একদা সুলাইমান আলাইহিস সাল্লাম তার রাজদরবারে মন্ত্রিপরিষদ এবং দেশের সমস্ত জ্ঞানীগুণী মানুষকে নিয়ে একটি জরুরি মিটিং আয়োজন করলেন পাশে ছিল তার দেহরক্ষী একটি জিন আর ছিল তার মন্ত্রিপরিষদ হঠাৎ করে সুলাইমান আলাইহিস সালাম ঘোষণা করলেন যে তিনি বিবাহ করতে চান পাত্রী দেখতে বললেন তখন আশেপাশে থাকা মন্ত্রী জ্ঞানীগুণী মানুষ তারা সকলেই তাকে বললেন হুজুর আপনি সারা দুনিয়ার বাদশা এবং পয়গম্বর আপনি আমাদের দেশের রাষ্ট্রপ্রধান আপনি যেমন এমন তেমন মেয়েকে বিবাহ করবেন না আপনার জন্য কেমন পাত্রী দেখব যদি বলে দিতেন তাহলে পাত্রী খুঁজতে আমাদের সুবিধা হতো অতঃপর সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন আমি যে মেয়েকে বিবাহ করব তার চারটি গুণ থাকতে
হবে প্রথমত মেয়েটি হবে পর্দানশীন এবং দ্বীনদার দ্বিতীয়ত মেয়েটি হবে আমানতদার তৃতীয়ত মেয়েটি ভালো বংশের হতে হবে এবং চতুর্থ হলো মেয়েটি সুন্দরী হতে হবে অতঃপর পরের দিন থেকে সুলাইমান আলাইহিস সালামের রাজকর্মচারীরা গ্রাম পেরিয়ে এবং সারা বিশ্ব সে এই কথা ঘোষণা করতে লাগলো সুলাইমান বাদশা বিবাহ করতে চায় এবং এই চারটি গুণ যে মেয়ের ভিতরে থাকবে সেই মেয়েকে বিবাহ করবে পরের দিন একজন গরীব জেলে মাছ বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে দেখলো সুলাইমান বাদশার সৈন্যরা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে কয়েকজন লোক ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে এটা দেখে জেলেও সেখানে দাঁড়িয়ে পড়লো হঠাৎ করে সুলাইমান বাদশার সৈন্যরা এভাবে আসছে কেন
তখন একদল লোকটাকে বলল সুলাইমান বাদশা বিবাহ করতে চায় এবং যে মেয়েকে বিবাহ করবে তার মধ্যে চারটি গুণ থাকতে হবে মেয়েটি পর্দানশীল এবং দ্বীনদার হতে হবে মেয়েটি আমানতদার হতে হবে মেয়েটি ভালো বংশের হতে হবে মেয়েটি সুন্দরী হতে হবে এই কথা শুনে জেলে বাড়ির পথে রওনা দিল কিছুদূর গিয়ে জেলে মনে মনে দোয়া করে বললেন হে আল্লাহ আমার বাড়ি আমার একটা মেয়ে রয়েছে সেও বিবাহের উপযুক্ত মেয়েটি আমানতদার দ্বীনদার সুন্দরী জীবনে কখনো কোন পুরুষকে দেখিনি পৃথিবীর কোন পুরুষ তাকে দেখিনি পৃথিবীর কোন পুরুষ তাকে দেখাতো দূরের কথা তার ছায়া পর্যন্ত দেখিনি সারাদিন রোজা রাখে রাতের বেলা আল্লাহর এবাদত করে আমি
যদি মেয়েকে সুলাইমান বাদশার সাথে বিবাহ দিতে পারতাম তাহলে জীবন ধন্য হয়ে যেত আমি হতাম সুলাইমান বাদশার শ্বশুর এবং সুলাইমান বাদশাহ হতো আমার জামাই কাল কিয়ামতের দিনে সুলাইমান আলাইহিস সালামের হাত ধরে জান্নাতে যেতে পারতাম হে আল্লাহ তুমি দয়ার সাগর তুমি রহমানে রহিম এই দোয়া তুমি কবুল করে নিও এই দোয়া করার পর অশ্রু ভরা চোখ নিয়ে বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে ডেকে বলল স্ত্রী তুমি কি কোন কথা শুনেছো তখন স্ত্রী বলল কি এমন কথা আমি তো কিছুই শুনিনি আর আপনার চোখে এমন জল কেন আপনার কি হয়েছে তখন জেলে বলল আমাদের দেশের বাদশা রাষ্ট্রপ্রধান পয়গম্বর সুলাইমান আলাইহিস সাল্লাম বিবাহ
করতে চাই তিনি যে মেয়েকে বিবাহ করবে তার ভিতরে চারটি গুণ থাকতে হবে যে চারটি গুণের কথা বলেছে তার মধ্যে আমার মেয়ের তিনটি গুণ আছে মেয়েটি হতে হবে পর্দানশীল দ্বীনদার মেয়েটি হতে হবে আমানতদার মেয়েটিকে সুন্দরী হতে হবে এবং ভালো বংশের হতে হবে আমাদের মেয়েটিকে যদি পয়গম্বরের সাথে বিবাহ দিতে পারতাম তাহলে জীবন ধন্য হয়ে যেত তখন স্ত্রী বলল আপনি এসব কি বলতেছেন এমন কথা আর বলবেন না আমরা হলাম জেলের বংশ ঘর নাই বাড়ি নাই তিনবেলা খাবার নাই পয়গম্বর সুলাইমান আলাইহিস সালাম হলেন বাদশাহ সুলাইমান বাদশার রাজপ্রাসাদে কোন কিছুর অভাব নাই তিনি অনেক ধনী আমরা হলাম গরীব মানুষ এটা
কিভাবে সম্ভব এমন কথা আর বলবেন না সুলাইমান বাদশার সৈন্যরা জানতে পারলে বিপাদ হতে পারে আমাদের পক্ষে এমন স্বপ্ন না দেখাই ভালো এবারে জেলে মনের ব্যথা মনে নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা হলো এদিকে মেয়েটি ঘর থেকে বার হয়ে বলল আব্বাজান কোথায় যাচ্ছে কোনদিন তো এমন করে চলে যান না এই প্রশ্নের উত্তর দিল না কিছুক্ষণ পর মা মেয়ে যখন একসাথে বসেছিল তখন মা বলল শুনেছি সুলাইমান বাদশা বিবাহ করবে সে যে মেয়েকে বিবাহ করবে তার চারটি গুণ থাকতে হবে আর সবগুলি গুণ তোমার মধ্যে আছে শুধু গরীব ও জেলে হওয়ার কারণে বিবাহ দিতে পারলাম না তখন মেয়েটি বলল আম্মাজান
আমার যদি চরিত্রবান আমানতদার দ্বীনদার ও আল্লাহওয়ালা সুলাইমান পয়গম্বরের সাথে বিবাহ হয় তাহলে আমার নারী জীবন সার্থক হয়ে যাবে অতঃপর মা তাকে জোরে চড় মারলো এবং বলল খবরদার এমন কথা মুখে বলবি না বাদশাহ সুলাইমান যদি জানতে পারে তাহলে আর আস্ত রাখবে না এমন স্বপ্ন আমাদের পক্ষে কখনোই দেখা সম্ভব নয় তিনি কোথায় আর আমরা কোথায় তিনি হলেন বাদশা আর আমরা হলাম জেলে মেয়ে তখন কাঁদতে কাঁদতে ঘরের ভিতরে নামাজে বসে দোয়া করতে লাগলো হে আল্লাহ তুমি দয়াবান যে সুলাইমানকে তুমি বাদশা বানিয়েছো সেই আমাকে তুমি জেলের ঘরে জন্ম দিয়েছো যে সুলাইমান বাদশাকে তুমি ধনী বানিয়েছো সেই আমাকে তুমি গরীব
বানিয়েছো আল্লাহ তুমি সবই পারো হে আল্লাহ সুলাইমান পয়গম্বরের স্ত্রী হিসেবে আমাকে কবুল করে নিও ওগো আল্লাহ সুলাইমান পয়গম্বরের সাথে আমার বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যু দিও না ওগো আল্লাহ আমি ছোট থেকে এই পর্যন্ত শুধু তোমার এবাদত করেছি তোমার কাছেই চেয়েছি সুলাইমান বাদশার সাথে আমার বিবাহ হলে নারী জীবন সার্থক হয়ে যাবে কাল কিয়ামতের দিনে সুলাইমান নবীর স্ত্রী হিসেবে পরিচয় পাবো আমার এই দোয়াকে তুমি ফিরিয়ে দিও না আল্লাহ দোয়া করার পর চিঠি লিখে বিবাহের প্রস্তাব পাঠিয়ে দিল এদিকে একটি শয়তান জিন বহুদিন ধরে অপেক্ষায় আছে কিভাবে সুলাইমান আলাইহিস সালামের হাতে মোজেজার আংটি পাওয়া যাবে কেননা এই মোজেজা আংটির
কারণে সমগ্র মানুষ জিন পশুপাখি এমনকি বাতাস ও তার গোলাম হয়ে থাকতো তাই এই মোজেজা আংটি যদি ওই জিন নিতে পারে তাহলে তার কথা সমগ্র বিশ্ব শুনবে তার গোলাম হয়ে থাকবে এই শয়তান জিন চাই সুলাইমান আলাইহিস সালামকে সরিয়ে দিয়ে সে ওই সিংহাসনে বসবে জিন কবে যে রাষ্ট্রপ্রধান হবে সেই অপেক্ষায় আছে অতঃপর তিন-চার মাস পর আবারো সুলাইমান আলাইহিস সাল্লাম একটি জরুরি মিটিং এর আয়োজন করলেন সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন কি ব্যাপার আপনাদের সবাইকে এমন হতাশাজনক দেখাচ্ছে কেন আর বিবাহের জন্য যোগ্য পাত্রী কি খুঁজে পেয়েছেন তখন মন্ত্রীদের মধ্যে একজন বলল হুজুর আপনার শর্ত অনুযায়ী তেমন বিবাহের জন্য তেমন যোগ্য
পাত্রী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আবার এমন একজন পাত্রী বিবাহের জন্য আপনার কাছে পত্র লিখেছে যা শুনলে আপনি অত্যন্ত রাগান্ডিত হবেন সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন কি এমন পত্র পত্রটি পেশ করুন তখন মন্ত্রী পরিষদ এর মধ্যে আরেকজন বলল হুজুর গ্রামে একজন জেলে থাকে তার একটি মেয়ে আছে সে আপনাকে বিবাহের জন্য পত্র লিখেছে আর সাথে এটাও লিখেছে যে সে আপনার সম্পদের উপর কোন লোভ নেই শুধুমাত্র আপনাকে সে বিবাহ করতে চায় মন্ত্রিপরিষদের অপরদিক থাকা আরেকজন বলল হুজুর এটা কখনোই সম্ভব নয় তার সাহস তো কম নয় জেলের মেয়ে হয়ে সুলাইমান বাদশাকে বিবাহ করতে চায় তখন সুলাইমান আলাইহিস সালাম কিছু না
ভেবেই পত্রটি ছিড়ে ফেলল অতঃপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে এক ফেরেশতা বলল হে আল্লাহ আপনার পয়গম্বর সুলাইমান আলাইহিস সাল্লাম ধন সম্পদের কারণে অহংকার করেছে কেননা জেলের মেয়ের বিবাহের পত্র সে কিছু না ভেবেই ছিড়ে ফেলল অতঃপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বললেন সুলাইমান আলাইহিস সালামের উপর পরীক্ষা শুরু করা হবে এদিকে জেলের মেয়েটি পত্র ছিড়ে ফেলার এই খবর পেয়ে অত্যন্ত শোভাগত হলেন দুঃখ ভরা ব্যথা নিয়ে নামাজে পড়ে দোয়া করতে লাগলেন ওগো আল্লাহ তুমি মহান তুমি সবই পারো আমি জেলের মেয়ে একজন গরীব বলে সুলাইমান বাদশা আমার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ওগো আল্লাহ আমি শুধুমাত্র তোমার এবাদত করি আর তোমার কাছেই প্রার্থনা
করি হে আল্লাহ আমাকে ধনী বানিয়ে হয় সুলাইমান বাদশার সাথে বিবাহের আবদ্ধ করে দাও আর নয়তো সুলাইমান বাদশাকে আমার মত গরীব বানিয়ে আমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দাও এদিকে সুলাইমান আলাইহিস সালাম ও তার মন্ত্রীপরিষদ রাজদরবারে বসেছিলেন তখনই সুলাইমান আলাইহিস সাল্লাম তার হাতের মোজেজার আংটি খুলে রেখে দেহরক্ষীকে বলল আমি না আসা পর্যন্ত তুমি কোথাও যাবে না এবং অন্যদিকেও তাকাবে না এই কথা বলার পর সুলাইমান আলাইহিস সালাম বাথরুমের দিকে গেল অতঃপর এই সুযোগে সেই শয়তান জিন সুলাইমান আলাইহিস সালামের রূপ ধারণ করে দেহরক্ষীর কাছে এসে বলল আংটি তাড়াতাড়ি আমাকে দিয়ে দাও চারিদিকে শোনা যাচ্ছে আমার মতোই একজন ছদ্দবেশে
নকল সুলাইমান দেশের ভিতরে ঘোরাঘুরি করছে সে চায় দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে রাজসিংহাসনে বসবে তোমরা তাকে যেখানেই দেখবে শাস্তি দেবে অন্যদিকে অনেকক্ষণ পর সুলাইমান আলাইহিস সালাম যখন পাক পবিত্র হয়ে সেই দেহরক্ষীর কাছে যখন আংটি চাইলো তখন দেহরক্ষী বলল কিসের আংটি কার আংটি আর তুমিই বা কে তখন সুলাইমান আলাইহিস সালাম বলল তোমার কথা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না তুমি কি বলতে চাইছো আমি তোমাদের সুলাইমান বাদশা তখন দেহরক্ষীটি বলল ও বুঝতে পেরেছি আপনি তাহলে সেই ছদ্দবেশে আমাদের সুলাইমান বাদশা হতে চাচ্ছ তখন সুলাইমান আলাইহিস সালাম বলল কে ছদ্দবেশে সুলাইমান বাদশা হতে চাচ্ছে দেহরক্ষীটি বলল তুমি সামনে গিয়ে দেখো রাজ দরবারের
ভিতরে গেলেই দেখতে পাবে তখন সুলাইমান আলাইহিস সালাম যখন রাজ দরবারের ভিতরে যাচ্ছে ঠিক তখন তখন শয়তান জিন এটা বুঝতে পেরে রাজদরবারের সমস্ত কর্মচারীকে ডেকে বলল তোমরা শোনো আমি শুনেছি আমাদের দেশে সদ্যবেশে একজন সুলাইমান বাদশা সেজে সিংহাসনে বসতে চাইছে তাই তোমরা তাকে যেখানেই দেখবে উপযুক্ত শাস্তি দেবে এবং দেশ থেকে বিতাড়িত করবে এই বক্তব্য শেষ হতে না হতেই আসল সুলাইমান আলাইহিস সাল্লাম যেমনি রাজদরবারের ভিতরে ঢুকলো তখনই রাজদরবারের সমস্ত কর্মচারী তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিল এবং মেরে রক্তাক্ত করে নদীর কিনারায় ফেলে আসলো আসলেই তারা জানতো না যে সিংহাসনে বসেছিল শয়তান জিন আর ইনি ছিল আসল সুলাইমান আলাইহিস সাল্লাম এইজন্যই
তারা এই বিষয়টি আর বুঝতে চাইলো না অতঃপর সন্ধ্যার প্রায় কাছাকাছি সময় জেলে মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পথে দেখলো কি যেন নদীর কিনারায় পড়ে আছে এটা দেখতে পেয়ে তার কাছে গিয়ে দেখল একটা সুন্দর চেহারার মানুষ যেন তার ললাট থেকে নূরের জ্যোতি বার হচ্ছে কিন্তু তাকে এত পরিমাণ মেরেছে তার সারা শরীর থেকে রক্ত বার হচ্ছে এটা দেখে জেলে নদী থেকে কিছু পানি নিয়ে তার মাথায় দিল কিছুক্ষণ পর সুলাইমান আলাইহিস সালামের জ্ঞান ফিরে এলো এবার জেলে বলল বাবা তুমি কে তোমার তো আমি চিনলাম না তোমার বাড়ি কোথায় কে তোমার এমন ভাবে মেরে রক্তাক্ত করে এখানে ফেলে দিয়েছে তখন
সুলাইমান আলাইহিস সালাম মনে মনে ভাবলো এখন যদি আমি বলি আমি সুলাইমান বাদশা তাহলে হয়তো বিশ্বাস করবে না তিনি হয়তো বলবেন সুলাইমান বাদশাহ তো রাজদরবারে বসে আছে আমাকে মিথ্যাবাদী মনে করবে তাই তিনি আর কিছু বললেন না শুধু বললেন আমার মাথাতে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছি আমি কিছু বলতে পারছি না এবার জেলে সুলাইমান বাদশাকে তার বাড়িতে নিয়ে গেল পরের দিন সকালবেলা সুলাইমান আলাইহিস সালাম একটু সুস্থ হলো এদিকে জেলে ভাবলো যেহেতু মাছ ধরার জন্য তার একজন কর্মচারী প্রয়োজন তাই সেই সুলাইমান বাদশার কাছে এসে বলল বাবা তুমি এখন কোথায় যাবে সুলাইমান বাদশা কিছু বলল না তিনি কোথায় যাবেন তা বুঝতে পারছেন
না তাই সুলাইমান বাদশা চুপচাপ রইল তখন জেলে আবারো বলল বাবা ইদানিং আমার জালে প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়ছে আমার একজন কর্মচারী প্রয়োজন বাবা যদি তোমার কোন সমস্যা না থাকে তাহলে আমার সাথে মাছ ধরার কাজে আমাকে সাহায্য করতে পারো আমি তোমার বেতন দিয়ে দেবো প্রতি মাসে 200 দিরহাম পাবে এই বলে জেলে চলে গেল এবার সুলাইমান আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলল হে আল্লাহ আমি জানিনা কি পাপ করেছি ছিলাম বাদশা আর এখন আমি কি অবস্থায় আছি আমি যদি কোন পাপ করে থাকি তাহলে দুনিয়াতেই ক্ষমা করে দিও কাল কিয়ামতের দিনে আমাকে পাপী বানিও না কিছুক্ষণ পর সোলাইমান
বাদশাহ জেলের সাথে নদীতে মাছ ধরতে গেল যখন তারা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে তখন দেখল বেশ কিছু লোক চিন্তিত ও পেরেশানি অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে এটা দেখে জেলে তাদেরকে বলল ভাই আপনারা এমন চিন্তিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছো কেন তখন তারা বলল আমাদের দেশের অবস্থা খুবই খারাপ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ঊর্ধ্মুখী চারিদিকে শুধুই অরাজকতা হিংসা ঘৃণায় ছড়াছড়ি দেশের বাদশা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না আসলেই সুলাইমান বাদশাহ তো খুবই ভদ্র এবং খুব ভালো মানুষ হঠাৎ কি এমন হলো যে পরিস্থিতি সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে তবুও সুলাইমান বাদশা চুপচাপ রাজদরবারে বসে আছে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না দেশের জনগণ খুব কষ্টের মধ্যে আছে এটা শুনে
সুলাইমান বাদশাহ কিছু বুঝতে পারছে না আসলে ব্যাপারটা কি হয়েছে তিনি সব ভুলে গিয়েছিল সেখানে যে সিংহাসনে বসে আছে যে দেশ চালাচ্ছে সে আসলেই একজন শয়তান জ্বীন কিন্তু তার হাতের মোজেজা সেই আংটি তার কাছে নেই তাই কিছুই করতে পারছে না আবার এটাও বলতে পারছে না যে আমি সুলাইমান বাদশা তাহলে কেউ বিশ্বাস করবে না এই কথা শোনার পর তারা আবারো নদীতে মাছ ধরতে চলে গেল জেলে যখন নদীতে মাছ ধরছে তখন দেখলো এই প্রথম প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়েছে জেলে মনে মনে বলল হে আল্লাহ যেদিন থেকে এই যুবক আমার ঘরে এসেছে সেদিন থেকে আমার ঘর রহমতে ভরে গিয়েছে
আমি জানিনা কে এই যুবক তবুও তার ওসিলায় তুমি আমার রহমত দান করেছো সমস্ত প্রশংসা তোমারই মাছ ধরা শেষ করে জেলে ও সুলাইমান বাদশাহ আবার বাড়িতে ফিরে এলেন সেদিন রাত্রে জেলের মেয়েটি নামাজ পড়ে আবারো কান্না ভরা কণ্ঠ নিয়ে অশ্রু ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে লাগলো ওগো আল্লাহ তুমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক তুমি সবই জানো আমার এই নারী জীবনে আমি কখনো কোন দেখিনি কেউ আমাকে দেখিনি আমি শুধুমাত্র সুলাইমান বাদশাকে ভালোবেসে ফেলেছি তাই সুলাইমান বাদশাকে স্বামী হিসেবে না পাওয়া পর্যন্ত আমাকে তুমি মৃত্যু দিও না সুলাইমান বাদশাকে স্বামী হিসেবে পেলে আমার নারী জীবন সার্থক হয়ে যাবে কাল কিয়ামতের দিনে সুলাইমান
পয়গম্বরের হাত ধরে আমি জান্নাতে যেতে পারবো ওগো আল্লাহ আমার এই দোয়া তুমি কবুল করে নিও পরের দিন জেলে ও সুলাইমান আলাইহিস সাল্লাম মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দিল যখন তারা নদীতে মাছ ধরছিল তখন হঠাৎ ঝড় বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হলো আর তখনই নদীর উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল একটি ভালো জিন সুলাইমান বাদশাকে দেখে জিন হঠাৎ থেমে গেল অতঃপর জিনটি বলল কি ব্যাপার সুলাইমান বাদশা এখানে কেন তিনি তো রাজ দরবারে থাকার কথা তাহলে ওখানে কে বসে আছে এটা ভেবে সেই জিনটি সুলাইমান বাদশাহকে কিছু না বলে রাজ দরবারে গিয়ে দেখলো আসলেই ব্যাপারটা কি ব্যাপারটা তার আর বুঝতে বাকি রইল না
রাজদরবারের সিংহাসনে বসে আছে শয়তান জিন সুলাইমান বাদশার রূপ ধারণ করে সুলাইমান বাদশাহকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে দেখলো তার হাতের মোজেজা আংটি সেই জিন পড়ে আছে সেই জন্য সমগ্র বিশ্ব তার গোলাম হয়ে রয়েছে অতঃপর ভালো জিন শয়তান জিনকে তাড়া করল এদিকে জেলে ও সুলাইমান বাদশা যখন মাল ধরে নদীর কিনারায় এসে থামলো ঠিক তখনই ভালো জিন খারাপ জিনকে তাড়া করতে করতে নদীর উপর দিয়ে যাচ্ছিল আর তখনই খারাপ জিনের হাতে থাকা সেই মোজেজার আংটিটি নদীর মধ্যে পড়ে গেল এদিকে নদীর মধ্যে একটি বড় মাছ সেই সময় তার খাবার সংগ্রহ করছিল কিন্তু হঠাৎ করেই আংটিটি তার সামনে আসায় সেই আংটিটি
সে ভক্ষণ করে নেয় অতঃপর জেলে ও সুলাইমান বাদশা মাছ ধরে বিক্রি করে বাড়ি ফিরে এলো অতঃপর পরের দিন সকালবেলা সারাদিকে খবর হয়ে গেল যে দেশের বাদশা সুলাইমান পয়গম্বরকে পাওয়া যাচ্ছে না তিনি কোথায় যেন চলে গিয়েছেন এদিকে জেলের ঘরে থাকা সুলাইমান আলাইহিস সালামের প্রায় এক বছর হয়ে গেল তার আজ ছুটি নেওয়ার দিন আজকে তিনি চলে যাবেন জেলে ও তার স্ত্রীকে ডেকে বলল আচ্ছা আমাদের বাড়ি এক বছর এই যুবকটি আছে এই ছেলেটি তোমার কেমন লাগে তার স্ত্রী বলল ভালো তার মত ভদ্র ও ঈমানদার রূপবান যুবক জীবনেই দেখিনি তখন জেলে বলল এই যুবক যেদিন থেকে আমাদের বাড়িতে এসেছে
সেদিন থেকে আমাদের বাড়িতে আল্লাহর রহমতে ভরে গিয়েছে আমাদের অভাব দূর হয়ে গিয়েছে আমরা উন্নতি করতে পেরেছি এমন ভালো মানুষ আমি আমার জীবনে কখনোই দেখিনি আমাদের একটা সুন্দরী পর্দানশীন ঈমানদার ও আমানতদার মেয়ে রয়েছে তার বিবাহের বয়স হয়েছে আচ্ছা এই যুবকের সাথে যদি আমাদের মেয়ের বিবাহ দেই তাহলে কেমন হবে তখন তার স্ত্রী বলল ভালোই হতো কিন্তু এই যুবক কি রাজি হবে অতঃপর জেলে সুলাইমান আলাইহিস সালামের কাছে গিয়ে বলল আচ্ছা বাবা আমি তোমার কিছু কথা বলবো তুমি কি শুনতে রাজি আছো তখন সুলাইমান আলাইহিস সালাম বলল কি এমন কথা বলুন জেলে বলল আচ্ছা বলুন তো আমাদের বাড়িতে কতজন আছে
সুলাইমান আলাইহিস সালাম বলল তিনজন আপনি আপনার স্ত্রী এবং আমি জেলে বলল না আমরা মোট চারজন আছি তুমি কি কখনো এটা জানো সুলাইমান আলাইহিস সালাম বলল কি বলছেন আমি তো জানি তিনজন কিন্তু আরেকজন কে জেলে বলল আমার একটি মেয়ে রয়েছে তুমি কি কখনো তাকে দেখেছো সুলাইমান আলাইহিস সালাম বলল না আমি তো তাকে দেখা তো দূরের কথা তার ছায়া পর্যন্ত কখনো দেখিনি অতঃপর জেলে বলল বাবা আমার একটি মেয়ে খুবই পর্দানশীন ঈমানদার ও আমানতদার জীবনে কখনো কোন পুরুষের দেখিনি তাকেও কেউ দেখিনি সারাদিন রোজা রাখে এবং রাতের বেলা আল্লাহর এবাদত করে আমি তোমার সাথে তার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে
চাই বাবা তুমি কি রাজি আছো সুলাইমান আলাইহিস সালাম মনে মনে বলল ওগো আল্লাহ আমাকে কেমন পরীক্ষায় ফেললে আমি ছিলাম বাদশা আর এখন আমার কেমন অবস্থা জানিনা আমি কি অপরাধ করেছি আল্লাহ গো আমাকে ক্ষমা করে দাও আপনি আমার উত্তম অভিভাবক তখন ভাবলো দেশের যা অবস্থা তাতে আমার কিছুই করার নেই বিয়ে তো একটা করা লাগবে যদিও জেলে বারবার বলছে তার মেয়েটি পর্দানশীল ঈমানদার আমানতদার তাহলে বিয়ে করা যেতে পারে তারপর বিবাহের জন্য রাজি হয়ে গেল অতঃপর জেলে বিবাহের জামাকাপড় কেনার জন্য 100 দিরহাম দিয়ে বলল বাবা যাও বাজার থেকে সমস্ত জিনিসপত্র কিনে আনো বাজার থেকে জামাকাপড় কেনার পর সেই
দিনে তাদের বিবাহ সম্পূর্ণ হলো বিবাহের পর সুলাইমান আলাইহিস সাল্লাম এবং জেলে দুজনে তখন জামাই শ্বশুর পরের দিন একই সাথে আবারো নদীর পথে মাছ ধরতে গেল অতঃপর নদীর মধ্যে যে মাছটি সুলাইমান আলাইহিস সাল্লামের মোজেজার আংটি খেয়ে ফেলার কারণে সমুদ্রের সমস্ত ছোট বড় প্রাণী তার গোলাম হয়ে গিয়েছে সে যেদিকে যায় সবাই সেই দিকেই চলে এই বড় মাছ বুঝতেই পারছে না আসলে কোন কারণে তার পিছনে সবাই দৌড়াচ্ছে সুলাইমান আলাইহিস সালাম এবং জেলে যখন মাছ ধরার জন্য ফেলল আর তখনই ওই আংটি খেয়ে ফেলা মাছটিসহ সমুদ্রের প্রচুর মাছ জালে উঠলো এটা দেখে জেলে মনে মনে বলল হে আল্লাহ এই যুবক
যখন থেকে আমার ঘরে এসেছে তখন থেকে আমার ঘর রহমতে ভরে গেছে আর আজকে আমার জামাই হবার কারণে আরো রহমত দান করেছো জানিনা এই যুবক কে আমার জীবনে এত মাছ কখনোই ধরতে পারেনি আল্লাহ সমস্ত প্রশংসা তোমারই জেলে তখন সমস্ত মাছগুলি বিক্রি করে দিল শুধুমাত্র যে মাছটি আংটি খেয়ে ফেলেছিল ওই মাছটি অতিরিক্ত বড় হওয়ার কারণে জামাইকে খাওয়াবে বলে বাড়িতে নিয়ে এলো কিন্তু কেউ জানেনা আসলে ওই মাছের পেটে সুলাইমান আলাইহিস সাল্লামের মোজেজার আংটি রয়েছে বাড়ি এসে জেলে তার মেয়েকে ডেকে বলল মা এই মাছটি ভালো করে রান্না করো যেহেতু আজকে তোমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে তাই তুমি নিজের হাতে রান্না
করে জামাইকে খাওয়াবে এই বলে বাবা সেখান থেকে চলে গেল অতঃপর জেলের মেয়ে মাছ রান্না করার জন্য মাছ কাটতে গিয়ে দেখল মাছের পেটের ভিতর একটি আংটি রয়েছে আংটিটি সম্পূর্ণ অন্যরকম দেখাচ্ছে যা সাধারণ কোন আংটি নয় এটা দেখে জেলের মেয়ে ভাবলো আমি গরীব জেলের মেয়ে আজকে আমাদের বিবাহের প্রথম দিন স্বামীকে উপহার দেবার মতো আমার কাছে কোন কিছুই নেই যেহেতু এই আংটি পেয়েছি তাই স্বামীকে দেবে বলে আংটিটি নিজের কাছেই রেখে দিল এদিকে সেই ভালো জিন সুলাইমান আলাইহিস সালামকে খোঁজার জন্য এদিক ওদিক খুঁজতে লাগলো কিন্তু কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আসলেই সে বুঝতে পেরেছে এই আংটি অন্যজনের কাছে থাকার
কারণে সুলাইমান আলাইহিস সাল্লাম তার সমস্ত মোজেজা হারিয়ে ফেলেছে এবং সবই কিছু ভুলে গেছে এদিকে দেশের সমস্ত জনগণ রাজকর্মচারী সব এই খবর জেনে গেছে যে আসলেই এতদিন চেয়ারে যে বাদশা সেজে রাজ দরবারে বসেছিল সে একটি শয়তান জিন ছিল তারপর সুলাইমান আলাইহিস সালামকে পাওয়ার জন্য সবাই ব্যাকুল হয়ে উঠলো অতঃপর সুলাইমান আলাইহিস সাল্লাম ঘরে প্রবেশ করে সালাম দিয়ে তার স্ত্রীকে বলল আজ থেকে আমরা দুজনে স্বামী-স্ত্রী আমরা কখনোই কাউকে দেখিনি এবং চিনিও না আল্লাহ তাআলার রহমতে আমরা দুজনেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি কিন্তু আমার কিছু প্রশ্ন আছে তুমি কি প্রশ্নের উত্তর দেবে তখন জেলের মেয়ে বলল আপনি আমার স্বামী আপনার
সেবা করাই আমার একমাত্র কর্তব্য অবশ্যই আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব তখন সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন আচ্ছা বলতো তুমি কি কখনো কারো সাথে প্রেম করেছো সে বলল না আমি কখনো কারো সাথে প্রেম করিনি তবে আমার একটা পুরাতন স্মৃতি আছে যেটা বলে আমি আর দুঃখ পেতে চাই না তখন সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন কি এমন স্মৃতি আমার সাথে বলো আমি শুনতে চাই তখন সে বলল না সেই স্মৃতি মনে করে আমি আর দুঃখ পেতে চাই না আমার বাবা-মা আপনার সাথে বিবাহ দিয়েছে তাই আপনি আমার স্বামী তখন সুলাইমান আলাইহিস সালাম বলল তুমি সেই স্মৃতির কথা বলো আমি কথা দিচ্ছি আমি তোমার
কথার মূল্য দেবো আমানতের খেয়ানত করবো না তখন জেলের মেয়ে বলল তাহলে শোনো আজ থেকে বহুদিন আগের কথা আমি একজনকে না দেখে ভালোবেসে ফেলেছিলাম তাকে কখনোই দেখিনি সারাদিন রোজা রাখি আর রাতের বেলা আল্লাহর এবাদত করি নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করি তাকে যেন আমি আমার স্বামী হিসেবে পাই আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম আল্লাহ গো হয় আমাকে ধনী বানিয়ে তার সাথে আমাকে বিবাহ দাও আর নয়তো তাকে গরীব বানিয়ে তাকে আমার কাছে এনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দাও অতঃপর সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন কে সেই যুবক তখন সে বলল তার ধনসম্পদের কোন অভাব নাই রাজপ্রাসাদের কোন অভাব নাই তার সম্পদ
দেখে আমি ভালোবাসিনি তিনি যে চারটি শর্তগুলো দিয়েছিলেন তার মধ্যে তিনটি আমার ছিল কিন্তু শুধুমাত্র জেলের মেয়ে হবার কারণে গরীব হবার কারণে আমার পত্রীটি ছেড়ে ফেলেছিল তখন সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন যুবকটি কে সে বলল তিনি হলেন সমগ্র বিশ্বের বাদশা দাউদ পুত্র সুলাইমান আলাইহিস সাল্লাম তার কথা ভেবে পুরাতন স্মৃতি মনে করে আমি আর ব্যথা পেতে চাই না আজ থেকে আপনি হলেন আমার সুলাইমান এই কথা বলে সেই মোজেজার আংটি সুলাইমান আলাইহিস সালামের হাতে পড়িয়ে দিল অতঃপর সাথে সাথে সুলাইমান আলাইহিস সালামের আংটি হাতে পড়া মাত্রই তার সমস্ত মোজেজা ফিরে পেল সাথে সাথেই তিনি সমস্ত ঘটনাগুলি চোখের সামনেই মনে পড়তে
লাগলো তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বহুদিন আগে একটি জেলের মেয়ে তার কাছে বিবাহের জন্য পত্র লিখেছিল আসলেই এই সেই মেয়ে ভুলবশত তিনি সামান্য অহংকারের কারণে পত্রটি ছিড়ে ফেলেছিল তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে এই ঘটনাটি বুঝতে পেরে সুলাইমান আলাইহিস সাল্লাম নত হয়ে সেজদায় পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলল ওগো আল্লাহ তুমি আমার ক্ষমা করে দাও আমি ভুল করে ফেলেছি তুমি মহান তুমি সবই পারো তুমি এই মেয়েটির দোয়া কবুল করে নিয়েছো আমাকে বাদশা থেকে ফকির বানিয়ে তার ঘরে এনে স্বামী হিসেবে কবুল করে নিয়েছো ওগো আল্লাহ আমি না জেনে ভুল করার কারণে আমার এই পরিস্থিতি হয়েছে আল্লাহ গো আমি আর
কত ভুল করেছি জানিনা দয়া করে মেহেরবানী করে আমাকে ক্ষমা করে দাও আমিন