তুমি কোথায় পেয়েছো তুমি কি জানো এর মা-বাবা কোথায় আছে আমাদের উচিত তার মা-বাবার কাছে দিয়ে দেওয়া তখন লোকটি বলল সরদারজি আমি জঙ্গলের পাশ দিয়ে যাবার সময় দেখলাম জঙ্গলের মধ্যে একটি গাছের নিচে বাচ্চাটি ক্রন্দনরত অবস্থায় আছে আশেপাশে
তার কেউ ছিল না মনে হয় তার মা-বাবা ইন্তেকাল করেছে তাকে দেখে আমার খুব মায়া হলো এইজন্যই আপনার কাছে নিয়ে আসলাম তখনই সরদারজি বলল ঠিক আছে আমারও কোন সন্তান নেই এই শিশুটির দায়িত্ব আমি নিলাম আজ থেকে আমি এই শিশুটিকে লালন পালন করব এভাবেই শিশু সাদ্দাত বড় হতে লাগলো বাচ্চাটির বয়স আট নয় বছর বয়সে উপনীত হলে অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে সেও মাঠে খেলা করতে যেত অন্যান্য বাচ্চাদের মধ্যে সে ছিল খুবই সুন্দর এবং স্বাস্থ্যবান তার মায়াময় চেহারা সকলকে আকর্ষণ করতো সে ছিল খুবই স্বাস্থ্যবান এবং চালাক তার ছিল ভীষণ সাহস একদিন সে মাঠে খেলা করছিল তারপর হঠাৎ সে দেখলো কিছু
সৈন্য পার্শ্ববর্তী রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চলছে এটা দেখে সবাই ভয়ে পালিয়ে গেল কিন্তু বাচ্চা সাদ্দাদ সেখানেই দাঁড়িয়েছিল সৈন্যদের মধ্যে একজনের চোখ অন্ধ ছিল সে জানতো অন্ধত্ব দূরীকরণে সুরমা একটি মহা ঔষধ তাই সে যখন যেখানেই যেত সুরমার খোঁজ করতো রাস্তার পাশ দিয়ে যাবার সময় ওই অন্ধ সেনা একটি সুন্দর কৌটার অনুসন্ধান করল সেটি তুলে দেখল এটি সুরমার কৌটো এতে করে সে অনেক খুশি হলো সৈন্যটি কৌটো খুলে তার চোখে সুরমা লাগাতে যাবে এমন সময় আরেকজন সৈন্য বলল আপনি চোখে লাগানোর আগে সুরমাটি পরীক্ষা করুন এই সুরমার মধ্যে ক্ষতিকর কিছু তো থাকতে পারে তখন সে বলল কিভাবে পরীক্ষা করব এবার অন্য
একজন সৈন্য বলল ওই দেখুন ওই যে বাচ্চাটি দাঁড়িয়ে রয়েছে ওকে দিয়ে পরীক্ষা করুন এবার ওই সৈন্যটি তাকে বলল তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন এদিকে এসো বাচ্চাটি তাদের ভয় না করে এগিয়ে এলো এবং বলল আমাকে ডেকেছেন কেন আমি তো কিছুই করিনি সৈন্যটি বলল এই সুরমাটি তুমি চোখে লাগাও তো বাচ্চাটি ভয় না করে সুরমা চোখে দিল সুরমা চোখে দেওয়া মাত্রই তার অন্তরচক্ষু খুলে গেল দুনিয়ার সমস্ত বস্তু তার দৃষ্টিগোচল হতে লাগলো এমনকি জমিনের নিচে থাকা সমস্ত স্বর্ণ রুপা হীরে আরো সমস্ত দামি দামি খাজনা দেখতে পেল বাচ্চাটি ছিল খুবই চালাক শুধু চালাক নয় প্রতারক বাচ্চাটি মনে মনে বলল এইসব
কথা এদেরকে বলা যাবে না আমাকে অন্য কিছু বলতে হবে অন্যদিকে এক সৈন্য বলল কি ব্যাপার তুমি কিছুই বলছো না কেন কি হয়েছে তোমার আর তখনই বাচ্চাটি মিথ্যা অভিনয় করে কাঁদতে কাঁদতে বলল সুরমা লাগানোর ফলে চোখে মারাত্মক ব্যথা অনুভব হচ্ছে আমার চোখ জ্বলে যাচ্ছে এখন আমি কি করবো আপনারা আমাকে কি চোখে দিয়েছেন এই কথা শুনে একজন সৈন্য অন্ধ ওই সৈন্যকে বলল মনে হয় সুরমায় কোন ভেজাল মিশ্রিত আছে এটা ওই আসল সুরমা নয় এরপর তারা সুরমার কৌটা ফেলে ভয়ে ওই স্থান ত্যাগ করল বাচ্চাটি দ্রুত ওই সুরমার কৌটা নিয়ে বাড়িতে চলে এলো বাড়িতে এসে তার বাবার নিকট বলল
বাবা আমি এমন এক জিনিস পেয়ে পেয়েছি যেটা দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি আমরা রাজা হয়ে যাব তখন তার বাবা বলল কি এমন পেয়েছো তখন বাচ্চাটি বলল বাবা আমি এমন এক সুরমা পেয়েছি যেটা চোখে লাগালে জমিনের নিচে সমস্ত স্বর্ণ রুপা হীরে মনিমুক্তা সবকিছু দেখতে পাই তখন বাবা বলল বড় আনন্দের কথা শোনালে বাবা তোমার কোন ভয় নেই আমার অনেক লোকজন আছে আরো আছে অসংখ্য ঘোড়া ও গাঁধা তুমি চোখে সুরমা লাগিয়ে চলো তুমি যেখানেই স্বর্ণরূপা খাজানা দেখতে পাবে তখনই আমাদেরকে বলবে আমরা উঠি নেব এভাবেই 10 বছর পর বাচ্চাটি যখন পূর্ণ যুবকে পরিণত হলো তখন হঠাৎ একদিন সরদার মৃত্যুবরণ করল সরদারের
মৃত্যুর কিছুদিন পর একজন বলল এখন আমাদের সর্দার কে হবে অপরদিকে থাকা একজন ব্যক্তি বলল যেহেতু আমাদের সরদার তাকে লালন পালন করে বড় করে তুলেছে তাই এই যুবককে সর্দার করা হোক সবার অনুমতিতেই এই যুবককে সরদার করা হলো কিছুদিন পর যুবক সাদ্দাদ অনেক অহংকারী হয়ে গেল কারণ তার কাছে প্রচুর ধনসম্পদ ছিল সে কারো পরোয়া করতো না এমনকি দেশের বাদশাকেও সে পরোয়া করতো না এভাবে কয়েক বছর পর তার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সৈন্য দ্বারা দেশের বাদশাকে পরাজিত করে সে নিজেই দেশের বাদশার সিংহাসনে আরোহরণ করল এক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নেয় একসময়ের অসহায় বাচ্চা আজ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান একদিন বাদশাহ সাদ্দাত তার
রাজদরবারে উজির নাজির মন্ত্রী এবং সমস্ত কর্মচারীকে ডেকে বলল আমার ধন দৌলত সোনা রূপ হীরে ঘোড়া হাতি গাধা সহ কোন জিনিসের অভাব নেই আমার যেরকম সুন্দর চেহারা ধনসম্পদ আছে তাতে কি আমি খোদা হবার উপযুক্ত নয় তখন সেখানে উপস্থিত থাকা মন্ত্রী উজির নাজির সকলেই একসাথে বলল নিশ্চয়ই এত যার ধন দৌলত দালানকোটা হাতি ঘোড়া সবই তো আছে তুমি যদি খোদা না হও তাহলে এই দুনিয়ায় খোদার উপযুক্ত আর কে এত সুন্দর ভরা মনিমুক্ত হীরে জহরত এত কর্মচারী এত লোক সবই তো আছে তাহলে তুমি খোদার উপযুক্ত তখন বাদশাহ সাদ্দাতের আরো অহংকার বেড়ে গেল সে তখন বলল কাল থেকে এই দেশে
কোন মানুষই যেন গাছপূজা বা পাথর মূর্তি পূজা না করে সবাই যেন বাদশাহ সাদ্দাদকে পূজো করে আসলেই বাদশাহ সাদ্দাদের উপর কথা বলার মত সাহস কারো ছিল না বাদশাহ সাদ্দাতের হুকুম মতো পরের দিন থেকে তার সৈন্যবাহিনী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেরিয়ে পড়লো একটি স্থানে গিয়ে তারা ঘোষণা করল আজ থেকে এই দেশে কেউ মূর্তি পূজা করবে না তার বদলে বাদশাহ সাদ্দাদকে পূজা করবে যদি এই হুকুম কেউ অমান্য করে তাহলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে এই কথা বলার পর তার সৈন্যবাহিনী সেখান থেকে চলে গেল এদিকে হযরত হুদ আলাইহিস সাল্লাম মূর্তি পূজা ছেড়ে সকলকে আল্লাহর রাস্তায় আসার জন্য আহ্বান করছে আল্লাহর দ্বীন
প্রচার করছে কিন্তু বাদশাহ শাদ্দাদের সৈন্যদের মুখে এমন কথা শোনার কিছুদিন পর হযরত হুদ আলাইহিস সাল্লাম বাদশাহ সাদ্দাতের দরবারে এসে হাজির হলেন হযরত হুদ আলাইহিস সাল্লাম বললেন হে বাদশাহ সাদ্দাদ তুমি নাকি নিজেকে পূজা করতে বলেছ তুমি নাকি খোদা এই দাবি করছো তোমার এত সাহস কে দিয়েছে এখনো সময় আছে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো হযরত হুদ আলাইহিস সালামের সাহস দেখে রাজদরবারের সবাই অবাক যার ভয়ে দেশের সমস্ত মানুষ উজির নাজির মন্ত্রী এমনকি নিজের বেগমও কথা বলতে পারে না সেখানে একজন দরবেশ কিনা তাকে উপদেশ দিচ্ছে কে এই ব্যক্তি তারা কেউ বুঝতে পারছে না পাশে থাকা তার মন্ত্রী বলল হুজুর
কে এই ব্যক্তি যে আপনার উপর কথা বলে তার সাহস তো কম না তখন বাদশাহ সাদ্দাত প্রচন্ড রেগে গেল উচ্চস্বরে গর্জন করে বলে উঠলো তোমার আল্লাহকে মানতে যাব কিসের জন্য আমি নিজেই খোদা তখন হযরত হুদ আলাইহিস সালাম বললেন আল্লাহ পরম করুণাময় তিনি আপনাকে দুনিয়ায় সুখে রাখবেন এবং মৃত্যুর পর তোমাকে বেহেশতে থাকতে দেবে এই কথা শুনে বাদশাহ সাদ্দাদ বলল তোমার আল্লাহ কি আমার চেয়েও সুখী হযরত হুদ আলাইহিস সালাম বললেন নিশ্চয়ই আল্লাহতালা নেক বান্দাদের জন্য বেহেশতে তৈরি করেছেন দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবার পর কালে বেহেশতে রয়েছে বেহেশতে রয়েছে অতুলনীয় শোভা অফুরন্ত সুখ সেখানে কোন কিছুর অভাব নেই সেখানে থাকবে
হুর কত খাবার যা দুনিয়ার সমস্ত খাবারের স্বাদের থেকে আলাদা থাকবে মধু দুধের নহর এই কথা শুনে বাদশাহ সাদ্দাদ হাহা করে হেসে উঠলো এবং বলল রেখে দাও তোমার আল্লাহর বেহেশতের কাহিনী এমন আজগবি গল্প কতই না শুনেছি হযরত হুদ আলাইহিস সাল্লাম বললেন এগুলো কোন মিথ্যা গল্প নয় এগুলো সত্যি আল্লাহ এমন অপরূপ বেহেশত তোমার কি পছন্দ হয় না তখন সাদ্দাত অহংকার করে বলে উঠলো আমি তোমার আল্লাহর কাছে মাথা নত করবো কেন আমি কি তোমার আল্লাহর মতো বেহেশতে তৈরি করতে পারি না আমার তো কোন কিছুর অভাব নেই তখন হযরত হুদ আলাইহিস সালাম বললেন বাদশা সাদ্দাদ তোমার মাথা খারাপ হয়ে
গেছে না হলে এমন কথা বলতে না আল্লাহ যা করতে পারে তা পৃথিবীর কোন মানুষ কখনোই করতে পারবে না সাদ্দাদ তখন অহংকার করে হেসে বলল মূর্খরা এমন কথা বলে আমি নিশ্চয়ই পারবো আমার টাকা-পয়সা কর্মচারী কোন কিছুর অভাব নেই আমি তোমার আল্লাহর মত একটি বেহেশতে বানিয়ে দেখিয়ে দেব সাদ্দাতের কথা শুনে হযরত উহুদ আলাইহিস সাল্লাম প্রচন্ড রেগে গিয়ে বলল মূর্খ বাদশা এত বড় স্পর্ধা তোমার এত অহংকার কিছুতেই আল্লাহতালা সহ্য করবে না বাদশাহ তখন প্রচন্ড রেগে গিয়ে হযরত হুদ আলাইহিস সাল্লামকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিলেন কিছুদিন পর বাদশাহ সাদ্দাদ তার সমস্ত উজির নাজির মন্ত্রী এবং কর্মচারীকে ডেকে বললেন আমি দুনিয়াতে
বেহেশতে তৈরি করার সংকল্প করেছি সুতরাং তোমরা উপযুক্ত জায়গা সন্ধান করো হুকুম মাত্রই সারাদেশ সৈন্যবাহিনী জায়গার অনুসন্ধান করতে লাগলো অনেক অনুসন্ধান করার পর একটি জায়গা সবার পছন্দ হলো এই খবর জানানোর জন্য তারা সবাই তাড়াতাড়ি রাজদরবারে আসলো সাদ্দাতের প্রধান উপদেষ্টা তাকে বলল হুজুর বেহেশত বানানোর জন্য সবচেয়ে সুন্দর এবং উপযুক্ত স্থান পেয়েছি বাদশাহ সাদ্দাত বলল কোন স্থান সেই স্থানের বিবরণ দাও তখন প্রধান উপদেষ্টা বলল স্থানটি লম্বাই 8000 মাইল এবং চওড়া 5000 মাইল এই কথা শুনে বাদশাহ সাদ্দাদ অনেক খুশি হলো সাথে সাথে বাদশাহ সাদ্দাদ ঘোষণা করল এই দেশে কারো বাড়ি কেউ স্বর্ণরূপা রাখতে পারবে না সবাইকে রাজদরবারে জমা দিয়ে
যেতে হবে হুকুম মতো পরের দিন থেকে সাদ্দাতের সৈন্যবাহিনী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিটি বাড়িতে অনুসন্ধান করতে লাগলো যার বাড়িতে সোনা রুপা হীরে পাওয়া যেত সেটিকে তারা নিয়ে চলে আসতো এইভাবে বাদশাহ সাদ্দাতের সৈন্যবাহিনী সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করতো দেশে ক্রমশ অন্যায় অত্যাচার বেড়ে গেল বাদশা সাদ্দাদ তার মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করল মন্ত্রী বেহেশত তৈরির কাজ কতদূরে এগলো মন্ত্রী বলল হুজুর দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে যেখানে যত মূল্যবান জিনিস ছিল স্বর্ণ হীরে মানিক মুক্ত জহরত ইয়াকুত ও মার্বেল জোগাড় করা হলো এমনিভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ সুদক্ষ কারিগর ও মজুরি বেহেশত তৈরির জন্য আসতে শুরু করল বাচ্চা সাদ্দাদ তাদেরকে বলল তোমরা
বেহেশতের মধ্যে এমন অসংখ্য বালাখানা তৈরি করবে যার একটি ইট হবে স্বর্ণের এবং অপরটি হবে রুপার মনে রাখবে তোমরা যেদিন এই কাজ সফল করে আমাদের সংবাদ দেবে সেদিনই আমার চিরকাঙ্ক্ষিত বেহেশতে বসবাসের জন্য যাব দিন-রাত পরিশ্রম করে 300 বছর ধরে বেহেশত তৈরি করা হলো অনেক ঐতিহাসিকদের মতে সেটি বিচিত্র কারুকার্যময় ও অপূর্ব সুন্দর হয়েছিল যেদিকে নজর দেওয়া যায় সেদিকেই অপরূপ চারিদিকে কারিগরদের শ্বেত পাথরের অপূর্ব কার্য রংমহলের চারিধারে হাজার হাজার ঝাড়ু লন্টন ঝুলছে কিন্তু আলোর দরকার হয় না অন্ধকার রাতে সেই ঘরগুলো চাঁদের আলোর মত স্নাগ্ধ উজ্জ্বল মনিমুক্ত খচিত ঘরের মেঝে সজ্জিত রয়েছে মেঝের উপরে রয়েছে নানান রকমের সুন্দর সুন্দর
ফুলদানি ঘরের চারিদিক থেকে আতর গোলাপ মেশকি আম্বারের খুশবু ছুটছে মহলের চারিপাশে বাগান ওই বাগানে রয়েছে সোনার রুপার গাছ তার পাতা ও ফল নানা রকমের কারুকার্যময় পাথর দিয়ে তৈরি ভ্রমর ও মৌমাছি গুলো এমন সুন্দরভাবে নির্মিত যে দেখলে মনে হবে তারা সত্যি সত্যি ফুলের উপর বসে মধুপান করছে সেসব ফুল থেকেও খুশবু বার হচ্ছে আর ওইসব গাছের নিচ দিয়ে কুলকুল শব্দে বয়ে চলেছে গোলাপ পানির নহর তার পানি এত স্বচ্ছ যে মনে হচ্ছে যেন মুক্তার ধারা বয়ে চলেছে ধারে ধারে হীরে মনি মুক্তার ঘাট এখানে তৈরি শত শত সুন্দরী রমণী আছে তারপরে আনন্দের জন্য নাচঘর সেখানে সারা পৃথিবী থেকে বেঁচে
বেঁচে সুন্দরী রমণীদের আনা হলো আনন্দের জন্য কচি কচি ফুটফুটে সুন্দর কিশোরীদের রাখা হলো সোনার রুপার তৈরির সমস্ত ঘরের আশবাসপত্র তৈরি করা হলো সর্বশেষে বহু পরিশ্রম এর ফলে বেহেশত নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলো অবশেষে বাদশার মন্ত্রী একদিন বাদশার কাছে গিয়ে বলল হুজুর বেহেশত নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে বাদশাহ সাদ্দাদ খুব আনন্দের সাথে বলল বেহেশতে কেমন নির্মাণ হলো মন্ত্রী বলল হুজুর যেদিকে চোখ যায় চোখ জড়িয়ে যাবে পৃথিবীর এমন কোন জিনিস নাই যে সেখানে আমরা তৈরি করিনি বলুন আপনি কবে সেখানে প্রবেশ করবেন বাদশা সাদ্দাদ বলল ঠিক আছে কিছুদিন পরেই আমি সেখানে প্রবেশ করব তুমি এটি আয়োজন এর ব্যবস্থা করো সাদ্দাতের
সম্মানার্থে বেহেশতে প্রবেশপথে নির্মাণ হলো সাহি তরুণ অনিন্দিত সুন্দরী যুবতীদের দান করিয়ে রাখা হলো বাদশাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য মোট কথা বাদশার আনন্দ আরাম আয়েশের জন্য যত কিছুর প্রয়োজন সবই তারা করল বেহেশতে প্রবেশের নির্ধারিত সময় উপস্থিত সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন বাদশাহ শাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে তার মন্ত্রী উজির নাজির কর্মচারী সমস্ত লোকজনকে নিয়ে প্রবেশের জন্য এগিয়ে চলল কিছুদূর যাবার পর দূর থেকে নজর পড়লো বেহেশতের একটা অংশ এত চমকপ্রদ যে চোখ ঝলসে যেতে লাগলো আনন্দে সাদ্দাতের মুখ থেকে কথা বের হলো না মনে মনে বলল এইতো আমার বেহেশত ওখানে আমি খোদা হয়ে বসবো এমনিভাবেই তারা প্রায় বেহেশতের কাছে এসে পড়লো
বাদশা সাদ্দাদ যখন বেহেশতের দরজার কাছে এসে পড়লো ঠিক এমন সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত আজরাইল ফেরেশতাকে ডেকে বলল হে আজরাইল যাও বাদশাহ সাদ্দাতের এখনই জান কবজ করে নিয়ে আসো দুনিয়ার বুকে বেহেশত বানানোর আশা আকাঙ্ক্ষা তার চিরতরে মিটিয়ে দাও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হুকুম পাওয়া মাত্রই হযরত আজরাইল ফেরেশতা সাদ্দাতের সেই বানানো বেহেশতের দরজায় একটি সুন্দর যুবক সেজে দাঁড়িয়ে রইল তার সুন্দর চেহারা দেখে খুশি হয়ে বাদশাহ সাদ্দাদ তাকে জিজ্ঞেস করল তুমি কি বেহেশতের দারোয়ান যুবক উত্তরে বলল আমি মালাকুল মউত আজরাইল ফেরেশতা সাদ্দাদ একটু হতভম্ব হয়ে গেল সে বলল তার মানে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না আমি আজরাইল ফেরেশতা
তোমার জান কবজ করার জন্য আল্লাহ তাআলা আমাকে পাঠিয়েছে সাদ্দাত ক্রোধে উদ্যাম হয়ে উঠলো চিৎকার করে বলল সাবধান আমার সঙ্গে তামামসা কারো অপেক্ষা না করেই সে নিজেই তার সঙ্গে মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত হলো কিন্তু কি আশ্চর্য সে ওখানেই পাথরের মত থমকেই রইল ভয়ে তার সারা শরীর দিয়ে ঝরঝর করে ঘাম বেরোতে লাগলো চিৎকার করে বলল সৈন্যগণ শত্রুকে মোকাবেলা করো তখন আজরাইল ফেরেশতা অট্টহাসি হেসে বলল কোথায় তোমার সেই বিশাল সৈন্য সামন্ত কোথায় তোমার সেই বিশাল ক্ষমতা সাদ্দাদ ভালো করে লক্ষ্য করে দেখল তার সৈন্য সামন্ত উজির নাজির মন্ত্রী কর্মচারী যে যেখানেই ছিল সবাই একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সাদ্দাদ এবারে
ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলো তারপর নত হয়ে ভীতকণ্ঠে বলল সত্যিই কি তুমি আজরাইল হযরত আজরাইল ফেরেশতা বলল হ্যাঁ সত্যিই আমি আজরাইল কিন্তু দেরি করার আমার আর সময় নেই আল্লাহর হুকুম পালন করতেই হবে এখনই তোমার জান কবজ করে নেব সে শিশুর মত অসহায় ভাবে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলো মিনতি করে হাত জোড় করে পায়ে ধরে বলে উঠলো সামান্য সময় দাও হে আজরাইল অনেক স্বাদ করে বহু বছর ধরে আমি বেহেশত তৈরি করেছি একটু সামান্য দেখার সুযোগ দাও তীব্র গর্জন করে হযরত আজরাইল ফেরেশতা বলল খবরদার এক পাও এগিয়ে আসবে না সাদ্দাত হাউমাউ করতে শুরু করে দিল সেই অবস্থা হযরত
আজরাইল ফেরেশতা তার জান কবজ করে চলে গেল তারপর হঠাৎ একটা ভয়ঙ্কর এবং ভীষণ আওয়াজে সাদ্দাতের তৈরি সেই স্বাদের বেহেশত একেবারে মাটির সঙ্গে মিশে গেল পৃথিবীর জমিনে তার আর কোন চিহ্ন রইল না পৃথিবীর জমিনে অহংকারের ফল কিরূপ হয় সেটা শুধু রয়ে গেল মানুষের মনে একদিন হযরত আজরাইল ফেরেশতা আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন আপনার নির্দেশে আমি মানুষের জান কবজ করে থাকি এতে আমার কোন মায়া দয়া লাগে না তবে দুটি মানুষের জান কবজ করার সময় আমার একটু মায়া হয়েছিল তার মধ্যে একজন হলো ওই মহিলা যে বিশাল সমুদ্রের মাঝে জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর আপন শিশুকে নিয়ে একটি কাঠের উপর
ভাসছিল আর তখনই আপনি তার জান কবজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন আমার তখন বাচ্চাটির জন্য বড়ই মায়া হয়েছিল যে এই শিশুটির অবস্থা এখন কি হবে কে তাকে দুধ খাওয়াবে দেখাশোনা করে বড় করে তুলবে আর একজন হলো এই বাদশা যে কয়েকশো বছর ধরে সাধনা করে একটি মনোরম বেহেশত বানিয়েছিল অতঃপর সে যখনই ওই বেহেশতে প্রবেশ করতে গেল ঠিক তখনই আমাকে আপনি জান কবজ করার আদেশ দিলেন আমার তখন বড়ই খারাপ লাগছিল এইজন্য যে সে তার নির্মিত বেহেশতকে এক পলকের জন্য দেখে যেতে পারলো না হযরত আজরাইল ফেরেশতার এমন কথা শুনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বললেন হে আজরাইল যে বাদশার জন্য তোমার
মায়া দয়া হলো যার জন্য তুমি আফসোস করছো সে তো ওই শিশুটি ওই বিশাল সমুদ্রের মাঝে জাহাজ ডুবে যাবার পর যার মায়ের জান কবজ করতে তোমার মায়া হয়েছিল হে আজরাইল তুমি কি জানো না যে শিশুটি বড় হয়ে আমার নাফরমানি করেছে অহংকার করেছে আল্লাহ তাআলার অস্বীকার করেছে আল্লাহর হুকুমের বিরোধিতা করেছে তাই আমি তার বেহেশতে পা রাখার সুযোগ দেইনি বরং তার ভিতরে প্রবেশের আগেই সব ধ্বংস করে দিয়েছি প্রিয় দর্শক এই ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করলে অহংকার করলে এর পরিণীতি খুবই খারাপ হয় আমরা এই পৃথিবীতে আল্লাহর নিয়ামতের মাঝে ডুবে থেকেও অহরহ নাফরমানি করে চলেছি
আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে আচরণ করছি এই সমস্ত জিনিসকে আমাদের বর্জন করতে হবে সকল খারাপ কাজ ছেড়ে দিয়ে সহজ সরল পথে চলার চেষ্টা করা উচিত আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সকলকে হিংসা অহংকার সুদ ঘুষ হারাম আরো সকল প্রকার খারাপ কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পথে চলার তৌফিক দান করুক আমিন