যে মানুষটিকে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি হলেন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা এটা একটা হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য একটা সময়ে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ করা হয়েছিল ঘটনাটি ছিল বনু মুস্তালিকের যুদ্ধের সফরে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সফর সঙ্গে ছিলেন রাস্তায় এক স্থানে রাতে কাফেলা অবস্থান করল হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার জন্য তামু থেকে বের হয়ে দূরে চলে গেলেন অসাবধানতাবশত গলার হাড় সেখান থেকে পড়ে গেল আর এই হাড়টি তিনি সহদারা হযরত আসমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার নিকট
থেকে চেয়ে এনেছিলেন সেখান থেকে ফিরে যখন বুঝতে পারলেন যে হাড়টি হারিয়ে গেছে তখন তিনি খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলেন ধারণা করেছি যে কাফেলা রওনা হওয়ার পূর্বেই হাড়টি সন্ধান করে ফিরে আসতে পারবেন যখন হাড় সন্ধান করে ফিরে এলেন তখন কাফেলা রওয়ানা হয়ে গেছে তিনি খুব ঘাবড়ে গেলেন অনভিজ্ঞতার বয়স চাদর উড়িয়ে সেখানে শুয়ে রইলেন পরদিন সকালে সাফোয়ান বিন আল মুয়াত্ত্তাল নামে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেনাদলের একজন বেদুইনী সদস্য আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহাকে খুঁজে পায় এবং তাকে তার কাফেলার পরবর্তী বিশ্রাম স্থলে গিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে আসে হযরত সাফান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মতান্তরে হযরত সাফান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কোন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রয়োজনে
কাফেলার পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন তিনি হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহাকে চিনে ফেললেন কেননা শৈশবে অথবা পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার পূর্বে তাকে দেখেছিলেন তিনি তাকে পেছনে পড়ার কারণ জিজ্ঞেস করলেন যখন ঘটনা জ্ঞাত হলেন তখন খুব হামদরদী প্রদর্শন করলেন অতঃপর উম্মুল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহাকে উঠে বসিয়ে দ্রুত কাফেলার দিকে রওয়ানা হলেন এবং দ্বিপ্রহরের সময় কাফেলার সঙ্গে গিয়ে একত্রিত হলেন নামকরা মুনাফিক আব্দুল্লাহ বিন উবাই যখন এই ঘটনা জানতে পারলো তখন সে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার ব্যাপারে রটিয়ে দিল যে তিনি আর এখন পবিত্র নেই সাদাসিধে মনের কতিপয় মুসলমানও ভুল ধারণার শিকার হলেন মুনাফিক আব্দুল্লাহ বিন উবায়ের সাথে গুজব ছড়াতে
সাহায্য করে হাসান বিন সাবিত মিস্তাহ ইবনে ওসামা হাম্মানাহ বিনতে জাহাজ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অপর স্ত্রী জয়নব বিনতে জাহাজের ছোট বোন হাম্মানাহ বিনতে জাহাজ এরা সকলে একত্রে গুজব ছড়াতে থাকে যে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা ও সাফান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ব্যভিচার করে এসেছে এদিকে ওসামা ইবনে জায়েদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার প্রশংসা করে অপপ্রচারের বিরোধিতা করেন এসব অপপ্রচারে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা চরম মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন তার জীবন একেবারে বিষন্ন হয়ে ওঠে কিন্তু তিনি ধৈর্য হারাননি আল্লাহর উপর আস্থা রেখে অটল ছিলেন এসময় রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি যদিও হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পরামর্শ দেন যে তিনি যেন আয়েশাকে তালাক দেন এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তিনি চিন্তিত হলেন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা এর পিতা-মাতাও চরম উৎকণ্ঠা দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের মধ্যে কালাতিপাত করছিলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার সাথে এ ব্যাপারে সরাসরি কথা বলতে আসলে তিনি আয়েশার ঘরে বসে থাকা অবস্থাতেই তার উপর ওহী অবতীর্ণ হয় এবং তিনি ঘোষণা করেন যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার সতীত্বের নিশ্চয়তার ওহী পেয়েছেন সূরা নূরে ব্যভিচার ও অপবাদ
বিষয়ে বিধান ও শাস্তির নিয়মের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার অপবাদ রটনাকারীরা শাস্তি হিসাবে 80 টি বেত্রাঘাত সাজাপ্রাপ্ত হন মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিন্তামুক্ত হলেন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা এর পবিত্রতা ও চারিত্রিক মাধুর্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো