[মিউজিক] হযরত মুসা আলাইহিস সালাম একদিন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্যে তুর পাহাড়ের দিকে রওনা হলো তুর পাহাড়ের উপরে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তার গায়েবী আওয়াজের মাধ্যমে মুসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা শুরু করল মুসা আলাইহিস সালাম বললেন হে আল্লাহ আমি জানতে চাই জান্নাতে আমার সাথে কারা থাকবে তখন আল্লাহ তাআলা বললেন হে মুসা এই বনি ইসরাইলের মধ্যে একজন কসাই বসবাস করে যে তোমার সাথে সাথেই জান্নাতে যাবে এবং ওই কসাই তোমার সঙ্গেই থাকবে তখন মুসা আলাইহিস সালাম বললেন হে আল্লাহ আমাকে তুমি একজন নবী বানিয়েছো আমার সঙ্গে নবী রাসূল আল্লাহ ওয়ালার বুজুর্গ দরবেশ জান্নাতের মধ্যে থাকার কথা আমার সঙ্গী হবার
কথা কিন্তু কসাই কেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দয়া করে আপনি আমাকে সেই কসাইয়ের ঠিকানা বলুন আমি যাতে দেখে আসতে পারি সে কি এমন আমল করে যে আমলের কারণে সে আমার সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং আমার সঙ্গে জান্নাতের সঙ্গী হবে তখন মহান আলামীন বললেন হে মুসা আজকে তুমি বাড়ি ফিরে যাও কিছুদিন পরে আমি তোমাকে ডেকে নেব এবং আমি তোমাকে সেই কসাইয়ের ঠিকানা বলে দেব তখন মুসা আলাইহিস সালাম মহান রাব্বুল আলামীনের এই কথা শোনার পরে বাড়ি ফিরে আসলেন এইভাবে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হয়ে গেল একদিন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম কোথাও সফর করার উদ্দেশ্যে রওনা দিল যখন তিনি রাস্তা দিয়ে
যাচ্ছিলেন তখন দেখলেন একজন মহিলা কান্নারত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে মহিলাটি হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে দেখামাত্র তার কাছে আসলো এবং বলল হে আল্লাহর নবী হে আল্লাহর নবী মুসা আপনি কি এখন আল্লাহর সাথে কথা বলার জন্য তুর পাহাড়ে যাচ্ছেন যদি তুর পাহাড়ে যান তাহলে আপনি আল্লাহর সাথে আমার বিষয়ে অবশ্যই বলবেন মহান আল্লাহ তাআলা কেন আমাকে কোন সন্তান সন্ততি দান করেননি আমার বিবাহের কয়েক বছর হয়ে গেল তবু এখনো পর্যন্ত আমি কোন সন্তানের মা হতে পারিনি আল্লাহতালা আমাকে কি কখনো মা হওয়ার ভাগ্য রাখেনি নাকি আমার কোন ভুলের কারণে আল্লাহ আমার সন্তান সন্ততি দান করেন না মুসা আলাইহিস সালাম বললেন ঠিক
আছে অবশ্যই আমি জিজ্ঞেস করব অতঃপর মহিলাটি সেখান থেকে চলে গেল এবার মুসা আলাইহিস সালাম মহিলাটির প্রশ্ন শুনে একটু অবাক হলো তাই তিনি আর অন্য কোথাও সফর করলেন না এবার তিনি আল্লাহর সাথে কথা বলার উদ্দেশ্যে তুর পাহাড়ের দিকে রওনা হলো তুর পাহাড়ের উপরে গিয়ে হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম আল্লাহ তাআলার কাছে প্রশ্ন করল হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমি আসার পথে একজন মহিলাকে কান্নারত অবস্থায় দেখলাম তিনি আমাকে প্রশ্ন করল আমার বিবাহের অনেক বছর হয়ে গেল তবুও কেন আমার কোন সন্তান সন্ততি হয়নি তখন মহান রাব্বুল আলামীন এক গায়েবী আওয়াজের মাধ্যমে হযরত মুসা আলাইহিস সালামের প্রশ্নের জবাবে বললেন হে মুসা
তুমি বলে দিও ওই মহিলার ভাগ্যে কোন সন্তান সন্ততি দান করা হয়নি তাই মহিলাটি বিয়ের এত বছর পরেও মা হতে পারেনি কন্যা বা পুত্র সন্তান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই হয় আল্লাহ যাকে দান করে সেই পেয়ে থাকে অতঃপর হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম এই প্রশ্নের উত্তর শুনে বাড়ির দিকে রওনা হলো বাড়ি আসার পথে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম সেই মহিলাটির কথা মনে পড়লো তাই বাড়িতে না গিয়ে সোজা সেই মহিলাটির বাড়িতে গেল তখন মহিলাটি হযরত মুসা আলাইহিস সালাম কে দেখে অবাক হলেন এবং বললেন হে আল্লাহর নবী মুসা আলাইহিস সালাম আপনি কি আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে এই প্রশ্নের উত্তর জেনে এসেছো
তখন মুসা আলাইহিস সালাম বললেন হ্যাঁ মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন তোমার ভাগ্যে কোন সন্তান দান করেননি তাই তুমি কখনো মা হতে পারবে না এই কথা শোনার পর মহিলাটির চোখ অশ্রু জলে ভরে গেল এবং জোরে জোরে কন্ঠন করতে লাগলো অতঃপর হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম সেখান থেকে চলে আসলেন এই ঘটনার কিছুদিন পর একজন আল্লাহওয়ালার বুজুর্গ ফকির ওই মহিলাটির বাড়ি গেল এবং বলল বাড়িতে কি কেউ আছেন আমি একজন ফকির অনেকদিন থেকে কিছু খাইনি আমার খুব খিদে পেয়েছে দয়া করে আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে কিছু খাবার দান করুন নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমার নিয়ত পূর্ণ করবে অতঃপর মহিলাটি ফকিরের এই কথা শুনে তার
ঘরে আসতে দিল এবং ফকিরকে চারটি রুটি খেতে দিল তখন মহিলাটি বলল আপনি তো আল্লাহর ফকির আপনি একটু আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহতালা আমাকে কোন সন্তান দান করেননি আল্লাহতালা যেন আমাকে সন্তান দান করেন অতঃপর ফকিরটি রুটি খাবার পরে দোয়া করে সেখান থেকে চলে হয়ে গেল এদিকে এই ঘটনার প্রায় কিছু বছর হয়ে গেল একদিন হঠাৎ হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম আবারো কোথাও সফর করছিলেন হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম ওই মহিলাটির বাড়ির কাছ থেকে যাচ্ছিলেন তখন হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লামের ওই মহিলার কথা মনে পড়ে গেল এবার হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম তার বাড়ির কাছে গিয়ে দেখল ওই মহিলাটি ছোট্ট
সন্তান নিয়ে মনের আনন্দে খেলা করছে মহিলাটি হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে দেখে বাইরে চলে আসলো এবং বলল হে আল্লাহর নবী মুসা আলাইহিস সাল্লাম আপনি তো বলেছিলেন আল্লাহতালা আমাকে কোন সন্তান দান করবে না আমার ভাগ্যে তা লেখা হয়নি কিন্তু আল্লাহতালা তো আমার একটা সন্তান দান করেছে এটা শুনে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম একটু অবাক হলেন এবং এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তুর পাহাড়ের দিকে রওনা হলো তুর পাহাড়ের উপরে গিয়ে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনি তো বলেছিলেন ওই মহিলার ভাগ্যে কোন সন্তান লেখা হয়নি ওই মহিলার কোন সন্তান হবে
না কিন্তু আজ আসার সময় দেখলাম ওই মহিলার সন্তান রয়েছে এবং সে তাকে পেয়ে খুব খুশি হয়েছে এই ব্যাপারটি আমি বুঝতে পারিনি অতঃপর মহান রাব্বুল আলামীন এক গায়েবী আওয়াজের মাধ্যমে এই প্রশ্নের উত্তরে বললেন হে মুসা তুমি এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাও তাহলে একটি থালায় মানুষের মাংস নিয়ে এসো তারপর এই প্রশ্নের জবাব পাবে তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহ তাআলার এই হুকুম পাওয়ার পর একটি থালা ও একটি ছুরি নিয়ে সমস্ত লোকের কাছে এসে বলল হে আমার কওমের লোকেরা মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন মানুষের শরীরের মাংস নিয়ে যেতে আপনাদের মধ্যে এমন কি কেউ আছেন যে এই থালায় নিজের
শরীরের মাংস কেটে দেবে কিন্তু হযরত মুসা আলাইহিস সালামের এই কথায় কেউ রাজি হলো না অতঃপর সবাই সেখান থেকে একে একে চলে গেল তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম অত্যন্ত চিন্তিত এবং পেরেশানি হয়ে এদিক ওদিক ঘুরছিল হযরত মুসা আলাইহিস সালাম যখন মানুষের মাংস না পেয়ে বাড়ির দিকে ফিরে যাচ্ছিলেন তখন হঠাৎ একজন বুজুর্গ ফকির পিছন থেকে ডেকে বলল হে আল্লাহর নবী মুসা তোমার কি হয়েছে তোমাকে এমন চিন্তিত এবং পেরেশানি দেখাচ্ছে কেন তখন মুসা আলাইহিস সাল্লাম সেই ফকিরের কাছে এসে বলল মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে মানুষের শরীরের মাংস নিয়ে যেতে বলেছে কিন্তু কোন মানুষেই নিজের শরীরের মাংস কেটে দিতে
রাজি হলো না বরং সবাই মুখ ফিরিয়ে চলে গেল তখন বুজুর্গ ওই ফকির হযরত মুসা আলাইহিস সালামের মুখে এই কথা শোনা মাত্রই তার কাছ থেকে ছুরি নিয়ে নিজের শরীর থেকে একটু একটু মাংস কেটে হযরত মুসা আলাইহিস সালামের কাছে দিয়ে দিল এবং ওই বুজুর্গ ফকির সেখান থেকে চলে গেল এটা দেখে হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম ভীষণ অবাক হয়ে গেলেন অতঃপর মুসা আলাইহিস সাল্লাম ওই মানুষের মাংস নিয়ে আবারো তুর পাহাড়ের উপরে গেল এবং মুসা আলাইহিস সালাম বলল হে আল্লাহ তাআলা আমি মানুষের মাংস নিয়ে এসেছি কিন্তু এই মাংস যার যার কাছে গিয়ে দিতে বলেছি সব মানুষের মুখ ফিরিয়ে চলে গেল
শুধুমাত্র একজন বুজুর্গ ফকির আল্লাহর নাম শোনা মাত্রই তার শরীরের মাংস কেটে আমার কাছে দিয়ে দিল তখন মহান রাব্বুল আলামীন এক গায়েবী আজের মাধ্যমে হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে বললেন হে মুসা এই মাংসের জন্য সব মানুষের কাছে যাওয়া তো দরকার ছিল ছিল না তুমি তো যথেষ্ট ছিলে এর মাধ্যমে তুমি তোমার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছো যে বুজুর্গ ফকিরটি আল্লাহর নাম শোনা মাত্রই নিজের শরীরের মাংস কেটে দিয়েছে ওই ফকিরটির দোয়া করার জন্যই সেই মহিলার সন্তান দান করেছি হে মুসা যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় সবকিছু উৎসর্গ করে দেয় সবকিছু দান করে দেয় আল্লাহ তাআলা তাকে সব দেয় এমনকি লেখা ভাগ্যকেও পরিবর্তন
করে দেয় শুধুমাত্র তার কারণে অতঃপর হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম এই উত্তর শোনার পর বাড়িতে চলে আসলেন এরপর কিছুদিন অতিবাহিত হয়ে গেল একদিন হযরত মুসা আলাইহিস সালামের মনে পড়ে গেল আল্লাহ তাআলা বলেছিলেন কসাই তার সাথে জান্নাতের সঙ্গী হবে এই প্রশ্নের জবাব জানার জন্য হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম আবারো তুর পাহাড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হলো তুর পাহাড়ে গিয়ে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বললেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনি বলেছিলেন কসাই মুসার সাথে জান্নাতের সঙ্গী হবে আমি জানতে চাই সেই কসাই কি এমন আমল করে যে আমলের কারণে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে অতঃপর মহান আল্লাহ তাআলা গায়েবি আওয়াজের মাধ্যমে সেই কসাইয়ের ঠিকানা বলে
দিলেন অতঃপর পরের দিন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম একটি প্রতীক সেজে সেই কসাইয়ের দোকান থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে বিষয়টি লক্ষ্য করতে লাগলেন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম লক্ষ্য করলেন যে ওই কসাইয়ের তেমন তো কোন গুরুত্বপূর্ণ আমল দেখতে পাচ্ছি না কসাই শুধু মাংস কেটে তার মধ্যে যেগুলি সবথেকে ভালো ওই মাংসগুলোকে একটু একটু করে তার সাইডে রেখে দেয় কিছুক্ষণ পরে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম দেখলেন কসাই এই মাংসগুলোকে নিয়ে তার বাড়ির পথে রওনা দিলেন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম কসাই এর পিছন পিছন রওনা দিলেন এক পর্যায়ে কসাই তার বাড়িতে পৌঁছে গেলেন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম দূর থেকে তার বাড়ি লক্ষ্য করে
সেদিনের মতো সেখান থেকে চলে গেলেন পরের দিন হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম আবারো সেই কসাইয়ের বাড়িতে গেলেন এবং বললেন বাড়িতে কেউ কি আছেন আমি একজন মুসাফির কিন্তু বাড়ির ভিতর থেকে কোন উত্তর এলো না তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ভাবলো আসলেই বাড়িতে কেউ নেই অতঃপর হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম আবারো সেই কসাইয়ের দোকানের পাশে উপস্থিত হলেন দূর থেকে লক্ষ্য করলেন কসাই যখন মাংস কেটে একটি ভালো মাংসের টুকরো তার পাশে রেখে দিল তখন একজন ক্রেতা বলল ভাই কসাই আমাকে তোমার পাশে থাকা ওই মাংসের টুকরোটা দাও বিনিময়ে আপনাকে অতিরিক্ত দাম দেবো তখন কসাই বলল আপনি আমার যতই দাম দেন না
কেন এই মাংসের টুকরাটুকু আমি দেবো না কেননা এটি আমার বাড়িতে নিয়ে যাব তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম মনে মনে ভাবলো বাড়িতে তো কেউ নেই কসাইকে যখন ক্রেতা মাংসের বিনিময়ে অতিরিক্ত দাম দেওয়া সত্ত্বেও কসাই কেন মাংস দিচ্ছে না এটা হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বুঝতে পারলেন না অতঃপর ক্রেতা যখন মাংস নিয়ে চলে গেল তার কিছুক্ষণ পর কসাই তার দোকান বন্ধ করে পাশে রাখা ওই মাংস টুকরো একটি ব্যাগে করে তার বাড়ির দিকে রওনা হলেন এটা দেখে হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম কসাই এর পিছু-পিছু রওনা হলেন কসাই যখন তার বাড়িতে উপস্থিত হলেন এমন সময় হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম ঘরের বাইরে
থেকে আওয়াজ দিয়ে বললেন বাড়িতে কেউ কি আছেন আমি একজন মুসাফির বলছি তখন কসাই বাইরে এসে হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলেন ভাই আপনি কে আপনাকে তো আমি ঠিক চিনতে পারছি না তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বললেন আমি একজন মুসাফির আজ রাতটুকু আপনার বাড়িতে আমাকে কি আশ্রয় দেবেন কাল সকাল হলেই আমি আমার গন্তব্যে রওনা দেবো তখন কসাই বললেন নিশ্চয়ই দেবো আসুন আমার বাড়ির ভিতরে আসেন বাড়ির ভিতরে গিয়ে কসাই বললেন ওহে মুসাফির ভাই আপনি এখানে বসুন পাশের ঘরে আমার একটু কাজ আছে এই বলে কসাই ওই ঘর থেকে পাশের ঘরে চলে গেলেন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম দেখলেন পাশের
ঘরে গিয়ে কসাই একা একা রুটি করছে এবং মাংস রান্না করছে অতঃপর কিছুক্ষণ পর হযরত মুসা আলাইহিস সালাম দেখলেন কসাই এক ঘরের কোণ থেকে একটি ঝুড়ি থেকে একজন বয়স্ক বৃদ্ধাকে আস্তে আস্তে আদবের সাথে নিয়ে আসছে তারপর ওই মাংস রুটি বয়স্ক বৃদ্ধাকে খুব স্নেহের সাথে খাইয়ে দিচ্ছে ঠিক যেন একটি ছোট্ট শিশুকে তার মা স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে খাইয়ে দেয় ঠিক তেমনি কসাই ওই বয়স্ক বৃদ্ধাকে খাইয়ে দিচ্ছেন অতঃপর কিছুক্ষণ পর কসাই কিছু মাংস রুটি নিয়ে হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন ওহে মুসাফির ভাই এই নাও আপনার খাবার আপনার খাবার দিতে আমার একটু দেরি হয়ে গেল আসলে আমার
একটু কাজ ছিল এইজন্যই আপনাকে আগে খাবার দিতে পারিনি তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বললেন আগে বলেন এই বৃদ্ধা মহিলাটিকে তখন কসাই বললেন এই বৃদ্ধা হলো আমার মা আমার মা ছাড়া এই দুনিয়ায় আমার আর কেউ নাই আমি ছাড়া আমার মায়ের এই দুনিয়ায় আর কেউ নেই আমার মা বৃদ্ধা হয়ে গেছে ভালো করে চলাফেরা করতে পারে না ভালো করে খেতেও পারে না তাই আমি প্রতিদিন দোকান থেকে ভালো ভালো নরম মাংসের টুকরা গুলো রেখে দেই এবং বাড়িতে এসে মাকে রান্না করে খাইয়ে দেই এই কথা বলার পর কসাই সেখান থেকে চলে গেলেন হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম কষায়ের মায়ের প্রতি এমন
ভক্তি এবং স্নেহ ভালোবাসা দেখে বিস্ময় হতবাক হলেন অতঃপর হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম পাশের ঘর থেকে লক্ষ্য করে দেখলেন তার বৃদ্ধা মা চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কান্না করে দুটি হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করতে লাগলেন ওগো আল্লাহ তুমি রহমানির রহিম গফুর আর রহিম সবই খবর রাখো পৃথিবীতে এমন কিছু নাই আল্লাহ গো যার খবর তুমি রাখো না আমার ছেলে কসাইয়ের সেবায় আমি খুশি আল্লাহ গো মা হয়ে আমি তোমার দরবারে দোয়া করে বলছি শুনেছি এই বনি ইসরাইলের সবচেয়ে বড় পয়গম্বর হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম হে আল্লাহ দয়া করে মেহেরবানী করে আমার এই ছেলে কসাইকে হযরত মুসা আলাইহিস সালামের সাথে
জান্নাতে দিয়ে দিও অতঃপর হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বাড়িতে না গিয়ে তুর পাহাড়ের দিকে গেলেন তুর পাহাড়ের উপরে গিয়ে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বললেন হে আল্লাহ আমি কসাই এর বাড়িতে গিয়ে দেখলাম কসাই শুধুমাত্র তার মায়ের অতি ভক্তি সেবা ছাড়া আর তেমন কিছুই দেখতে পায়নি তখন এক গায়েবী আওয়াজের মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম কে বললেন হে মুসা তুমি জেনে রাখো যে আমলের কারণে কসাই তোমার সাথে জান্নাতে যাবে সেটা হলো তার মায়ের অতিভক্তি ও মায়ের সেবা কসাইয়ের মা কান্না করে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে তার ছেলে কসাই এর জন্য দুটি হাত তুলে দোয়া করেছে কসাই
যেন নবী মুসার সাথে জান্নাতে যেতে পারে আল্লাহতালা কখনো মায়ের দোয়া ফেরত দেয় না হে মুসা কসাইয়ের আসল আমল হলো তার মায়ের প্রতি এমন ভক্তি সেবা এবং মায়ের প্রতি এমন স্নেহ ভালোবাসা যার কারণে কসাই তোমার সাথে জান্নাতে যাবে এমনিভাবে বয়ে যায় সময়ের পর সময় ইতিমধ্যে আল্লাহ তাআলার দেওয়া সমস্ত আদেশ দায়িত্ব সহকারে পালন করেছে এবার বিশ্রামের পালা তাছাড়া হযরত মুসা আলাইহিস সালামের বয়স হয়েছে অনেক হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম মনে মনে অতীতের অনেক কথা ভাবছেন এমন সময় হঠাৎ করে মালাকাল মউত আজরাইল ফেরেশতা হাজির হলেন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তখন আজরাইল ফেরেশতাকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি কি আমার জান কবজ
করার জন্য এসেছেন আজরাইল ফেরেশতা বললেন জি হাত তাআলার নির্দেশ অনুসারে আপনার এবারে জান কবজ করার সময় হয়ে গিয়েছে তখন মুসা আলাইহিস সালাম বললেন আপনি কি আমার জান মুখ থেকে বার করে নেবেন অথচ আমি এই মুখ দিয়ে সরাসরি আল্লাহ তাআলার সাথে কথা বলেছি তখন আজরাইল আলাইহিস সালাম বললেন তাহলে চোখ দিয়ে বার করে নেব তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বললেন এই চক্ষু দ্বারা আমি আল্লাহ তাআলার নূর দর্শন করেছি এবার আজরাইল আলাইহিস সালাম বললেন তবে নাক দিয়ে জান বের করে নেব তখন মুসা আলাইহিস সালাম বললেন আল্লাহর দিদারের মুহূর্তে বেহেশতি পরিবেশের সুঘ্রাণ আমি নাক দ্বারা নিয়েছি তখন আজরাইল আলাইহিস
সালাম বললেন আমি এত কথার জবাব দিতে আসিনি আমার যেভাবে ইচ্ছা আমি সেভাবেই জান কবজ করে নেব হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম আজরাইল ফেরেশতার কথায় প্রচন্ড রেগে গেলেন এবং হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম খুব জোরে আজরাইল ফেরেশতাকে থাপ্পড় মারলেন ফলে আজরাইল ফেরেশতার চক্ষু দুটি বার হয়ে গেল তখন আজরাইল ফেরেশতা সাথে সাথে আল্লাহ তাআলার দরবারে চলে গেলেন এবং আল্লাহ তাআলার সাথে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন আল্লাহ তাআলা তখন আজরাইল ফেরেশতার চক্ষু দুটি ঠিক করে দিয়ে বললেন আমার নবীদের মধ্যে মুসার নাই এত গরম মেজাজ আর কোন নবীর নেই অতএব তার জান কবজের বিষয় আমি দেখব তোমার আর তার কাছে যে হবে
না কয়েকদিন পর ওহীদ দ্বারা আল্লাহ তাআলা মুসা আলাইহিস সালাম কে বললেন হে মুসা তুমি যদি একটি মেষের পশমের সংখ্যা পরিমাণ হায়াতের আরজি করো তাহলে তা পূরণ করে দেব তুমি পৃথিবীতে যত বছর বাঁচার আশা করবে তত বছর বাঁচতে পারবে একথা শুনে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বললেন তাহলে তো তারপরেই অবশ্যই মৃত্যুবরণ করতে হবে আর এই দীর্ঘ বছর পৃথিবীতে কষ্ট করে বেঁচে থাকতে হবে যেমনটা আগে হয়েছে অতএব সবচেয়ে নিরাপদ স্থান আল্লাহতালা তার সান্নিধ্য লাভ এটি অনেক উত্তম তিনি বললেন হে আল্লাহ নির্ধারিত হায়াতের পরে আমি তোমার সান্নিধ্য লাভ করতে চাই আমি যে তোমাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি তোমার নৈকট্য আমার
কামনা হে আল্লাহ আমার মৃত্যুর পূর্বে আর একবার তুর পাহাড়ে তোমার দর্শন দাও এই আবেদনটুকু তুমি কবুল করো তখন আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আলাইহিস সালামের আবেদন মঞ্জুর করলেন আল্লাহ তাআলা তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে তুর পাহাড়ে যেতে বললেন তখন আল্লাহ তাআলা তুর পাহাড়ে নূর দর্শন করালেন এবং কথা বললেন সর্বশেষে হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম আল্লাহর দরবারে দোয়া করে বললেন হে আল্লাহ আমাদের কওমের প্রতি কোন গজব নাযিল না করে আমাদের রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দিন এবং তাদেরকে রুজি রুটির ব্যবস্থা করুন তারা যেন অনাহারে মৃত্যুবরণ না করে আল্লাহতালা হযরত মুসা আলাইহিস সালামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বললেন আল্লাহতালা ঈমানদার নফরমান কাফের সমস্ত
জীবজন্তুর প্রতিপালক আল্লাহ কখনো কাউকে অনাহারে রাখেন না যে যেখানে যে অবস্থায় থাকুক না কেন আল্লাহ তার রিজিক সেখানেই পৌঁছে দেয় এই কথা বলার পর আল্লাহতালা তখন মুসা আলাইহিস সালামকে পাহাড়ের উপরে আঘাত করতে বললেন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম পাহাড়ের উপরে আঘাত করলেন তখন সেখান থেকে একটি নদী হয়ে গেল নদীর উপর পুনরায় আঘাত করতে বললেন আঘাত করার পর দেখলো নদীর উপর দিয়ে একটি পাথর ভেসে আসছে আল্লাহতালা তখন পাথরের উপর পুনরায় আঘাত করতে বললেন হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম পাথরের উপর আঘাত করার পর দেখলো পাথরের মধ্য থেকে একটি ফোরিং বার হয়ে আসছে এই ফোরিং এর মুখে ছিল এক টুকরো
কাঁচা ঘাস এই দৃশ্য দেখে হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম সিজদায় পড়ে গেল কিছুক্ষণ পর হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লামকে সালাম প্রদান করে বিদায় দেওয়া হলো হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম তুর পাহাড় থেকে নেমে একটু দূরে গিয়ে দেখলেন সাতজন লোক একটি কবর খুরছে তখন হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করল ভাই তোমরা এই নির্জন এলাকায় কার কবর খুঁজছো তারা বলল আপনার নাই একজন মহান ব্যক্তির কবর খুঁড়ছি আপনিও আমাদের সাথে এই সওয়াবের কাজে শরিক হতে পারেন তখন মুসা আলাইহিস সাল্লাম তাদের সাথে কিছুটা কবর খোঁড়ার কাজ করলেন তাদের মধ্যে একজন বলল হে আল্লাহর নবী মুসা আলাইহিস সাল্লাম আমরা যার জন্য এই
কবর খরছি সেও আপনার ন্যায় অতএব কবরটি মাপার জন্য আপনি একবার শুয়ে পরীক্ষা করে দেখুন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তাদের কথায় কবরে নেমে শুয়ে পড়লেন এবং বললেন হে আল্লাহ কত নিচু এই জায়গাটি তুমি এই জায়গাটি আমার জন্য কবুল করো হযরত মুসা আলাইহিস সালামের দোয়া করার সাথে সাথে একটি ফেরেশতা এসে তাকে একটি আপেল খেতে দিল বিসমিল্লাহ বলে যখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আপেলটা খেতে শুরু করল আর তখনই মুসা আলাইহিস সালামের জান কবজ হয়ে গেল তখনই ওই ফেরেশতা হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে উঠিয়ে গোসল করালেন জানাজা পড়ালেন এবং তাকে পুনরায় ওই কবরেই দাফন করলেন আসসালামু আলাইকুম