বৃক্ষ তোমার নাম কি? ফলে পরিচয়। এই খুবই পরিচিত ও পাওয়ারফুল লাইনটি নিশ্চয়ই শুনেছেন। আজকে নজরের এই ভিডিওটা দেখার জন্য এই প্রবাদ বাক্যটিকে বিশেষভাবে মনে রাখবেন। কারণ এই প্রবাদ বাক্যের মতোই কিছু বৃক্ষ থেকে ফল নিয়ে কাটা ছেড়া বিশ্লেষণ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমাণ এনে আপনাদের কাছে বরাবরের মতই লজিক দিয়ে উপস্থাপন করা হবে। এরপর আপনারাই সিদ্ধান্ত নেবেন এসব বৃক্ষের ফল খাবেন কি খাবেন না। তো তার আগে আপনি বলুন আপনার কি রহস্য বা সমাজ ও পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ও ইন্টারেস্টিং বিষয়গুলো নিয়ে জানতে ভালো লাগে? উত্তর হ্যাঁ হবার সম্ভাবনা 99.99%। কারণ আজকে টেকনোলজির এসব উন্নয়ন ও বিজ্ঞান সবকিছুই কিন্তু সম্ভব
হয়েছে শুধুমাত্র মানুষের মধ্যে রহস্য ভেদ করার কৌতুহল অজানা বিষয় নিয়ে প্রবল আগ্রহ আছে বলেই। আমাদের ব্রেইন এইভাবেই প্রোগ্রাম। আর এই কৌতুহলের বিষয়টাকে পুঁজি করে শুধু যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি হচ্ছে তা কিন্তু না। সেই সাথে একদল কনটেন্ট ক্রিয়েটর মানুষকে বোকা বানিয়ে বিভ্রান্ত করে এবং চুরি করে নিজের পকেট ভারি করছে। ছোটবেলায় মায়াজাল, চ্যানেল ইউনিক, অদ্ভুত 10 এই ধরনের ইউটিউব চ্যানেলগুলো আমরা কমবেশি সবাই দেখেছি। তাই না? বিশেষ করে মায়াজালের কোন না কোন কন্টেন্ট দেখেনি এমন লোক পাওয়াটা মুশকিল। কিন্তু এই চ্যানেলগুলো বর্তমানে কি অবস্থায় আছে জানেন? প্রচুর পরিমাণে আনেথিকাল ও অসংগতিপূর্ণ কাজকর্ম করছে। আর তাই এই পুরান পাগলগুলোকে সাইজ করতে
নজরের আজকের এই ভিডিও তুলে ধরা হবে সব অসঙ্গতিগুলো প্রমাণসহ। ওই যে মনে আছে বলেছিলাম বৃক্ষের কথা। এখানে বৃক্ষ হচ্ছে সেই YouTube চ্যানেলগুলো। আর ফল হচ্ছে ওদেরই ভিডিওস। সেই ফলগুলোরই বিশ্লেষণ হবে আজকে যাতে করে আপনারা বৃক্ষ চিনতে পারেন। মোটা দাগে বললে এই ধরনের চ্যানেলগুলো চারটি বড় ধরনের ক্ষতি করছে। এক, মিসইনফরমেশন বা ভুলভাল তথ্য ছড়াচ্ছে। দুই, অতিরঞ্জিত ক্লিকবেট টাইটেল দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। তিন, অন্যের কাজ চুরি করে বিনা পরিশ্রমে মনিটাইজেশনের থেকে টাকা কামাচ্ছে। চার, আপনার অতি মূল্যবান সময়কে নষ্ট করছে। ভিডিওর সামনে চারটি বিষয় নিয়েই একদম তথ্য প্রমাণ ও লজিক্যাল এক্সপ্লানেশন থাকবে। নজরের পক্ষ থেকে যাতে করে আপনি এই
ধরনের ক্ষতিকর বৃক্ষ থেকে সাবধান হতে পারেন। তাই পুরো ভিডিও না টেনে দেখতে থাকুন শুধু। অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী শুনেছেন নিশ্চয়ই। আপনি শুনলেও মায়াজালের এডমিন হয়তো শুনেনি। মায়াজাল রিসেন্টলি একটা ভিডিও করেছে ফিলিপাইনের বাজাও উপজাতিদের নিয়ে। একগাদা ভুল ইনফরমেশন দিয়ে ভরা সেই ভিডিও। আপনারা জেনে অবাকই হবেন বাজাও উপজাতির মানুষদের একটা মজার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা পানির নিচে এক ডুবে অনেকক্ষণ থাকতে পারে। মায়াজাল ওদের ভিডিওতে বলছে বাজাওরা 30 মিনিট পর্যন্ত থাকতে পারে। বাজাওরা পানির নিচে 30 মিনিট পর্যন্ত নিঃশ্বাস ধরে রাখতে পারে। কোনরকম অক্সিজেন বা সিলিন্ডার ছাড়াই। এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা বিভিন্ন অথেন্টিক সোর্স থেকে রিসার্চ করে দেখেছি তারা সর্বোচ্চ 12
থেকে 13 মিনিট পানির নিচে এক ডুবে থাকতে পারে। শুধু শুধু ভিউজের লোভে মানুষকে মিস ইনফরমেশন দেওয়া হচ্ছে। সবকিছুতেই মায়াজালের একটা রহস্য রহস্য ব্যাপার রেখে দিতেই হবে। বাজাউদের পানির নিচে এতক্ষণ থাকার রহস্য নাকি বিজ্ঞানীরা এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি। এবং বাজাউদের দেহে নাকি বিশেষ ধরনের জিন আছে। একটাও সত্য না। হাজার হাজার বছর ধরে বাজাউরা এভাবেই পানিতে ডুব দিয়ে মাছ শিকার করে আসছে। যার কারণে তাদের শরীরে পানির পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য বিশেষ অভিযোজন ঘটেছে। তাদের ব্লিহা বা স্প্লিন সাধারণ মানুষের তুলনায় বড় যা বেশি অক্সিজেন সঞ্চয় করে। এখানে রহস্যের কিছু নেই। একটু এফর্ট দিয়ে চেষ্টা করলেই ব্যাপারটা কিন্তু
বোঝা যায়। কিন্তু সে এফর্ট দেয়ার ইচ্ছা তাদের কই? এবার আসি আমাদের দ্বিতীয় পয়েন্ট বিভ্রান্তি ও ক্লিকবে। এই ব্যাপারে আবার ওস্তাদ হচ্ছে চ্যানেল ইউনিক নামের এই YouTube চ্যানেলটি। আগামাথা ছাড়াই ক্যাপশন দিবে এবং কন্টেন্টেরও কোন আগামাথা বলতে কিচ্ছু নেই। টাইটেল দিয়েছে কিভাবে কুরবানির গরু লালন পালন করতে হয়। আর ভিতরে কন্টেন্ট হচ্ছে কিভাবে বিদেশীরা গরু লালন পালন করে। টাইটেল রমজান মাসে পৃথিবী জুড়ে কোথায় কোন খাবারের আয়োজন করা হয়। আর ভিতরে কন্টেন্ট হচ্ছে রেনডম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের খাবার দাবারের ক্লিপ। এসব তাহলে সত্যিই হচ্ছে যা আসছে তা ধ্বংসের চাইতেও ভয়ঙ্কর। মানে কি ভাই এসবের? এত ভয়ানক টাইটেল মনে হচ্ছে পৃথিবীর
ধ্বংস নেমে আসছে এখনই। আর ভেতরে বিভিন্ন জায়গা থেকে কালেক্ট করে ভূমি ধ্বসের ক্লিপ। চ্যানেল ইউনিকাবার পলিটিক্যাল ভিডিও বানায়। ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে বাংলাদেশ কার পক্ষে। ভিডিওতে কূটনৈতিক বিশ্লেষণের কোনর রূপ ধার না ধরে নিজের মতো করে একটা দেশকে বন্ধু বানাচ্ছে আরেকটা দেশকে শত্রু। কোন ব্যাখ্যা নেই কোন লজিক নেই। অদ্ভুত দশের মত কিছু চ্যানেল আবার ভিডিওতে বেটিং সাইটের প্রমোশনও করে। টাকার জন্য আপনাকে বোকা বানিয়ে যা খুশি তাই এরকম আরো অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যাবে। তাদের কন্টেন্টগুলো একটু ঘাটাঘাটি করে দেই। এই ধরনের চ্যানেলগুলো বিভ্রান্তি ছড়ালেও আপনাকে বিভ্রান্তি ও ক্লিকবেইড মুক্ত নিউজ দিতে আছে নজর নিউজ। 60 থেকে 70 শব্দের মধ্যে
সারাদিনের সব গুরুত্বপূর্ণ নিউজ পড়ে ফেলতে পারবেন নজর নিউজের ফেসবুক কিংবা Instagram পেজ থেকে। আমরা খুব শীঘ্রই নজর নিউজে বিভিন্ন বিষয়ে কেস স্টাডি ও ইনভেস্টিগেশন ও লঞ্চ করতে যাচ্ছি। পিন কমেন্ট বা ডেসক্রিপশনে লিংক পেয়ে যাবেন। লাইক দিয়ে যুক্ত হয়ে পড়ুন আমাদের [মিউজিক] মিশনে। চলেন আরো একটি অতি পরিচিত প্রবাদ বাপু শোনাই আপনাদের। চোরের 10 দিন গৃহস্থের একদিন গৃহস্থ মানে নজর টিমের কাছে কি আর ধরা না খেয়ে উপায় আছে কি ভাবছেন একই ভিডিও স্ক্রিনের দুই পাশে কেন আচ্ছা এবার একটু সাউন্ড দিয়ে শুনুন দুইটা ভিডিও রাতের অন্ধকারে একজন রহস্যময় মানুষ আন্ডারগ্রাউন্ড গর্তে লুকিয়ে আছে এবং তার উপরের অংশ ফোম
দিয়ে ঢাকা বুঝতে পারলেন দুইটা একই ভিডিও কিন্তু একটা বাংলায় আরেকটা ইংরেজিতে। নিও নামের একটি ইংরেজি ইউটিউব চ্যানেল 11ই এপ্রিল সাদ্দামকে নিয়ে এই মোশন এক্সপ্লেইনারটি বানায়। টাইটেল দেয় হাউ দ্যা ইউএস ফাউন্ড সাদ্দাম হোসেন। আর ঠিক তার 12 দিন পর সেইম ভিডিও ডাউনলোড করে মায়াজাল তাদের চ্যানেল থেকে আপলোড করে বাংলা ভয়েস অফার দিয়ে। আর টাইটেলও চুরি করে দেয় যেভাবে আমেরিকার সাদ্দাম হোসেন কে ধরেছিল। কিন্তু শুধু এইটুকু টাইটেলে তো বাঙালিদের ক্লিকবেইটের জালে ভাসানো যাবে না। তাই টাইটেলে প্রথমে যুক্ত করে পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত পদ্ধতির অপারেশন। ক্লাসিক ক্লিকবেট ট্রিক। শুধু তাই না, থাম্বনেইলটা পর্যন্ত মায়াজাল নিউ থেকে চুরি করে। ব্যাপারটা
আসলে শুধু চুরি পর্যন্তই না। আরেকটু গভীরভাবে ও ক্রিটিক্যাল থিংকিং দিয়ে চিন্তা করলে কিছু ভয়াবহ দিক সামনে চলে আসে। মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন। নিও যখন সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে এই ভিডিওটি বানিয়েছিলেন তখন নিশ্চয়ই নিউ কে অনেক এক্সটেন্সিভ রিসার্চ করতে হয়েছে। অনেকটা টাইম শুধুমাত্র রিসার্চেই গিয়েছে। যেখানে মায়াজাল 11 মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারের একটি চ্যানেল কোন পরিশ্রম, কোন রিসার্চ ছাড়াই জাস্ট ডাউনলোড করে সেই ভিডিও নিজের চ্যানেলে হুবহু দিয়ে দিল। মোরাল গ্রাউন্ড থেকে চিন্তা করলে এটা একটা হাইলি আনএকাল বা অন্যায় কাজ। আবার যেহেতু 11 মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার আছেই সে ফ্রি ফ্রি আরেকজনের ভিডিও দিয়ে নিজে মনিটাইজেশনের টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। বলতে পারেন নিও
এর মনিটাইজেশনের টাকা এক প্রকার চুরি করেছে মায়াজাল। একজন আবার সেই ভিডিওর কমেন্টে এটা লিখেছে। অথচ তার আইডল করছে চুরি। বুঝতে পেরেছেন এবার এটা শুধুই যে চুরি না বরং দিনে দুপুরে পুকুর চুরি। কথায় আছে। সময়ের এক ভোর অসময়ের 10 ভোর। সময় কিন্তু আমাদের সবার হাতেই সীমিত। কারো কাছেই ইনফিনিটি সময় নেই। এসব ফালতু অবাঞ্চিত লো কোয়ালিটি ইনফরমেটিভ ভিডিও কিন্তু আপনার সময়ে খুবই আনপ্রোডাক্টিভ করে ফেলছে। খেলাটা এখানে আসলে কোয়ালিটি ওভার কোয়ান্টিটি। একটা ওয়েল রিসার্চড ভিডিও 100 টা ক্লিক পেইড ভিডিওর থেকে বেশি ভ্যালু আপনাকে প্রদান করবে। মায়াজাল বা এই ধরনের লো এফোর্ট, লো রিসার্চ চ্যানেলগুলোতে ওয়েল রিসার্চ কোন কন্টেন্ট
তো পাবেনই না। উল্টা মিস ইনফরমেশন বা ভুলভাল তথ্য ক্লিকবেট টাইটেল দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তি এবং লো কোয়ালিটি রিসার্চ আপনার আইকিউ লেভেল কমিয়ে ফেলবে। আপনি আপগ্রেডের পরিবর্তে হয়ে পড়বেন ডাউনগ্রেড। একদম টোটাল ওয়েস্ট অফ টাইম। অনেকগুলো প্রবাদ বাক্য তো নজর আপনাকে শোনালো। আপনার সবচেয়ে প্রিয় প্রবাদ বাক্য কোনটি? এখনি কমেন্ট করে জানিয়ে দিন দেখা যাক নজরের দর্শকদের থেকে নতুন কিছু জানতে পারা যায় কিনা। আর এই ধরনের লো এফোর্ট পুর্লি রিসার্চ কনটেন্ট থেকে যত পারা যায় দূরে থাকতে হবে। সব বৃক্ষের ফল যে ভালো হয় না আপনাকে বুঝে নিতে হবে এবং ভালো ভালো বৃক্ষ থেকে যত পারা যায় ফল আহরণ করতে
হবে। এখন তো বর্ষাকাল চাইলে আপনার আশপাশে বৃক্ষরোপণও করতে পারেন। লেটস রিপেয়ার বাংলাদেশ টুগেদার। [মিউজিক]