একুদা হারুনুর রশিদ ও তার স্ত্রী জুবায়দা নদীর কিনার দিয়ে হাঁটছিলেন বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার পর তারা দেখতে পেলেন নদীর পাড়ে বসে বাহলুল দরবেশ কি যেন করছে তারপর বাদশাহ হারুনুর রশিদ একটু এগিয়ে যেয়ে জিজ্ঞেস করলেন হে বাহলুল তুই এখানে বসে কি করছিস বাহলুল দরবেশ বলল আমি জান্নাতের বালাখানা বানাচ্ছি হারুনুর রশিদ জিজ্ঞেস করলেন জান্নাতের বালাখানা কার জন্য বাহলুল দরবেশ বলল যে এই বালাখানা খরিদ করবে তার জন্য যদি কেউ এ বালাখানা খরিদ করে আমি তার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করব যেন আল্লাহপাক তাকে একটি জান্নাতির বালাখানা দান করেন হারুনুর রশিদ তখন জিজ্ঞেস করলেন একটি বালাখানার দাম কত বাহলুল
দরবেশ বলল একদিন আর তখন হারুনুর রশিদ তার স্ত্রীর দিকে তাকালেন এবং বললেন দেখছো পাগলটা এখানে বসে কি কান্ড করছে সে নাকি দুনিয়াতে থেকে মানুষের জন্য জান্নাতের বালাখানা বানাচ্ছে আমি তার এ কথা বিশ্বাস করি না জুবাইদা হারুনুর রশিদের কথায় কান না দিয়ে বাহলুল দরবেশকে জিজ্ঞেস করলেন বাহলুল তুমি এখানে কি করছো বাহলুল দরবেশ আবারো বলল আমি জান্নাতের বালাখানা বানাচ্ছি জুবাইদা বললেন কার জন্য বাহলুল দরবেশ বলল যে এই বালাখানা খরিদ করবে তার জন্য যদি কেউ আমার এই বালাখানা খরিদ করে আমি তার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করব আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে যেন জান্নাতের বালাখানা দান করেন জুবাইদা
বললেন একটি বালাখানার দাম কত বাহলুল দরবেশ বলল একদিনার তখন জুবাইদা বাহুল দরবেশকে এক দিনার দিয়ে তার কাছ থেকে একটি জান্নাতের বালাখানা খরিদ করলেন এরপর হারুনুর রশিদ ও জুবায়দা সামনে চলতে লাগলেন হারুনুর রশিদ তখন জুবায়দাকে লক্ষ্য করে বললেন জুবাইদা তুমি অযথা একদিন আর নষ্ট করলে এই পাগলের কথায় কি কোন যুক্তি আছে সে তো একজন পাগল তার যা ইচ্ছা তাই করবে এরপর রাতের বেলায় হারুনুর রশিদ গভীর ঘুমে অচেতন অবস্থায় ছিলেন তখন তিনি স্বপ্নে দেখতে পেলেন তিনি জান্নাতের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করছেন কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার পর তিনি দেখতে পেলেন জান্নাতের মধ্যে ইয়াকুত পাথরে নির্মিত একটি অট্টালিকা তারপর তিনি এই অট্ট্রালকার
কাছে এসে দেখতে পান সেখানে তার স্ত্রী জুবায়দার নাম লেখা রয়েছে জুবায়দার নাম লেখা দেখে তিনি অট্রালকার ভেতর প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন তখন সেই অট্টালিকার দারোগা তাকে আটকে দিয়ে বললেন জনাব এখানে প্রবেশ করা যাবে না হারুনুর রশিদ বললেন কেন এটা তো আমার স্ত্রীর অট্রালিকা তাহলে আমি প্রবেশ করতে পারবো না কেন তখন দারোগা বলল জি না আপনি কোনভাবেই এই অট্টালিকায় প্রবেশ করতে পারবেন না বরং এটি যার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে কেবল তারই অধিকার আছে এখানে প্রবেশ করার অতঃপর সেই রক্ষক হারুনুর রশিদকে দূর-দূর করে তাড়িয়ে দিল এর সাথে সাথেই হারুনুর রশিদের ঘুম ভেঙে গেল সকালে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন জুবায়দা
তুমি কি এমন আমল করো যার কারণে আমি আজ রাতে স্বপ্নে দেখলাম জান্নাতে তোমার জন্য একটি অট্টালিকা নির্মাণ করে করা হয়েছে জুবায়দা বলল কই আমার তো তেমন বিশেষ কোন আমলের কথা মনে হচ্ছে না কিন্তু হে প্রিয় স্বামী আপনার কি মনে আছে বাহলুল দরবেশ জান্নাতের বালাখানা বিক্রি করেছিল আমি তার কথায় বিশ্বাস করে একদিন আর দিয়ে বালাখানা ক্রয় করেছিলাম কিন্তু আপনি তার কথাকে উপেক্ষা করে বালাখানা ক্রয় করেননি আমার তো মনে হয় বাহলুলের কাছ থেকে ক্রয় করা সেই বালাখানায় আপনি জান্নাতে দেখেছেন হারুনুর রশিদ তখন বুঝতে পারলেন তিনি কত বড় ভুল করেছেন এরপর তিনি পুনরায় নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে লাগলেন
এই আশায় যে আজকেও যদি বাহলুলকে পেয়ে যান বাহলুলের কাছ থেকে একটি জান্নাতের বালাখানা ক্রয় করবেন হাঁটতে হাঁটতে আবার তার সাথে বাহলুল দরবেশের দেখা হয়ে গেল তিনি গতকালের মতো আজও কি জানি নির্মাণ করছিলেন হারুনুর রশিদ তখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন বাহলুল তুই কি করছিস বাহলুল দরবেশ বলল আমি জান্নাতের বালাখানা নির্মাণ করছি হারুনুর রশিদ বললেন আজকের এই বালাখানা কার জন্য নির্মাণ করছিস বাহল দরবেশ বলল যে এই বালাখানা ক্রয় করবে তার জন্য কেউ যদি আমার এই বালাখানা ক্রয় করে আমি তার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করব আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতের একটি বালাখানা দান করেন তখন হারুনুর রশিদ জিজ্ঞেস
করলেন তোমার এই বালাখানার দাম কত বাহলুল বলল এই দুনিয়ার বাদশাহী একথা শুনে হারুনুর রশিদ বলল বাহলুল এ কেমন কথা বলছিস তুই গতকাল এক দিরহামের বিনিময়ে একটি বালাখানা বিক্রি করেছিলি আর আজকে এর মূল্য পুরো দুনিয়ার বাদশাহী বাহলুল বলল দেখুন বাদশা কালকে জুবায়দা আমার কাছ থেকে যে বালাখানা ক্রয় করেছিল তা না দেখে এবং বিশ্বাস করে আর আজকে আপনি বালাখানা ক্রয় করছেন দেখার মাধ্যমে অতএব আজকে এর দাম বেড়ে গেছে হারুনুর রশিদ বললেন হে বাহলুল আমি যে স্বপ্নে এই বিষয়টি দেখেছি তুই সেটি কিভাবে জানতে পারলি বাহলুল বলল আল্লাহ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি আমার দোয়ার বদৌলতে জুবায়দার জন্য জান্নাতে একটি
বালাখানা নির্মাণ করেছেন অতঃপর হারুনুর রশিদ নিরাশ হয়ে বাহলুলের কাছ থেকে ফিরে আসলেন তিনি আর জান্নাতের বালাখানাটি তার কাছ থেকে ক্রয় করতে সম্মত হলেন না কেননা পুরো দুনিয়ার বাদশাহী তো তার কাছে ছিল না অপর একটি ঘটনা একোদা বাগদাদের বাজারে এক ফকির বিচরণ করছিল সে হাঁটতে হাঁটতে দেখতে পেল এক জায়গায় এক বাবুর্চি সুস্বাধু তরকারি রান্না করছে সেই তরকারির খুশবু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে যার নাকে সেই খুশবু যাচ্ছে সেই ব্যক্তি তরকারি খাওয়া জন্য আকৃষ্ট হয়ে যাচ্ছে উক্ত ফকির সেই তরকারির পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তার নাকেও সেই তরকারির ঘ্রাণ আসলো তার মনে প্রবল আকাঙ্ক্ষা জাগলো যে তার কাছে রাখা
রুটিগুলো এই তরকারি দিয়ে সে খাবে কিন্তু তার কাছে এত পরিমাণ টাকা ছিল না যে টাকাগুলো দিয়ে তরকারি ক্রয় করবে যেহেতু ফকিরের কাছে ক্রয় করার মতো এত টাকা ছিল না তাই সে তার মনকে বোঝানোর জন্য সেই তরকারির ডেগের পাশে বসে গেল সেই তরকারির ঘ্রাণ নাকি নিয়ে রুটিগুলো খেতে লাগলো আর মনে মনে ভাবতে লাগলো আমি তো তরকারি খাচ্ছি এদিকে বাবুর্চি ফকিরের তরকারি খাওয়ার এই দৃশ্যটি দেখছিল ফকির যখন তার ব্যাগে রাখা সবগুলো রুটি খেয়ে সেখান থেকে বিদায় নিচ্ছিল বাবুর্চি তাকে পাকড়াও করে বলল এই ব্যাটা যাচ্ছিস কোথায় টাকা দিয়ে যা ফকির বলল ওহে বাবর্চি ভাই আমি কিসের টাকা দেবো
আমি তো তোমার তরকারি খাইনি বাবর্চি বলল তরকারি খাসনি তো কি হয়েছে তরকারির ঘ্রাণটা তো নিয়েছিস তার টাকা দিয়ে যা ফকির বলল দেখ বাবুর্চি ভাই আমি একজন দরিদ্র অসহায় মানুষ আমার কাছে তরকারি ক্রয় করার মতো টাকা ছিল না তাই আমি আমার মনকে প্রবোধ দেয়ার জন্য তোমার তরকারির ডেগের পাশে বসে সেই ঘ্রাণ নিয়ে আমার রুটিগুলো খেয়েছি তাতে তোমার তো কোন ক্ষতি হয়নি এবং তোমার তরকারি তো ভক্ষণ করিনি তাহলে আমি তোমাকে কিসের টাকা দেবো বাবুর্চি বলল আমি এত কথা বুঝি না তুই আমাকে বিল দিয়ে যাবি এটাই আমার শেষ কথা বাবুর্চি আর ফকিরের ঝগড়ার কারণে তাদের আশেপাশে অনেকগুলো মানুষ
ভিড় জমালো এর মধ্যে সেখানে বাহলুল দরবেশ এসে উপস্থিত হলো বাহলুল সেখানে ফকিরকে জিজ্ঞেস করল হে আল্লাহর বান্দা কি হয়েছে কে সে তোমাকে পাকড়াও করে রেখেছে ফকির বলল দেখুন জনাব আমি আমার ব্যাগে থাকা রুটিগুলো বাবর্চির ডেগের পাশে বসে খেয়েছি এবং তার তরকারি থেকে কিছুটা ঘ্রাণ নিয়েছি আমার এটা করার কারণ ছিল তার তরকারি ক্রয় করার মত টাকা আমার কাছে ছিল না আবার সে তরকারি খেতে আমার মন চাচ্ছিল যেহেতু আমার কাছে টাকা ছিল না আবার তরকারি খেতে ইচ্ছে করছিল তাই আমি তরকারির ঘ্রাণ নিয়ে আমার রুটিগুলো খেয়েছি এখন এই বাবুর্চি বলছে তার তরকারির ঘ্রাণ নেয়ার জন্য নাকি আমাকে বিল
দিতে হবে বাহলুল বলল ও একথা তাহলে আমি তাকে বিল দিয়ে দিচ্ছি এরপর বাহলুল তার ব্যাগ থেকে কতগুলো দিনার বের করে মাটিতে ফেলে দিতে লাগলো দিনার গুলো মাটিতে পতিত হওয়ার কারণে সেগুলো থেকে একটি শব্দ সৃষ্টি হলো বাহলুল তখন বাবুর্চিকে লক্ষ্য করে বলল হে এই বাবর্চি এই নাও তুমি তোমার বিল নাও এই যে দিনার গুলো মাটিতে পড়ার কারণে শব্দগুলো হচ্ছে সেই শব্দগুলোকে তুমি তোমার পকেটে নিয়ে নাও বাবর্চি বলল এটা আবার কেমন বিল পরিশোধ করলে আমি দিনার চাই দিনারের শব্দ না বাহলুল বলল তরকারির ঘ্রাণ নেয়ার কারণে যদি বিল দিতে হয় তাহলে দিনারের শব্দ দ্বারা পরিশোধ করতে হবে তরকারির
বিল হবে দিনার দিয়ে আর তরকারির ঘ্রাণের বিল হবে শব্দ দিয়ে অতএব যাও তুমি তোমার পকেটে দিনারের শব্দগুলো ভরে নিয়ে যাও এটাই তোমার বিল বাহলুলের কথা শুনে উপস্থিত সকলে মুচকি হাসি দিল আর বাবুর্চি সেখান থেকে মাথা নিচু করে চলে গেল একবার খলিফা হারুনুর রশিদ বাহলুল দরবেশের কাছে একটি লাঠি দিয়ে বললেন বাহলুল লাঠিটি তোকে দিলাম এই দুনিয়াতে যে ব্যক্তিকে তোর কাছে মনে হবে সবচেয়ে আহাম্মক তুই তাকে এই লাঠিটি প্রদান করবি বাহলুল লাঠিটি খলিফা হারুনুর রশিদের কাছ থেকে অত্যন্ত আদবের সাথে গ্রহণ করল অতঃপর খলিফার দরবার থেকে প্রস্থান করল এর কিছুদিন পর খলিফা হারুনুর রশিদ অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়লেন
অসংখ্য ডাক্তার কবিরাজের চিকিৎসার পরও তার সুস্থতার কোন লক্ষণ দেখা গেল না সকল চিকিৎসকরা যখন অপারগতা প্রকাশ করল বাহলুল দরবেশ তখন খলিফার চিকিৎসার জন্য তার দরবারে উপস্থিত হলো বাহলুল খলিফার দরবারে উপস্থিত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল খলিফা কি অবস্থা আপনার খলিফা হারুনুর রশিদ বললেন বাহলুল কি আর বলবো আমাকে একটি দীর্ঘ সফরে যেতে হবে বাহলুল বলল কোথায় সেই সফর খলিফা হারুনুর রশিদ বললেন আখেরাতের সফর বাহলুল বলল আচ্ছা কতদিন পর সেই সফর থেকে ফিরে আসবেন খলিফা হারুনুর রশেদ বললেন বাহলুল এ কেমন আহামকের মত প্রশ্ন করছো আখেরাতের সফর থেকে কি কোন মানুষ ফিরে আসে এরপর বাহলুল দরবেশ বলল ও আচ্ছা
সেই সফর কেউ ফিরে আসে না তাহলে কি সেই সফরের জন্য আপনি পূর্ব থেকে শূন্য সামান্তর পাঠিয়েছেন খলিফা হারুনুর আবার বললেন হে বাহলুল আখেরাতের সফরে কি কোন শূন্য সামন্ত পাঠানো যায় বাহলুল তখন জিজ্ঞেস করলেন খলিফা আপনার সাথে কে কে যাবে খলিফা হারুনুর রশিদ বললেন আমি একাই যাব আমার সাথে আর কেউ যাবে না আমার সাথে আর কে যাবে অতঃপর বাহলুল তার ব্যাগ থেকে একটি লাঠি বের করে বলল বাদশাহ এটা রাখুন আপনার আমানত আপনি রাখুন এই লাঠিটি একদিন আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন এই পৃথিবীতে যাকে আমার সবচাইতে বেশি আহাম্মক ও বোকা মনে হয় আমি যেন তাকে লাঠিটি
প্রদান করি এখন আমি এই লাঠিটি আপনাকে প্রদান করছি হারুনুর রশিদ বললেন হে বাহলুল এই দুনিয়াতে কি আমাকে সবচাইতে আহাম্মক বলে মনে হয় বাহলুল বলল জি খলিফা আমি আপনাকে সবচাইতে আহাম্মক বলে মনে করি দুনিয়ায় আপনি যখন কোন সফরে যান তার পূর্বে অসংখ্য সৈন্য সামন্ত প্রেরণ করেন অতঃপর আপনি যখন সফরে রওয়ানা করেন আপনার সাথে অসংখ্য সৈন্য সামন্ত নিয়ে যান শুধু সৈন্য সামন্ত নয় আপনার সাথে থাকে অসংখ্য অর্থকরী ও অন্যান্য সাহায্যের ব্যবস্থা অতঃপর কিছুদিনের মধ্যেই আপনি সেই সফর থেকে আবার ফিরে আসেন অথচ এই দুনিয়ায় সামান্য সফরের জন্য আপনি এত প্রস্তুতি গ্রহণ করেন কিন্তু আখেরাতের দীর্ঘ সফরের জন্য আপনি
কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করেননি সেই সফরের জন্য কোন আমল প্রেরণ করেননি আপনি আপনার সাথে করে কোন আমল নিয়ে যাচ্ছেন না তাহলে আপনিই বলুন বাদশা এই দুনিয়াতে আপনার চাইতে বড় আহাম্মক আর কেউ কি আছে হারুনুর রশিদ বাহলের কাছ থেকে এ জবাব শুনে একেবারে নির্বাক হয়ে গেলেন অতঃপর হারুনুর রশিদ যতদিন এই পৃথিবীতে জীবিত ছিলেন ততদিন আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীনের একনিষ্ঠ বান্দা হয়ে এবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে বাকি জীবন অতিবাহিত করেছিলেন একবার এক ব্যবসায়ী অতি আদবের সাথে বাহলুল দরবেশের কাছে এসে বলল দরবেশ বাবা আমাকে এমন কিছু কথা বলে দিন যেই জিনিসটি ক্রয় করলে আমি অল্পদিনের মধ্যেই অনেক মুনাফা কামিয়ে ধনী ব্যক্তিতে
পরিণত হতে পারবো তখন বাহরুল দরবেশ তাকে বলে দিলেন তুমি কালো কাপড় ক্রয় করো এরপর ব্যবসায়ী বাহরুল দরবেশের কথামতো পুরো বাজার থেকে কালো কাপড় ক্রয় করা শুরু করে দিল এর কিছুদিন পরেই ওই এলাকায় একজন সম্মানিত ব্যক্তি ইন্তেকাল করল মানুষ তার ইন্তেকালের সুখ প্রকাশের জন্য কালো কাপড় খুঁজতে লাগলো কিন্তু পুরো বাজারের কালো কাপড়গুলো একজন ব্যবসায়ীর কাছে ছিল তাই সকলেই তার কাছে এসে ভিড় জমালো আর ব্যবসায়ী অতি চড়া মূল্যে ওই কাপড়গুলি বিক্রি করল এর মাধ্যমে সে সে এত মুনাফা কামালো যে কিছুদিনের মধ্যেই সে অনেক ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়ে গেল তার অর্থসম্পদের আর কোন অভাব রইল না অতিরিক্ত ধন-সম্পদ
উপার্জন করে ব্যবসায়ী অহংকারী হয়ে গেল এরপর একদিন তার একটি ঘোড়ায় চড়ে বাহলুল দরবেশের কাছে গিয়ে বলল হে বাহলুল এবার বলে দে আমি কোন জিনিস খরিদ করব যার মাধ্যমে আমি অনেক মুনাফা লাভ করতে পারি বাহলুল দরবেশ তখন বলে দিলেন তুমি তরমুজ খরিদ করো এরপর সেই ব্যবসায়ী বাজার থেকে তার সকল টাকা-পয়সা বিনিয়োগ করে তরমুজ খরিদ করল কিন্তু দেখা গেল তার কাছ থেকে কেউ তরমুজ ক্রয় করছিল না কিছুদিনের মধ্যে সকল তরমুজ নষ্ট হয়ে গেল আর সেই ব্যবসায়ী পুনরায় একজন ধনী ব্যক্তি থেকে ফকির ব্যক্তিতে পরিণত হলো এরপর সে বাহলুল দরবেশের কাছে গিয়ে বলল হে বাহলুল তুই আমাকে কি করেছিস
বাহলুল বলল যখন তুই আমাকে আদবের সাথে জিজ্ঞেস করেছিলি তখন তুই অনেক ধন সম্পদ লাভ করতে পেরেছিলি ধন সম্পদ লাভ করার পর যখন তুই অহংকারী হয়ে উঠলি এবং তোর জিউভাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলি না আর আমাকে বেয়াদবের মত জিজ্ঞেস করলি তখন তোর ধন সম্পদগুলো আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কেড়ে নিলেন তুই ধনী হয়েছিলি তোর জিউভার কারণে আর তুই এখন গরীবে পরিণত হয়েছিস তোর জিভার কারণেই এতে আমার কোন দোষ নেই একবার হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি সফরের উদ্দেশ্যে বাগদাদে আগমন করলেন তার সাথে তার বেশ কিছু মুরিদ ছিল বাগদাদ আসার পর জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি মুরিদদেরকে বললেন তোমরা কি বাহলুলের কোন
খবর জানো মুরিদরা জুনায়েদ রহমতুল্লাহ আলাইহিকে উত্তর দিল জনাব বাহলুল তো একজন পাগল লোক আপনি তার সাথে সাক্ষাৎ করে কি করবেন জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন তোমরা তাকে খুঁজে দেখো তার সাথে আমার সাক্ষাৎ করা খুব প্রয়োজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি ও তার মুরিদরা বাহলুলকে একটি মরুভূমির মাঝে খুঁজে পেলেন তারা দেখতে পেলেন বাহুল মরুভূমির মাঝে ইট মাথায় দিয়ে শুয়ে রয়েছে জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি তার কাছে গিয়ে সালাম করলেন বাহলুল সালামের উত্তর দিয়ে বললেন আপনি কি জুনায়েদ বাগদাদ রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন আমি জুনায়েদ বাগদাদী বাহলুল বললেন ও আপনি সেই ব্যক্তি যে মানুষকে মারিফত ও শরীয়ত
জ্ঞান বিতরণ করেন জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি অত্যন্ত আদবের সাথে উত্তর দিলেন জি হযরত আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে যেমন তৌফিক দান করেন আমি করার চেষ্টা করি এরপর বাহলুল দরবেশ জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহিকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি কি খাবার পদ্ধতির সম্পর্কে জানেন আপনি কিভাবে খাবার গ্রহণ করেন সেই সম্পর্কে আমাকে একটু বলেন তো জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন খাবারের পূর্বে আমার হাত ধৌত করি অতঃপর খানা সামনে আসলে আমি বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি এবং আমি ডান হাত দিয়ে খানা খাই আমি ছোট ছোট লোকমা খাই এবং প্রতিটি লোকমা ভক্ষণের সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কথা স্মরণ করি খাবার সময় অন্যের খাবারের প্রতি
লক্ষ্য করি না আর খাওয়া শেষ হলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করি জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহির এই উত্তর শ্রবণ করার পরে বাহলুল উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং তিনি তাকে বললেন হে জুনায়েদ তুমি তো মানুষের আরো মুর্শিদ হতে চাও অথচ এখন পর্যন্ত তুমি জানো না কিভাবে খাবার গ্রহণ করতে হয় তাহলে তুমি কিভাবে মানুষের পীর ও মুর্শিদ হবে এরপর বাহলুল তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন সামনের দিকে রওয়ানা হলেন তখন জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহির মুরিদরা তাকে বললেন হযরত এই লোক তো পাগল সে যা ইচ্ছা তাই বলে যাচ্ছে জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি তাদেরকে উত্তর দিলেন সে পাগল ঠিকই
কিন্তু সে অনেক আলেম ওলামা অসংখ্য পীর বুজুর্গকে শিক্ষা দেয়ার যোগ্যতা রাখে অতএব চলো আমরা তার পেছনে ভ্রমণ করি তার কাছ থেকে শিক্ষা নেয়ার অনেক কিছু রয়েছে এরপর জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি ও তার মুরিদরা দেখতে পেলেন বাহলুল একটি বিরাট ঘরের মধ্যে বসে আছেন তখন জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি তার কাছে গিয়ে তাকে সালাম দিলেন বাহলুল জিজ্ঞেস করলেন আপনি কে জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন আমি জুনায়েদ খানা খাওয়ার আদব জানিনা বাহলুল তখন তাকে বললেন ও আচ্ছা আপনি খানা খাওয়ার আদব জানেন না কিন্তু কথা বলার আদব তো জানেন তাহলে বলুন তো কথা বলার আদব কি জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি
বললেন আমি পরিমাণমত কথা বলি উপযুক্ত স্থানে অযথা কথা বলি না আমি কথা বলার সময় খেয়াল রাখি যাতে আমার কথাগুলো শ্রোতা বুঝতে পারে এবং এই বিষয়ে খেয়াল রাখি যাতে বেশি কথা বলার কারণে মা মানুষ আমার কথায় বিরক্ত না হয়ে পড়ে আবার এত কম কথাও বলি না যাতে মানুষ আমার কথা বুঝতে না পারে এরপর জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি তার কাছে কথা বলার আরো কিছু বর্ণনা করলেন বাহলুল দরবেশ জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহির এই উত্তর শুনে বললেন জনাব আপনি খাওয়ার আদবও জানেন না এখন তো দেখছি আপনি কথা বলার আদবও জানেন না এই বলে বাহরুল দরবেশ তার কাছ থেকে মুখ
ফিরিয়ে চলে গেলেন অতঃপর জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহির মুরিদরা তাকে বললেন এই লোকটি পাগল আপনি তার কাছে আর কি বা আশা করেন জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি তাদেরকে বললেন তোমরা তার ব্যাপারটা বুঝবে না চলো আমরা তাকে অনুসরণ করি এরপর জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি পুনরায় বাহলুলের কাছে গেলে বাহলুল তাদেরকে বললেন হযরত খানা খাওয়ার আদব আপনার জানা নেই কথা বলার আদব জানা নেই কিন্তু শোয়ার আদব তো জানেন জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন অবশ্যই জানি আমি এশার নামাজ পড়ে দরুদ অজিফা শেষ করি এরপর শোয়ার জন্য আমি আমার কামড়ায় যাই এবং উপযুক্ত দোয়া দরুদ পড়ে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে করতে ঘুমিয়ে
পড়ি জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহির এই কথা শুনে বাহলুল দরবেশ তাকে বললেন খানা খাওয়ার আদব তো আপনি জানেন না কথা বলার আদব সম্পর্কেও জানেন না এখন দেখছি আপনি ঘুমের আদব সম্পর্কেও জানেন না এরপর বাহলুল দরবেশ তার কাছ থেকে উঠে সামনে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলেন তখন জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি তার জামা ধরে বললেন হে আল্লাহর বান্দা আমি কিছুই জানিনা দয়া করে আপনি আমাকে শিক্ষা দিন তখন বাহলুল তাকে বললেন খানার সর্বপ্রথম আদব হলো যে খাবার আপনি ভক্ষণ করছেন সেটি হালাল হওয়া যে খাবার আপনি ভক্ষণ করছেন সেই খাবার যদি হারাম হয় হালাল না হয় তাহলে আপনি যে আদবগুলি বর্ণনা
করেছেন সেগুলো কোন কাজেই আসবে না হারামখানা যতবার বিসমিল্লাহ বলে ভক্ষণ করেন না কেন কোনদিন আপনার জন্য হালাল হবে না ওয়াজ নসিহত সর্বপ্রথম কথা বলায় আদব হলো অন্তরকে পরিতুষ্ট ও নিয়ত থেকে বিরুদ্ধ করতে হবে এবং এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে যে যে কথাগুলি আপনি বলছেন সেগুলো আল্লাহ তাআলার রাজি খুশি ও সন্তুষ্টির জন্য হবে কিনা আপনি যে ওয়াজ নসিহতের কথা বলছেন সেগুলো যদি দুনিয়াবী কোন উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে তাহলে আপনি যত উত্তম কথা বলুন না কেন তা ক্ষতির কায়েম হবে এবারে বলছি ঘুমের কথা যখন আপনি স্বয়ন করতে যাবেন পূর্বে আপনার অন্তরকে পরিপূর্ণ পবিত্র করতে হবে এবং আপনি এমন
ভাবে স্বয়ন করার জন্য যাবেন যেন আপনি মৃত্যুর জন্য যাচ্ছেন বাহলুল দরবেশের এই কথাগুলো শেষ হবার সাথে সাথে জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি হাতে চুম্বন করলেন জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহির এই আচরণ দেখে এবং বাহলুল দরবেশের এই কথাগুলো শুনে জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহির মুরিদরা বুঝতে পারলো যে প্রকৃতপক্ষে বাহলুল দরবেশ কতটা জ্ঞানী জুনায়েদ কেন পেছনে পেছনে এতদূর অগ্রসর হয়েছিলেন