আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন আর আপনারা দেখছেন এমডি ভয়েস টিভি বন্ধুরা আজকের এই ভিডিওতে আমরা কারবালার ময়দানে ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ও একটি সাদা কবুতরের বিষয়কর ঘটনা সম্পর্কে বলতে চলেছি যা শুনে আপনি বিস্মিত হয়ে যাবেন তাই ভিডিওটি একবারে শেষ পর্যন্ত দেখবেন 61 হিজরের 10ই মহররমের দিন যখন কারবালার ময়দানে হযরত ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর মাথা মোবারক শরীর থেকে আলাদা করে দেয়া হয়েছিল মানে যখন ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে শহীদ করা হলো তখন হঠাৎ করে সম্পূর্ণ আকাশ অন্ধকারে ছেয়ে গেল মানুষ ভাবতে লাগলো হয়তো রাত হয়ে গিয়েছে তারিখের পাতাতে উল্লেখ আছে
যে যে সময় আসমান থেকে রক্তের বৃষ্টি হতে শুরু করেছিল মানে হযরত ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু দুঃখতে আকাশও সেদিন কান্না করেছিল এই 61 হিজরীর 10ই মহররমের রাত্রিবেলা একটি সাদা কবুতর কারবালার ময়দানের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল তখন সে দেখতে পেল যে কারবালার উত্তপ্ত ময়দানের উপরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদরের নাতি হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর শরীর মোবারক একা পড়ে রয়েছে তখন সেই কবুতর চিৎকার দিয়ে আকাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে নিচে নেমে এলো আর তারপর সে হযরত ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর রক্ত মোবারককে নিজের গায়ে মাখিয়ে নিয়ে পুনরায় উড়ে চলে গেল এবং সেই কবুতর উঠতে মদিনা শরীফ পর্যন্ত
পৌঁছে গেল আর তাওফের মত করে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারকের আশেপাশে চক্কর কাটতে লাগলো সেই কবুতরের পাকনা থেকে রক্তের ছিটে পড়াও প্রতিনিয়ত ছিল যখন মদিনার মানুষেরা এমন দৃশ্য দেখল তখন তারা হয়রান আর পেরেশান হয়ে গেল আর নিজেদের মধ্যে জিজ্ঞেস করতে লাগলো আরে এই কবুতরটির কি হয়েছে সে এমন কেন করছে তারপর যখন মদিনার মানুষেরা হযরত ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর শাহাদাতের খবর পেল তখন সেই মানুষগুলো বুঝে গেল যে ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর শাহাদাতের খবর সর্বপ্রথম পৌঁছানোর জন্য এই সাদা কবুতর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে আর এইজন্য বুজুর্গরা বলে
থাকেন এই পৃথিবীতে সাদা রঙের যে কবুতর আছে তারা এই কবুতরের বংশধর আর এইজন্য সাদা কবুতরের উপর আল্লাহর এত শান্তি এত বরকত রেখেছেন তারিখের পাতাতে উল্লেখ আছে যে মদিনার বাহিরে একটি গ্রাম ছিল আর সেখানে শিয়ান নামের একজন ইহুদি বসবাস করতেন যার একটি কন্যা ছিল সে চেহারাতে তো খুবই সুন্দরই ছিল কিন্তু কষ্ট রোগাগ্রস্ত থাকার সাথে সাথে সে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাই ইহুদি মেয়েটির এমন অবস্থাকে দেখে তার প্রতিবেশীরা তাকে খুবই ঘৃণা করতে লাগলো যখন সেই ইহুদি দেখল সকলেই তার মেয়েকে ঘৃণার চোখে দেখছে তখন সেই ইহুদি নিজের মেয়েকে নিয়ে গ্রাম থেকে অন্য জায়গায় চলে গেল আর দূরে গিয়ে তারা
একটি বাগিচা যাতে থাকতে শুরু করল সেই ইহুদি লোকটি দিনভর শহরে কাজ করতো আর রাত্রে নেমে আসলে সেই মেয়েটির কাছে চলে আসতো কিন্তু একদিন ভাগ্যক্রমে এমনটি হয়েছিল যে সেই ইহুদি কাজে খুবই ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল আর যে কারণে সেই রাত্রিতে ইহুদি আর নিজের মেয়ের কাছে আসতে পারলো না তো সেই জন্য যখন সেই অন্ধ মেয়েটির বাবা তার কাছে পৌঁছাতে পারলো না তখন মেয়েটি খুবই ঘাবড়ে গেল এবং ঘর থেকে বেরিয়ে একটি গাছের নিচে এসে বসে গেল আর সেখানে বসে বসে কান্না করতে লাগলো তারপর মেয়েটি এমনই করে সেই গাছের নিচে সম্পূর্ণ রাতকে অতিবাহিত করে ফেলল কিন্তু যখন সকাল হলো তখন
সে মেয়েটি শুনতে পেল তার পাশে অবস্থিত একটি গাছে বসে থাকা কবুতরের কাতর স্বরের কান্না আর সেই আওয়াজেই এতটাই বেদনা ভরা ছিল যে সেই মেয়েটি আর নিজেকে সামলাতে পারলো না সেই জন্য মেয়েটি কোন রকম ভাবে সেই গাছটির নিচে পোঁছানোর চেষ্টা করল যদিও মেয়েটি অন্ধ ছিল তবুও সে করা পায়রার দিকে চোখ উঠিয়ে দেখার চেষ্টা করল যখন মেয়েটি সেই কবুতরটিকে দেখার চেষ্টা করল তখন ওই কবুতরের পাখনা থেকে এক ফোঁটা রক্ত মেয়েটির ডান চোখে এসে পড়ে গেল আর সেই রক্তের বরকতে মেয়েটির চোখের রশি চলে আসলো মানে মেয়েটি এবার দেখতে পাচ্ছিল তারপর রক্তের আরো এক ফোঁটা তার বাম চোখে এসে
পড়লো আর সেই রক্তের বরকতে তার দ্বিতীয় চোখেও জ্যোতি ফিরে এলো এবার এমন অবস্থাকে দেখে সেই মেয়েটি নিজে নিজেই খুবই হয়ে যাচ্ছিল আর তারপর মেয়েটি গাছের দিকে আবার তাকিয়ে দেখল যখন সে দেখতে পেল যে গাছের উপরে রক্তের রাঙা হয়ে একটি সাদা কবুতর বসে আছে মেয়েটি কবুতরটিকে দেখতেই ছিল আর তখন ওই রক্তের আরো এক ফোঁটা তার হাতে এসে পড়লো আর যার বরকতে তার হাতও একেবারে ঠিক হয়ে গেল এমনটি দেখে মেয়েটি তার দ্বিতীয় হাতকেই এগিয়ে দিল এবং তারপর সেখানেও রক্তের এক ফোঁটা পড়ে গেল আর যার ফলে তার দ্বিতীয় হাতও ঠিক হয়েছে গেল এরপর মেয়েটি রক্তের আরো কয়েক ফোঁটাকে
নিয়ে সমস্ত শরীরে বুলিয়ে নিল আর যার ফলে সেই মেয়েটি একেবারে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে গেল মানে সেই কুষ্ঠ রোগ একেবারে ঠিক হয়ে গেল এবার সেই মেয়েটি এতটাই সুস্থ হয়ে গিয়েছিল যেন মনে হচ্ছিল তার কোন সময় রোগই ছিল না এরপর সেই মেয়েটি সেখান থেকে উঠে নিজের বাবার সন্ধানে বেরিয়ে গেল মেয়েটি যখন সেই বাগিচা থেকে বের হতে যাচ্ছিল তখন সামনে তার বাবা চলে আসলো কিন্তু সেই তার নিজের মেয়েকে আর চিনতে পারছিল না নিজের মেয়েকে অচেনা মনে করে জিজ্ঞেস করতে লাগলো তুমি কে আর এখানে কি করছো আমি আমার এক অন্ধ মেয়েকে এই বাগিচাতে ছেড়ে গিয়েছিলাম আচ্ছা তুমি কি তার
সম্বন্ধে কিছু জানো কেননা যে জায়গাতে আমি তাকে ছেড়ে গিয়েছিলাম সেখানে তাকে আর দেখতে পাচ্ছি না মেয়েটি এমন দৃশ্যকে দেখে খুশিতে কান্না করতে লাগলো আর বলল বাবা তুমি আমাকে চিনতে পারছো না আমি তোমার সেই অপায়া অন্ধ মেয়ে যাকে তুমি এই বাগিচাতে ছেড়ে গিয়েছিলে তখন সেই ইহুদি নিজের মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে ভীষণই খুশি হলো সে এত বেশি খুশি হয়েছিল যে কারণে খুশিতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল তারপর কিছু সময় পর যখন সেই ইহুদির জ্ঞান ফিরে আসলো তখন মেয়েটি নিজের বাবাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল আর তারপর তার বাবাকে সেই গাছটির নিচে নিয়ে আসলো যেখানে সেই সাদা কবুতর ইমাম হোসেন
রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর রক্ত মেখে বসেছিল সেই কবুতর এখনো সেই স্থানে বসে বসে বেদনাদায়ক আওয়াজে কান্না করে চলেছিল তখন ইহুদি সেই সাদা কবুতরের দিকে মুখ করে বলল হে বরকতময় পাখি তোর এই কষ্টদায়ক কান্নার পেছনে কারণ কি আর তোর পাখনা থেকে ঝরে পড়া এই মোবারক রক্তই বাঁকা যার মধ্যে আল্লাহ এত বরকত রেখেছেন সেই কবুতর শুধুমাত্র এতটুকুই শুনতে পেল আর যার উপর আল্লাহতালা কবুতরকে এমন শক্তি দান করলেন যেখান থেকে সে বলতে শুরু করল আর বলতে লাগলো হে ব্যক্তি আমরা পাখিদের একটি দল জঙ্গলে বসেছিলাম আমাদের একটি রুটিন ছিল যে আমরা সকালবেলাতে খাবারের জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে যেতাম আর
খাবার খোঁজার পর রাত্রিবেলায় আবার নিজের বাসাতে ফিরে আসতাম কিন্তু কাল রাত্রিবেলায় আমাদের কাফেলা যখন সন্ধ্যার সময় ফিরে আসছিল তখন আমরা একটি আওয়াজকে শুনতে পেলাম যে ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে কারবালার উত্তপ্ত ময়দানে শহীদ করে দেয়া হয়েছে তার মাথা মোবারককে কেটে জালেম শয়তানরা সাথে নিয়ে গিয়েছে আর তার শরীর মোবারক কারবালার সেই উত্তপ্ত বালিতে পড়ে আছে আর সেই সময় আওয়াজ ভেসে আসলো হে পাখির দলরা তোমরা নিজেদের বাসাতে আরাম করতে যাচ্ছ এমন আওয়াজকে শুনে আমরা সকল পাখিরাই কারবালার ময়দানে নেমে আসলাম আর যখন আমরা সেখানে পৌঁছালাম তখন দেখলাম হযরত ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর শরীর মোবারক থেকে রক্ত
বের হয়ে যাচ্ছে আর এমন অবস্থা দেখে আমরা সমস্ত পাখিরা ইমাম হোসেনের দুঃখতে করতে লাগলাম কিন্তু তাদের মধ্যে আমি আর নিজেকে স্থির রাখতে পারলাম না আর যেই কারণে ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর প্রবাহিত রক্তকে নিজের শরীরে মেখে নিলাম আর তারপর সেখান থেকে উড়তে উঠতে এখানে চলে আসলাম সেই সাদা পায়রাটি বলতে লাগলো আর এটি সেই মোবারক রক্তের ওই বিন্দু যা আমার শরীর থেকে ঝরে পড়ছে তখন সেই ইহুদি পায়রার মুখে এমন কথাকে শুনে বলতে লাগলো যদি ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সত্যের রাস্তা না থাকতো যদি তার নানা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হকের রাস্তায় না থাকতেন তাহলে তার
রক্ততে কখনোই এত বরকত থাকতো না আর না তো আমার এই অন্ধ মেয়ে সুস্থ হতো তখন সেই ইহুদি নিজের মুখে বলতে লাগলো হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য আর তার দ্বীনও সত্য আর তারপর সেই ইহুদি নিজের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সেখানেই কলেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেল আর তারপর যখনই কেউ তাকে ইসলাম কবুল করার জন্য জিজ্ঞেস করতো তখন সে এই ঘটনাকে খুব ভালো করে বর্ণনা করতো আল্লাহু আকবার তো প্রিয় দর্শক এই ছিল আমাদের আজকের এই ঘটনা কেমন লাগলো কমেন্ট করে আমাদের অবশ্যই জানাবেন আজ তাহলে এই পর্যন্তই আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ [মিউজিক]