একদিন নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম সাইদুন বাদশার মেয়েকে বলল হে রাজকন্যা তুমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করো তাহলে আমি তোমাকে বিবাহ করে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারব নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের কথা শুনে সাইদুন দোহিতা বলল আমি তোমার ধর্ম গ্রহণ করতে পারি তবে একটি শর্ত রয়েছে তুমি যদি আমার পিতাকে আমার সামনে হাজির করো তাহলে আমি তোমার ধর্ম গ্রহণ করব নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন হে রাজকন্যা তুমি তো জানোই ইতিপূর্বে আমি তোমার পিতার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি এবং সেই যুদ্ধেই আমি তাকে হত্যা করেছি তাহলে একজন মৃত মানুষকে কিভাবে আমি তোমার সামনে উপস্থিত করব সাইদুন বাদশার মেয়ে বলল আমি আমার সেই মৃত
পিতাকেই দেখতে চাই আপনি তাকে আমার সামনে উপস্থিত করুন সাইদুন কন্যার এই আরজি শুনে নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম তখন তার পিতার লাশ তার সামনে উপস্থিত করল সাইদুন দোহিতা নিজের পিতার লাশ চোখের সামনে দেখে ব্যাথা ও দুঃখে অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়লো এবং সে কান্না জুড়ে দিল কান্না করতে করতে একসময় সে বেহুশ হয়ে পড়ে গেল কিছুক্ষণ পরে হুশ ফিরে আসলে নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাকে বলল দেখো রাজকন্যা তুমি যদি আমার ধর্ম গ্রহণ করো তাহলে আমি তোমাকে বিবাহ করতে পারব এবং তুমি একটি সুখের জীবন পাবে আর তুমি যদি তোমার পূর্বের ধর্মে অটল থাকো তাহলে আমি তোমাকে বিবাহ করতে পারবো
না এবং তোমাকে স্ত্রীর মর্যাদাওও দিতে পারবো না তোমাকে দাসী ওবাদীর মত জীবনযাপন করতে হবে এখন তুমি ভেবে দেখো তুমি কি করবে নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের এই কথা শুনে সাইদুন দোহিতা বলল হে আল্লাহর নবী আমি আপনার ধর্ম গ্রহণ করতে চাই এবং আপনার স্ত্রী হতে চাই যদিও মুখে মুখে সাইদুন বাদশার মেয়ে এই কথা বলেছিল কিন্তু তার অন্তরে ছিল বিষ সে প্রকৃতপক্ষে নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের ধর্ম গ্রহণ করতে চাচ্ছিল না কিন্তু যখন সে দেখলো নবীর ধর্ম গ্রহণ না করলে এবং তাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ না করলে তাকে দাসী ও বাদীর মত জীবনযাপন করতে হবে তখন এই চাপে পড়ে এবং
এমন চিন্তা করেই সে মূলত বাধ্য হয়ে নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের ধর্ম গ্রহণ করল বাহ্যিকভাবে সাইদুন দোহিতা যখন নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের ধর্ম গ্রহণ করল তখন আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দান করলেন নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের সঙ্গে জাগজমকপূর্ণভাবে একটি সুন্দর পরিবেশে সাইদুন দোহিতার বিবাহ সংঘটিত হয়ে গেল সেই রাজকন্যা এতটাই সুন্দরী ছিল যে নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাকে সকল স্ত্রীদের চাইতে বেশি ভালোবাসতো এবং তাকে অনেক মর্যাদা ও শান সৌকতের সাথে রাখলো আল্লাহর নবী তাকে এতটাই স্বাধীনতা দান করেছিল যে তার স্ত্রী কি করছে না করছে তার কোন খোঁজ খবরই তিনি রাখতেন না এবং কোন
কাজের ব্যাপারে তিনি তাকে জবাবদিহিতা করতেন না এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল এদিকে পাপিষ্ঠ ইবলিশ রাজকন্যার মনের অবস্থা সম্পর্কে জানতো তাই সে একদিন মানুষের রূপ ধারণ করে তার নিকট এসে বলতে লাগলো হায়রে কপাল কি দুর্ভাগ্য তোমার তুমি ছিলে কত বড় ঘরের সন্তান আর তোমার পিতার স্নেহের পাত্রী কিন্তু আজ দুর্ভাগ্য দেখো সেই পিতাকে হত্যাকারী একজন নিষ্ঠুর বাদশার সঙ্গেই তোমার ঘর সংসার করতে হচ্ছে আজ তুমি তার সহধর্মিনী তোমার এই পরিণতির ফলে তোমার পিতা যে কতটা অসন্তুষ্ট এবং তার আত্মা যে কতটা অশান্তি ভোগ করছে তা তুমি উপলব্ধি করতে পারছো কিনা আমি জানিনা কিন্তু আমি মর্মে মর্মে তা উপলব্ধি করতে পারছি
এবং টের পাচ্ছি শয়তানের এই কথা শুনে রাজকন্যা বলল আমি কি করব বলুন এছাড়া আমার কাছে আর কোন উপায় ছিল না কারণ আমি যদি নবী সুলাইমানের ধর্ম গ্রহণ করে তার স্ত্রী না হতাম তাহলে আমাকে দাসী ও বাদীর মত জীবনযাপন করতে হতো আর সেটা আমার জন্য আরো অসহনীয় হয়ে উঠতো তাই বাধ্য হয়ে আমি তার ধর্ম গ্রহণ করেছি এবং তাকে স্বামী রূপে গ্রহণ করেছি আমার পিতার আত্মা যে কষ্ট পাচ্ছে এটা আমিও বুঝতে পারছি এবং আমি প্রতিনিয়তি এমন একটি পদ্ধতি খুঁদে বেড়াচ্ছি যার মাধ্যমে আমার পিতার আত্মা কিছুটা শান্ত হবে শয়তান তখন বলল তুমি যদি চাও তাহলে আমি তোমাকে এমন
একটি পদ্ধতি বলে দেব যার মাধ্যমে তোমার পিতার আত্মার শান্তি লাভ করবে এবং সেই পদ্ধতি অবলম্বন করে তার জীবদ্দশায় তুমি যেমন তার স্নেহের পাত্রী ছিলে তার মৃত্যুর পরেও তার স্নেহের পাত্রী থাকবে রাজকন্যা তখন শয়তানকে বলল আমি তো এমন একটি পদ্ধতিরই খোঁজ করছি দয়া করে আপনি বলুন কি এমন কাজ করলে আমার পিতার আত্মার শান্তি হবে এবং কিভাবে তার মৃত্যুর পরেও আমি তার স্নেহের পাত্রী রূপে গণ্য হতে পারি তখন শয়তান বলল হে রাজকন্যা তুমি তোমার পিতার একটি মূর্তি নির্মাণ করো আর গোপনে সেই মূর্তির পূজা করতে থাকো তুমি যত ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে তোমার পিতার মূর্তির পূজা করবে তোমার
পিতার আত্মা ততটাই শান্তি পাবে এবং তুমি ততটাই তার স্নেহের পাত্রী হিসেবে গণ্য হবে তবে সাবধান এটা তোমাকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে করতে হবে কেননা নবী সুলাইমান যদি জানতে পারে যে তুমি মূর্তি পূজা করছো তাহলে তোমার আর রক্ষা থাকবে না তাই আমি তোমাকে পরামর্শ দিচ্ছি তুমি নবী সুলাইমানের অগোচরে তোমার পিতার মূর্তিকে পূজা করতে থাকো তুমি যদি এই কাজ করতে পারো তাহলে তোমার পিতা নিশ্চয়ই তোমার উপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট হবেন এবং তার আত্মা পরকালে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে উক্ত কথাগুলো বলে শয়তান সেখান থেকে চলে গেল অতঃপর শয়তানের কুমন্ত্রণায় পড়ে রাজকন্যা তার পিতার একটি মূর্তি নির্মাণ করল আর নবী সুলাইমান
আলাইহিস সালামের অগোচরে প্রতি নিয়ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে রাজকন্যা উক্ত মূর্তির পূজা করতে লাগলো আল্লাহর নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম যেহেতু রাজকন্যাকে অনেক ছাড় দিয়ে রেখেছিলেন এবং তাকে অনেক স্বাধীনতা প্রদান করেছিলেন তাই তিনি আদৌ জানতে পারলেন না তার চোখের অগোচরেই সাইদুন দোহিতা তার পিতার মূর্তি পূজা করছে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের এই শীতিলতা তেমন পছন্দনীয় হয়নি তিনি আল্লাহর একজন মনোনীত নবী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে এই দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন মূর্তি পূজা ধ্বংস করার জন্য অথচ সেই নবীর ঘরেই মূর্তি পূজা হবে এটা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সহ্য হলো না তাই তিনি তার নবীকে এই ভুলের জন্য
একটা শিক্ষা দিতে চাইলেন কিন্তু তাই বলে এই কথা ভাবার কোন অবকাশ নেই যে নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম গুনাহ করেছিলেন কেননা আল্লাহর সকল নবীগণ নিষ্পাপ আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের হাতে একটি আংটি ছিল সেই আংটির মধ্যে অনেক ঐশী ক্ষমতা ছিল মূলত সেই ঐশী ক্ষমতার বলেই নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম সকল জিন পরি ও দেওদানবকে তার বসে রাখতেন আল্লাহর নবীর অভ্যাস ছিল তিনি কখনো সেই আংটিটিকে নিয়ে বাথরুমে যেতেন না যখন তার বাথরুমে বা হাজতে যাওয়ার প্রয়োজন হতো তখন সেটিকে খুলে আমেনা নামক একজন দাসীর হাতে দিয়ে তারপর বাথরুমে যেতেন প্রতিদিনের মতো সেদিনও আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহি সালাম
সেই আংটিটি খুলে আমেনা নামক সেই দাসীর হাতে দিয়ে বললেন তুমি এই আংটিটি রাখো আমি বাথরুম থেকে এসে তোমার কাছ থেকে নিয়ে যাব এই বলে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম বাথরুমে চলে গেলেন কিন্তু প্রতিদিনের চেয়ে আজকে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের বাথরুম থেকে ফিরতে একটু বেশি সময় ব্যয় হচ্ছিল সুলাইমান আলাইহিস সালামের দরবারে একজন জিন ছিল যার নাম ছিল সকরা সে সবসময় সুযোগ খুঁজতো কিভাবে নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের ক্ষতি করা যায় এবং কিভাবে ছলে বলে কলে কৌশলে তার রাজ্য হাতিয়ে নেওয়া যায় যখন সে দেখল নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম আজ বাথরুম থেকে ফিরে আসতে একটু দেরি
করছে তখন সে এটিকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করল আর মূলত এমন একটি সুযোগের অপেক্ষাতেই সে ছিল তাৎক্ষণিক সে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের আকৃতি ধারণ করে সেই দাসীর কাছে এসে বলল আমেনা দাও আমার আংটিটি আমাকে ফিরিয়ে দাও সরল মনা দাসী আল্লাহর নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের রূপ ধারণকারী জিন সোখরাকেই নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম মনে করল এবং সে আংটিটি তার হাতে দিয়ে দিল ব্যাস জিন চোখরা আল্লাহর নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের সেই আংটিটি পড়ে তার সিংহাসনে গিয়ে উপবেশন করল বেশ কিছুক্ষণ পরে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে দাসীকে বললেন আমেনা দাও আমার আংটিটি
আমাকে ফিরিয়ে দাও দাসী অত্যন্ত আশ্চর্যত হয়ে বলল তুমি কে আমি তো নবীর আংটি নবীকেই দিয়ে দিয়েছি এখন তুমি আবার কোথা থেকে এসেছো আর আমার কাছে আংটিটি চাচ্ছ দাসীর কথা শুনে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে গেলেন এবং তিনি বললেন একি বলছো তুমি আমি তো বাথরুমে ছিলাম কে তোমার কাছ থেকে আমার আংটিটি গ্রহণ করেছে আমি তো আল্লাহর নবী সুলাইমান তখন দাসী বলল তোমার এসব এলোমেলো কথা আমি শুনতে চাই না আমি নবীর আংটি নবীকেই দিয়ে দিয়েছি আর তুমি কে আমি তোমাকে চিনি না অতএব এসব প্রতারণামূলক কথা বলে আমাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করো না এরপরে
হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম অনেক ভাবে সেই দাসীকে বুঝানোর চেষ্টা করলেন যে তিনি আল্লাহর নবী কিন্তু তিনি যতই বুঝালেন দাসী কোনভাবেই বুঝতে চাইলো না তখন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম সেখান থেকে দরবারে আসলেন এসে তিনি দেখতে পেলেন জিন সখরা তার সুরত ধারণ করে তার আসনে উপবেশন করে বিচারকার্য সমাধান করছে এবং বিভিন্ন শাহী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে তখন তিনি তার উজির নাজিরদেরকে লক্ষ্য করে বললেন তোমরা এ কার অনুসরণ ও তাবেদারী করছো এতো আমার সুরত ধারণকারী একজন জ্বীন আর আমি হলাম আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান তোমরা তাকে আমার সিংহাসন থেকে বহিষ্কার করো সে তোমাদেরকে ধোঁকা দিচ্ছে এবং সে আমার সুরত ধারণ
করে আমার আংটি চুরি করে আমার সিংহাসনে উপবেশন করছে জিন চকরা যখন আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের মুখ থেকে এই কথাগুলো শুনলো তখন সে রাজ্যের সৈন্যদেরকে নির্দেশ দিল এই পাগলটা আবার কোথা থেকে এসেছে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে রাজদরবার থেকে বের করে দাও তার স্পর্ধা দেখে তো আমি আশ্চর্যান্বিত হয়ে যাচ্ছি সে আমাকে বলছে আমি নাকি একজন সুরত ধারণকারী জিন তার মাথা ঠিক নেই এখনি তোমরা তাকে আমার দরবার থেকে বহিষ্কার করো আল্লাহর নবীর সুরত ধারণকারী শয়তান জিনের কথায় দরবারের সৈন্যরা আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে দরবার থেকে বের করে দিল কোথা থেকে কি হয়ে গেল হযরত সুলাইমান
আলাইহিস সালাম কিছুই বুঝতে পারলেন না তিনি বুঝতে পারলেন না কেন তার আংটিটি চুরি হয়ে গেল এবং কেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে রাজ্যহারা করলেন আল্লাহর নবী একেবারে অস্থির হয়ে পড়লেন এরপর তিনি বাইতুল মুকাদ্দাসে গিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে ফরিয়াদ করে বলতে লাগলেন হে মাবুদ আমি জানিনা আমার কোন ভুলের কারণে আপনি আমাকে রাজ্যহারা করলেন এবং আপনি আমাকে এত বড় পরীক্ষার মধ্যে ফেললেন হে রহমানুর রাহিম আমি যদি কোন ভুল করে থাকি তাহলে আপনার কাছে সেই ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি হে মাবুদ আপনি দয়া করে আমাকে জানিয়ে দিন কেন আমি রাজ্যহারা হলাম এবং কেন আমাকে আপনি এত বড় একটি
পরীক্ষার মধ্যে নিপতিত করলেন তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের কাছে ওহী নিয়ে আসলেন এবং তাকে বললেন হে আল্লাহর নবী আপনার কি মনে আছে ইতিপূর্বে আপনি সাইদুন দোহিতাকে বিয়ে করেছিলেন অত্যন্ত রূপসী ও সুন্দরী হওয়ার কারণে আপনি তাকে অনেক ভালোবাসতেন এবং তাকে অনেক স্বাধীনতা দিয়েছিলেন কিন্তু আপনি কি জানেন প্রকৃতপক্ষে সে আপনার ধর্ম গ্রহণ করেনি এবং আপনার দৃষ্টির অগোচরে সে তার পিতার মূর্তি পূজা করতো আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনাকে এই দুনিয়াতে মূর্তি পূজা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছেন অথচ আপনার বাড়িতে মূর্তি পূজা হবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এটা সহ্য করবেন কিভাবে আপনি যদি
একটু খোঁজখবর রাখতেন এবং তাকে এত বেশি স্বাধীনতা প্রদান না করতেন তাহলে হয়তো আপনার বাড়িতে পূজার মতো এতটা জঘন্য পাপ সংঘটিত হতো না যেহেতু আপনার অসতর্কতার কারণে এমনটি হয়েছে তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পরীক্ষায় এখন আপনাকে ধৈর্য সহকারে উত্তীর্ণ হতে হবে উক্ত কথাগুলো বলে হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম অদৃশ্য হয়ে গেলেন হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালামের পক্ষ থেকে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এই সংবাদ জানার পরে বুঝতে পারলেন আসলে ভুল তারই হয়েছে তিনি যদি তখন সেই রাজকন্যাকে হত্যা করে ফেলতেন অথবা তাকে এতটা স্বাধীনতা প্রদান না করতেন তাহলে হয়তোবা আজ এই ভুল হতো না অতঃপর আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান
আলাইহিস সালাম সন্তুষ্ট চিত্তে আল্লাহ তাআলার ফায়সালা মেনে নিলেন এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত তিনি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে যেতে লাগলেন দিবা রাত্র আল্লাহ তাআলার কাছে ক্রন্দন করতে করতে একসময় হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম ক্ষুধার জ্বালায় অস্থির হয়ে পড়লেন বাধ্য হয়ে তিনি বাইতুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী একটি গ্রামে চলে গেলেন গ্রামবাসীদের নিকট গিয়ে আল্লাহর নবী সবাইকে বললেন হে ভাইয়েরা আপনারা আমাকে একটি কাজ দিন আমি ক্ষুধার জ্বালায় অনেক অস্থির হয়ে পড়েছি গ্রামবাসীরা বলল কাজ করার দরকার নেই আমরা আপনাকে এমনিতেই খাবার দেব আমাদের কাছে অনেক দান খয়রাত রয়েছে কিন্তু আল্লাহর নবীরা কখনোই দান খয়রাতের
খাবার গ্রহণ করতে পারেন না নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাদের কথা শুনে বললেন আমি আপনাদের দান ও সদকার মাল গ্রহণ করবো না বরং আমি নিজের হাতে কাজ করে সেই পারিশ্রমিকের টাকা দিয়ে আমার খাবার অর্জন করতে চাই দয়া করে আপনারা আমাকে একটি কাজ দিন গ্রামবাসীরা তখন বলল আমাদের কাছে এমন কোন কাজ নেই যে কাজে আমরা আপনাকে নিযুক্ত করতে পারি অতএব আপনি অন্য কোথাও গিয়ে কাজের অন্বেষণ করুন এভাবে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম হন্য হয়ে একটি কাজের অন্বেষণ করতে লাগলেন কিন্তু কোথাও তিনি কোন কাজ পাচ্ছিলেন না পরিশেষে তিনি একটি নদীর তীরে গিয়ে দেখলেন এক জেলে মাছ শিকার
করছে তিনি সেই জেলেকে করুন কন্ঠে বললেন হে আল্লাহর বান্দা আপনার কাছে কি আমার জন্য কোন কাজের ব্যবস্থা হবে আমি অনেকদিন ধরে ক্ষুধার্থ ও পিপাসার্থ আর আমি চাই নিজের হাতের উপার্জন দিয়েই আমি আমার ক্ষুধা তৃষ্ণা নিবারণ করব যদি আপনি আমাকে একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে আপনার প্রতি আমি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবো নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের করুন কন্ঠের এই কথাগুলো শুনে জেলের মনে দয়া হলো তখন সেই জেলে বলল তুমি আমার সঙ্গে থাকতে পারবে বুড়ো হতে সারাদিন আমার সঙ্গে কাজ করবে বিনিময়ে সন্ধ্যাবেলায় তুমি দুটি মাছ পাবে জেলের কাছ থেকে এই কাজের অফার পেয়ে সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাকে বললেন
হে আল্লাহর বান্দা আমি নির্দ্বিধায় আপনার কাছ থেকে এই কাজ গ্রহণ করতে রাজি আছি আপনি আমাকে যত সামান্যই বেতন প্রদান করেন না কেন আমার কোন আপত্তি নেই শুধুমাত্র আমি চাই হালাল ভাবে রুজি উপার্জন করে আমার ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিবারণ করতে অতঃপর সেদিন থেকেই আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের চাকরিজ জীবন শুরু হয়ে গেল তিনি সারাদিন সেই জেলের সাথে কাজ করেন এবং বিনিময়ে সন্ধ্যাবেলায় দুটি মাছ অর্জন করেন তার একটি তিনি নিজে ভক্ষণ করেন এবং অপরটি গরীব দুঃখীদের মাঝে দান করে দেন এবং সারারাত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে ইবাদত বন্দেগী ও রোনাজারির মাধ্যমে কাটিয়ে দেন এভাবেই দিন চলে যাচ্ছিল
একদিন তিনি মনিবের কাজে অত্যাধিক ক্লান্ত ও শান্ত হয়ে নদীর তীরে একটি বৃক্ষ ছায়ায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম ঘুমাচ্ছিলেন যেহেতু তখন অনেক বেশি গরম পড়ছিল সেহেতু আল্লাহর নবীকে এই গরম থেকে প্রশান্তি দানের জন্য একটি অজগর সাপ তার খেদমতে লেগে গেল সে একটি বৃক্ষের শাখা দিয়ে আল্লাহর নবীর গায়ে বাতাস করতে লাগলো নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম যেই জেলের বাড়িতে কাজ করতেন সেই জেলের একজন সুন্দরী কন্যা ছিল ঘটনাক্রমে কোন এক কাজে সে এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল অদূরে দাঁড়িয়ে সে এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখল এবং বিস্ময় হতভাগ হয়ে গেল হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের চেহারার নবুয়তি নূর
তার দৃষ্টিতে প্রতিফলিত হলো তাতে তার হৃদয়ে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সৃষ্টি হলো সে মুহূর্তে জেলে কন্যা আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়লো তার মনে প্রবল বাসনা জাগলো যে করেই হোক এই ব্যক্তির পদতলে দেহ মন সমর্থন করতেই হবে অতঃপর জেলে কন্যা বাড়িতে ফিরে গিয়ে সে তার পিতাকে বলল আব্বাজান আমি তো বয়স্ক হয়েছি আমাকে তো আপনি বিবাহ দিবেন তাই এই ব্যাপারে আমার একটি অনুরোধ হলো এই যে যে লোকটি আমাদের বাড়িতে কাজ করছে আপনি তার হাতে আমাকে সমর্পণ করুন কন্যার মুখে এই কথা শুনে জেলে বলল হায় হায় তুমি একি বললে চাকরের কাছে যদি আমি তোমাকে
বিবাহ দেই তাহলে লোকে কি বলবে একবার ভেবে দেখেছো মানুষ আমাকে ধিক্কার দেবে এবং তোমার নামে কুৎসা গাইবে আচ্ছা বলতো দেখি তুমি তার মধ্যে এমন কি দেখলে যার কারণে তাকে বিবাহ করার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছো তখন জেলেকন্যা বলল আব্বাজান আজ দুপুরে কোন কোন এক কাজে আমি নদীর রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম তখন আমি দেখলাম সেই লোকটি একটি গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিল অত্যাধিক গরম হওয়ায় সে ঘেমে যাচ্ছিল এমন সময় দেখতে পেলাম একটি অজগর সাপ এসে তাকে বাতাস করছে এবং তার শান্তি ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে সেই সময় আমি তার চেহারায় নবুয়তের জেতি দেখতে পেয়েছি ও আব্বাজান এই কারণেই
মূলত আমি তাকে বিবাহ করতে চাই অন্য কোন কারণ বা উদ্দেশ্য আমার নেই কন্যার মুখ থেকে এসব অলৌকিক কথা শুনে জেলে বলল ও আম্মাজান যদি তোমার কথা সত্যিই হয়ে থাকে তাহলে তো এটা একটা বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার আর এমন হলে তার সঙ্গে তোমাকে বিবাহ দিতে আমার কোন আপত্তি নেই কারণ আল্লাহর কোন নবীর সঙ্গে নিজের কন্যাকে বিবাহ দিতে পারা দুনিয়ার সবচাইতে বড় সৌভাগ্যের কাজ তখন জেলের মনে বাসনা জাগলো যে তার সুন্দরী কন্যাকে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের হাতে তুলে দিবে পরদিন জেলে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে বলল বাবা আমি তোমার কাছে একটি প্রস্তাব রাখতে চাই তুমি যদি মেহেরবানী
করে সেই প্রস্তাবটি গ্রহণ করো তাহলে আমি তোমার প্রতি চিরজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো আল্লাহর নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম জেলের কথা শুনে বলল আপনি নির্ভয় ও নিঃসংকোচে বলুন কি প্রস্তাব আমার নিকট রাখতে চান আর আমি তো একজন নিঃস্ব ও ফকির মানুষ যদি তারপরেও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে সামর্থ্য ও তৌফিক দান করেন অবশ্যই আপনার দাবি আমি পূরণ করার চেষ্টা করবো তখন জেলে বলল বাবা আমার প্রস্তাবটি হলো আমার একমাত্র কন্যাকে আমি তোমার হাতে তুলে দিতে চাই এই ব্যাপারে এখন তুমি তোমার মতামত ব্যক্ত করো হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম জবাব দিলেন জনাব আমি আপনার অধীনে চাকরি করি এবং জীবিকা নির্বাহ করি একজন
চাকরের নিকট আপনি আপনার সুন্দরী একমাত্র কন্যাকে বিবাহ দিবেন এটা কি বিশ্বাস করার মত কথা জেলে তখন বলল বাবা এতে অবিশ্বাসী এর কি আছে চাকরি করে তো অনেকেই জীবিকা উপার্জন করে তাতে কি সে ছোট হয়ে যায় সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন জনাব আমি তো এমন চাকরি করি যে সারাদিন কাজ করে মাত্র দুটি মৎস জীবিকা হিসেবে পাই তার দ্বারাই আমি আমার ভরণ-পোষণ ও জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছি আমার নিকট অবশিষ্ট কিছুই থাকে না অতএব আমার নিকট এমন কোন সম্পদ নেই যে সম্পদের মাধ্যমে আমি আপনার মেয়ের মোহরানা আদায় করতে পারব হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের কথা কথা শুনে জেলে বলল বাবা তোমাকে
এক্ষুনি মহরানা পরিশোধ করতে হবে না বরং তুমি আমার বাড়িতে কাজ করতে থাকো এবং ধীরে ধীরে তুমি মহরানা পরিশোধ করে দেবে আর তোমাদের খাওয়া-পড়ার যে ব্যবস্থা তা আমি করে দেব সেই ব্যাপারে তোমাকে কোন চিন্তা করতে হবে না জেলের মুখে এইসব কথা শুনে সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন যদি সত্যিই আপনি নেক নিয়তে আমার সঙ্গে আপনার কন্যাকে বিবাহ দিতে চান তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় আমিও রাজি রয়েছি অতএব এই ব্যাপারে আমার কোন আপত্তি নেই অতঃপর আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের সঙ্গে সেই সুন্দরী জেলে কন্যার বিবাহ হয়ে গেল স্ত্রীকে নিয়ে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের দিনগুলি মোটামুটি সুখেই কেটে যাচ্ছিল তিনি সারাদিন
মাছ ধরেন এবং রাত হলে একনিষ্ঠতার সাথে মনোযোগের সহিত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইবাদত করেন এবং তার দরবারে রোনাজারি ও কান্নাকাটি করেন আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম সালামের পরীক্ষার দিনগুলি শেষ হয়ে আসার সময় এসেছে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন চাইলেন তার নবীকে আবার তার রাজ্য ফিরিয়ে দিবেন এরপর একদিন আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে রোনাজারি করছিলেন এমন সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম সেখানে এসে উপস্থিত হলেন এবং নবী সুলাইমানকে জানিয়ে দিলেন হে আল্লাহর নবী আপনার পরীক্ষার দিনগুলো শেষ হয়েছে অচিরেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনাকে আপনার রাজ্য এবং শাসন ক্ষমতা ফিরিয়ে দিবেন আল্লাহ তাআলার পক্ষ
থেকে এই সংবাদ জানার পরেই আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম আল্লাহর দরবারে লাখ লাখ কোটি শুকরিয়া আদায় করলেন আর তিনি অপেক্ষা করতে লাগলেন কখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আবার তাকে তার রাজ্য এবং শাসন ক্ষমতা ফিরিয়ে দিবেন ওদিকে জিন সকরা আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের রাজ্য দখল করে তার রাজকার্য পরিচালনা করে যাচ্ছিল কিন্তু যেমনটি হয়ে থাকে তেমনটি হচ্ছিল না কারণ প্রকৃতপক্ষে সে তো আর আল্লাহর নবী নয় নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের মাঝে যতগুলো ভালো গুনাগুন ছিল জিন সকরার মাঝে তা ছিল না তাই যতই সে অলৌকিকতা প্রদর্শন করুক না কেন পরিপূর্ণভাবে সে আল্লাহর নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের মত
তার রাজ্য নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারছিল না হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের প্রধান উজির এর নাম ছিল আসাফ সে একদিন তার সঙ্গীদেরকে বলল তোমরা কি খেয়াল করে দেখেছো আল্লাহর নবী সুলাইমানের মাঝে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে কেমন যেন আমার মনে হচ্ছে তিনি আর আগের সেই সুলাইমান নেই ইতিপূর্বে আল্লাহর নবী যেভাবে ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে এবং উত্তম ব্যবহারের সাথে রাজ্য পরিচালনা করতেন এখন কেমন যেন তার মধ্য থেকে সেই গুণাবলী গায়েব হয়ে গিয়েছে আমার তো মনে সন্দেহ জেগেছে যিনি এখন আমাদের রাজ্য পরিচালনা করছেন হয়তোবা তার মধ্যে কোন গড়বড় রয়েছে উজির আফের এই কথা শুনে তার সঙ্গীরা বলল আমরাও
আপনার মতই লক্ষ্য করেছি যেদিন থেকে আংটির ঘটনা নিয়ে একটি বিপত্তির ঘটনা সৃষ্টি হয়েছে সেদিন থেকেই কেমন যেন রাজদরবারের সকল কার্যক্রমগুলি গড়বড় দেখা যাচ্ছে তাই আমাদের মনে হয় এই ব্যাপারটি নিয়ে একটি সুষ্ঠ তদন্ত করা উচিত তাদের কথা শুনে উজির আসব বলল আমারও তাই মনে হয় তোমরা চিন্তা করিও না অচিরেই আমি এই ব্যাপারে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করব আর প্রকৃত ঘটনাটি কি তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ এরপর প্রধান উজির আসফ বিষয়টি তদন্ত করার জন্য হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের খাস মহলে উপস্থিত হলেন এবং খাস মহলের বাদী আমেনার কাছে জিজ্ঞাসা করলেন আচ্ছা বলতো আমাদের বাদশা হযরত সুলাইমান
আলাইহিস সালাম আজকাল কোথায় অবস্থান করেন বাদী জবাব দিল আজ 40 দিন যাবত তার কোন সংবাদ আমরা জানিনা মহলের সকলেই মনে করেছিলাম তিনি সম্ভবত বর্তমানে বাড়ির বাহিরে অবস্থান করছেন আমি তার সেই খাসবাদী যার নিকট তিনি বাথরুমে যাওয়ার পূর্বেই আংটি জমা করে রাখতেন কিন্তু আজ 40 দিন হয়ে গেল তিনি বাথরুমে যাচ্ছেন না এবং আমার কাছে আংটিও জমা করে রাখছেন না আর আমি আরো একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি তিনি কখনোই খাস মহলের ভিতরে প্রবেশ করেন না আমি খুঁজ নিয়ে দেখেছি তিনি বাইরের মহলেও থাকেন না এই ব্যাপারে আমার মনে সন্দেহের জন্ম হয়েছিল আমি আপনাকে বিষয়টি জানাতেও চেয়েছিলাম বাদীর কথা শুনে
উজির আসুফ বলল এবার বুঝলাম নিশ্চয়ই কোন গুরুতর ব্যাপার ঘটেছে অতএব সঠিক একটি পরীক্ষা করার দ্বারা ব্যাপারটি উন্মোচন করা উচিত এরপর উজির আসাফ 40 জন তাওরাতের কারীকে ডেকে বলল তোমাদের কাজ হলো আজ তোমরা বাদশাহ সুলাইমানের সিংহাসনের কাছে বসে উচ্চ সুরে তাওরাত গ্রন্থ তেলাওয়াত করবে যদি তোমাদের তেলাওয়াত শুনে বাদশাহ সুলাইমান তার সিংহাসনে টিকে থাকে এবং তার মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা না যায় তাহলে বুঝা যাবে প্রকৃতপক্ষে সেই আল্লাহর নবী আর যদি সে কোন জিন বা দেওদানব হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সে তাওরাতের তেলাওয়াত শুনে টিকতে পারবে না এবং তার আসল রূপে ফিরে আসবে অতঃপর উজিরের নির্দেশ মতো তাওরাতের কার্বীরা
আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের সিংহাসনের পাশে গিয়ে উচ্চ সুরে তাওরাত গ্রন্থ তেলাওয়াত আরম্ভ করে দিল কাফের জিন সকরা তখন আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের বেশে তার সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিল কিন্তু পবিত্র গ্রন্থ তাওরাতের তেলাওয়াত যে আর সহ্য করতে পারলো না আল্লাহর বাণী তার কর্ণকুহুরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই তার পুরো শরীরে জ্বালা পোড়া শুরু হয়ে গেল সে তার আঙ্গুলগুলো তার কানে প্রবেশ করাতে লাগলো কিন্তু তাতেও কাজ হলো না যেহেতু কার্বীরা উচ্চ সুরে তাওরাত গ্রন্থ তেলাওয়াত করছিল সেহেতু তার কানে আঙ্গুল ঢুকানোর পরেও তাওরাতের বাণী তার কানে পৌঁছে যাচ্ছিল পাপিষ্ঠ কাফের সখরার দেহ মনে অগ্নিদহন শুরু হয়ে
গেল সে আর এক এক মুহূর্তেও টিকতে পারলো না দ্রুত সে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের সিংহাসন পরিত্যাগ করে তার আসল রূপে ফিরে আসলো তার আসল রূপ দেখে রাজ্যের সবাই বুঝতে পারলো এতদিন সে তাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে কিন্তু যেই না তারা তাকে পাকড়াও করতে যাবে অমনি জিন সোখরা তাদের কাছ থেকে পালিয়ে একটি সমুদ্রের কিনারায় এসে উপস্থিত হলো সোখরা বুঝতে পারলো তার চালাকি ফাঁস হয়ে গিয়েছে এখন আর তার রক্ষা নেই আর সে এই কথা বুঝতে পারলো যে এখন আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের আংটি হাতে রেখে আর কোন লাভ নেই অতএব জিন চকরা উক্ত ঐশি আংটি খুলে সমুদ্রে নিক্ষেপ
করল এবং সে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের শাস্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য এক গহীন জঙ্গলে পালিয়ে গেল জিন ফখরার সেই আংটিটি সমুদ্রে নিক্ষেপ করার সঙ্গে সঙ্গে একটি মাছ তা গিলে ফেলল প্রতিদিনের মতো আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এবং তার শ্বশুর মৎস শিকার করার জন্য নদীতে আসলো তারা আল্লাহর নামে নদীতে জাল ফেলল আল্লাহর কি অসীম কৃপা যে মাছটি আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের আংটিটি গিলে ফেলেছিল সেই মাছটি তাদের জালে আটকে গেল কিন্তু তখনও তারা কিছুই বুঝতে পারলো না সারাদিন মৎস শিকার করার পরে সন্ধ্যাবেলায় তার শ্বশুর তাকে দুটি মাছ দিল হযরত সুলাইমান আলাইহিস
সালাম সেই মাছগুলো নিয়ে তার বাড়িতে আসলেন এবং একটি মাছ তার স্ত্রীকে দিয়ে বললেন তুমি মাছটি কেটে কুটে রান্না করো আমি অপর মাছটি বাজারে বিক্রি করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করে নিয়ে আসছি এই বলে আল্লাহর নবী তার স্ত্রীকে মাছটি দিয়ে অপর মাছটি বিক্রি করার জন্য বাজারে চলে গেল এদিকে তার স্ত্রী মাছ কুড়তে বসলো যখন সে মাছটির পেট ছিড়ে ফেলল এমনি সময় সেই মাছের পেট থেকে উজ্জ্বল একটি আংটি বের হয়ে আসলো আংটিটির উজ্জ্বলতা এতই বেশি ছিল যে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের স্ত্রী চোখ যেন জ্বলসে যাচ্ছিল এই অবাক কান্ড দেখে সুলাইমান আলাইহিস সালামের স্ত্রী একেবারেই বিস্মিত
হয়ে পড়লো সে কি করবে কিছুই ঠিক করতে পারছিল না আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম ইতিমধ্যেই সেই মাছটি বিক্রি করে বাজার থেকে ফিরে আসলো তখন তার স্ত্রী তাকে বলল হে আমার প্রাণের স্বামী আজ একটি অভাবনীয় ঘটনা ঘটে গেছে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন কি হয়েছে বলো তখন তার স্ত্রী বলল আপনি আমাকে যেই মাছটি রান্না করার জন্য দিয়ে গিয়েছিলেন আমি যখন তার পেট ফাড়লাম তখন সেই মাছের পেট থেকে একটি আংটি বের হয়ে আসলো সেই আংটির উজ্জ্বলতা এতই বেশি ছিল যে আমার চোখ জ্বলছে যাচ্ছিল এই দেখুন সেই আংটিটি আংটিটি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস
সালাম চিনতে পারলেন এটি তার সেই ঐশি আংটি আর তখন তিনি বুঝতে পারলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এভাবেই তাকে তার রাজ্য এবং ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার তওবা কবুল করেছেন অতঃপর তিনি আংটিটি নিজের আঙ্গুলে পরিধান করলেন আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম আংটি তার আঙ্গুলে পরিধান করার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার জিন পরিদেও দানব তার চারপাশে উপস্থিত হতে লাগলো মুহূর্তেই পরিবেশ পরিবর্তিত হয়ে গেল এসব দৃশ্য দেখে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের স্ত্রী কিছুই বুঝতে পারলো না সে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার অন্তরে ভীতির সঞ্চার হতে লাগলো কারণ ইতিপূর্বে সে কখনোই এত জ্বীন ও দেও
দানব দেখেনি তখন আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন হে আমার প্রাণের স্ত্রী তোমার ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই এরা সবাই আমার তাবেদার ও অনুগত এরা তোমার কোন ক্ষতি করবে না আর তুমি জেনে রাখো আমি এই যুগের নবী সুলাইমান আমি সেই বাদশাহ সুলাইমান যে তোমাদের রাজ্য পরিচালনা করে এরপর আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তার স্ত্রীকে সকল ঘটনা খুলে বলল সকল ঘটনা শুনে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের স্ত্রী আল্লাহ তাআলার দরবারে অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করতে লাগলেন অতঃপর আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তার স্ত্রী এবং শ্বশুরকে নিয়ে তার রাজ্যে ফিরে আসলেন
অতঃপর সাইদুন দোহিতা সেই কাফের রাজকন্যা এবং জিন ফোখরাকে তার সামনে উপস্থিত করা হলো এরপর আল্লাহর সাথে নাফরমানি এবং ধোঁকাবাজির অপরাধে তাদের দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো প্রিয় দর্শক এই ছিল সেই কাহিনী যার কারণে আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম একজন জেলের মেয়েকে বিবাহ করেছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে এই কাহিনী থেকে শিক্ষা লাভ করে আমাদের সুন্দর জীবন গঠন করার তৌফিক দান করুক সকলেই বলুন আমিন [মিউজিক]