এআই দিয়ে মার্ডার মিস্ত্রী সলভ হ্যাঁ 19 বছর আগে খুন হওয়া এক মহিলা এবং তার দুই শিশুর হত্যারস সলভ করে ফেলল এআই আর এটাই ভারতবর্ষের প্রথম কেস যেটা সলভ করা হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে শুনতে অবাক লাগলেও টেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে এক মা এবং তার দুই সন্তানের হত্যাকারীদের শাস্তি দিল ভারতবর্ষের আইন ব্যবস্থা 19 বছর আগে তিনজনকে নির্মমভাবে খুন করে নিজেদের পরিচয় বদলে নিয়ে বহাল তবিয়তে জীবন কাটাচ্ছিল খুনিরা কিন্তু শেষমেষ মানুষের পক্ষে যেটা গত 19 বছরে সম্ভব হয়নি সেটাই করে দেখালো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আর এই কেসের মাধ্যমে ভারতবর্ষের অপরাধের ইতিহাসে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায় নমস্কার আমি সুজয় নীল
গোয়েন্দা গল্প মার্ডার মিস্ট্রি কিংবা রোমহর্ষক থ্রিলার বাঙালিদের কাছে এই তিনটে বিষয় রীতিমত হট কেক তাই আজও বইমেলায় বঙ্কেশ অথবা ফেলুদা সমগ্র রমরমিয়ে বিক্রি হয় কিন্তু জানুয়ারি মাসের শুরুতে ভারতবর্ষের বুকে এমন এক গোয়েন্দার আবির্ভাব ঘটলো যে আদতে মানুষ নয় এআই আর সে ময়দানে পা রেখেই 19 বছর আগে ঘটা এমন একটা মার্ডার মিস্ট্রি সলভ করে ফেলল যা এত বছর চাপা পড়েছিল ধুলোর আস্তরণে তবে মানুষ ছাড়া কিন্তু এআই অচল তাই এই কেসে ঠিক ততটাই সাধুবাদ জানানো উচিত সেই সমস্ত পুলিশ অফিসারদের যারা টেকনোলজিকে সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে ধরে ফেললেন দুই খুনিকে যারা আসলে একসময় ইন্ডিয়ান আর্মির অফিসার ছিলেন কিন্তু
কিভাবে এই কেসটা সলভ করলো এই আই আর কেনই বা ইন্ডিয়ান আর্মির অফিসারদের হাতে খুন হতে হয়েছিল এক মা এবং তার দুই সন্তানকে চলুন আজকের ভিডিওর মাধ্যমে জেনে নেই সেই সবটা রঞ্জিনী কেরালার কল্যাণ জেলার আঁচাল টাউনে থাকা 21 বছরের এক ঝকঝকে যুবতী রঞ্জিনী বরাবরই আঁচালেরই বাসিন্দা ছিল ছোটবেলা থেকেই সে ছিল হাসি খুশি আর প্রাণচঞ্চল স্বভাবের রঞ্জিনীর বাবা ছিল না মা সান্তা মা তাকে কষ্ট করে বড় করে তুলেছিল কিন্তু রঞ্জিনীর ব্যবহার এতটাই ভালো ছিল যে এলাকার সবাই ওকে ভীষণ ভালোবাসতো রঞ্জিনীর জীবনের সবকিছুই দারুণ ভাবে এগোচ্ছিল ঠিক এই সময় একদিন গ্রামের মেলাতে 21 বছর বয়সী রঞ্জিনীর সঙ্গে আলাপ
হলো পাশের গ্রামে থাকা একটা ছেলের ছেলেটার নাম দিবিল কুমার সে পেশায় ইন্ডিয়ান আর্মি ছুটিতে গ্রামে ঘুরতে আসা দিবিলের সঙ্গে রঞ্জিনীর সেই প্রথম পরিচয় ধীরে ধীরে বদলে যায় ভালো বন্ধুত্বে আর তারপর হঠাৎই একদিন ডিবিলের তরফ থেকে প্রেমের প্রস্তাব পায় রঞ্জিনী এরপর 21 বছর বয়সী একটা মেয়ে যখন জীবনে প্রথমবার প্রেমের প্রস্তাব পায় তার আশেপাশের জগতটাই আচমকা বদলে যায় রঞ্জিনীর ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হয়েছিল নিজের বাবা না থাকায় যেন আরো বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছিল দেলের জন্য এবার আপনারাই বলুন যদি হবু জামাই ইন্ডিয়ান আর্মির মত প্রেস্টিজিয়াস অর্গানাইজেশনে কাজ করে তাহলে কোন মা নিজের মেয়ের প্রেমে বাধা দেবে আর ঠিক এই
কারণেই রঞ্জিনীর মা সান্তামাও চোখ বুঝে বিশ্বাস করেছিলেন দিবিলকে এদিকে রঞ্জিনীও সেই সময় দিবিলের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে এবার দুজন অ্যাডাল্ট মানুষের প্রেমে শারীরিক সম্পর্কের উপস্থিতি তো থাকবেই কারণ সেটাই প্রকৃতির নিয়ম আর তাই রঞ্জিনী এবং ডিবিলের মধ্যেও সেই নিয়মের অন্যথা হয়নি তারা বহুবার বহু আছিলায় একে অপর এর কাছে এসেছিল একে অপরকে ভালোবেসেছিল কিন্তু এখানে একটা জিনিস মাথায় রাখবেন এই সবকিছুই কিন্তু দিবিল এবং রঞ্জিনীর বিয়ের আগে ঘটেছিল অর্থাৎ দিবিল কিন্তু তখনও রঞ্জিনীকে সামাজিক স্বীকৃতি দেয়নি আর তার কারণ দিবিল আসলে রঞ্জিনীকে ভালোবাসতো শুধু ওর শরীরটুকুর জন্যই নয়তো মোটা মাইনে চাকরি করা দিবিলের কি আর গরীব বাড়ির মেয়ে রঞ্জিনীকে বিয়ে
করা মানায় এই কথাটা আমার নয় খোদ দিবিলেরই বলা কিন্তু আচমকা কেন এমন কথা বলেছিল দিবিল কুমার ডিভিল এবং রঞ্জিনীর মধ্যে দারুন একটা বন্ডিং তৈরি হয়েছিল রঞ্জিনী রীতিমত ডিভিলের সঙ্গে সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করে দিয়েছিল আর ঠিক সেই সময় কোন একটা মাসে নিজের পিরিয়ড মিস করল রঞ্জিনী স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চেকআপ করাতেই রঞ্জিনী জানতে পারলো সে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে প্রাথমিকভাবে দারুণ খুশি হয়েছিল রঞ্জিনী কারণ সে ভেবেছিল ডিভিল এই খবরটা জানলে হয়তো খুশিতে লাফিয়ে উঠবে কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা এমন ভয়ঙ্কর রূপ নিল যা রঞ্জিনী কখনো কল্পনাই করেনি ডিভিলকে রঞ্জিনী যেই নিজের প্রেগনেন্সির খবরটা জানালো সঙ্গে সঙ্গে দিবিল
যেন অন্য একটা মানুষে বদলে গেল প্রথমে সে আগত সন্তানের পিতৃতে অস্বীকার করল আর রঞ্জিনীকে চরিত্রহীনা হিসেবে প্রমাণিত করতে চাইলো কিন্তু দিবিলের এই নির্লজ্জ দোষারোপের বিরুদ্ধে রঞ্জিনী যখন কঠোরভাবে প্রতিবাদ করল ঠিক তখনই দিবিল নেমে এলো পার্সোনাল অ্যাটাকে সে বলল তোমার মত মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করাটাই আমার ভুল হয়েছিল তুমি ভাবলে কি করে যে আমার বাড়ির লোক তোমাকে পরিবারের বউ হিসেবে মেনে নেবে তাই এখনই এই বাচ্চাটাকে ফেলে দাও হ্যাঁ রঞ্জিনীকে এবরশনের পথেই ঠেলে দিয়েছিল ইন্ডিয়ান আর্মির দিবিল কুমার কিন্তু রঞ্জিনীও ছিল ইস্পাত কঠিন মানসিকতার তাই সে দিবিলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে নিজেদের আগত সন্তানকে সে পৃথিবীর আলো
দেখাবেই রঞ্জিনীকে কোনভাবেই দমানো যাচ্ছে না দেখে তারপরের দিনই পাঞ্জাবের পাঠানকোর্টে নিজের বেস ক্যাম্পে পালিয়ে গেছিল দিবিল কুমার এবার একটা অবিবাহিতা গর্ভবতী মেয়ে হিসেবে রঞ্জিনীর কি অবস্থা হয়েছিল ভাবন যে মানুষটাকে রঞ্জিনী নিজের বাবার শূন্যস্থানে জায়গা দিয়েছিল সেই মানুষটাই রঞ্জিনীকে ঠেলে দিল গভীর অন্ধকারে কারণ আমরা সবাই জানি একজন অবিবাহিতা গর্ভবতী মেয়েকে সমাজ ঠিক কি চোখে দেখে তবে রঞ্জিনী ছিল লড়াকু স্বভাবের তাই সে সোজা দ্বারস্ত হলো কেরালার রাজ্য মহিলা কমিশনের কাছে মহিলা কমিশনের সদস্যরা রঞ্জিনীর সমস্ত বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নিল যে ডিভিলকে তারা ডিএনএ টেস্টের জন্য নোটিশ পাঠাবে যাতে পাঠানকোটের বেস ক্যাম্প থেকে ফেরা মাত্রই ডিভিলের ডিএনএ টেস্টিং এর
প্রসেস শুরু হয়ে যায় কিন্তু এইসবের মাঝে ধীরে ধীরে রঞ্জিনীর মনোবল ভাঙতে শুরু করে এলাকার যে মানুষগুলো এতদিন রঞ্জিনীকে ভালোবাসতো তখন তারাই পথে কাটে রঞ্জিনীকে দেখলে টোন টিটকিরি দেওয়া শুরু করে তাই ডেলিভারির ডেট এগিয়ে এলে রঞ্জিনী বাধ্য হয় মাকে নিয়ে কল্যাণ ছেড়ে তিরুবানন্তাপুরামে পাড়ি দিতে কারণ সেখানে গেলে অন্তত তার মেন্টাল প্রেসার খানিকটা হলেও কমবে কিন্তু রঞ্জিনী জানতো না যে এই তিরুবানপুরামেই অপেক্ষা করে আছে তার জীবনের সবচেয়ে বড় বিপদটা কিন্তু কি সেই বিপদ আর কিভাবে বা সেই বিপদের ফাঁদে পা দিয়েছিল রঞ্জিনী তিরুভানতাপুরামের হাসপাতালে চেকআপ করাতে যাওয়ার দিন দুয়েকের মাথায় হঠাৎই রঞ্জনীর সঙ্গে আলাপ হয় অনিল কুমার নামের
এক ব্যক্তির সঙ্গে অনিল রঞ্জিনী আর সান্তা মাকে জানায় যে সেও আদতে কল্যাণ জেলারি বাসিন্দা এই হসপিটালে তার এক মামা ভর্তি রয়েছে এবার এলাকার বাসিন্দা শুনে রঞ্জিনী এবং ওর মা আনিলের সঙ্গে খুবই কমফর্টেবলি কথা বলতে শুরু করে আস্তে আস্তে আনিল এবং রঞ্জিনীর মধ্যে একটা বন্ধুত্ব তৈরি হয় আসলে সেই সময় একা লড়াই করতে করতে রঞ্জিনী ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল তাই আনিল যখন ওর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চাইল রঞ্জিনী আর না করতে পারেনি আর সান্তামাও যখন দেখলেন আনিল তাদের সঙ্গে বাড়ির ছেলের মতই ভালো ব্যবহার করছে উনিও আনিলকে বিশ্বাস করে ফেললেন একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো যে ডাক্তাররা জানালো
রঞ্জিনীকে হয়তো সি সেকশন অর্থাৎ সিজারের মাধ্যমে সন্তানের ডেলিভারি দিতে হবে কারণ রঞ্জিনীর গর্ভে একটি নয় দুটি সন্তান রয়েছে আর এই সি সেকশনের জন্য রঞ্জিনীর বেশ খানিকটা ব্লাডের প্রয়োজন হবে এই ক্রাইসিসের মুহূর্তেও এগিয়ে এলো আনিল সে রঞ্জিনীকে জানালো যে তার এবং রঞ্জনীর ব্লাড গ্রুপ সেম তাই ব্লাড লাগলে আনিল সেটা দিতে প্রস্তুত এমন অসহায় পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে আনিলের মত পরোপকারী বন্ধুকে পেয়ে একটু স্বস্তি পেল রঞ্জিনী আর তাই সে নিজের অতীতের বিষয়ে সবটা উগড়ে দিল আনিলের কাছে আনিল সবটা শুনে রাঞ্জনীকে বলল তুমি চিন্তা করো না ডেলিভারি প্রসেস কমপ্লিট হওয়ার পর তুমি একটু সুস্থ হলেই আমরা একসঙ্গে ডিভিলের বিরুদ্ধে
লড়াই করব পাশাপাশি আনিল এটাও বলল তোমাদের আর আঁচালে ফিরে যেতে হবে না আমি তোমাদের একটা ঘর দেখে দেব ডেলিভারির পর তোমরা সেখানেই থেকো টাকা পয়সা যা লাগবে আমি দেবো কোন চিন্তা নেই তোমার বিপদের মুহূর্তে যেন সাক্ষাৎ দেবদূতের মত আনিলের এন্ট্রি হয়েছিল রঞ্জিনীর জীবনে তাই আনিলকে একটু একটু ভালো লাগতে শুরু করেছিল রঞ্জিনীর কিন্তু তখনও রঞ্জিনী ঘুনাক্ষারও টের পায়নি যে আনিল কুমার আসলে ঠিক কোন উদ্দেশ্য নিয়ে রঞ্জিনীর জীবনে এন্ট্রি নিয়েছিল আপনারা কি কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারছেন বিষয়টা 2006 সালের জানুয়ারি মাস রঞ্জিনীর কোল আলো করে জন্ম নিল ওর দুই মেয়ে সেই খুশিতে এই দোকান থেকে মিষ্টি নিয়ে
এসে সান্তা মাকে খাওয়ালো আনিল আর তারপরেই হাসপাতাল থেকে বাইরে বেরিয়ে সে কল করল পাঠানকোটের বেস ক্যাম্পে নিজের বহুদিনের পুরনো বন্ধু এবং কলিগ দিবিল কুমারকে হ্যাঁ অনিল আসলে দিবিলেরই বন্ধু ছিল আনিলের আসল নাম রাজেশ কুমার এই রাজেশও ছিল ইন্ডিয়ান আর্মির একজন সৈনিক ওর আসল বাড়ি ছিল কান্নুরের শ্রীকান্তপুর বন্ধু দিভিলকে বাজেভাবে ভেসে যেতে দেখে রাজেশ সিদ্ধান্ত নেয় যে সে অনিল কুমার সেজে রঞ্জিনীর সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাবে আর তারপর রঞ্জিনী সন্তান প্রসব করে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেই ওর খেল খতম করে দেবে আর ঠিক সেই জন্যই আনিল ওরফে রাজেশ রঞ্জিনীকে নিজের গ্রামে ফিরতে না দিয়ে সম্পূর্ণ অন্য একটা ঠিকানায় বাড়ি
ভাড়া করে নিয়ে আসে আর তারপর আসে সেই ভয়ঙ্কর দিন 2006 সালের 10ই ফেব্রুয়ারি সেদিন সকালবেলা আনিল গিয়ে পৌঁছায় রঞ্জিনীদের ভাড়াবাড়িতে আর সান্তামাকে এসে বলে আপনি এখনই বাচ্চাদের ডিসচার্জ সার্টিফিকেট নিয়ে লোকাল পঞ্চায়েত অফিসে যান ওখানে আমি কথা বলে রেখেছি আপনি কাগজ জমা দিলেই ওদের বার্থ সার্টিফিকেটটা রেডি হয়ে যাবে এবার আনিল সান্তামার এতটাই বিশ্বস্ত হয়ে উঠেছিল যে সে একবার বলায় সঙ্গে সঙ্গে রেডি হয়ে পঞ্চায়েত অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন সান্তাম্মা তবে সান্তাম্মা বাড়ি থেকে বেরনোর মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই হঠাৎ দরজায় কেউ একজন কড়া নাড়ে আনিল আর রঞ্জিনী তখন ঘরের ভিতরেই ছিল কড়া নাড়া শব্দ হতেই আনিল গিয়ে দরজাটা খোলে
আর রঞ্জিনী দেখে দিবিল এসেছে দিবিলকে দেখামাত্রই আনন্দে কেঁদে ফেলে রঞ্জিনী সেভাবে হয়তো নিজের জমজ সন্তান হয়েছে শুনে বাবা দিবিল তাদের দেখতে এসেছে কিন্তু সেই মুহূর্তে ঘোনাঘরেও টের পায়নি যে দিবিল আসলে সন্তানদের দেখতে নয় তাদের মারতে এসেছে ঘরে ঢোকা মাত্র অনিল ওরফে রাজেশের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দেয় দেবিল আর রাজেশ দেবিলকে বলে যা করার তাড়াতাড়ি করে ফেলতে হবে কারণ বুড়ি যেকোনো সময় চলে আসবে ব্যাস তারপর আর কি রঞ্জিনী সহ দুই ফুটফুটে নিষ্পাপ মেয়ের গলাতে খুর চালিয়ে দেয় ডিভিল এবং রাজেশ মিলে বাড়ি ফিরে সান্তাম্মা দেখেন নিজের মেয়ে এবং দুই নাতনী রক্তে ভেজা বিছানায় নিথর হয়ে পড়ে
রয়েছে একসঙ্গে তিনজন মানুষ খুন তার মধ্যে আবার দুজন শুদ্ধ জাতক ফলে দাবানলের মত খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায় পুলিশ আসে তদন্ত শুরু হয় রঞ্জিনীদের বাড়ির বাইরে একটা মোটরসাইকেল পাওয়া যায় যা রেজিস্ট্রেশন নাম্বার চেক করতেই দেখা যায় সেটা পাঠানকোর আর্মি বেসের রাজেশ নামের কোন সৈনিকের নামে রেজিস্টার করা সঙ্গে সঙ্গে সান্তামা বুঝতে পারেন সবটা তিনি ডিভিলের বিষয়টাও পুলিশের কাছে জানান পুলিশের তরফ থেকে রাজেশ এবং ডিভিলের নামে লুকআউট নোটিশ জারি করা হয় কিন্তু ততক্ষণে পাখি ভুরুত চাকরি বাকরি ছেড়ে দিয়ে রাজেশ এবং ডিভিল এমন ভাবে গা ঢাকা দিল যে বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করেও পুলিশ তাদের কোন কুল
কিনারা পেল না ফলে 2010 সাল নাগাত রঞ্জিনী এবং তার দুই সন্তানের মার্ডার কেসটাও চলে গেল কোর্ট কেসের তালিকায় কিন্তু কথায় আছে না পাপ কখনো বাপ কেউ ছাড়ে না এক্ষেত্রে সেই কথাটা সত্যি হতে সময় লাগলো 19 টা বছর শেষ অব্দি এআই এর দৌলতে ধরা পড়লো রাজেশ এবং ডিভিল দুজনেই কিন্তু কিভাবে সাল 2023 কেরালা পুলিশের এডিজিপি পদে আসীন হলেন অফিসার মনোজ আব্রাহাম এই মনোজ আব্রাহামের নেশা ছিল নতুন কেস সলভ করার পাশাপাশি বিভিন্ন পুরনো কেস নিয়েও নাড়াচাড়া করা সেইভাবেই 2024 সালের আগস্ট মাসে রঞ্জিনী মার্ডার কেসের ফাইলটা ম্যানোজ আব্রাহামের হাতে এসে পড়ে কেসটা নিয়ে পড়াশোনা করতে করতেই খুনের ব্রুটালিটি
মনোজ স্যারকে চমকে দেয় মাস সহ 17 দিনের দুটো সদ্যজাত শিশুকে গলার নলি কেটে খুন করে দেওয়া খুনিদের আজ অব্দি ধরা যায়নি এই একটা জিনিসই কাঁটার মতো বিধে থাকে মনোজ আব্রাহামের মনে তাই তিনি কেস ফাইল ঘেটে ডিভিল এবং রাজেশের সেই সময়কার দুটো ছবি বের করেন আর তারপর নিজের টেকনোলজি টিমকে সেই ছবি দুটো দিয়ে মিস্টার আব্রাহাম বলেন এআই এর সাহায্য নাও এই দুজনকে 19 বছর পর অর্থাৎ এখন কেমন দেখতে হতে পারে সেই ছবিটা তৈরি করো কেরালা পুলিশের টেকনোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট দিন 15 সময় চেয়ে নেন অফিসার আব্রাহামের কাছে আর তারপর ঘন্টা পর ঘন্টা ধরে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে দিবিল
এবং রাজেশের সেই কম বয়সী ছবি দুটোকে 40 অর্ধ মানুষের মুখে বদলে ফেলেন অফিসারেরা দিন 15 বাদে ছবি দুটো হাতে পেয়েই চোখটা চকচক করে ওঠে অফিসার আব্রাহামের এবার তিনি নিজের টেকনোলজি টিমকে আরেকটা নির্দেশ দেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক instagram twitter youtube এমনকি স্ন্যাপচ্যাটেও ডিপ স্ক্যানিং করার টানা চার মাস ধরে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থিত থাকা সমস্ত ছবিকে ধরে ধরে ডিপ স্ক্যানিং কেরালা পুলিশ হ্যাঁ এই সময়টাই হয়তো আমার আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার ছবিতেও চোখ বুলিয়েছিল কেরালা পুলিশ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের এই ডিপ স্ক্যানিং করতে করতে ডিভিল এবং রাজেশের ছবির সঙ্গে কোন ছবি হয়তো 20% মিলতো কোনটা
বা 30% কিন্তু একদিন আচমকা একটা ছবির সঙ্গে রাজেশের ওই ছবিটা 90% ম্যাচ করে যায় পুলিশ দেখে ওটা পুদুশচেরির একটা মেয়ের বিয়ের ছবি যেখানে সে একটা গ্রুপ ফটো তুলে instagram এ আপলোড করেছে সেই ছবিতে একটা মুখের সঙ্গে 90% ম্যাচ করে যায় এআই দিয়ে তৈরি রাজেশের এখনকার মুখ ব্যাস অফিসার আব্রাহাম সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করেন সিবিআই এর সঙ্গে আর সিবিআই এর তরফে যোগাযোগ করা হয় পুদুচেরি পুলিশের সঙ্গে এবার সিবিআই কোন কেস নিয়ে মুভ করছে মানে সেটা যথেষ্ট সিরিয়াস কেস তাই পুদুচেরির পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ওই মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং জানতে পারে ছবিতে থাকা ওই ভদ্রলোক আসলে মেয়েটির মেয়ে
শো যার নাম প্রবীণ কুমার মেয়েটির থেকে প্রবীণ কুমারের বাড়ির অ্যাড্রেস নিয়ে সরাসরি সেখানে থানা দেয় পুলিশ গ্রেপতার করা হয় প্রবীণ কুমারকে আর পুলিশের থার্ড ডিগ্রি জেরার মুখে প্রবীণ কুমার স্বীকার করে যে সেই আদতের রাজেশ এবার রাজেশকে কাস্টডিতে নেওয়ার পর দিবিলকে খুঁজে পেতে বেশি বেগ পেতে হয় না পুলিশকে কারণ বর্তমানে রাজেশ এবং ডিবিল দুজনেই বিজনেস পার্টনার ওরা একসঙ্গে একটা ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের বিজনেস চালাতো রাজেশ পুলিশকে জানায় দিবিলের নতুন নাম এখন বিষ্ণু এবার বিষ্ণু ওরফে দেবিলকে গ্রেপতার করার পর সেও খুনের কথা স্বীকার করে নেয় পুলিশ জানতে পারে দিবিল এবং রাজেশ দুজনেই বিয়ে করেছে তাদের বউয়েরা স্কুলের শিক্ষিকা এবং
দুজনেই দুজনের খুব কাছের বান্ধবী নিজেদের বরের এমন ভয়ঙ্কর অতীতের কথা শুনে তারা দুজনেই আপাতত ট্রামায় রয়েছেন এআই আশীর্বাদ না অভিশাপ সেটা ভবিষ্যৎ বলবে আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া খুললে এআই দিয়ে বানানো বিভিন্ন আপত্তিজনক ছবি আমাদের গা ঘিন হিন করিয়ে দেয় কিন্তু সেই এআই কে কাজে লাগিয়ে কেরালা পুলিশ যেভাবে 19 বছর পর এক অসহায় মা এবং তার জাত সন্তানদের জাস্টিস পাইয়ে দিল সেটার জন্য হ্যাটস অফ এর থেকে এটাই মানে দাঁড়ায় যে এআই যদি সঠিক হাতে পড়ে তাহলে সত্যি সত্যিই কামাল হতে পারে তবে আমার এখনো অবাক লাগছে ডিবিল এবং রাজেশের কথা ভেবে কিভাবে ঠান্ডা মাথায় দুটো 17 দিনের বাচ্চা
এবং তার মায়ের গলার নলি কেটে গা ঢাকা দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন পরিচয় এতগুলো বছর কাটিয়ে দিল ওরা দুজনে মিলে বিয়ে করল সন্তানের বাবা হলো বিজনেসও করল আর পুরোটাই এতটা প্ল্যান মাফিক যেন কোনদিন কিছু ঘটেইনি এই কেসটা নিয়ে ভিডিও করতে করতে আমার বারংবার শুধু এটাই মনে হচ্ছিল যে হয়তো আমাদের চারপাশে অনেকেই এভাবে গা ঢাকা দিয়ে বসে রয়েছে শুধুমাত্র ধরা পড়েনি বলে আজও তারা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সমাজের বুকে কিন্তু কেরালা পুলিশ এবার যে কাজটা করে দেখালো তাতে এমন অপরাধীরা সাবধান হয়ে যান এআই যদি এভাবে ইনভেস্টিগেশনে হেল্প করা শুরু করে তাহলে আরো অনেকেরই পর্দা ফাঁস হতে চলেছে কারণ
দিনের শেষে সবার উপরে কর্মা সত্য তাহার উপরে নাই যাই হোক আমার আজকের এই ভিডিওটা আমি এখানেই শেষ করছি দেখা হবে নতুন কোন ভিডিওতে ততক্ষণ অব্দি সকলে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আর হ্যাঁ অবশ্যই সাবধানে থাকবেন নমস্কার